জাতীয় সংসদে ডিএনএ বিল এর অনুমোদন: আমার ভাবনা

সজীব ওসমান এর ছবি
লিখেছেন সজীব ওসমান (তারিখ: সোম, ৩০/০৬/২০১৪ - ১২:১৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গতবছর ২ সেপ্টেম্বরে মন্ত্রীসভায় উত্থাপনের পর এবছরের ২৩ জুন 'ডিএনএ বিল-২০১৪' সংসদে অনুমতি পেল। আগামী একমাসের মধ্যে বিলটি পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন প্রদান করতে বলা হয়েছে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রনালয়কে। বিলটি কেন দরকার তার উত্তর যথার্থভাবেই দিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ:

ডিএনএর প্রোফাইলিং পরীক্ষার মাধ্যমে ধর্ষণ, হত্যা প্রভৃতি জঘন্যতম অপরাধের অপরাধী শনাক্তকরণ, পিতৃত্ব-মাতৃত্ব, ভাইবোন সম্পর্ক নির্ণয়, বিদেশে অধিবাসী হতে ইচ্ছুকদের প্রয়োজনীয় ডিএনএ পরীক্ষা অথবা বংশের ধারা প্রমাণ এবং বিচ্ছিন্ন বা বিকৃত মৃতদেহ শনাক্ত করা যায়।

বিলটি সাধারনের জন্য উন্মু্‌ক্ত নয় বিধায় আমি নিজে বিলটি সম্বন্ধে যা জেনেছি তার পুরোটাই প্রত্রিকার খবর থেকে। এখানে দুইটা খবর: বাংলা এবং ইংরেজী। আর এই খবরগুলি থেকেই আমার ভাবনাগুলো বলছি। প্রথমেই, বিলটির গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলি তুলে ধরছি:

১. ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি স্থাপন ও জাতীয় ডাটাবেইজ প্রতিষ্ঠা
২. মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিশেষজ্ঞসহ বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন।
৩. কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা সরকারের অনুমোদন ছাড়া ডিএনএ পরীক্ষা বা সংরক্ষণ করতে পারবে না। এ আইন ভাঙলে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডাদেশ হতে পারে, সঙ্গে তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান।
৪. ডিএনএ নমুনা ধ্বংস, পরিবর্তন, দূষিত বা জাল করা হলে; কারও দায়িত্বে অবহেলার কারণে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা না গেলে বা নমুনা নষ্ট হলেও বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির বিধান।
৫. তদন্তের প্রয়োজনে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহে কেউ অসম্মতি জানালে পুলিশ আদালতে যেতে পারবে বলে বিলে উল্লেখ রয়েছে। তবে কমপক্ষে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতি ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা যাবে না।

আমি কিছু পয়েন্টে আলোচনা করছি। এখানে সাগর-রুনী হত্যাকান্ডের অপরাধটিকে মডেল হিসেবে ব্যবহার করছি। প্রথমেই অল্প করে বলে রাখি, প্রায় দুইবছর পরও অপরাধী সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এই হত্যাকান্ডের। ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ঘটনাস্থল থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে মিল খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছিল এই গ্রেপ্তারকৃতদের ডিএনএ'র সঙ্গে, তবে কারও সঙ্গেই মিল পাওয়া যায়নি।

ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষা কী

ডিএনএ'র গঠনের এককগুলি ৪টি ভিন্ন যৌগ (সংক্ষেপে A, T, G, C বলে) দিয়ে গঠিত। এই ৪টি যৌগ বিভিন্ন বিন্যাসে সজ্জিত হয়ে একজন মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের মিল বা পার্থক্য তৈরি করে এবং ৪ যৌগের বিন্যাসকেই ডিএনএ'র বিন্যাস বলে। অর্থাৎ এভাবে ডিএনএ'র বিন্যাস দিয়ে যেমন বোঝা যায় যে কোন ডিএনএ টি কোন মানুষের (অর্থাৎ পার্থক্য), তেমনি বোঝা যায় কোন মানুষের বাবা বা ভাই কে (অর্থাৎ মিল)। সেজন্য ডিএনএ'র কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় আমাদেরকে দেখতে হয়। এই জায়গাগুলিকে মার্কার বলে। অপরাধস্থল থেকে বিভিন্নভাবে ডিএনএ সংগ্রহ করা যায়, যেমন, চুল, শুক্রাণু, কোন খাবারের অবশিষ্টাংশে লেগে থাকা মানবকোষ (গালের কোষ), বিকৃত শরীরের বিভিন্ন অংশ ইত্যাদি। আমি খুব বেশি গভীরে যাচ্ছিনা। এখানে শুধু জেনে রাখা ভাল যে মার্কার গুলির মিল বা পার্থক্য আমাদেরকে কোন অপরাধস্থল থেকে অপরাধীর ডিএনএ নিয়ে কোন মানুষের সঙ্গে মিল খুঁজে দেখায়। এভাবে অপরাধী যেমন চেনা যায় তেমনি মৃতদেহ বা পিতামাতাও সনাক্ত করা যায়।

ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরি স্থাপন

ফরেনসিক ডিএনএ গবেষণাগার পৃথিবীর প্রায় সবগুলি উন্নত দেশেই আছে। এর কাজ হল কোন অপরাধস্থল হতে নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলি থেকে ডিএনএ আহরণ করে, সেটাকে পর্যবেক্ষণ করে, পরীক্ষা করে মিল খুঁজে বের করে অপরাধী খুঁজে বের করা। আমি জানিনা বাংলাদেশে কোন সাধারন ফরেনসিক গবেষণা কেন্দ্র আছে কিনা যেখানে ডিএনএ ছাড়াও অন্যধরনের উপাত্তগুলি নিয়ে গবেষণা করা হয়। আর ডিএনএ গবেষণাগার শুধুমাত্র ডিএনএ নিয়ে কাজ করার কথা। তবে আমার চিন্তাটা হল কোন ধরনের অপরাধে এই গবেষণাগারকে ব্যবহার করা হবে, সেটা নিয়ে। বাংলাদেশে অপরাধের সংখ্যা উন্নত দেশগুলির তুলনায় বেশি হওয়ার কথা। তাই, এত বেশি পরিমান অপরাধকে ডিএনএ পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা কষ্টকর হবে মনেকরি, যদি শুধুমাত্র একটি সীমিত সুবিধার গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়।

সাগর-রুনী হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে আমেরিকাতে পাঠানো হয়েছিল পরীক্ষার জন্য। কিন্তু দেশেই এই সুবিধা থাকলে নিঃসন্দেহে কম খরচে এবং কম সময়ে দেশের ডিএনএ ফরেনসিক গবেষণাগার পরীক্ষাগুলি করতে পারতো।

ডিএনএ ডাটাবেইজ

জাতীয় ডাটাবেইজ প্রতিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে মনে করি। এখানে ব্যাপারটাকে একটু ব্যাখ্যা করছি। এটাতো জানেনই যে, আমরা সবাই মানব প্রজাতি হলেও আমাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য বিদ্যমান, যেমন দেখতে কেমন, গায়ের রঙ, উচ্চতা, চুল ইত্যাদি। আর এই সূক্ষ পার্থক্যের কারন নিহীত মানুষের ডিএনএ তে। তাহলে ধারনা করা যায় আমাদের ডিএনএর কোন কোন জায়গা সম্পূর্ণ নিজস্ব, অর্থাৎ মার্কারগুলি দিয়ে একজন মানুষের কাছ থেকে আরেকজন মানুষকে আলাদা করা যাবে। তেমনি, আমরা যদি আগে থেকেই রহিমের ডিএনএ'র মার্কার কেমন সেটা জানি তবে অপরাধস্থলে কোন ডিএনএ পাওয়া গেলে সেখান থাকে মার্কার মিলিয়ে অপরাধস্থলে রহিল ছিলেন কিনা সেটা বোঝা যাবে।

আর রহিমের ডিএনএ মেলাতে গেলে আমাদেরকে আগে থেকেই জানতে হবে রহিমের ডিএনএ কেমন ছিল। আর সেজন্য তার কাছ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে তার মার্কার এলাকার বিন্যাসটি আমরা সংরক্ষণ করে রাখতে পারি, কম্পিউটারের যেকোন টেক্সট ফাইল হিসেবে। আর তাহলে এরকমভাবে রহিম, করিম, জাফর, মাহফুজ, শিরিন, সাবরিনা, তুলি- এমন অনেকের কাছ থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে যদি আমরা বিন্যাসগুলি সংরক্ষণ করে রাখি তবে তার মানে হবে যে আমরা একটি ডিএনএ ডাটাবেইজ তৈরি করলাম। প্রস্তাবিত বিলে ডাটাবেইজটা কাদের নিয়ে হবে তারজন্য ৪টি ইনডেক্স প্রস্তাব করা হয়েছে:

১। অপরাধস্থল ইনডেক্স, ২। সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী ইনডেক্স, ৩। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের ইনডেক্স এবং ৪। সরকার কর্তৃক সময় নির্ধারিত অন্য কোনো ইনডেক্স

এই ইনডেক্সগুলিকে এভাবে পৃথক করার কিছু গুরুত্ব আছে। একটি উদাহরণ দিচ্ছি। মনে করি কোথাও একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এখন সেখান থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে পুরো দেশের মানুষের ডাটাবেইজ (সমগ্র দেশের ইনডেক্স) এ খুঁজে বের করতে অনেক সময় লাগবে, ফলস পজিটিভ উত্তরও বেশ কিছু আসবে। সেজন্য, যদি আমরা অপরাধের ধরন থেকে সেই সংক্রান্ত অপরাধীদের একটি ইনডেক্স বানাই তবে সেখানে প্রথমে খুঁজতে বেশি বেগ পেতে হবেনা। এর পক্ষে যুক্তিও আছে। যেমন, দেখা গিয়েছে যে, যারা সেক্স অফেন্ডার বা যৌন নিপিড়ক, তাদের মধ্যে একই অপরাধ বারবার করার প্রবণতা আছে। তাই যেকোন ধর্ষণের ঘটনাতেই, উচিত হবে প্রথমে ধর্ষক বা যৌণ নিপিড়কদের ডাটাবেইজ এ খুঁজে দেখা। সেজন্য জানা যৌন নিপিড়কদের একটি ইনডেক্স তৈরি করতে হবে প্রথমে।

আগেই বলেছি, সাগর-রুনী ঘটনাটিতে ডিএনএ পরীক্ষায় আটককৃত কোন ব্যক্তির সঙ্গেই মিল পায়নি অনুসন্ধানকারীগণ। কিন্তু যদি আমাদের হাতে আগে থেকেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ডিএনএ'র একটি ডাটাবেইজ থাকতো তবে পরীক্ষায় প্রাপ্ত বিন্যাসটির সঙ্গে ডাটাবেইজের বিন্যাসগুলিকে মিলিয়ে দেখা শুধুমাত্র একটা কম্পিউটারের বাটন চাপার কাজ ছিল। আমাদের কাছে সেই ডাটা বেইজটা নাই, ফলে এই ব্যাপারটা করতে পারিনি। তবে এখান থেকে বুঝছেন ডাটাবেইজ থাকার প্রয়োজনীয়তা। শুধু অপরাধের ক্ষেত্রে নয়, মানুষ সনাক্ত করার যেকোন বিষয়ে, এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্রে বারকোড হিসেবে আমরা সংরক্ষণ করে রাখতে পারি দেশের সবগুলি মানুষের ডিএনএ-পরিচয় মার্কার। এমন ব্যবস্থাও চালু করা যায় যে, শিশু জন্মের সময় বাধ্যতামূলকভাবে ডিএনএ স্যাম্পল দিতে হবে বিন্যাস সংরক্ষণ করে রাখার জন্য।

শাস্তির বিধান এবং নীতিমালা

এই অংশটাতে এসে আমি একটু দ্বিধাগ্রস্থ, সম্ভবত যেহেতু বিস্তারিত বিলটি পড়ার সুযোগ হয়নি। বলে রাখি, নীতিমালাগুলির প্রয়োজন আছে, কিন্তু সেগুলি কিভাবে আরোপিত হবে সেটাই প্রশ্ন। কোথা থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, কি নমুনা, কতদিন পুরোনো নমুনা, তার অবস্থাটা কী এসব নিয়ে প্রশ্ন। কে সংগ্রহ করেছেন, কিভাবে করেছেন, সঠিক নিয়ম মেনেছেন কিনা সেটাও দেখার বিষয়। তাই নীতিমালা হলে এই ব্যাপারগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে যায়।

কিন্তু আমার কাছে একটু খটকা লেগেছে এই অংশটায়:

কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা সরকারের অনুমোদন ছাড়া ডিএনএ পরীক্ষা বা সংরক্ষণ করতে পারবে না।

এর অর্থ বুঝছিনা। আমি খুব সহজেই আমার নিজের ডিএনএ সংগ্রহ করে রাখতে পারি। আপনাদেরকে নিজের গৃহস্থলী জিনিসপত্র দিয়ে কিভাবে ডিএনএ কোষ থেকে বের করে নিয়ে সংরক্ষণ করে রাখবেন সেই পদ্ধতিও বাতলে দিতে পারি। কিন্তু সেটা কি অপরাধ হবে? সেই ডিএনএ নিয়ে পরীক্ষা করাটাও অপরাধ হবে? জীববিজ্ঞান গবেষণা ক্ষেত্রে একজন মানুষের ডিএনএ সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ খুব সাধারন বিষয়। এসব ক্ষেত্রে এই বিধিবিধানের প্রয়োগ গবেষণাকে বাধাগ্রস্থ করবে।

তবে শাস্তির বিধানের প্রয়োজন আছে। শোনা যায়, সাগর-রুনী হত্যাকান্ডের ঘটনায় এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান এর ভাই নিজের ডিএনএ নুমনা দিতে রাজী হননি। কিন্তু যদি ডিএনএ বিলটি পাশ হয়ে যায় তবে এইধরনের কাজের জন্য উক্ত অস্বীকৃতি জানানো ব্যাক্তিকে শাস্তির আওতায় আনতে পারবে পুলিশ এবং তদন্ত সহজ হয়ে যাবে।

পরিশেষ

সর্বোপরি আমার মনে হয়েছে এই 'ডিএনএ বিল-২০১৪' কার্যকর হলে বাংলাদেশ ফরেনসিক গবেষণা এবং অপরাধী সনাক্তে দারুণ সাহায্য করবে। সাগর-রুনীর হত্যাকান্ডের তদন্তের উদাহরণগুলি থেকে বুঝতে পারছেন। তবে, বিলটির সঠিক এবং কার্যকরী প্রয়োগের ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে হবে।


মন্তব্য

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

সবার আগে যে বিষয়টা নিয়ে আমি শঙ্কিত সেটা হচ্ছে, কারা এই কাজগুলো করবে। বাংলাদেশে জনবল ব্যবহারে দক্ষতার আগে অন্য বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার চল আছে! সেইজন্য শঙ্কা করি এই সকল কাজে যাদের ঠিক ঠিক জ্ঞন আছে তাদের পরামর্শ না নিয়ে ব্যবহার করা হবে একসপ্তাহের শিক্ষা পাওয়া নব্য বিশেষজ্ঞদের। সেইরকম না হোক সেই আশা করি। বিষয়টা নাজুক, সেইজন্য তথ্য/আইন অপব্যবহারেরও সুযোগও প্রচুর। নীতিমালা এবং আইন প্রণয়নে সেইজন্য ভালো বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিলে তার নেতিবাচক প্রয়োগের সুযোগও কমে আসবে বলে মনে হয়।

এবং সংগ্রহ/গবেষণায় বাধা!
কারো অনুমতি ছাড়া তার ডিএনএ নিয়ে গবেষণা হলে সেটার শাস্তি হতে পারে। কিন্তু ডিএনএ গবেষণা এবং সংরক্ষণ মাত্রই শাস্তির বিধান ক্যাম্নেকী সেইটা স্পষ্ট হওয়া দরকার। সেই স্পষ্টতা না আসা পর্যন্ত আইনের এই অংশটা মেনে নিচ্ছি না।

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

সজীব ওসমান এর ছবি

হুমম। প্রথম শঙ্কাটাতো আছেই। নিয়ন্ত্রণ, নীতিমালা প্রণোয়ন এবং প্রয়োগ এই বোর্ডগুলায় কারা আছেন সেটা দেখার বিষয়।

দ্বিতীয় শঙ্কাটার কথা পোষ্টে উল্লেখ করেছি। পুরো বিলটা না পড়লে তারা কী বোঝাতে চাইছেন সেটা সম্বন্ধে পরিষ্কার হতে পারছিনা।

হাসিব এর ছবি

কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা সরকারের অনুমোদন ছাড়া ডিএনএ পরীক্ষা বা সংরক্ষণ করতে পারবে না।

পশ্চিমা দেশে তো মনে হয় এরকমই নিয়ম। ভুল বললাম?

সজীব ওসমান এর ছবি

আমার মনে হয়না পশ্চিমা দেশে এভাবে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মানুষের ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়। বরং কোন গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার সময় সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুমোদন লাগে এরকরম ভাবে যে 'আমরা এই বিশেষ ধরনের (যেমন ডিএনএ নিয়ে) কাজ করবো।'

যখন সেই ল্যাব মানুষের ডিএনএ নিয়ে কাজ করবে তখন কোন মানুষের ডিএনএ সংগ্রহ, সিকোয়েন্স বা অন্য কাজ করতে গবেষণাগারটির শুধুমাত্র উক্ত ব্যক্তির কনসেন্ট বা অনুমতি লাগে, কিন্তু সরকারের কাছ থেকে কোন অনুমতির প্রয়োজন হয়না।

অতিথি লেখক এর ছবি

জীব বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে ডিএনএ পরিক্ষা বা সংরক্ষণের ব্যাপারে ব্যাক্তি বা সংস্থার অনুমোদন নেয়াটা যদি আমলাত্রান্ত্রিকতার বাইরে রাখা যায় তবে সেটাই উত্তম । না হলে গবেষণা পুরোটাই বন্ধ হয়ে যাবে ।

আমিন মুহাম্মাদ

সজীব ওসমান এর ছবি

আমার ধারনা (এবং আশা) সেরকম কিছু হবেনা।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।