গণমাধ্যমে ১৫ই আগস্টঃ ১৯৭৬ - ১৯৯৬

ইয়ামেন এর ছবি
লিখেছেন ইয়ামেন [অতিথি] (তারিখ: রবি, ১৪/০৮/২০১৬ - ১২:১৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার বিষয়টি তৎকালীন গণমাধ্যমে কিভাবে এসেছিল তা নিয়ে সচল ওমর শেহাব ভাই এবং আমার দুটি লেখা ইতিপূর্বে সচলায়তনে এসেছে (শেহাব ভাইয়েরটা এখানে, আমারটা এখানে)। এবারের লেখাটাও ১৫ই আগস্ট এবং গণমাধ্যম সংক্রান্ত। তবে এবার লক্ষ্য হলো সময়ের সাথে ১৫ই আগস্ট নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনগুলো কিভাবে বদলেছে সেটা তুলে ধরা।

এই লেখার জন্য ১৯৭৬-১৯৯৬ (জিয়াউর রহমানের স্বৈরশাসন থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা পর্যন্ত), এই দুই দশক বেছে নেয়া হয়েছে। সেই সাথে তিনটি নির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করা হয়েছেঃ ১) জিয়া সরকার (১৯৭৬-১৯৮০), ২) এরশাদ সরকার (১৯৮১-১৯৯০), এবং ৩) খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার/শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের শুরু (১৯৯১-১৯৯৬)। এখানে সময়রেখা সহজ রাখার খাতিরে রাষ্ট্রপতি সায়েম এবং রাষ্ট্রপতি সাত্তারের শাসনকাল যথাক্রমে জিয়া এবং এরশার সরকারের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতি বছরের জন্য একটি বাংলা (দৈনিক ইত্তেফাক অথবা দৈনিক বাংলা) এবং একটি ইংরেজি (Bangladesh Observer অথবা Bangladesh Times) খবরের কাগজের স্ক্রিনশট দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, কয়েকটি বাদ পড়েছে হাতে না থাকার কারনে। উভয় দৈনিকের প্রথম পাতার হাই রেজল্যুশন স্ক্রিনশট দেয়া হলো।

নিজস্ব মতামত/বিশ্লেষণ এবং চোখে পড়া কিছু উল্লেখযোগ্য জিনিস পয়েন্ট আকারে তুলে ধরলামঃ

১) বঙ্গবন্ধু সপরিবারে হত্যার পর প্রথম বছরে (১৯৭৬) ১৫ই আগস্টের বিষয়টা একেবারেই গণমাধ্যমে আসে নাই। শুধু ইত্তেফাকে ‘ঘরোয়া রাজনৈতিক তৎপরতা’ এবং Bangladesh Observer এ ‘Parlour Politics’ শিরোনামের খবরে আমরা দেখতে পাই তৎকালীন আওয়ামী লীগ কমিটির আহবাহক মিজানুর রহমান চৌধুরীর বাসায় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেই সভা কি সংক্রান্ত তা খবরে আসেনি, কিন্তু সেখানে আলোচনার বিষয়বস্তু যে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীই ছিল সেটা আমরা ধারনা করে নিতে পারি।

২) ১৯৭৭-১৯৭৮ এই দুই বছর ইন্টারেস্টিং। এই দুই বছরের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখতে পাই স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান ১৫ই আগস্টের ঠিক আগেই দেশবাসীকে ’রাষ্ট্র এবং গণবিরোধীদের চিহ্নিত করার’ এবং ‘বিদেশী মতবাদের প্রভাব রাজনীতি থেকে দূর করার’ আহ্বান জানান। টাইমিংটা নিঃসন্দেহে চোখে পড়ার মত বৈকি! একই সাথে ১৯৭৭ সালে দেখতে পাই ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল’ নামক সংগঠন জিয়ার তাদের কাউন্সিলের প্রতীক দেয়ার সাথে সাথে ১৫ই আগস্টকে ‘সম্প্রসারণবাদী আধিপত্যের নিয়ন্ত্রন হইতে মুক্তিলাভ এবং ভারতের তাঁবেদার স্বৈরাচারী সরকারের উৎখাত’ দিবস হিসেবে আখ্যা দিয়ে ঘোষণাপত্র পেশ করে। ১৯৭৭ সাল থেকে তাহলে শুধু ১৫ই আগস্টের নির্মমতা ধামাচাপা দেয়া নয়, হালালিকরন করার প্রক্রিয়াও যে ভালোমত শুরু হয়ে গিয়েছিল সেটার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

৩) ১৯৭৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগ এবং তৎকালীন ‘বাকশাল’ এর বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করার তৎপরতার প্রতিবেদন ছোট আকারে হলেও আসতে শুরু করতে চোখে পড়ে। ১৯৮০ সালে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ এবং ন্যাপের এক জোটের এক সাথে প্রভাত ফেরী, কাঙ্গালি ভোজ, শোক মিছিল, ইত্যাদি দিয়ে দিনটি পালন করার কথাও প্রতিবেদনে এসেছে।

8 ) ১৯৮১ সালের প্রতিবেদনগুলো উল্লেখযোগ্য। এই বছর প্রথম গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী শিরোনাম আকারে আসতে চোখে পড়ে। ইত্তেফাকে ’আজ বঙ্গবন্ধুর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী’ এবং Observer ’AL’s national mourning day’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপা হয়। Observer এই প্রতিবেদন আরও বেশী উল্লেখযোগ্য কারন, গণমাধ্যমে ১৫ই আগস্টকে ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে সম্বোধন করতে আমার এই প্রথম চোখে পড়েছে। এখানে বলে রাখা ভালো, স্বৈরশাসক জিয়া হত্যার পর এটাই ছিল প্রথম ১৫ই আগস্ট। সেই সাথে, এই বছরের ১৭ই মে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে বাংলাদেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন (যদিও লীগের কিছু অংশ তখনও মূল দলের বাইরে ছিল)। গণমাধ্যমের ১৫ই আগস্ট নিয়ে প্রতিবেদন করার ভঙ্গিমার মধ্যে যেই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে ১৯৮১ সালে, তার সাথে জিয়া হত্যা/শেখ হাসিনার দেশে ফেরার টাইমিং নিছক কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেয়ার অবকাশ আছে বলে আমার মনে হয় না। এই দুই ঘটনার আলোকে গণমাধ্যম যে ১৫ই আগস্ট নিয়ে ঠিকভাবে প্রতিবেদন করার সৎসাহস পাওয়া শুরু করেছে সেটা বোধহয় স্পষ্ট।

৫) এরশাদ আমল থেকে অন্তত বাংলা খবরের কাগজে (ইত্তেফাকে বিশেষ করে) ১৫ই আগস্ট নিয়ে প্রতিবেদন এবং দেশের বিছিন্ন স্থানে কিভাবে পালন করা হচ্ছে সেসব নিয়ে প্রতিবেদনের গভীরতা ক্রমেই বাড়তে দেখা যায়। ১৯৮৩ সালে সর্বপ্রথম ইত্তেফাক বঙ্গবন্ধুর ছবি সমেত ১৫ই আগস্টের প্রতিবেদন করে। এর পর থেকে প্রতি বছরেই বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করেছে ইত্তেফাক। দুঃখের কথা এই যে ইংরেজি খবরের কাগজগুলো এই দিক থেকে পিছিয়ে ছিল। বঙ্গবন্ধুর ছবি Observer প্রথম ব্যবহার করে ১৯৯১ সালে, এরশাদের পতনের পর।

৬) ১৯৮৪ সালে ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় ’বাংলাদেশের জনগণই একদিন বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করবেঃ শেখ হাসিনা’ শিরোনামে একটা খবর আসে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাওয়া নিয়ে কোন প্রতিবেদন সম্ভবত এটাই প্রথম, তাও আবার একেবারে প্রথম পাতার উপরের সারিতে। এই সময় থেকে ১৫ই আগস্টের নিন্দা করে, বিচার চেয়ে খবরগুলো যেভাবে ক্রমশ কিছু গণমাধ্যমে বাড়ছে, সেই সাথে এই দিনকে উৎসবমুখরভাবে উদযাপন করছিল, বক্তব্য রেখে আসছিল, সেসব দলগুলোর (ন্যাশনাল ফ্রন্ট, জাগপা, ডেমক্র্যাটিক লীগ, ফ্রীডম পার্টি প্রমুখ) গুরুত্ব কমে আসছে। এই ইতিবাচক প্রবণতা এরশাদ আমলের বাকি বছরগুলোতেও মোটামুটি অব্যাহত ছিল।

৭) এরশাদ পতনের পর এবং খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকারের আমলের প্রথম ১৫ই আগস্ট ছিল ১৯৯১ সালে। এই বছরে চোখে পড়ার মত জিনিস হলো ‘১৫ই আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন’, প্রথমবারের মত এই মিথ্যাচার গণমাধ্যমে বড় আকারে আসা। ’আজ খালেদা জিয়ার জন্মদিন’ শিরোনামে দৈনিক বাংলা কাগজে বিস্তারিত প্রতিবেদন আসে। খালেদা জিয়ার ১৫ই আগস্টে ভুয়া জন্মদিন পালন করার মত নির্লজ্জ বিষয় নিয়ে এখানে শুধু এতটুকুই বলবো, তিনি প্রধানমন্ত্রী হবার আগে এই দিনে তার জন্মদিন তা গণমাধ্যমে একেবারেই আসে নাই। এমনকি জিয়াউর রহমানের শাসনামলের খবরের কাগজগুলোতে কোন ভিতরের পাতাতেও এ নিয়ে কোন প্রতিবেদন আমার চোখে পড়েনি। তাহলে কি ১৯৯১ সাল থেকেই এই মিথ্যাচারের উৎপত্তি? দৈনিক বাংলার এই প্রতিবেদন নিয়ে পরে সময় পেলে আরেকটা বিস্তারিত ব্লগ লেখার ইচ্ছা আমার আছে, দেখা যাক।

৮) ১৯৯২ সাল ১৫ই আগস্টে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের হত্যাকারীদের ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করার দাবীতে হরতাল আহবান এবং পালন করা শুরু করে। ১৯৯৬ সালে নির্বাচন জিতে ক্ষমতায় আসা পর্যন্ত বিএনপি শাসনামলের প্রতি বছরই এই দাবীতে হরতাল পালন করা হয়।

৯) ১৯৯৬ সালে ছিল শেখ হাসিনার নবনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের প্রথম ১৫ই আগস্ট। গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসের নিকৃষ্টতম কালো অধ্যায় সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোর বিবর্তনের চূড়ান্ত ফল আমরা এখানে এসে দেখতে পাই। জিয়ার আমল, এমনকি এরশাদ বা বিএনপি শাসনামলের সাথে তুলনা করলেও আসলেই বুঝা যায় কতটা পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল সেই দুই শতকে। এক ইত্তেফাকের প্রথম পাতাতেই ‘আজ জাতীয় শোক দিবস’, ‘১৫ই আগস্টের কালোরাত-‘, ‘জাতীয় শোক দিবসের দ্বিতীয় দিনে টুঙ্গিপাড়ায়-‘, ‘ইত্তেফাকের সহিত বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীঃ জাতির জনকের স্বপ্নসাধ পূরণের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে আমি প্রস্তুত’, ‘জাতীয় শোক দিবসের’ কর্মসূচী’, ‘প্রধানমন্ত্রীর বাণী’ এবং ‘বিশ্ব নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা নিবেদন’ শিরোনামে প্রতিবেদন আসে। সেই সাথে অগ্রণী এবং সোনালী ব্যাংকের বিশাল আকারে শোক বার্তা জানিয়ে বিজ্ঞাপনও আসে প্রথম পাতায়। Observer এর প্রথম পাতায় ‘Hasina’s message: Realise dreams of Bangabandhu’, ‘National Mourning Day Today’, ‘World leaders pay tribute to Mujib’, এবং ‘Abu Sayeed Says: BNP should help repeal Idemnity Act to prove Zia’s innocence’ শিরোনামে প্রতিবেদন দেখা যায়। তবে মজার ব্যাপার, তখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকা আব্দুর রহমান বিশ্বাস (যাকে বিগত বিএনপি সরকার আমলে নিয়োগ করা হয়) কিন্তু জাতীয় শোক দিবস নিয়ে কোন বাণী দেয়া থেকে বিরত থাকেন। সে খবরও গণমাধ্যমে এসেছে। অবশ্য আব্দুর রহমান বিশ্বাসের মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে এবং চলাকালীন সময়ের স্বাধীনতাবিরোধী কার্যকলাপের কথা স্মরণ করলে এতে অবাক হবার মত কিছু থাকে না!

১৯৭৬-১৯৯৬ সুদীর্ঘ বিশ বছর দেশের সর্বস্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে আধচিমটি হুয়াইটওয়াশ এবং এক মুঠ ‘সময়ের প্রয়োজনের’ আজুহাত দিয়ে হালাল করার ষড়যন্ত্র অব্যহত ছিল। বাংলাদেশের গণমাধ্যমও সেই ষড়যন্ত্র থেকে অবিচ্ছেদ্য ছিল না, সেটা সে সময়ের খবরের কাগজগুলোর ঘাটলেই দেখা যায়। তবে কালক্রমে ১৫ই আগস্ট নিয়ে জাতিগতভাবে মানুষের মানসিকতার বিবর্তন ঘটেছে, দেরীতে হলেও সত্য চাপা থাকেনি। সেই বিবর্তনের প্রতিফলনও গণমাধ্যমে প্রচ্ছন্ন। তার নিদর্শন হিসেবে থাকুক স্ক্রিনশটগুলো।

১) জিয়া সরকার (১৯৭৬-১৯৮০)

২) এরশাদ সরকার (১৯৮১-১৯৯০)

৩) খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার/শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের শুরু (১৯৯১-১৯৯৬)

খবরের কাগজের আর্কাইভের জন্য কৃতজ্ঞতায়ঃ ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (ICSF), সেন্টার ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড রিসার্চ (CBGR), ওমর শেহাব।


মন্তব্য

শেহাব এর ছবি

খুব দরকারী কাজ।

ইয়ামেন এর ছবি

ধন্যবাদ শেহাব ভাই। এই সোর্স জোগাড় করে দেয়ার জন্য আপনার এবং সিবিজিআর এর কাছে সবসময় ঋণী থাকবো। হাসি

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

সব বেদনা মুছে যাক স্থিরতায়
হৃদয় ভরে যাক অস্তিত্বের আনন্দে...

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

দারুণ কাজ। আপনাকে এবং শেহাব ভাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ! বিষয়টি আরও পূর্ণতা পেত, যদি আপনি "দৈনিক সংবাদ" ও আপনার পর্যবেক্ষণের আওতায় নিয়ে আসতেন। যদি এখানেই "দৈনিক সংবাদ" এর কাটিংগুলো দিতে পারেন, তাহলে ভাল হয়।

আপনার বক্সে একটি মেসেজ পাঠিয়েছি, দয়া করে দেখবেন।

ইয়ামেন এর ছবি

পড়ার জন্য ধন্যবাদ ভাই| সংবাদের কাটিং আমার কাছে যে আর্কাইভ আছে তাতে ছিল না, নাহলে সেটাও ঘেটে দেখতাম| আমার কাছে ইত্তেফাক, বাংলা, অবজার্ভার, টাইমস, এবং পরের দিকে ডেইলি স্টার, জনকন্ঠ আছে| পরে হাতে সংবাদের কাটিং পেলে এখানে যোগ করে দিবো|
আপনি মেসেজ কি সচলের বার্তায় পাঠিয়েছেন? কারন খুজে পাচ্ছি না...

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

সব বেদনা মুছে যাক স্থিরতায়
হৃদয় ভরে যাক অস্তিত্বের আনন্দে...

আব্দুল্লাহ এ.এম. এর ছবি

ধন্যবাদ! হ্যাঁ, আপনার সচল বক্সে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলাম, আবার পাঠালাম। যদি এবারও না পান, তাহলে দয়া করে নীচের ঠিকাণায় একটি বার্তা পাঠাবেন, আমি আপনার ই-মেইলে বারতাটি পাঠাবো।

সোহেল ইমাম এর ছবি

ভালো লাগলো।

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

ইয়ামেন এর ছবি

পড়ার জন্য ধন্যবাদ ভাই| হাসি

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

সব বেদনা মুছে যাক স্থিরতায়
হৃদয় ভরে যাক অস্তিত্বের আনন্দে...

Arnab এর ছবি

Thank you so much for such an investigative writing. We all need to know the history of our past, especially about the role of our news media. The popular trend is write about the present issues and political figures. You took a subject which most people don't find interesting or don't know much. Thank you again.

ইয়ামেন এর ছবি

Thank you for reading.

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

সব বেদনা মুছে যাক স্থিরতায়
হৃদয় ভরে যাক অস্তিত্বের আনন্দে...

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

ভালো কাজ হলো।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

রাহী  এর ছবি

৮০'র মাঝমাঝি জন্ম গ্রহন করা আমার জন্য ১৯৯৬ ছিল আমার জন্য এক ধাক্কার বছর। এর আগে কোনোদিনো যার নাম শুনিনি, হটাৎ তাঁর (বঙ্গবন্ধু) নামেই শুনি জাতীয় শোক দিবস, তিনিই জাতির জনক। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সময় লেগেছিল বেশ।
ভালো লেখা। অসংখ্য ধন্যবাদ

তানভীর এর ছবি

উত্তম চলুক

ইয়ামেন এর ছবি

ধন্যবাদ তানভীর ভাই

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

সব বেদনা মুছে যাক স্থিরতায়
হৃদয় ভরে যাক অস্তিত্বের আনন্দে...

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

দারুণ একটা কাজ করেছেন। অনেক ধন্যবাদ।

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

ইয়ামেন এর ছবি

ধন্যবাদ!

--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

সব বেদনা মুছে যাক স্থিরতায়
হৃদয় ভরে যাক অস্তিত্বের আনন্দে...

পারভেজ এম রবিন এর ছবি

দারুণ কাজ!

একই সাথে তথাকথিত বাকশালী শাসনের সময় সংবাদপত্রগুলো কতটা স্বাধীনতা ভোগ করত, তার একটা প্রকৃত উদাহরণও বোধহয় বলা যায় এটাকে। প্রায় প্রতিদিন আওয়ামী লীগকে ধুয়ে ফেলে দিনশেষে কতক পত্রিকা নিষিদ্ধ হলে সেটা স্বৈরাচার। আর বঙ্গবন্ধু হত্যার খবরটাও দু'বছর প্রকাশ করতে না পারা সংবাদপত্রতের স্বাধীনতা! অবশ্য আমাদের সংবাদপত্রগুলো মেরুদণ্ডহীনতাও প্রকটাকারে প্রকাশ পেয়েছে।

মাহবুবুল হক এর ছবি

এরকম একটি প্রামাণ্য কাজের জন্য ইয়ামেনকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদের বহু বিভ্রান্তি ও সন্দেহ দূর হয়েছে। তবে বাস্তবতা হল আমাদের বিক্রিত (বিকৃত নয়) মস্তিষ্ক সত্যকেও বিকৃত করতে ভালবাসে বলেই আজও ১৫ আগস্টের সেনাসদর থেকে জারিকৃত (অনুমান হলেও এমনই হয়েছিল ধরে নেয়া যায়) ব্যাখ্যা আজও অনেক মানুষ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। যেমন বিশ্বাস করে ভারতর মুরগীও যে কোন সময় বাংলাদেশের ভিতর ঢুকে দেশটা দখল করে ফেলতে পারে। সে যাক, যার যার বিশ্বাস তার তার কাছে থাক। তবে আমি লেখককে আরেকটু অনুসন্ধানী হতে বলবো সেসময়ের সংবাদপত্রের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কেে আমাদেরকে কিছুটা জানাতে যেটা দারুণ লিখেছেন পারভেজ ।

--------------------------------------------------------
দেয়ালে দেয়ালে মনের খেয়ালে/ লিখি কথা ।
আমি যে বেকার, পেয়েছি লেখার/ স্বাধীনতা ।।

অতিথি লেখক এর ছবি

এইরকম একটা লেখা অনেকদিনে ধরেই খুঁজছিলাম। আজকে পেয়ে গেলাম। ধন্যবাদ এত চমৎকার একটা লেখার জন্য।

আমি আন্তুর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাস নিয়ে আগ্রহী। কিন্তু এইভাবে নিউজপেপারের কাটিং কোথাও পাইনা। তাই খুব মনোযোগ দিয়ে পত্রিকার লেখাগুলো পড়লাম। চেষ্টা করেছি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো টুকে রাখার। এখানে দিয়ে দিলাম।

১৯৭৬ – দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী সরকার ব্যাপক ধরপাকড় চালায়, এজিয়ান সাগরে গ্রীস আর তুরস্কের বিরোধ, মোজাম্বিকে রোডেশিয়া ( তখনো রোডেশিয়া জিম্বাবুয়ে আর জায়ারে পরিণত হয়নি) সৈন্যদের হত্যাকাণ্ড
১৯৭৭ – আরব সাধারণ বাজারে যোগ দিয়েছে সোমালিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেন ( পরে এই দুই ইয়েমেন এক হয়ে যায়) ও মৌরিতানিয়া। রোডেশিয়ায় সার্বজনীন ভোটাধিকারের জন্য ব্রিটেন ও আমেরিকা ঐকমত্য প্রকাশ করেছে।
১৯৭৮ – কিছুদিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন বিষয়ক ক্যাম্প ডেভিড সম্মেলন। ইরানে মার্কিন তাঁবেদার সরকারের বিরুদ্ধে চলছে আন্দোলন আর সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে মার্কসবাদীরা এই আন্দোলনের নামে হামলা চালাচ্ছে। কিছুদিন আগেই ইরান মার্কিন সরকারের কাছ থেকে অস্ত্র কিনেছে। ( বর্তমানে এই ঘটনা কল্পনাও করা যায় না)। চীনা সৈন্যরা ভিয়েতনাম সীমান্তে হামলা চালায়। পাকিস্তানে জিয়াউল হকের সরকার ভুট্টোর বিরুদ্ধে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে। ( কিছুদিন পরেই ভুট্টোকে ফাঁসিতে ঝুলানো হবে)
১৯৭৯ - ইরানে ঘটে গিয়েছে ইসলামী বিপ্লব। ভুট্টোর ফাঁসিও হয়ে গিয়েছে।
১৯৮০ – স্নায়ুযুদ্ধের অংশ হিসেবে সোভিয়েতরা পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমান বানানো শুরু করেছে।
১৯৮১ – দক্ষিণ তালপট্টিতে ভারতের যুদ্ধজাহাজ আসার কারণে বাংলাদেশ কড়া প্রতিবাদ জানায়।
১৯৮৪ - শ্রীলঙ্কায় তামিল প্রধান এলাকায় সেনা অভিযান।
১৯৮৮ – আফগানিস্তানে মুজাহিদ বাহিনীর হামলা।
১৯৮৯ – বাংলাদেশ ও ইরাকের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গঠনের জন্য এরশাদ-সাদ্দাম বৈঠক। ( কিছুদিন পরেই বাংলাদেশ থেকে ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সৈন্য পাঠাবে এই এরশাদ সরকার)
১৯৯০ – কিছুদিন পরেই শুরু হবে ইতিহাসের বিখ্যাত উপসাগরীয় যুদ্ধ।
১৯৯১ – বাকশাল বিলুপ্ত হয় এবং আওয়ামী লীগে একীভূত হয়।
১৯৯২ – বসনিয়া হারজেগোভেনিয়া মুসলিম হত্যাযজ্ঞের কারণে নিরাপত্তা পরিষদ প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

--- বোকা তেলাপোকা

মুস্তাফিজ এর ছবি

১৫ই আগষ্ট কে নিয়ে সবচাইতে বেশী সংবাদ সম্ভবত সেসময় প্রকাশিত 'সাপ্তাহিক খবর' নামক পত্রিকাতেই বেশী আসতো। মিজানুর রহমান নামে একজন ছিলেন এর সম্পাদক। 'আমি রাসেল বলছি' নামে সত্য/মিথ্যা/মিথ মিশিয়ে বই লিখেছিলেন উনি। ১৫ই আগষ্ট হত্যাকান্ড নিয়ে প্রথম বই ছিলো সেটা।

...........................
Every Picture Tells a Story

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA