গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি প্রসঙ্গে একস্লিপ তথ্যকণিকা

আরিফ জেবতিক এর ছবি
লিখেছেন আরিফ জেবতিক (তারিখ: রবি, ১১/০৭/২০১০ - ১১:২৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

গত কিছুদিন ধরে ফেসবুকে বন্ধুরা কেউ গার্মেন্ট সেক্টরের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে কোনো নোট লিখলে, সেখানে আমাকে ট্যাগ করে যাচ্ছেন। যেহেতু পোশাক সেলাই করে ক্ষুন্নিবৃত্তি নির্বাহ করি, তাই আমাকে ট্যাগ করাটাই স্বাভাবিক। বিভিন্ন নোটে কমেন্ট করতে গিয়ে আজকে হঠাৎ খেয়াল করলাম, এত বিচ্ছিন্ন ভাবে না লিখে, বিষয়টা নিয়ে আমিই একটি ছোটখাটো ব্লগ লিখে ফেলতে পারি। সুতরাং এই লেখার অবতারণা। যারা গার্মেন্ট সেক্টর নিয়ে ভাবছেন, এই লেখাটি থেকে তারা কিছু ধারণা নিতে পারবেন বলে আশা করছি।

আসুন, এবার তাহলে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক।

১. বর্তমান বেতন কাঠামোয় একটি গার্মেন্ট ইন্ড্রাস্ট্রিতে খরচের কতো অংশ আসলে বেতন ও ওভারটাইম? লাভের হার কতো ?

: এই সেক্টরের গড় পড়তা হিসেব হচ্ছে মজুরি ( ওভারটাইম সহ ) বর্তমানে মূল খরচের ৫০%। [এটা ওভেন ফ্যাক্টরীর হিসেব, নিট গার্মেন্টসে আরো কম হওয়ার কথা, কিন্তু আমি যেহেতু নিট গার্মেন্টে জড়িত নই, তাই সঠিক বলতে পারব না। ] সারাবছর কাজ থাকলে গড় লাভ নূন্যতম ১৮%। ভালো দামে কাজ করলে এবং কোনো ধরনের লেট শিপমেন্ট, ডিসকাউন্ড, বায়ার'স ক্লেইম না থাকলে এই লাভ ২০% থেকে ২২ % হবে।

২. নূন্যতম বেতন বলতে কী বুঝায় ? কতোজন এই বেতন পেয়ে থাকেন ? বেতন কি আরো কম দেয়া হয় কিংবা অন্য কোনো সুযোগ সুবিধা দেয়া হয় কি না ?

: নূন্যতম বেতন বলতে বুঝায় আজকেই জীবনের প্রথম এই সেক্টরে যোগ দেয়া সম্পূর্ণ অদক্ষ তরুণ শ্রমিকের বেতন। ১৬৬০ টাকা হচ্ছে এই শ্রমিকের মোট বেতন।[ বেতনের হিসাবটা হচ্ছে মূল বেতন+৩০% আবাসন ভাতা+১৫০ টাকা চিকিৎসা ভাতা]এর বাইরে সাধারনত একজন শ্রমিককে গড়ে ৩ ঘন্টা করে ৬ দিনই ওভারটাইম করতে হয়। ( এই ওভারটাইম বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু মজুরির প্রয়োজনে সব শ্রমিকই এই ওভারটাইম করতে আগ্রহী। ) ওভারটাইম হিসেবে ঐ শ্রমিক মাসে পান আরো প্রায় ( ১১.১৫ টাকা গড় ওভারটাইম/ঘন্টা) ৮৭০ টাকা। মাসের সব কর্মদিবসে হাজির থাকলে উপস্থিতি ভাতা হিসেবে পান ২০০ টাকা।
তাহলে তার মোট আয় দাড়ায় ২,৭৩০ টাকা।

৩. একজন শ্রমিক কতোদিন নূন্যতম বেতনে কাজ করে থাকেন ? তারপর তার বেতন কতো হয় ?

: একজন শ্রমিক প্রথম ৩ মাস এই বেতনে কাজ করে থাকেন। তারপর তার যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা হয়, সেক্ষেত্রে তিনি মাসে ( যদি গড় বেতন মোট ২০০০ টাকা ধরি) আয় করেন গড়ে ৩,২৬৭ টাকা।

৪. গার্মেন্ট সেক্টরে নতুন বেতন কাঠামো প্রবর্তনের এখন সঠিক সময় নয়, এমনটাই বলছেন অনেকে। সত্যি কি ?

: এখন গার্মেন্ট সেক্টর গত ২/৩ বছর যাবত অনেক ঝামেলায় আছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারনে অর্ডার কমে গেছে এবং অর্ডার কমে যাওয়ায় তীব্র প্রতিযোগিতায় দামও অনেক কমে গেছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে গত ৪ বছর ধরে কিন্তু বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি, সুতরাং এই মুহুর্তে বেতন বৃদ্ধি ছাড়া উপায়ও নেই।

৪. নতুন বেতন যদি নূন্যতম বেতন ৩০০০ টাকা করা হয়, তাহলে এই সেক্টরে কী সমস্যা দেখা দিতে পারে ? গার্মেন্ট শিল্প কি বন্ধ হয়ে যাবে ?

: নাহ, আদতে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। কারন তখন সব গার্মেন্টই বেতন বাড়াতে বাধ্য হবে, সুতরাং তারা মূল্যও বেশি দাবি করবে। বায়ারদের হাতে এই মুহুর্তে কোনো বিকল্প নেই, তাই তারা বেশি দামেই কাপড় কিনতে বাধ্য হবে। মনে রাখতে হবে আমরা যে কাপড় সেলাই করি, সেটি খুবই বেসিক এবং কম দামের, সুতরাং এই কাপড়ের চাহিদা দুনিয়াতে থাকবেই।

৪. নতুন বেতন বৃদ্ধিতে গার্মেন্টের লাভ কমে যাবে বলে অনেকেই ধারণা করছেন। গার্মেন্ট শিল্পগুলো কিভাবে চলবে তখন ?

: আসলে বেতন বৃদ্ধি আমাদের জন্য এক ধরনের আশীর্বাদ হিসেবে আসবে বলে আমার ধারণা। এখন গার্মেন্টগুলো বাধ্য হবে নতুন প্রযুক্তির প্রচলন করতে এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা করতে। এটি এই শিল্পের জন্য ভালো হবে। প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং চালু হবে, দক্ষ শ্রমিক ও মিড লেভেল ব্যবস্থাপনা তৈরীর জন্য প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে, এসব করলে এই শিল্পের জন্য আখেরে উপকারই হবে।


মন্তব্য

হাসিব এর ছবি

শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো দরকার । তবে, এটা করলে "গার্মেন্টগুলো বাধ্য হবে নতুন প্রযুক্তির প্রচলন করতে এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা করতে। এটি এই শিল্পের জন্য ভালো হবে। প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং চালু হবে, দক্ষ শ্রমিক ও মিড লেভেল ব্যবস্থাপনা তৈরীর জন্য প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে, এসব করলে এই শিল্পের জন্য আখেরে উপকারই হবে। " এই বক্তব্যে ঠিক ভরসা করতে পারছি না ।

এটা হলে প্রথমে যেটা হবে সেটা হলো গার্মেন্টস মালিকেরা তাদের ফ্যাক্টরিতে কোন ট্রেড ইউনিয়ন বা যেকোন ধরনের সিবিএ যাতে না গড়ে ওঠে সেটার ব্যবস্থা করবে । ইতিমধ্যে গড়ে উঠলেও সেগুলো ভাঙ্গার ব্যবস্থা করবে । এটা করে তারা সেই আগের মতোই কম মজুরিতে শ্রমিক নেবে । এবং সবসময়ই এই ধরনের কাজে তারা লোকবল পাবে কারন এখানে অনেক উদ্বৃত্ত শ্রমিক । দক্ষদের জন্যই হয়তো তারা কিছু বাড়তি বেতন বোনাসের ব্যবস্থা করবে । বাকিরা সেই আগের অবস্থাতেই থাকবে ।

পত্রিকা ইন্ডাস্ট্রিতেও ওয়েইজ বোর্ড রোয়েদাদ নামে একটা জিনিস আছে । হাতে গোনা কয়েকটা পত্রিকা সেটা অনুসরন করে । বাকিরা থাকলে থাকো নাহলে অন্য লোক দেখবো নীতিতে চলে । সরকারিভাবে ওয়েইজ বোর্ড ঘোষিত হলেও সাংবাদিকদের অধিকাংশেরই সেই মানবেতর অবস্থাই রয়ে গেছে ।

আরো একটা প্রশ্ন । আগামি ১০ বছরে বাংলাদেশে গার্মেন্টস সেক্টরের প্রবৃদ্ধির কোন অনুমান দিতে পারবেন ?

আরিফ জেবতিক এর ছবি

১.
এইখানে একটা মজার কান্ড আছে। পত্রিকার ওয়েজবোর্ড আর গার্মেন্টের ওয়েজবোর্ড সমান না। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের চাইতে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে দুর্বল আর কোনো শ্রেনীই নেই। সংবাদপত্রে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না হলে পত্রিকার পাঠক সে পত্রিকা বর্জন করে না, কিন্তু গার্মেন্টে ক্রেতারা সেটি করতেই হবে।

মজুরি সরকার ঘোষনা করার পর সেটি কম দেয়ার কোনো উপায় নেই। কারনটা বলি। প্রায় প্রতিটি গার্মেন্টসে বায়ার কর্তৃক কমপ্লায়েন্স অডিট হয়। এই অডিট অঘোষিত, যেকোনো দিন আসতে পারে। অডিটরদের মাঝে দেশী এবং বিদেশীরা থাকে। কোনো গার্মেন্টসের খুঁত ধরতে পারার উপরই অডিটরের নিজের চাকুরির উন্নতি নির্ভর করে, সুতরাং তারা কাগজপত্র তছনছ করে ফেলে। তারপর দৈবচয়নে তারা ১৫-২০% শ্রমিকের সাক্ষাতকার নেয়। এই সাক্ষাতকারগুলো গোপনে নেয়া হয়, সেখানে গার্মেন্টসের আর কেউ উপস্থিত থাকতে পারে না। সুতরাং শ্রমিক যদি কম বেতন পায়, তাহলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে বলে দেয়। সেক্ষেত্রে বড় স্টোরগুলো সেই ফ্যাক্টরীতে কাজ দিতে পারে না। কারন তাদের মাঝে প্রতিযোগিতা আছে, এক কোম্পানি অন্য কোম্পানির নামে যদি এটা প্রমান করে দিতে পারে, তাহলে নিজ দেশে তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালুর উপর বিরাট আঘাত আসবে।

২. গার্মেন্টে এখন আসলে উদ্বৃত্ত শ্রমিক নেই। এই বেতনে কাজ করার লোক আসলেই কম, অধিকাংশ গার্মেন্টই শ্রমিক সংকটে ভুগছে। বেতন বৃদ্ধি হলে শ্রমিক সরবরাহ কিছু বাড়বে বলে বরং আশা করা যায়।

হাসিব এর ছবি

হমম ... জবাবদিহিতার এই ব্যবস্থার কথা জানা ছিলো না । এটা অবশ্যই ইতিবাচক একটা দিক । গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির প্রবৃদ্ধি নিয়ে কোন প্রজেকশন করতে পারবেন ?

আরিফ জেবতিক এর ছবি

আগামী ১০ বছরের প্রবৃদ্ধি অনুমান করা এই মুহুর্তে মুশকিল। কারন সরকার এখন ইন্ড্রাস্ট্রিতে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিবে না বলে জানিয়েছে। আপাতত এই নিষেধাজ্ঞা ৩ মাসের জন্য শুরু হলেও এটি বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে এখন। নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ আছে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকেই।
সুতরাং এই দুটি ঠিক না হলে প্রবৃদ্ধি হওয়ার তো কোনো উপায় নেই। তাছাড়া আন্তর্জাতিক মন্দা কবে পুরোপুরি কাটবে সেটাও অন্তত আরো ১ বছর না গেলে বুঝা যাচ্ছে না। ইউরোপে এখনও মন্দার হাওয়া ঝাপটা মারছে। ইউরোর দাম গত কয়েকদিনে বেশ পড়ে গেছে।

এমনিতে যদি মন্দা মোটামুটি কাটতে থাকে এবং সরকার পাওয়ারের বিষয়টি সমাধা করতে পারে, তবুও গার্মেন্ট মালিকরা তাদের পূঁজি অন্যদিকে সরিয়ে নেয়ার যে প্রবণতা শুরু করেছে, সেটা বন্ধ হবে না। তারপরও বর্তমানের ৪ হাজার গার্মেন্ট থেকে আগামী ১০ বছরে অন্তত ৫ হাজার গার্মেন্টে যাওয়ার কথা। বর্তমান ট্রেন্ড এমনটাই।

হাসিব এর ছবি

বাজারের নিয়মেই পুঁজি এদিক ওদিক হবে । গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা অবকাঠামোর জন্য ব্যবসা না করতে পারলে তারা অন্যদিক দেখবেই । কিন্তু কথাটা হলো তারা কোথায় পুঁজি সরাচ্ছে । কোন ধারনা দিতে পারবেন এ বিষয়ে ?

আরিফ জেবতিক এর ছবি

মূলত সার্ভিস এর দিকে যাচ্ছে। প্রায় সব নতুন বেসরকারী ব্যাংকগুলোর মূল মালিকানায় গার্মেন্টের মালিকরা। ঢাকার বেশ কিছু স্কুল এবং হাসপাতালেও তাদের বিনিয়োগ আছে। ওয়াইম্যাক্স জাতীয় সেবাখাতে (যেমন বাংলালায়ন) পূজি গেছে গার্মেন্টস সেক্টর থেকে। রিয়েল এস্টেটের একটা বড় বিনিয়োগ এসেছে এবং আসছে গার্মেন্টস খাত থেকে। নতুন যতগুলো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি আসছে, সেগুলোতেও গার্মেন্টস মালিকরাই মূল উদ্যোগী, এরা ব্যবসাও ভালোই করছে।
বিদেশে খুব একটা পূজি যাচ্ছে না, ঐ পুলাপানের পড়াশোনার কথা বলে কিছুটা আর একটা বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট কেনা, এসব তো কেউ কেউ করবেই, তবে সেটা বড় আকারে হচ্ছে না।

হাসিব এর ছবি

তাহলে বিষয়টা দাড়ালো এরকম যে যেই সেক্টরগুলোতে অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত লোকেরা , যাদের সংখ্যাটা খুব বেশি নয়, কাজ করে সেখানেই পুঁজি যাচ্ছে । এই ট্রেন্ড চলতে থাকলে কর্মসংস্থান নিয়ে একটা ঝামেলা হবে ভবিষ্যতে । গার্মেন্টসে যারা কাজ করে তারা খুব সহজে অন্য কাজে মাইগ্রেট করতে পারবে না । অন্যদিক আস্তে আস্তে কৃষিও বাংলাদেশে সংকুচিত হয়ে আসবে। খাদ্য আমদানি নির্ভর হবে ভবিষ্যতে । একমাত্র ছোট ও মাঝারি টুকটাক শিল্পগুলো ব্যাপক হারে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে এই বিশাল জনগোষ্ঠির কাজের সংস্থান হওয়া সম্ভব ।

আরিফ জেবতিক এর ছবি

এটা কোনো সমস্যা নয়, কারন পুঁজি প্রত্যাহার হচ্ছে না, বরং বহুমুখী হচ্ছে। কেউ গার্মেন্টস ইন্ড্রাস্ট্রি বন্ধ করে পুঁজি নিয়ে যাচ্ছে না।
এই পর্যায়ে যেটি হচ্ছে, বড় বড় গ্রুপ তৈরী হচ্ছে, যারা একসঙ্গে অনেকগুলো ব্যবসা শুরু করছে। তারা ডিম এক ঝুড়িতে রাখছে না।

একটা বড় গ্রুপ চাইলেই আগামী ৩ মাসের মধ্যে হয়তো ৫টা নতুন গার্মেন্টস তৈরী করতে পারবে, কিন্তু একে সাপোর্ট করার মতো অন্য উপাদানগুলো একই পরিমানে সরবরাহ করতে পারবে না। মানে, আমি চাইলেই আমার বায়ার চট করে আমাকে ৫ গুন অর্ডার দিতে পারবে না, নতুন বায়ার নিয়ে এসেও আমি এই পরিমান একসঙ্গে কাজ নিতে পারব না। কারন নতুন ফ্যাক্টরীতে নতুন বায়ার একসঙ্গে বেশি পরিমান কাজ দেবে না।
সুতরাং সব অবকাঠামো অনুকূল থাকলেও পূঁজি এক জায়গায় বিনিয়োগ করা যাচ্ছে না, যার কারনে পূঁজি অন্যান্য জায়গাতেও চলে যাচ্ছে।

আর সত্যি কথা বলতে কি এখন গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিক সংকট শুরু হয়ে গেছে, সুতরাং এই জেনারেশনের শ্রমিকদের কাজের অভাব হবে না।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

বেতন বেড়ে কখন মেশিনের সাথে ব্রেক ইভেনে যাবে সেটা দেখতে হবে। অর্থাৎ ঠিক কতখানি বেড়ে গেলে মালিক শ্রমিক সরিয়ে সেখানে অত্যাধুনিক মেশিনারী বসিয়ে অটোমেটেড পদ্ধতিতে কাজ সারবেন? সে পর্যায়ে গেলে লাভের আশায় শুরু হবে ছাঁটাই। হিতে বিপরীত হবে তাতে।

চীনের মুদ্রার মান বেড়েছে সম্প্রতি। তাই ছোট খাটো কাজগুলো চীনে উৎপাদন করা আর লাভজনক নয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কতখানি আগিয়ে আসতে পারে এবং ডাইভার্সিফাই করতে পারে সেটা ভাববার বিষয়।

(অটঃ আপনি গার্মেন্টস ব্যবসায়ে আছেন জানতাম না। হাসি )

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

অতিথি লেখক এর ছবি

বেতন বেড়ে কখন মেশিনের সাথে ব্রেক ইভেনে যাবে সেটা দেখতে হবে। অর্থাৎ ঠিক কতখানি বেড়ে গেলে মালিক শ্রমিক সরিয়ে সেখানে অত্যাধুনিক মেশিনারী বসিয়ে অটোমেটেড পদ্ধতিতে কাজ সারবেন? সে পর্যায়ে গেলে লাভের আশায় শুরু হবে ছাঁটাই। হিতে বিপরীত হবে তাতে।

মুর্শেদ ভাইয়ের এই বক্তব্যের সাথে আমি একমত। যে জনগোষ্ঠী বেকার হবে,তাদের নিয়ে ভাবতে হবে। নইলে প্রবৃদ্ধির সুফল পুরোপুরি ভোগ করা যাবে না।

সুমিমা ইয়াসমিন

আরিফ জেবতিক এর ছবি

বেতন যখন মেশিনের সঙ্গে ব্রেক ইভেনে যাবে, তখন কিন্তু শ্রমিক ছাটাই হবে না, বরং কম শ্রমিক দিয়েই বেশি উৎপাদন সম্ভব হবে।
উদাহরন দেয়া যাক। আমি যদি আমার ফ্যাক্টরীর কাটিং সেকশনে কম্পিউটারাইজড স্ক্যানার এবং অটোস্প্রেড মেশিন নিয়ে আসি, তখন আমার কম শ্রমিক লাগবে। এখন ওখানে কাজ করছে ৬৫ জন, আমি হিসেব করে দেখেছি, তখন ২২ জন দিয়ে একই কাজ করা যাবে।
সেক্ষেত্রে আমি ৬৫ জনকেই রেখে দেব, কিন্তু আমার প্রোডাকশন প্রায় ৩ গুন হয়ে যাবে। যেহেতু উৎপাদন বাড়বে, সুতরাং লাভও বাড়বে। আর যখন লাভ বাড়বে, তখন ছাটাইয়ের প্রশ্ন উঠবে না।

এস এম মাহবুব মুর্শেদ এর ছবি

উৎপাদন তো আপনি ইচ্ছে মত বাড়াতে পারবেন না। চাহিদা না থাকলে উৎপাদন করে কী হবে? উৎপাদন ফিক্স হয়ে গেলেই ছাটাই বেড়ে যাবে। অন্যভাবে বলতে গেলে ৬৫ র জায়গায় ২২ দিয়ে কাজ সারা গেলে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত চাহিদা না থাকলে ৪৩ জনকে ছাটাই করতে হবে। এটাই সমস্যা।

====
চিত্ত থাকুক সমুন্নত, উচ্চ থাকুক শির

মাহবুব লীলেন এর ছবি

বিষয়টাকে এভাবে দেখা হয়নি কোনোদিন
ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য
(এইবার বোধহয় গল্পের কোনো চরিত্রকে গার্মেন্টস শ্রমিক বানাবার যথেষ্ট উপাদান পাওয়া গেলো)

আরিফ জেবতিক এর ছবি

হ!

কল্পনা আক্তার এর ছবি

নূন্যতম বেতন বলতে বুঝায় আজকেই জীবনের প্রথম এই সেক্টরে যোগ দেয়া সম্পূর্ণ অদক্ষ তরুণ শ্রমিকের বেতন। ১৬৬০ টাকা হচ্ছে এই শ্রমিকের মোট বেতন।[ বেতনের হিসাবটা হচ্ছে মূল বেতন+৩০% আবাসন ভাতা+১৫০ টাকা চিকিৎসা ভাতা]এর বাইরে সাধারনত একজন শ্রমিককে গড়ে ৩ ঘন্টা করে ৬ দিনই ওভারটাইম করতে হয়। ( এই ওভারটাইম বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু মজুরির প্রয়োজনে সব শ্রমিকই এই ওভারটাইম করতে আগ্রহী। ) ওভারটাইম হিসেবে ঐ শ্রমিক মাসে পান আরো প্রায় ( ১১.১৫ টাকা গড় ওভারটাইম/ঘন্টা) ৮৭০ টাকা। মাসের সব কর্মদিবসে হাজির থাকলে উপস্থিতি ভাতা হিসেবে পান ২০০ টাকা।
তাহলে তার মোট আয় দাড়ায় ২,৭৩০ টাকা।

৩. একজন শ্রমিক কতোদিন নূন্যতম বেতনে কাজ করে থাকেন ? তারপর তার বেতন কতো হয় ?

: একজন শ্রমিক প্রথম ৩ মাস এই বেতনে কাজ করে থাকেন। তারপর তার যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা হয়, সেক্ষেত্রে তিনি মাসে ( যদি গড় বেতন মোট ২০০০ টাকা ধরি) আয় করেন গড়ে ৩,২৬৭ টাকা।

আরিফ ভাই, এই তথ্য যদি আপনি আপনার গ্রুপকে ধারণা করে দিয়ে থাকেন তাহলে ভিন্ন কথা তবে এর বাস্তবিক এবং বর্তমান অবস্থান নিন্মরুপ:

প্রথমত নুন্যতম মজুরী হচ্ছে ১৬৬২.৫০ টাকা এবং অদক্ষ্য শ্রমিককে প্রথম তিনমাসের জন্য কখনোই উক্ত মজুরী দেয়া হয় না। শিক্ষানবীসকালে তাদের দেয়া হয় ১২০০ টাকা এবং যা তিন থেকে ছয় মাস হয়ে থাকে।

শিক্ষানবীসকালের পর তাদের নুন্যতম মজুরী দেয়া হয় যা ১৬৬২.৫০ টাকা আর আপনি ১৮০০-২২০০ টাকা যে মজুরীর কথা বলেছেন তা ২০০৬ইং এর নুন্যতম কাঠামো অনুযায়ী এটা হচ্ছে জুনিয়র অপারেটর এর বেতন যা কোন ভাবেই তিনমাস পর থেকে একজন হেলপারকে দেয়া হয় না এবং তিনমাস কাজের পর কোন অদক্ষ্য শ্রমিককে জুনিয়র অপারেটর পদের উন্নতি করা হয়না।

একজন হেলপারকে জুনিয়র অপারেটর পদে উন্নতি হতে হলে এক থেকে দেড় বছরের মতো লেগে যায় যা এই সেক্টরের বাস্তবতা। ক্ষেত্র বিশেষে কোন শ্রমিক এর চেয়ে কম সময়ে যদিও অপারেটর হতে পারে তাহলে সে ক্ষেত্রে তাকে কারখানা থেকে মাইগ্রেন্ট হতে হয়।

দ্বিতীয়ত এই সেক্টরের মোট শ্রমিকের মধ্যে মাত্র ২০% শ্রমিক নুন্যতম মজুরীর আওতায় পড়ে বা এই সুবিধা পেয়ে থাকে আর বাকীদের মজুরী যে তার দক্ষতা এবং আলোচনা সাপেক্ষে ধার্য হয় যা আপনিও জেনে থাকবেন। সর্বোপরে ২০০৬ সালের নুন্যতম মজুরীরর কাঠামোকে একটি নুন্যতম মজুরীর ফ্লেভার বলা যায় কখনোই একে একটি সঠিক নুন্যতম মজুরী কাঠামো হিসাবে ধরা যায়না বলে আমি মনে করি।

আর ইন্ডাষ্টির খরচ ও লাভের হারের তথ্যটি আমার একটি গবেষনার জন্য অনেক উপকারে আসবে হাসি

........................................................................................................
সব মানুষ নিজের জন্য বাঁচেনা


........................................................................................................
সব মানুষ নিজের জন্য বাঁচেনা

আরিফ জেবতিক এর ছবি

আমি যতদূর জানি শিক্ষানবীস ভাতা আপনি ফ্যাক্টরীতে দিতে পারবেন না। আলাদা ট্রেনিং সেন্টারের জন্য সেটি প্রযোজ্য, যেখানে আপনি একজনকে নিজের খরচে কাজ শেখাবেন পাশাপাশি তাকে এই ভাতা দিবেন।
বড় বায়াররা ফ্যাক্টরীতে কাজরত কারো বেতন ১২০০ টাকা এলাউ করবে বলে মনে হয় না। আপনার কমেন্টের পর আমি আমার কয়েক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম, তাদের ফ্যাক্টরিতেও ১২০০ টাকার কোনো সিস্টেম নেই।
যেসব ফ্যাক্টরীতে আছে ( আপনার কাছ থেকে জানলাম যে সত্যিই আছে) তারা কিন্তু আইন ভঙ্গ করছে।

হাসিব এর ছবি

কল্পনা আক্তার,

দ্বিতীয়ত এই সেক্টরের মোট শ্রমিকের মধ্যে মাত্র ২০% শ্রমিক নুন্যতম মজুরীর আওতায় পড়ে বা এই সুবিধা পেয়ে থাকে আর বাকীদের মজুরী যে তার দক্ষতা এবং আলোচনা সাপেক্ষে ধার্য হয় যা আপনিও জেনে থাকবেন।

বিষয়টা আমার কাছে পরিস্কার হলো না । আমি আপাতত দুটো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি -

  • ২০% শ্রমিক একেবারে এন্ট্রি লেভেলে কাজ করে । বাকিরা অভিজ্ঞ ও দক্ষ ।
  • ২০% শ্রমিকের কাজের জায়গাতে এই ন্যুনতম মজুরি বিষয়টা চালু আছে ।

কোনটা বলতে চাইছেন ?

আর ইন্ডাষ্টির খরচ ও লাভের হারের তথ্যটি আমার একটি গবেষনার জন্য অনেক উপকারে আসবে

গবেষণাটার সারাংশ সচলে দেবেন এই আশা করছি ।

কল্পনা আক্তার এর ছবি

হাসিব ভাই, মজুরী কাঠামোটিকে মোট সাতটি শ্রেনীতে ভাগ করা হয়েছে তার মধ্যে সাত নম্বর শ্রেনীটি ছিল হেলপারদের জন্য আর এই সেক্টরের মোট শ্রমিকের মধ্যে ২০% হচ্ছে হেলপার। এই সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য প্রথম নুন্যতম মজুরী ঘোষনা করা হয় ১৯৯৪ সালে এ এবং নুন্যতম মজুরী ধার্য ছিল ৯৩০ টাকা যা ২০০৬ সালের আগে সঠিক ভাবে বাস্তবায়নও হয়নি।

২০০৬ সালের যে নুন্যতম মজুরী কাঠামো ঘোষনা করা হয়েছিল তার সুবিধা শুধু মাত্র এই ২০% শ্রমিকরাই পেয়েছেন যা এই অর্থে বলা হচ্ছে যে,৯৩০ থেকে ১৬৬২.৫০ টাকায় উন্নিত করা হয়েছিল। উদাহরণ সরুপ বলা যায় যে,উক্ত মজুরী কাঠামোতে একজন সিনিয়র অপারেটর নুন্যতম মজুরী ধার্য করা হয়েছিল ২৪৫০ টাকা (শ্রেনী-৩) এবং উল্লেখ্য যে, ২০০৬ সালেই একজন সিনিয়র অপারেটর পেতেন ৩০০০+টাকা কারণ তার একজন সিনিয়র অপারেটর অনেক বছর ধরে কাজ করে থাকেন।

এই অর্থে ২০% ভাগ শ্রমিকের কথা বলা হয়েছে। এন্ট্রি লেভেলের শ্রমিকের সংখ্যা আরো অনেক কম যার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই।

গবেষনাটি আমরা যৌথ ভাবে করছি তাই আমার সহকর্মীর যদি কোন আপত্তি না থাকে তাহলে অবশ্যই এর সারাংশ সচলে দেব।
........................................................................................................
সব মানুষ নিজের জন্য বাঁচেনা


........................................................................................................
সব মানুষ নিজের জন্য বাঁচেনা

দুর্দান্ত এর ছবি

আপনি বলছেন

এই সেক্টরের গড় পড়তা হিসেব হচ্ছে মজুরি ( ওভারটাইম সহ ) বর্তমানে মূল খরচের ৫০%।

আবার এখানে বলছে যে ২০০৭ এ ইউরোপে পাঠানো টি-শার্ট এর খরচা ছিল ডজন প্রতি ১৫,৬০ ডলার। ধরে নেই এটা কমতে কমতে এখন এসে ১২ ডলারে নেমেছে। আরো ধরি এর পুরোটা মূল খরচ নয়, এর মাত্র ১০ ডলার হল মূল খরচ। আপনার দেয়া ৫০% মজুরি খরচের নিরখে ইউরোপে পাঠানো প্রতিটি ডজন টি শার্ট বানিয়ে একজন বাংলাদেশী শ্রমিক ৫ ডলার আয় করার কথা। এখানে বলছে যে ২০০৮ সালে আমাদের দেশের গার্মেন্টস মালিকের শ্রমখরচ ঘন্টায় ০,২২ ডলার। এই হিসাবে একডজন টি শার্ট বানাতে একজন শ্রমিকের এক/দুই দিন লেগে যাওয়ার কথা।

আমার এহেন অতিসরলীকরনের কারনে বেচারা শ্রমিকদের মহা আলসে নাহয় অনেকটাই অদক্ষ বলে প্রতীয়মান হয়। আমার যেটা মনে হয়, আমার হিসাবটায় বিরাট একটা ফাঁক/ভুল আছে, কিন্তু বুঝতে পারছিনা কোথায়।

আরিফ জেবতিক এর ছবি

এখানে একটা শুভংকরের ফাকি আছে । যে খরচা , তা আদতে গার্মেন্টস মালিকের বিনিয়োগ নয়। বিনিয়োগ অনেক কম এবং সেই বিনিয়োগের ৫০% এর মতো বেতন ভাতা।
আমি আপনাকে শার্ট দিয়ে একটা উদাহরন দেই ( আমি টিশার্ট তৈরী করি না, তাই ওই হিসেব ভালো দিতে পারব না।)

একটি শার্টের গড় দাম পড়ছে নিম্নরূপ : ( সব খরচ ডলার/ডজনে )

কাপড় : ২২ গজ × ১.৫০ ডলার = ৩৩ ডলার।
এক্সেসরিজ এন্ড ট্রিমস
(সুতা, বোতাম, প্যাকিং ম্যাটেরিয়াল ইত্যাদি) = ৬ ডলার।
ওয়াশ খরচ = ২ ডলার।
মজুরি/ তৈরীকরার চার্জ ( শ্রমিকের নয়, গার্মেন্টস কোম্পানির) = ১২ ডলার।

এখানে মোট খরচ ৫৩ ডলার। একটি মাঝারি ফ্যাক্টরী মাসে এই শার্ট ৮০০০ ডজন তৈরী করতে পারবে কিন্তু ৮০০০×৫৩= ডলার বিনিয়োগ করার প্রয়োজন পড়ছে না।

বায়ার ফ্যাক্টরীকে এলসি দেবে, সেই এলসি দেখে ফ্যাক্টরীর ব্যাংক কাপড় ও অন্যান্য সরবরাহকারীদের ব্যাংকে ব্যাক টু ব্যাক এলসি দিয়ে নিশ্চয়তা দেবে যে তারা যদি ঠিক মতো সরবরাহ করে তাহলে ফ্যাক্টরীর ব্যাংক তাদের টাকা পরিশোধ করবে।
এখন ফ্যাক্টরীর বিনিয়োগ আসলে তার বেতন এবং ভাড়া ইত্যাদি। কারন এগুলো মাস শেষে পরিশোধ করতে হবে, এটাই তার আসল বিনিয়োগ। আর ব্যাংক তারপক্ষে যে নিশ্চয়তা দিচ্ছে সে টাকাটা পরোক্ষ বিনিয়োগ কারন সে টাকার অংশ বিশেষ তার সঞ্চয় হিসেবেই গচ্ছিত আছে।

এখন রফতানির পর বায়ারের ব্যাংক ফ্যাক্টরীর ব্যাংকে টাকা দেবে, ফ্যাক্টরীর ব্যাংক তখন সরবরাহকারীদের টাকা বুঝিয়ে দেবে। এই যে নিশ্চয়তা ব্যাংক দেয়, এজন্য তারা সুদ চার্জ করবে এটাই ব্যাংকের ব্যবসা।

ফ্যাক্টরীর আসল প্রাপ্তি আসলে ঐ ১২× ৮০০০= ৯৬,০০০ ডলার।
এই কাজ সরবরাহ করতে ফ্যাক্টরীকে যে খরচ করতে হয়েছে, সেটি আনুমানিক ৮০,০০০ ডলার। এই ৮০ হাজার ডলারের মাঝে তাকে বেতন ভাতা গুনতে হয়েছে ৪০ হাজার ডলার, বাকিটা ক্রয়, মেশিনের অবচয়, ভাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাসবিল, ফ্যাক্টরীর অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষন, ব্যাংক সুদ ইত্যাদি।

সুতরাং ( ৫৩× ৮০০০) ৪ লক্ষ ২৪ হাজার ডলারের রফতানি করা পোশাকের ৫০% শ্রমিক পায় না, বরং ফ্যাক্টরীর আসল বিনিয়োগ ৯৬ হাজার ডলারের ৫০% পায়।

আপনার হিসেবে যদি পুরো রফতানি মূল্যকে গননায় নেই, তাহলে সে মূল্যের ৯%-১০% শ্রমিকের মজুরির অংশ।

কল্পনা আক্তার এর ছবি

দুর্দান্ত ভাই, রিপোর্ট দুইটিতে আমার কাছে তথ্যর ঘাটতি লাগছে যা যথাক্রমে,

১. প্রথমটিতে বলা হয়েছে যে আগের তুলনায় CM (Cost of Manufacturing) কমে গেছে বা বায়ারা কমিয়ে দিয়েছে কিন্তু রিপোর্টটির কোথাও উল্লেখ্য করা হয়নি যে CM কমে যাওয়ার কারণে আমাদের শ্রমিকরা কোনভাবে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে কিনা। সত্যিকার অর্থে CM কমে গেলেও আমাদের শ্রমিকরা আগের চাইতে বেশী উৎপাদন দিচ্ছে বা দিতে বাধ্য হচ্ছে।

২. রিপোর্টির তথ্য আছে আর হলো ঘাটতি হচ্ছে তারা উল্লেখ্য করেননি কোন গ্রেড এর শ্রমিকরা প্রতি শ্রমঘন্টার জন্য $,০.২২ পেয়ে থাকেন। এই সেক্টরের শ্রমিকদের নুন্যতম মজুরীকে ধরে হিসাব করলে আমাদের শ্রমিকরা বর্তমানে প্রতি শ্রমঘন্টার জন্য $,০.১১.৪১ পেয়ে থাকেন।
........................................................................................................,......................
সব মানুষ নিজের জন্য বাঁচেনা


........................................................................................................
সব মানুষ নিজের জন্য বাঁচেনা

আরিফ জেবতিক এর ছবি

নূন্যতম মজুরি ধরে হিসেব করা কি সঠিক হবে নাকি গড় হিসাব হবে?

স্পর্শ এর ছবি

আরিফ জেবতিক অনেক আগে থেকেই আপনি আমার একজন প্রিয় মানুষ। আপনার স্পষ্ট অবস্থানে ভালোলাগাটা বাড়লো।
শুভেচ্ছা। হাসি


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

অতিথি লেখক এর ছবি

মাঝে মাঝে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয় যে বাংলাদেশের শ্রমিকের উৎপাদন ক্ষমতা পাশের অন্যান্য দেশ থেকে অনেক কম, যার ফলে এখানকার প্রকৃত শ্রমের মূল্য সস্তা নয়। বক্তব্যটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হয়। একজন কৃষককে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করতে দিয়ে তার ফলাফলকে কলের ট্রাক্টর দেয়া একজনের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করে যদি বলা হয় যে কৃষকের উৎপাদন ক্ষমতা অনেক কম, তা যেমন অযৌক্তিক, এ বিষয়টিতেও তাই। পাওয়ার টিলার দেয়া একজন কৃষকের কাজ একই রকম পাওয়ার টিলার দেয়া আর একজন কৃষকের কাজের সঙ্গে তুলনা করা যুক্তিযুক্ত, কলের ট্রাক্টর দেয়া কৃষকের কাজের সাথে নয়। সেদিন একটি লাইব্রেরীতে বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটারহাউস কুপারস এর জরিপ এর ভিত্তিতে তৈরী করা একটি প্রতিবেদন দেখে তা টুকে নিয়ে আসার লোভ সামলাতে পারি নি। বাংলায় অনুবাদ করে তা এখানে তুলে ধরছি।

কলামগুলো এ ভাবে সাজানো: ১।দেশ; ২।শ্রম-মূল্য, ঘন্টাপ্রতি ডলার; ৩।শার্ট-প্রতি সময়, মিনিট; ৪।শার্ট-প্রতি শ্রম-মূল্য, ডলার; ৫। জিনস-প্রতি সময়, মিনিট; ৬।জিনস-প্রতি শ্রম-মূল্য, ডলার

১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬
বাংলাদেশ ০.২৩ ৬১ ০.২৩ ৬২ ০.২৪
ভারত ০.৪১ ৬৩ ০.৪৩ ৬৫ ০.৪৪
শ্রীলঙ্কা ০.৩৫ ৫০ ০.২৯ ৫৫ ০.৩২
চীন ০.৭৭ ৬০ ০.৭৭ ৬০ ০.৭৭
ভিয়েতনাম ০.৩০ ৬৫ ০.৩৩ ৬৫ ০.৩৩
ইতালী ১৪.৭১ ৩৫ ৮.৫৯ ৩৫ ৮.৫৯

পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে ভারত ও ভিয়েতনাম এর শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমিকেরা কম সময়ে এক একটি শার্ট ও জিনসের ট্রাউজার তৈরী করে। চীনের তুলনায় তা প্রায় সমান। শ্রীলঙ্কায় কিছুটা কম সময় লাগার কারণ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, যা ইতালীর ক্ষেত্রে আরও কম। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি শ্রমিকের হাতে নয়, এটি উদ্যোক্তার হাতে। তার পরেও শার্ট বা জিনসপ্রতি প্রকৃত শ্রম মূল্যের বিচারে বাংলাদেশেরটি সবচেয়ে কম। এ জন্যই শুনি যে পোষাক আমদানীকারক দেশগুলো বাংলাদেশের পণ্যের উপর বেশী হারে কর আরোপ করে থাকে যেন তাদের বাজারে সবার একটি প্রতিযোগিতা মূলক অবস্থান থাকে। এ করের টাকা না হলে ধনী দেশগুলোর কোন যায় আসে না, তাই তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে আমাদের শ্রমিকের মূল্য কেন বাড়ানো যাবে না আমার বোধগম্য নয়।

খোন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানী

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।