পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট – বেসামরিক কুশীলবেরা

নৈষাদ এর ছবি
লিখেছেন নৈষাদ (তারিখ: শুক্র, ১৫/১১/২০১৯ - ৮:০১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পঁচাত্তরের পনেরো আগস্টের নৃশংস হত্যাকান্ডের পেছনের বেসামরিক কুশীলবদের নিয়ে বিশ্লেষণ তেমন চোখে পড়েনি। অবশ্য সামরিক কুশীলবদের কথা বললে শুধুমাত্র সরাসরি ঘাতকদের কথাই আসে, পেছনের বড় খেলোয়াড়দের কথা বিশ্লেষণে আসে না। দু’হাজার চৌদ্দ সালে অবমুক্ত করা মার্কিন গোপণীয় তারবার্তা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ‘ব্যাকগ্রাউন্ড ইনফোরমেশন অভ ক্যু লিডারস’ শীর্ষক এক তারবার্তায় দু’জন বেসামরিক ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়। ঘাতক ফারুক-রশিদের ব্যাপারেও কিছু কৌতুহল-উদ্দীপক তথ্য পাওয়া যায়।

পঁচাত্তরের নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে সবচেয়ে বেশি অনুসন্ধান করেছেন সম্ভবত সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলজ। ডেইলি স্টারের ১৬ আগস্ট, ২০০৫ সালের সংখ্যায় লিফশুলজের এক প্রবন্ধে দেখা যায়, তাঁর অধ্যবসায়ী অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তিনি তখনকার বাংলাদেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইউজিন বোস্টারের সাক্ষাৎকার নিতে সমর্থ হন। সেই সাক্ষাৎকারে বোস্টার নিশ্চিত করেন, ১৯৭৪ সালের শেষদিকে শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারকে উৎখাতের ব্যাপারে মার্কিন দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়। চুয়াত্তরের নভেম্বর থেকে পঁচাত্তরের জানুয়ারির মধ্যে সেই দলের সাথে মার্কিন কর্মকর্তাদের বহুবার বৈঠকও হয়। তিনি আরও নিশ্চিত করেন, যোগাযোগ করা লোকজন আসলে “খন্দকার মোশতাকের দল”।

সেই ষড়যন্ত্রকারী দলের সাথে দূতাবাসের লোকজনকে যোগাযোগ না রাখতে তিনি নির্দেশ দেন। তবে তখনকার দূতাবাসের অবস্থিত সিআইএর স্টেশন চিফ ফিলিপ চেরি তার নির্দেশ অমান্য করে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। চেরির ব্যাপারে স্টেট ডিপার্টমেন্টে জানানোর পরও তা অব্যাহত থাকে বলে তিনি মনে করেন। ফিলিপ চেরির রাষ্ট্রদূতের অগোচরেরই এবং নির্দেশ অমান্য করেই তার নিজের কাজ চালিয়ে যান।

বিশ্লেষণের আরেকটা অংশও বলে রাখা উচিত, রিচার্ড নিক্সনের পদত্যাগের পর নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড আসলে ‘একজন অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রেসিডেন্ট’ ছিলেন। সেই সময়ে হেনরি কিসিঞ্জারই ‘ডি-ফ্যাক্টো’ বৈদেশিক নীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন। আবার কিসিঞ্জারেরই একসময়ের কর্মচারি রজার মরিসের লেখা বইতে (হেনরি কিসিঞ্জার এন্ড অ্যামেরিকান ফরেন পলিসি) পাওয়া যায়, কিসিঞ্জারের একটা ‘বিদেশি শত্রুর তালিকা’ ছিল। সেখানে তিনটা মাত্র নাম ছিল - আলেন্দে (চিলি), থিউ (ভিয়েতনাম) এবং শেখ মুজিবুর রহমান।

পাঠকে অবগতির জন্য আরও জানিয়ে রাখি, সিআইএর এ ধরনের গুপ্ত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সরকার উৎখাতের অনুসন্ধানের জন্য দু’টা কংগ্রেশন্যাল হিয়ারিং কমিটি তৈরি করা হয় (লিফশুলজ সেই কমিটির নামের আগে ‘তথাকথিত’ যোগ করায় সেগুলির কর্মক্ষমতা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লোকজন তখনই জানতে পারে, Mongoose, Cointelpro, AM/LASH কোড-নেমের গুপ্ত অপারেশনের মাধ্যমে কঙ্গর লুমুম্বা, কিউবার ক্যাস্ট্রো, কিংবা চিলির আলেন্দেকে হত্যার পরিকল্পনার সাথে সিআইএর যোগসাজসের কথা।

আরেকটা কথা বলে রাখা দরকার, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই খন্দকার মোশতাকের পাকিস্তানের সাথে কনফেডারশন তৈরির মার্কিন সহয়তা নিয়ে জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করেন। যুদ্ধ চলাকালীণ সময়ে তাকে গৃহবন্দীও করা হয় কিছুদিনের জন্য। মার্কিনী ষড়যন্ত্র হিসাবে আওয়ামী লীগে ফাটল ধারনোর চেষ্টাও অব্যাহত থাকে তখন থেকেই।

ফিরে আসি মূল লেখায়। সম্ভবত পঁচাত্তরের ১৬ই আগস্টে স্টেট ডিপার্টমেন্টে পাঠানো সেই তার বার্তায় অভ্যূত্থানের ‘নায়কদের’ বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়। মেজর ফারুকের বর্ণনায় জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি আবুধাবিতে আরামেই কর্মরত ছিলেন। কিন্তু তার ‘আত্মীয়দের’ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের ‘অপরাধে’ তাকে অপসারন করা হয় (‘defected’)। তার আত্মীয়রা হলেন, মামা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, চাচা বা মামা, তখনকার ভারতীয় রাষ্ট্রদূত এ আর মল্লিক (বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী, পরে মোশতাকের মন্ত্রীসভায় যোগ দেন), এবং আরেক মামা নুরুল কাদের খান (তখনকার পর্যটন কর্পোরেশনের পরিচালক)। আমরা এরমধ্যে জানি ফারুক নভেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আসেন এবং তারপর মুক্তিযুদ্ধা হয়ে যান।

তবে যে তথ্যটা আমার কাছে চমকপ্রদ মনে হয়, তা হল দূতাবাসের সাথে ফারুকের যোগাযোগ। তারবর্তায় বলা হয়, ফারুক দূতাবাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন (came to Embassy attention) ৭২ এবং ৭৩ সালে যখন তিনি অস্ত্র, ট্যাংক এবং আর্মার্ড ভ্যাহিকল কেনার ব্যাপারে কথা বলতে দূতাবাসে যান। (এখানে তার উচ্চতা, চমৎকার ইংরেজি এবং ঠান্ডা মাথার বিশেষণও ব্যবহার করা হয়)।

তবে ৭৪ সালে তার দূতাবাসে যাওয়ার কারণটা গুরুত্বপূর্ন। তিনি ১৯৭৪ সালের মে মাসে দূতাবাসে গিয়েছিলেন –বর্তমান সরকার উৎখাত করলে মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে, এবং বিশেষকরে বৈদেশিক হস্তক্ষেপ যাতে না হয় তা মার্কিনীরা নিশ্চয়তা দিতে পারবে কিনা (বোধকরি ভারতের কথা বলা হচ্ছে) – এটা জানতে। ব্যাস এতটুকুই তথ্য। বোধকরি এর পর ফিলিপ চেরির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

রশিদের যে তথ্য পাওয়া যায়, সেখানে দেখা যায়, তিনি খন্দকার মোশতাকের ভাতিজা কিংবা ভাগ্নে (নেফিউ)। তার স্ত্রী আবার চট্রগ্রামের শিল্পপতি একে খানের ভাতিজি কিংবা ভাগ্নি। আবার একে খান বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী এম আর সিদ্দিকীর শ্বশুর। এম আর সিদ্দিকী তখন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ফারুক আবার রশিদের বোনের স্বামী।

মূল পরামর্শদাতা (principal civilian adviser) হিসাবে যে বেসামরিক ব্যাক্তির নাম আসে তিনি এস, বি, জামান। তিনি একজন আওয়ামী লীগার এবং শেখ মুজিবের কাছের লোক ছিলেন। আগরতলা মামলায় শেখ মুজিবের মুক্তির ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন (এই কথার আগে ‘purportedly’ শব্দযুগল ব্যবহার কর হয়েছে)। ১৯৭০ ন্যাশানাল এসেম্বলিতে জয়ও পান। যুদ্ধচলাকালীন সময়ে তিনি ‘পূর্ব-পশ্চিম পাকিস্তানের রিকোনসিলিয়্যাশনের’ ব্যাপার দৌড়ঝাপ শুরু করেন, সম্ভবত মোশতাকে পক্ষ থেকে। তিনি এমন কী পাকিস্তানে বন্দি শেখ মুজিবের সাথেও দেখা করেন। (ধারনা করি যুদ্ধের শেষদিকে বন্দি শেখ মুজিবকে প্রচন্ড চাপ সহ্য করতে হয়েছে।)

ক্ষমতাবান কিছু লোকের আস্থা ছিল তার উপর বলে তিনি দাবি করতেন (মুসলিম লীগের নূরুল আমিন)। তিনি উপ রাষ্ট্রপতি এবং যুদ্ধকালীণ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের শ্যালক কিংবা বোনের স্বামী (brother in law) বলে দাবী করতেন, আবার এ আর মল্লিকের (প্রাক্তন মন্ত্রী) মেয়ের জামাই বলেও দাবী করতেন।

জামান দাবী করতেন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় বন্ধু এবং একমাত্র দেশ যে এত বড় স্কেলে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে সক্ষম। তিনি এটাও দাবী করতেন তার এই বিশ্বাসের ব্যাপারে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামারুজ্জামান, এর মল্লিক, খন্দকার মোশতাক এবং মনরঞ্জর ধরের আস্থা আছে।

জামান বিস্তারিততে না গিয়ে তিন মাসের মধ্যে এই বন্ধুত্বের প্রদর্শন দেখানো হবে বলে ভবিষ্যতবানী করেন। তিন মাস পরেই পনরো আগস্টের ঘটনা ঘটে।

তবে, মুক্তিযুদ্ধের পরপরই জামানকে দালাল আইনে আড়াই বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়। জেল থেকে বের হয়েই তিনি ষড়যন্ত্রে লেগে জান।
পঁচাত্তরে তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন এবং PICA insurance এর জন্য আবেদন করেছিলেন। আরেক তারবার্তায় PICA insurance এর জন্য মার্কিনী তৎপরতায় বুঝা যায় জামান দূতাবাসের (বা চেরির) Blue-eyed boy ছিল।

এই এস বি জামান বা সৈয়দ বদরুজ্জামান আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ময়মনসিংহ থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য হিসাবে জয়লাভ করেন। তিনি স্পষ্টতই পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে ‘সমন্বয়ের’ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। একাত্তরের ২৪ জুলাই বদরুজ্জামান জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে পশ্চিম পাকিস্তানে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান তিনি তার দলের এমএনএ এবং এমপি দের সম্ভ্যাব্য সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। তিনি পরবর্তী আরও বৈঠকের ইঙ্গিত দেন।

বদরুজ্জামানের সূত্র উল্লেখ করে সংবাদ সংস্থা পিপিআই জানায় যে আওয়ামী লীগের ৭০ জন এমএনএ এবং ১০৯ জন এমপিএ আতদের নেতা হিসাবে সাবেক মন্ত্রী জহিরুদ্দিনকে গ্রহন করেছেন।

অবশ্য এরও আগে ৭ জুন ১৯৭১ নিউ ইয়র্ক টাইমস পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক জঙ্গ এর বরাত দিয়ে আওয়ামী লীগের নতুন অংশের কথা জানায়। সেখানে ১০৯ জন প্রক্তন আওয়ামী লীগ নিয়ে (তখন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ছিল) জহিরুদ্দিনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নতুন অংশের কথা বলা হয়।
এই ১০৯ জনের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কন্যা বেগম আখতার সোলায়মান। তিনি গুরত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন। বেগম আখতার সোলায়মান এটাও নিশ্চিত করেন, তার পিতা বেঁচে থাকলে শেখ মুজিবের মত ‘বিচ্ছিন্নবাদী’ নীতি গ্রহন করতেন না।

অবশ্য প্রাক্তন মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদের সদস্য জহিরুদ্দিন ২৭ জুলাই ১৯৭১ সালে এই খবর অস্বীকার করেন।
তবে, ১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয় এবং পাকিস্তানে দূতাবাস স্থাপন করা হয়। প্রাথমিক ভাবে পাকিস্তানের প্রাক্তন আঞ্চলিক কমিশনার মোহাম্মদ খুরশিদ রাষ্ট্রদূত হিসাবে দূতাবাস স্থাপনের কাজ শেষ করেন। পরে রাষ্ট্রদূত হিসাবে যোগদেন সেই জহিরুদ্দিন।

নিউইয়র্ক টাইমসের সাথে আলাপচারিতায় তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “It's nice to be back, I know my way around here from those days. “I suppose it will be an advantage.”

দ্বিতীয় বেসামরিক ব্যাক্তির ‘ক্রেডিনশিয়্যাল’ মারাত্মক। তিনি ডঃ মোহাম্মদ ওসমান গণি। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি, পাকিস্তানের সাবেক আমলা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। পাকিস্তান থেকে সিতারা-ই-পাকিস্তান এবং সিতারা-ই-কায়েদে আজম পুরস্কার প্রাপ্ত।

তিনি আবার ১৯৭৯ সালে সাংসদও নির্বাচিত হন। কুদরত ই খুদার পর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির সভাপতিও হন।
একটা মজার তথ্য দেখা যায় তারবার্তায়। ইয়াহিয়া সরকার তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ থেকে অপসারন করেন আইউব সরকারের সাথে তার সখ্যের জন্য।

যাহোক, মুক্তিযুদ্ধের পরপরই তিনি লন্ডনে পালিয়ে যান, পরে দেশে ফেরার জন্য আবদন করেন, এবং চুয়াত্তরের তার আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং তিনি দেশে ফিরে আসেন। নিশ্চয়ই তার আবেদনের ব্যাপারে কারা দৌড়ঝাপ করেছেল এর বিশ্লেষণ করলে অনেক কিছু বের হয়ে আসবে।

আমার ধারনা, এই দুই ব্যাক্তি মার্কিনীদের ‘গুড-বুকে’ ছিল এবং বেসামরিক অন্যান্য কুশীলব এবং দূতাবাসের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম ছিল।

পুনশ্চঃ আমি মোটামোটি নিশ্চিত এস বি জামান কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে নির্বাচিত প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য সৈয়দ বদরুজ্জামান। দুই দিন খোঁজ করেও এস বি জামানকে পেলাম না, লেখাটা দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হাঁটুপানির বদন্যাতায় clue পেয়ে গেলাম।


মন্তব্য

আসগর এর ছবি

বেসামরিক ষড়যন্ত্র কারী এস বি জামান কি বাজিতপুরের সৈয়দ বদরুজ্জামান?

আসগর এর ছবি

উনার অনেক জজবা ছিল দেখি। উনি এখন কই?

নৈষাদ এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ আসগর সাহেব। আমি আসলে এস বি জামান দিয়ে ট্র্যাক করতে পারছিলাম না।
আমি জানিনা তার কী অবস্থা এখন, তবে এখন হয়ত জানা যাবে।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যে গ্রুপটি কনফেডারেশনের চেষ্টা করেছিল এবং তখনই মার্কিনীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল (যথাঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, কাজী জহিরুল কাইয়ুম ইত্যাদি) তাদের ১৯৭১-১৯৭৫ অ্যাকটিভিটি ট্র্যাক করা গেলে ষড়যন্ত্রের বেসামরিক অংশ সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যাবার কথা। অন্তত ১৫ই অগাস্ট পরবর্তী সুবিধাভোগীদের তালিকাতে যারা আগের গ্রুপের সাথে যুক্ত ছিল তাদের ব্যাপারে নিঃসন্দেহ হওয়া সম্ভব।

সৈয়দ বদরুজ্জামান সম্পর্কিত এই খবরটি দেখুন। তার দাবি অনুযায়ী আওয়ামী লীগের ৭০ জন এমএনএ এবং ১০৯ জন এমপিএ পাকিস্তানপন্থী। তাদের কথিত নেতা সাবেক মন্ত্রী জহিরুদ্দিন অবশ্য এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে দলে যে কিছু বেঈমান ছিল সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হবার পর যাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল তাদের ব্যাপারে ভালো খোঁজখবর নেয়া সম্ভব হলে আরও কিছু জানা যেতো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ওসমান ফারুকের এক পুত্র বিএনপি আমলের মন্ত্রী ওসমান ফারুকের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল (, )। এর পরে কী হয়েছিল জানি না। ওসমান ফারুকের এক পুত্র এম ওসমান সিদ্দীক ১৯৯৯-২০০১ সময়কালে ফিজি, নাউরু, টোঙ্গা ও টুভালুতে মার্কি রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

যে তিনজন রাষ্ট্রনায়ক কিসিঞ্জারের লিস্টে ছিলেন তাদের মধ্যে কেবল খিউ সাম্পানকে হত্যা করা সম্ভব হয়নি। এটা কম্বোডিয়ানদের দুর্ভাগ্য।

ফারুক-রশীদ ভায়রা ভাই, মানে তাদের স্ত্রীরা সহোদরা। ফারুককে 'ওএসডি' বানানোটা পুরোই মিথ্যাচার। যারা সামরিক বাহিনীর সার্ভিস রুল সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা রাখেন তারা জানেন সেখানে ওএসডি ধাঁচের কোন কিছুর অপশন নেই। ফারুক সম্ভবত ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। রশীদ মোশতাকের ভাস্তে, তার স্ত্রী জোবায়দা এ কে খানের ভাগ্নী।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশবিরোধী এবং আওয়ামী লীগবিরোধী এবং বঙ্গবন্ধুবিরোধী আমলা ও রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহন অবশ্যম্ভাবী। নয়তো নিম্নপদস্থ, অবসরপ্রাপ্ত ও বহিষ্কৃত একদল সেনাসদস্যের পক্ষে এত বড় একটা ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে যাবার কথা না।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

নৈষাদ এর ছবি

পাণ্ডব দা, সবসময়ের মতই, বিস্তারিত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
১। আমি মূল লেখাটা সম্পাদনা করে কিছ নতুন তথ্য যোগ করলাম। আমি বেশ কিছুদিন ধরেই কুশীলব দের কার্যকলাপ ট্র্যাক করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। এই ধরুন, সৈয়দ বদরুজ্জামান, আগে কোন দিন তার ব্যাপারে শুনি নাই।
২। মূল লেখার সাথে যোগ করেছি।
৩। ওসমান সাহেবের ব্যপারটা ইন্টারেস্টিং … আরও কিছু তথ্য যোগাড়ের চেষ্টা করছি।
৪। আমি অবশ্য লিস্টে ভিয়েতনামের নিয়ান থিউর কথা (Nguyen Van Thieu) কথা বলেছি। কনফিউজড হয়ে গেলাম, লিস্টে কি থিউ নাকি খিউ সাম্পান ছিল, আবার দেখতে হবে।
৫। ফারুক-ভায়রা ভাই সেটাই জানতাম। তারবার্তায় ভুল লেখা হয়েছে। সেই দুই বোন যে একে খানের আত্মীয় সেটা আগে জনতাম না। মাত্র কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের রাজেশ পালের এক ফেস বুক স্ট্যাটাসে জনতে পারলাম। ওএসডি – আমার ভুল – ঠিক করা হয়েছে।
৬। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র অনেক বিস্তৃত পটভূমিতেই হয়েছিল। কিছুদিন আগে তখনকার সেনা প্রধান সফিউল্লার বিস্তারিত ‘কৈফিয়ত’ শুনে উনার ব্যাপারে একটা কথাই মনে হয়েছে – প্যাথেটিক।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

নগুয়েন ভ্যান থিউ তো পরীক্ষিত মার্কিন দালাল। কিসিঞ্জার তাকে উৎখাত করতে চাইবে কেন?


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সাথে পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগের একটা যোগসুত্রের কথা পড়েছিলাম ভারতীয় দুতাবাসের এক কুটনীতিকের একটা স্মৃতিচারণে। তিনি তখন ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। সিআইএ বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে নিজেদের লোক নিয়োজিত করেছিল বলে তিনি কিছু সুনির্দ্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করেছেন তার বইতে। ভদ্রলোকের তৎপরতা পছন্দ না হওয়াতে এক কাপড়ে বহিষ্কার করেছিল পনেরই আগষ্ট পরবর্তী সামরিক সরকার।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

নৈষাদ এর ছবি

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। আপনার মন্তব্যের পর সেই ভারতীয় কূটনীতিককে অনেক খোঁজলাম, এখনও পাইনি, তবে পাব নিশ্চয়ই।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।