প্রাচীন বিজ্ঞানী-

অপ বাক এর ছবি
লিখেছেন অপ বাক (তারিখ: সোম, ০৩/০৪/২০০৬ - ৩:৪৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বিষয়টা বেশ জটিল একটা বিষয় তাই যারা পড়ছে তাদের একটু মানসিক পরিশ্রম করতে হবে, এটা বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা সুতরাং যারা নিজস্ব বৈজ্ঞানিক মতবাদ তৈরি করে তারা এখান থেকেই পড়া বাদ দিলে ভালো, যারা একটু বৈজ্ঞানিক চিন্তনের বিবর্তন এবং বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সামান্য কিছু জানতে চায় তারা পরবর্তি অংশে আমন্ত্রিত।
বিজ্ঞানচর্চার শুরু কবে এ বিষয়ে কোনো পুথিগত প্রমান নেই, তবে প্রকৃতিকে জানার চেষ্টা যদি বিজ্ঞান হয় তবে সভ্যতার সাথেই মানুষ বিজ্ঞানকে নিয়ে বসবাস করছে।
ক্রমাগত ব্যাবহৃত অস্ত্রের উৎকর্ষসাধনও একটা বৈজ্ঞানিক পন্থা। তাই আমরা নতুন প্রজাতির অস্ত্রব্যাবহারকারিদের সবসময় বিজয়ী হিসেবে দেখি সভ্যতার ইতিহাসে। মানুষের ভাষা আবিস্কার, মানুষের অক্ষর আবিস্কার, মানুষের প্রতিটা প্রাকৃতিক উপযোগের বিকল্প ব্যাবহার শেখা মানুষের বিজ্ঞানমনস্কতার পরিচায়ক। সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ এই কাজ করে আসছে।
মানুষ প্রয়োজনে আবিস্কার করতে বাধ্য হয়েছে, তাই প্রথম যুগের বিজ্ঞানী বলতে আমরা শুধুমাত্র আবিস্কারকদের বুঝি, আদিমযুগের চিকিৎসকরা প্রথম বিজ্ঞানী হিসেবে চিহি্নত হতে পারে, তবে সেসব মানুষের কথা বাদ দিয়ে আমরা যাদের কথা বলবো এবং যে সময়ের কথা বলবো সে সময়ে প্রকৃতির সাথে সংগ্রামে একটা স্থিতিকাল চলছে, তখন মানুষের অর্থনৈতিক উপনিবেশ স্থাপনের কাল , রাজ্যজয়ের কাল, রাজ্যবিস্তারের কাল। সেসময় গ্রীসের বিজ্ঞানিরা প্রকৃতিকে ব্যাখ্যার চেষ্টা করছেন, যদিও ওটাকে বর্তমানের পরিভাষায় বিজ্ঞান নয় অধিবিদ্যা বলা হয় তার পরও তখনকার রীতি অনুযায়ী ওটা বিজ্ঞানচর্চা। সেসময় এরিস্তটল, প্লেটো, ইউক্লিড, আর্কিমিডিস, অনেক অনেক বিজ্ঞানির নাম বলা যায়, এরিস্টটল এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় তাকে বিভিন্ন শ্রেনীর বিজ্ঞানের জনক মেনে নেওয়া হয়।
তার বিজ্ঞান দর্শন ভ্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তাকে সম্মান দেখানো হয় কারন মানবজীবন থেকে শুরু করে মহাবিশ্বের জন্ম পর্যন্ত যাবতীয় বিষয়ের ব্যাখ্যা করার একটা চেষ্টা করেছিলেন এরিস্টটল। তার বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের ভিত্তি ছিলো পর্যবেক্ষন, এবং তার চিন্তন ধারা বলবত ছিলো প্রায় 1500 বছরের অধিক সময়। তাই আমরা এরিস্টটলের চিন্তবধারা অনুসরন করে প্রাক মধ্যযুগীয় বিজ্ঞানচর্চাকে বোঝার চেষ্টা করতে পারি।
তার অনুভব কখনই পরীক্ষা করে দেখার প্রয়োজন মনে করেন নি তিনি, তাই তার একটা দাবি ছিলো,
প্রকৃতিতে পুরুষ প্রজাতির দাঁতের সংখ্যা নারী প্রজাতির দাঁতের সংখ্যার চেয়ে বেশী। কোনো কারন নেই এমন মনে করার কিন্তু তার মনে হয়েছে এটাই যৌক্তিক তাই তিনি ছাত্রদের এ শিক্ষা দিয়েছেন, তার ছাত্ররাও এটাকে ভুল প্রমানের চেষ্টা করে নি।
তার ভাষ্য মতে মহাবিশ্বের উপাদান 5টা, আগুন পানি, বাতাস, মাটি এবং ইথার, এর মধ্যে প্রথম চারটা পরস্পরে পরিবর্তিত হতে পারে, কিন্তু ইথার দিয়ে শুধুমাত্র মহাবিশ্ব গঠিত ।
http://en.wikipedia.org/wiki/Aristotle#The_five_elements
এখানে গিয়ে তার বিজ্ঞানচিন্তনের ধারাটা যেকেউ বুঝার চেষ্টা করতে পারে।
কিন্তু এই সভ্যতার অবদান কম নয়, প্রায় সঠিক ভাবে পৃথিবীর পরিধি মাপার উপায় নির্দেশ করেছে এ সভ্যতার বিজ্ঞানিরা, এটা আশ্চর্য একটা আবিস্কার, শুধুমাত্র সূর্যের আনতি 2টা ভিন্ন স্থানে মেপে পৃথিবীর পরিধি নির্নয় করে ফেলার জন্য বিজ্ঞানমনস্কতার একটা স্তর নির্দিষ্ট স্তর অতিক্রম করতে হয়। এখানের অনেক কম্পিউটার ব্যাবহারকারী তার চেয়ে অনেক অনেক কম বিজ্ঞান মনস্ক। এমন কি এখানে অনেকেই হাজার হাজার লাইন প্রোগাম লিখে গানিতিক সমাধান বের করে ফেলতে পারবে তাদের তুলনায় হাজারগুন কঠিন ছিলো এই পরিধি নির্নয়ের বিষয়টা। 1400 বছর আগে কোরানের পৃথিবী বর্ননার ( কোরানের বর্ননায় পৃথিবী সমতল) বিপরীতে 2300 বছর আগের পৃথিবীকে গোলাকার কল্পনা করে, বৃত্তের পরিধির সূত্র ব্যাবহার করে পৃথিবীর পরিধি নির্নয় করে ফেলা বিজ্ঞানের বড় একটা অর্জন। আধুনিক পৃথিবীর মাপের সাথে সেই মাপের পার্থক্য 1000 মাইল। শতকরা হিসেবে 5% ভুল।
এর পরে আসে ইউক্লিড, তার সংকলিত জ্যামিতির বিভিন্ন সংজ্ঞার মধ্যে একটার প্রমান করতে যাওয়ার চেষ্টায় আমরা নতুন এক ধাঁচের গানিতিক সমস্যা এবং সমাধান পেয়েছি যা বর্তমান বিজ্ঞানীরা সবসময় ব্যাবহার করছেন।
আর্কিমিডিস এদের মধ্যে ব্যাতিক্রম, তার প্লবতার সূত্র আবিস্কার ,তার অধিব ৃত্তের ক্ষেত্রফল নির্নয় করা, তার প্রগমন গানিতিক ধারা আবিস্কার, এসব কিছুই প্রায় 1700 বছর তাকে ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম গনিতজ্ঞ হিসেবে বিবেচিত করেছে।
তবে এরিস্টটলের ধারনা এবং দর্শনের ধারাবাহিকতা প্রথম ছিন্ন করে গ্যালিলিও এবং আধুনিক বিজ্ঞান এবং আধুনিক দর্শনের জন্ম হয়।
পৃথিবী কে কেন্দ্রকরে মহাবিশ্ব ঘুরছে এমতের জন্মদাতা এবং প্রচারক হিসেবে তার নাম স্মরণীয়।

পরবর্তিতে আধুনিক বিজ্ঞানদর্শন আলোচিত হবে।


মন্তব্য

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।