সেইসব দিনরাত্রি

মূলত পাঠক এর ছবি
লিখেছেন মূলত পাঠক (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৩/০৪/২০০৯ - ২:০৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

স্মৃতিচারণমূলক এই লেখায় আজ বলেছি সেই সব শিক্ষকদের কথা যাঁদের হাত ধরে ভাষা ও সাহিত্যের প্রথম পাঠগুলি হয়েছিলো। আপনাদের ভালো লাগলে আরো লেখা যাবে।

আমার পড়াশুনা সব বাংলা মাধ্যমের পাঠশালে। খুব ছোটোবেলায় এক নার্সারিতে ভর্তি হয়েছিলাম কিন্তু দু দিনের বেশি যাই নি, কারণ মিসগুলো সব স্কার্ট পরে। তারা সব ছিলো অঞ্জন দত্তের গানের কালো মেম, শাড়িতেই তাদের ভালো মানাতো হয়তো, কিংবা সেই সময় আমার মধ্যে মৌলবাদী কট্টরপন্থী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিলো যা লালনের অভাবে অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়েছে। আমার আপত্তিতেই সেখান থেকে ছাড়িয়ে এনে জুতে দেয়া হলো দাদাদের ইস্কুলে। আমার ঠিক বড়ো যে তুতো-দাদা এক ছাদের তলায় বাড়ার কারণে সহোদরসম, সে খুব লক্ষ্মী ছেলে। আমিও ডানপিটে কিছু ছিলাম না কিন্তু প্রত্যাশার চাপের মধ্যে থাকতে হতো তার ভাই ব'লে। তো এমনি ক'রে পাঁচ ভাই একসাথে বেড়ে উঠছিলাম।

বাড়িতে জেঠুর প্রতাপ, পড়াশুনা না করলে তিনি এমন লজ্জায় ফেলে দেন যে মনে হয় এর চেয়ে দুটো চড় দিলে ভালো হতো। তা বলে ইনসেন্টিভ ছিলো না তা নয়। জেঠুর বক্তব্য পড়ার চেয়ে শিক্ষা বেশি ভালো হয় লিখলে, অতএব কত পাতা লিখলাম তার উপর পুরস্কার ঘোষণা হতো। নগদ অর্থে সেই টাকা হাতে পেতাম পয়লা বৈশাখের দিন, বাংলা নববর্ষের মেলায় গিয়ে যা খুশি কেনার বাজেট হয়ে যেতো। বইমেলায় বা সারা বছর গল্পের বই কেনার বাজেট অবশ্য আলাদা, বাবাকে বললেই সরস্বতী লাইব্রেরি বা শঙ্কু এন্টারপ্রাইসে (বইয়ের দোকানের এমন কিম্ভুত নাম কেন কে জানে!) নিয়ে যেতো, যেটা খুশি কেনা যেতো। তখন অবশ্য খুব অর্বাচীন রুচি ছিলো, অরণ্যদেব আর স্বপনকুমার কিনতাম গাদা গাদা। সত্যজিৎ রায়ের বই বেরোলে বড়োরাই কেউ কিনে আনতো, আর আনন্দমেলা শুকতারা এগুলো তো স্টেপল ফুড। তা বলে মানুষের লোভের তো শেষ নেই। ইস্কুল ফেরতা একটা রদ্দিওয়ালার দোকান থেকে পুরোনো ইন্দ্রজাল কমিকস কিনতাম, একটা বোধ হয় পঁচিশ কি পঞ্চাশ পয়সা ক'রে। নাঃ, কিছু প্রাগৈতিহাসিক গল্প নয় এটা, পার্থসারথি যেমন লিখেছেন, পৃথিবীটা হঠাৎ করেই অনেক বদলে গেছে। পাড়ার লাইব্রেরি থেকে বই আসতো, তাছাড়া জেঠিমার বই পড়ার খুব শখ বলে জেঠু সপ্তাহে দু খানা ক'রে বই আনতেন অফিস লাইব্রেরি থেকে। আর সেই লাইব্রেরিটা ছিলো রাজার খাজানা, সংখ্যাতত্ত্বের অফিসে একটা তিনতলা বাড়ি ভরে এতো গল্প উপন্যাস কেন কে জানে! সে বইগুলো বড়োদের, কাজেই একটু আধটু লুকোছাপার ব্যাপার ছিলো, তবে ধরা পড়লে মুন্ডচ্ছেদ-টেদ হতো না। তাছাড়া শরৎচন্দ্র ইত্যাদি পড়ে মানুষ কী পরিমাণ পাজি ও নচ্ছার হয় তা তো জানাই হয়ে গেছে তদ্দিনে, ও সব বইয়ে আর বেশি কী থাকবে এই ভাবতাম। পাড়ার বন্ধুদের সাথে বই দেয়ানেয়া হতো, একবার এক ফাঁকিবাজ পড়শি-বন্ধুর বাবা রেগেমেগে আমাদেরগুলো সমেত তার সব বই কুয়োয় ফেলে দিয়েছিলো। সেই দুঃখের কথা কী আর বলবো, আজও ভাবলে বাতাসটা ভারী ভারী লাগে।

নীরেন কাকা ছিলো আমার কাকার বন্ধু। একসময় আমরা খুব ফাঁকি মারছিলাম বলে তাকে গৃহশিক্ষক হিসেবে আসতে বলা হলো। এই নীরেন কাকা ছিলেন অন্য প্রজন্মের লোক, পড়াতে আসতেন ফর্মাল শার্ট ট্রাউজারে টাক-ইন করে পরে। বিজ্ঞানের চেয়ে সাহিত্যের প্রতি প্রেম বেশি এবং চাইতেন আমরাও যেন সেই রকম কিছু করি, তাই এককলম কবিতা লিখে পরের লাইনটা লিখতে দিয়ে যেতেন। একদিন টিভিতে উত্তমকুমারের রাজদ্রোহী দেখাবে, ঘোড়দৌড় সোর্ড ফাইট-টাইট মিলিয়ে সে এক দুর্ধর্ষ ব্যাপার, পড়ায় কি আর মন বসে! বুঝতে পেরে উন্মনা ছাত্রকে ছুটি দিয়ে দিলেন তিনি আর সেই দিন থেকে ওঁর প্রতি শ্রদ্ধাভক্তিটা বাড়াবাড়ি রকম বেড়ে গেলো।

তো এই রকম করেই দিন যাচ্ছিলো। বারো ক্লাস অবধি সেই একই স্কুল। বাংলা স্যার সুবোধবাবু মিশনের ভক্ত, বিবেকানন্দ রচনায় প্রতি প্যারায় একখানা ক'রে নানা বয়সী স্বামীজির ছবি এঁকে নিয়ে যেতে উনি আহ্লাদে আটখানা! বাংলার আরেক স্যার পরিমলবাবু ভালোমানুষ টাইপ, হাতের বেতখানা নিয়ে আসতেন স্রেফ কান খোঁচাতে, মাঝে মাঝে বজ্জাত ছেলেপিলেদের তাড়াও করতেন, তারা দৌড় দিলে তাদের পিছন পিছন দৌড়ে শেষে হাঁফিয়ে গিয়ে হাল ছেড়ে দিতেন। তিনি যে ওদিকে বাংলা সাহিত্যে কবিতার রূপরেখা নিয়ে একখানা মোটকা বই লিখেছেন কে জানতো! দাদা বোধ হয় দায়ে পড়েই কিনে এনে অবধি গজগজ করতো, একবর্ণ নাকি বোঝা যায় না। এখনো সেই বই শোভা পায় আলমারিতে, লেখক কবে পাড়ি দিয়েছেন অজানায়। বেতের কথায় মনে পড়লো, সংস্কৃত পড়াতেন শেখরবাবু, পন্ডিতসুলভ চেহারা নয় আদৌ। কিন্তু প্রহারেণ ধনঞ্জয় কাকে বলে অনেকেই বুঝেছিলো নর নরৌ নরাঃ-র সাথে সাথে। কৃষ্ণের যেমন আড়বাঁশী শেখরবাবুর তেমনি বেত। খালিহাতেও তিনি কম যান না, তিন স্টেপে পেঁদিয়ে ঠান্ডা করার পদ্ধতিটার কপিরাইট নিয়েছিলেন। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে হতভাগ্য বালকটির পিঠে প্রথমে ডানহাত রেখে তাকে আনত করা, তারপর বাঁহাত দিয়ে আরো খানিক ঝুঁকিয়ে দেওয়া, এবং তারপরেই ডানহাতের তালু দিয়ে সশব্দ চাপড়। যার পিঠ সে তো স্বাদ পেলোই, বাকিদের শব্দেন অর্ধশিহরণ হয়ে যেতো। বড়ো হয়ে দেখেছি স্যার মোটেও ওই রকম ভয়াবহ প্রাণী নন, কিন্তু তখন কী হতো কে জানে। হয়তো অতীতযুগের রাগী পন্ডিতদের বিদেহী আত্মাটাত্মা ভর করতো।

আমার ভালো লাগতো ইংরিজি স্যার মুক্তিবাবুকে, তিনি ধবধবে আদ্দির ধুতো-পাঞ্জাবিতে সুসজ্জিত আর সুবাসিত। তিনিও লিখেছেন একটা বই যার সব গল্প বোঝা যায় আর ভীষণ মজার, এক গালগল্পবাজ শিকারির শিকার কাহিনী। রিটায়ার করবেন তিনি তাই গরমের ছুটি পড়ার আগে তাঁকে বিদায়-সম্বর্ধনা দিলাম ক্লাসের ছেলেরা মিলে। আমি একটা কবিতা অবধি লিখে ফেললাম যার শেষ লাইনটা শুধু মনে আছে, "মুক্তিবাবু করুন মোদের আশীর্ব্বাদ বর্ষণ"। ফুল মিষ্টি সবই হলো, কিন্তু একমাস পরে স্কুল খুলতে জানা গেলো উনি এক্সটেনশন নিয়েছেন কাজেই আশীর্ব্বাদ মুলতুবি রইলো তখনকার মতো।

রামচন্দ্র চক্রবর্তী ইংরিজি পড়ালেও ফাঁকে ফোকরে গল্প শোনাতেন অনেক, কলকাতার কোন গলিতে বাঘের দুধ পাওয়া যায় সেই মহামূল্যবান তথ্যটা তাঁর থেকেই জানি। অরবিন্দবাবু পড়াতেন শুধু উঁচু ক্লাসে, আমাদের জীবনানন্দের ১৯৪৬-৪৭ পড়িয়েছিলেন। পড়াতে গিয়ে যখন শঙ্খ ঘোষ থেকে উদ্ধৃতি দিলেন গা ছমছমিয়ে উঠেছিলো, সেই পড়ানোটা ছিলো একটা অভিজ্ঞতা। কিন্তু তাঁকে পাওয়া যেতো না অনেক সময়ই, তবে এখন মনে হয় সে ভালোই হতো। বিলাপ করেন রাম লক্ষ্মণের আগে/ভুলিতে না পারি সীতা সদা মনে জাগে, এই সব ওঁকে পড়াতে দিলে দুপক্ষের উপরই অত্যাচার হতো।

সরোজবাবু পড়াতেন বাংলা ইংরিজি দুই-ই। তাঁকে দুষ্টু বালকেরা অন্যনামে ডাকতো কিন্তু সে নাম হাটের মাঝে নেয়া যাবে না। সচলায়তনে যখনই আমি 'প্রতিযোগীতা' বানানটা দেখি তাঁর কথা একবার মনে পড়ে। কোনো শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে তাঁকে ক্লাস নিতে হলে এসেই আমাদের ক্যুইজ দিতেন ব্যাকরণ আর বানানের, ২০ নম্বরের মধ্যে ১৯.৫০ পেলে তবেই পাস। পাঁচের বেশি কেউ পেতো না অবশ্য। উদাহরণ দিই, হ্রস্ব ই কার, দীর্ঘ ঈ কার, হ্রস্ব ই কার, দীর্ঘ ঈ কার: কী শব্দ হবে? উত্তর শুধু জানবেন তিনি আর ঈশ্বর, আমরা মূর্খ বালকেরা জানার খোয়াব দেখি না। শেষে তিনি আমাদের অর্বাচীনত্বে দয়াপরবশ হয়ে জানাবেন, "নিশীথিনী"। এ ছাড়া কণীনিকা, পিপীলিকা, আরো কত যে পথ হারানোর অলিগলি ছিলো, তাছাড়া প্রত্যয় সমাস সন্ধি ইত্যাদি, অবলা হরিণশিশুকে মারার জন্য রাজামশাইয়ের তূণে তীরের কবে অভাব হয়েছে! তবে একটি বালক তাঁকে হতবাক করে দিয়েছিলো। জম্পতির সমাস জিজ্ঞেস করেছেন, পরে জেনেছি উত্তর হবে জায়া ও পতি, তা না জানলে যে চুপ করে থাকা যায় না তা তো নয়। কিন্তু বালকটিকে তখন ভর করেছিলো প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের ভূতে, অতএব গম্ভীরমুখে সে জানালো 'যমের মতন পতি যাহার'। সরোজবাবুর গোল গোল চোখ রাজভোগের মতন হয়ে গেছিলো এইটে মনে আছে।

হেসেখেলে দিব্বি দিন যাচ্ছিলো, তখন কি জানতাম (বলতে ইচ্ছে হচ্ছে Little did I know) যে এরপর কলেজজীবনে ফটাসফটাস ক'রে ইংরিজি বলা জনতার মাঝে গিয়ে পড়তে হবে ! কিন্তু সে গল্প আজ আর নয়, সবুর করুন একটু, মেওয়া ফললো ব'লে।


মন্তব্য

তাহসিন আহমেদ গালিব এর ছবি

জ্বি আচ্ছা! অপেক্ষায় থাকলাম...
আপনার স্কুল জীবনের কাহিনী পড়ে ভাল লাগলো। হাসি

মূলত পাঠক এর ছবি

ভালো লাগলো আপনার ভালো লাগায়। হাসি

সিরাত এর ছবি

অসাধারন, জাস্ট অসাধারন! আরো আরো আরো আরো আরো, নাইলে কান্দুম!!!

মূলত পাঠক এর ছবি

আর কান্দে না আর কান্দে না ছোলাভাজা দেব
আবার যদি কান্দ তবে...... হাসি

ধন্যবাদ সিরাত ভাই।

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

বিনা দ্বিধায় পাঁচ তারা দিয়ে গেলাম - অপূর্ব লাগলো। আপনার ভাষার কাজ চমৎকার। এই না হইলে বাংলা!

ইংলিশ-ওয়ালাদের কেমনে সামাল দিলেন, সেই গল্প শোনার জন্য বসলাম।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

মূলত পাঠক এর ছবি

খুব আনন্দ হলো এমন উদার প্রশংসা পেয়ে।

সামাল ঠিক দিই নি, তবে সে গল্প লিখবো তো নিশ্চয়ই।

জুলফিকার কবিরাজ [অতিথি] এর ছবি

আপনার ভাষা প্রয়োগ বেশ সুন্দর। মনে হয় ইংরেজীতেও আপনি তালেবর বান্দা।

মূলত পাঠক এর ছবি

না রে দাদা, তালেবর হওয়া হয় নি। বাংলামাধ্যমের ভীতু ছাত্র, ইংরিজিতে সড়গড় হতেই প্রাণ বেরিয়ে গেছিলো। শুধু বাংলায় যদি হতো কাজ তাহলে কে শিখতে যেতো ঐ ভাষা!

ভাল্লগছে জাইনা ভালা পাইলাম!

আকতার আহমেদ এর ছবি

সবুর করুন একটু, মেওয়া ফললো ব'লে।

ঠিকাসে যান, চা খায়া আসেন হিমুর লগে
লেখা ভাল্লাগসে অনেক।

মূলত পাঠক এর ছবি

আহ্হারে, আপনে বুঝলেন আমার চাপিপাসার কথাডা, কই হিমু গেলো কই!

থাংকু দাদা, ভালা পাইলাম।

মুস্তাফিজ এর ছবি

লেখার কথা পরে, কিন্তু এত নাম মনে রাখলেন ক্যামনে?

...........................
Every Picture Tells a Story

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

আমিও তাই ভাবছিলাম। নাকি বড় হলে আত্মজীবনী লিখবেন তাই তখন থেকেই ডায়েরি টোকার অভ্যাস। হাসি

মূলত পাঠক এর ছবি

নাঃ আত্মজীবনী লেখার সুযোগ রাখি নি, সব কথা শোনানো যায় এমন অক্লেদ জীবন নয়। তবে খন্ডচিত্র আঁকলে সেটা অসততা হবে না এই আশাতেই লিখি।

নাম টুকে রাখতে হয় নি, এঁরা সবাই আমাদের হাড়ে হাড়ে চিনতেন, আমরাই বা এঁদের ভুলি কী ক'রে? আরো নাম আছে, ঐ বালকদের গুষ্ঠির। সেই নামাবলী লিখে আর কন্টকিত করলাম না পঠনস্মৃতি। হাসি

মূলত পাঠক এর ছবি

প্রায় তের বচ্ছর এক ইস্কুলে পড়ে নাম ভুলে গেলে তো চিন্তার কথা। হাসি
এই শিক্ষকেরা অবশ্য ক্লাস ফাইভ থেকে পড়িয়েছেন, তার আগে দিদিমণিদের রাজ্য ছিলো।

স্নিগ্ধা এর ছবি

কিন্তু প্রহারেণ ধনঞ্জয় কাকে বলে অনেকেই বুঝেছিলো নর নরৌ নরাঃ-র সাথে সাথে।

ইসসসস - কত্তো গল্পের বইতে যে ঐ "নর নরৌ নরাঃ" র কথা পড়েছি!!

লেখা তো ভাল্লাগ্লো, এবার? হাসি

মূলত পাঠক এর ছবি

সে কি, স্রেফ গল্পের বইয়ে পড়েছেন, ব্যাকরণ কৌমুদী কিংবা উপক্রমণিকায় পড়তে হয় নি? আপনি তো ভাগ্যবান মানুষ মশাই!

লেখা ভাল্লাগ্লে আরো আসবে, যতক্ষণ না ত্রাহি ত্রাহি রব ছাড়েন। তবে মাঝে মাঝে সবুর করতে লাগবে। আর আপনার সেই বিগ ফিশের লেখাটাও তো বাকি আছে, ওটাও জলদি লিখে ফেলতে হবে।

ভালো থাকুন। হাসি

রানা মেহের এর ছবি

চমতকার লাগলো আপনার লেখা পড়ে
একটা ঠান্ডা ঠান্ডা ছেলেবেলা

আমাদের বাংলা পড়াতেন রেহানা আপা।
তার খুব ঝোঁক ছিল ছাত্ররা মৌলিক লিখবে, নোটবই নয়।
ক্লাসে এসেই কোন একটা বিষয় দিয়ে বলতেন লিখতে।

অস্চর্য নরম ছিলেন। আসতেন ঝকঝকে ইস্ত্রিকরা সুতি শাড়ি পড়ে ।
আমাদের একটা বিস্ময় ছিল রেহানা আপার কত শাড়ি!

কোনদিন উঁচু গলায় কথা বলেন নি কারো সাথে।
শুধু একবার
আমাদের এক বন্ধুর আচরনে হতবাক হয়ে বসে ছিলেন কিছুক্ষন
তারপর কেমন চাপা গলায় বলেছিলেন
‍আমার ছেলেমেয়ে নেই তাই তোমাদেরকেই.....

সেদিন জেনেছিলাম
নিঃসন্তান ছিলেন বলে স্বামী বিয়ে করেছিলেন আরেকবার।
তিনি থাকতেন তার বোন আমাদের এসিসট্যান্ট হেডমিসট্রেস এর সাথে।

আজ যে মন্তব্য করি এখানে ওখানে
সেই করাটুকু শিখিয়ে দেয়া এই শিক্ষকেরই।

আপনার লেখার সুত্রে
ক্যান্সারে খুব কষ্ট পেয়ে মারা যাওয়া রেহানা আপাকে
প্রনাম জানিয়ে গেলাম

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

স্নিগ্ধা এর ছবি

রানা - লেখা দিয়ে আমার মন খারাপ করে দেয়ার ক্ষমতা সচলায়তনের খুব, খুব অল্প যে ক'জনের আছে - আপনি তাদের মধ্যে অন্যতম!

সত্যি সত্যি রেগে গেলাম আপনার ওপর, not joking at all!

মূলত পাঠক এর ছবি

খুব কষ্টের কাহিনী শোনালেন রানা, ঐ সব গল্পগুলো সযত্নে এড়িয়ে লিখছিলাম আমি। সুন্দর লিখেছেন কিন্তু ভারি দুঃখের যে!

সচল জাহিদ এর ছবি

মন খারাপ হয়ে গেল রানা। আপনি রেহেনা আপাকে নিয়ে একটি লেখা লেখুন, আমার অনুরোধ।

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

রানা মেহের এর ছবি

চেষ্টা করবো সচল জাহিদ
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

রানা মেহের এর ছবি

স্নিগ্ধা আপু
আমার মনও হঠাত খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে

কত কত মানুষের স্নেহ নিয়ে বড় হয়ে উঠি
কখনোই কিছু করা হয়নি তাদের জন্য
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

আমার না, টিচার হিসেবে নিজেদের অবস্থানের কথা ভেবে কেন যেন মন খারাপ লাগছে। মন খারাপ

...........................

সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

মূলত পাঠক এর ছবি

কেন বলুন তো? ঐ স্যারেদের পিটানির কথা বললাম ব'লে? ওঁরা শুধু পেটাতেন তা তো না, আর অনেকসময়ই শুধু ফঁোশ করতেন ছোবল না দিয়ে, তাও বজ্জাত বালকদের সামলাতে। বালকেরা তাঁদের জীবন যা কঠিন ক'রে তুলতো সেই ভেবে এবার আমার খারাপ লাগবে যে!

দময়ন্তী এর ছবি

খাসা লাগল মূ-পা৷ চালিয়ে যান৷
----------------------------------------------------------
"নিভন্ত এই চুল্লিতে মা
একটু আগুন দে
আরেকটু কাল বেঁচেই থাকি
বাঁচার আনন্দে৷'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

মূলত পাঠক এর ছবি

থাংকু দময়ন্তী (যবে থেকে আপনার নামের অপিনিহিতি ভারশনটা শুনেছি এইটা কিছু্তেই মুখে আসতে চায় না, কেবল মনে হয় ওটা দন্তময়ী হবে) হাসি

মূলত পাঠক এর ছবি

দুঃখিত, ওটা বর্ণ বিপর্যয় হবে, সরোজবাবু শুনলে আজ কপালে দুঃখ ছিলো আমার।

তুলিরেখা এর ছবি

মূলত পাঠক হে, আপনি যে মূলত লেখক! এমন তরতর কলকল করে বয়ে যাওয়া মায়াময় লেখা খুব কম দেখেছি।
লিখে চলুন, অপেক্ষায় আছি।
-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার থেকে এমন প্রশংসা মায়াময় লেখার জন্য, এক্ষুনি ফ্রেমে বাঁধিয়ে টাঙিয়ে রাখছি দাঁড়ান। হাসি

লিখবো তো নিশ্চয়ই, তবে দৈনিক ইনস্টলমেন্ট হবে না বোধ হয়। রোজ রাত জাগা কাজের কথা নয়। কালকেরটাও রাত পৌনে চারটেতে পোস্টিয়েছি।

তানবীরা এর ছবি

কিছুই বল্লাম না।

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

মূলত পাঠক এর ছবি

হুম

মাল্যবান এর ছবি

সম্প্রতি সচলে কিছু লেখায় নস্টালজিয়া আক্রান্ত হচ্ছি, এটি তার মধ্যে অন্যতম। পাঠ চলাকালীন ফেলে আসা ভুবনে নিয়ে যায় । আমাদের শৈশব-কৈশোরের অনেকটা জুড়েই তো স্কুল স্কুল আর স্কুল। আর তারই অনুষঙ্গে নানান ঘটনা ও অঘটনের সমাহার । আপনার লেখায় চকিতে ,ফ্ল্যাশব্যাকের মত ঐসব দৃশ্যের সামনে নিয়ে এল।

আমারও মধ্য কল্কাতার বেলেঘাটা অঞ্চলের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে স্কুলজীবন শুরু। তবে সেখানকার শিক্ষিকারা মিনিস্কার্ট পড়তো না বরং বেশ মা মা গন্ধ ছিলো এটা বেশ মনে আছে । বেলেঘাটা দেশবন্ধু স্কুলে এরপর কিছুদিন ছিলাম, কিন্তু সেকথা বিশেষ মনে নেই কেবল হেডমাস্টার মনোরঞ্জন বাবু , এক বন্ধু সুভাষ ও আমাদের ভূগোল শিক্ষকের কথা ছাড়া। এর মধ্যে ভূগোল শিক্ষকের বিষয়টি আপনাকে বলা দরকার কেননা ঘটনাটি উপাদেয় । সম্ভবত তৃতীয় শ্রেণী, পরীক্ষায় প্রশ্ন এসেছে,
" ধ্রুবতারা সম্বন্ধে তুমি কী জান ?" - সোজা প্রশ্ন । ছাত্রও খারাপ নয়। আগাগোড়া সবই কন্ঠস্থ। কিন্তু গোলমাল করলো ঐ জিজ্ঞাসা চিহ্নটি। আমি ভাবলুম প্রশ্ন করা হচ্ছে যে ধ্রুবতারা সম্বন্ধে আমি জানি কিনা। লিখে দিলুম, " হ্যা"। পরে ঐ ভূগোল শিক্ষক ক্লাশে এ নিয়ে এমন অপদস্থ করলেন ! তখন কান্নাই পেয়েছিলো। আজ কথাগুলি মনে করলে বুঝি উনি নিছক মজাই করেছিলেন।
এরপর অন্যত্র । সেখানেই পুরোটা মানে ১১ ক্লাশ অবধি। ১০+২ আমাদের পর চালু হয়েছে। আপনার গল্পেরই রকমফের তার ইতিবৃত্ত। টক-ঝাল-মিস্টি । সেসব মন্তব্যের পাতায় লিখতে গেলে আলাদা পোস্টই হয়ে উঠবে। সংস্কৃত পন্ডিতের তান্ডব, ইংরেজী শিক্ষকের ধুতি খুলে পড়া, পিটি স্যারের প্যান্টের জিপারের স্থান থেকে আন্ডারওয়্যারের দড়ি বেরিয়ে আছে আর উনি পিটি করাচ্ছেন। পয়তাল্লিশ মিনিট এরকম চলেছে, সকলে হাসাহাসি করছে উনি বুঝতেই পারছেন না । ভাবুন।

আপনার লেখার সাবলীল ভাব আমাকে ওই দিনগুলি ফেরত দিলো , কিছুক্ষণের জন্যে। আপনাকে ধন্যবাদ ।

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার মন্তব্য এক সপ্তাহ পর লক্ষ্য করলাম। দেরির জন্য দুঃখিত।

আপনার ভালো লাগার কথা জেনে খুব আনন্দ পেলাম। আপনি লিখুন না আপনার গল্পটা।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

নাহ্... একদিন অবসর করে আপনার সবগুলো লেখা পড়ে ফেলতে হবে।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

মূলত পাঠক এর ছবি

সবগুলো পড়বেন ভবিষ্যতে মানে? একখানও পড়েন নাই এখনো! হায় হায় আমি এই দিকে ভাবতেছি কবে টিভি নাটকের গান লেখা কি আর কিছু লেখার (আর কী কী লেখনের দরকার হয় কে জানে) জন্য আপনে ডাক দিবেন। আপনের তো শুনি হুমায়ুন আহমেদের দশা, বাড়ির সামনে প্রোডিউসারের লাইন, ভাবলাম বাড়তি অফারের থিকা দুই এক ডজন অভাগাগো ঝুলিতে ঢালবেন, তা আপনে এখনো পড়েনই নাই? তাইলে আমার এত্তো প্রতিভা সব তো জলে গেলো গা!

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

খুবই হৃদয়ছোঁয়া একটা লেখা।
ফটাসফটাস করে ইংরেজি বলা জনতার সাথে কাটানো কলেজ জীবনের অভিজ্ঞতার কথা পড়তে চাই...

মূলত পাঠক এর ছবি

থাংকু, প্রহরী ভাই।

লিখি লিখি ক'রে লেখা হচ্ছে না, এই বার একদিন রেগেমেগে লিখেই ফেলবো। হাসি

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

কিসে রাগ করেন বলেন তো! রাগিয়ে দেই তাহলে চোখ টিপি

মূলত পাঠক এর ছবি

হা হা হাসি

আসলে এই পরীক্ষা-টরীক্ষার ঝামেলা মিটুক তারপরে হবে, শিগগিরই। আপাতত সংক্ষেপে ছবি-পোস্ট আর ছড়া দিয়ে চালাই। গদ্য লিখতে সময় বেশি লাগে যে!

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।