| ‹ পুরোনো ব্লগ | সব ব্লগ | নতুন ব্লগ › |
ব্যস্ত রাস্তার মাঝ দিয়ে ছুটে চলেছে রিকশা। মাথার উপরে সূর্য খাড়া। চোখ তুলে তাকিয়ে থাকা যায় না। নিচু হয়ে আসে মাথা। ক্লান্ত ছায়াটি উঠছে। নামছে। নামছে। উঠছে।
হু হু বাতাস হঠাৎ এসে ছুয়েঁ যায়। রাস্তার দুই পাশে গড়ে ওঠা এলোমেলো দালানগুলোর মাঝে পলকের জন্য হারিয়ে গেল ছায়াটি। খুঁজতে থাকি। গতি খানিকটা শ্লথ হয়ে আসে। রাস্তার ওপর গতিরোধকটিতে উঠে আচমকা আমার সম্বিত ফিরে আসে।
আবাসিক সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বিলাশবহুল দো'তলা বাসাটির দরজার পাশে চাপচাপ হলুদ পাপিয়ায় ছেয়ে গেছে গাছটি। মনে পড়ে ছোটবেলায় কতই না আঙ্গুলে এ ফুল পড়েছি। গতি বেড়ে ওঠে আচমকা। চোখে পড়ে সামনের ঘর্মাক্ত, কালো চামড়ার মানুষটা। চিকচিক কালো শরীরটা উঠছে। নামছে। নামছে। উঠছে। সাহস করে ভালো করে তাকিয়ে দেখি লোকটাকে। ঠিক যেন খেটে খাওয়া শরীর নয়। খানিকটা বয়সের ভারে, খানিকটা অনভ্যাসের কারণে যেন রিকশার গতিও শ্লথ। রিকশা যেন রাস্তা তেড়েফুড়ে যেতে চায়না। তবে কি আমার আন্দাজ সত্যি? অজানা আশঙ্কায়, দ্বিধায় মাথা নিচু হয়ে আসতে চায় আবার। যেমনটি বয়জ্যেষ্ঠ দারোয়ানের লম্বা স্যালুটের উত্তর দেবার ভনিতায় মাথা নুয়ে আসতে চায়।
মনে মনে জপি- আশংকা যেন মিথ্যে হয়! হা ধরণী দ্বিধা হও- কেউ কি আমাকে 'মামনি' বলে উঠল? চোখে তাড়াতাড়ি রোদ চশমাটি নামিয়ে ফেলি। একবার তাকাই তার দিকে। হাস্যোজ্জ্বল মুখে টাকাটি নিয়ে বাড়িয়ে দেয় একটি কাগজের টুকরা। গোটা গোটা শব্দে লেখা "স্টার অবজেকটিব গাইড"। আরেকটি বইয়ের নাম চিনতে পারি না। হাঁফ ছাড়ি। যাক! আমার ধারণাটিই সত্যি হল। এমনটাই তো হয়।ভালোমানুষের বশে টাকা হাতানো।
বাড়িয়ে দেই ১০০ টাকার একমাত্র নোটখানা। টাকার ব্যাগ হাঁ তাকিয়ে থাকে। বুড়োর মুখ দেখি রোদ চশমার মাঝে। ঝিলিক একটুও কমে না তাতে। রাস্তা পাড় হয়ে আড়ালে বুড়োকে খুঁজি। এদিকে তাকিয়ে আছে। চশমা খুলতে পারি না আমি। পাছে লোকে কিছু দেখে ফেলে। আর কিছু ভাবতে চাইনা। হন হন পা চালাই।
২
ভালো হচ্ছে। চলুক সিরিজ।
আমি বুড়ো মানুষ।
এক প্যারায় এতো কথা আমার মাথায় ধরে না। তাই এইসব বুড়োদের কথা ভেবে প্যারাগুলো ছোট করা যায় না আরেকটু?
আমি ও আমার স্বপ্নেরা লুকোচুরি খেলি
৩
..স্যরি। আমার ভুল। শোধরানো হচ্ছে।
.if I could wake up at a different place, at a different time, could I wake up as a different person?.
১
চমৎকার গদ্য। চলুক সিরিজ।