দালাল আইন ১৯৭২

অপ বাক এর ছবি
লিখেছেন অপ বাক (তারিখ: বিষ্যুদ, ২১/০৯/২০০৬ - ২:১৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

24শে জানুয়ারি 1972, গন প্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি বিশেষ ঘোষনা দিয়ে দালাল আইনের প্রস্তাবনা দেন। সেখানে ঘাতক দালালদের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে-সেযব ব্যাক্তিবর্গ যারা সহযোগিতা বা সহায়তা দিয়েছে দখলদার বাহিনিকে,আচরনে, বা কার্যে বা নৈতিক ভাবে দখলদার বাহিনীকে সমর্থন করেছে,যারা এই দেশের জানমালের ক্ষতিসাধন করেছে, এই দেশের নর-নারী -শিশুএবং নারীদের সম্ভ্রমের উপর নৃশংস, অমানবিক অত্যাচার চালিয়েছে, যারা পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর গনহত্যায় অংশগ্রহন করেছিলো, এমন সব ব্যাক্তি যাদের আচরন এবং কার্যের পরিনতিতে এই দেশের নাগরিকদের জানমালের ক্ষতিসাধন হয়েছে, তাদের সবাইকে দালাল বলা হয়েছে।তাদের আইনের আওতায় আনার জন্যই এই বিশেষ প্রজ্ঞাপনের প্রস্তাবনা।এই আইনের বলেযেকোনো পুলিশ অফিসার বা সরকারের দ্্বারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তি, ওয়ারেন্ট ছাড়াই সন্দেহভাজন যেকোনো দালালকে গ্রেফতার করতে পারবে।এবং এই গ্রেফতারে পর সেই ব্যাক্তিকে গ্রেফতারের জন্য প্রাপ্ত তথ্যের সারমর্ম বা প্রমান পেশ করতে হবে।এই প্রমান পাওয়া সাপেক্ষে সরকার সেই ব্যাক্তিকে 6 মাস অন্তরিন রাখবে যেনো এই বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্ত করা সম্ভব হয়। যদি তদন্ত সম্পন্ন করতে এর বেশী সময় লাগে তাহলে সরকার অনির্দিষ্ট কাল এই আইনের আওতায় গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তিকে অন্তরীন করে রাখতে পারবে। এই আইনে শাস্তি প্রদানের জন্য বিশেষ আদালত তৈরি হবে এবং সরকার এমন আদালত যত ইচ্ছা তৈরি করতে পারবে এই ধরনের অপরাধের বিচারের প্রয়োজনে।এই বিশেষ আদালতের সদস্য সংখ্যা হবে একজন, এবং তাকে অবশ্যই নু্যনতম আসিস্টান্ট সেশন জজ হতে হবে।তবে পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের রিপোর্ট ছাড়া এই আদালত কাউকেই অপরাধি ঘোষনা করে শাস্তিপ্পরদান করতে পারবে না।অপরাধীর অনুপস্থিতির জন্য কখনই এই আদালতের বিচারকার্যস্থগিত হইতে পারবে না।বরং এই বিশেষ আদালত সেই অনুপস্থিত ব্যাক্তির জন্য উকিলের ব্যাবস্থা করেই বিচার কার্য সম্পাদন করিবেন। এর জন্য নির্ধারিত শাস্তির মেয়াদ অনধিক 2 বছর থেকে শুরু করে মৃতু্যদন্ড পর্যন্ত।এবং সাথে জরিমানার বিধান আছে।এবং এইসব দালালদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আছে এই বিশেষ আদালতের।এই আইনের আওতায় গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তি এবং এই আইনের ধারায় শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যাক্তির জামিন নেই। তবে শাস্তি প্রাপ্ত ব্যাক্তি রায় ঘোষনার 30 দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পুনঃবিচারে আবেদন জানাতে পারবেন, যদি কেউ অনুপস্থিত থাকে, বা দেশান্তরি হয়, তবে সরকার ঘোষণা দিয়ে সেই ব্যাক্তির স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পত্তি ক্রোক করার ক্ষমতা রাখে, এই সম্পদের ভেতরে তার স্ত্রি, ছেলে মেয়ের নামে রক্ষিত সম্পত্তিও পরবে। SCHEDULE
PART I
Offences under sections 121, 121-A, 302, 304, 307, 376, 396 of the Penal Code and attempts to commit or the abetment of the commission of any of such offences.
PART II
Offences under sections 308, 325, 326, 328, 329, 330, 331, 333, 354, 363, 364, 365, 367, 368, 369, 380, 382, 386, 388, 389, 392, 393, 394, 395, 397, 435, 436, 437, 438, 449 and 450 of the Penal Code and attempts to commit or the abetment of the commission of any such offences.
PART III
Offences under sections 324, 332, 338, 343, 346, 348, 427, 428, 429, 430, 431 and 440 of the penal code and attempts to commit or the abetment of the commission of any of the offences.
PART IV
(a) Offences under sections 336, 337, 341, 342, 352, 357, 374, 426, 447 and 448 of the penal code and attempts to commit or the abetment of the commission of any of the offences.
(b) Any act which is mentioned is clause (b) of Article 2 of this order but which is not covered by any of the parts in this schedule.
এই ধারা সমুহের প্রথম ধারায় অভিযুক্ত ব্যাক্তির শাস্তি মৃতু্যদন্ড বা যাবজ্জিবন কারাদন্ড।2য় ধারাসমুহে অভিযুক্ত ব্যাক্তির শাস্তি অনধিক 10 বছর,3য় ধারা সমুহে অভিযুক্ত ব্যাক্তির শাস্তি অনধিক 5 বছরের কারাদন্ড ও জরিমানা,4র্থ ধারা সমুহে অভুযুক্ত ব্যাক্তিবর্গের শাস্তি অনধিক 2 বছরের কারাদন্ড এবং জরিমানা।যদিও অসম্পুর্ন রয়ে গেলো অনেক কিছুই এর পরও এই আমার মনে হয় মূল বিষয়গুলো।বিস্তারিত থাকবে মন্তব্যে।


মন্তব্য

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।