আস্তমেয়ে-তীরন্দাজ, মহুয়া বিতর্ক নিয়ে

অপ বাক এর ছবি
লিখেছেন অপ বাক (তারিখ: সোম, ২৭/০৩/২০০৬ - ৪:২০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

26শে মার্চ নয় প্রায় ব্লগের শুরু থেকেই স্বাধীনতা প্রশ্নে বিভক্ত এ ব্লগের মানুষেরা। তীরন্দাজ- মহুয়ার তর্ক চলছে এক পোষ্টে, আস্ত মেয়ের এক পোষ্টে বিতর্ক চলছে,

শুভ অনেকদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য দিয়ে যাচ্ছে, অমি রহমান পিয়াল লিখছেন তার বাবার সংকলিত একাত্তরের দিনগুলোর কথা, আড্ডাবাজ একেবারে প্রথম থেকেই রাজাকার এবং এদের কর্মকান্ড নিয়ে লিখছেন, দীক্ষক দ্্রাবিড় বিভিন্ন বধ্যভুমির কথা লিখছেন, এসব নিয়ে কারো কোনো বিভ্রান্তি আছে?
কেউ কি 71এ পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনীর কৃতকলাপ এবং তাদের সহযোগী আল বদর আল শামসের ভুমিকা নিয়ে বিভ্রান্ত? তীরন্দাজের তীর তাহলে কোন লক্ষ্যে আঘাত করতে চায়?
প্রথমে আস্ত মেয়েকে যা বলতে চাই তা বলা শেষ করি আমি।
তোমার লেখায় অনেকে তথ্যসমৃদ্ধ মন্তব্য করেছে, সেসবের সাথে আরও কিছু যোগ করতে চাই।
পাক বাহিনী যখন আসলো তখন লুটপাট করলো কারা? নিশ্চয় সৈন্যবাহিনী নিজের বোঝা ভাড়ী করার চেষ্টা করবে না, তাদের প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হচ্ছিলো, এবং তারা নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছিল নিয়মিত। মানুষের লোভ থাকেই, কিছু পরিমান সৈন্যকে ধরে নিলাম তারা পার্থিব সম্পদের মোহে জীবন ঝুঁকিনিবে, তবে বেশীরভাগ লুটপাট করেছে তাদের সহযোগি হিসেবে যারা এসেছে তারা,
মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক র্তির্ক কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের নগন্য একটা অংশ। এবং ঘটনাপ্রবাহ দেখে এটা অনুমান করা যায় শেখ মুজিব এই নারকীয় ঘটনা ঘটবে এটা আঁচ করতে পেরেছিলেন,
কেউ কেউ দাবী করে তিনি একটা স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন 25শে মার্চ দিবাগত রাতে, এবং এও শোনা যায় ঢাকায় কোনো কোনো উৎসাহী মানুষ এটা শুনেছেন,
26শে মার্চের শেখ মুজিবের স্বাধীনতার ঘোষনা পুনরায় পাঠ করেন হান্নান বলে চিটাগাংএর এক আওয়ামি লীগ নেতা, এর পরে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা দেন, তবে প্রথম ঘোষনাটা ছিলো তার নিজের নামে, পরের বার শেখ মুজিবের পক্ষে ঘোষনাটা আবার দেওয়া হয়, জিয়া কিভাবে সৈন্যব্যাকার ছেড়ে চিটাগাং এ উপস্থিত হলো এ নিয়েও বেশ কিছু লেখা আছে, তবে স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্কের সূচনা জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পরের ঘটনা। জিয়াউর রহমান যখন স্বাধীনতার ইতিহাস সংকলনের দায়িত্ব দেন হাসান হাফিজুর রহমানকে সেই মুক্তিযুদ্ধের দলিলে কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে মুজিবের নাম ছিলো, জিয়ার এ বিষয়ে আপত্তি ছিলো না, কিন্তু জিয়ার অবদান একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কম ছিলো না, জিয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কেনো বহুদলীয় গনতন্ত্রের ধোঁয়াটে ঘোষনায় জামায়াতের রাজনীতিকে পুর্নবহাল করা হলো, এসব রাজনীতির ইতিহাস কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নয়। বি এন পি জিয়ার মৃতু্যর পর কিভাবে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করবে? এটা জিয়ার ব্যাক্তিগত ক্যারিশমা ছিলো যে সেনাবাহিনী থেকে ক্ষমতা গ্রহনের পরও তিনি স্বৈরাচারী ঘোষিত হন নি, এমন কি সেনা বিদ্্রোহ দমনের নামে সেনাবাহিনীর অনেক সদস্যের ফাঁসিদেওয়ার বিষয়েও তার হাত আছে মনে করেও কেউ তার বিরুদ্ধে কিছু বলে নি, এসব কথা উঠে তার মৃতু্যর পর, বি এন পির নেতা, পরবর্তি রাষ্ট্র পতি এবং বর্তমানের বিকল্পধারা নেতা বদরুজ্জামান চৌধুরির মাথা থেকে এই জটিল রাজনৈতিক কুটচাল বাহির হয়, আমি এমনটাই শুনেছি কিছু বর্ষিয়ানের কাছে, এটা পক্ষান্তরে বি এন পির রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার একটা প্রচারনা, এবং রাজনৈতিক আনুকল্য পাওয়ার জন্য অনেকেই এতে অনেক জল দিয়ে অনেক ঘোলাটে করে ফেলেছে বিষয়টা। ড্রামতত্ত্বের কথা শোনা যায় যেটা খুবই হাস্যকর কথা ছিলো, যাই হোক মূল প্রসঙ্গ হলো বি এন পির জিয়া পরবর্তি নেতৃবৃন্দ এই প্রচারনা শুরু করেন। এবং পরবর্তি সৈরাচারী শাসক এরশাদ জিয়ার রাজনৈতিক ভুলকে আরও বেশী মহিমান্বিত করেন, তিনি যখন ক্ষমতায় আসেন তখন আওয়ামি লীগ এবং বি এন পি দুই দলই তার বিরোধি, এদের বিপরীতে একমাত্র বন্ধুভাবাপন্ন দল হতে পারে মুসলীম লীগের নেতারা, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, বিভিন্ন পীর ফকির এবং জামায়াতে ইসলামির লোকজন, এদের সাথেই সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি তার ক্ষমতা দখলকে একটা রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন, রাজনৈতিক কালপঞ্জি দিলে সেটা ভুল হওয়ার সমুহ সম্ভবনা, আমার কালজ্ঞান কম বিধায় বলতে পারবো না ঠিক কবে ইসলাম কে রাষ্ট্র ধর্ম ঘোষনা দেওয়া হয়, সম্ভবত 85তে, তার ঘনিষ্ঠ সহচর দলে তখন আওয়ামি লীগ বি এন পি নেই, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরি একটা দল গঠন করেন, মানিক মিয়ার কুলাঙ্গার পুত্র এরশাদের সহযোগি হয়, এবং 87তে সম্ভবত এরশাদ একটা জাতীয় নির্বাচনের ঘোষনা দেন, প্রথম জাতীয় নির্বাচন বা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কিছু পুতুল প্রতিনিধি ছিলো, কিন্তু 87তে আওয়ামি লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহন করে, রাজনৈতিক ভুল!! হয়তো বা, কিংবা ক্ষমতার লোভ, বি এন পি এখানে যুক্ত হয় নি, যুক্ত হয় আ স ম আব্দুর রব, রাশেদ খান মেনন, শাহজাহান সিরাজ, এবং আ স মআব্দুর রব জীবনে প্রথম বারের মতো রাজনৈতিক প্রতিনিধি হয়ে যান, ( এ লোকটার অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে এই লোক 71এর মার্চ মাসে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছে, ) কিন্তু সম্পদের লোভ বা ক্ষমতার লোভ মানুষকে নীতিচু্যত করে,
90 এর গন আন্দোলন, এরশাদের পতন, বি এন পির জয়, এটার পেছনের একটা কারন কিন্তু বি এন পির 87 এ নির্বাচন না করার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। বি এন পি কে আপোষহীন একটা স্বৈরাচার বিরোধি দল হিসেবে পরিচিতি দেয় এই নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত।
এবং স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্ক হালে অনেক অনেক পানি পায় 91 পরবর্তি সময়ে। কিন্তু এদেশের সাধারন মানুষ যে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো এটা মিথ্যা হয়ে যায় নি এই ঘোষক বিতর্কে, এটা মিথ্যা হয়ে যায় নি যে গোলাম আজমের 71এর রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য তাকে এ দেশের নাগরিক হিসেবে অবাঞ্ছিত ঘোষিত করতে বাধ্য করেছে, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা বা জামায়াতে মুখপত্র পত্রিকায় গোলাম আজমের ধারাবাহিক আত্মজীবনি ছাপা হচ্ছে , আমার নিজের পড়ার ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু ঐ পত্রিকার পুরোনো সংখ্যা পড়ার সুযোগ নেই। তাই আমি 9ম খন্ড পড়ে বলছি যেখানে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কথা বলা হয়েছে, এটার পর গোলাম আজম জামায়াতের আমির পদ ছেড়ে দেন, এবং আরেক রাজাকার মতিউর রহমান নিজামি জামায়াতের আমীর হয়ে যান, যদি কারো আপত্তি থাকে এ বিষয়ে যে মতিউর রহমান এবং জামায়াতের বর্তমান উচ্ছ পর্যায়ের নেতা- কামরুজ্জামান, মুজাহিদি, আরও কয়েকজানের নাম মনে পড়ছে না এ মুহূর্তে, ওরা রাজাকার ছিলো না বা আল বদর আল শামসের সদস্য ছিলো না, প্রথম আলোতে ধারাবাহিক ভাবে পুরোনো কিছু সরকারী নথি প্রকাশিত হয়েছিলো 71 সালের সেখানে দেখতে বলছি, দীক্ষকের একটা পোষ্টে একাত্তরের ঘাতক দালালেরা কে কোথায় এর কয়েকটা পাতা দেওয়া আছে, সেখানে দেখলে বুঝতে পারা যাবে কারা আল বদর আল শামসের সদস্য ছিলো এবং তারা জামায়াতের কোন পর্যায়ের নেতা।

কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের ভুক্তভোগি সাধারন মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাটা রাখতে হবে, জহির রায়হানের একটা গল্প আছে সময়ের প্রয়োজনে, সেখানে একটা চরিত্র বলে আমরা যুদ্ধ কেনো করছি, এবং এর উত্তরে আসে সময়ের প্রয়োজনে, এটাই 71এর সাধারন জনগনের ভাষন ধরে নেওয়া যায়। সময়টাই এমন ছিলো যে বাঙালির মতো শান্তিপ্রিয় জাতি রাতারাতি প্রতিরোধী হয়ে উঠেছিলো, তারা যে বর্বরতা দেখেছে তার প্রতিরোধ করেছে, যদি কেউ 71এর বর্বরতা সম্পর্কে সন্দিহান হয় তবে ঝির রায়হানের করা অসাধারন কিছু প্রামান্য চিত্র এবং এর পরবর্তি তে মুক্তির গান এবং মুক্তির কথা দেখতে পারেন, ওগুলো কোনো সাজানো ঘটনা নয়, একেবারে বাস্তব চিত্র , সাধারন মানুষের দূর্দশার বাস্তব চিত্র, ওটার জন্য গ্রন্থ পড়ে কল্পনার প্রয়োজন নেই, দৃশ্যগুলো চোখের সামনে দেখলেই বুঝা যাবে কি নৃশংসতার মুখোমুখি হয়েছিলো বাঙালি। এবং এতেও যদি কারো সন্দেহ থাকে তাহলে বধ্যভুমির ছবি দেখতে পারে, মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা এবং তার বীভৎস প্রদর্শনী, এবং 25শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হত্যাযজ্ঞ, এর একটা প্রামান্য চিত্র বর্তমান, এরা সবাই মিলেই বাঙালি, সদর ঘাটের সামনের নালা রক্তজমে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো, বুড়িগঙ্গার উপর দিয়ে সার সার লাশ ভেসে যাচ্ছে, পুড়া গলা বিকৃত লাশ, এসব বর্ননা পড়ে যখন দেখা যায় এদের সহযোগি মানুষগুলো এখন রাজনৈতিক ক্ষমতায় তখন সকল মুক্তিযোদ্ধাই নিজের অর্জনে সন্দিহান হয়ে যায়। তবে আমি আশাবাদি, অন্ধকার কাটবেই।

তোমার আক্ষেপ বা বিদ্্বেষ তোমার ধর্মিয় স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করেছে কোনো বুদ্ধিজীবির স্ত্রী, ভিকারুন্নেসার কয়েক জন ম্যাডাম তোমাকে হিজাবের বিরুদ্ধে বলেছে, এর বিপরীত ছবি কি নেই? হিজাব না পড়ার জন্যও অনেকে নির্যাতিত হয়েছে, আমার ছোটো বোনকে রীতিমতও জেরা করেছে লোকজন, আমরা কি ধর্মবিদ্্বেষী হতে পারি না এর প্রতিক্রিয়ায়?একজন শিশু যার বয়েস 10 থেকে 12 তাকে শরীর সচেতন করে তোলার অর্থটা কদর্য কিন্তু বেশির ভাগ মুসলিম এই কদর্যতার চর্চা করছে, পর্দাপ্রথার কারনটা কি? অন্যের যৌনলেহন থেকে নিজেকে রক্ষা করা, নিজেকে যৌন সামগ্রি ভাববে আমার ছোটো বোন তাও 10 12 বছর বয়েসে এটা মেনে নিতে আমার কষ্ট লাগে, তার জন্য আলাদা রকম ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি আমি, তাকে কেউ যৌনদাসি হিসেবে দেখবে কেউ শষ্যক্ষেত্র হিসেবে দেখবে, এবং তার যোগ্যতার মূল্যায়ন করবে না এটা আমি মানি না, আমি যেকোনো পর্যায়ে বিতর্কে যেতে রাজি তাদের যোগ্যতার মূল্যায়নের জন্য। আমি তাদের যৌনলেহন রক্ষার জন্য পর্দা প্রথার বিরোধী। এটা চেতনার বিষয়, যারা সচেতন তারা নারীর সম্মান করে, নারীর যোগ্যতা নিয়ে কথা বলে, নারী যৌন্যতার আধার এই ভুমিকা থেকে বের হয়েই নারীকে বিচার করে, এই মনস্তাত্তি্বক বিষয়টা পর্দা দিয়ে অর্জন করা যাবে না, পর্দা তোমাকে কাল্পনিক ধর্ষন এবং বাথরূমের নিভৃতে যৌনবিহার থেকে রক্ষা করবে এমনটা ভাবলে তুমি ভুল ভাবছো। তোমার সামনে হয়তো খানিক সংযম দেখাতে পারে এটা ভেবে সান্তনা পেলে চলবে না, যোগ্যতার দাবিতে নারী হিসেবে অবমুল্যায়িত হওয়ার লজ্জা এবং নিভৃতে ধর্ষিত হওয়ার অনাচর সহ্য করতেই হবে তোমাকে,
কথায় কথায় অনেক দুর চলে এসেছি, মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাই। প্রেক্ষাপট 71এর যুদ্ধ, উৎস লিখেছে কোন কারনে মানুষজন শেখ মুজিবের আহবানে সাড়া দিয়েছিলো। লিখেছে আকাশ প্রথম আলোতে 71এ মুজিব নগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার যখন গঠিত হয় তখন কি কি নীতিমালা নেওয়া হয়েছিলো এটাও হারিয়ে যায় নি, এসবের অনুলিপি সহজলভ্য। 71এ বিচার করতে এসব তথ্যের ভিত্তিতে , কেনো 71 এসেছিলো, এর লক্ষ্য কি ছিলো, এসব জানার জন্য ইতিহাসের এই পাতাগুলো খুলতেই হবে, অতীতমুখিতা এবং ভবিষ্যতদর্শনের ধারায় এগুলো একটা গুরুত্ত্বপুর্ন উপাদান। সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্নে এগুলো স্বপ্নের ডানা। আর একটা বিতর্কিত বিষয় 71এ নিহত মানুষের সংখ্যা। সংখ্যাটা কম হলেই কি সেসব ঘাতকের দোষ কমে যাবে? নাকি সবাই এখনও এ কথাই বিশ্বাস করে 1 খুন করলে খুনী 7 খুনে বীরপুরুষ? তাহলে 1 লক্ষ সৈন্য বাহীনি যদি 7 লক্ষ মানুষ খুন করে এবং ওদের সহায়ক আল বদর আল শামসের হাতে যদি আরও 5 লক্ষ মানুষের রক্ত লেগে থাকে তাহলে তারা সবাই বীরপুরুষ, তাদের বন্দনা শুরু করি, তাদের কেনো রেসকোর্সের ময়দানে আত্মসমর্পন করতে হলো, তাদের তো মাথায় তুলে নিয়ে নাচার কথা ছিলো আমাদের, তারা সবাই এক একজন বীরপুরুষ, রাজাকারদের ধরে ধরে যখন মুক্তিবাহীনি হত্যা করছিলো 9 মাসের কৃতকর্মের জন্য তারা কি সবাই বীরহত্যার দায়ে দায়ি নয়?

এক জন সন্তান তার বাবাকে হত্যা করেছিলো কারন আদর্শিক বিরোধ, ছেলে মুক্তিযোদ্ধা বাবা রাজাকার, ধর্মের ইতিহাসে একজন পিতা টার সন্তানকে ত্যাগ করেছিলো কারন আদর্শিক বিরোধ, একজন ভাই তার ভাইকে পরিত্যাজ্য করেছিলো কারন আদর্শিক বিরোধ, এখানে প্রশ্নটা আদর্শের।

আমার শেষ যেই প্রশ্নটা, তোমার ভাই তোমার 1 বছরের বড়, সে যখন তোমার কথিত গল্পে 3 কিংবা 4 বছরের শিশু তুমি তখন তারও ছোটো, কিভাবে বুঝলে তাকে যারা হেনেস্থা করেছিলো তারা আওয়ামি লীগের ক্যাডার। দেখো সহানুভুতি আদায়ের চেষ্টা করা ঠিক না, যাড়া আদর্শিক ভাবে দুর্বল তারা করূণা চায়, তুমি করূণামুখাপেক্ষি হলে সেটা পক্ষান্তরে তোমার আদর্শিক দুর্বলতা প্রকাশ করে।

তীরন্দাজঃ অনেক কথা লিখলাম, আমি জানি না ইতিহাসের কোন বিরোধের কথা বলছেন আপনি, স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্ক নাকি মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভেদ? কোনোটা কি 71এ বাঙালির অসহায়ত্ব এবং উন্মুলতাকে অস্ব ীকাক করে, 71এর সাধারন জনগনের দুর্দশাকে হেয় করে? হিমুর কথাটা আমার পছন্দ হয়েছে, স্বাধীনতার ইতিহাস নতুন করে পর্যালোচনা করে তথ্যনির্ভর আবেগবর্জিত একটা ভাষ্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে,
আজকে পেপারে নিজামি স্বাধীনতা রক্ষার ডাক দিয়েছে, শিবিরকে স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখার প্রহরী নিয়োগ করেছে আজ। আমরা আর কত নীচে নামবো? কত নীচে?


মন্তব্য

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।