সম্পাদকের দপ্তরে

মূলত পাঠক এর ছবি
লিখেছেন মূলত পাঠক (তারিখ: শুক্র, ১২/১১/২০১০ - ২:৫৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নামে ছোটোগল্প হলেও আকারে সামান্য বড়ো, অন্তত ব্লগের হিসেবে। পাঠকেরা পড়তে গিয়ে দমছুট না হলেই বাঁচি। যে বেচারা মডুরা আমাদের কাঁড়ি কাঁড়ি লেখা দুব্বোঘাসের মতো চিবিয়ে রোজ তাঁদের পরিপাকযন্ত্রের বারোটা বাজান, এ গল্প তাঁদের জন্য আমার সমবেদনার যৎসামান্য প্রকাশ।

----------------------------------------------------------------------------

বৃক্ষারূঢ় গল্পগাভীটির পৃষ্ঠে ডোরা ডোরা দাগ, পেনসিলটাকে দাঁতনের মতো করে চিবোতে চিবোতে বললে রমাপদ। সদ্য আসা লেখাগুলোর রিভিউ করছিলো সে।

- এমন বিচিত্র গোবৎসটি কার? জিজ্ঞেস করলো শম্ভুচরণ। মিনিমাগনার ইলাস্ট্রেটার হলেও যত্ন করেই আঁকে সে, সেই কাজই করছিলো।

- আর কার, রামহরি ছাড়া! বললাম আমি। স্রেফ মুড়ি চিবোচ্ছিলাম, সবসময় কাজটাজ করা মোটেও কাজের কথা নয় এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

- এ রামহরির নাম প্রলয়নাচন সরখেল! রমাপদ খোলসা করলো।

আঁতকে ওঠে শম্ভু, ওরেব্বাস, কও কী দাদা, এমন যাঁর পিতৃদত্ত নাম, তাঁর তো নামেই তো বই কাটবে, প্রচ্ছদে আঠারো সাইজ ফন্টে লিখে দেবো "প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক প্রলয়নাচন সরখেলের প্রলয়ঙ্কর গল্প -", ইয়ে, গল্পটার নাম কী যেন?

- জীবনদেবতা ও ভূমানন্দ!

- একেবারে দ্বন্দ্বসমাস! খাইসে! চেয়ার থেকে পড়তে পড়তে বললাম আমি।

সম্পাদকের দপ্তরে দিস্তা ভরে অনেক অদ্ভুত লেখা আসে রোজ। অধিকাংশই বাতিল হয়, এই ব্যবসায় বাই-প্রোডাক্টই বেশি, যদি অবশ্য স্ক্র্যাপমেটালকে বাইপ্রোডাক্ট বলা যায়। সেই বাতিলযোগ্য লেখা পড়তে পড়তে রমাপদর মাথার চুল লুপ্ত হয়ে এই বয়সেই ইন্দ্রলুপ্ত গজাচ্ছে, আর হাবিজাবি পড়ে পড়ে আমার অনুভূতিতে কেমন ছাতলা মতো পড়ে গেছে, আজকাল আর কিছু মালুম পাই না। তবু এরই মাঝে মাঝে কিছু চমৎকার জিনিসপত্র হাতে আসে, বাতিল হবার আগে তারা প্রভূত আনন্দ দিয়ে যায়। যেমন গত হপ্তায় এক দীর্ঘ কাব্য আলোচনা এসেছিলো, কোনো এক সুশীতল হাজরা নামক কবির কল্পনানারী সুলতা কেন জীবনানন্দের বনলতার চেয়ে ঢের ঢের ভালো এইটে প্রতিপন্ন করতে চেয়ে। কে না জানে দুই রমণীর চুলোচুলি দেখতে যতো সুখ তার চেয়ে বেশি সুখের আর কিচ্ছু হয় না, এক গার্ল-অন-গার্ল বাদ দিলে। এই ভূমানন্দটি সেই গোত্রের বলে মনে হচ্ছে। চেয়ার টেনে তুললাম নিজেকে তোলার পর, ঝেড়েঝুড়ে বসার আগে হাঁক পেড়ে চায়ের ফরমায়েসটাও দিতে ভুলি না। এ জিনিস রসিয়ে রসিয়ে উপভোগ করার বস্তু।

- তো এইটা নিবন্ধ না তো? নাম শুনে কেমন যেন মনে হচ্ছে রবিঠাকুরের ভূত নিমতলার ছাতিমগাছে বসে ঠ্যাঙ দুলিয়ে দুলিয়ে লিখেছে এইটে। বললাম আমি।

বিজ্ঞের মতো মাথা নাড়ে শম্ভু, ওই জন্যেই তো বেরাম্মোগুলোর মরেও শান্তি হয় না, আরে গয়ার পিণ্ডি-ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ করার একটা শাস্তি হবে না ব্যাটাদের? কিন্তু তার আগে কও, ভূমানন্দ মানে কী?

- উঁহু, এইটে প্রবন্ধ-নিবন্ধ কিছু না, এক্কেবারে খাঁটি গল্প! দাঁতন-মুখে রমাপদর উত্তর। আর ভূমানন্দ মানে জানিস না হতভাগা, সম্পাদকের দপ্তরে এটাকে ঢুকতে দিলো কে?

- বাজে ঝামেলা থামা তো! এ জিনিস শুনতেই হচ্ছে, তা পড় না একটু, আমরাও একটু পুণ্যি কামাই অমৃতসমান শুনে?

এই সময় দরজার পর্দা তুলে ঢুকলেন অবনীশদা, কি, ভাগবত-পাঠ হচ্চে নাকি? অবনীশ সান্যাল পত্রিকার অনারারি সম্পাদক। মাইনেপত্তর তিনি নেন না বিশেষ, সাহিত্যপ্রেমের জন্যই তাঁর এই প্রাণপাত। বয়সে আমাদের চেয়ে ঢের বড়ো হলেও মুরুব্বিয়ানা করার বদভ্যেস নেই বলে আমরাও তাঁর সঙ্গ উপভোগই করি। এই আপিসটা আসলে তাঁর বসার ঘরের লাগোয়া একটা ঘর, আর চায়ের যে ফরমায়েস করলাম সে ওঁর বাড়ির হেল্পিং হ্যান্ড ভুতোর কাছে। বৌদির দয়ার শরীর, সময়-অসময়ে এমন অত্যাচার সত্ত্বেও এখনো বিতাড়িত হই নি সে কারণেই।

- শ্রীমদ্ভাগবতই বটে, গল্পের নাম শুনে রায় দিলেন তিনি। তা শরচ্চন্দ্রের সেই লেখাটা পড়েছো তো, যেটায় তিনি রবীন্দ্রনাথের স্টাইলে লেখার জন্য মেড-ইজি গাইড দিয়েছিলেন? ভূমানন্দ আর জীবনদেবতা, এ মাল তো মনে হয় একেবারে ছেঁকেছেঁকে রবিবাবুর স্টাইল তুলে নিয়েছে। পড়ো দেখি, কী লিখেছে।

- গোড়া থেকেই পড়ি বরং, রমাপদ শুরু করে।

জীবনদেবতা ও ভূমানন্দ: প্রলয়নাচন সরখেল।

শম্ভু আরেক বার জানার চেষ্টা করে, কিন্তু ভূমানন্দ মানেটা কী?

মাথায় চাঁটা মেরে থামিয়ে দিই আমি, চুপ কর অর্বাচীন। ভাগবতপাঠে ফের বাধা দিলে গোহত্যা করতেও কসুর করবো না বলে রাখলাম!

শুরু করে রমাপদ। হেমাঙ্গিনীর মনে সুখ নাই। বাতায়নের সামনে বসিয়া চম্পকঅঙ্গুলীতে একখানি মালতীপুষ্প লইয়া সে খেলা করে আনমনে, চক্ষু দুইটি আকাশে কাহারে খোঁজে তা সে নিজেও জানে না।

এইখানে ঢোঁক গিললো রমাপদ, তারপর একবার ক্যালেন্ডারটা দেখলো, কতো সাল এইটে জানতেই বোধ হয়।

এই বসন্তে যৌবন আসিয়াছে তাহার সদ্যপ্রস্ফূটিত শরীরে। নববর্ষার নবধারাজলে নদী যেরূপ পাগলপারা হইয়া উঠে, দুই কূল ছাপিয়া জলধারা প্লাবিত করে দিগ্বিদিক, হেমাঙ্গিনীর শরীরও রূপেরশে তদৃশ ফুলিয়া ফাপিয়া উঠিয়াছে। রমাপদ ঢোঁক গিলতেই শম্ভু বলে ওঠে, এই জন্যেই চলবে না এই গপ্পো। আজকাল হলো সাইজ জিরোর যুগ, ফুলিয়া ফাপিয়া উঠিলেই চলিবে?

- সে না হয় ব্যাপিকা বিদায় করা যাবে পরে, এখন ঝামেলা করিস নে, দেখি কী বর্ণনা দেয় শরীরের, বললাম আমি।

আবার পড়তে শুরু করে রমাপদ, ঢলো ঢলো কাঁচা সেই অঙ্গের লাবণি ব্যাখ্যান করে, সাধ্য কী লেখকের কলমের! নিজভারে আনতা তাহার কুচযুগ -

- শোভিত মুক্তাহারে? চিল্লিয়ে ওঠে শম্ভু, এ তো শালা আগাগোড়া টুকে দিয়েছে এখান ওখান থেকে, সরস্বতীপুজোর মন্তরটা অবধি ছাড়ে নি!

- নাঃ, এইখানটা একটু আলাদা, বলে রমাপদ, নিজভারে আনতা তাহার কুচযুগ সূক্ষ্ণ কাঁচুলির বন্ধন ফাটিয়া বাহির হইতে আকুল। ঠোঁট চাটে সে, শুধু ঢোঁক গিলে আর কাজ হচ্ছে না। তর সয় না আমার, বলি, পড় পড় তারপর কী!

পড়তে থাকে রমাপদ, দুগ্ধঅলক্তক বর্ণের লাবণ্যময় তাহার আনন, কুঞ্চিত তাহার ঘনকৃষ্ণ কেশরাশি, টানাটানা দুইখানি চক্ষু ভাবাবেশে আকুল, রক্তিম ওষ্ঠাধর থরোথরো-কম্পিত দয়িতমিলনপিয়াসে। তাহার উপর বর্ষিত হইয়াছে জীবনদেবতার অকৃপণ আশীর্ব্বাদ, ফলেফুলে ভরিয়া উঠিয়াছে তাহার সুকোমল দেহখানি।

- ইয়াপ্পি, এসে গেছে জীবনদেবতা, বলে ওঠে শম্ভু। এই বারে তো বল, ভূমানন্দটা কী বস্তু!

কটমট করে তাকান অবনীশদা, বৌদি দেখতে শুনতে ভালো হলেও এমন নারীশরীরের বর্ণনার সামনে তিনি গোহারান হারবেন, কাজেই এই সময় ব্যাঘাত তাঁর কাছে অসহ্য বোধ হলে তাঁকে ঠিক দোষ দেওয়া যায় না। সত্যযুগ হলে সে অগ্নিবর্ষণের পর এইখানে পড়ে থাকতো একমুঠো ছাই, নেহাত কলিকাল তাই শম্ভু বেঁচে গেলো, কাঁচুমাচু মুখে শুনতে লাগলো হেমাঙ্গিনীর গল্প।

ফের শুরু করে রমাপদ, কিন্তু হেমাঙ্গিনীর মনে সুখ নাই। বৃথা এই জীবনযৌবন, বৃথা সকল সজ্জাশৃঙ্গার, যদি তাহা সমর্পনই না করা যায় প্রিয়তমের চরণকমলে। কিন্তু কোথায় সেই প্রিয়তম? তাহার নবীন শরীরখানি বাহুপাশে বেষ্টন করিবার পরিবর্তে তিনি এক্ষণে গিরিকন্দরে শত্রুসংহারে রত। সেই শার্দূলবিনিন্দিত মহাতেজশালী পুরুষশ্রেষ্ঠ, যাহাকে প্রথম বার দর্শনমাত্রই তুচ্ছ হৃদয়খানি সমর্পন করিয়াছে অবলা হেমাঙ্গিনী, তিনি আজ অরণ্যপর্ব্বত ছানিয়া শত্রুসৈন্য নিধন করিয়া বেড়াইতেছেন। প্রেমের শত্রু এই সমগ্র পৃথিবী! তাহা না হইলে আজিকার এই সুন্দর প্রভাতে তাহাকে একাকিনী অশ্রুধারে ভাসিতে হয়! ধিক পিতা আমার, ভাবিয়া শিরোপরে করাঘাত করে হেম।

- এই বার গল্প জমেছে! কিন্তু এ তো দেখি রবীন্দ্রনাথ নয়, খোদ বঙ্কিম! বললেন অবনীশদা।

রমাপদ পড়তে থাকে, হেমাঙ্গিনীর পিতা এই সাম্রাজ্যের অধিপতি। পরম যত্নে তিনি লালনপালন করিয়াছেন এই মাতৃহারা শিশুকন্যাটিরে। তাহার কথা ভাবিয়াই দ্বিতীয় বার দারপরিগ্রহ করেন নাই। যুদ্ধবিগ্রহে দূরদেশে যাইতে হইলে প্রত্যাবর্তনকালে তাহার জন্য সর্বদা লইয়া আসিয়াছেন পট্টবস্ত্র-স্বর্ণাভরণ-কেয়ূরকুঙ্কুম। রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থপতি নির্মাণ করিয়াছে রাজদুহিতার সৌধ, সেই প্রাসাদে সোনার পালঙ্কে শয়ন করিলে দাসদাসীগণ চামরব্যজনে তাহার সেবা করে। আদরেআহ্লাদে বাড়িয়া উঠিয়াছে হেম, তাহারে লইয়া রাজার অনেক সাধ। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষালতার মূলে সমস্ত জলসেচন বৃথা প্রতিপন্ন হইল সেইদিন, যবে রাজকন্যার শুভদৃষ্টি হইল রাজসেনাপতির সহিত। হে পাঠক, আজিকার যুগ হইলে বলিতে, বড়মানুষের মেয়ের নজর পড়িয়াছে জোয়ান মদ্দের উপরে, কিন্তু অনাঘ্রাত পুষ্পবৎ হেমাঙ্গিনীর সম্পর্কে এমন বাক্য বলিতে জিহ্বা সরে না।

- আইব্বাস, এ তো আবার ফ্লাশব্যাকও আছে! দিব্বি বাংলা ফিলিম হতো মাইরি, নেহাৎ কমল মিত্তির মরে গেলো তাই! বলে শম্ভু।

চারিচক্ষুর মিলন ঘটিয়া অবধি সেনাপতি ও রাজনন্দিনী, কেহই কাহারে ছাড়িয়া থাকিতে পারে না। কাজেকর্ম্মে সেনাধিপতির আর মন নাই, বীরত্বের সকল খ্যাতি ছারেখারে গিয়াছে, সূর্য ডুবিতে না ডুবিতেই প্রাচীর লঙ্ঘিয়া সে উপস্থিত হয় প্রেমোন্মাদের মতো। রাজকন্যার বাতায়নতলে আসিয়া সংকেত করে, দাসদাসীদিগরে দূর করিয়া রাজকন্যা দ্বার খুলিয়া দিলে ঝটিকাবৎ প্রাসাদগহ্বরে ঢুকিয়া যায়। তাহার পর সন্ধ্যা ঘনায়, রাত্রি হয় অতঃপর, তাহারা দুইটিতে হংসমিথুনবৎ প্রাসাদাভ্যন্তরে বাকুমবাকুম করে। বাহির হইতে সেই অস্ফূট কূজন ক্ষীণভাবে শ্রবণগোচর হয় কি হয় না, ঘটাং ঘটাং ধ্বনিতে সব চাপা পড়িয়া যায়। প্রেমের কুরুক্ষেত্র যে স্বর্ণপালঙ্কটির উপরে ঘটে রাজামহাশয় তাহা আনিয়াছিলেন চৈনিক দেশ হইতে।

- লেখকমশায় সুরসিক আছেন দেখছি, পকেট থেকে পানের ডিবে বার করতে করতে বলেন অবনীশদা, ভাষা যাই হোক, ভাবটি ঘোর আধুনিক! যাক, পড়ো।

এই রূপে দিন অতিবাহিত হয়। প্রেমের নদীতে অবগাহন করিতে গিয়া সেনাপতি যে তাহার কর্তব্যকর্ম্ম সকলই উৎসন্নে দিয়াছে, অবশেষে তাহা রাজার দৃষ্টিগোচর হইলো এক দিন। কথিত আছে রাজার শত চক্ষু সহস্র শ্রবণ। তত্ত্বতালাশ করিতে বিলম্ব হইল না, এবং সংবাদ পাইয়া মধ্যরাত্রেই মহারাজ সেই প্রাসাদসমীপে উপস্থিত হইলেন। দূর হইতেই অদ্ভুত ধ্বনি শুনিয়া রাজন্যের প্লীহা চমৎকৃত হইল, এই গভীর রাত্রে ঢেঁকিতে পাট দিতেছে কোন হতবুদ্ধি! কিন্তু পাঠকপাঠিকা, আমরা জানি উহার উৎস কী, সেই হেতু মহারাজা পদাঘাতে দ্বার বিদীর্ণ করিয়া যখন কন্যার শয়নকক্ষে প্রবেশ করিলেন, আমরা তখনও মৃদুহাস্য করিতেছি!

- ইসসসস, এ তো দেখি নিঘিন্নে পারভার্ট! কোঁৎ করে পানের পিক গিলে বললেন অবনীশদা, বাপকে এনে দাঁড় করিয়ে দিলে মেয়ের বেডসীনে!

মুচকি হেসে পড়তে থাকে রমাপদ, রাজন্যের অবস্থা তখন 'হে ধরণী দ্বিধা হও' গোত্রের! বৃষষ্কন্ধ পুরুষসিংহের রতিনৃত্যরত বিশালাকায় বপুতল হইতে হেমাঙ্গিনীর অঙ্গের ঈষদংশ দৃশ্যমান, এবং তাহারও নিচে সেই স্বর্ণখট্টাঙ্গ, তাহাও নাচিতেছে একই ঝম্পকতালে! নিমেষ না পড়িতেই ক্ষত্রিয়রক্তে বাণ ডাকিল, বামহস্তে সেনাপতির কেশাকর্ষণ করিয়া দক্ষিণহস্তে ক্রোধোন্মত্ত মহারাজ উন্মুক্ত করিলেন তাঁহার অসিখানি! এখনি মুণ্ডচ্ছেদ না করিলে মান থাকে না! সম্মুখে সেনাপতির রোমশ উলঙ্গদেহ ভীত বনহরিণের মতো কাঁপিতেছে, দেখিয়া বিবমিষা জাগিলেও উপায় নাই, তীব্র বমনবেগ চাপিয়া রাখিয়া তরবারি তুলিলেন তিনি। কিন্তু গুরুভার প্রস্তরখণ্ড উঠাইয়া লইবামাত্রই লঘু পত্রটি যেমন বাত্যাঘাতে উড়িয়া যায়, হেমাঙ্গিনী সেইরূপ উড়িয়া আসিয়া আছড়াইয়া পড়িল তাঁহার পদমূলে। বারম্বার মিনতি করিয়া কহিতে লাগিল, মহারাজ, আপনার এই বন্দী আমার প্রাণনাথ, উহার প্রাণ নিবেন না!

- আবার টোকে! হাল ছেড়ে দিয়েছে শম্ভু, কাঁহাতক আর চলে।

আপনার কন্যার প্রাণের দোহাই, মহারাজ, দয়া প্রদর্শন করুন! ক্রন্দন করিতে করিতে বলিয়া চলে হেম। তাৎক্ষণিক ক্রোধ সম্বরণ করা গেলে মহারাজের হুঁশ হয়, এই সেনাপতিটিরে মারিয়া ফেলিলে রাজকার্য চলিবে না। তাঁহার রাজসভা জ্যোতিষ, কবি ও পণ্ডিতে পরিপূর্ণ, বীর একটাও নাই। দুষ্টবুদ্ধি খেলিয়া যায় তাঁহার মস্তকে, কিন্তু মুখভাব পরিবর্তন না করিয়া তিনি বলেন, ছাড়িয়া দিতে পারি তোরে, কিন্তু এই প্রাসাদের ত্রিসীমানায় যেন আর তোর দুষ্টশরীরের ছায়ামাত্র না দেখা যায়। কল্য প্রাতেই তুই সসৈন্য প্রস্থান করিবি উত্তর সীমানায়, পার্ব্বত্য পরগনার মর্কটগুলির অতিশয় বাড়বৃদ্ধি হইয়াছে, সেগুলিরে প্রহারেণ ধনঞ্জয় করিবি একে একে। এই দিকে বমনের তীব্র বেগ আর তো চাপিয়া রাখা যায় না, এতটুকু বলিয়াই মহারাজ লম্ফ দিয়া বাহির হইয়া যান উদ্যানের দিকে। ভূলুন্ঠিত বস্ত্র ও ক্রন্দনরতা নারীটিকে সামলাইতে সামলাইতে সেনাপতি দন্ত কিড়মিড় করিয়া বলিতে থাকে, সকল নষ্টের মূল ঐ চৈনিক পালঙ্ক! উহার ধ্বনি যে আপনি নির্গত হয় না, সে তুচ্ছ সত্যটি ভুলিয়া অপমানিত বীর সক্রোধে বারম্বার পদাঘাত করে নিষ্প্রাণ পালঙ্কে। শতখণ্ডে চূর্ণবিচূর্ণ হইয়া চতুর্দিকে বিক্ষিপ্ত হয় তাহার ভগ্নাবশেষগুলি। অকস্মাৎ এই ঘটনায় বিহ্বল বালিকা ভূতলে পড়িয়া গুমরাইয়া কাঁদিয়া উঠে, সেনাপতি লম্ফ দিয়া বাহির হইয়া চলিয়া যায় দেশ ছাড়িয়া সুদূর বিদেশে।

- এইবার তাহলে ব্যাক টু বর্তমান? শম্ভু বলে। হুমম, পড়তে থাকে রমাপদ, তাহার পর কাটিয়া গিয়াছে কত শত মধুযামিনী, পুষ্পে পুষ্পে ঘুরিয়ে গিয়াছে অলিকূল, চাতক কাঁদিয়া পাগল হইয়াছে চন্দ্রমার তরে, কিন্তু হেমাঙ্গিনীর অঙ্গনে বীরকেশরী আর আসে নাই। এক বর্ষাধিককাল কাটিয়া গেল, কাঁদিয়া কাঁদিয়া তাহার সকল অশ্রু শুকাইল, তথাপি হেমাঙ্গিনীর শূন্য সদন প্রেতপুরীর ন্যায় খাঁ-খাঁ করে। অবশেষে গোপন দূতমাধ্যমে খবর আসিয়াছে, ছদ্মবেশে দেশে ফিরিয়াছেন সেনাপতি, অদ্য রাত্র দ্বিপ্রহরে রাজকন্যা-দর্শনে আসিবেন তিনি। আজ বুঝি পোহাইল অমানিশা, দুখসাগরে ভাসমান হেমের ধৈর্য্য আর বন্ধন মানে না।

- এবার এনেই ফেল না বাবা, আমার ধৈর্যের বাঁধও ভাঙতে চলেছে, অনেক তো হলো বর্ণনা! দাঁত কিড়মিড় করি আমি।

অবশেষে শেষ হয় প্রতীক্ষার দীর্ঘ প্রহর, করাঘাত শুনিয়া উৎকন্ঠিত চিত্তে দ্বার খুলিয়া দেয় হেম। সম্মুখে দণ্ডায়মান তাহার প্রাণনাথ, বিরহানলে তাহার আনন ক্লিষ্ট হইলেও তাহার বৃষষ্কন্ধ আরো বিপুল হইয়াছে বর্ষাধিককাল অশ্বপৃষ্ঠে পার্বত্যপ্রদেশে ঘুরিয়া, বাহুদ্বয় হইয়াছে আরো সুকঠিন। এক লহমায় সেই লৌহসম বাহুর প্রেমপাশে সেনাপতি আবদ্ধ করে তাহার পুরাতন প্রেমিকারে। ওষ্ঠে ওষ্ঠ, অধরে অধর হয়, বহু পুরাতন কামাগ্নি দাউদাউ করিয়া জ্বলিয়া উঠে। আগুনের স্পর্শে যতুঘৃতমোম যেমন গলিয়া যায়, প্রেমালিঙ্গনে তদৃশ বিগলিত দশা হয় রাজকুমারীর, আরামে তাহার চক্ষুদুটি মুদিয়া আসে, আহ্লাদী মার্জারটির ন্যায় হুমহুম শব্দ করিতে থাকে সে। এক লম্ফে তাহাকে ক্রোড়ে উঠাইয়া কক্ষাভ্যন্তরে প্রবেশ করে কামার্ত প্রেমিক, তাহার দশাও মাহ ভাদ্রের সারমেয়বৎ। শয়নকক্ষে ঢুকিয়া কন্যাকে শয্যায় নিক্ষেপ করিতে উদ্যত সেনাপতি, এইবার তাহার বস্ত্রাবরণ ছিন্ন করিয়া কামের উত্তুঙ্গ শিখরে পৌঁছিবে, এমন সময় তাহার দৃষ্টিগোচর হয়, শয্যা কই? শূন্য কক্ষে অনুপস্থিত সেই চৈনিক স্বর্ণপালঙ্কের প্রেত যেন অট্টহাস্য করিয়া তাহাদের উপহাস করে!

- সে কী রে, ঘাবড়ে গিয়ে বলি আমি, এইটে তাহলে রিভেঞ্জ মেড-ইন-চায়না? এ-ই শেষ, নাকি আর আছে কিছু?

- আছে আছে, পড়তে দে, বলে পড়া শুরু করে রমাপদ। হতবুদ্ধি প্রেমিকপ্রেমিকা মিলনমুহূর্ত্তের প্রাক্কালে এ হেন পরিস্থিতিতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া পড়িল, কিন্তু নারীবুদ্ধি চিরকালই প্রখরা। লম্ফ দিয়ে প্রেমিকের ক্রোড় হইতে নামিয়া পড়িল হেম, অতঃপর সেনাপতির হস্ত নিজ হস্তে লইয়া তাহাকে আকর্ষণ করিল, দুইজনে শয়ন করিল ভূমে। প্রেমশকট আবার গতিশীল হইল, চিৎকার-শীৎকারে আকাশবাতাস পূর্ণ হইল, তালে তালে নৃত্য করিতে থাকা দুইখানি শরীর এই বার খট্টাঙ্গপরে না থাকায় আর অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ধ্বনিও হইল না। প্রাসাদের মর্ম্মরভূমিপরে কামানন্দের প্লাবন ডাকিল!

ইউরেকা!! লাফিয়ে ওঠে শম্ভু, পেয়ে গেছি ভূমানন্দ! ভূমিতে যে আনন্দ, সপ্তমী তৎপুরুষ, হুররে! তার উদ্বাহু নৃত্যে বাধা দিতে পারি না, এমন হাতে-গরম ব্যাখ্যার সামনে না-ই বা বলি কী করে, সমস্বরে মেনে নিতেই হয় আমাদের সক্কলকে।

অবনীশদা শুধু গজগজ করতে থাকেন, ব্যাকরণ দিগ্‌গজ!


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

আসলেই ভূমানন্দ মানে কী? চোখ টিপি । স্কুল লাইফের পর আর বঙ্কিম পড়া হয়নি, অনেকদিন পর তাঁর ভাষার উঁকিঝুঁকি দেখে বেশি মজা লাগলো।

সজল

মূলত পাঠক এর ছবি

কমু না! হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

তাইলে শম্ভুই ভরসা হাসি

সজল

অতিথি লেখক এর ছবি

পড়া শেষ করার পরে নিজের দাঁতগুলো অক্ষুন্ন আছে কিনা চেক করতে হলো। না, দাঁত সব ঠিকই আছে। দেঁতো হাসি
ভূমানন্দ না পেলেও পড়ানন্দ পেলাম ঠিকই।

পাগল মন

মূলত পাঠক এর ছবি

যাক তাহলে ডেন্টিস্টের খর্চা দিতে হবে না বলছেন? তাহলে তো মহানন্দ পেলাম, প্রায় ভূমানন্দও বলা চলে! হাসি

তুলিরেখা এর ছবি

হাসি
হো হো হো
ওরে বাবা, হাহাপগেলাম।
এ যে ভূমিকম্প জলোচ্ছ্বাস অগ্ন্যুৎপাত!!!!
মেঝের ব্যাপারে উপকার স্বীকার করেছেন স্বয়ং পরাশর থেকে আইনস্টাইন, সেনাপতি না করে যায় কই?
হো হো হো)
বহুকাল পরে পরাণ খুলে হাসতে পারলাম। জয় হোক লেখক।
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনার রিঅ্যাকশন পড়ে ভাল্লাগ্লো, এমন হাসির হয়ে থাকলে তো লেখা সার্থক। থ্যাঙ্ক য়ু!

অতিথি লেখক [অতিথি] এর ছবি

গল্পের নাম দেখেই মনে পড়ল, একই নামে অধুনা নিরুদ্দেশ সচল সন্যাসীর অনুবাদ করা একটা পিচ্চি গল্প আছে।
লিংক কেমনে এডায়, জানি না, তাই এইভাবেই দিলাম http://www.sachalayatan.com/real_nowhere_man/12228

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক অনেক আগে পড়েছিলাম, আবার পড়তে তা বলে কিছু কম ভালো লাগলো না। ধন্যবাদ আপনাকে।

কৌস্তুভ এর ছবি

ওঃ, পাঁচশতারা দিলেও কম হবে এমন লেখায়!

আমাদের পত্রিকায় আসা একটা সুপার-ডুপার কবিতা (ফেয়ার ইউজ ধরে নিয়ে) শেয়ার করলাম...

তোমাকে কাঁটাবিছান সয্যায় সায়িত আত্মদানে দেখেছি
নায়ক আমার জামা-প্যান্ট,অঙ্গবস্ত্র সমস্ত খুলে ফেলে
নদীর বালিতে রেখে - দূর্ঘক্ষণ জ্যোৎস্না সাঁতার কাটা
বুকের লাল জাড়ুলটি দেখে মুদ্ধ বিশ্ময়ে স্তন পান করি

মূলত পাঠক এর ছবি

এই গল্পেও ঐ জাতীয় একটা রেফারেন্স আছে যেটা বাস্তব থেকেই নেওয়া। শুনে দেদার হেসেছিলাম।

বলি পাঁচশ তারায় হবেটা কী? তার চেয়ে ঐ বাসি বিরিয়ানি পাঠালে কিছু কাজ হতো। যাক কী আর করা, আপাতত ঐ তারাই চিবোই। থ্যাঙ্ক য়ু!

তাসনীম এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

কিভাবে মাথায় আসল এই প্লট? হাসতে হাসতে ভূমানন্দ...
________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

মূলত পাঠক এর ছবি

আসলে এই গল্পটা এক্সপেরিমেন্ট ছিলো। আগে যে দু-একটা গল্প লিখেছি তাতে অনেক ভেবেচিন্তে প্লট ঠিক করে লিখেছিলাম। এইবার ভাবলাম একেবারে মাঠে নিয়ে ছেড়ে দিই গল্পের গরুকে, যে দিকে যায় ঘাস খেতে, যাক। সেই ভেবেই গল্পের গোড়ার ঐ গরুর কথা মনে এলো, তারপর প্রাণে যা চায় লিখতে লাগলাম। দু সিটিংয়ে লিখলাম, প্রথম বার অদ্ধেক লিখে খুব ফাঁকি মারার ইচ্ছে হলো, তখনই ভাবলাম দিয়ে দিই বারোয়ারির পাতে। তারপর আবার বসলাম আজ, নেমে গেল হড়হড় করে, ঐ রাজামশায়ের বমনেচ্ছার মতোই। হাসি

ভালো লেগেছে জেনে আনন্দ পেলাম প্রভূত!

কৌস্তুভ এর ছবি

আসল ব্যাপার আমি কই তাসনীমভাই। আমাদের চৈনিক বালিকার গল্প শুনে শুনে মূলোদার মনে একটা দুষ্টু দুষ্টু প্লট এসেছিল। ফার্স্ট সিটিং'এ লিখেছিলেন ওইটাই। তারপর নিজের নামে সচলে দিতে কেমন কেমন লাগল বলে দ্বিতীয়বারে একটুখানি ঘুরিয়ে ওটাকে কোনো এক বেচারা প্রলয়ঙ্করের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলেন। শয়তানী হাসি

হাসিব এর ছবি

কিন্তু আপনি সুলতারের চেনেন কেমনে দেঁতো হাসি
________________________________________________
নীড়পাতা.কম ব্লগকুঠি

দ্রোহী এর ছবি

প্রশ্নটা আমার মাথায়ও এসেছিল। হাসিব্বাই আগে জিজ্ঞেস করে ফেলেছেন।

অ মূলোদা, আপনে সুলতারে চেনেন ক্যামনে?


কাকস্য পরিবেদনা

মূলত পাঠক এর ছবি

আরে সুলতার সাথে তো অনেক দিনের আলাপ। একবার এক সচল সে গল্প শুনিয়েছিলেন, সেই প্রথম শুনেছিলাম তার নাম। তারপর গুগলে 'সুলতা' দিয়ে সার্চ মারতেই দেখি লাইন দিয়ে আসে সেই মহান সাহিত্যের মহান মহান নিদর্শন!

অনিকেত এর ছবি

জটিল, জটিল ----!!

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ অনিকেতভাই, কিন্তু লক্ষ তারার রাত দিলেন না যে বড়ো? হাসি ল্যাখা ভালা হয় নাই?

দুষ্ট বালিকা এর ছবি

ওরে বাপ্রে! পড়তে পড়তে ভূমানন্দিত হয়ে পরমানন্দিত হলুম যে! গড়াগড়ি দিয়া হাসি

-----------------------------------------------------------------------------------
...সময়ের ধাওয়া করা ফেরারীর হাত থিকা যেহেতু রক্ষা পামুনা, তাইলে চলো ধাওয়া কইরা উল্টা তারেই দৌড়ের উপরে রাখি...

**************************************************
“মসজিদ ভাঙলে আল্লার কিছু যায় আসে না, মন্দির ভাঙলে ভগবানের কিছু যায়-আসে না; যায়-আসে শুধু ধর্মান্ধদের। ওরাই মসজিদ ভাঙে, মন্দির ভাঙে।

মসজিদ তোলা আর ভাঙার নাম রাজনীতি, মন্দির ভাঙা আর তোলার নাম রাজনীতি।

মূলত পাঠক এর ছবি

বেশি আনন্দ পাইও না হে বালিকা, তারপর যদি তোমারে নিয়ে কেউ সুলতাকাব্য লেখে তখন বিপদে পড়বা!

তিথীডোর এর ছবি

হো হো হো
চ্রম!!!

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

মূলত পাঠক এর ছবি

থাংকু তিথীডোর!

মর্ম এর ছবি

শব্দসমূহের এবম্বিধ ব্যবহার দুষ্প্রাপ্য হইয়াছে বলিয়াই বোধ করি বাংলা রম্য সাহিত্য হইতে হাস্যরস বাষ্পীভূত হইতে চলিয়াছে। পঠনারম্ভেই হাসিয়া ফেলিয়াছিলাম, আত্মসংবরণ করিলাম। উপযুক্ত বয়োক্রম প্রাপ্তির পূর্বে উক্ত রচনার রসাস্বাদন করা অনুচিত হইবে বলিয়া বিবেচনা করিলাম। চোখ টিপি

অতঃপর, এদিক ওদিক চাহিয়া পড়িয়া ফেলিলাম! চোখ টিপি
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমার লেখা কইবে কথা যখন আমি থাকবোনা...

~~~~~~~~~~~~~~~~
আমার লেখা কইবে কথা যখন আমি থাকবোনা...

মূলত পাঠক এর ছবি

শেষ লাইনটা জব্বর লিখেছেন! হাসি

বইখাতা এর ছবি

হো হো হো
মারাত্মক! আপনি গল্প এত কম লেখেন কেন বলেনতো? সচলায়তনের মডারেটরদের জন্য সত্যিই সমবেদনা অনুভব করছি! কী কষ্টই না দিই হাবিজাবি গল্প পাঠিয়ে। হাসি

মূলত পাঠক এর ছবি

আরে সব জিনিস কি আর সবাইকে দিয়ে হয়? তাও ঘনঘন? তাই তো কমসম লিখি, এতে করে মডুদের উপর অত্যাচারটাও খানিক কম করা হয়।

অনেক ধন্যবাদ! হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

জীবনদেবতা কহেন, হে পুণ্যবান! মর্ত্যলোকে ভূমানন্দ অমৃতসমান চোখ টিপি

পালঙ্কানন্দ নিয়েও কিছু লিখুন না! গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

কুটুমবাড়ি

মূলত পাঠক এর ছবি

পালঙ্কানন্দটা বড়োই অবভিয়াস হয়ে যাবে না? হাসি

অদ্রোহ এর ছবি

নাহ! রীতিমত উপাদেয় হয়েছে। তবে ইয়ে, মূলোদা, গপ্পোটা কি ভূয়োদর্শনমূলক? হাসি

--------------------------------------------

আজি দুঃখের রাতে সুখের স্রোতে ভাসাও ধরণী
তোমার অভয় বাজে হৃদয় মাঝে হৃদয় হরণী।

--------------------------------------------
যদ্যপি আমার গুরু শুঁড়ি-বাড়ি যায়
তথাপি আমার গুরু নিত্যানন্দ রায়।

মূলত পাঠক এর ছবি

থাংকু অদ্রোহ।

এ জীবনে সবই ভূয়োদর্শন, তবে এক্কেবারে ১০০% ভূয়ো মাল না হলেই হলো। এতেও খাঁটি জিনিস আছে অল্প, ঐ সুলতাটুকু!

দ্রোহী এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি
যেমন প্লট তেমন বর্ণনা!

অসাধারণ গল্প বললে কম বলা হয়।


কাকস্য পরিবেদনা

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, দ্রোহীসাহেব!

দেবোত্তম দাশ এর ছবি

ফাটাফাটি, কমেণ্ট না করে পারলাম না
------------------------------------------------------
হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন’রা কি কখনো ফিরে আসে !

------------------------------------------------------
হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন’রা কি কখনো ফিরে আসে !

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, দাশমশায়!

দুর্দান্ত এর ছবি

শুরুতে 'গার্লঙ্গার্ল' এর উল্লেখ পড়ে আরেকজন নায়িকার আবির্ভাব সহ একটা মিষ্টি পেমের সামাজিক গল্প ভেবে নিয়েছিলাম। পরে দেখি এটা নিতান্তই নিরেট পুঁজিবাদি ঘরানার গল্প। রাজা আর রাজকন্যের নিজ নিজ ক্ষমতার অপব্যাবহারে পিষ্ট বেচারা ওয়ার্কিংক্লাসের সেনাপতির দুখভরা কাহানী। সরখেল, তিন সম্পাদক ও আমরা এই বুর্জোয়ার চেয়ে চেয়ে মজা লুটবার উপাখ্যান।

আহারে বেচারা ওয়ার্কিংক্লাস সেনাপতি, যার শুরু ভূমানন্দ দিয়ে, তারই শেষটায় যে সুতীক্ষ্ণ হাঁটু্যন্ত্রনা আছে, সেটা তাকে কেন কেউ বলে দিলেনা? খুঁজে পেতে একটা তক্তপোশ টেনে নিলেও রক্ষে হত। এখন কে তার হাঁটু বাচাবে?

শ্রেনীসংগ্রাম আর শ্রোনীসংঘাতের এহেন সংমিশ্রন আর কোথাও দেখিনাই।

--

ভাল হয়েছে, ভাল লেগেছে, এগুলো আর কত বলবো মশাই?
মাঝে মধ্যে সখ করে দু' একটা আজেবাজে লেখাওতো দিতে পারেন।
কিঠিশাইয করে একটু সুখ পাই।

মূলত পাঠক এর ছবি

এই তো, করলেন তো একটা বুর্জোয়া কমেন্ট? হাঁটু ব্যথা আপনার-আমার মতো মিডলক্লাস কলমপেষা কেরানিদের জন্য, অশ্বারোহণে পর্ব্বতকন্দর লঙ্ঘানো বীরশার্দূলের কি ও সব ব্যামো হয়? আর সেনাপতিকে দিয়ে যে যাই করাক তাতে সমস্যা নেই, বিনিময়ে তারও লাভ একেবারে হচ্ছে না তা বলা যায় না।

লেখা ভালো লেগেছে এইটে অবশ্য খুব ভালো কথা, একেবারে প্রলেতারিয়েতও বলা যায়। হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

অস্থির... ক্লাসের মধ্যে বইসা পড়ছি.. কত কসরত কইরা যে শব্দ ছাড়া হাসতে হইল.. একটা সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরন দিবেন না.. খাইছে

কোনো এক সুশীতল হাজরা নামক কবির কল্পনানারী সুলতা কেন জীবনানন্দের বনলতার চেয়ে ঢের ঢের ভালো এইটে প্রতিপন্ন করতে চেয়ে।

হো হো হো হাসি) বাংলা কাব্যাকাশে সুলতা একটা ব্যাপার কিন্তু...

অতিথি লেখক এর ছবি

নাম দিতে ভুলে গেছিলাম... অচলের কতো যন্ত্রণা.. 'ইকথিয়ান্ডার'..

মূলত পাঠক এর ছবি

ইকথিয়ান্ডার সাহেব,

আপনার প্রশংসা পেয়ে ভালো লাগলো খুবই। অনেক ধন্যবাদ!

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

ভাগ্যিস এই জিনিস বারোয়ারি পাতে ছেড়ে দেন নাই! খাইছে

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

মূলত পাঠক এর ছবি

আহা বারোয়ারি হলে হয়তো গল্পের গরু অন্য পথে ঘাস খেতে যেতো, কিন্তু সে আরেক রকম মজা হতো!

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

স্রেফ মুড়ি চিবোচ্ছিলাম, সবসময় কাজটাজ করা মোটেও কাজের কথা নয় এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

আপনে মডারেটরদের মুড়িখোর বললেন যে বড় !!!

... মজা পাইলাম এইটা পড়ে !!

তাহার দশাও মাহ ভাদ্রের সারমেয়বৎ।

... আর যদিও আমি বয়োবৃদ্ধ, কচিকাঁচাদের ( দেঁতো হাসি) এইসব দুর্বচন ভালো লাগে না সচরাচর- তবে ভূমানন্দ বয়ানে মজা পেলাম বেশ। বেড়ে হয়েছে...
_________________________________________

সেরিওজা

মূলত পাঠক এর ছবি

কেন, মুড়ি খারাপ জিনিস নাকি?

প্রবীন বয়সে এই সুদীর্ঘ লেখা যে পড়ে শেষ করতে পেরেছেন এই কি কম কথা নাকি? তার উপর আবার মজাও পেয়েছেন যখন তখন তো কথাই নেই! হাসি

সৈয়দ আখতারুজ্জামান এর ছবি

উহাং বহুতং জবরদস্তং হইছেং! গুল্লি

মূলত পাঠক এর ছবি

থাংকু!

নৈষাদ এর ছবি

মজা লাগল।

মূলত পাঠক এর ছবি

ধন্যবাদ, নৈষাদ!

দিফিও [অতিথি] এর ছবি

ভূমানন্দের মানে জানার জন্য বেশ একটা টেনশনেই পড়ে গেছিলাম, জানতে পেরে বিমলানন্দ পাইলাম হাসি

লেখা দারুণ উমদা হয়েছে, জানিয়ে গেলাম।

মূলত পাঠক এর ছবি

যতো উমদাই হোক, আপনার বিরিয়ানির ধারেকাছে যায় নি। আহা বিরিয়ানি!

থ্যাঙ্ক য়ু!

শাহেনশাহ সিমন এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি হো হো হো গড়াগড়ি দিয়া হাসি

কোনো এক সুশীতল হাজরা নামক কবির কল্পনানারী সুলতা কেন জীবনানন্দের বনলতার চেয়ে ঢের ঢের ভালো এইটে প্রতিপন্ন করতে চেয়ে। খাইছে

রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থপতি নির্মাণ করিয়াছে রাজদুহিতার সৌধ কস্কি মমিন!

সাথে দুর্দান্তদার বলাঃ "শ্রেনীসংগ্রাম আর শ্রোনীসংঘাতের এহেন সংমিশ্রন আর কোথাও দেখিনাই।"

পুরাই পয়সা উসুল হো হো হো
_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

_________________
ঝাউবনে লুকোনো যায় না

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, সিমন!

স্নিগ্ধা এর ছবি

আহা, আপনার দয়ার শরীর, গল্প-পড়ে-ভিরমি-খাওয়া সম্পাদকদের প্রতি সহমর্মিতার চোটে একখানা বিভীষণ গল্পই নিকে ফেললেন, আহা দেঁতো হাসি

আর, সুলতা Vs বনলতা? ক্লাসিক রে ভাই, একদম ক্লাসিক!!

দারুণ গল্প। তবে, 'কুটনা', 'ছিদ্রান্বেষী' এসব বলতে না পারলে তো আপনার আবার পেটব্যথা হবে, তাই খেতাবের সার্থকতা প্রমাণ করতে বলি - বর্ণনাগুলো খুবই মজার হলেও আরেকটু সংক্ষেপিত অথবা আরেকটু কম ভাষালংকারসমৃদ্ধ হলে গল্পটা আরও টানটান হতো বলে মনে হয়েছে।

তবে কিনা, গল্পটা শেষমেষ ওই দারুণই লাগলো গিয়ে! আমি মহৎপ্রাণ ব্যক্তি, হিংসা টিংসা করি না, নাহলে ......

মূলত পাঠক এর ছবি

যাক, আপনার লেভেলে 'বাঃ' শুনলেই আমরা খুশি হয়ে যাই, এবার তো তার চেয়ে ঢের বেশি দিয়েছেন, কাজেই কুটনা-টুটনা কিছু বলবো না, বলতে তো এমনিতেও চাই না, নেহাৎ না বলে থাকা যায় না আপনি লোকটাই এমন! তো আজ না হয় না-ই বললাম ছিদ্রান্বেষী। মানে মহৎপ্রাণটা একটু বেশি হয়ে যায়, তাও ঐ আর কি, আজকে না হয় মেনেই নিলাম।

ঐ অতিরিক্ত বর্ণনাটা ধরেছেন ঠিকই, ওগুলো একটু গল্পের গতরবৃদ্ধির জন্য পরে জুড়তে হয়েছে। সম্পাদকেরা আর পারছিলো না ইয়ার্কি মেরে গল্পের অবয়ব বাড়াতে, তখন প্রলয়ঙ্করকে ধরে আনলাম আরো চার লাইন জুড়ে দিতে। না হলে কেমন রোগারোগা লাগছিলো গপ্পোটা।

সংসপ্তক এর ছবি

আমি আবারো বুঝলাম, 'বিশেষ' বর্ণনা দানে আধুনিক লেখকেরা যতই লাফালাফি করুক, ক্ল্যসিক্যাল দাদাদের পায়ের নখ তূল্য নহে। হেনরি মিলার, আনাইয নিন....নিতান্তই তুশ্চু।
গল্পে ৫ (ভার্চুয়াল)
.........
আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা

.........
আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা

মূলত পাঠক এর ছবি

আমার থ্যাঙ্কু'টা কিন্তু মোটেও ভার্চুয়াল নয়, এই ন্যান ধরেন! হাসি

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

গল্প বড়ই মজার হয়েছে - একথা না বললে অন্যায় হবে। মজার ব্যাপারটা ছাড়া টুকলিফাইং অংশগুলোকে এক সূতোয় বাঁধার ব্যাপারটা চমৎকার লেগেছে।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

মূলত পাঠক এর ছবি

আহা বেকার বেকার অন্যায় করবেনই বা কেন? কাজেই আরো ভালো ভালো বিশেষণ লাগাতে পারেন, প্রমিস একটুও কিছু মনে করবো না।

ঐ স্ট্রাকচারাল ব্যাপারগুলো এই গল্প লিখতে বসে ভেবে ভেবে লিখি নি, আপনাআপনি যা হবার তাই হয়েছে। দেখলাম ভেবে লেখার থেকে এই ভালো। খাটনিও ঢের কম। হাসি

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

কীভাবে লেখেন এইসব! বাপরে ভাষা! সত্যিই অসাধারণ! আর হাস্যরসের কথাই বা কী বলবো! খুবই মজা লাগলো গল্পটা পড়ে। আপনি মশায় পারেনও! দেঁতো হাসি

মূলত পাঠক এর ছবি

অপ্র ভাই, এমন প্রশংসা পেয়ে পেট ভরে গেলো, অনেক অনেক ধন্যবাদ!

অতিথি লেখক এর ছবি

কঠিন লেখা। হাসতে হাসতে গড়াগড়ি যাবার জোগাড়। ভাই আপনার প্রতিভা নমস্যঃ।

অমিত্রাক্ষর
অমিত্রাক্ষর@জিমেইল ডট কম

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, অমিত্রাক্ষর!

সুরঞ্জনা এর ছবি

উরেহ! খাইছে
হাসিতে হাসিতে প্রাণ যায় প্রায়।। দেঁতো হাসি
একদম গুল্লি গুল্লি গুল্লি

গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু গুরু
............................................................................................
স্বপ্ন আমার জোনাকি
দীপ্ত প্রাণের মণিকা,
স্তব্ধ আঁধার নিশীথে
উড়িছে আলোর কণিকা।।

............................................................................................
এক পথে যারা চলিবে তাহারা
সকলেরে নিক্‌ চিনে।

মূলত পাঠক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ, সুরঞ্জনা! এতো গোলাগুলি দেখে ভয় পেলাম খানিক। হাসি

অতিথি লেখক এর ছবি

চ্রম চ্রম...সিরাম মজারু হইসে পাঠক ভাই !
ছোট ছোট কিছু ডায়লগ যে কত কিছু এক সাথে বুঝিয়ে দেয়...
যেমন-
"মাথায় চাঁটা মেরে থামিয়ে দিই আমি, চুপ কর অর্বাচীন। ভাগবতপাঠে ফের বাধা দিলে গোহত্যা করতেও কসুর করবো না বলে রাখলাম!"

"গুরুভার প্রস্তরখণ্ড উঠাইয়া লইবামাত্রই লঘু পত্রটি যেমন বাত্যাঘাতে উড়িয়া যায়"
ইত্যাদি !

গুরু গুরু !

মূলত পাঠক এর ছবি

ভালো লেগেছে জেনে আনন্দ পেলাম।

দময়ন্তী এর ছবি

হা হা হা হা হা হা হা গড়াগড়ি দিয়া হাসি সত্যি ভয়াবহ সব জিনিষপ্ত্র আসে বটে!

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

মূলত পাঠক এর ছবি

সম্পাদকের দপ্তরে থাকলে এমন অভিজ্ঞতা হবারই কথা, আমার নিজের যদিও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা প্রায় নেই বললেই হয়। অ্যামেরিকান বা ইন্ডিয়ান আইডলে একখানা এপিসোড থাকে এই জাতীয় মজারু সংকলন ক'রে। সে জাতীয় বিভাগ খোলা গেলে মন্দ হয় না (যদিও তাতে অনেক "লেখক"-এর রেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে)।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আদম টু বলদিয়া জমিদারের বংশলতিকা কাহিনী পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছিলাম গতদিন থেকে, আজকে এটা পড়ে তো বেহুশ হয়ে পড়লাম রে দাদা.........গুরু গুরু........এরকম গল্প বহুদিন পড়ি নাই, পাক্কা ক্লাসিক হয়েছে।

আপনিও সুলতারে চিনলেন? হা হা হা।
তবে শফিকুলকে আরো ভালো করে চিনবেন ফেসবুকে একটু সার্চ দিলে......সুলতা আর লুলতা দুইটাই পাইবেন হাসি

-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
এ ভ্রমণ, কেবলই একটা ভ্রমণ- এ ভ্রমণের কোন গন্তব্য নেই,
এ ভ্রমণ মানে কোথাও যাওয়া নয়।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

ভগ্ন হৃদয় নিয়ে শুধু ক'হে যাই,
ষ্টার মারিবার অথরিটি নাই।।

উপায় থাকলে ৫ তারা তো মাষ্ট।

======================================
অন্ধকারের উৎস থেকে উৎসারিত আলো, সেইতো তোমার আলো।
সকল দ্বন্ধ বিরোধ মাঝে জাগ্রত যে ভালো, সেইতো তোমার ভালো।।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

মূলত পাঠক এর ছবি

ধন্যবাদ, নীড় সন্ধানী আর রাতঃস্মরণীয়।

সুলতা কাহারো অচেনা নয়, তাছাড়া সে নানা রূপে আসে, খোরাকের কি অভাব আছে? হাসি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।