ডক্টর কিং-এর ভাষণ - "I have a dream"

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি
লিখেছেন সুবিনয় মুস্তফী (তারিখ: মঙ্গল, ২২/০১/২০০৮ - ৮:৩৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

autoবিংশ শতাব্দীর প্রকৃত বীরদের মধ্যে অন্যতম একটি নাম রেভারেন্ড ডক্টর মার্টিন লুথার কিং। কৃষ্ণাঙ্গ ধর্মযাজক ছিলেন। গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সংখ্যালঘু কালো জনগোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেতাঙ্গদের দ্বারা অনবরত পদদলিত হচ্ছিল। বর্ণবিদ্বেষী দক্ষিণাঞ্চলে শাদা আর কালোর এক কলে পানি খাওয়া পর্যন্ত নিষেধ ছিল। এমন সময়ে মার্টিন লুথার কিং এগিয়ে আসেন কালোদের নাগরিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে। ৫০-এর দশকের মাঝামাঝি তখন, বর্ণবাদের ঘাঁটি আলাবামা অঙ্গরাজ্যের এক গীর্জার তিনি নবীন যাজক। কিং মহাত্মা গান্ধীর দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন - অসহযোগ ও অহিংসার পথ ধরেও যে কালোরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবে, তা তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন। এই কারনে তিনি অনেক সহিংস কালোদের বিরাগভাজন হয়েছিলেন, আর শ্বেতাঙ্গদের একটি বড় অংশ যে তাকে অন্তর থেকে ঘৃণা করতো, তা বলাই বাহুল্য। পানির কামান আর কুকুরের কামড় থেকে শুরু করে পুলিশী অত্যাচার আর কারাবাস - সবই তাকে ভোগ করতে হয়েছিল।

autoসিভিল রাইট্‌স আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবার জন্যে ডক্টর কিং ১৯৬৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। তার বয়স তখন মাত্র ৩৫ - তখন পর্যন্ত সর্বকনিষ্ঠ শান্তি পুরস্কার বিজ়য়ী। দুঃখের বিষয় এই যে ১৯৬৮ সালে তিনি আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। ষাটের দশকে যেই তিনটি বড় রাজনৈতিক হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াশীলদের দ্বারা, কিং তাদের দ্বিতীয়। অপর দুইজন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি (১৯৬৩) এবং তার আপন ভাই রবার্ট কেনেডি (১৯৬৮)। উল্লেখ্য যে রবার্ট কেনেডি তখন প্রগতিশীল প্ল্যাটফর্মে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্যে প্রচারণা করছিলেন। ৬৮-র এপ্রিলে ডক্টর কিং খুন হবার মাত্র দুই মাস পরেই ববি কেনেডি আরেক আততায়ীর গুলিতে মারা যান। মৃত্যুকালে কিং-এর বয়স ছিল ৩৯, আর ববি কেনেডির বয়স ৪২।

autoযাই হোক, গতকাল মার্টিন লুথার কিং দিবস পালিত হয়। ১৯৬৩ সালে রাজধানী ওয়াশিংটনে কালোদের নাগরিক অধিকার আদায়ের দাবীতে একটি বিশাল মিছিল হয়। মিছিল শেষে ১৮৬৫ সালে ক্রীতদাসদের মুক্তিদাতা প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের স্মৃতিসৌধের সামনে দাঁড়িয়ে কিং একটি অবিস্মরণীয় ভাষণ দেন। ভাষণটি আজ "I have a dream" ভাষণ হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে। অভিজ্ঞ ধর্মযাজক হিসেবে কিং এমনিতেই অসাধারণ বক্তা ছিলেন - এই বক্তৃতাটি শুধু তার জীবনের সেরা বক্তৃতাই নয়, বরং বিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ বক্তৃতাগুলোর অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্ণবাদ নির্মূল আর পদদলিতের অধিকার অর্জনের পথে এই মাইলফলক ভাষণটি এখানে তুলে দিলাম। (ভাষণের সম্পূর্ণ টেক্সট।)


মন্তব্য

দিগন্ত এর ছবি

শেয়ার করার জন্য অসংখ্যা ধন্যবাদ।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

মুহম্মদ জুবায়ের এর ছবি

মাত্র পাঁচ বছর সময়কালের মধ্যে দুই কেনেডি এবং মার্টিন লুথার কিং-কে খুন না করা হলে কি আজকের পৃথিবী আরো সহনীয় ও অর্থবহ হতে পারতো? কে জানে!

-----------------------------------------------
ছি ছি এত্তা জঞ্জাল!

জ্বিনের বাদশা এর ছবি

মার্টিন লুথার কিংকে অনেক শ্রদ্ধা ,,, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট না হয়েও যে প্রেসিডেন্টদের ছাড়িয়ে যাওয়া যায়, ইনি সেটা প্রমাণ করে গেছেন ,,,
========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

========================
যার ঘড়ি সে তৈয়ার করে,ঘড়ির ভিতর লুকাইছে

আরিফ জেবতিক এর ছবি

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য ।

নিরীহ মানুষ এর ছবি

ধন্যবাদ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA