আমি কেন আমার দেশকে ভালোবাসব

তাপস শর্মা এর ছবি
লিখেছেন তাপস শর্মা [অতিথি] (তারিখ: শুক্র, ১৬/১২/২০১১ - ১০:২৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমার দেশ স্বাধীন। আমি স্বাধীন। এবং আমার দেশের স্বাধীনতা। আমার আজ আর অহংকার হয়না। আমি আমার দেশকে কেন মন থেকে ভালবাসতে পারছিনা। কেন আজ বারবার বাক্যহারা হয়ে যাচ্ছি। কোনটা আমার স্বাধীন দেশ? যে দেশ তিনটি টুকরোতে খণ্ডিত হয়ে গড়েছে তাদের সোপান – সেই কোন দেশ? রোজ একজনকে আঘাত করাটাই আমার দেশের রাষ্ট্রধর্ম। পলাশীর সাথে আর তার কোন পার্থক্য দেখতে পাইনা। প্রতিরাতে সীমান্তে রক্তঝরা সেই দেশকে আমি কেন ভালোবাসব।

শুধু এইদেশে জন্মেছি বলেই আমার দেশকে আমার ভালবাসতে হবে? আর যাবতীয় অত্যাচার চলবে আমার বুকের উপর দিয়ে। প্রতিবাদ করলেই আমার মুখ দিয়ে রক্ত ঝড়বে। এই দেশের যাবতীয় কেচ্ছাকে বুকে জড়িয়ে লাথি খেতে খেতে বলতে হবে – আমি আমার দেশকে ঘৃণা করিনা। আর তা না বলতে পারলেই আমি হয়ে যাবো দেশদ্রোহী। লক্ষ প্রাণের চিৎকারে মিশে যায় আমার কান্নার শব্দ। আর তাতেই শেষ হয়ে যায় বাঁচার স্বপ্ন। যা কেড়ে নেয় আমার দেশ। সেই দেশকে আমি কেন ভালোবাসব।

জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে গেয়ে চলবে অত্যাচারের সোপান। কুৎসিত কিছু মানুষেরা মিলে উন্মত্ত হয় কিভাবে আমি তা দেখেছি। দেশ খেলায় জিতেছে আর তাই জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে বোতল নৃত্য চলে পতাকা গায়ে জড়িয়ে। আর আমি তাদের সঙ্গ দিতে পারিনা বলে দেশ আমাকে বলে – আমি দেশের গর্বে গর্বিত নই, এটাও দেশদ্রোহ। এই দেশকে আমি কেন ভালোবাসব।

আমি গণতন্ত্রের ধ্বজা কাঁধে বয়ে বেড়াই। দেশের অসীম ক্ষমতার বুলি আউরাই। কিন্তু সেই গণতন্ত্রকেই অনেকে মিলে করছে ‘গণধর্ষণ’। আর আমি সব পেয়েছির দেশে বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলছি। কোলবালিশ বুকে চেপে কষ্টকে চেপে যাচ্ছি। আর রাষ্ট্রদন্ড তার প্রকান্ড শক্তি নিয়ে সেই চাপা নিশ্বাসকেও কেড়ে নিতে চাইছে। আমি বিচারের আশায় থাকি। কিন্তু যারা বিচার করবে ওরাই তো ধর্ষক। আর আমার দেশ তাদেরই সেবাদাস। এরপর কেন আমি আমার দেশকে ভালোবাসব।

সময় ধরা আছে কালের গহ্বরে। আমারা যে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি তা চূড়ান্ত অস্থির। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে বাড়ছে দ্রব্যমূল্য। কিন্তু গড়পড়তা মানুষের আয়ের হার কতটা বাড়ছে। আমি বলছি তাদের কথা যারা প্রোফেশানালি আন-স্কিল্ড। যারা আমার মতো সাধারণ। যাদের হাতে পর্যাপ্ত ডিগ্রী নেই। তাদের অবস্থা শোচনীয়। চাকরির ক্ষেত্রে সেকেন্ডারি সোর্স গুলি কিন্তু স্কিল্ড প্রফেশনালদের অগ্রাধিকার দেয়। এইবার কি হয় এই তৃতীয় বিশ্বের তৃতীয় শ্রেণীর লোকদের কর্ম সংস্থান হয় কোনো বেনামী ঘিঞ্জি কারখানায় কিংবা কোনো পাব্লিক মাল্টিন্যাশন্যাল সেক্টারে। এরপর শুরু হয় রগড়ানোর পালা। মিনিমাম ১০টা থেকে ৫টা টাইম সিকোয়েন্সটা অনেকটা এইরকম থাকে। এই সময়ের পর চাকরি থেকে ফিরে গিয়ে আর কি কিছু করার মত অবস্থায় থাকে কোনো লোক কিংবা কর্মচারী। বিষয়টা হচ্ছে এই অবস্থা থেকে কেন প্রশ্ন করা? প্রশ্নটা এই কারনেই, এই যে দিনের বেশির ভাগ সময় একজন চাকুরিজীবি লেবারের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়, তার বদলে কিন্তু তাকে তার প্রাপ্যটুকু দেওয়া হয়না। আজকের দিনে মোটামোটি ভাবে বাঁচার জন্য যে টাকাটুকুর প্রয়োজন হয় তাই পায়না একজন আন-স্কিল্ড কর্মচারী। অথচ তার কর্মক্ষেত্রের বেশির ভাগ সময়টাই তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তার ফলশ্রুতিতে বাড়ছে হতাশা, আত্মহত্যা, জীবনের নগ্নতা, উৎকট আস্ফালন।এবং এরাই হচ্ছে আমার দেশের বেশীরভাগ মানুষ। যাদের মাথার সংখ্যাই বাড়িয়েছে দেশের জনসংখ্যা। যাদের মূল শ্রমেই দেশ চলে। রাষ্ট্র এভাবেই সব অধিকারকে খর্ব করে অধিকারের কথা বলে। এরপরও আমি আমার দেশকে কেন ভালোবাসব।

যে যার মতো করে বাঁচতে চাইছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে সামাজিক ভিত ও ভিত্তি। আর কাজের কথা বলছিলাম। এখানে কাজকে কতটা হেলাফেলা করা হচ্ছে। একজন আধা শিক্ষিত যুবক যে কাজটা অনায়াসেই করে ফেলছে একজন উচ্চ শিক্ষিত ছেলে সে কাজ করতে পারছে না। না করে নষ্ট করছে নিজের মুল্যবান সময়, ঘুরছে এদিক ওদিক- শুন্যতা হাতে নিয়ে। আর সে যদি কোনো মুদির দোকানে কাজ করতেও যায়, আমি হলফ করে বলে দিচ্ছি – আমি, আর আপনি আমারা সবাই মিলে তাকে এমন টাইট দিয়ে দেই যে সে পালিয়ে কূলকিনারা পায় না। নষ্ট যুবকের জীবন , নষ্ট তার হতাশ যাযাবর তাল পাতার ব্যর্থ ললাট লিখন এর এই দেশকে আমি কেন ভালোবাসব।

ফসল ঘরে তুলতে পারেনা কৃষক। তাদের সীমাহীন আত্মচিৎকার মিশে থাকে ফসলের রঙে। সেই ফসল গোদামে পচে আর গলায় দড়ি দেয় চাষি। সেই কান্নার রঙে কিংবা ফসলের রেণু বুকে মেখে আমি কাঁদতে পারিনা। রাষ্ট্র আমাকে পাগল বলে। এরপরও আমি কেন আমার দেশকে ভালোবাসব।

প্রাণ খুলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। যারা সব দিয়ে দিয়েছিল তাঁর মাটিকে। তাঁদের জন্য কি করেছে তাঁর মাটি তাঁর দেশ। শহিদের কাফনের কাপড় নিয়ে পর্যন্ত দুর্নীতি করে তাঁর দেশ। তারপর তাঁর স্বপ্নের মাটিকে একটু একটু করে বিকিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রতারকের হাতে। এই সেই প্রতারণার দেশ। ধর্ম নিয়ে চলে ‘খেঙরার নোংরামি’, ‘বর্ণমালা’ আজ লজ্জায় মুখ ঢাকে। তাঁকে লজ্জা ঢাকার মতো একফালি কাপড় আমার দেশ দিতে পারেনি। সেই দেশকে আমি কেন ভালোবাসব।

আমার মুল্যবোধ বারবার আঘাত খায়। না। আশেপাশে নজর ফেরালেই দেখা যায় কোরাপশনের খতিয়ান। উদাহারণ দিলে শতশত দেওয়া যায়। একটা জিনিষ বারবার আমার মুল্যবোধকে ধাক্কা দেয় তা হল একজন শিক্ষকের আচরণ। ছেলেবেলায় সেই রচনা পড়তে গিয়েই পড়েছিলাম শিক্ষকরা হলেন সমাজ গড়ার মূল কারিগর। আর তা আমাকে শিখিয়েছিলেন আমার মাস্টার মশাই। এখন এরা বিনাশকও বটে। আজ থেকে দেড়’দুই দশক আগেও যা হত না এখন তা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। মাস্টার মশাই ছাত্রদের প্রাইভেট টিউশন দিচ্ছেন। আর পরীক্ষার আগে একগাদা টাকা খেয়ে প্রশ্নপত্র বাতলে দিচ্ছেন। এটাই তার বাড়তি উপার্জনের পথ এবং রাস্তা। ছিঃ। খবর নিয়ে দেখা গেলো স্যারকে তার বোনের বিয়ে দিতে হবে, স্যারকে তার বাবার হার্নিয়ার অপারেশন করাতে হবে, স্যারকে ভাইয়ের জন্য পড়াশুনার খরচ বাবদ টাকা পাঠাতে হবে, স্যারকে বাবার পাওনা মিটিয়ে দিতে হবে......... কিংবা স্যার লোভী! এরপর কি করা সম্ভব? আমার দেশ গোড়ার শেকড়কেই কাটার বন্দোবস্থ করে দিয়েছে। এর পর আমি আমার দেশকে কেন ভালোবাসব।

কেউ বিচারের আশা করতে পারেনা। যাদের আছে তারাই আরও পায়। আর বাকিরা নিঃস্ব থেকে আরও শূন্যের দিকে যেতে থাকে। আমার দেশ সেই বিচার দিতে পারেনা। জনগণের সাম্রাজ্যে সাধারণ জনগণই সর্বহারা। আর সেই সব মানুষ গুলির ঘরে শিশুর মুখে দুমুঠো খাবার জুটেনা। বুকের শিরায় রক্তের সিঞ্চন হয়। কান্নার প্রতিটি স্পন্দনে একাকার করে দেওয়া এই খুনি দেশকে আমি কেন ভালোবাসব।

আমার দেশ আমার মায়ের কন্ঠরুদ্ধ করে হত্যা করা সেই হত্যাকারীকে এখনও আশ্রয় দেয়। সেই দেশ তাদের প্রশ্রয় দেয়। আর ওরাই তো সর্বত্র বুক ফুলিয়ে চিৎকার করে। যারা ব্ল্যাক এখন ওরা সাদা কাপড় চড়িয়ে সাদা হয়ে যাচ্ছে। আর প্রতিবাদ করলে কালোর তকমা জুটছে আমার কপালে। অসভ্যের প্রশ্রয়ে থাকা সেই দেশকে আমি কেন ভালোবাসব।

অনাবৃত অন্ধকারে আলোর টুকরো রেখা হারিয়ে যায়। স্বাধীনতা পেয়ে আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম। কোটি কোটি প্রাণ একসাথে গেঁথেছিল স্বপ্ন। আর সেই রাজমিস্ত্রিরা মিলে গড়তে শুরু করেছিল স্বপ্নের বাড়ি। কিন্তু বাড়ি গড়ার পর সেই রাজমিস্ত্রি শ্রমিককেই তাড়িয়ে দেওয়া হল। সে থাকতে পারেনা তাঁর গড়া বাড়িতে। যেখানে মিশে আছে তার শ্রম। সে থাকতে পারেনা তার দেশে। জুটে গেলো বিদেশীর তকমা। সে এক দুয়ার থেকে অন্য দুয়ারে ঠোকর খায় বারবার। আমিও সেই রাজমিস্ত্রিদের একজন। ইটের পর ইট গেঁথে ঘাম দিয়ে গড়েছিলাম স্বপ্নের বাড়ি। কিন্তু থাকতে পারিনি। নিজের গড়া বাড়িতে আজ আমি বিদেশি। দেশ আমাকে বুকে টেনে নেয়নি। আমার দেশ তাদের বুকে টেনে নিয়েছে যারা আরাম কেদারায় বসে শুধু তোষামোদি করে গেছে। আর এখন সেই বাড়িতে আর কিছুই নাই। শুধু হায়নার বাস। ওরাই লুটে নিচ্ছে সব। আজ তাই একটা যুবক মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে আর জাতীয় সঙ্গীত গায়না। কেন গাইবে ? কোন গলায় গাইবে ? গলাটাই শুকিয়ে গেছে। বুকে ছারখার হয়ে গেছে সব স্বপ্ন। মা আজ আর তাই সেই ছেলেকে দেখে বুকে জড়িয়ে নিতে পারেনা। বন্ধ্যা এই দেশকে আমি কেন ভালোবাসব।

আর তাই স্বাধীনতার কাছে আমার প্রশ্ন –

স্বাধীনতা তুমি কার
তুমি কি একটা বিশ্বাস
নাকি শুধুই ইতিহাস।

স্বাধীনতা তুমি কার
ক্ষুধার্ত মানুষের চিৎকার
কাতর নিঃসঙ্গদের হাহাকার।

স্বাধীনতা তুমি কার
স্মৃতিপটের নিঃশব্দ চেতনা
নাকি স্বপ্নে দেখা বেদনা।

স্বাধীনতা তুমি কার
সন্ত্রাসীদের ঘরের ফুল
নাকি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের গুরুকুল।

স্বাধীনতা তুমি কার
শুধুই রক্তের বন্যা
নাকি বুলেটের বেশে এক অনন্যা।

স্বাধীনতা তুমি কার
ফুটপাতের ঐ বস্তির ক্ষীণ দ্বীপ
নাকি প্রাসাদের আলোকময় প্রদীপ।

স্বাধীনতা তুমি কার
কলকারখানার বর্জ্য পদার্থ
নাকি রক্ত দিয়ে আদায় করা অর্থ।

স্বাধীনতা তুমি কার
শ্রমিকের রক্তস্নাত জরাজীর্ণ বুক
প্রতিপদে সকল হারানো সুখ।

স্বাধীনতা তুমি কার
কৃষকের গর্বের রক্তমাখা লাঙল
মাটির বুক চিরে ফলানো ফসল।

স্বাধীনতা তুমি কার
বই এ আটকে থাকা একটি শব্দ
বোবা কালো আর নিঃস্তব্ধ।

স্বাধীনতা তুমি কার
শুধুই নেতা মন্ত্রীর ভাষণ
মিছিল ধর্মঘট অনশন।

স্বাধীনতা তুমি কার
মন্দির মসজিদ নিয়ে হানাহানি
ধর্মের নামে অধর্মের কাহিনী
নাকি জীবন নিয়ে রক্ত সমুদ্রের জয়ধ্বনি।

জীবন জোয়ারে ভেসে যাওয়া সব কান্নার রঙ একাকার করে আমি কি করে হাসব
রক্তের ললাটে মিশে থাকা এই অস্থির চিৎকারের শব্দে আমি কেন দেশকে ভালোবাসব।

==========================================================
আমার শহর
ডিসেম্বর ১৬। ২০১১


মন্তব্য

সচল জাহিদ এর ছবি

ওয়েলকাম ব্যাক তাপস দা ...


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

তাপস শর্মা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ জাহিদ ভাই

উচ্ছলা এর ছবি

আমার দেশ আমার মায়ের কন্ঠরুদ্ধ করে হত্যা করা সেই হত্যাকারীকে এখনও আশ্রয় দেয়।

তাপস শর্মা এর ছবি

হুম। এটাই সবচেয়ে কষ্ট দেয়

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

দেশ, জাতি, সরকার, সরকারী দল, রাষ্ট্র এইগুলারে মিলায়া দেখলে চলবে কি? আমরা অনেক সময়ই দেখি যদিও।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

তাপস শর্মা এর ছবি

কেন দেখব না ? আমরা এবং এই জিনিষ পরস্পর সম্পৃক্ত নই কী ? দেশ যদি আমাদের হয়ে থাকে তাহলে তার ভেতরের সমস্ত পরিকাঠামো গুলিও তো অভিন্ন হতে পারেনা।

তারেক অণু এর ছবি

স্বাগতম

তাপস শর্মা এর ছবি

ধন্যবাদ অনু।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

মন খারাপ হয়ে গেল কেন যেন মন খারাপ

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

তাপস শর্মা এর ছবি

মন খারাপের গদ্য। মন খারাপ

সমীরণ রায়, কোলকাতা এর ছবি

বা: জোরালো, স্পষ্ট, প্রতিবাদী গুছানো ভাষায়, তাপস তোমার এ সত্যকথন খুব ভালো লাগলো।।

তাপস শর্মা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ সমীরণ দা

তাপস শর্মা এর ছবি

তবুও সে আমরই দেশ।

- যে দেশ আমাদের দ্বেষ দেয়, যে দেশ আমাদের পঙ্গু করে দেয়, যে দেশ বদলাতে চায়না, যে দেশ আমাদের শ্রমের মূল্য দিতে জানেনা, যে দেশ আমাদের ভালোবাসার কদর করেনা, যে দেশ পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে নিজেই বদলে যায়, যে দেশ আমাদের ক্ষত স্থানে আরও ক্ষত এঁকে দেয়- সেই দেশ। আমার দেশ, আপনার দেশ, আমাদের দেশ। দেশকে তাই স্যালুট।

আপনাকেও ধন্যবাদ প্রৌঢ় ভাবনা।

সমীরণ রায়, কোলকাতা এর ছবি

বা: তাপস, জোরালো ভাষায় ও স্পষ্ট প্রতিবাদী সুরে তোমার এ প্রকাশ-দুর্লভ বক্তব্যে আমি মুগ্ধ হলাম।। খুব ভালো লাগলো।।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

তবুও সে আমরই দেশ।
ধন্যবাদ, লেখাটি ভাল লেগেছে।

আশরাফুল কবীর এর ছবি

# স্বাধীনতা তুমি কার?

হে, হে, শুধোয় স্বাধীনতা, ওরে মুখপোড়া বুঝিসনে তুই!
আমি স্বাধীনতা, উগ্র ক্ষমতা যখন যার, আমি শুধুই তার।

# পুরো লেখাটি ভাল লাগল বিশেষভাবে আক্ষেপের কবিতাটি। ভাল থাকুন ভাইয়া, সবসময় বাঘের বাচ্চা

তাপস শর্মা এর ছবি

স্বাধীনতা যে সত্যিই কার এই প্রশ্নের জবাবই তো বারবার হাতড়ে বেরাই।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আশরাফুল কবীর। আপনিও ভালো থাকুন হাসি

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

তাপস দা,
আপনার লেখাটি অনেক ভাবালো আমাকে। এই মুহূর্তে কিছু মন্তব্য করছি না, শুধু এটুকু বলি লেখাটি আরও অনেকবার পড়বো।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

তাপস শর্মা এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ রোমেল ভাই। আপনার লেখা পাইনা অনেকদিন বিশেষ করে কবিতা...

তানিম এহসান এর ছবি

আমি আমার দেশকে ভালোবাসবো কারণ দেশ আমার মা - কারণ আমার মা’কে ভালোবাসতে না পারলে আমি আমাকে ভালোবাসতে পারিনা, পারিনা কাউকে ভালোবাসতে। আমার মায়ের যত সমস্যাই আজ থাকুকনা কেন ”আমার মা আমার মা আর আমি তার জলপুত্র”!!

তাপস শর্মা এর ছবি

আপনার আবেগকে কুর্ণিশ করি শ্রদ্ধাও করি...

কিন্তু এই মায়ের মনভোলা দেশ কি আজ অক্ষত ? তার সারা গায়েই তো এখন ক্ষতের চিহ্ন ...!! এখন সেই বিচারের দিন বোধ হয় এসেছে ...

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।