| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…| ২৯১-৩০০ |

রণদীপম বসু এর ছবি
লিখেছেন রণদীপম বসু (তারিখ: মঙ্গল, ০১/০৭/২০১৪ - ৯:২৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(২৯১)
ধর্ম নিয়ে জন্মায় না কেউ; যার যে কর্ম বা আচরণ, সেটাই তার ধর্ম।
.
(২৯২)
চিন্তা হলো নদীর মতো, স্রোত হারালে মরে যায়।
.
(২৯৩)
‘ইগো’ হচ্ছে মানুষের সেই প্রতিদ্বন্দ্বি সত্তা,
যার কাছে নিশ্চিত পরাজয়েও মানুষ অপমান বোধ করে না।
.
(২৯৪)
জগতে সঠিক পথ একটাই,
যাকে মানুষ নিজে সঠিক বলে মনে করে।
.
(২৯৫)
মুদ্রার উভয় পিঠ কখনো এক হয় না;
মানুষের আটপৌরে ও সামাজিক সত্তা এক হয়ে যাওয়াটাও কৃত্রিম।
.
(২৯৬)
প্রতীক্ষা যতক্ষণ না-ফুরায়, ততক্ষণই আনন্দের;
সান্নিধ্য মানেই বিচ্ছেদের শুরু।
.
(২৯৭)
প্রতিটা পাওয়ার মধ্যেই একেকটা হারানোর দুঃখের জন্ম।
.
(২৯৮)
নিজেরাই নির্মাতা বলে আইন হয় শাসকের পক্ষে; আর
শাসিতকে মোহাবিষ্ট করতে যে সুন্দর কথামালার সৃষ্টি করা হয়
সেগুলো ভণ্ডামি।
.
(২৯৯)
‘হও বললেই হয়ে যাওয়ার ক্ষমতাধর ঈশ্বর হচ্ছেন সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান
এবং সৃষ্ট জগত তাঁর ইচ্ছার অধীন।’- এই সারকথাটুকু
মানুষকে বোঝানোর জন্য ঈশ্বরের চেষ্টার অন্ত নেই;
যুগে যুগে কতো প্রতিনিধি পাঠাতে হচ্ছে তাঁকে !
.
(৩০০)
স্পষ্ট কথা পছন্দ করেন না এমন স্বীকারোক্তি পাওয়া যেমন দুষ্কর,
স্পষ্ট কথা হজম করতে পারেন তেমন ব্যক্তিও বিরল। এরকম পরস্পরবিরোধী দুটো অবস্থা
একইসাথে সত্য ও স্থিত হওয়ার রসায়নেই লুকিয়ে আছে বাঙালির মানসিক জগৎ।

[২৮১-২৯০][*][৩০১-৩১০]


মন্তব্য

মেঘলা মানুষ এর ছবি

সবগুলোই চমৎকার তবে ২৯৩ আর ৩০০ -পুরা পাত্থর!

রণদীপম বসু এর ছবি

ধন্যবাদ।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

দীনহিন এর ছবি

ধর্ম নিয়ে জন্মায় না কেউ; যার যে কর্ম বা আচরণ, সেটাই তার ধর্ম।

খাসা বলেছেন, রনদা!
রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেনঃ

সকল মানুষেরই 'আমার ধর্ম' বলে একটা বিশেষ জিনিস আছে। কিন্তু সেইটেকেই সে স্পষ্ট করে জানে না। সে জানে, আমি খ্রিস্টান, আমি মুসলমান, আমি বৈষ্ণব, আমি শাক্ত ইত্যাদি। কিন্তু সে নিজেকে যে ধর্মাবলম্বী বলে জন্মকাল থেকে মৃত্যুকাল পর্যন্ত নিশ্চিন্ত আছে, সে হয়ত সত্য তা নয়। নাম গ্রহণেই এমন একটি আড়াল তৈরী করে দেয় যাতে নিজের ভিতরকার ধর্মটা তার নিজের চোখেও পড়ে না।

তাছাড়া,

‘ইগো’ হচ্ছে মানুষের সেই প্রতিদ্বন্দ্বি সত্তা,
যার কাছে নিশ্চিত পরাজয়েও মানুষ অপমান বোধ করে না।

এই উৎবচনটিও চমৎকার হয়েছে।

চলুক।

.............................
তুমি কষে ধর হাল
আমি তুলে বাঁধি পাল

রণদীপম বসু এর ছবি

চলুক

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

বহুদিন পরে বহু পথ ঘুরে অবশেষে সচলায়তনে! হাসি

রণদীপম বসু এর ছবি

বহু পথ আর ঘুরলাম কই ! এক জায়গাতেই ঘুরে ঘুরে মরছি !!

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

চার্বাক কত পথ পথ পেরুলো?

রণদীপম বসু এর ছবি

কাছাকাছি চলে এসেছি প্রায়। অতলান্ত পাড়ি দিয়ে এসেছি, আবঝা আবঝা পার দেখতে পাচ্ছি মনে হচ্ছে !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চলুক চলুক চলুক
এই শুভদিনে ত্রি-শতকের শুভেচ্ছা হাততালি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

রণদীপম বসু এর ছবি

আপনাকেও !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

এক লহমা এর ছবি

(২৯২), (২৯৯) হাততালি
যাক, সচলায়তনের জন্মদিন উপলক্ষে আপনার দেখা পাওয়া গেল! হাসি

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

রণদীপম বসু এর ছবি

দেখা না দিলেও আমি কিন্তু চুপি চুপি দেখে যাই ঠিকই ! হা হা হা !!

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

নীলকান্ত এর ছবি

জগতে সঠিক পথ একটাই,
যাকে মানুষ নিজে সঠিক বলে মনে করে।


অলস সময়

রণদীপম বসু এর ছবি

হুমম !

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

অতিথি লেখক এর ছবি

প্রতিক্ষা যতক্ষন না - ফুরায় ততক্ষন ই আনন্দের; সান্নিধ্য মানেই বিচ্ছেদের শুরু । -আনান ইবনাত

রণদীপম বসু এর ছবি

চলুক

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

তাহসিন রেজা এর ছবি

কতদিন পর উৎবচনের ঘড়া হাসি

------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“We sit in the mud, my friend, and reach for the stars.”

অলীক জানালা _________

রণদীপম বসু এর ছবি

ঘড়া তো ভরাই আছে ! কেবল ঢালার সময় হয়ে ওঠে না !!

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

অতিথি লেখক এর ছবি

ধর্ম নিয়ে জন্মায় না কেউ; যার যে কর্ম বা আচরণ, সেটাই তার ধর্ম

চলুক

জগতে সঠিক পথ একটাই,
যাকে মানুষ নিজে সঠিক বলে মনে করে

বাঁধিয়ে রাখার মত কথা হাততালি

মাসুদ সজীব

রণদীপম বসু এর ছবি

হা হা হা ! ধন্যবাদ।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

নীড় সন্ধানী এর ছবি

অনেকদিন পর রণদা! আপনার দর্শনের দেখা মিললো চলুক

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

রণদীপম বসু এর ছবি

দর্শন তো সদাই দৃশ্যমান ! আমি একটু ঠেলে দিলাম শুধু !!

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

মুস্তাফিজ এর ছবি

৩০০ করে ফেলছেন, অভিনন্দন রণদা

...........................
Every Picture Tells a Story

রণদীপম বসু এর ছবি

ধন্যবাদ মুস্তাফিজ ভাই ! হয়েছে আরো বেশ আগেই, দেয়া হয়নি আর কি !
এবং হয়ে আছে আরো বেশ কিছু, কিপ্টের মতো ধরে রেখেছি ! হা হা হা !!

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

সবজান্তা এর ছবি

আরে রণদা, আছেন কেমন! আপনারে তো মেলা দিন দেখি না!

ঘটনা হইলো, কয়েকদিন আগেই একজনরে চার্বাক নিয়া লেকচার দিতেছিলাম- এক পর্যায়ে সে জানতে চাইলো চার্বাক দর্শন নিয়া ভালো বই টই কী আছে। যেহেতু কালাপানির এইপারে, ফিরিঙ্গিদের দেশে বাংলা বইয়ের নাম বইলা লাভ নাই- তারে বললাম, কয়টা দিন সবুর করেন, ইন্টারনেটেই কয়দিনের মধ্যে একজন ব্লগার অনেক কিছু লিখবেন। আমার মুখটা রাইখেন দেঁতো হাসি

রণদীপম বসু এর ছবি

এইতো গুটিয়ে এনেছি। শুধু চার্বাক কেন, সবগুলো ভারতীয় দর্শনই পাবেন। বার-চৌদ্দশ পৃষ্ঠার মধ্যেই দুই খণ্ডে আশা করছি আগামী মেলাতে উপহার দেবো। একান্তই টুটুল ভাই যদি ভয় না পান ! প্রথম খণ্ডে কেবলই চার্বাক প্রসঙ্গ, যদিও এখানে সিন্ধু সভ্যতা থেকে বৈদিক সভ্যতা হয়ে বেদ-ব্রাহ্মণ-উপনিষদ-পুরাণের যথেষ্ট ঘুটাঘুটি থাকবে, একেবারে মূল ও তর্জমার প্রচুর প্রচুর উদ্ধুতিসহ। তাও হয়তো চারশ-সাড়ে চারশ পৃষ্ঠায়।
আর দ্বিতীয় খণ্ডে জৈন, বৌদ্ধ, ন্যায়, বৈশেষিক, সাংখ্য, যোগ, মীমাংসা ও বেদান্তের তিনটি ( বাদরায়ণের ব্রহ্মবাদ, শঙ্করাচার্যের অদ্বৈতবাদ ও রামানুজের বিশিষ্টাদ্বৈতবাদ) দর্শন রয়েছে। এখানেও যথাসম্ভব মূল, উপমূল, শাখামূল থেকে তর্জমাসহ উদ্ধুতিরও অভাব হবে না মনে করি।

কেবল গত পাঁচ বছর ধরে এই কাজটা করতে গিয়ে শরীরটাকে নড়বড়ে ও তামা-তামা করে ফেলেছি। অতএব আশা করছি আপনার সুন্দর মুখটাকে কেউ নিতে পারবে না, থাকবে, এমনকি দৃষ্টিগ্রাহ্য কোন কালো দাগ পড়বে না যাতে আপনজনেরা দেখে অস্থির হয়ে যায় ! হা হা হা !

(অফটপিক: আজই কিন্তু ওইন্দ্রিলাকে চেতিয়ে দিয়েছি ! অতএব সামালকে ! হা হা হা !)

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

অতিথি লেখক এর ছবি

একজন মানুষের জীবনে কত অভিজ্ঞতা থাকলে বা জীবনকে কত গভীরভাবে অনুভব করলে এতগুলো উৎবচন লেখা যায় তা আমার ঠিক জানা নেই। এমন একজন মানুষের প্রতি কিভাবে শ্রদ্ধা জানানো যায় তাও বুঝতে পারছি না। শুধু শুভকামনা রইল আরও অনেক অনেক ঘড়ায় ভরে ভরে উৎবচন আসুক। গুরু গুরু

ফাহিমা দিলশাদ

রণদীপম বসু এর ছবি

মন্তব্যের জবাব নেই। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA