ইয়োগা: সুদেহী মনের খোঁজে |২৬| আসন: তৌলাঙ্গাসন।

রণদীপম বসু এর ছবি
লিখেছেন রণদীপম বসু (তারিখ: বুধ, ১৫/০৪/২০০৯ - ১২:২২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

auto

আসনাবস্থায় তূলাদণ্ডের মতো দেহের দু’ অংশকে সমভরে স্থাপন করা হয বলে এ আসনকে বলা হয় তৌলাঙ্গাসন বা তোলাঙ্গুলাসন (Tolangulasana)|

পদ্ধতি:
পদ্মাসনে বসে হাত দু’টো দেহের দু’পাশে রেখে শুয়ে পড়ুন। হাতের তালুদ্বয় পাছার নিচে চিৎ হয়ে থাকবে। এবার কনুইয়ের ওপর ভর দিয়ে আস্তে আস্তে বুক ও পা সমভাবে মাটি থেকে উপরে তুলুন। হাতের কনুই মেঝের সঙ্গে প্রায় ৯০ ডিগ্রী কোণ করে লেগে থাকবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০ সেঃ থেকে ৩০ সেঃ এই অবস্থায় থাকুন। আসনটি ২/৩ বার অভ্যাস করুন এবং প্রয়োজনমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন।

auto

উপকারিতা:
আসনটিতে দেহের সকল অংশের কম-বেশি উপকার হয়, বিশেষ করে পেটের মাংসপেশী সবল হয়। এ আসন অভ্যাসে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়। পেটে প্রচণ্ড চাপ পড়ে বলে পেটের যাবতীয় গ্রন্থি ও পেশী সবল ও সক্রিয় হয়।
আমাদের দেহের বেশিরভাগ রোগ পেট থেকে আসে। যেমন- পেটের ভিতরে দু’পাশে যে দু’টো বৃক্ক বা কিডনি আছে, তাদের কাজ রক্ত থেকে অপ্রয়োজনীয় জলীয় অংশ এবং যা কিছু শরীরের জন্য অপ্রয়োজনীয় তা মূত্ররূপে দেহ থেকে বের করে দেয়া। এই আসনে কিডনি সুস্থ ও সক্রিয় থাকলে দেহে অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকারক কোন কিছু থাকতে পারে না। এড্রিনাল গ্রন্থি সক্রিয় রাখতে আসনটি বিশেষ কার্যকরী। মেয়েদের সন্তান প্রসবহেতু বা অন্য কোন কারণে পেট ও তলপেটের শিথিলতা দূর করে পূর্বাবস্থা ফিরিয়ে আনতে আসনটি বিশেষভাবে সাহায্য করে। আসনটি অভ্যাস রাখলে ছেলেদের হার্নিয়া জাতীয় রোগ কোনদিন হয় না। আসনটির সঙ্গে পদহস্তাসন বা শশঙ্গাসন অভ্যাস রাখলে বাত, সায়টিকা, লাম্বার স্পণ্ডিলোসিস, স্লীপ্‌ড ডিস্ক জাতীয় রোগ কোনদিন হতে পারে না। এছাড়া, এই আসন অভ্যাসের ফলে দেহে কোথাও অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমতে পারে না এবং সেইসঙ্গে হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
[Images: from internet]

(চলবে...)

পর্ব:[২৫][**][২৭]


মন্তব্য

সচল জাহিদ এর ছবি

দাদা আপনার পসার জমানোর এখনি সময় দেঁতো হাসিএই খবরটি লক্ষ্য করুন

-----------------------------------------------------------------------------
আমি বৃষ্টি চাই অবিরত মেঘ, তবুও সমূদ্র ছোবনা
মরুর আকাশে রোদ হব শুধু ছায়া হবনা ।।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

রণদীপম বসু এর ছবি

বড়ই সুসংবাদ ! কিন্তু আগে তাদেরকে বাংলা শিখাবে কে...?

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

আরে, এইটাও তো দেখি আমি করতে পারি! সহজই মনে হইল! হাসি
রণ'দা আজকাল সহজ সহজ আসন দিচ্ছেন মনে হয়। অনেক ধন্যবাদ।

রণদীপম বসু এর ছবি

চর্চা করলে প্রায় সবগুলো আসনই সহজ হয়ে যায়। দেখতে যতোটা কঠিন মনে হয়, আসলে ততোটা কঠিন কিন্তু এগুলো নয়। সাহস করে শুরু করে দেয়া কেবল....

এ আসনটা দেখতে খুব একটা আকর্ষণীয় মনে না হলেও, যারা ভুড়ি নিয়ে সমস্যায় আছেন তাদের জন্য খুবই কার্যকরি একটা আসন। ভুড়িওয়ালারা ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন....

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

রিফা [অতিথি] এর ছবি

এটা করলে কি পেটের চরবি কমবে দাদা ???? মানে যাদের আগে থেকেই জমে আছে তাদের কি উপকার হবে ???!!!

রণদীপম বসু এর ছবি

অবশ্যই পেটের মেদ কমবে। তবে কেবল একটা আসনকেই অবলম্বন না করে আপাতত প্রতিদিন ৪/৫ টা আসন অভ্যাস করা শুরু করে দিন। যে আসনগুলোতে পেটের ব্যায়াম তুলনামূলক বেশি হয় সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন। কিন্তু ইয়োগা নিয়মটা ঠিক রাখার চেষ্টা করবেন.....

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।