লৌকিক বা অলৌকিক সেইসব বিষয়গুলি

নৈষাদ এর ছবি
লিখেছেন নৈষাদ (তারিখ: মঙ্গল, ০৯/০২/২০১০ - ৯:৩৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

লেখক হুমায়ুন আহমেদ প্যারা-নারম্যাল ধারনাগুলিকে, বিশেষ করে ইএসপিকে (এক্সট্রা সেনসরি পারসেপশন) তাঁর পাঠকদের কাছে একসময় বেশ জনপ্রিয় করেছিলেন। আমার মনে আছে ছাত্র জীবনে আমি নিজেও ইএসপির ব্যাপারে খুব কৌতূহলী ছিলাম। গুগলে অনেক তথ্য পাওয়া গেলেও উইকিপিডিয়ার মত সকল-তথ্যের-ভান্ডারের কথা তখন তেমন একটা জানতাম না।

যাই হোক, ইএসপি নিয়ে আমার একটা মজার ঘটনা দিয়ে শুরু করি। তখনও পড়াশুনা করছি। একটা পারিবারিক এবং বন্ধু-বান্ধবদের সমাবেশে দেখলাম সমবয়সী ছেলেমেয়েরা ইএসপি নিয়ে বিরাট হৈ হৈ করছে। আমি একটা ‘এক্সপেরিমেন্টের’ কথা চিন্তা করলাম। একটা গ্রুপকে প্যারা-সাইকোলজির এডভান্সড লেভেলের একটা থিওরী (!) - পাওয়ার অভ মাইন্ডের - কথা বললাম। সংক্ষেপে ব্যাপারটা এরকম - কয়েকজন যদি একটা বিষয়ে গভীর মনসংযোগ করে তবে এক ধরনের তড়িৎ প্রবাহ শরীরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়, কয়েকজন যদি একই বিষয়ে মনসংযোগ করে, তবে ব্যাপারটা খুব শক্তিশালী হয়। তারপর লাজুক হেসে আমার নিজের ইএসপি ক্ষমতার কথা বললাম। হাতে হাত রেখে আমি সেই সব প্রবাহকে অনুভব করতে পারি! আমার ব্রেন আবার এগুলিকে ডিসাইফার করে কোন বিষয়ে মনযোগ দেয়া হয়েছে এটা বুঝতে পারে। আরে, বলে কী? প্রমান দেয়া যাবে?

আমি এধরনের পরীক্ষার বৈশ্বিক পদ্ধতির (!) কথা বললাম। ব্যাখ্যা করি। একটা খেলার তাশের প্যাকেটে (‘ডেক’) ১২ টা ছবি-ওয়ালা অনার্স কার্ড থাকে (৪টা স্যুট x ৩টা করে প্রত্যেক স্যুটে - রাজা, রাণী এবং জ্যাক)। সেখান থেকে রেন্ডমলি ছয়টা কার্ড নিয়ে পাশাপাশি টেবিলে বিছিয়ে দেয়া হল। এখন তিন বা চার জনের একটা দলের একজন সেখান থেকে একটা কার্ড পছন্দ করল এবং অন্যদের সাথে শেয়ার করল। এখন দলটা টেবিলের চারদিকে বসে চোখ বন্ধ করে গভীর মনযোগ দিয়ে সেই কার্ডটার কথা চিন্তা করবে। আমি এসে হাত ধরব, প্রবাহ অনুভব করব। তারপর কার্ডগুলি নিয়ে ডেকে মেশাবো এবং কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে পাঁচটা কার্ড টেবিলে রাখব। ওয়াও। সব কটা কার্ড আছে, শুধু সেই কার্ডটা নেই।

দিনে তিনবারের বেশি এই এক্সপেরিমেন্ট করা সম্ভব না। মাথায় সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর একধরনে ব্যাথা হয়। সেদিন মোট তিন বারই এক্সপেরিমেন্টেটা করেছিলাম – পারফেক্ট। অবশ্য একবার বিদেশি তিন রমনীর কাছেও সেই পরীক্ষাটা দিয়েছিলাম। সেটার ইফেক্ট আরও বেশি হয়েছিল – একটা বিশেষণ মনে আছে - ওভারহো্যেল্মিং। পারা-সাইকোলজির বিষয়গুলি আসলে দেশ, জাতি, ধর্ম ইত্যাদির উর্দ্ধে...।

... ও আচ্ছা। যাঁরা আমার মত নিজের ভিতরে ইএসপি অনুভব করেন তাদের জন্য ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করা প্রযোজন। বেশি কার্ড ব্যবহার করলে ভাল হত, কিন্তু টেকনিক্যাল সমস্যা আছে। সাধারনত এই সব এক্সপেরিমেন্ট তো কিশোর/উত্তর-কৈশোর ছেলে-মেয়েদের জন্য, মিক্স-গ্রুপ থাকলে প্রবাহটা বেশি বোঝা যায়! চোখ বন্ধ করে প্রবাহটা আনুভব করুন। ছটা কার্ড সুবিধামত ডেকে রেখে দিন। চাপাবাজি করতে করতে অন্য ছয়টা ছবি-ওয়ালা অনার্স কার্ড থেকে যেকোন পাঁচটা টেবিলে রাখুন (খেয়াল করুন, আগের ছটা কার্ডের কোনটাই সেখানে নেই)। ব্যাস হয়ে গেল। এটা পরীক্ষিত, এতসব থিওরী-ফিওরীর পরে সাবজেক্টরা শুধু ঐ একটা কার্ডেই খুব খেয়াল করে দেখে। অন্য কার্ডগুলির দিকে খেয়াল করে না (এবং এইজন্যই ছবি-ওয়ালা কার্ড দরকার, যেগুলি খুব সহজেই কনফিউজড করে), যার ফলে পাঁচটি কার্ডের মধ্যে শুধু সেই কার্ডটাই খোঁজে। মাথার দু’দিকে চেপে ধরুন, মাথায় সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর একধরনে ব্যাথা হয়তো...।

তবে একটা বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ দিয়ে রাখা ভাল। যদি ধরা খান, তবে দুটা পথ আছে। প্রথমত, বলুন একেকজন একেকটা কার্ডের উপর মনযোগ দিচ্ছিল, কিংবা মনযোগ ঠিকমত হচ্ছিল না (মন-সংযোগ নিয়ে একটা লেকচার দিতে পারেন, এমনকি মনযোগ এবং বাংগালির হাজার বছরের ঐতিহ্য নিয়ে টানাটানি করতে পারেন)। যার জন্য সবকটা কার্ডই গায়েব হয়ে গেছে। দ্বিতীয় পথটা নেয়া হয়েছে হাইস্কুলের প্রথম দিকে পড়া বিদ্যুৎ মিত্র সাহেবের খালি হাতে আত্ম-রক্ষা নামের একটা বই থেকে। উপদেশটা ছিল, আক্রান্ত হলে বুক ভরে শ্বাস নিন, ঝট করে ঘুরে দাড়ান, তারপর ঝেড়ে দৌড় দিন।

হাস্য-কৌতুক বাদ দেই। লৌকিক, অলৌকিক ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে আমার ভাবনাটাকে আবার জাগিয়ে তুলেছে সিরাতের এই লেখাটা। অনেক ধন্যবাদ প্রাপ্য সিরাতের, কারন সে লৌকিক উপায়ে একটা ব্যাখ্যা পাওয়ার অনেক চেষ্টা করেছে। আমি সিরাতের লেখাটার বিশ্লেষণে যাব না, পাঠকের মন্তব্যের বাইরে আমার কাছে কোন লৌকিক ব্যাখ্যা নেই। তবে লৌকিক, অলৌকিক ব্যাপার-স্যাপারের যে প্যাটার্নটা আমি পেতে চেষ্টা করছিলাম, সিরাতের লেখাটা আমার সেটাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। (আশা করছি লঘু চালের এই লেখাটাতে সিরাত আক্রান্ত বোধ করবে না।)

শৈশবের/কৈশোরের কিছু ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। বড় হয়েছি চা বাগানে, যেখানের শ্রমিকরা আবার অলৌকিক বিশ্বাস যে কত প্রকার এবং কী কী হতে পারে তার চরম দৃষ্টান্তগুলি স্থাপন করেছে। বিশ/ত্রিশ দশকের তৈরী যে বিশাল বাড়িতে বড় হয়েছি, তার পিছনের বিস্তৃত পুরানো গাছের সারিতে রূপকথার বিভিন্ন অলৌকিক চরিত্র মূর্ত হয়ে উঠেছিল মনে হয়, কারন শ্রমিকদের অনেকেই তাঁদেঁরঁ দেখা পেযেছিল (অবশ্য বড় হওয়ার পর আর তাঁদেঁরঁ কথা আর শুনেনি। বিচিত্র জীবনযাত্রার জন্য জনপ্রিয় আমার এক মৃত পূর্ব-পূরুষই নাকি এনাদের নেতৃত্বে ছিল। আমাদের অশেষ সৌভাগ্য যে তিনি বা তাঁর চেলা-চামুন্ডারা আমার বা আমার পরিবারের কারও কাছে দেখা দিয়ে আমাদের চিন্তা ভাবনাকে অন্যদিকে নিয়ে যাননি)।

ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হবার পর সেবা প্রকাশনী/অন্যান্য বিদেশী শিকার কাহিনীর প্রভাবে এবং সেই অতি প্রত্যাশিত শটগান ব্যাবহারে অনুমতি পাবার পর শিকারের একটা নেশা পেয়ে বসেছিল। তখন অলৌকিক ঘটনা বলতে বনবিবি কিংবা বনের জন্তু-জানোয়ার রক্ষার জন্য অপার্থিব রাখালের বিভিন্ন ঘটনাই মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বেশি। শিকার সংক্রান্ত ছোট-খাট কয়েকটা ঘটনার অলৌকিক ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছিল কেউ কেউ, কিন্তু সেগুলি ছিল নিতান্তই লৌকিক। সেদিকে আর গেলাম না। ( অফ টপিক, কেউ যদি গাইড-ট্যুরের ১২ সিটের এমভি বনবিবি নামক জলজানে করে সুন্দরবন ভ্রমনে যান কখনও, সারাদিনের পরিশ্রমে ক্লান্ত কোন রাতে কেবিনে বসে জানলায় আসা জোছনায় এবং মোমের আলোতে খাবার টেবিলের ড্রয়ারে রাখা সুন্দরবনের বনবিবির সত্য-ঘটনাটা পড়ে দেখুন, আপানার যাত্রায় শুধু রংই যোগ করবে।)

যাক। শৈশবের সেই অলৌকিক পরিবেশে, তখন ক্লাশ সিক্স বা সেভেনে পড়ি, তিনটা আপাত অলৌকিক ব্যাপার আমাকে কিছুটা বিমূঢ় করেছিল।

১। অনেকদিন থেকে আমাদের সাথে থাকা খুবই শক্ত-সামর্থ ড্রাইভারের ব্যাবহারে হঠাৎ করেই বেশ কিছুটা অসংলগ্ন ভাব দেখা দিল (লোক চিনতে পারে না, চোখ লাল, ঘুমায় না, হাতে আবার দা নিয়ে এদিক সেদিক যায়, বিড়বিড় করে একা একা কথা বলে)। শ্রমিক এবং অন্যান্যরা প্রশ্নাতীত ভাবে মেনে নিল আত্মা, জ্বীন বা ভূত কিছু একটা ভর করেছে। অবিশ্বাসী আমার পরিবার এম,বি,বি,এস ডাক্তারের কাছে স্বাভাবিক চিকিৎসাই করল। তিন/চার দিনেও তেমন একটা কাজ হল না (চিকিৎসাতে একটা ঔষুধ ছিল সম্ভবত সেডেটিভ)। বাবার অনুপস্থিতিতে শ্রমিকেরা একজন ওঝা (এই নামই ব্যবহার করছি) নিয়ে এল।

ওঝার যে জিনিসটা আমাকে চমৎকৃত করেছিল, তা তার পোষাক এবং চেহারা। মোচওয়ালা ঝাকড়া চুলের ঢ্যাঙ্গা, লম্বা সার্ট-প্যান্ট পরা একজন লোক হোন্ডা চালিয়ে আসল। পিছনে পিছনে অনেক শ্রমিক। তারপর সেই একই জিনিস। মন্ত্র, ঝাড়ফোক, পাতাসমেত গাছের প্রশাখার মার, ড্রাইভারের প্রতিবাদ ইত্যাদি ইত্যাদি। পরে ড্রাইভারকে নিয়ে পুকুরের পানিতে চুবানো হয়েছিল। ড্রাইভারের শরীর তারপর প্রচন্ড কাঁপাছিল, তবে সুস্থ হয়ে উঠেছিল।

শারীরিক ভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছিল কি? মনে পরে না। থাকার অনুরোধ সত্ত্বেয় সেই পুরানো সেই ড্রাইভার পরে চাকুরী ছেড়ে চলে গেছল। কতদিন পর? মনে করতে পারছি না। বছর দুইয়ের মাথার তার মৃত্যু সংবাদ শুনেছিলাম। খুব দুঃখ পেয়েছিলাম। তার ঘটনা আমাকে খুবই প্রভাবিত করেছিল।

২। সেই একই দিনের ঘটনা, সেই একই ওঝা। সেই বাগানে তখন একটা সমস্যা চলছিল। শ্রমিকরা একটা হ্যাঁ অথবা না টাইপের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছিল। মন্ত্র, ঝাড়ফোক ইত্যাদির পর ওঝা তার নিজের হাতের কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত বাহুর ভিতর দিকের অংশে কিছু সিদুঁর ছিটিয়ে দিল। আবার মন্ত্র পড়ে আস্থে আস্থে ফুঁ দিল। পরিষ্কার একটা লেখা ফোঁটে উঠল – একটা সম্ভাব্য উত্তর। শ্রমিকদের প্রত্যাশিতটাই। শ্রমিকেরা খুবই আনন্দিত এবং চমৎকৃত হয়েছিল। ড্রাইভারের ভাল হয়ে উঠার ঘটনাটা তো তাদের কাছে ‘টেকেন ফর গ্রান্টেড’, হবেই। দ্বিতীয়টাই আসলে ব্যাতিক্রম।

৩। তৃতীয় ঘটনাটাও শৈশবের, ব্যাপারটার নাম বাটি-চালান। একজন একটা বাটি মাটিতে চেপে ধরেছিল, আরেক জন মন্ত্র পড়ছিল। বাটিটা নিজে নিজেই ঐ লোককে টেনে নিয়ে একটা চুরি হওয়া একটা বস্তু উদ্ধার করেছিল। অনেক পরে ধরনা করেছিলাম সেটা ছিল একটা ‘প্ল্যানড গেইম’।

ফিরে আসি প্রথম ঘটনায়। আমার বাবা তাঁর মত করে লৌকিক ব্যাখ্যা দিয়েছিল (আসলে চিকিৎসাতেই ভাল হয়েছে। ওঝার ব্যাপারগুলি অনেকটা শক-থেরাপির মত কাজ করেছে।) আমি সব সময় বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দ্বন্দ্বে দোলেছি। আমার মত করে লৌকিক ব্যাখ্যার চেষ্টা করেছি বড় হয়েও, কিছু জিনিস মেলাতে পারিনি, কিছু ব্যাখ্যা করা গেছল (কাঁপছিল কেন? আমার ধারনা সময়টা শীতকাল ছিল, কারন আমার মনে আছে স্কুল সেই সময়টায় বন্ধ ছিল। শীতের সময় বাগানের পুকুরের পানি যে কি পরিমান ঠান্ডা হতে পারে, সেখানে যে থেকেছে সে বলতে পারবে।)

প্রথম এবং দ্বিতীয় ঘটনার বছর দুই/তিন পরে আমি একটা ম্যাজিক শিখেছিলাম। ম্যাজিকটা এরকম – দর্শকরা, মনে করুন এশিয়া মহাদেশের ১৫/২০ টা দেশের নাম বলবে। আমি ছোট ছোট সমানভাবে কাটা কাগজের টুকরায় নাম গুলি লিখব। তারপর ভাল ভাবে ভাঁজ করে একটা প্লেটে রাখব। একজন একটা ভাঁজ করা কাগজ সেখান থেকে নিয়ে আমাকে বাদ দিয়ে বাকী সবাইকে দেখাবে। আমি প্লেটে রাখা বাকী কাগজের টুকরাগুলি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিব। সেখানের ছাই গুলি আমার কব্জি থেকে কনুইর ভিতরের দিকের বাহুর অংশে ঢেলে দিব। আস্থে আস্থে ফুঁ দিব। দর্শকের কাছে থাকা কাগজের দেশের নামটা আমার বাহুতে ফোঁটে উঠবে। বেশ ইন্টারেস্টিং।

লেখাটা কিভাবে ফোঁটে উঠে সে ব্যাপারে বলি। আমি আগেই শুকনো সাবানের কোনা দিয়ে সেখানে দেশের নামটা লিখে রাখি। ব্যাস এতটুকুই। অদৃশ্য সাবানের আঠালো আদ্রতা ছাইগুলিকে ধরে রাখে।

কিন্তু দেশের নাম আগে ভাগে কীভাবে জানি? ইএসপি? না, ব্যাপারটা সম্পূর্ণ লৌকিক – উত্তরটা পাঠকের কাছে একটা ধাঁধা হিসাবেই রাখলাম।

তা আমার শেখা সেই ম্যাজিক দ্বিতীয় অলৌকিক ঘটনাকে একটা ম্যাজিক হিসাবে প্রমান করল। মজার ব্যাপার হল ওঝার হাতে ফোঁটে উঠা সেই ঘটনার আউট-কাম কিন্তু হয় নাই, অন্যটা হয়েছিল। (কিন্তু ওঝার উত্তরটা জনপ্রিয় ছিল)। আমি প্রথম ঘটনাটা পুরাপুরি ব্যাখ্যা করতে পারিনি। কিন্তু দ্বিতীয় ঘটনায় ম্যাজিক দিয়ে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা কিন্তু প্রথম ঘটনাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

এই তিনটা ঘটনা কিন্তু আমার সামনে ঘটেছিল, তাই ব্যাখ্যার চেষ্টা করেছি। অন্য যেসকল ঘটনা শুনি সেগুলির পারিপার্শ্বিকতা, ঘটনার আনবায়াসড বিবরন ছাড়া অনেক সময় ব্যাখ্যা করা সম্ভব না। তবে এই সব অলৌকিক ঘটনা আমি বেশি শুনতে চাই না। রেশন্যাল চিন্তা ভাবনাকে প্রভাবিত করে অনেক সময়।

আপাত ব্যাখ্যাবিহীন জিনিস যে মানুষের জীবনে যে ঘটে না তা কিন্তু না। কিন্তু কখনও কখনও ব্যাখ্যাটা সাথে সাথে পাওয়া যায় না - পরে পাওয়া যায়। কিছু জিনিসের লৌকিক ব্যাখ্যা আজ মিলছে না, পরে হয়ত মিলবে, কিংবা হয়ত মিলবে না। হয়ত ব্যাখ্যাতীত জিনিস আছে, হয়ত নেই, আমাদের মন লৌকিক ব্যাপারকে অলৌকিক করে তুলছে। দেখা যাক।


মন্তব্য

তিথীডোর এর ছবি

অন্যভুবন, দেবী, নিশিথিনী--
এইমুহূর্তে ইএসপি নিয়ে লেখা হুমায়ূনের এই
তিনটে বইয়ের কথা মনে পড়ছে...
সাবানের এই ম্যাজিকটা অনেক দেখিয়েছি আমিও দেঁতো হাসি
দারুণ লাগলো পড়তে!

--------------------------------------------------
"আমি তো থাকবোই, শুধু মাঝে মাঝে পাতা থাকবে সাদা/
এই ইচ্ছেমৃত্যু আমি জেনেছি তিথির মতো..."
*সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

নৈষাদ এর ছবি

দেবী, নিশিথিনী... এবং এই সিরিজের তৃতীয় একটা বই... নামটা মনে নেই। আমার ছোট বোন আমাকে দিয়েছিল পড়ার জন্য ছাত্রজীবনে... তারপরই সম্ভবত ইএসপির প্রতি কৌতূহলী হয়েছিলাম।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

s-s এর ছবি

অ--নে--ক , অ--নে---ক দিন পর সচলায়তনে একটা লেখা পড়লাম।
ইন্টারেস্টিং লেখা।
এজন্যই প্রবীর ঘোষের অলৌকিক নয় লৌকিক বইটা সেলাই শেখা বা আরবী শেখার ফালতু বইগুলো বাদ দিয়ে অনেক আগেই ছোট বাচ্চাদের পড়ানো উচিত। পাঁচতারা আমার পক্ষ থেকে।

দুর্দান্ত এর ছবি

আপনাকেও অনেকদিন পরে সচলে দেখতে পেলাম।
কোথায় থাকেন আজকাল?
লেখা তো ছেড়েই দিলেন, ইদানিং মন্তব্যও দেখি না।

s-s এর ছবি

হাসি শূন্যে ভাসছি হাসি

নৈষাদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

স্নিগ্ধা এর ছবি

আপনার পুরো লেখাটাই মজার, কিন্তু সবচেয়ে পছন্দ হলো এই জায়গাটা -

উপদেশটা ছিল, আক্রান্ত হলে বুক ভরে শ্বাস নিন, ঝট করে ঘুরে দাড়ান, তারপর ঝেড়ে দৌড় দিন।
ই এস পি কি অন্য যে কোন বিষয় - এই উপদেশটা মনে হয় সবখানেই ভালো কাজে লাগে চোখ টিপি

প্যারানরমাল ঘটনা নিয়ে আমার একটা দুর্মর কৌতূহল আছে।

নৈষাদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ।
প্যারানরমাল ঘটনা আমাকেও আকর্ষণ করে। তবে যেগুলিতে কিছুটা ব্যাখ্যা দাড়া করানোর চেষ্টা করা হয়...।

স্নিগ্ধা এর ছবি

আপাত দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা নেই, অথবা ব্যাখ্যাটা খুব অবভিয়াস নয় - আমার আকর্ষণ আসলে ওই ব্যাপারটার প্রতি। সেই কারণেই আমাদের ব্রেইন কত অদ্ভুত ভাবে কাজ করে এটা ভেবে মাঝে মাঝেই আমি তাব্দা হয়ে থাকি!

যেমন, যে কালে আমি ঈশ্বরবিশ্বাসী ছিলাম সে সময় আমি কিছু জিনিষ স্বপ্নে দেখি পরে যেটা (আমি মনে করি কাকতালীয়ভাবে) মিলে যায়। তখন মনে করতাম - "বাহ, আল্লাহ আমাকে ভবিষ্যত দেখাচ্ছে।" এমনকি আরবি না জানা সত্ত্বেও (আমি পড়তেও পারি না) একবার স্বপ্নে দু'একটা আরবি লাইন 'পেয়ে' তো আমি অভিভূত! আমার তখন দেখা সিম্বলিক স্বপ্নগুলোর ব্যাখ্যা, বা ঐ আরবি লাইন দু'টোর যে আদৌ কোন মানে হয় সেটা আমাকে বলে দেন আমার আম্মার এক বন্ধু - উনি নিজে খুব ধার্মিক ছিলেন।

যখন আমার মধ্য থেকে ধর্ম বিশ্বাস চলে গেলো তখন আমি শেষমেষ মেনে নিতে বাধ্য হলাম যে স্বপ্নের মিলে যাওয়া ব্যাপারটা সম্পূর্ণ কাকতালীয়। আমি আরো হাজার হাজার মনোমুগ্ধকর সিম্বলিক স্বপ্ন দেখেছি যার কিস্যুই মেলে নি। আর, নিশ্চয়ই আমি কখনও কারুর মুখে আরবি ঐ দুই লাইন শুনে থাকবো, ঘুমের মধ্যে সেটা হয়তো স্মৃতি থেকে স্বপ্নের স্তরে উঠে এসেছে।

যখন আস্তিক ছিলাম, ঠিক এই দুটো সন্দেহ আমার বারবারই হতো, কিন্তু উইশফুল থিঙ্কিং দিয়ে একটা ঐশ্বরিক কারণ দাঁড় করাতাম। আমাদের ব্রেন কী ভীষণ ইন্টারেস্টিং নয়? হাসি

নৈষাদ এর ছবি

সহমত।
আপনার ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং। সাধারনত মানুষের তো উল্টোটা হয়... চরম নাস্তিক থেকে চরম আস্তিক।

দুর্দান্ত এর ছবি

আগন্তুক ছবির একটি কথা মনে দাগ কেটে আছে। চন্দ্রগ্রহন বা সূর্যগ্রহন নিয়ে। গ্রহন কেন হয়, সেটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু চাঁদ, সূর্য আর পৃথিবীকে ঠিক এমনি আকারের কেন হতে হল বা এই তিন এর দূরত্ব ও কক্ষপথও কেন এমনটি হল যে পৃথিবীর মানুষের চোখে এই গ্রহন গুলোকে এমন করে দেখা যাবে? চাঁদটি চাইলেই আরেকটু ছোট হতে পারতো, কিংবা আমাদের পৃথিবিটা আরেকটু বড়, অথবা এরা চাইলেই অন্যপথে অন্য দূরত্বে থাকতে পারতো -কিন্তু তা তো হল না।

কেন?

হিমু এর ছবি

হয় তো। হবে না কেন? সবসময় তো খাপেখাপ গ্রহণ হয় না। যখন হয় না তখন করোনার সাইজ বড় হয়।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

নৈষাদ এর ছবি

ধন্যবাদ। আগন্তুক ছবিটি দেখেছিলাম অনেকটা অপ্রাপ্ত বয়সেই... মনে নেই অনেক কিছুই।

আপনার মন্তব্যের মূল কথাটাও ধরতে পেরেছি বলে মনে হচ্ছে না!

দুর্দান্ত এর ছবি

দুঃখিত। আরেকটু ভেঙে বলার প্রয়োজন ছিল যে আমি আপনার সাথে একমত। যেখানে পরিস্কার ব্যাখ্যা নেই, অথবা যেখানে কেই ঘটনাটার পেছনের ঘটনা জানা থাকেনা, সেখানেই অলৌকিকতা জায়গা করে নেয়। গ্রহন নিয়ে আগন্তুকের সেই প্রশ্নটি যেমন আমার মনে দাগ কেটেছিল। হিমু এর মধ্যে বলে দিয়েছে কেন গ্রহনের সেই প্রশ্নের উত্তরে অতটা অলৌকিকতা বা রহস্য নেই।
কিন্তু ছোটবেলায় মনে যা দাগ কাটে, তার রহস্যটি চলে গেলেও, তার যাদুটাকে ছেড়ে দিতে মন চায় না। আসলেই যদি অলৌকিক কিছু থাকতো, নিদেন পক্ষে দুই চারটা জলজ্যান্ত জ্বীন-পরী, তাহলে কেমন মজাটাই না হত।

সিরাত এর ছবি

আমি ব্যাপক আক্রান্ত বোধ করলাম। আপনাকে স্যু করবো চিন্তা করতেসি। পাবলিক ডিফেমেশন!!! হাসি

শেষ প্যারাটা ভাল লাগলো। আমি এখনো অপেক্ষায় আছি।

'অলৌকিক' যদি কিছু বাই চান্স থাকেই, আপনি কি খুশি হবেন না অখুশি হবেন?

নৈষাদ এর ছবি

'অলৌকিক' যদি কিছু বাই চান্স থাকেই, আপনি কি খুশি হবেন না অখুশি হবেন?... সত্যি বলতে কি আমি নিজে এটার উত্তর জানিনা।

হিমু এর ছবি

আমার জীবনে অলৌকিক ঘটনা একটাই। আমি অনেক ছোটো ছিলাম তখন, বারান্দায় দাঁড়ালে কোনোমতে নিচে কী হয় সেটা দেখি। অন্যের তত্ত্বাবধান ছাড়া নিচে যাওয়া মানা। নিচে আমার বড় ভাই পড়শি বড় ভাইদের সাথে হুল্লোড় করে ফুটবল খেলছিলেন লনে। আমার সম্পূর্ণ ঘটনা স্পষ্ট মনে নেই, আবছা যা মনে আছে, তা হলো আমি চিৎকার করে ভাইয়াদের ডেকে বলছি, তোমরা খেলো না খেলো না ছোটো ভাইয়ার পা ভেঙে গেছে। ছোটো ভাইয়া তখন বহুদূরের ক্যাডেট কলেজে, তার পা ভাঙবেই বা কেন আর ভাঙলেই বা আমি জানবো কীভাবে ... এই ভেবে ভাইয়ারা আমাকে পাত্তা না দিয়েই খেলে যাচ্ছিলো। সন্ধ্যায় আব্বা বাসায় ফিরলেন থমথমে মুখে, ক্যাডেট কলেজ থেকে ফোন বা চিঠি এসেছিলো, ছোটো ভাইয়া ইনফার্মারিতে, পা ভেঙে গেছে।

বড় ভাইয়া তখন কলেজের ছাত্র, সে নিজেও প্রচুর বইটই পড়ে অলৌকিকত্ব নিয়ে, বই পড়ে হিপনোটিজম শেখার চেষ্টা করে [কী যে উৎপাত করতো তখন ... বলে বোঝানো যাবে না, বড় ভাইয়া ছোটো ভাইয়া দুইজন মিলে ঘর অন্ধকার করে আমাকে হিপনোটাইজ করার চেষ্টা করতো ... কিসুই হইতো না], সে আমাকে এর পর অনেকদিন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, কীভাবে জানতে পারলাম। আমার স্পষ্ট মনে ছিলো না কেন ওরকম মনে হলো। তবে কোনো খাতির পাইনি পীর হিসাবে মন খারাপ



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

সিরাত এর ছবি

কন কি হিমু ভাই! হাসি

একটা গল্প ল্যাখেন!

হিমু এর ছবি
সাফি [অতিথি] এর ছবি

পীরত্বের সাথে গাত্রবর্ণের সম্পর্ক আছে মনে হয়। দরগা সাজিয়ে বসা আমার দেখা পীরের সবাই দুধ ঘি খাওয়া ফরসা ফুরসা বিশাল লাশ আর কালাকুলা পীরগুলা সবাই প্রায় ল্যাংটা বাবা

হিমু এর ছবি
নৈষাদ এর ছবি

আপনার বড় ভাইয়ের এক্সপেরিমেন্টর কথায় বড়ই মজা পেলাম...।
সাবজেক্টরা এসব মহান এক্সপেরিমেন্টকে উৎপাত মনে করে নাকি? বড়ই চিন্তার বিষয়। আমার ছোট বোন কোনদিন দেখি বলে বসবে...।

সন্ধ্যায় যখন লেখাটা লিখছিলাম, একটা ঘটনার কথা মনে হয়েছিল। স্কুলে থাকার সময় একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে একজন প্রিয় মানুষ আজ আসবে এমন কথা মনে হল (আসার কোন কারণ ছিল না)। দেখলাম সে এসেছে।

আসলে সে এসেছিল আমি ঘুমে থাকা অবস্থাতেই। লৌকিক ব্যাখ্যা দাঁড়া করতে চেষ্টা করেছিলাম এভাবে যে সকালে হালকা ঘুমের কোন এক মুহূর্তে হয়ত তার কথা শুনেছিলাম...।

রাহিন হায়দার এর ছবি

আমার ছোট ভাইয়েরও কাছাকাছি একটা কাহিনী আছে। তার বয়স তখন ২ কি ৩ হবে, একদিন খেলার ছলে পাশের ফ্ল্যাটে গিয়েছে। ধরা যাক ও বাড়ির বড় ছেলের নাম সুমন। সুমন তার বাবার অফিসের গাড়ি নিয়ে কোথাও গিয়ে থাকবেন। পাশের বাড়ির লোকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আমার ছোট ভাই নাকি কথা নেই বার্তা নেই হঠাৎ বলে বসেছিল, সুমন ভাইয়ার গাড়ি তো ভেঙ্গে গেছে। পরে জানা গেল আসলেই একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল কাছাকাছি সময়ে, যদিও তেমন গুরুতর কিছু না।
________________________________
তবু ধুলোর সাথে মিশে যাওয়া মানা

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

ধাঁধা'র জবাব দিতে পারলে পাঠক কী পুরষ্কার পাবে তা তো বললেন না! দেঁতো হাসি

লেখা ভাল লেগেছে হাসি
____________________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ !

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

নৈষাদ এর ছবি

প্রাথমিক ভাবে এক ডজ্ন লাক্স সাবানের কথা চিন্তা করছিলাম।

মৃদুল আহমেদ এর ছবি

আসেন ভাইয়েরা, মাঠে নাইমা পড়েন।
এই চান্সে কার জীবনে কী 'ব্যাখ্যা করা যায় না' টাইপ কাহিনী আছে, বলে ফেলেন। বহুদিন শিরশিরানি টাইপ কাহিনী শুনি না...
--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

--------------------------------------------------------------------------------------------
বললুম, 'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!'

নৈষাদ এর ছবি

'আমার মনের সব কপাট খোলা ভোজরাজজী। আমি হাঁচি-টিকটিকি-ভূত-প্রেত-দত্যি-দানো-বেদবেদান্ত-আইনস্টাইন-ফাইনস্টাইন সব মানি!' - লাইনটা ভাল লাগে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- শালার, আমিই কোনো অলৌকিক কাহিনী অবলোকন করতে পারলাম না এখনও। যা দুয়েকবার হয়েছিলো, বড় হয়ে বুঝলাম ঐগুলা দেজা-ভু। আরেকটু বড় হয়ে বুঝলাম, নীয়েৎশে কাকু এইগুলার ব্যাখ্যা বহুত আগেই কইরা রাইখা গেছেন। জ্ঞানী হতে হতেও আমি বুকাই রয়ে গেলাম! পীরত্বের বীরত্ব খুইয়ে, গণক ঠাকুরীর গরিমা কুঠুরীবদ্ধ করে অবশেষে পড়াপানি বাণিজ্য নিয়েই খোশ থাকতে হলো। মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

নৈষাদ এর ছবি

ব্যাখ্যাতীত আচরণকে যদি অলৌকিক কাহিনী অবলোকনের ক্যাটাগরিতে ফেলেন, তবে দুঃখ করে লাভ নেই। জীবনে আরেক জন আসুক ... অনেক অলৌকিক কাহিনী অবলোকনের সুযোগ পাবেন রে ভাই...।

রাগিব এর ছবি

"কিন্তু দেশের নাম আগে ভাগে কীভাবে জানি? ইএসপি? না, ব্যাপারটা সম্পূর্ণ লৌকিক – উত্তরটা পাঠকের কাছে একটা ধাঁধা হিসাবেই রাখলাম"

বলে দেবো? সবগুলো কাগজেই একই দেশের নাম লেখা ছিলো, আর যেহেতু কাগজগুলো পুড়িয়ে সেই ছাই দিয়েই কাজ করা হয়েছে, তাই ঐটা আর কারো পক্ষে যাচাই করার উপায় নেই। হাসি

----------------
গণক মিস্তিরি
মায়ানগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | টুইটার

----------------
গণক মিস্তিরি
জাদুনগর, আম্রিকা
ওয়েবসাইট | শিক্ষক.কম | যন্ত্রগণক.কম

নৈষাদ এর ছবি

ঠিক আছে। একটা অপেক্ষাকৃত ছোট দেশের নাম নিলে সুবিধা হয়। এশিয়ার ১৫/২০ টা দেশের নামের মধ্যে নেপাল তো চলে আসতে বাধ্য।

অমিত আহমেদ এর ছবি

লেখা ভালো লেগেছে।


ওয়েবসাইট | ব্লগস্পট | ফ্লিকার | ইমেইল

আশরাফ মাহমুদ এর ছবি

অতিপ্রাকৃতিক ঘটনাকে আমি প্রাকৃতিক ঘটনারই অপভ্রংশ মনে করি। মনের বেখেয়াল, প্রকৃতিতে মানুষের সহজাত দুর্বলতা, বিশেষ করে বিশ্বাস- এসব জড়িত থাকে; মনে হয়।
আগে সূর্যগ্রহণ, চন্দ্রগ্রহণ এসব-ও অতিপ্রাকৃতিক ভাবা হতো; জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সবকিছু আলোয় আসবে একদিন। হাসি

==============================
ঢাকার মৌন ঘ্রাণে বকুলফুলের নাভি
==============================
হা-তে এ-ক প্র-স্থ জো-ছ-না পা-ড়ে-র ঘ্রা-ণ

তুলিরেখা এর ছবি

চমৎকার লেখা!
-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

সচল জাহিদ এর ছবি

দেরিতে হলেও এত চমৎকার লেখাটা পড়ে ফেললাম। ধন্যবাদ আপনাকে অনেক গোছানো লেখা।

----------------------------------------------------------------------------
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

অতিথি লেখক এর ছবি

ছোটবেলায় একবার ভুত (!) দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। আপনার লিখাটা পরে সেই কাহিনী মনে পরে গেল।

dr_sujon_bds@yahoo.com

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।