এই যদি হয় মানবধর্ম...

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি
লিখেছেন সুবিনয় মুস্তফী (তারিখ: বুধ, ২০/০৫/২০০৯ - ১১:১২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(কারো ধর্মীয় চেতনায় আঘাত দেবার জন্যে এই লেখাটি লেখা হয়নি। প্রতিটা বক্তব্যের পেছনে প্রামাণ্য লিংক দেবার চেষ্টা করেছি।)

ক্যাথলিক চার্চ আরেকটা প্রবল ঝাঁকি খেতে যাচ্ছে। এক দশকের গবেষণা-অনুসন্ধান শেষে আইরিশ সরকার আজকে একটি রিপোর্ট বের করছে। লোমহর্ষক তার বিষয়বস্তু - ক্যাথলিক পাদ্রীদের হাতে আইরিশ শিশু-কিশোরদের শারীরিক, মানসিক ও যৌন নিপীড়নের এক করুণ ইতিহাস। ৫ খন্ডে রচিত ৩,০০০ পাতার বিশাল এই রিপোর্টটি সংকলনের দায়িত্বে ছিলেন একটি সরকারী কমিশন, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় এক আইরিশ বিচারপতি। রিপোর্টের বিস্তার ব্যাপক। কমিশনের সদস্যরা সেই ১৯৩০-এর দশক থেকে শুরু করে বর্তমানকাল পর্যন্ত তাদের অনুসন্ধান চালিয়েছেন। গার্ডিয়ান পত্রিকার ভাষায় এই রিপোর্ট হচ্ছে a comprehensive portrait of sexual, physical and emotional damage inflicted on children consigned to Ireland's now defunct network of reformatories, workhouses, orphanages and other church-run institutions between the 1930s and the 1990s.

১০০-রও বেশী ইন্সটিটিউশনের ভেতরে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। প্রায় ৫০০ জন পাদ্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তলিয়ে দেখা হয়েছে। প্রামাণ্য স্বাক্ষ্য দিয়েছেন আড়াই হাজার স্বাক্ষী, যারা এইসব ইন্সটিটিউশনের ভেতরে থেকে বড় হয়েছিলেন। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে ফিরে এসেছেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে বা আমেরিকা থেকে, কেবলমাত্র তাদের বক্তব্যটুকু বলার জন্যে, যুগ যুগ আগে তাদের উপর যে অত্যাচার চলেছিল তার বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দেয়ার জন্যে।

কারা এই ইন্সটিটিউশনগুলো চালাতো? ক্যাথলিক চার্চের অনেকগুলো 'অর্ডার' বা তরিকা আছে - জেসুইট, ফ্রান্সিস্কান, বেনেডিক্টাইন, ডমিনিকান, ইত্যাদি। নবীন পুরোহিত-পাদ্রীরা এইসব বিভিন্ন তরিকার মধ্যে থেকে একটা বেছে নেন, সেই অর্ডারের ভেতরে থেকেই শিক্ষা-দীক্ষা আর ট্রেনিং লাভ করেন। পরবর্তীতে বাকি জীবন তারা অর্ডারের সেবায় নিয়োজিত থাকেন, বিভিন্ন পোস্টিং-এ দায়িত্ব পালন করেন। ধরেন, পাড়ায় একটা স্কুল থাকতে পারে যেটা জেসুইট পুরোহিতদের দ্বারা চালিত, আবার আরেকটা এতিমখানা থাকতে পারে যেটা কিনা ডমিনিকান পাদ্রীদের নিয়ন্ত্রণাধীন। ঢাকার বিখ্যাত সেইন্ট জোসেফ স্কুল, নটরডেম কলেজ এবং হলিক্রস কলেজ়ের কথা সবাই জানেন - এই তিনটাই প্রতিষ্ঠা করেছেন 'হলি ক্রস' অর্ডারের পাদ্রীরা

*

সে যাই হোক, ফিরে আসি আয়ারল্যান্ডে। হাজার হাজার শিশু-কিশোর এইসব পাশবিক নিপীড়ন আর লাঞ্ছনা্র শিকার হয়েছিল। পত্রিকায় যৌন নিপীড়নের উদাহরণ দেয়া হয়েছে -- "interrogation about sexual activity, inspection of genitalia, kissing, fondling of genitalia, masturbation of witness by abuse and vice versa, oral intercourse, rape and gang rape". যারা এই অকথ্য অত্যাচার সহ্য করেছিলেন, তারা আজকে প্রাপ্তবয়স্ক, অনেকেই হয়তো আর বেঁচে নেই। তারা বলেছেন যে আইরিশ রাষ্ট্র আর সমাজ়ব্যবস্থায় ক্যাথলিক চার্চের যেই দোর্দন্ড প্রতাপ, সেই প্রতাপের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস তাদের ছিল না। অন্যথায় তাদের এক কথায় মিথ্যুক সাব্যস্ত করা হতো।

ক্যাথলিক চার্চের প্রতাপের ব্যাপারে বাড়িয়ে বলা হচ্ছে না। আজকে ইউরোপের মানুষ হয়তো ধর্মের ব্যাপারে ১৫ আনাই উদাসীন। কিন্তু দুই দশক আগেও আয়ারল্যান্ড, স্পেন বা ইটালির মত ক্যাথলিক সংখ্যাগুরু দেশে রোমান ক্যাথলিক চার্চ ছিল এক সমান্তরাল সরকারের মতোই শক্তিশালী। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশেছিল চার্চের অধীনস্থ অর্ডারগুলো, আর প্রতিটা কাঠামোতে চার্চের ছিল নীরব এবং সরব উপস্থিতি, প্রভাব, প্রতিপত্তি। ইন্ডেপেন্ডেন্ট পত্রিকা যথার্থই বলেছে - In Ireland, as it was in the 1950s, the Catholic bishops effectively were its rulers. It was the Archbishop of Dublin who was the ultimate arbiter of public policy.

*

ক্যাথলিক চার্চের পুরোহিতদের হাতে দৈহিক অত্যাচার বা যৌন নিপীড়নের কেলেংকারি এটাই প্রথম নয়। সত্যি বলতে ইদানীংকালে এটা একটা নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাঁচ-ছয় বছর আগে মার্কিন যুক্তরাট্রের ক্যাথলিক অধ্যুষিত বস্টন শহরে ভয়াবহ এক কেলেংকারি উন্মোচন হয় - এই কেলেংকারি উদঘাটনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন বস্টন গ্লোব দৈনিক পত্রিকার রিপোর্টাররা। পরবর্তীতে লস এঞ্জেলেস সহ আরো অনেক শহরে একই রকম কাহিনী উন্মোচন হয়।

অন্যান্য দেশের তুলনায় মার্কিন সিস্টেমে নিগৃহীত বা নিপীড়িত নাগরিকদের আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ সুবিধা বেশী রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে বিগত দশকে চার্চ এবং তার পাপিষ্ঠ পাদ্রীদের বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা দায়ের হয়েছে। চার্চ এইসব ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে, যেখানে ব্যর্থ হয়েছে সেখানে শত শত মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়েছে। উইকিপিডিয়াতে উল্লেখ আছে যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের কম সে কম ২০টি দেশে ক্যাথলিক চার্চের পুরোহিতদের বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল এবিউজের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

*

এর পরিণতি কি? আয়ারল্যান্ডে যেমন নবীন প্রজন্মের ভেতরে ক্যাথলিক চার্চ বিষয়ে সন্দেহ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনিতেই আধুনিকতা, প্রযুক্তি, স্বচ্ছলতা, এসবের প্রবল চাপে পড়ে প্রচলিত ধর্ম আজকে পিছপা হয়ে আছে। এটা শুধু আয়ারল্যান্ড নয়, বরং গোটা বিশ্ব জুড়েই সত্যি। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে আমরা মোটের উপর এক গ্লোবালাইজড সেকিউলার প্রযুক্তিঘন পুঁজিবাদী বিশ্বে বসবাস করি। এই যুগের তরুণ তরুণীদের কাছে ধর্মের আকর্ষণ ক্ষীণ, বলতে গেলে নেই প্রায়। আর যেখানে এই রকম ন্যাক্কারজনক এবিউজের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে মানুষ ধর্মকে আর কি চোখে দেখবে? প্রতিটা এবিউজ কেসেই দেখা গেছে যে ক্যাথলিক কর্তৃপক্ষের প্রথম প্রতিক্রিয়া হলো ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়া, সমস্যার গুরুত্ব অস্বীকার করা। পরবর্তীতে নানা দিক থেকে চাপের মুখে পড়লে পুশব্যাকের চেষ্টা, যেটা ব্যর্থ হলে মামলা-মোকদ্দমা, জরিমানা ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো দোষী পাদ্রীদের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে আইনী সাজা হয়েছে, জ়েলের ভাত খেয়েছে, এমন যৌনপাপী পুরোহিতের সংখ্যা নগণ্য।

প্রশ্ন উঠেছে যে রোমে বসে পোপ বেনেডিক্ট এইসব এবিউজের ব্যাপারে কি বক্তব্য দেবেন বা কি বিহিত করবেন। আপাতদৃষ্টিতে ভ্যাটিকানের এই বিষয়ে তেমন কোন উৎকন্ঠা আছে বলে মনে হয় না। বরং বর্তমানে যিনি পোপ, তিনি প্রয়াত জন পলের তুলনায় সব বিষয়েই বেশী কট্টরপন্থী বলে পরিচিতি লাভ করেছেন। ক্যাথলিক পাদ্রীদের হাতে এইসব যৌন নিপীড়নের ঘটনা কেন ঘটে বারবার? অনেকে মনে করেন যে সবচেয়ে বড় কারন হলো তাদের বিয়ে-শাদী করার বিরুদ্ধে ভ্যাটিকানের অনুশাসন। 'পাদ্রী হবে চিরকুমার' - ক্যাথলিক চার্চের এই অনুশাসনটি হাজার বছরের পুরানো। পাদ্রীরা স্বাভাবিক প্রথায় যৌনপ্রবৃত্তি প্রবাহিত করতে পারেন না, সারা জীবনেও না। তাই তাদের ভিক্টিম হয়ে যায় নিরীহ শিশু কিশোররা। ছিন্নভিন্ন হয় বাচ্চাদের শৈশব-কৈশোর - অনেক ক্ষেত্রে তাদের সারা জীবন। কিন্তু র‌্যাটজিংগার মানে পোপ বেনেডিক্ট এই 'চিরকুমার পুরোহিত' সিস্টেমের কোন অবসান ঘটাবেন, এমনটা ভাবার কোন কারন নেই।

*

দুঃখের বিষয় হলো এই যে আজকে আয়ারল্যান্ডে যেই এবিউজের ঘটনা উদঘাটিত হলো, তার পরিণামে আইনী শাস্তি ভোগ করতে হবে না কোন দুশ্চরিত্র লম্পট পাদ্রীকে। যেই সিনিয়র পুরোহিতরা চার্চের উপরতলায় বসে এইসব ঘটনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনুমোদন দিয়েছিলেন, দোষীদের আগলে রেখেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে না। এই নির্মম সত্য জানার পরে এক স্বাক্ষী ব্যক্ত করেছেন তার তিক্ত ক্ষোভ - "I'm very angry, very bitter, and feel cheated and deceived. I would have never opened my wounds if I'd known this was going to be the end result. It has devastated me and will devastate most victims because there is no criminal proceedings and no accountability whatsoever."

ভবিষ্যতে কি হবে? যেমনটা বলেছি, এককালের প্রবল ধর্মপ্রাণ দেশ আয়ারল্যান্ড, তার নতুন প্রজন্ম আজ চরম উদাসীন। গীর্জার সাপ্তাহিক প্রার্থনায় লোকজনের সমাগম বহুগুণে কমে গেছে। এক সময়ে আইরিশ যুবক বা বস্টনের ক্যাথলিক তরুণদের জন্যে পাদ্রী হওয়া ছিল এক অতি সম্মানজনক পেশা তথা সার্বিক জীবনব্যবস্থা। কিন্তু সেই পেশা বেছে নিতেও আজকে আর তেমন কেউ আগ্রহী না। পাদ্রী ট্রেনিং দেবার 'মাদ্রাসা'গুলোতে সীট খালি পড়ে থাকে। নতুন মুখের অভাবে অনেক কনভেন্ট আর মনাস্টারি বন্ধ হয়ে গেছে, আরো অনেকগুলো কনভেন্ট ক্ষয়িষ্ণু, হুমকির সম্মুখীন। আগে একটা পাড়ার শৃংখলা কিছুটা হলেও বজায় রাখতে পারতেন পাদ্রীরা। তাদের অবর্তমানে পাড়ার ছেলেদের তদারকি করার আর কেউ নেই। তাই এসেছে গ্যাং মারামারি, ড্রাগ এবং এলকোহলের চর্চা। এক অবক্ষয়ের পরিবর্তে, হয়তো সেই অবক্ষয়ের কারনেই, আরেক রকমের অবক্ষয়।

*

দেখুন বস্টনের এবিউজ কেস নিয়ে পিবিএস ফ্রন্টলাইন-এর হৃদয়বিদারক এক ডকুমেন্টারি - Hand of God। বাংলাদেশের মাদ্রাসা বা ক্যাডেট কলেজগুলোর ভেতরে কি ঘটে, এসব নিয়ে কেউ কোন অনুসন্ধান কোনদিন চালাতে পারবেন কি?


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

লুই সি.কে.-এর একটা মকুমেন্টারি যোগ করলাম খাইছে



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

সাইফ এর ছবি

সিরিয়াস ইস্যু নিয়া জোক করসে, তাও হাসতে হাসতে পেট ফাটার জোগাড় হইল। ধন্যবাদ হিমুদা।

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

ফাটাফাটি ক্লিপ। খুবই সত্য।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

আহমেদুর রশীদ এর ছবি

জানা কথা যায় না জানা।জানা হলো আজ অনেক।

---------------------------------------------------------

ঘাস তুমি ঘাসের মতো থাকো মাটি ছুঁয়ে
যে দেখার সে নতজানু হয়ে ছুঁবে তোমার আঙুল
অবরুদ্ধ মাঠ থেকে তুমি লাফিয়ে নেমোনা প্লিজ পাথরের পথে

---------------------------------------------------------

ঘাস তুমি ঘাসের মতো থাকো মাটি ছুঁয়ে
যে দেখার সে নতজানু হয়ে ছুঁবে তোমার আঙুল
অবরুদ্ধ মাঠ থেকে তুমি লাফিয়ে নেমোনা প্লিজ পাথরের পথে
________________________________________
http://ahmedurrashid.

রণদীপম বসু এর ছবি

মানুষ শেষ পর্যন্ত যুক্তিশীলই। ধর্মীয় বিষয়-আশয়গুলো যে আসলে কোনো যুক্তির উপর চলে না, সেটা আগেকার লোকজন যেমন বুঝতেন, এখনকার লোকেরাও বুঝেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই বিষয়টিতে এসে কেন যে অধিকাংশেই যুক্তিবোধ ব্যবহার করতে নারাজী হয়ে ওঠে, তার পেছনে যে সাইকো-অন্ধতা, সেটা একটু একটু কাটছে, এবং আগামীতে আরো কেটে যাবে।
যে ভয়াবহ বিষয়গুলো ওঠে আসছে, আমার কাছে এটা তো মোটেও আশ্চর্য মনে হচ্ছে না ! বরং এরকম না হলেই আশ্চর্য হতাম বেশি। শেষ পর্যন্ত মানুষ তো প্রকৃতিরই সন্তান, নাকি ? মিথের গাঁজা দিয়ে কতদিন আর ঢেকে রাখা ! আবরণ খশবেই, আগে বা পরে। সেই দিন আমরা দেখে যেতে না পারলেও আমি নিশ্চিৎ !!!

-------------------------------------------
‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই।’

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

খুবই দুঃখজনক ঘটনা।

রেনেট এর ছবি

এধরনের খবর যখন পড়ি, তখন স্বভাবতই মেজাজ খারাপ হয়। আমি নিজে খুব একটা ধার্মিক, তা বলব না, কিন্তু ব্যক্তিবিশেষের জন্য যখন গোটা সম্প্রদায়ের মাথা নিচু হয়, তখন আসলে বলার কিছু থাকে না।
এবার ফোকাসটা একটু অন্যদিকে ঘুরাই। একজন ক্যাথলিক হিসাবে পাদ্রীদের কুমার থাকার যৌক্তিকতা সম্পর্কে একটু বলি। প্রথমত, কাউকে ধরে বেধে পাদ্রী বানানো হয় না, এবং একজন সাধারণ মানুষ পাদ্রী হওয়ার আগে প্রায় ৫/৭ বছর সময় কাটান প্রিপারেশনে, অর্থাৎ তারা সেমিনারীতে থাকেন, ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা/গবেষণা করেন...ইত্যাদি। এই সময়টুকুও তাদের থাকতে হয় মেয়ে বিবর্জিত। অর্থাৎ তাদেরকে পাদ্রীদের জীবন যাপনই করতে হয় এক প্রকারে। কিন্তু এটি মোটেও ওয়ান ওয়ে স্ট্রিট নয়। অর্থাৎ, কেউ যদি মাঝপথে, বা একেবারে শেষ প্রান্তে গিয়েও ভাবে পাদ্রীজীবন তার জন্য নয়, তাহলে সে ইস্তফা দিয়ে সাধারণ জীবনে ফিরে যেতে পারে, কোন রকম বাধ্যকতা ছাড়াই।
আর সে কারণেই পাদ্রীদের কুমারত্ব থাকার নিয়মটি এখনও আছে, এবং অদূর ভবিষ্যতেও থাকবে। কারণ, যার মেয়ে সহচার্য কাম্য, সে সহজেই বিয়ে থা করে সংসারী হতে পারে...তাকে কেউ পাদ্রী হতে বলছে না (যেমন আমি)। কিন্তু যারা পাদ্রী হতে চায়, তাদের এই শর্ত মেনে নিয়েই পাদ্রী হতে হয়।
কিন্তু বিবাহিত জীবনেও যেমন অনেকে বিশ্বস্ত থাকে না, পাদ্রীজীবনেও অনেকে থাকে না। আমি কিন্তু পাদ্রীদের পক্ষে সাফাই গাইছি না। শুধু বলছি, বিয়ে করতে মন চায়, বিয়ে কর, পাদ্রী হতে মন চায় পাদ্রী হও। কিন্তু পাদ্রী হতে চেয়ে 'পাদ্রীরা কেন বিয়ে করতে পারবে না' বলাটা সচলায়তনে এসে সচলায়তনে মডারেশন কেন বলার মতই ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
তবে, অভিযুক্ত পাদ্রীদের জন্য আমার কোন করুণা নেই। তাদের স্বাভাবিক নিয়মে বিচার ও শাস্তি হওয়া উচিত বলেই আমি মনে করি।
সুবিনয়দাকে ধন্যবাদ বিষয়টিকে নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরার জন্য।

---------------------------------------------------------------------------
No one can save me
The damage is done

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

ফারুক হাসান এর ছবি

আমার জানার পরিধি সীমিত, তাই ঠিক জানি না কেন পাদ্রীদের বিয়েথা করে সংসারী হওয়া যাবে না। এটা কি ধর্মে আছে যে পাদ্রীরা বিবাহিত হতে পারবে না, কিংবা বিবাহিত কেউ পাদ্রী হবার যোগ্যতা রাখবে না? নাকি, এই প্রথা চার্চ থেকে আরোপিত? যদি আরোপিত হয় তাহলে এটাকে তুলে না নাওয়ার কোনো কারণ দেখি না। সেক্ষেত্রে চার্চ এই যুক্তি দিতে পারবেনা যে বাইবেল বদলানো যাবে না।
বিবাহিত হলে যদি একটু হলেও ঐসব পাদ্রিদের নোংরামি কমে তাহলে সেটাই কি কাম্য নয়?

হিমু এর ছবি

আমি জানতাম প্রোটেস্ট্যান্ট পাদ্রীরা সংসার করতে পারেন। প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ-সেমিনারি নিয়ে এখনও পর্যন্ত তেমন কেলেঙ্কারির কথা শুনিনি।



হাঁটুপানির জলদস্যু আলো দিয়ে লিখি

তানবীরা এর ছবি

ক্যাথলিক পাদ্রীরা আর আমাদের দেশের কট্টর জামাতীরা একই পর্যায়ের উন্মাদ। সো ফার সকল ধর্ম গুরুরাই কম বেশি একই পথের পথিক।

কিন্তু পান্থ যেটা বলেছে আমিও সেটাই বলব, আমাদের দেশের হুজুররা চারটা বিয়ের পরেও কাজের মেয়ে কিংবা মুরীদানদের দিকে হাত বাড়ায়। এটার কারন বিয়েতে নয়। সুপারলেটিভ মেন্টালিটিতে। নিজেকে ইশ্বরের প্রায় সমকক্ষ মনে করে তারা, যেকোন অন্যায় করে সেটাকে ম্যানেজ করার মতো শক্তিশালী তারা নিজেকে মনে করেন।

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

মির্জা এর ছবি

আনার মন্তব্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, মাদার তেরেসা থেকে শুরু করে আরো অনেক প্রায় মহা-মানব পর্যায়ের ভাল মানুষ আছেন যারা ‘ধর্মীয় বিশ্বাস’ অনুযায়ী অত্যন্ত ধর্ম পরায়ন ক্যাথলিক/ক্যাথলিক ধর্মগুরু।

বাংলাদেশে আমরা কি ক্যাথলিক চার্চের কারো কথাই জানি না যারা সারা জীবন সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন?

ইরাক যুদ্ধের আগে, বিলেতের ইতিহাসের অন্যতম বড় যে যুদ্ধ বিরোধি র‌্যালি হয়েছিল, সেখানে আমাদের পাশে যে ক্যাথলিক পাদ্রীরা ছিলেন, তাদেরকে আর যাই হোক ‘জামাতি-টাইপ উগ্রবাদি’ কিন্তু মনে হয়নি

তানবীরা এর ছবি

আপনার প্রতি শ্রদ্ধ রেখে আমিও বলছি, মাদার তেরেসা বিতর্কের উর্দ্ধে কেউ ছিলেন না।

আর এখানে আসলে কোন "ব্যতিক্রম" নিয়ে কথা হচ্ছে না, হচ্ছে মুষ্টিমেয়দের নিয়ে। যারা সততার সাথে সারা জীবন কাজ করে গেছেন আমার ধারনা তারা ধর্মগুরু না হয়ে অন্য পেশায় থাকলেও তাই করতেন।

ধন্যবাদ আপনাকে

তানবীরা
---------------------------------------------------------
চাই না কিছুই কিন্তু পেলে ভালো লাগে

*******************************************
পদে পদে ভুলভ্রান্তি অথচ জীবন তারচেয়ে বড় ঢের ঢের বড়

মির্জা এর ছবি

অবশ্যই না, মাদার তেরেসাকে স্বয়ং ভ্যাটিক্যানও যে খুব ভাল চোখে দেখে এসেছে সব সময় তা-ওতো না। তবে ভাল মানুষ, যে কোন পেশা বা বিশ্বাসে কিন্তু ‘ব্যাতিক্রম নন’
আসলে নিউজ ভ্যালুটাও ভাবতে হবে। ১০ হাজার মানুষ। ইষ্ট লণ্ডনে একবার ১০ হাজার মানুষ একসাথে নামাজ পড়ল। সেই অনুষ্ঠানে (নামাজে নয়) প্রত্যেক ধর্ম বর্ন আর জাতির মানুশ উপস্থিত ছিলেন। এবং সেখান থেকে একটা মানবতা, প্রতিটি বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা, মাল্টিকালচারালিজম-প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চমতকার আলোচনা এবং অঙ্গিকার করা হয়।
সেই অনুষ্ঠানের পর, ইষ্ট লন্ডনের এক ড্রাগ এ্যাডিক্ট ছেলের সাথে এক সাদা ট্যাক্সি ড্রাইভারের কথা কাটা-কাটি হয় এত মুসলমান রাস্তায় কি করে এসব নিয়ে। বাকি সব নিউজের চেয়ে সেদিন রাতে এই নিউজটির ‘ভ্যালু’ একটু বেশিই ছিল!
ঘটনাটা দাড়ালো নামজি (!!!) মোসলমানের সাথে- মিডল-ক্লাস ইংলিশের কনফ্লিক্ট!!! ঐ ড্রাগ এডিক্ট ছেলেটা মসজিদ কোনদিকে সেটা জানে কি-না সেটা খুড়তে গিয়ে নিউজ ভালু লস করে কি লাভ?

মির্জা এর ছবি

অবশ্যই না, মাদার তেরেসাকে স্বয়ং ভ্যাটিক্যানও যে খুব ভাল চোখে দেখে এসেছে সব সময় তা-ওতো না। তবে ভাল মানুষ, যে কোন পেশা বা বিশ্বাসে কিন্তু ‘ব্যাতিক্রম নন’
আসলে নিউজ ভ্যালুটাও ভাবতে হবে। ১০ হাজার মানুষ। ইষ্ট লণ্ডনে একবার ১০ হাজার মানুষ একসাথে নামাজ পড়ল। সেই অনুষ্ঠানে (নামাজে নয়) প্রত্যেক ধর্ম বর্ন আর জাতির মানুশ উপস্থিত ছিলেন। এবং সেখান থেকে একটা মানবতা, প্রতিটি বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা, মাল্টিকালচারালিজম-প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চমতকার আলোচনা এবং অঙ্গিকার করা হয়।
সেই অনুষ্ঠানের পর, ইষ্ট লন্ডনের এক ড্রাগ এ্যাডিক্ট ছেলের সাথে এক সাদা ট্যাক্সি ড্রাইভারের কথা কাটা-কাটি হয় এত মুসলমান রাস্তায় কি করে এসব নিয়ে। বাকি সব নিউজের চেয়ে সেদিন রাতে এই নিউজটির ‘ভ্যালু’ একটু বেশিই ছিল!
ঘটনাটা দাড়ালো নামজি (!!!) মোসলমানের সাথে- মিডল-ক্লাস ইংলিশের কনফ্লিক্ট!!! ঐ ড্রাগ এডিক্ট ছেলেটা মসজিদ কোনদিকে সেটা জানে কি-না সেটা খুড়তে গিয়ে নিউজ ভ্যালু লস করে কি লাভ?

সবজান্তা এর ছবি

একটা বিষয় নিয়ে তর্ক করতে চেয়েছিলাম, এখন আর ইচ্ছা করছে না, তাই মন্তব্যটা সম্পাদনা করে দিলাম।

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

'ক্যাথলিক পাদ্রীরা আর আমাদের দেশের কট্টর জামাতীরা একই পর্যায়ের উন্মাদ।'

পাদ্রীদের বিষয়ে এই মন্তব্যটা একটু ঢালাও ঠেকেছে। তা ছাড়া পিডোফিলিয়া'র সাথে জামাতীদের কি কানেকশান সেটা বুঝতে পারলাম না। বাংলাদেশের সাধারণ কওমী মাদ্রাসায় জামাতের জোর অনেক কম বলেই জানি। সাধারণ হুজুররা অনেকেই মাওদূদী/জামাত-কে পছন্দ করেন না। তাই মাদ্রাসায় কি ঘটে, সেখানে জামাতের ইনভলভমেন্ট তুলনামূলকভাবে কম হবার কথা।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

রেনেট এর ছবি

না, পাদ্রীরা বিয়ে করতে পারবে না এটা বাইবেলে বলা নেই। এটা চার্চ কর্তৃক আরোপিত।
পাদ্রীদের বিয়ে না করতে দেয়ার পিছনে যে যুক্তি দেয়া হয় তা হলো, বিয়ে করলে সাংসারিক চিন্তা মাথায় ঢুকে, বউ-বাচ্চা, হাজার চিন্তা। পাদ্রীদেরকে কুমারত্ব গ্রহণ করানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদেরকে 'ঈশ্বর-চিন্তায়'ফোকাস করানো।
পরিবর্তন হয়তোবা আসবে, কিন্তু আমার জীবদ্দশায় আসবে বলে মনে হয় না।
---------------------------------------------------------------------------
No one can save me
The damage is done

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

রাগিব এর ছবি

@রেনেট

যা পড়লাম উইকিতে, তা অনুসারে এটা বাধ্যতামূলক হয়েছে ১১২৩ সাল থেকে।

http://en.wikipedia.org/wiki/Clerical_celibacy#Clerical_continence_in_the_Christian_Church

"Celibacy for priests is a discipline in the Roman Catholic Church, not a doctrine: in other words, a church regulation, but not an integral part of Church teaching. It is based upon the life of Christ and his celibate way of life. However the first pope, St. Peter, as well as many subsequent popes, bishops, and priests during the church's first 270 years were in fact married men, and often fathers. The practice of clerical continence, along with a prohibition of marriage by men once they were ordained a deacon, priest or bishop, is traceable from the time of the Council of Elvira. This law was reinforced in the Directa Decretal (385) and at the Council of Carthage in 390. The tradition of clerical continence developed into a practice of clerical celibacy (ordaining only unmarried men) from the eleventh century onward among Latin Rite Catholics and became a formal part of canon law in 1917. This law of clerical celibacy does not apply to Eastern Catholics"

----------------
গণক মিস্তিরি
ভুট্টা ক্ষেত, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | কুহুকুহু

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

অবাঞ্ছিত এর ছবি

আমার মনে হয় বক্তব্যটা পুরোপুরি সত্য নয়। বিয়ে করতে পারবেনা এটা বাইবেলে বলা নেই, তবে বিয়ে না করার উপদেশ দেওয়া আছে। করিন্থিয়তে আছে-

"Bible in Basic English

--------------------------------------------------------------------------------
1 Now, as to the things in your letter to me: It is good for a man to have nothing to do with a woman. 2 But because of the desires of the flesh, let every man have his wife, and every woman her husband. 3 Let the husband give to the wife what is right; and let the wife do the same to the husband. 4 The wife has not power over her body, but the husband; and in the same way the husband has not power over his body, but the wife. 5 Do not keep back from one another what is right, but only for a short time, and by agreement, so that you may give yourselves to prayer, and come together again; so that Satan may not get the better of you through your loss of self-control. 6 But this I say as my opinion, and not as an order of the Lord. 7 It is my desire that all men might be even as I am. But every man has the power of his special way of life given him by God, one in this way and one in that.
8 But I say to the unmarried and to the widows, It is good for them to be even as I am. 9 But if they have not self-control let them get married; for married life is better than the burning of desire.

10 But to the married I give orders, though not I but the Lord, that the wife may not go away from her husband 11 (Or if she goes away from him, let her keep unmarried, or be united to her husband again); and that the husband may not go away from his wife."

তবে যেমন অনেক নির্দেশই আজকাল মানা হয় না (বিবাহ বিচ্ছেদ, স্ত্রী লোকের চুল ছাঁটা, মহিলা পুরোহিত ইত্যাদি), প্রটেস্টেন্টরা বিবাহিত পাদ্রীই পছন্দ করে বেশি।

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

ক্যাথলিকদের দৃষ্টিকোণ তুলে ধরার জন্য রেনেটকে ধন্যবাদ।
-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

এনকিদু এর ছবি

কিন্তু পাদ্রী হতে চেয়ে 'পাদ্রীরা কেন বিয়ে করতে পারবে না' বলাটা সচলায়তনে এসে সচলায়তনে মডারেশন কেন বলার মতই ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

চলুক


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

সুমন চৌধুরী এর ছবি

এই পাদ্রীগুলিরে হুজুরগো লগে বাইন্ধা পিটানো উচিত



অজ্ঞাতবাস

নিবিড় এর ছবি

০১/
ধর্মের নামে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে যে কোন ধরনের অনাচার আসলেই দুঃখজনক।
০২।
আপনার পোষ্টের শেষে ক্যাডেট কলেজ আর মাদ্রাসা নিয়ে যে কথা গুলো বললেন, সেইখানে আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি ক্যাডেট কলেজে যেসব শিক্ষকরা পড়ান কিংবা যেসব সামরিক ব্যক্তিরা ছেলে-মেয়েদের শারীরিক ট্রেনিঙ্গের সাথে যুক্ত তাদের এরকম বিকৃ্ত কাজে যুক্ত হতে পারার সম্ভাবনা ক্যাডেট কলেজ গুলোর কাঠামোগত কারনে প্রায় অসম্ভব।


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

মির্জা এর ছবি

ক্যাডেট কলেজ গুলোর কাঠামোগত কারনে প্রায় অসম্ভব।

সাধারণ মানুষ মুখ খোলার আগে পর্যন্ত চার্চও কিন্তু এ্মনটাই বলে এসেছে

স্বপ্নাহত এর ছবি

সাধারণ মানুষ মুখ খোলার আগে পর্যন্ত চার্চও কিন্তু এ্মনটাই বলে এসেছে

ক্যাডেট কলেজের প্রশাসনকে যদি চার্চ হিসেবে গণ্য করেন তবে ক্যাডেট কলেজে পড়ুয়া কাউকে কিন্তু প্রশাসন নয় , সাধারণ মানুষের কাতারেই ফেলতে হবে

---------------------------------

তাও তো ভারী লেজ উঁচিয়ে পুটুশ পাটুশ চাও!

---------------------------------

বাঁইচ্যা আছি

এনকিদু এর ছবি

মির্জা ভাই, আপনি কি ক্যাডেট ?


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...


অনেক দূরে যাব
যেখানে আকাশ লাল, মাটিটা ধূসর নীল ...

সিরাত এর ছবি

ভাল লাগলো। বিবিসি-র হেডলাইন দেখছি, আর পড়া লাগলো না, আপনার প্রবন্ধই পড়লাম ভাইয়া!

স্বপ্নাহত এর ছবি

যে সমস্ত উদাহরণগুলো দিয়েছেন তা সত্যিই দু:খজনক। এমনটা কারোরই কাম্য হতে পারেনা।

মাদ্রাসার কথা বলতে পারিনা। ক্যাডেট কলেজে পড়েছি দেখে ভালোভাবেই প্রতিষ্ঠানটা সম্পর্কে ধারণা আছে। বাতাসে নানা কথা ভাসে ক্যাডেট কলেজের ভিতর এই হয়, ওই হয়। সবই শোনা যায় তাদের কাছ থেকে যারা ক্যাডেট কলেজে পড়েন নি। ক্যাডেট কলেজে পড়ে আসা কারো কাছ থেকে এমন কিছু সামনা সামনি শোনার ভাগ্য হয়নি।

সুবিনয়দা যদি স্পেসিফিক্যালি বলতেন ঠিক কোন ধরণের এবিউজ আপনি ক্যাডেট কলেজের ভিতরে হয় বলে আশংকা করছেন তাহলে উপরোক্ত উদাহরণগুলোর সাথে ক্যাডেট কলেজের সম্পর্কটা ঠিক কোন অর্থে এখানে আসছে সেটা বুঝা আমার পক্ষে সহজ হত । পাশাপাশি সেসব ক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করতে পারতাম । ধন্যবাদ।

--------------------------------

তাও তো ভারী লেজ উঁচিয়ে পুটুশ পাটুশ চাও!

---------------------------------

বাঁইচ্যা আছি

মির্জা এর ছবি

কিছু হুজুর-মোল্লা-পূরহিত-পাদ্রির শরীরের প্রত্যেকটা চিপায়-চিপায় বিষ পিপড়া ছেড়ে তার পর আরো বিশেষ কিছু ক্রিয়ার মাধ্যমে শান্তি দেয়ার ইচ্ছা যে আমারও মাঝে-মাঝেই হয় সেটা কি আর বলতে অপেক্ষা রাখে?
যাহোক, আরো কিছু বাড়তি কথা যোগ করতে চাইছি এখানে; ১১৩৯ সাল পর্যন্ত কিন্তু ক্যাথলিক প্রিষ্টরা বিয়ে করতে পারতেন (Second Lateran Council - 1139 A.D দিয়ে গুগুল করলেই প্রচুর তথ্য পাওয়া যাবে)
আরো একটা কথা যোগ করতে চাই, কট্টর আওয়ামিলীপন্থিরাও কিন্তু বলেন না, বিএনপির, প্রত্যেকটা সদস্য মানেই শয়তান, মূর্খ, চোর, ভুল পথের অনুসারী, সেভাবেই বিএনপির অনুসারীরাও আওয়ামিলীগের প্রত্যেকটি মানুষ সম্পর্কেও নিঃশ্চইয়ই ঢালাওভাবে এধরনের মন্তব্য করবেন না। তাহলে, যারা ধর্মে বিশ্বাস করেন, তাদের ব্যাপারে অ-বিশ্বাসি বা আমাদের অনেকের মত প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাস বা রীতিতে বিশ্বাসি না, আমরা কি অন্য মানুষের বিশ্বাসের ব্যাপারে আরেকটু শ্রদ্ধাশীল হতে পারি না? কয়েকশ কোটি লোক যদি ভুল বিশ্বাস করে (আর আমি এমন জ্ঞানী যে সবার ভুল ধরতে পারলাম) তবে সেই কয়েকশকোটি মানুষের বিশ্বাসও শ্রদ্ধার দাবি রাখে।
ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসি কোন মানুষকে দিয়ে যেমন ইসলাম বা কোরআনকে বিচার করা বিরাট ভুল (না হলে লাদেন আর নিজামিদের ‘’পপুলারিটির’’ কারনে খবর আছে) তেমনি একটা প্রতিষ্ঠান দিয়েও সেই ধর্মকে না বিচার করাটাই মনে হয় ভাল।
ভিক্র্যান্ত শেঠের স্যুটেবল বয়-এর মত মোটকা কিংবা ইলিয়াডের মত হোমরা-চোমরা বই পড়তেও আপত্তি নেই, কিন্তু যতদিন না আমরা জানার জন্যে ধর্মগ্রন্থগুলো পড়ছি ততদিন পাড়ার অর্ধ শিক্ষিত কিংবা ছোট বেলায় মাদ্রাসার ইমামের কাছে যৌন নিপীরিত হুজুরের ‘’বানী’’ সমালোচনার মাধ্যমেই আমাদের ধর্মিও সমালোচনা সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।
সুবিনয়ের এই লেখার মত করে (গার্ডিয়ানের সুত্র ধরেই হোক) আমরা কি খুব আলোচনা বা সমালোচনা করি?

স্নিগ্ধা এর ছবি

(নেহায়েতই বিক্রম শেঠের 'স্যুটেবল বয়' আমার খুব প্রিয় বলেই এই তর্কে যোগ দিচ্ছি - যদিও ওটার সাথে আমার কথার কোনই সম্পর্ক নেই!!!)

এখানে ধর্মবিশ্বাসী বা ধর্মবিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধার ঘাটতি কোথায় দেখা গেল? ক্যাথলিক পাদ্রী মানেই যৌন নিপীড়ক কেউ কি বলছে? কিন্তু, ক্যাথলিক পাদ্রী হয়ে, সেই অবস্থানের সুযোগ নিয়ে এবং ক্যাথলিক চার্চের ক্ষমতার ছায়ায় থেকে যখন তারা পেডোফাইল হয় - তখন ধর্মীয় তকমাবিহীন কেউ এগুলো করলে যতটা গালি খেতো, পাদ্রীরা তার চাইতে বেশী খাবে সেটাই কি স্বাভাবিক নয়? এখানে দায়িত্ব আর বিশ্বাসের কী পরিমাণ এবিউজ হয়েছে সেটাও তো দেখতে হবে। 'নিউজ ভ্যালু' এতোখানি হয়েছে তো আর এমনি এমনি না।

কয়েকশ কোটি লোক যদি ভুল বিশ্বাস করে (আর আমি এমন জ্ঞানী যে সবার ভুল ধরতে পারলাম) তবে সেই কয়েকশকোটি মানুষের বিশ্বাসও শ্রদ্ধার দাবি রাখে।

সংখ্যার আধিক্যই আমার কাছে কোন কনভিন্সিং ফ্যাক্টর নয়, তারপরও সেটা মেনে নিয়েই বলি - আগামীকাল কয়েকশ কোটি লোক যদি দৃঢ়ভাবে 'অ'-বিশ্বাসটকেই ধর্ম বলে মেনে নেয়, তখন তাদের প্রতিও কি আপনি একইরকম ভাবে শ্রদ্ধারক্ষার আহ্বান জানাবেন? হাসি

অবাঞ্ছিত এর ছবি

সংখ্যার আধিক্যই আমার কাছে কোন কনভিন্সিং ফ্যাক্টর নয়, তারপরও সেটা মেনে নিয়েই বলি - আগামীকাল কয়েকশ কোটি লোক যদি দৃঢ়ভাবে 'অ'-বিশ্বাসটকেই ধর্ম বলে মেনে নেয়, তখন তাদের প্রতিও কি আপনি একইরকম ভাবে শ্রদ্ধারক্ষার আহ্বান জানাবেন?

একটু বুঝিয়ে বলবেন? " 'অ'-বিশ্বাস" বলতে ঠিক কি বোঝাতে চাচ্ছেন?

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

স্নিগ্ধা এর ছবি

বিশ্বাস বলতে মির্জার মন্তব্যে ঈশ্বর/স্রষ্টা/ধর্ম এসবে বিশ্বাস বোঝানো হয়েছে। 'অ'-বিশ্বাস বলতে আমি নাস্তিকতা বা ঈশ্বরে অবিশ্বাস বুঝিয়েছি।

অবাঞ্ছিত এর ছবি

ঈশ্বরে অবিশ্বাস একটি মানুষের থাকতেই পারে। নাস্তিকদের কেনো অশ্রদ্ধা করতে হবে এই বিষয়টা ঠিক বুঝলাম না। যদি সঠিক বুঝে থাকি তাহলে বোধহয় আপনি বলতে চাচ্ছেন যে নাস্তিক মানেই লোক খারাপ, তাকে শ্রদ্ধা করা ঠিক হবে না। বোঝায় ভুল হলে ক্ষমা করবেন, তবে যদি আমি ঠিক বুঝে থাকি, তবে এই দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে একমত হতে পারছি না।

উদাহরণ স্বরূপ জাপানের অনেক নাস্তিকের নৈতিকতা বোধ বাংলাদেশ থেকে শুরু করে মার্কিন মুল্লুকের অনেক আস্তিকের থেকেই উপরে বলে জানি।

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

স্নিগ্ধা এর ছবি

আরে না, আমি বলছিলাম - ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার কথাটা সবসময় বলা হয়ে থাকে, ঠিক একই যুক্তিতে তো নাস্তিক বা অবিশ্বাসীদের 'বিশ্বাস' (অর্থাৎ সেটার অভাব, আসলে) এর প্রতিও শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।

মির্জা পরে যে উত্তর দিয়েছেন সেটাই বলতে চাচ্ছিলাম, যে সম্মান করলে সবাইকেই করা উচিত।

মির্জা এর ছবি

আগামীকাল কয়েকশ কোটি লোক যদি দৃঢ়ভাবে 'অ'-বিশ্বাসটকেই ধর্ম বলে মেনে নেয়, তখন তাদের প্রতিও কি আপনি একইরকম ভাবে শ্রদ্ধারক্ষার আহ্বান জানাবেন
কয়েকশ কোটি না হোক, যে লক্ষ-কোটি মানুষ এখনই 'অ-বিশ্বাস'টাকে মেনে নিয়েছেন তাদের প্রতি পরে কেন শ্রদ্ধা রাখবো, এখনই আছে। আমি মূলত মানুষের বিশ্বাসটাকে শ্রদ্ধা করার কথা বলছি।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- পাদ্রীবাবাদের বিবাহ করার অনুমতি দেওয়া হোক। তাদেরকে বিবাহের সুখ থেকে বঞ্চিত করার জন্য চার্চকে কষে মাইনাস।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

দিগন্ত এর ছবি

দুঃখের বিষয় হলো এই যে আজকে আয়ারল্যান্ডে যেই এবিউজের ঘটনা উদঘাটিত হলো, তার পরিণামে আইনী শাস্তি ভোগ করতে হবে না কোন দুশ্চরিত্র লম্পট পাদ্রীকে। যেই সিনিয়র পুরোহিতরা চার্চের উপরতলায় বসে এইসব ঘটনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনুমোদন দিয়েছিলেন, দোষীদের আগলে রেখেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে না।

- চার্চকে ইমিউনিটি কে দিচ্ছে? শাস্তি হচ্ছেনা কেন?


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

ধর্মের নামে অনাচার সবথেকে বেশি জঘন্য।

...........................

সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

আরিফ জেবতিক এর ছবি

ঠিক জানি না কোন কারনে পাদ্রীদেরকে বিয়ে করতে দেয়া হয় না । নিশ্চয়ই কোন যুক্তি(!) খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল সেই সময়ে ।

আমার কাছে মনে হয় পাদ্রীদেরকে বিয়ে করতে দেয়া উচিত । যৌণাকাঙ্খা একটা স্বাভাবিক বিষয় , স্বাভাবিক বিষয়টাকে চাপা দিতে গেলে তার বিভিন্ন কূপ্রভাব দেখা যাবে এটাই স্বাভাবিক । অদৃশ্য ঈশ্বর বেচারা হুমকি ধামকি দিয়ে কতোটুকুই বা আর মানুষকে বশে রাখতে পারবেন ।
আর ঈশ্বরের এতো এটেনশনেরই বা কি দরকার যে একটা লোক বিয়ে করলেই উনার সাম্রাজ্যের সর্বনাশ হয়ে যাবে ।

এই দেশে মাদ্রাসাগুলোতে যৌণ নির্যাতন হয় বলে কানাঘুষা আছে যদিও এ ব্যাপারে কোন প্রামান্য কাজ হয়েছে বলে আমার জানা নেই ।
আমার মনে হয় এখানেও ব্যাপারটা তাই ।
মাদ্রাসার দরিদ্র শিক্ষকরা বউকে গ্রামের বাড়িতে রেখে দূর দূরান্তে শিক্ষকতা করতে আসেন । তাদের প্রাকৃতিক চাহিদাটা চাপা পড়ে থাকে , সেই চাপা পড়ার কারনেই তা থেকে অনেক ধরনের যৌণ নির্যাতনের সম্ভাবনা তৈরী হয় ।

স্নিগ্ধা এর ছবি

'যৌন' বানান ভুল আছে কয়েক জায়গায় - প্রত্যেকটার জন্য কি এক পয়েন্ট করে পাবো? দেঁতো হাসি

মূলত পাঠক এর ছবি

আপনি তো মহা লোভী! হচ্ছে একটা সিরিয়াস আলোচনা তার মধ্যেও পয়েন্ট কুড়োচ্ছেন, এ কি হরিলুটের বাতাসা? হাসি

স্নিগ্ধা এর ছবি

আমি লোভী না তো! আমি হচ্ছি 'লুভী' দেঁতো হাসি

আর, গুড়ের বাতাসা আমার ভাআআআরী পছন্দ !!

আরিফ জেবতিক এর ছবি

ঐ বানানে কেন "ন" দেই না , সেটা নিয়ে একটা বিরাট গল্প আছে ।
গল্পটা আবার বড়দের ।
ছোটদের জন্য ওটা বলা মানা । চোখ টিপি

আপনি পয়েন্ট কুড়োতে চাইলে আমাকে আবার গল্পটা বলতে হবে , এটা ঠিক হবে না ।

মির্জা এর ছবি

ঠিক জানি না কোন কারনে পাদ্রীদেরকে বিয়ে করতে দেয়া হয় না । নিশ্চয়ই কোন যুক্তি(!) খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল সেই সময়ে ।

কিছুটা কারন হলঃ
There was much theology around the concept of a priest being the "bride of Christ" (Jn 3:29, Rev 18:23, 19:7, 21:9, 21:17. This was considered in the Church's decision. Scripture fairly consistently awards celibacy a higher spiritual calling than marriage.

...it is well for them to remain unmarried as I am...it is well for you to remain as you are...do not seek a wife...he who refrains from marriage will do better...(I Cor., 7-8 and 32-38)

Paul says that celibacy provides "unhindered devotion to the Lord. " (1 cor 7:35) Jesus tells us "it is better not to marry...let anyone accept this who can." (Mat 19:10-12)

The move towards celibacy ocurred in the Middle Ages as a reaction to severe corruption and nepotism within the Church. This, then, was the real catalyst; the Biblical passages were justification.
(কিন্তু আরেকটা কথা হল, বাইবেল-এর একটা চরম পরিবর্তন করেছে চার্চ- যীষু খ্রীষ্ট মারা যাবার অনেক পরে।
একমাত্র প্রো-ভ্যাটিকান বাইবেল ছাড়া আর সব বাইবেল পুড়িয়ে ফেলার হুকুম দেয়ার আসল গোসপেলের অনেকখানিই আজ বিলুপ্ত।তাই বাইবেলে কি বলা ছিল সেটা জানা প্রায় অসম্ভব)

রানা মেহের এর ছবি

এই পিডোফাইলগুলোর শাস্তি হবেনা এতকিছুর পরও
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখা এবং মন্তব্যগুলো পড়ে আজ (২১/৫/২০০৯) ‘সংবাদ’ (পৃষ্ঠা-১২) এ প্রকাশিত একটি রিপোর্ট বিস্তারিতভাবে জানাতে ইচ্ছে করছে:
শিরোনাম : “যৌন হয়রানী : বাবুগঞ্জে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ বরখাস্ত ”
“ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বাবুগঞ্জে জামায়াত নেতা ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেয়ার পর ঐ অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করার আদেশ দেয়া হয়।
বাবুগঞ্জ খানপুরা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও উপজেলা জামায়াতের সদস্য আজম সামসুল আলমের বিরুদ্ধে একই মাদ্রাসার আলিম শ্রেণীর ছাত্রী বৃহস্পতিবার যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। রোববার একই অভিযোগে ঐ ছাত্রী বরখাস্ত করা অধ্যক্ষকে প্রকাশ্যে ঝাড়ু–পেটা করে। এ ঘটনার পর অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ঝাড়ু– মিছিল বের করেন।
সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বীথিকা সরকারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রীর অভিযোগ সত্য বলে রিপোর্ট দেয়ার পর অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করা হয়।”
এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এধরনের খবর প্রায়শই সংবাদপত্রে পাওয়া যায়। অবশেষে সাহসী এ পদক্ষেপের জন্য ছাত্রীটির প্রতি রইলো অসংখ্য সাধুবাদ।
জুয়েইরিযাহ মউ

শিক্ষানবিস এর ছবি

বাংলাদেশের মাদ্রাসা বা ক্যাডেট কলেজগুলোর ভেতরে কি ঘটে, এসব নিয়ে কেউ কোন অনুসন্ধান কোনদিন চালাতে পারবেন কি?

এই "মাদ্রাসা বা ক্যাডেট কলেজগুলোতে" বাক্যটি ভাল লাগল না। সেক্সুয়াল অ্যাবিউজের ক্ষেত্রে মাদ্রাসা আর ক্যাডেট কলেজগুলোকে এক করে দেখার উপায় নেই। কারণ যে কারণে মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষক বা প্রশিক্ষকরা সেক্সুয়ালি সাপ্রেসড থাকেন সেই কারণগুলো ক্যাডেট কলেজে নেই। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষকরা পরিবারের সাথে থাকেন না, আর মাদ্রাসার ছাত্রদের উপর তাদের একচ্ছত্র অধিকার থাকে।
কিন্তু ক্যাডেট কলেজগুলোতে:
- সব শিক্ষকরা পরিবারের সাথেই থাকেন এবং
- ছাত্রদের উপর শিক্ষকদের একচ্ছত্র অধিকার নেই; অনেক রকম খবরদারি আছে
তাই ক্যাডেট কলেজে শিক্ষক বা প্রশিক্ষকদের দ্বারা অ্যাবিউজের কোন ঘটনা দেখিনি।

তবে সিনিয়র ছাত্রদের দ্বারা জুনিয়র ছাত্রদের সামান্য কিছু সেক্সুয়াল অ্যাবিউজের ঘটনা ঘটে। কিন্তু এইসব আ্যবিউজের তদন্ত এবং বিচার হয়ে যায় তাৎক্ষণিকই। তারপরও এটা নিয়ে আরও তদন্ত করা যেতে পারে। কিন্তু একে মাদ্রাসার সাথে না মিলিয়ে অন্য দৃষ্টিতে দেখতে হবে।

এবার জুনিয়রদের সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ নিয়ে আরেকটু বলি: যে ক্যাডেট কলেজ দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে- জুনিয়রদের উপর সিনিয়রদের মাত্রাতিরিক্ত খবরদারি আর নেই। সবকিছুই চোখের সামনে ঘটছে। তাই অ্যাবিউজের ঘটনা কখনই unnoticed থাকেনি। সাথে সাথে বিচারও হয়ে গেছে। সেখানে ব্যাপারটা মোটেও অ্যালার্মিং না। তবে অ্যাবিউজ সম্পূর্ণ বন্ধ করার জন্য যে সামাজিক মোটিভেশন দরকার সেটার অভাব আছে এখনও। ক্যাডেট কলেজে আমরা যতদিন ছিলাম ততদিন পর্যন্ত এ ধরণের কোন মোটিভেশনমূলক শিক্ষা ছিল না। এখনও বোধহয় নেই। বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত ক্যাডেট কলেজেও সেক্সুয়াল এডুকেশনের ব্যবস্থা নেই। এর কিছুটা প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়, ক্লাস সেভেন থেকেই।

কাগুজে বাঘ  এর ছবি

শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন অথচ পয়সার অভাবে বউ সাথে রাখতে পারছেন না, কোন মতে দিন যাপন করছেন আর মাস শেষে অল্প কটা টাকা নিয়ে বাড়ি যাওয়া-- এটা কেমন মানবিক বিষয়? আরো বলছেন মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষক বা প্রশিক্ষকরা সেক্সুয়ালি সাপ্রেসড থাকেন। আসলে তারা থাকেন মানি সাপ্রেসড।

ধনী-গরীব যেই হোক, আসলে চরিত্র আর মানবিক মূল্যবোধ যার খারাপ, বা পরিবেশের অভাবে গড়ে উঠেনি সে শিক্ষকই হোক আর গুন্ডা পান্ডাই হোক তার কু-দৃষ্টি এড়াবেন কি ভাবে? এসব কু-রুচির মানুষেরা প্রচন্ড পাওয়ারফুল, -ক্ষমতার দম্ভে ধর্ম-আইন-মূল্যবোধ সবই পরিবর্তন করছেন -তারা নিজেদের অনুকুলে, কিছুই বলতে পারবেন না তাদের, বিচার নিভৃতে কাঁদে।

তবে সুখবর হলো, একদিন ধরা পরবেন বৃদ্ধ বয়সে-অন্তম শয্যায়, সেদিন যা ক্ষতি হওযার হয়ে গেল - ফেরত পাওয়া যাবে না সেই শক্তি,উন্মোক্ত যৌবন,ক্ষমতার দম্ভ। -এই টুকুই বিশ্বাস করতে পারছিনা-আর পরকালের হিসাব-নিকাশ-শাস্তি!! সেতো অলীক বিষয়।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।