গুলশান এভিনিউয়ে একজন উলঙ্গ মানুষ

আরিফ জেবতিক এর ছবি
লিখেছেন আরিফ জেবতিক (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৯/০২/২০১২ - ১২:৫৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

অনেকদিন পরে দেখা হওয়াই বোধহয়, নাভেদ আমার দিকে ভুরু কুচকে তাকায়। তারপর বলে, 'তোর সমস্যা কী? এত যে দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াস, চেহারা থেকে গাইয়া ভাবটা যায় না কেন?' আমি হাসি। সন্তর্পনে একবার কোমরের দিকে তাকাই, প্যান্টে গোজা শার্টের ঝুল কি কোথাও বেরিয়ে এসেছে? না, বের হয়নি। তবু নাভেদের ঝা চকচকে চেহারার সামনে আমাকে মলিনই হয়তো মনে হয়। অন্তত নাভেদের চোখে তো বটেই।

সে এবার আমাকে বাদ দিয়ে চারপাশে তাকায়। গুলশান ১ এর এই খোলা জায়গাটুকু আমার বেশ প্রিয়। একটা ছোট্ট প্লটে এখনও উচু দালান গজিয়ে উঠেনি, সেখানে চারপাশে একচালা দোকানগুলো, মাঝখানটা উন্মুক্ত। নাম-টাইম আউট। খুব আহামরি কিছু নয়, তবু গুলশানে এরকম জায়গা আর দ্বিতীয়টাই বা কোথায়? নাভেদ বলে, 'তোর হাড়কেপ্পন ভাবটাও মনে হচ্ছে যায়নি। এ কোথায় আসতে বললি, এর আগে আসি নি তো।'
আমি বলি, 'কেন জায়গাটি তো ভালোই।'
'ভালো না ছাতা। ভালো রেস্টুরেন্ট কি তুই চোখে দেখেছিস কোনোদিন? বনানী এগারোতে ঝাক্কাস একটা রেস্টুরেন্ট খুলেছে। ওহ্ ক্যালকাটা।'

'ওহ্ ক্যালকাটা মানে কী?'
'মানে আবার কি, রেস্টুরেন্টের নাম।'
আমি অবাক হয়ে বলি, 'ঢাকার মধ্যে রেস্টুরেন্ট, কলকাত্তা তার নাম?'
নাভেদ আমার অজ্ঞানতায় বিরক্ত হয়। 'ধুর, এটা তো চেইন রেস্টুরেন্ট। ইন্ডিয়ার রেস্টুরেন্ট, এবার ঢাকায় খুলেছে। অবশ্য খাওয়া দাওয়ার দাম তোর জন্য বেশিই, নাম জানিসনি ভালোই করেছিস। বিকেলের নাস্তায় তুই আমি বসলে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে হয়তো হয়ে যাবে।'
'আড়াই হাজার টাকা? কী খাওয়ায় নাস্তায়? উটপাখির ডিমফ্রাই আর পেঙ্গুইন পাখির বুকের মাংস?' আমি জানতে চাই।
নাভেদ আমার প্রশ্নে হেসে ফেলে। তার বিরক্তিতে কুচকানো ভুরু সোজা হয়। বলে, 'আরে না, ঐ কাবাব-গোস্তই। নান ফান খেতে পারিস সঙ্গে। বুঝিসই তো, ইন্ডিয়ার রেস্টুরেন্ট, ফ্র্যাঞ্চাইজ ফি তো অনেক। দাম বেশি পড়ে যায়।'
নাভেদের কথা শুনে বুঝা যায়, সে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এমনিতে ছেলে সে খারাপ না, কিন্তু বানিজ্য বিষয়ে অতিরিক্ত পড়ালেখা করে তার বদ হজম হয়ে গেছে। নব্য বড়লোক আর কর্পোরেটের নব্য চাকুরে, দুটোই বড় যন্ত্রনার। নাভেদ আপাতত দ্বিতীয়টায় আছে, প্রথমটায় যাওয়ার চেষ্টায় আমাদের সঙ্গে তাই মোটামুটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্নই তার। অনেকদিন পরে দেখা হলো আজ, কাল রাতে ফোন করেছিলাম একটা কাজে।

আমি বলি, 'আরেকটা রেস্টুরেন্ট ছিল না ইন্ডিয়ান? খানা খাজানা? গুলশান-২ এ? ওখানে গিয়ে নাকি বসার জায়গা পাওয়া যায় না, বাইরে অপেক্ষা করতে হয়।'
নাভেদ বলে, 'ওটা তো আছেই। রিলোকেট করেছে কয়েকদিন আগে, আরেকটু বড় জায়গায় গেছে, তবু লোকজনের ভিড় কমে না। ওহ্ ক্যালকাটার অবস্থাও একই রকম। আরো এরকম আছে নাকি কয়েকটা।'
আমি প্রসঙ্গ পাল্টাই। বড় বড় লোকের বড় বড় ব্যাপার, আমার জন্য এই উন্মুক্ত প্রান্তরই সই। বলি, 'কী খাবি? দই ফুচকা?'
নাভেদ বলে, 'না রে, অন্য কাজ আছে। তার চাইতে চল, তোর কাজ শেষ করি। কী কিনবি?'
আমি বলি, 'মেয়ের জন্য একটা কাপড়। মেয়েটা তার মায়ের সঙ্গে এতদিন ধরে বিদেশ পড়ে আছে, মন খারাপ হয়। একটা ভালো কাপড় কিনতে চাই, তুই পছন্দ করে দিবি।'
নাভেদ হাসে। একসময়, সেই ভোরের কাগজের চাকুরির সময় আমরা যখন খুব বন্ধু ছিলাম, তখন নাভেদ আর আমি মিলে কেনাকাটা করতাম। মেয়েদের কাপড় চোপড় কেনার বেলায় তার পছন্দ ভালো। প্রতি ঈদে সিলেট যাওয়ার আগে নাভেদকে নিয়ে বের হতে হতো আমার। অদ্ভুত অদ্ভুত জায়গার বুটিক শপগুলোর খোজ রাখত সে। মনে আছে, ছোট বোনের হ্যান্ডপেইন্ট কামিজ কেনার জন্য এক মধ্যরাতে আমরা মিরপুরের এক বুটিকওয়ালার বাসা কাম কারখানায় গিয়ে দরজা ধাক্কা দিয়েছিলাম রাত ১টায়। উপায় ছিল না, কারণ পরদিন আমার ভোরের ট্রেন, শেষ বেলা কেনাকাটা করে নিতে হবে।
নাভেদেরও বোধহয় সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে।
বলে, 'ভাসাভি যাবি? কাছেই।'
'ভাসাভি কী? বুটিক শপ?'
নাভেদ আমার দিকে গোল গোল চোখে তাকিয়ে বলে, 'তুই শালা ভাসাভি চিনিস না? থাকিস তো এই মহাখালীই, কামরাঙিচরে তো থাকিস না। ন্যাকামি করিস কেন?'
আমি ভাসাভি না চেনার জন্য লজ্জিত হই। আমতা আমতা করে বলি, 'আসলে আমার তো এসব চেনার দরকার পড়ে না। বউ নিজের শপিং নিজেই করে নেয়।'
নাভেদ আমাকে জ্ঞান দেয়ার সুরে বলে,' ভাসাভি হচ্ছে ইন্ডিয়ার ফ্যাশন শপ। গুলশানে ওদের শোরুম দেখিস নি? গোটা একটা বাড়ি নিয়ে কারবার। ঈদের সময় আরটিভিতেই তো বোধহয় দেখালো, একেকটা পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে আশি-নব্বই হাজার টাকা করে। শাড়ির দাম পঞ্চাশ হাজার থেকে দেড়লাখ।'
আমি বললাম, 'আমার মেয়ের জন্য কি এখন দেড়লাখ টাকার শাড়ি কিনব?'
নাভেদ আমার রসিকতায় মজা পায়। বলে, 'আরে ধুর, বাচ্চাদেরও অনেক কাপড় পাওয়া যায়। ১০ হাজার টাকার মধ্যে নিশ্চয়ই হয়ে যাবে।'
আমি মনে মনে চমকাই। বাচ্চারা দ্রুত বড় হয়, দুই মাস পরপরই কাপড় ফেলে দিতে হয়। দুইমাসের জন্য দশ হাজার টাকার কাপড়? কে কিনে কে জানে। কিনে বলেই তো বিক্রি হয়।
আমি আর নাভেদ 'টাইম আউট' থেকে বেরিয়ে আসি। নাভেদের পিছু পিছু হাটি, সে নিশ্চয়ই ভাসাভির দিকে যাচ্ছে।

ভাসাভিতে পৌছাতে দেরি হয় না আমার। হঠাৎ করে দেখলে মনে হয় কাভি সাসভি, কাভি বহুতি নামের হিন্দি সিরিয়ালটার স্টুডিওতে ঢুকে পড়েছি। আসলেই এলাহী কাণ্ড। ঈদটিদ নেই, তবু ভিড় আছে বেশ। অবশ্য শীতকাল মানেই বিয়েশাদীর সিজন, মেয়েদের কাপড়ের বাজার মন্দ যাওয়ার কথা নয়। আশে পাশে মেয়েরাই বেশি, মেয়ে না বলে মহিলা বলাই ভালো। মেয়ে বা মহিলা যা-ই বলা হোক, দেখতে সবাইকে খুব সুন্দর লাগে। ঝা চকচকে গায়ের রঙ, চুলগুলো সব একেবারে সোজা সোজা। আমি জানি, চুলে ইস্ত্রি করে এরকম করে আজকাল সবাই।
আমি নাভেদকে ফিস ফিস করে বলি, 'এ তো একেবারে স্টারপ্লাস রে। মেয়েগুলোর সবাই চুলে ইস্ত্রি দেয় কেন, বলতে পারিস?'

নাভেদ বলে, 'ঐ যে, হিন্দি সিরিয়ালে দেখায় তো, তাই। ঢাকায় বোধহয় এই কাণ্ড শুরু করেছিল জাভেদ।'

আমি একটু থমকাই। হিসাব মিলে না। নাভেদের ছোট ভাইটাকে আমি সবসময়ই সহজ সরল দেখে এসেছি, সে বেচারা মেয়েদের চুল ইস্ত্রি করে বেড়াবে কেন?
আমি বলি, 'তুই না গতকাল ফোনে বললি, জাভেদ এখন ডেন্টালে পড়ে?'
নাভেদ আমার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকে। তার চোখে বিভ্রান্তি। তারপর বুঝতে পেরে হো হো করে হেসে উঠে। তার হাসিতে দোকানের সেলস গার্লগুলো ফিরে তাকায়। সে হাসি চাপতে চাপতে বলে, ' তুই কি ভেবেছিস আমার ছোট ভাই জাভেদ? তুই তো দিনে দিনে পুরো গর্দভ হয়ে যাচ্ছিস। আরে আমি বলছি, জাভেদ হাবিবের কথা।
ইন্ডিয়ান নাপিত। কানিজ আলমাস ওকে নিয়ে এসেই তো খুলল, জাভেদ এট পারসোনা। তারপর থেকেই তো পারসোনার জয়জয়কার। এর আগে কানিজ আলমাসকে চিনত কে? তখন ঐ বিথীস বিউটি পার্লার না কী কী জানি, ওগুলো হিট ছিল। কানিজ আর জাভেদ মিলেই তো কাপিয়ে দিল তারপর। জাভেদ এসে এসব চুল স্ট্রেইট করা, কার্ল করা, রঙ করার ধুম লাগাল।'
আমি এবার হাসি। 'জাভেদ এট পারসোনা'র কথা আমার মনে আছে। শালার এক দেশ বটে আমাদের, চুল কাটতেও ফরেন নাপিত। আমি পারসোনার বুদ্ধির প্রশংসা করি। যে দেবতা যে ফুলে সন্তুষ্ট, ঢাকার পাবলিক ইন্ডিয়ার নাপিত না শুনলে চুলই কাটবে না হয়তো।

আমি মুখ হা করে ভাসাভির চারপাশে তাকাই। বাচ্চাদের কাপড় দেখা যাচ্ছে না এপাশে, কিন্তু নারীদের কাপড় যেগুলো দেখছি, সেগুলোর মাঝে খুল্লাম খুল্লা ভাব প্রবল। গুলশানে হয়তো চোখে লাগে না, কিন্তু গুলশানের বাইরে হয়তো চোখে লাগবে। আমি বলি, 'এখান থেকে চলতো, চোখ ধাধাচ্ছে।'
সে বলল, 'তাহলে জিনাতে যাবি? আরো বড় দোকান। নতুন করেছে। একেবারে ঝা তকতকে। এমন কোনো ডিজাইন নেই যেটা পাবি না।'
আমি বললাম, 'ওটাও কি ইন্ডিয়ান?'
নাভেদ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে, 'অবশ্যই। ইন্ডিয়ান ছাড়া ভালো জিনিস পাবি কই? সবই ইন্ডিয়ান। বাংলাদেশী পেতে হলে বঙ্গতে যা।'
আমি বললাম, 'বঙ্গ ছাড়া ভালো জিনিস নাই?'
নাভেদ বলল, 'নাই। এসব বড় দোকান যদি তোর পছন্দ না হয় তাহলে ইস্টার্ণপ্লাজা কিংবা বসুন্ধরার মার্কেটগুলোতে যেতে পারিস। কিন্তু জিনিস সবই ইন্ডিয়ান। মাসাককালি হচ্ছে হিট। ঢাকা শহরে যে পরিবারের রোজগার ভালো, তারাই ইন্ডিয়ান কাপড় পরবে, সেটা ছোট বড় যে বয়েসেরই হোক। যাদের আয় রোজগার কম, তারা এখনও ঐ সিল মারা মার্কা ব্লকের কাপড় পরে। বাকিরা সব মাসাককালি নয়তো মুন্নি বদনাম হুয়ি।'
আমি নাভেদের দিকে তাকাই। সে তার ব্যবসা জ্ঞান দিয়ে আমাকে এখন হয়তো অর্থ আর মধ্যবিত্তের পরিচয় সংকট জাতীয় ভারি বক্তৃতা দিয়ে বসবে। একসময় দিত, কিন্তু এখন দেখি দিল না। সময় বদলাচ্ছে আসলেই, আমি টের পাচ্ছি না।

কিন্তু তবু নাভেদের কথাবার্তা আমার কাছে অতিশোয়ক্তি মনে হয়। একটা জাতি রান্না করে দেশ বিদেশে হইচই ফেলে দিয়েছে, দুনিয়ার সব বড় বড় শহর মিলিয়ে হাজার হাজার রেস্টুরেন্টের মালিক-বাবুর্চি সবাই বাংলাদেশী, সেই জাতির গর্বের শহরে 'আহ্ ঢাকা' নামের রেস্তোরা নেই, আছে 'আহ্ ক্যালকাটা।'
দুনিয়ার বড় বড় রিটেল স্টোরে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী কাপড়। মেড ইন বাংলাদেশ এখন বিশ্ব ফ্যাশনের লেবেল ট্যাগ। কিন্তু সেই জাতির গোটা মধ্যবিত্ত নাকি এখন মাসাককালিতে মশগুল। উহু, এত নিশ্চয়ই হবে না।

আমি একথাই বলি, ' তোর সব কিছুতেই বাড়াবাড়ি।' নাভেদ বলে, ' ধু-র, তুই কিচ্ছু জানিস না। বাংলাদেশে ফ্যাশন মানেই এখন ইন্ডিয়ান ফ্যাশন। সেটা চুল হোক কি গোফ হোক কি জামাকাপড় হোক। বাই দ্য ওয়ে, তোর ভুড়ি কমাবি? আমি খেয়াল করেছি, কিছুক্ষণ পরপরই তুই নিজের শার্টে হাত বুলাচ্ছিস, ওটা কোমর থেকে ছুটে আসছে কি না দেখছিস।'
আমি বলতে গিয়েও বলি না, সে খ্যাত বলে আমাকে প্রথমেই আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়ে দিয়েছে আজকে। বরং আমতা আমতা করে বলি, 'কোনো ডায়েট রেসিপি আছে নাকি তোর কাছে?'

নাভেদ চুইংগাম চিবাতে চিবাতে বলে, 'ভিএলসিসি যা। মেদ ভুড়ির যম। আড়াই মাসে আড়াই ইঞ্চি ভুড়ি কমিয়ে দেবে তোর, আড়াই লক্ষ টাকা লাগবে। তবে সিরিয়াল পাবি কি না জানি না, বেজায় ভিড় ওখানেও।'
আমি চমকাই। বলি, 'কী বলিস? আড়াই ইঞ্চি ভুড়ি কমাতে আড়াইলক্ষ টাকা? এক ইঞ্চি ভুড়ি কমাতে এক লাখ?'
আমার গলায় বিষ্ময় ফুটে উঠলেও নাভেদ সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করে না।
নিজের মতো করেই বলে, 'হবে না? ইন্ডিয়ার দোকান। বাঙালির ভুড়ি কমিয়ে কিছু কামাতেই তো তারা ঢাকা এসেছে, নাকি?'

পরিশিষ্ঠ-১ :
এই গল্পটি দীর্ঘ, আমি সেটি লিখতে লিখতে ক্লান্ত হয়ে পড়ব, পাঠকও ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। সংক্ষেপে তাই শেষটুকুই বলি।
সেদিন রাতে হঠাৎ করে আমি একটি দুঃস্বপ্ন দেখি। গুলশানের রাস্তায় আমি দাড়িয়ে আছি-উলঙ্গ। আমার চারপাশে অনেকগুলো মানুষ। তাদের পোশাক আশাক ঝিলমিল-মাসাককালি নয়তো মুন্নি বদনাম হুয়ি, তাদের চুলগুলো ইস্ত্রি করে পালিশ করা। তারা আমাকে ঘিরে ধরে আর হিন্দিতে কী যেন বলতে থাকে ক্রমাগত।
আমি হিন্দি বুঝি না, তাই তাদের কথা বুঝতে পারি না। আমি খালি আমার উলঙ্গ দেহের দিকে তাকিয়ে দেখি, গায়ের চামড়ার কোথাও মেড ইন ইন্ডিয়া লেখা কী না।

পরিশিষ্ঠ-২ :
এই গল্পের সব চরিত্র কাল্পনিক। কিন্তু দুঃস্বপ্নটি সত্যি।
আর সত্যি গুলশান এভিনিউয়ের ঐ দোকানগুলো।


মন্তব্য

ধূসর জলছবি এর ছবি

চলুক লেখার চরিত্র কাল্পনিক হলেও এরকম চরিত্রের আমাদের চারপাশে কোন অভাব নেই । আপনার দুঃস্বপ্নটাও আপনার একার না আমাদের সবার।

nadeem এর ছবি

আমি আপনার সাথে এক্ মত

স্যাম এর ছবি

চলুক

otithi  এর ছবি

ভালো লাগলো সরলতা।

গরিব মানুষ এর ছবি

আরিফ ভাইঃ অর্ধ শিক্ষিত বাঙ্গালী জাতিকে এই সব বলে লাভ নাই!! সারাদিন ভারতের গুষ্ঠি উদ্ধার করে রাতে হিন্দি মুভি দেখে। কয়েকদিন আগে আমি যে বাসায় সাবলেট থাকি সেই বাসার গাড়ীতে সব গান বাংলা গান সেট করায়, বাড়ির বাঙ্গালী আপা তার বাচ্চাদের বললো এখন তার (আমার) ইচ্ছেতে গান শুনতে হচ্ছে! আমি কইলাম, আপনার পছন্দ না হলে সরাই ফেলি, আপনি আপনার বাচ্চাদের কি শোনাবেন সেটা আপনার ব্যাপার।

আমরা জাতিগত ভাবে "গরীব মানুষদের" ঘৃণা করি, তা না হলে এই ভারত প্রীতির কোন মানে নাই!

এতো কষ্ট করে লিখে কি করবেন, একদিন দুইদিন, তার পরে ঘুরে সব সমান! শালার বাঙ্গালীর ব্যাক্তিত্ববোধ আজ তলাতে গিয়ে ঠেকেছে!

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

গুলশানের রাস্তায় আমি দাড়িয়ে আছি-উলঙ্গ।

আপনি একা নয়। আমাদের উলঙ্গ রূপটাও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন।
ধন্যবাদ, একটি অর্থবহ সুন্দর পোস্টের জন্য।
১ মার্চ ভারত বনধ কর্মসূচীর সফলতা কামনা করছি।

মেহেদী তুহিন  এর ছবি

খুবই ভাল লাগছে ভাই। এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম।

জিজ্ঞাসু এর ছবি

আমি খালি আমার উলঙ্গ দেহের দিকে তাকিয়ে দেখি, গায়ের চামড়ার কোথাও মেড ইন ইন্ডিয়া লেখা কী না।

অচিরেই এমন সিল স্বপ্নে নয় সত্যিই গায়ে মেরে দেবে।
যে দেশের মন্ত্রী আশরাফ বলে বিএসএফ সীমান্তে আগেও লোক মেরেছে, ভবিষ্যতেও মারবে। যে দেশের মন্ত্রী বলে "একসিডেন্ট ইজ্ একসিডেন্ট" - সে দেশের মানুষ ভেতরে বাহিরে ধর্ষিত হবে, এটাই স্বাভাবিক।

___________________
সহজ কথা যায়না বলা সহজে

অরফিয়াস এর ছবি

লজ্জাজনক, নিজেদের উলঙ্গ করে দেওয়ার এই নীতির পরিবর্তন আবশ্যক

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

মরুদ্যান এর ছবি

খুব ভাল লাগল চলুক

নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী এর ছবি

চমৎকার লাগলো গল্পটা। আসলে আমরা নিজেরাই নিজেদের উলঙ্গ করে ফেলেছি। চারপাশে ভারতীয় আর ভারতীয় পণ্য। দুদিন পর-তো ভারতীয় ডাবল ডেকারও চলবে পথে পথে। একটা গন আন্দোলন দরকার, একটা বিপ্লব। নিজের আত্মমর্যাদা উপলব্ধি করার বিপ্লব।

রেদওয়ান বাশার এর ছবি

আরো একটা সত্য তথ্য দেই, গুলশানের ১৩৮ নম্বর সড়কটি দুই প্রান্তে ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করা থাকে, সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নেই ওই রাস্তায়। ওই রাস্তায় ভারতীয় হাই-কমিশন। একই ভাবে বন্ধ থাকে ৫৮ নম্বর সড়কের একাংশ, ওখানে আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের বাসা। ওই দুই রাস্তায় অন্য কোন বাড়িতে আপনার যাবার থাকলে সিকিউরিটির জেরা, চেকিং পার হয়ে যেতে হবে আপনাকে। সোজা পথটা ফেলে আপনাকে কখনো কখনো গন্তব্যে যেতে হবে ঘুরপথে।
ভারতীয় হাই-কমিশনারের গাড়ি যেতে দেখেছেন কোন দিন ঢাকার রাস্তা দিয়ে? একদিন সাইরেন বাজাতে বাজাতে মাইকে সব গাড়িকে বায়ে চাপতে বলে সামনে পিছে পুলিশের গাড়ি নিয়ে ওনার গাড়ি যাচ্ছিলো ওই গুলশানের রাস্তা দিয়েই, অনেকবার হর্ণ দেবার পরও আমি বায়ে চাপিনি। একসময় উল্টোদিকের গাড়ি আসবার পথটা দিয়ে সেই গাড়ি আমাকে অতিক্রম করে যায়। যাবার সময় বাংলাদেশের পুলিশের গাড়ি থেকে ধমক দিয়ে জানতে চাওয়া হয় "চক্ষে দেখস না?!"
আরিফ ভাই, আপনিও তো দেখি চোখে দেখতে চান না। খুব ভালো লাগলো লেখাটা।

Mostafiz  এর ছবি

দেশটা কবে আমাদের হবে?
এই চামচামি বন্ধ হবে কবে?

ইমরোজ শাহেদ এর ছবি

বাঙালিরা বিদেশে হাজার হাজার রেষ্টুরেন্ট চালায় বটে তবে সেগুলো প্রধানত ইন্ডিয়ান রেষ্টুরেন্ট নামে চালান হয়, এই কথাটা কিন্তু আপনি এড়িয়ে গেলেন। আমার মনে হয় আগ্রাসণ করার দরকার ইন্ডিয়ার নাই কারণ আমরাই কাপড় খুলে পেতে দিয়ে আহ্বান জানাচ্ছি।

মন মাঝি এর ছবি

চলুক

হিন্দী চ্যানেলগুলির বাস্তবতার ম্যানুফ্যাকচার্ড অশ্লীল প্যারডি এখন আমাদের জীবনে একটা ভুতুড়ে স্যুরিয়াল বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর কত!

****************************************

তাসনীম এর ছবি

চলুক

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

সত্যপীর এর ছবি

উত্তম জাঝা!

..................................................................
#Banshibir.

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

আমরা এমন এক জাতি, যারা বোধহয় ধর্ষিত হতে ভালবাসি।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

mahmud এর ছবি

এসব দেখলে কষ্টটাই শুধু বাড়ে। আমরা আমাদের জাতিসত্ত্বাকে কেনো এভাবে বিলিয়ে দিচ্ছি?

তৌফিক জোয়ার্দার এর ছবি

অদ্ভুত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ফেসবুকে শেয়ার দিলাম। আমার শেয়ারের আশেপাশেই থাকবে জানি হিন্দিতে লিখিত কোন স্ট্যাটাস আপডেট। কবে যে আমরা স্বাধীন হব?

Ayesha Sania এর ছবি

আড়ং, কে ক্রাফট, এবং এই রকম দেশী বুটিক এর জামা-কাপড় তো আবার সুতি কিংবা সুতি-টেপ কাপড়ে বানানো, সেগুলি পরলে ও তো আর ইজ্জত থাকেনা অনেকের....

সাগর এর ছবি

ভাইরে আতন্কে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। দেশে যাইনি প্রায় এক দশক। বইমেলার কথা শুনলে সাহস পাই, কিন্তু আপনি তো ভয় ধরিয়ে দিলেন।

Joy Imran এর ছবি

ভালই লাগলো অপ্রিয় সত্যি কথাটা বললেন।।

থার্ড আই এর ছবি

ঢাকার গুলশানে যদি ওহ্ ক্যালকাটা নিয়ে আমরা উলঙ্গ হয়ে যাই তাহলে লন্ডনের বাংলা টাউন নিয়ে ব্রিটিশদের আত্মহত্যা করা উচিত। শুধু বাংলা টাউন নয়,লন্ডনে লিটল ভেনিস, চায়না টাউন ও আছে সেই সাথে বাংলাদেশের নামে হাজার হাজার রেস্টুরেন্ট আছে। যাদের রেস্টুরেন্টের নামের আগে ইন্ডিয়ান ছিলো তারাও ধীরে ধীরে সেগুলো বাংলাদেশী নামে পরিবর্তন করছেন । লন্ডন সফরকালে ব্রিক লেনের অলিগলিতে বাংলা লেখা দেখে আপনারকি প্রাণ জুড়িয়ে যায়নি ? এখন চলছে গ্লোবাল ডাইভারসিটির যুগ।
আমি ওহ্ ক্যালকাটা প্রতিষ্ঠায় কোন দোষ দেখিনা। আমার আপত্তি খাবারের দাম নিয়ে, আমাদের দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে সেই খাবারেরর মূল্য নির্ধারণের দিকে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা উচিত। স্টার কাবাবে আড়াইশ টাকায় কাবাব পাওয়া গেলে ওহ্ ক্যালকাটাতে কেন আড়াই হাজার টাকা দিতে হবে সেইটার জন্য প্রতিবাদ হৈতে পারে।

-------------------------------
স্বপ্নকে ছুঁতে চাই সৃষ্টির উল্লাসে

স্বাধীন এর ছবি

ঢাকার গুলশানে যদি ওহ্ ক্যালকাটা নিয়ে আমরা উলঙ্গ হয়ে যাই তাহলে লন্ডনের বাংলা টাউন নিয়ে ব্রিটিশদের আত্মহত্যা করা উচিত।

তুলনাটা সঠিক হয়নি বলে মনে করি। লন্ডনের বাংলা রেস্ট্রুরেন্ট কিংবা বাজার অথবা চায়না টাউন মূলত সেই সব দেশের বাংলা বা চাইনিজ অভিবাসীদেরকে ঘিরে। ওহ্ ক্যালকাটা বা অন্যান্য যেসব ইন্ডিয়ান প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে সেগুলো যদি ইন্ডিয়ান অভিবাসীদের জন্যে হতো আপত্তির বিশেষ থাকতো না। কিন্তু সেটি তো নয়। ওঁয়া ওঁয়া

পৃথ্বী এর ছবি

বাংলা টাউনে কিংবা চায়না টাউনে বাঙ্গালী আর চাইনিজরাই থাকে কিন্তু বাংলাদেশের "ক্যালকাটা টাউন" এ কোন ভারতীয় থাকে না, সব বাংলাদেশীতে সয়লাব। বাংলাদেশের সংস্কৃতি অন্য দেশে যাচ্ছে না কিন্তু অন্য দেশের সংস্কৃতি ঠিকই এদেশে আসছে। সংস্কৃতির এরকম একমুখী প্রবাহ আর যাই হোক, বিশ্বায়নের বৈশিষ্ট্য না।

থার্ড আই এর ছবি

স্বাধীন ও পৃথ্বী আপনাদের দু'জনের জন্য বলছি, বাংলা টাউনে সব বাঙালি থাকেন সেই কথা কে বলেছে ? আপনাদের ধারণা ভুল। পুরো টাওয়ার হ্যামলেটসএ বাঙালি ৩৬ %, আর ব্রিক লেনে বাঙালিদের ব্যবসাও সেই একই অনুপাতে। আর এই রেস্টুরেন্টগুলোতে খেতে আসে বিশ্বের ভোজন রসিকরা। বাঙালি ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম।মুল কথা হচ্ছে পুরো ব্রিটেনে যে পরিমান বাঙালি থাকেন পূর্ব লন্ডনে সেই অনুপাত সবচেয়ে বেশী। কিন্তু ৭৪ শতাংশই কিন্তু অন্যরা দখল করে আছে । স্বাধীন আমার তুলনা যদি মানতে না পারেন তাহলে ঢাকার বাঙালি মালিকানাধীন চায়নিজ কিংবা থাই রেস্টুরেন্ট গুলো বন্ধ করে দিতে বলছেন আপনারা। বাঙালিরা যে পিজা হাট, কেএফসি'র ফ্রেঞ্জাইজ নিয়েছে সেগুলোও বন্ধ করে দেবেন? বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীগুলো যেখানে বাঙালি পরিচালক রয়েছে; টেলিরণ কিংবা এয়ারটেল এর মালিকানায় যে সকল বাঙালিরা যুক্ত তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিবেন ? আরো উদাহরণ চান ? ব্রিটেনে বার্মিংহাম শহরে একটা সুপার শপ আছে যার সাইন বোর্ড পুরোটা বাংলাদেশের পতাকা দেয়া, লাল আর সবুজের রঙানো নিজ দেশের পতাকা শোভিত সাইনবোর্ড দেখে সেই দোকানে শপিং করতে গিয়ে দেখি মালিক পাকিস্তানী ! এখন বলেন ব্রিটেনের মতো জায়গায় এক পাকিস্তানী বাংলাদেশের নামে সুপার স্টোর করেছে !

বাংলাদেশে বাঙালিরা যদি চায়নিজ কিংবা থাই রেস্টুরেন্টের মালিক হতে পারে তাহলে 'ওহ্ ক্যালকাটা'র মালিকানায় বাঙালি থাকলে দোষ হয়ে যাবে? গ্রহন ও বর্জনের সিদ্ধান্ততো আপনার থাকছেই।

-------------------------------
স্বপ্নকে ছুঁতে চাই সৃষ্টির উল্লাসে

তানজীর এর ছবি

এটা খুবই দুঃখজনক যে অাপনার মতো লোক বিষয়টি অনুধাবনে ব্যর্থ হচ্ছেন। অাপনার কথায় স্পষ্ট যে অাপনি অন্য কারো লজিক মানতেও অাগ্রহী না- এবং ধরেই নিয়েছেন চায়না টাউন অার বাংলা টাউন সম্পর্কে অাপনার চেয়ে বেশী কেউ জানেনা। ২-টা অালাদা বিষয়কে এক রকম করার চেষ্টা করছেন। অাপনার ইউ কের কথা বললেও সেখানে ব্রিটিশরা বাংগালী বা চাইনিজ খেতে যায় শখ করে। অামাদের দেশেও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট অাছে। চাইনিজ মালিকরা চালায় এরকমও অাছে- কিন্তু কেউ কোনো প্রশ্ন তুলেছে? তুলেনি। কারণ অামরা চাইনিজ চ্যানেল দেখে ওদের অনুকরণ করার চেষ্টা করছিনা। গ্রহণ বর্জনের সিদ্ধান্ত তো অামরা কবেই হারিয়েছি। এ কারণেই তো হট্টগোল।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

থার্ডাই, উলঙ্গ হওয়ার পেছনে আহা কিংবা উঁহু ক্যালকাটা মূল কারণ না। মূল কারণ হলো আমাদের, বাংলাদেশীদের মাত্রা ছাড়ানো ভারতীয়-রদ্দি-প্রীতি। আমি যতোটুকু বুঝতে পেরেছি, পোস্টে সেটার কথাই বলা হয়েছে।

বৃটিশরা যদি নিজেদের 'স্বকীয়তা' (শব্দটা খুব গুরুত্বপূর্ণ) ভুলে বাংলা, হিন্দি, ঊর্দূ আর নিদেনপক্ষে মান্দারিনে ওঠা-বসা শুরু করে তখন আপনার উদাহরণটা দিলে খাটলেও খাটতে পারে। যেহেতু এতোদিনের এতোগুলো সম্মিলিত আগ্রাসনেও বৃটিশদের টলানো যায়নি তাদের 'নিজস্ব'তা থেকে, সুতরাং, দুঃখজনকভাবে আপনার উদাহরণটা (বোধ'য়) এখানে ঠিকমতো ফিট হচ্ছে না।

থার্ড আই এর ছবি

ধুগো, লেখার এই অংশে আমার খানিকটা দ্বিমত

আমি অবাক হয়ে বলি, 'ঢাকার মধ্যে রেস্টুরেন্ট, কলকাত্তা তার নাম?'

তবে লেখকের দেশপ্রেম আর ইমোশনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, ঢাকায় কলকাত্তা নামের রেস্টুরেন্ট থাকা যাবেনা অথবা এটিকে আলাদা করে ভারত প্রীতি বলা হবে এমনটাও মানতে পারিনি। কোন বিতর্ক নয়, এটি আমার নিজস্ব মতামত। ব্যবসায়িক দিক বিবেচনা করে কোন বাঙালি যদি কলকাত্তা, লন্ডন কিংবা নিউ ইর্য়ক নামে রেস্টুরেন্ট খোলেন সেখানে আপনি আমি কোন প্রেম দিয়ে সেটা থামাতে পারবোনা যদিনা আমাদের ভেতরে চেতণার উম্মেষ না ঘটে, আমাদের এই দৈণ্যতা স্বীকার করছি, এই দৈণ্যতা রুখতে প্রয়োজন সরকারী নীতিমালা।
কোন জাতিকে কিন্তু আপনি আমি সম্মিলিত ভাবে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে নিজেদের সংস্কৃতি থেকে টলাতে পারবো না, সংস্কৃতি কিন্তু তার নিজস্ব নিয়মে চলে, মানুষ সময়ের সাথে সাথে তার পছন্দের কালচারে অভ‌্যস্থ হয়। আপনি আমি প্রবাসে থেকে নিজেদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে অনেক সংস্কৃতিকি বিসর্জন দেইনি ? ব্রিটিশদের খাদ‌্যাভাস পরিবর্তনে কিন্তু বাঙালির কোন স্বপ্ন ছিলোনা বরং বাঙালিরা বেঁচে থাকার তাগিতে সংগ্রাম করতে গিয়ে রেস্টুরেন্ট দিয়েছে আর বৃটিশরা সেই খাদ্যের সাথে নিজেদের খাদ্যাভাসও পরিবর্তন করেছে। একসময় এশিয়ানদের শরীর থেকে কারীর গন্ধ আসতো বলে ব্রিটিশরা এশিয়ানদের কাছ থেকে দূরে সরে বসতো , নাক চেপে ধরতো। সময়ের বিবর্তনে এখন ব্রিটিশদের প্রতি সপ্তাহে কারীর গন্ধ না নিলে সপ্তাহটা অভূক্ত থেকেছে বলে মনে হয়।

-------------------------------
স্বপ্নকে ছুঁতে চাই সৃষ্টির উল্লাসে

ধুসর গোধূলি এর ছবি

মানসিক দীনতা থেকে বের হওয়ার জন্য যদি সরকারী নীতিমালা বা আইনের দরকার হয় তাহলে ভয়ানক বিপদ আছে। নিজের ভেতরে যদি ব্যক্তিত্ব বা আত্মসম্মানবোধ না থাকে, সেটা আইন করে পয়দা করা যাবে বলে আপনি বিশ্বাস করেন?

আপনার দ্বিমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, লেখাটার ট্যাগে 'গল্প' কথাটার উল্লেখ আছে। এই গল্পে 'আমি' বর্তমান সময়ের ঢাকা কিংবা বর্তমান দেশীয় সমাজের একাংশের সাথে ইশমাটনেসের দৌড়ে পেছনে পড়ে থাকা একজন। এমন একজনের কাছে আগেপিছে 'আহা-উহু' লাগানো 'কলকাত্তা', 'লন্ডন', 'নিউইয়র্ক', 'লাস ভেগাস' কিংবা 'হাদুমপাদুম' যেকোনো নামের রেস্টুরেন্টই সমানভাবে বিস্ময়ের সৃষ্টি করতে সক্ষম। অন্তত, আমার এইটাই মনে হইছে।

আর, রেস্টুরেন্টের নামের ভেতরে ভারতপ্রীতি খোঁজার ব্যাপারে উপরের মন্তব্যে একবার তো বলেছিই। রেস্টুরেন্টের নামের কারণে আমাদের দেশে ভারতপ্রীতি চালু হয়নি। বরং, আমাদের মাত্রাতিরিক্ত ভারতপ্রীতির কারণেই এইসব নামের ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আমাদের মধ্যে একধরণের অর্গাজমসম অনুভূতির জিভ লকলক করে। যেটা পরিণামে ভয়ঙ্কর। গল্পটার প্রতিপাদ্য খুব সম্ভবত এইটাই।

স্বাধীন এর ছবি

গ্রহন ও বর্জনের সিদ্ধান্ততো আপনার থাকছেই।

গ্লোবাইজেশান আর ফ্রি ইকোনমি এই দুই চালু করে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মেরে আমেরিকা এবং ইউরোপ এখন অর্থনৈতিক মন্দার কবলে, আর চায়না, ইন্ডিয়ার অর্থনীতি তুঁঙ্গে খাইছে । ওবামা আমেরিকার অর্থনীতি ফিরিয়ে আনার জন্যে যে যে পরিকল্পনা নিয়েছে তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে "বাই আমেরিকান"।, সম্প্রতি স্টেট অফ ইউনিউওনের ভাষণে আরো যুক্ত করেছে জব ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা। যারা আম্রিকাতেই কারখানা খুলবে তাদেরকে দেওয়া হবে ট্যাক্স ব্রেকের সুবিধা, আর যারা চায়না/ইন্ডিয়ায় কম পয়সার শ্রমের পেছনে যাবে তারা কোন বাড়তি সুবিধে পাবে না, উল্টো ট্যাক্স বেশি দিবে যা খরচ হবে যারা আম্রিকাতে জব ক্রিয়েট করছে তাদের পেছনে। এতো কথা বলার পেছনে উদ্দেশ্য হলো নিজের ভালো পাগলেও বুঝে। আমরা সব কিছুতেই এতো বেশি উদার যে ট্রানজিট দিয়ে দেই ফ্রি, নদীর পানির হিস্যা না পেলেও অন্যের হিস্যা ঠিকই দিয়ে দেই, নিজেদের পণ্য ঢুকতে না দিলেও নিজেদের বাজার উম্মুক্ত করে দেই সব বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পেছনে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের লাভের জন্যে সরকারি টেলিটক, দোয়েল, রেল, বিমান সব কিছুরেই পিছিয়ে রাখি। সব বহুজাতিক বন্ধ করা সম্ভব না এইটা একটা ফালতু যুক্তি। হয়তো একেবারে বন্ধ সম্ভব নয়, কিন্তু নিজেদের মেরুদন্ড সোজা করলে আজ না হোক একশত বছরে হলেও নিজেদের দাঁড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। আর যদি ভাবি যে না বহুজাতিকের লগে টেক্কা দিয়ে টিকে থাকা সম্ভব নয় তাহলে পুরো দেশটাই বহুজাতিকের ভাগাড়ে পরিণত হবে, যদিও হওয়ার বেশি বাকি নেই। আমার চিন্তার সাথে আপনার চিন্তার মূল পার্থক্য এখানেই। আমি সব বহুজাতিক বন্ধ না করে দিতে চাইলেও সেগুলোর কোনটাতেই আমার সমর্থন নেই। বরং সমর্থন থাকবে দেশীয় প্রযুক্তি, দেশীয় বানিজ্যের উন্নতিতে, এবং সেটাও করতে হবে বহুজাতিকের সাথে সংগ্রাম করেই।

Mohammad এর ছবি

আমি আপনার (Third Eye) কথার সাথে একমত। আমি এই লেখকের লেখার সাথেও একমত। কিন্তু সমস্যা হল, বাঙালি জাতির শিক্ষা গ্রহনে অনাকাংখা। আমরা কোন রকম নিজের নামটা লিখতে পারলেই যথেষ্ঠ বলে মনে করি।
(Pardon me, I'm facing trouble in coping up with this phonetic Bengali writing system. I'm writing the rest in English. I hope readers won't take it otherwise. I'll practice phonetic writings later and will post somewhere again inshAllah)

Ok, the point that the writer has noted here is, our identity as a Bangali is pretty much blending with that of Indians. But truly speaking, there is nothing called an ‘Indian Identity’ or a ‘Universal Indian Culture’. I’m right now sitting inside the British Library. I have two Indian friends beside me. One of them is from Howrah, another is from Kochi. The interesting fact is they are not having conversation in Hindi. They speak pure English. Why? Because, the guy from Kochi doesn’t understand Hindi. He learnt only English and Tamil. On the other hand, the girl from Howrah can speak Bengali, Hindi and English. She also told me that 90% of the West Bengal conversations happen in Bengali. And about 50% of their general people cannot even speak Hindi.

Let’s go back to the issue that Arif Jebotik has raised here. Our kids speak Hindi, we eat Indian food, we use Indian barbers and we address someone ‘গাইয়া’ if he doesn’t follow the trend. It's irony but true. Why are Bangalis losing their identity while Tamil people are not doing that?

Look at England, look at America. Cultures are the same. English artists are working in Hollywood films and so do American artists. Then how is it becoming an identity crisis if someone eats in Indian restaurants once in a while or goes to Indian barber? The problem is not with the Indian restaurant or the Indian barber, the problem is that most people in my country cannot afford that much. The better solution here is, avoid those extra spending people who thinks following Indian trend means becoming modern. গরিব মানুষ wrote into the comment thread, “অর্ধ শিক্ষিত বাঙ্গালী জাতিকে এই সব বলে লাভ নাই”, May be that’s the answer.

Bollywood industry is not an Indian national identity. It’s just a film industry from Maharastra, India. Tamil has their own film industry and so do other states. Therefore, watching Bollowood film and learning Hindi language is not making you Indian rather making you Maharastrian or Uttar Pradeshian. First we should learn the difference between Bangali and Bangladeshi. The girl from Howrah admits that she is a Bangali; but she doesn’t have her own international border, but we have. This is our pride and that is making us a better human being than hers. However, that doesn’t mean that I should close my border and bar the international trade.

Can anyone please tell me, how much foreign currency has been out-flowed from my land because of this BPL tournament? why do we need BPL in Bangladesh? Cricket is a game that Indians play. In the whole world, most people do not know what cricket is? Why are we following Indians and becoming cricket fans rather developing our football team or a team for Olympic? Rather organising BPL and inviting Neha Dhupia for the Dhaka team, why don’t we send our team ‘Dhaka Warriors’ to the IPL/ICL and collect some foreign money? Try to figure out a reason why ICL is banned and why there’s no Dhaka team in IPL.

Our problem is, we do not have the worldview in our mind. How many people thought about rejecting Japanese cars and build their own automobile industry? Is that too expensive? Why not some of the Chittagong business tycoons make a consortium and build a car industry? We need unity. In terms of ‘population’, we have a large country; at least larger than England. We need to remove the sentence, “Bangladesh is a small country in South Asia with an enormous population” from our primary class social studies book. We need to know that we are not a small country, we do not have a land of natural calamities. We are brave, we are great, we have history. If western countries can consider Snow-fall as a blessing, which destroys their total transport system; why do we say our flood is a curse? whereas, flood makes transportation somewhat more convenient.

I know I have left lots of issues and many readers will criticise this write-up. But in the end, you may make me the antagonist, I don't have any objection, but you yourselves please be united.

আমরা নিজেরাই জানিনা আমরা কী? আমরা কত বড়। আমরা পারি 'ওহ কোলকাতাকে' সমালোচনা করতে কিন্তু পারিনা দৌড়ে গিয়ে ডিশের লাইনের ‌তার কেটে দিতে কিংবা বিপিএল বন্ধ করতে। কারণ ছোটবেলা থেকেই শিখেছি আমরা ছোট্ট একটা গরিব দেশের জন্মেছি।

arif এর ছবি

আপনি ব্যপারটা এড়িয়ে যাচ্ছেন কেনো, ওহ্ ক্যালকাটা সমস্যা নয়, সমস্যা আপনার আমার উলঙ্গ স্বভাব

ইশতিয়াক আনোয়ার এর ছবি

অসাধারন

সচল জাহিদ এর ছবি

চলুক চলুক চলুক


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট
কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

স্বাধীন এর ছবি

চলুক

তিথীডোর এর ছবি

চলুক চলুক চলুক

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

চলুক

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

সত্যভাষী এর ছবি

চলুক চলুক

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আমরা হইলাম একটা চরম ফাউল জাতি। নিজেদের বিবেক, বুদ্ধি, ব্যক্তিত্ব আর আত্মসম্মানবোধহীনতা আড়াল করতে আমরা মন্ত্রী-আমলা-উজির-নাজির-কোতোয়াল-সেনাপতি প্রমূখদের সামনে টেনে ধরি।

একবারও ভাবি না যে এইসব মন্ত্রী-এম্পি-কোতোয়ালের 'গোলাম আযম' বরাবর লাত্থি মাইরা আমরা একবার, শুধু একটাবার নিজেদের নিজ নিজ আত্মসম্মানবোধ, ব্যক্তিত্ববোধ আর বিবেকবোধের পরিচয় প্রকাশ করাটা কতো জরুরী!

প্রয়োজনাতিরিক্ত ভারতপ্রেমে মশগুল হয়ে থাকা আমরা গালে-পশ্চাতে চরম চপেটাঘাত খেয়েও খিল খিল করে নির্লজ্জ হাসি হাসতে পারি।

নিটোল এর ছবি

উত্তম জাঝা!

_________________
[খোমাখাতা]

Jubayar এর ছবি

আরিফ ভাইঃ
আপনার লিখা টা খুব ই ভাল লাগল। কিন্তু আমি যতদুর দেখেছি এই আগ্রাসনের জন্য দায়ী আমাদের সরকারী নীতি আর কিছু শিক্ষিত/অশিক্ষিত মূখ

sultana jesmin এর ছবি

যাদের বোধোদয়ের জন্য এই লেখা পরা উচিত তারা তো এটা পরবেনা। কষ্ট লাগে যখন ছোট বাচ্চাগুলোকে দেখি হিন্দিতে কথা বলে,প্রচণ্ড রাগ হয় যখন মা-রা নিজের বাচ্চাদের ভারতীয় পোশাক পরায়।সারাদিন বাসায় হিন্দি সিরিয়াল ,কার্টুন দেখে।

Nobody এর ছবি

ভাই ,
kfc, bfc, coopers etc বাদ গেল কেন। না অই খানে না খাইলে smart হয়া জাবে না। অ্যাঁ

সুমিমা ইয়াসমিন এর ছবি

চলুক

লাবণ্যপ্রভা এর ছবি

ভাইয়া, Zara নিয়ে কিছু বললেন না কেন? এই দোকানটা র্নিলজ্জের মত শাহরুখ, রানী, আমিসাদের দোকানের সামনে টানায়ে রাখছে!!!!!

সোহেল চৌধুরী এর ছবি

মহাখালী থাকতে এক বিকেলে হাটতে হাটতে কৌতুহল বশতঃ ঢুকে পড়েছিলাম ভাসাভিতে। প্রথমেই একটা ধাক্কা, প্রাচুর্যের আর ঔদ্ধত্যের ধাক্কা। এক ধাক্কাতে আমি খুব দ্রুত মিইয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু, তার আগে বুঝতে পেরেছিলাম সেখানে প্রদর্শিত কোন কিছুই কেনার রুচি বা ক্ষমতা কোনটাই আমার নেই।

প্রাচুর্য খারাপ কিছুনা। কিন্তু, প্রাচুর্যের সাথে যখন বিনয় না থাকে তখন শুধু প্রাচুর্যের উৎকট দিকটাই প্রকাশ করা হয়। আর সেটার খুব ভাল উদাহরণ ঐসব ব্র্যান্ড আর তাদের ক্রেতা গোষ্টি। এসব ক্রেতাদের কাছে প্রডাক্টের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যের চেয়ে সেটার আকাশচুম্বী দামের ঔদ্ধত্য তাদের সামাজিক গুরুত্ব বৃদ্ধি করতে বেশী কার্যকর, বিধায়, তারা সহজে তাদের আত্নপরিচয় জলাঞ্জলি দিয়ে স্রোতে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে।

মজার ব্যাপার হল, ঐসব ব্র্যান্ডের বেশীর ভাগ প্রডাক্টই তাদের নিজেদের দেশের মার্কেটের অচল জিনিস। এদেশে সেগুলো বলতে গেলে নিতান্তই উচ্চ দামের ছটায় ক্রেতাদের চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে। অথচ, নান্দনিক ও শৈল্পিক বিচারে অনেক ঊর্ধ্বে থাকা আমাদের নিজস্ব পোডাক্ট (যেমন আমাদের জামদানী) দেশের বাইরে সমাদৃত হলেও দেশের ভেতরে চরম ভাবে অবহেলিত।

আল-আমিন কবির এর ছবি

অসাধারণ আরিফ ভাই! গড়াগড়ি দিয়া হাসি

নিঃসঙ্গ পৃথিবী এর ছবি

চলুক উত্তম জাঝা!

যুমার এর ছবি

সংস্কৃতির এরকম একমুখী প্রবাহ আর যাই হোক, বিশ্বায়নের বৈশিষ্ট্য না।

চলুক
গল্পে উত্তম জাঝা!

আনোয়ার সাদাত শিমুল এর ছবি

চলুক

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

আমি ঢাকায় নবাগত। ভাসাভীর আদি সম্পর্কে জানতাম না, অনেক কিছুই জানিনা এখন পর্যন্ত।

ওহ কোলকাতায় চারজনে এক 'সংক্ষিপ্ত' মধ্যাহ্নভোজনে গিয়েছিলাম, ১০০ ডলার শেষ। আমি তখন জানতাম ওটা একটা আমেরিকান চেইন। এক ছোট ভাই ফ্রেন্ডকে তার বিয়ের শেরোয়ানীটা উপহার দিতে ভাসাভীতে গিয়েছিলাম। ওদের স্টকের সবথেকে কমদামী শেরোয়ানীটায় আমার ৩৬,০০০ শেষ। তবে মেজাজ চরমে উঠলো যখনই সেখানকার স্মার্ট সেলস ম্যানেজার আমাকে পাইরেটেড মার্কস-এন্ড-স্পেনসার এবং জন ল্যাংফোর্ড গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলো। তখন একটু কটুবাক্য বর্ষন করতেই হয়েছিলো।

লেখাটা আমাকে সত্যিকার ছুঁয়ে গেলো। গত রবিবার সন্ধায় আপনার সামনাসামনি দাড়িয়ে অনেক্ষণ ডোরেমন নিয়ে কথাবার্তা হলেও পরিচয়টা আর হয়ে ওঠেনি (মনে পড়ে, রিটন ভাইও সেখানে ছিলো?)। আপনার চিন্তাগুলো আমার কাছে ভালো লেগেছে।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

guest_writter এর ছবি

আরিফ শুধু আপনি একা নন আমরা সবাই আসলে উলঙ্গ হয়ে পড়েছি। দুটো দেশের মধ্যে সংস্কৃতির আদান-প্রদান হতে পারে। সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের এখানে যা হচ্ছে তা হলো আগ্রাসন, যা কিছুতেই কাম্য নয়। এর মাধ্যমে আমাদের নিজেদের মানসিক দৈন্যতাই প্রকাশ পাচ্ছে। কিন্তু হুজুগে বাঙ্গালিদের এই সত্যি বোঝাবে কে???

দীপাবলি।

বোকা মেঘ এর ছবি

চলুক

দ্রোহী এর ছবি

চোখ টিপি

♫♪ রূখি সুখি রোটি তেরে হাথো সে খা কে আয়া মাজা বাড়া
ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পানি তেরে আঙ্গান কা পি কে ছায়া নাশা বাড়া ♪♫

রাতঃস্মরণীয় এর ছবি

কি বাড়া বাড়া লাগালেন ভাই! সব কথার শেষেই একটা করে বাড়া।

------------------------------------------------
প্রেমিক তুমি হবা?
(আগে) চিনতে শেখো কোনটা গাঁদা, কোনটা রক্তজবা।
(আর) ঠিক করে নাও চুম্বন না দ্রোহের কথা কবা।
তুমি প্রেমিক তবেই হবা।

নির্ঝরা শ্রাবণ এর ছবি

আমরা উদার জাতি। তাই সবাইকে নিঃস্বার্থভাবে সব সুযোগ সুবিধা দেই। তার বিনিময়ে প্যান্ট খুলে পাছা এগিয়ে দেই।

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

আমাদের প্রথম সমস্যা সম্ভবত আমরা অশিক্ষিত। শিক্ষিত একটি জাতির আচরণ কেন এমন হবে!

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

Saiful এর ছবি

Dillika laddu kailayo pastatay hoi na kailayo patatay hoi. India er product na thaklay aro bashe problem hoi. amader deshi salara prise akashay othia dai

ananta এর ছবি

darun hoise..খাইছে

তারানা_শব্দ এর ছবি

আজ প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে রান্না করতে, ভাবছিলাম কোথাও গিয়ে খেয়ে নিবো নাকি, আশে পাশে পাকিস্তানি আর ইন্ডিয়ান দোকান।।।।।তাই গেলাম না! একটা বার্গার খেয়ে রান্তে বসবো ভাবছি।

লেখাটা পড়ে মন খারাপ হয়ে গেল।।। সবি সত্যি ঘটনা আসলে ঃ(

"মান্ধাতারই আমল থেকে চলে আসছে এমনি রকম-
তোমারি কি এমন ভাগ্য বাঁচিয়ে যাবে সকল জখম!
মনেরে আজ কহ যে,
ভালো মন্দ যাহাই আসুক-
সত্যেরে লও সহজে।"

রামগরুড় এর ছবি

উত্তম জাঝা! গুরু গুরু চলুক চলুক চলুক

হাবিবুর রহিম এর ছবি

নিজেকে কেমন যেন আত্মপরিচয়হীন মনে হয় ।

(Y চলুক চলুক

চমেক এর ছবি

একটা রিসার্চ এর কাছে মুম্বাই আছি বেশ কয়েক মাস। বাংলার সকল মাসাক্কালি আর মুন্নি বদনাম হুই প্রেমি আর সব মেয়েদের এখানে এসে এক মাস থেকে যাওয়া উচিত। দেখা উচিত যে এরা কতটুকু সাধারন ভাবে চলাফেরা করে। ইডিয়ট বক্সে যা দেখায় তা যে কেবলি কল্পনার জগত তা কি করে বোঝাই। আমি সেই দলের একজন যে বুঝিয়েও না পেরে এখন ক্ষান্ত দিয়েছি, অশান্তির হাত থেকে বাচতে।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।