| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
ক্যাম্পাসে ঢুকেই বড় ভাইদের সুবাদে ডেকচির সঙ্গে পরিচয়। ডেকচি নিক। আসল নাম ডেক্সিড্রিন। রাত জাগার মহোষৌধ হিসেবে প্রিয় ছিল আমাদের মতো ফাকিবাজদের। ‘৮৬ বিশ্বকাপের সময় শুরুতে কয়েকদিন খেয়ে দেখেছি। আমাদের মিল্টন একটানা তিনরাত জেগেছিল একবার খেয়ে। বেচারা আইটেম ফাইনালের জন্য খেয়েছিল। তারপরই আমরা ডরসে দূর। ফালতু রাতজাগার কোনো মানে হয়! আড্ডায় রাত আমাদের অনেক কেটেছে। তার জন্য ডেকচি লাগেনি। ভিন্ন মৌতাত ছিল অবশ্য। সেটা অন্য গল্প।
ডেকচির কথা মাথায় এল আসলে ইয়াবার কারণে। ঢাকা শহরে শোরমাচায়া ইয়াবা। হঠাৎ কয়েকজন বড়লোকের পোলাপান পোরশে আর বিএমডব্লু সহ গ্রেপ্তার হলো। দুই মেয়ে অভিভাবকসহ গুলশান থানায় মামলা করেছে। কিনা তাদের ইয়াবা খাইয়ে বিকৃতকামনা মেটানো হয়েছে। তারপরই শুরু ইয়াবা-ইয়াবা। অফিসের লিটন ভাই আস্তে করে জিজ্ঞাস করে বসলেন- বস জানেন নাকি কিছু!
ইয়াবা পার্টি ড্রাগ। মেথা-এমফিটামিন থাকে। আর থাকে ক্যাফেইন। একসটেসি নামে একটা পার্টি ড্রাগ বেশ জনপ্রিয় ছিল ইউএস-ইউরোপ এবং এশিয়ার রাতের পাখীদের কাছে। ইয়াবা সেটার সস্তা বিকল্প। দু-তিনবার খাওয়া হয়েছে। এলুমুনিয়ামের ফয়েলে অনেকটা ব্রাউন সুগারের মতো চেজ করে খেতে হয়। গোলাপী ট্যাবলেট থাকে গুড়ি গুড়ি। সঙ্গে একটা কাউন্টিং পিল। ওটার নাম গ্রিন পিল। ৫০ বা ১০০টার প্যাকেটে ৪৯ ও ৯৯টি পিঙ্ক ট্যাবলেটের সঙ্গী থাকে ওটা। গ্রিন পিলের কোনো বাড়তি আমেজ নেই। তবে অনেকে বলে এটা ইয়াবার রিভার্স ইফেক্ট। ঝরঝরে করে দেয় শরীর। আমার অত পদের মনে হয়নি। ৩০০ টাকা করে মাসে ৯ হাজার ফালতু খরচের অবস্থানে আমি নেই। তারপর আছে ডোজ বাড়ার ঝামেলা। এডিকশনে ডোজ বাড়বেই। তাহলে দিনের ৩০০ এরপর ৬০০ তারপর ১২০০ ছাড়াবে। মাফ চাই দোয়াও চাই। তারপর রয়েছে অফিস। সারারাত জেগে অফিসে ঘুমাব নাকি। এই দুর্দিনে চাকরি গেলে পুরা খবর আছে!
এটা ঠিক ইয়াবা খেলে শরীর জেগে ওঠে। নট নেসেসারিলি সেক্সুয়ালি। কিন্তু চার্জড আপ হওয়া যায়। ইয়াবার জনপ্রিয়তা এ কারণেই। উইকেন্ডে খাও, পরদিন পার্টি করে ঘুম দাও। তারপর অফিস। শুনেছি গালফ ওয়ারের সময় ইউএস আর্মি ইউজ করেছে ইয়াবা। কফির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হতো। তবে ঘুম তাড়াতে মেথা-এমফিটামিনের ব্যবহার অনেক আগে থেকে।
ইয়াবার সাইড ইফেক্ট মারাত্মক। না ঘুমালে এমনিতে মেজাজ খিটখিটে হয়। তারপর আছে হ্যালুসিনেশন। প্যারানয়া আরেকটি মারাত্মক অনুষঙ্গ এ ড্রাগের। চারিদিকে শত্রু কল্পনা করে রীতিমতো আতঙ্কিত থাকে ইয়াবা এডিক্টরা। আমি রিহ্যাব সেন্টারে এখনো কোনো ইয়াবা এডিক্ট পাইনি। রাতভর ফুর্তি করার জন্য মধ্যবিত্ত সমাজে ইয়াবার কোনো কদরই নেই। সেটা উচ্চবিত্তদের ব্যাপার। তারাই ধরা খাচ্ছে। কিন্তু ভয় পাচ্ছি তাদের এজ লেভেল দেখে। ও-লেভেল, এ-লেভেলের ছাত্র-ছাত্রীরা এতে আসক্ত হচ্ছে। মারাত্মক ব্যাপার!
ইয়াবা এডিক্টরা তাদের উইথড্রয়ালের সময় গরমে থাকতে পছন্দ করে। চোখ থাকে ঢুলুঢুলু, মনে হয় এখনি ঘুমিয়ে পড়বে। হাই তোলে, সেই সঙ্গে ঠোটের কোন জিভ দিয়ে চাটা একটা কমন উপসর্গ। ট্রিটমেন্ট অপয়েড ড্রাগের মতোই। বাংলাদেশের যে কোন ভাল রিহ্যাব সেন্টারই ইয়াবার ট্রিটমেন্ট করতে পারবে। মূল জায়গাটা আসলে এডিকশন। সেটা ঠিক তো সব ঠিক। তারপরও কেউ ফেরে, কেউ ফেরে না। আফসোস, নিম্ন মধ্যবিত্ত তরুণরা শেষ হচ্ছে ঝিমুনি খেয়ে। উচ্চবিত্তরা না ঘুমিয়ে। ঘুরেফিরে শেষ হওয়া। আমরা একটা অসুস্থ প্রজন্মকে সামনে পেতে যাচ্ছি যদি না এখনই কিছু করা হয়।
২
এইডা জানতাম না। ধন্যবাদ। ইয়োবা হইতারে। আরেকটু তথ্য সংযোজন করা যায়। দুই ধরণের ইয়াবা আছে : এস ওয়াই, ডব্লু ওয়াই। পরেরটার দাম বেশী। ডব্লু ওয়াইতে আবার একটা ক্যাটাগরি আছে যেইটার নাম ছিটা মাল। এই ট্যাবলেটটা বেশি রান করে। এটার দাম সাড়ে তিনশ করে নিছে এবারের ঈদে। ডব্লু ওয়াই ৩০০, এস ওয়াই দুই থেকে আড়াইশ। তবে বেশি এডিক্টরা এস ওয়াই খায় না। ওইটা ভোদাইগো জন্য
৩
ওইটা ভোদাইগো জন্য
জটিল কইছেন।
৪
ইয়বা খাইলে যদি ধনীর দুলাল বলে, তাইলে আমি খাইতে রাজি আছি। এইটা খাওয়া ছাড়া আর কোন উপায়ে বাপের ইজ্জত রাখতে পারুম বইলা তো মনে হইতেছে না। ![]()
_________________________________
ভরসা থাকুক টেলিগ্রাফের তারে বসা ফিঙের ল্যাজে
৫
আমরা একটা অসুস্থ প্রজন্মকে সামনে পেতে যাচ্ছি যদি না এখনই কিছু করা হয় ---ঠিকই। কিছু একটা করা দরকার। খুব জরুরী। ধন্যবাদ।
৬
ইয়াবার এই দিকটি জানা ছিল না...ধন্যবাদ পিয়াল ভাই...
১০
নতুন প্রজন্ম নিয়ে এই শঙ্কা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বজুড়ে। কোন এক/একাধিক কারনে তারা সবকিছু আগে আগে করে ফেলতে চায়, বেশি রাগী, এবং সবসময়ই একঘেয়েমিতে ভোগে। ইংল্যান্ডে কমবয়সী হুডি গ্যাং তো রীতিমতো ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। প্রচুর মানুষ অকারনে মারা যাচ্ছে এদের হাতে।
১১
ঘুরেফিরে শেষ হওয়া।
১২
একটি পত্রিকাতেও ইয়াবা সন্মন্ধে পড়লাম। এর নাম তো এখানে কখনো শুনিনি!
**********************************
যাহা বলিব সত্য বলিব
১৩
অনেক কিছু জানলাম!! ধন্যবাদ।
এইখানে ল্যাবের পোলাপান দেখি এক ধরনের এনার্জি ড্রিন্ক খায় যা কিনা বাজারে ওপেন বিক্রি হয়। এতে নাকি কাজের গতি বাড়ে প্লাস ঘুমও কম হয় ফলে রাত জাইগা কাজেও সুবিধা হয়।
এইসব ড্রিন্কেও কি মেথা-এমফিটামিন থাকে? আপনে ইয়াবার যেই বয়ান দিলেন তার সাথে এইসব এনার্জি ড্রিন্কের মিল পাওন যায়। তাই জিগাইলাম। দেশেওত শার্ক ভালই চলত। এখনও কি পাওন যায়।
--বাপ্পী, জাপান
১৪
১৫
বাপ্পী, এনার্জি ড্রিংক অত ধরেনা ....একরাত জেগে কাজ করার মতো চলে ....তাও, পরদিন রেস্ট না নিলে মাথা ঝিমঝিম করে ...জাপানীরা যে কি বুঝে খায় কে জানে!
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে
১৬
কোথায় সহজলভ্য এই দিকে একটু দৃষ্টিপাত করলে হইতো না? ![]()
মানে দোকানে যাইয়া কি কইতে হইবো .. ..
___________________________
"Intelligence is like an underwear. It is important that you have it, but not necessary that you show it........"
১৭
হায় রে নতুন, হায় রে আমার কাঁচা!...
পিয়াল ভাই, প্রজন্মের এই দিকটির ওপর আলোকপাত করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
১৯
ধন্যবাদ জ্বিনের বাদশা।
আসলে আমি একচুমুকের বেশি খাইতে পারি নাই ঐ ড্রিন্ক, কেমন ঔষধ ঔষধ গন্ধ লাগে, তাই অভিজ্ঞতাও নাই।
জাপানীরা খুব সম্ভব সেনসে (প্রফেসর আমরা বলি ওস্তাদ) বলছে দেইখা খায় ![]()
এরা এত স্টেরিওটাইপ যে, ওস্তাদ যা বলে তার কোন নড়চড় করে না। পোলাপানরে যখন শিখায় এই ফ্লাস্ক বা বিকারটা তিনবার পানি দিয়া ধুইবা, হেরা সারা জীবন তাই করব। কোনদিন ২ বা ৪ বার পানি দিব না।
--বাপ্পী
১
সারারাত জেগে শুটিং করতে হবে বিধায় টেলিভিশন মিডিয়াতেও ইয়াবা জনপ্রিয় ছিল। এক্সামের আগের রাতে জেগে থাকার জন্যও ইয়াবার বেশ কদর। আমি অবশ্য প্রথমে এটার নাম ইয়োবা শুনেছিলাম।