ঢাকায় নির্মিতব্য উড়াল সড়ক কি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে?

তানভীর এর ছবি
লিখেছেন তানভীর (তারিখ: মঙ্গল, ০১/১১/২০১১ - ১:২১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ঢাকায় খুব শীঘ্রই বড় আকারের একটি উড়াল সড়ক নির্মিত হতে যাচ্ছে। প্রায় ২৬ কিমি দীর্ঘ এ সড়কটির নাম Dhaka Elevated Expressway, যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে নির্মিত এ প্রকল্পের ২৭ শতাংশ অর্থ দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে উড়াল সড়ক প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। উল্লেখ্য, এ উড়াল সড়ক নির্মাণে ইটালি ও থাইল্যান্ডের যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি ইটালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে গত ১৯ শে জানুয়ারি চুক্তি করে সরকার এবং গত ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন।

এক নজরে ঢাকা উড়াল সড়ক প্রকল্প

Dhaka Elevated Expressway
ছবি-১ ঢাকা উড়াল সড়কের রুট ম্যাপ

নির্মান কোম্পানির তৈরী ঢাকা উড়াল সড়কের এনিমেশন ভিডিওঃ

° প্রস্তাবিত ও নির্মিতব্য উড়াল সড়কটি ঢাকার উত্তরে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কাছ থেকে শুরু হয়ে গুলশান, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার হয়ে মতিঝিল, কমলাপুর রেল স্টেশন পার হয়ে দক্ষিণে যাত্রাবাড়ি এলাকায় কুতুবখালির কাছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত হবে।

° সড়কটিতে ১১ টি টোল প্লাজা ও ৩৫ টি র‍্যাম্প অর্থাৎ উঠা-নামার স্থান থাকবে। এছাড়া পাঁচ কিলোমিটারের দুটো এলিভেটেড লিংক রোড উড়াল সড়কটির সাথে সংযুক্ত হবে। একটি লিংক রোড মানিক মিয়া এভিনিউ-হলিক্রস কলেজ-তেজগাঁও ক্রসিংকে সংযুক্ত করবে। অন্যটি পলাশী-কাঁটাবন-হাতিরপুল-সোনারগাঁও হোটেলের পেছন দিয়ে মগবাজার লেভেল ক্রসিং-এর সাথে সংযুক্ত হবে। র‍্যাম্পগুলো সম্ভবত বেশিরভাগ সাতটি ইন্টারচেইঞ্জ (অনেকটা ছবি-২ এর মতো) লোকেশনে থাকবে। ইন্টারচেইঞ্জ পয়েন্টগুলো হলো কুড়িল, ক্যান্টনমেন্ট, বনানী, ফার্মগেট, তাজউদ্দীন রোড, মগবাজার এবং কমলাপুর। উড়াল সড়কটি প্রায় ২৬ কিমি দীর্ঘ হলেও লিংক রোড, ইন্টারচেইঞ্জ ও র‍্যাম্প মিলিয়ে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে প্রায় ৪২ কিমি।


ছবি-২ ইন্টারচেইঞ্জ

° উড়াল সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য টোলের ভাড়া রাখা হয়েছে গাড়ি ১২৫ টাকা এবং বাস ২৫০ টাকা (ছবি-৩)। যেহেতু সড়কটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নির্মিত হচ্ছে- শর্তানুযায়ী নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ২৫ বছর (নির্মানকাল সাড়ে তিন বছরসহ) পরিচালনার পর সড়কটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। এ সময়কালে সরকার টোলের শতকরা ২৫ ভাগ অর্থ পাবে।

DEE highlights
ছবি-৩ ঢাকা উড়াল সড়কের হাইলাইটস

যানজট নিরসনে উড়াল সড়কের ভূমিকা

গত ১৮ ই অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার বলেছেন, “এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হলে রাজধানীর যানজট অনেকটা কমবে।" উড়াল সড়কের টেন্ডারেও এর অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে যানজট নিরসনের কথা বলা আছে। কিন্তু আসলেই কি এর মাধ্যমে ঢাকার ভয়াল যানজট নিরসন হবে নাকি আরো বাড়বে?

উড়াল সড়কের একমাত্র কাজ দূরপাল্লার যাত্রাকে সহজ করা। যানজট নিরসনে এর আসলে কোনো ভূমিকা নেই। বরং বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন উড়াল সড়ক রাস্তায় গাড়ি চলাচল ও গাড়ির সংখ্যা আরো বাড়িয়ে দেয় (“build it and they will come”) এবং উড়াল সড়ক নির্মাণের ফলে রাস্তার ক্যাপাসিটি আপাতদৃষ্টিতে বাড়লেও কার্যত এর বিপরীত প্রভাব পড়ে।

“freeways induce car travel and give rise to oppressive car-dependent landscapes, and reason that removing road capacity should have the opposite effect.” [Cervero et al., 2007]

ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানাররা বেশিরভাগ একমত যে যানজট নিরসনে সরবরাহ (supply) যোগানের চেয়ে চাহিদা নিয়ন্ত্রণই (demand management) উত্তম সমাধান। উড়াল সড়ক নির্মাণ একটি সাপ্লাই সল্যুশন যা নিজস্ব চাহিদার সৃষ্টি করে (Akhter MS, 2009)। ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্টের (২০০৫) সমীক্ষা অনুযায়ী ঢাকায় গাড়িসমূহ মোট ট্রাফিকের মাত্র প্রায় ৩% এর (যান্ত্রিক বাহনের হিসেবে প্রায় ৯%) প্রতিনিধিত্ব করে; কিন্তু এরা মোট রাস্তার ৪০ শতাংশ দখল করে রাখে (টেবিল-১)। ঢাকায় যানজটের মূল উৎস এরাই এবং এদের নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টা না করে উড়াল সড়ক, উড়াল সেতু ইত্যাদি নির্মাণ করে রাস্তায় এদের আরো জায়গা দেয়া হলে, এরা সংখ্যায় আরো বৃদ্ধি পেয়ে (“build it and they will come”) রাস্তা আরো বেশি করে দখল করে বেশি মাত্রায় যানজট সৃষ্টি করবে। ঢাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ট্রিপ হয় ছোটো দূরত্বের। টোল আদায় করার কারণে এসব ট্রিপে উড়াল সড়ক খুব কমই ব্যবহৃত হওয়ার কথা। বরং উড়াল সড়কের কারণে ঢাকার বাইরে থেকে আরো বেশি পরিমাণে দূরপাল্লার যানবাহন শহরে ভীড় করে যানজট আরো দুর্বিসহ করে তুলতে পারে।

modal share bd traffic
টেবিল-১ ঢাকায় বিভিন্ন বাহন/মাধ্যমে ট্রিপ ডিস্ট্রিবিউশন ও রাস্তা দখলের শতকরা হার

ঢাকার যানজট নিরসনের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন বিশ বছর ব্যাপ্তির ঢাকা কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (Dhaka Strategic Transport Plan- STP) যা এসটিপি নামে পরিচিত। এসটিপি নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও সরকার ২০০৮ সালে ঢাকার জন্য এ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ঢাকা উড়াল সড়কের টেন্ডারপত্রে খুব সুকৌশলে এসটিপির কথা বলা হয়েছে যেন এসটিপি অনুসারেই এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। কিন্তু কার্যত এসটিপিতে উড়াল সড়কের পরিকল্পনাকে বাতিল করে দেয়া হয়েছে এবং এসটিপিতে যে উড়াল সড়কের উল্লেখ আছে তার দৈর্ঘ্য আরো কম। এসটিপিতে উড়াল সড়ক সম্পর্কে কী বলা আছে দেখা যাক-

Scheme 44 - The Elevated Expressway. This project has been proposed by RHD as a dual 2-lane viaduct. It stretches for 14 kms between Khilkhet and Kaptan Bazar. It is conceived in two sections with the recently complete Mhakhali Flyover connecting them in the middle. The northern section runs from Khilket on structure above Airport Road for a distance of some 5 kms until it drops to ground level in order to link in to Mohakhali Flyover. From the southern end of Mahakhali Flyover, the Expressway rises onto structure again and follows the line of the old railway as far as Kaptan Bazar, a distance of some 8 kms. The northern part of this corridor attracts flows in the region of 2,300 pcu/hr. There are also heavy public transport flows amounting to almost 40,000 passengers per hour (pph). The southern section has much lower volumes with 1,500 pcu/hr near Tajgaon and about 1,000 pcu/hr on the line of the old railway.

The northern section flows could be accommodated within a well-organised dual 3-lane highway which already exists on Airport Road. The southern section is within the capacities of the existing arterials provided they are also well managed. The very high passenger flows will be largely diverted to the Metro line proposed to run from the International Airport to Saidabad on the alignment of the existing heavy rail line. In conclusion, the scheme can not be seen as a viable one due to the very high capital cost (estimated as $333 millions) and the existence of a good quality dual 3-lane highway. Furthermore, the alignment of the southern section is in direct conflict with the alignment of one of the proposed Metro lines and would make construction problems severe if constructed on that alignment. As a result, this elevated expressway has not been included as a project within the STP strategic network.

[Louis Berger Inc. (2007) The Strategic Transport Plan for Dhaka, Chapter 8-20]

কিন্তু তারপরও ঢাকা উড়াল সড়ক কোন পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। শুধু তাই নয়, পিপিপি এর ভিত্তিতে ৩৪ কিমি দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া দ্বিতীয় আরেকটি উড়াল সড়ক তৈরি করা হচ্ছে যার কোনো অস্তিত্বও এসটিপিতে নেই (এবং এর টেন্ডারপত্রে এসটিপির কোনো উল্লেখও নেই)।

উড়াল সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত কি আত্মঘাতী?

নগর যোগাযোগ ব্যবস্থায় উড়াল সড়ক নির্মাণ অনেক পুরনো কনসেপ্ট। বিখ্যাত স্থপতি লে কর্বুসিয়ের ১৯২২ সালে প্রথম গ্রেড সেপারেটেড হাইওয়ের কথা বলেছিলেন। কিন্তু আমেরিকানদের মাঝে এই ধারণা জনপ্রিয় করে তুলেছিলো গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেনারেল মোটরস করপোরেশন। ১৯৩৯ সালে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড ফেয়ারে তারা “ফিউচারামা” নামে গাড়ি ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্ভর ভবিষ্যতের শহর (Cities of Tomorrow) কেমন হবে তার এক প্রদর্শনী করে ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছিলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকার শহর ও বাণিজ্যিককেন্দ্রগুলো যখন ম্রিয়মান হয়ে ধুঁকছিলো, তখন বড় বড় শহরের মেয়র, সড়ক প্রকৌশলী, বাণিজ্যিক ও রিয়েল-এস্টেট ব্যবসায়ী সবাই ‘ফিউচারামা’র মতো এক্সপ্রেসওয়েনির্ভর এক ‘আরবান আমেরিকার’ স্বপ্ন দেখেছিলো যেখানে দৈত্যাকার ট্রাফিক জ্যামকে পাশ কাটিয়ে গাড়ি ও ট্রাক ছুটে চলবে, ব্যবসা-বাণিজ্য আবার চাঙা হবে।

আমেরিকায় অটোমোবাইল/অয়েল/হাইওয়ে লবি সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রুপ যাদের হাতে আমেরিকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো জিম্মি। এদের লবিং-এর জোরে পাশ হলো Federal-Aid Highway Act, 1956- এক্সপ্রেসওয়ে নামক বড় বড় কংক্রিটের স্তুপ শহরগুলোকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিতে লাগলো। কিন্তু ‘ফিউচারামা’য় নরম্যান বেল গেডেস এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যে ‘City Beautiful’ –এর স্বপ্ন আমেরিকানদের দেখিয়েছিলেন, বাস্তবে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ফলে আমেরিকার শহরগুলোকে কংক্রিটের জঙ্গল বানানো ছাড়া তার ধারে-কাছেও কিছু হলো না। জনগণের হতাশা দেখে এক্সপ্রেসওয়ের প্রবক্তা ও নির্মাতা হিসেবে কিংবদন্তী রবার্ট মোজেসও বলতে বাধ্য হয়েছিলেন-

“The Futurama sold cars, but solved no highway problems and, if anything, made the task of the road builder tougher because the public was taught to expect magic.” [Mohl AR, 2004]

উড়াল সড়কের মাধ্যমে যে ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ নেই এবং এগুলো যে টেকসই নয়, তা বুঝে নিতে মানুষের বেশি বেগ পেতে হয় নি। ষাট ও সত্তর দশকে এগুলো নির্মাণের সময় থেকেই আমেরিকার বিভিন্ন শহরে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ ও আন্দোলন হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। উইকিপিডিয়ায় এসব বিক্ষোভের একটা দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বরাবরই উড়াল সড়ক নির্মাণের বিরূদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। খ্যাতনামা নগর পরিকল্পনাবিদ লুইস মামফোর্ড, জেইন জ্যাকবস, হার্বাট গ্যানস প্রমুখ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের বিরূদ্ধে লিখে গেছেন এবং এসব আন্দোলন ও প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসব আন্দোলনের মূল কথা একটাই- “We want to make a city where people come first, not cars”.

উড়াল সড়ক যানজট বৃদ্ধির পাশাপাশি জমির মূল্য কমিয়ে দেয়, পরিবেশ দূষণ, শব্দ দূষণ ইত্যাদি বৃদ্ধি করে। নিচের ভিডিওটিতে ‘কংগ্রেস ফর দ্য নিউ আরবানিজমে’র প্রেসিডেন্ট জন নরকুইস্ট বলছেন উড়াল সড়কের বিভিন্ন অপকারিতার কথা-

আমেরিকার বিভিন্ন শহরে উড়াল সড়কগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে বা এগুলোকে ভেঙে বুলেভার্ডে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিছুদিন আগে নিজে উদ্যোগ নিয়ে রাজধানীর একটি বৃহৎ উড়াল সড়ক ভেঙে দেন। সারা পৃথিবী যখন এখন একদিকে হাঁটছে- টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development) ও ‘মানুষের জন্য শহরের’ কথা বলছে, আমরা তখন এই একবিংশ শতাব্দীতে বসে উল্টো দিকে অর্থাৎ সেই ১৯৫০-৬০ দশকের দিকে হাঁটা শুরু করেছি।

ঢাকা শহরে ইদানিং প্রায়শই হালকা থেকে মাঝারি ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। যে কোনো সময় বড় আকারের ভূমিকম্পও হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯৮৯ এবং ১৯৯৪ সালের ভূমিকম্পে অনেক উড়াল সড়ক ধ্বসে পড়েছিলো (ছবি-৪, ভিডিও দ্রষ্টব্য)। সানফ্রান্সিসকোতে শুধুমাত্র একটি উড়াল সড়ক (ভিডিওতে দেখানো সাইপ্রেস ফ্রিওয়ে) ভেঙে পড়ে ৪২ জন লোক নিহত হয়েছিলো। উড়াল সড়কের নির্মাণ খরচ যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি এর পুনর্নিমাণ আরো বেশি ব্যয়বহুল। ভূমিকম্পের পর এরকম অনেক ক্ষতিগ্রস্থ উড়াল সড়ক কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি ভেঙে ফেলতে বাধ্য হয়েছিল। এছাড়া নির্মাণগত ত্রুটির কারণেও উড়াল সড়ক ভেঙে পড়তে পারে।


ছবি-৪ ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯৯৪ সালের ভূমিকম্পে ভেঙে পড়া উড়াল সড়ক

ঢাকা শহর এমনিতেই কংক্রিটের জঙ্গল যার যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসন, পরিবেশ সবকিছু ভূমিকম্প ছাড়াই প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম। বড় আকারের ভূমিকম্প হলে এখানে ক্ষয়ক্ষতি হবে অকল্পনীয়। এ অবস্থায় যোগাযোগ দুর্বিসহ করতে সক্ষম আরো কংক্রিটের দৈত্য এ শহরের ওপর চাপিয়ে দেয়া কফিনে অনেকটা শেষ পেরেক ঠুকে দেয়ার মতোই।

উড়াল সড়কের বিকল্প সমাধান কী হতে পারে
° আগেই উল্লেখ করেছি, এখন দেশে দেশে উড়াল সড়কগুলোকে সারফেস বুলেভার্ডে রূপান্তরিত করা হচ্ছে (ছবি-৫)। এতে সড়কগুলো যেমন টেকসই ও ঝুঁকিবিহীন হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করার ফলে শহরের যানজট নিরসনেও এগুলো ভূমিকা রাখছে। প্রস্তাবিত উড়াল সড়কগুলো যদি নির্মাণ করতেই হয়, তবে সে জায়গায় এগুলো সারফেসেই নির্মাণ করা বাঞ্ছনীয়। এতে অনেক টাকার সাশ্রয়ও হবে।

expressway to boulevard
ছবি-৫ উড়াল সড়ক থেকে বুলেভার্ডে রূপান্তরিত সড়ক

° সরকার মেট্রো এবং এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে জোর দিলেও এসটিপিতে প্রথম পছন্দ হিসেবে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) কথা বলা হয়েছিলো, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট হিসেবে যানজট নিরসনে যার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং কম খরচে, বর্তমান রোড ক্যাপাসিটিতেই যা অবিলম্বে চালু করা সম্ভব। মেট্রো চালু হওয়া যদিও সময়সাপেক্ষ, কিন্তু উড়াল সড়কের পরিবর্তে বিআরটি চালু করে কম সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা যায়। ব্রাজিল, কলাম্বিয়া প্রভৃতি দেশে বিআরটি খুব সফলভাবে কার্যকর হয়েছে যা আমাদের মতো দেশের জন্য শিক্ষণীয়।

শেষ কথা
ঢাকার জন্য উড়াল সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত যে আত্মঘাতী সে সম্পর্কে কোনো সন্দেহই নেই। শেষ খবরানুযায়ী, এ বছর জুলাইতে উড়াল সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করার কথা থাকলেও জমি হস্তান্তরে ঝামেলা হওয়ায় নির্মাণ কাজ আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে। এর মাঝে নীতি-নির্ধারকরা যদি এর ক্ষতি বুঝে উঠে ব্যবস্থা নিতে পারেন তবেই মঙ্গল। আর এ বোঝানোর দায়িত্ব অনেকটা দেশের জনগন, ঢাকাবাসী, এ শহরকে যারা ভালোবাসেন- সবার ওপরই বর্তায়।

তথ্যসূত্র

* Robert Cervero, Junhee Kang, and Kevin Shively (2007) “From Elevated Freeways to Surface Boulevards: Neighborhood, Traffic, and Housing Price Impacts in San Francisco”. Working Paper prepared for University of California Transportation Center

* Akhter MS (2009) “A big no to flyover and subway in Dhaka”. The Daily Star, November 14, 2009.

* Louis Berger Inc. (2007) “The Strategic Transport Plan (STP) for Dhaka”

* World Bank (2005) “Dhaka Urban Transport Project”

* Mohl RA (2004) [url=http://juh.sagepub.com/content/30/5/674.abstract ]“STOP THE ROAD: Freeway Revolts in American Cities”[/url] JOURNAL OF URBAN HISTORY, Vol. 30 No. 5, July 2004 674-706.

* ছবি-১ ডেইলি স্টার, ছবি-৩ ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস; ছবি-২,৪ উইকিপিডিয়া


মন্তব্য

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

আসল কথা হল, লোকজনের টাকা দরকার, এই দরকারটাকে একটু 'হালাল' করে নেয়ার জন্যেই এইসব উদ্ভট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়, এসব মূলত স্টান্টবাজি। সরকারে থাকা লোকজন মূলত 'নিরক্ষর', এদের কাছে এইসব পুরনো বস্তাপচা কনসেপ্টই স্টান্টবাজি করার বিশাল হাতিয়ার।

এর আগে মহাখালী ফ্লাইওভার যখন হয়েছে, তখন সেটা শুধু আরেকটা কংক্রিটের গ্যাঞ্জামই বাড়িয়েছে, যানজটের দুর্ভোগ লাঘবে কোন ভূমিকা নেই এটার, বরং এই ফ্লাইওভার নিজেই আরেকটা 'জামের জায়গা' হয়ে যায় প্রায়শই। এরপর হয়েছে খিলগাঁও ফ্লাইওভার, এটা আবার হরিলুটের আরেকটা প্রজেক্ট হওয়ার কারণে নির্মাণত্রুটি থাকায় এখন লিমিটেড অ্যাক্সেস। এরকমই আরও নতুন কিছু গ্যাঞ্জাম তৈরি হচ্ছে, এ আর নতুন কী!

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

স্পষ্টতঃ উড়াল সড়ক একমাত্র সমাধান নয়। তবু আমার মনে হয় উড়াল সড়কটা হোক, এমনভাবে হোক যেন এর উপযোগীতা সর্বোচ্চ হয়। যে সমস্যাগুলো আছে/রয়ে গেছে/যাবে তা সমাধানের কার্যকরী পদক্ষেপও নিতে হবে।

চমৎকার বিশ্লেষণধর্মী পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ জানবেন।


_____________________
Give Her Freedom!

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

কি কারনে উড়াল সড়ক ? উত্তরা থেকে অফিস আওয়ারে মতিঝিলগামী মানুষের চাপের কারনে যে যানজট তৈরি হয় তা নিরসনের জন্যই মূলত এ উড়াল সড়ক। উড়াল সড়ক নির্মানহেতু সড়কের নিম্নস্হ জমি দীর্ঘমেয়াদে ইটালি-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির কাছে লিজে থাকবে।

বিকল্প হিসাবে উত্তরা থেকে কমলাপুর, প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত্য কয়েকটি কমিউটার ট্রেনের ব্যাবস্থা করলে সেটা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই চালু করে জনগণের দুর্দশা লাঘব করা যেত। কিন্তু তাতেতো বড় ধরনের বিনিয়োগ এবং তার মাধ্যমেতো কমিশন বানিজ্য হতনা।

আমাদের দেশে কোন কিছুই নিরবিচ্ছিন্নভাবে জনগণের উপকারার্থে হয়না।

ধন্যবাদ আপনাকে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াসের জন্য।

প্রৌঢ়ভাবনা

তদানিন্তন পাঁঠা এর ছবি

উড়াল সড়ক হলে শহরের শ্রী বৃদ্ধি ঘটে; বিদেশে আছি মনে হয়। এটা আসলে আমাদের দেশে বহুল প্রচলিত বাইপাস বা সংযোগ সড়ক ছাড়া আর কিছুই নয়। ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম এর একমাত্র সমাধান বোধয় ডি-সেন্ট্রালাইজেশন (বাংলায় কী হবে?)

চমৎকার একটি গবেষণামূলক লেখা। ধন্যবাদ।

ডাঁশপোকা  এর ছবি

যে যাই বলুক, উড়াল সড়ক বানাক আর মেট্রো রেল বানাক, আসল ব্যাপারটা হচ্ছে, ঢাকা শহরটা অতিরিক্ত জনগনের ভারে বিপর্যস্ত। ঢাকা থেকে সব কিছু পরিচালনা না করে কিভাবে বিকেন্দ্রিকরন করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া যায়, সেটা নিয়ে চিন্তা করা দরকার। বিকেন্দ্রীকরণ যে ঢাকা শহরের ট্র্যাফিক জ্যাম নিরসনের ভাল একটা উপায় টা বোঝা যায় ঈদ আসলে। ঢাকা শহরে সবাই বাধ্য হয়ে থাকে, সব সুবিধা সব শহরে ছড়িয়ে দিলে ঢাকার ওপর থেকে চাপ কমবে অনেক!

হিমু এর ছবি

মেহেরজানের সিকোয়েলের পয়সাটা মনে হয় উঠেই গেলো।

দ্রোহী এর ছবি

ঢাকায় আর একটা সরকারী পাইখানা বানালেও তা ঢাকার জন্য আত্মঘাতী হবে। ভবিষ্যতে নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগের প্রথম বর্ষে একটা কোর্স পড়ানো হবে "Dhaka: How not to build a city" নাম দিয়ে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

যে পরিমান টাকা সরকার খরচ করছে এই আবুলওয়ে নির্মানের পেছনে সেই টাকা দিয়ে ঢাকা তো বটেই, বাংলাদেশের সব কয়টা জেলার জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অধিক সংখ্যক বাস কিনে সেগুলো চালু করতে পারে সিটি সার্ভিস হিসেবে। ঢাকার প্রতিটা অলি গলিতে বাস সার্ভিস চালু করুক সরকার। সাথে প্রাইভেট কারের র‌্যালি বন্ধ করুক। ঢাকা শহরের জ্যাম একদিনেই কমে যাবে। মানুষের পাছা লাল করে নিজেদের ব্যাংকের পাছা পুষ্ট না করে দেশের কথাটা ভাবার মতো কোনো আদমই কি সরকারে নেই!

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

আমি একটা জিনিস বুঝি না, নরম মাটিওয়ালা বন্যার রিস্কওয়ালা দেশে উড়াল সেতু আর পাতাল রেল না বানিয়ে সেই টাকা দিয়ে নতুন শহর বানানো কি বেশি লাভজনক না?

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

হিমু এর ছবি

জমি অধিগ্রহণ করতে হয়, এমন প্রকল্পে পয়সা মারার সুযোগ আরও প্রসারিত। পদ্মা সেতুর জন্যে জমি অধিগ্রহণেও শোনা যায় হরিলুট হয়েছে। খালি পাবলিকের লাভ দেখলেই হবে, গণ্ডারাপার সিনেমার কথা ভাবতে হবে না?

তানভীর এর ছবি

হাসি

হিমু এর ছবি

ঢাকার পরিবহনব্যবস্থায় এই উড়ালসেতু কী প্রভাব ফেলবে, এটা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চয়ই কাজ করেছেন। তাঁদের স্টাডিগুলো কোথাও প্রকাশিত হলে ভালো হতো। তাঁদের পরামর্শ থেকে সরকার কী নিয়েছে আর কী ছেঁটেছে, সেটা জানার অধিকার আমাদের আছে। যেহেতু করদাতাদের পয়সায় এই প্রজেক্টের একটা অংশ ফাইন্যান্স করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের জানার অধিকার আছে, এই উড়ালসেতু কী কী নাগরিক সুবিধা আর অসুবিধা ইনট্রোডিউস করবে।

তানভীর এর ছবি

ঢাকার পরিবহনব্যবস্থায় এই উড়ালসেতু কী প্রভাব ফেলবে, এটা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চয়ই কাজ করেছেন। তাঁদের স্টাডিগুলো কোথাও প্রকাশিত হলে ভালো হতো। তাঁদের পরামর্শ থেকে সরকার কী নিয়েছে আর কী ছেঁটেছে

এটা নিয়ে কোনো কাজ হয় নি। ঢাকার কোনো পরিবহন বা নগর পরিকল্পনায় এমন কিছু নেই। সরকার প্রকল্প আগে হাতে নিয়েছে, তারপর প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য তড়িঘড়ি করে কনসালটেন্ট, বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

Move to implement billion dollar project without feasibility study, The Daily Star, February 16, 2010

Experts in the infrastructure sector wondered how the communication ministry could move with a mega infrastructure project like the elevated expressway without any feasibility study on which the entire Dhaka city's communication system, including rail and roads, will depend.

After assuming office in January 2009, the Awami League government announced that it would implement the proposed elevated expressway project with a view to easing the traffic congestion in the capital city.

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

আমারও তো এমনটিই মনে হচ্ছে।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

নীলকান্ত এর ছবি

যা আছে তার যে অবস্থা, এইসব ছাইপাশ হলে যে কি হবে।
সেন্ট্রাল ঢাকা যেটা, তার চারপাশের রাস্তার এত বাজে দশা বুলডোজারও গর্তে পড়বে। সাইকেল চালানো যায় না কোনদিন দিয়ে, বিন্দুমাত্র জায়গা বাকী নেই যেখানে ক্ষুদ্র থেকে অতি বৃহৎ গর্ত আছে। গাড়ি যেমনে লাফায় তাতে এদেরকেই চাঁদের গাড়ি বলা যাবে।
আমরা পাবলিক ট্রান্সপোর্টের উপরে জোর দেই না। এটা যে কত বড় সমস্যা। বাস আনি, সেকেণ্ড হ্যান্ড । ফার্স্ট হ্যান্ড যেগুলো আসে, সেগুলোও গার্মেন্টেসের রিজেক্ট মালের মত, অন্যরা নেয়নি আমরা নিসি। আর কত এভাবে?

ঢাকার রাস্তা নিয়ে আদৌ কি কেউ ভাবে??

যারা চলাচল করে তাদের থেকে শুরু করে যারা বানায়???এক একটা রাস্তা এত বছরে যতবার মেরামত করা হয়েছে যেই টাকা দিয়ে রড সিমেন্ট বসিয়ে ঢালাই করে ফেলা যেত।

কেউ ভাবে না। কেউ না।


অলস সময়

উচ্ছলা এর ছবি

ডাঁশপোকার সাথে একমত: "ঢাকা থেকে সব কিছু পরিচালনা না করে কিভাবে বিকেন্দ্রিকরন করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া যায়, সেটা নিয়ে চিন্তা করা দরকার"।

আপনি এই চমৎকার পোস্টটি না লিখলে সরকারের আরেকটি গন্ডমূর্খ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতেই পারতাম না।

সচল জাহিদ এর ছবি

চলুক চলুক চলুক


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

দুর্দান্ত এর ছবি

এক্সপ্রেস ওয়েতে ঢুকতে যে টাকাপয়সা নেবে,সেটা কি গাড়ী থামিয়ে টোলবক্সের ভেতরে? নাকি বেতারের মাধ্যমে? যদি নগদে গাড়ী থামিয়েই টোল দিতে হয়, তাহলে আর যানজট কমবে কিভাবে? আর যদি বেতারের মাধ্যমে চলমান গাড়ী থেকে সয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা হয়, তাহলে ঢাকার গাড়ীঘোড়াকে ট্রাফিক আইন মেনে লেইন ও গতি নিয়ম অনুযায়ী রাস্তায় চলার অভ্যাসে করতে হবে। এটা এক্সপ্রেস রাস্তা তৈরীর আগে সম্ভব হবে?

তানভীর এর ছবি

এক্সপ্রেস ওয়েতে ঢুকতে যে টাকাপয়সা নেবে,সেটা কি গাড়ী থামিয়ে টোলবক্সের ভেতরে?

১১ টা টোল প্লাজা আর আছে কি করতে?

দুর্দান্ত এর ছবি

কাম সারছে। আগে ছিল কাকলি,মহাখালি, ফার্মগেট আর শাহাবাগের জাম। এক্সপ্রেস ওয়ের পরে আরো নতুন ১১ টা নতুন জাম শিকড় গাইড়া বসবো।

তানভীর এর ছবি

ফেসবুকে এই ছবিটা পেলাম। ঢাকা উড়াল সড়কের এটা একটা অন্যতম উপযোগিতা হতে পারে। বন্যা হলে এখানে গাড়ি পার্ক করে রাখা যাবে- হাসি

elevated expressway flooding

তারেক অণু এর ছবি

খুব গুছিয়ে লিখেছেন। দেখা যাক আবুলদের টনক নড়ে কি না!

মূর্তালা রামাত এর ছবি

এটা আমিও বুঝি না। অপরিকল্পিতভাবে এইসব সেতু বানানোর দরকারটা কী! কদিনপরে দেখা যাবে এগুলো ভাঙার খাতে টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। সবকিছু আবার নতুন করে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মাঝখানে দেশের টাকা নষ্ট।আসলেই এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবেনাকো তুমি....

মূর্তালা রামাত

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

চমৎকার লাগলো লেখাটা। কিন্তু কেউ কি শুনবে?

সাফি এর ছবি

হরিলুটের মহোৎসবে স্বাগতম। একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ব্যাপারে যত আলোচনা হচ্ছে সবই হচ্ছে বিমানবাহিনীর আপত্তি এবং এক্স্প্রেসওয়ের রুট নিয়ে কিন্তু এক্সপ্রেসওয়ে যে হবেই এই সিদ্ধান্তটা দেখা যাচ্ছে ডান ডিল। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে দেখে এলাম আমেরিকায় ফ্রিওয়ে, এখন আমারও ফ্রিওয়ে চাই-ই চাই

sagar এর ছবি

আপনি বোধহয় 'মেট্রো রেল' এর কথা বলছেন। ঐ প্রজেক্ট টা কিন্তু দরকারী বলে আমার মনে হয়। অবশ্য সরকার মনে হচ্ছে ওটাকে লেজে গোবরে করে ছাড়বে।

সাফি এর ছবি

ধন্যবাদ সাগর, ঠিক বলেছেন। আমি গুলিয়ে ফেলেছিলাম। তাহলে তো দেখা যাচ্ছে এলিভেটেড এক্স্প্রেসওয়ে নিয়ে সেই আলোচনাটুকুও নেই মন খারাপ

তানভীর এর ছবি

সাফি, এসটিপিতে পরিবহন সমস্যা সমাধানের জন্য ১১ টা বিভিন্ন অপশন স্টাডি করা হয়েছিলো। এর মধ্যে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল ও গ্রহনযোগ্য অপশন ছিলো, দ্বিতীয় গ্রহনযোগ্য অপশন ছিলো আংশিক বিআরটি+ আংশিক মেট্রো। যদিও দুটো অপশন বাস্তবায়নের মধ্যে খরচের পার্থক্য অনেক বেশি, তবু এসটিপি তাদের পছন্দ হিসেবে দ্বিতীয় অপশনটি সরকারকে রেকমেন্ড করেছিলো। সে হিসেবে মেট্রো ডানডিল বলা যায়। কিন্তু এই দুটো অপশনের কোনোটিতেই উড়াল সড়ক বা উড়াল সেতু এরকম কোনোকিছুর প্রস্তাবনা ছিলো না। এগারোটি অপশনের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং অগ্রহণযোগ্য অপশন হিসেবে ছিলো রোডস এন্ড হাইওয়েজের প্রস্তাবিত ১০টি উড়াল সড়ক+ (মেট্রো বা বিআরটি ইত্যাদি)। সরকার দেখা যাচ্ছে এখন অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত এই উড়াল সড়ক+ মেট্রো অপশন বেছে নিয়েছে। কেনো সেটা সবারই বোধগম্য।

মাহবুব ময়ূখ রিশাদ এর ছবি

তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। আত্মঘাতী নাকি সময় বলে দেবে কিন্তু এর মাঝে অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়য়ে যাবে

------------
'আমার হবে না, আমি বুঝে গেছি, আমি সত্যি মূর্খ, আকাঠ !

সুলতান এর ছবি

খিলগাঁও ফ্লাইওভার মানুষের দুঃখ দূর করার চেয়ে মনেহয় দুঃখ বাড়িয়ে দিয়েছে। বড় কোন গাড়ি উপর দিয়ে যেতে পারে না। নিচে ভয়নক জ্যাম তৈরি হয়। মনেহয় ঢাকা শহরের আরও একটা দুঃখ তৈরির বন্দোবস্ত চলতেছে। ধন্যবাদ সুন্দর তথ্যমূলক লেখাটার জন্য।

রফিকুল ইসলাম তন্য  এর ছবি

অনেক ভালো একটি লেখা।

সাইফ জুয়েল এর ছবি

আপনার গবেষনাধর্মী লেখা পড়ে উড়াল সড়কের খারাপ দিকগুলো জানলাম। আশা করি এর সমাধান নিয়েও আপনি ভেবেছেন। উড়াল সড়ক ছাড়া অন্য কিভাবে ঢাকার মত জনবহুল শহরের যানজট নিরসন করা সম্ভব সে বিষয়ে আপনি একটা পোষ্ট দেবেন বলে আশা করছি। যানজটের সমাধানটা কিভাবে হবে তাওতো আমাদের জানা দরকার।

sagar এর ছবি

তানভীর ভাইয়ের মন্তব্য থেকে তুলে দিলাম।

সাফি, এসটিপিতে পরিবহন সমস্যা সমাধানের জন্য ১১ টা বিভিন্ন অপশন স্টাডি করা হয়েছিলো। এর মধ্যে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল ও গ্রহনযোগ্য অপশন ছিলো, দ্বিতীয় গ্রহনযোগ্য অপশন ছিলো আংশিক বিআরটি+ আংশিক মেট্রো। যদিও দুটো অপশন বাস্তবায়নের মধ্যে খরচের পার্থক্য অনেক বেশি, তবু এসটিপি তাদের পছন্দ হিসেবে দ্বিতীয় অপশনটি সরকারকে রেকমেন্ড করেছিলো।

ধন্যবাদ।

amit nag এর ছবি

আগে দুরনিতি দুর করুন তখন সব ঝামেলার সমাধান পেয়ে জাবেন

দূরদর্শী  এর ছবি

প্রথমে ঢাকার রাস্তা থেকে রিকশা ও সিএনজি বিদায় করুন, ঐ সকল চালকদের বিকল্প পেশায় rehabilitate করুন, সেই সাথে প্রচুর বাস, কার, মেট্রো জাতীয় public transport এর ব্যবস্থা করুন, শহুরে মানুষের কিছুটা কায়িক পরিস্রমের (অন্তত বাসা থেকে বাস স্টপেজে হেঁটে যাবার!) মানসিকতা গরে তুলুন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা সীমিত রাখুন - তবেই অনেক কম খরচে যানজট সমস্যার সমাধান করতে পারবেন!!

তানভীর এর ছবি

বাহ, আপনি তো ভীষণ দূরদর্শী হাসি

তানভীর এর ছবি

ঢাকায় উড়াল সড়কের যৌক্তিকতা কতটুকু- সমকাল, জানুয়ারী ৩১, ২০১২।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।