দুই টুকরো ঢাকা নিয়ে এক টুকরো লেখা

আরিফ জেবতিক এর ছবি
লিখেছেন আরিফ জেবতিক (তারিখ: সোম, ০৭/১১/২০১১ - ২:৪৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুই টুকরো করে ফেলা হবে শিগগীরই। ঢাকাকে দুইভাগ করে দুইটি সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত করা হবে বলে সম্প্রতি মন্ত্রীসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
গত বছর ঈদ উল আযহার আগে আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ১৫ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ভেঙে দুটি করপোরেশন করার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই এ সংক্রান্ত বিলটি উপস্থাপনের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় গত ১৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগরকে দুই ভাগে ভাগ করার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে ৫৬টি ওয়ার্ড নিয়ে দক্ষিণে একটি এবং ৩৬টি ওয়ার্ড নিয়ে উত্তরে আলাদা সিটি করপোরেশন হবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ এদিন সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগে ভাগ করতে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ সংশোধনের প্রস্তাবে মন্ত্রিসভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, 'একটি সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে নগরবাসীর কাঙ্ক্ষিত সুবিধা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলেই এই আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে।'
প্রাথমিক তথ্য মোতাবেক, উত্তর ঢাকা সিটি করপোরেশনটি বর্তমানের ১ থেকে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড, ৩৭ থেকে ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৫৪ ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হবে। দক্ষিণের সিটি করপোরেশনের মধ্যে থাকবে ২৪ থেকে ৩৬, ৪৮ থেকে ৫৩, ৫৬ থেকে ৬৬ এবং ৬, ৭, ৬৮ ও ৯২ নম্বর ওয়ার্ড।

সরকারের কিছু কাজকর্মে আমার মনে হয় এদের আসলে কোনো কাজ নেই, তাই খই ভাজার কাজটাই মনোযোগ দিয়ে করে যাওয়াকে এরা পরম ধর্ম মনে করেন। সিটি কর্পোরেশনকে দুইভাগ করার বিষয়টি আমার কাছে এমনই মনে হয়েছে।

দুই টুকরো করার অসুবিধা:
বিশ্বের কোনো বড় নগরে দুই মেয়র, দুই সিটি কর্পোরেশন আছে বলে আমি শুনিনি। সুতরাং সরকারের এই সিদ্ধান্ত অভূতপূর্ন বলেই মনে হলো। এতে কী কী অসুবিধা হতে পারে সেটা দেখা যাক।

১. পুরো ঢাকা শহরে সমন্বিত কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে না। উত্তরের মেয়র তার অংশে এক পরিকল্পনা করবেন, দক্ষিন অংশের মেয়র অন্য পরিকল্পনা। আর যদি দুই মেয়র দুই দলের হন, তাহলে তো কথা-ই নেই, মুখ দেখাদেখি বন্ধের সংস্কৃতিতে একজন আরেকজনকে বিপদে ফেলতে যতটুকু সম্ভব কাজ চালিয়ে যাবেন।
২. অনাবশ্যক প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হবে। বর্তমান সিটি কর্পোরেশনের দায়-দেনা, জনবল, সম্পত্তি ভাগাভাগি করাটা জটিল আকার ধারণ করবে। পুরোনো কাগজপত্র কার মালিকানায় থাকবে সেটা নিয়ে জনদুর্ভোগ তৈরি হবে। আমার বাড়ির কাগজপত্র উত্তরের সিটি কর্পোরেশনে রাখা নাকি দক্ষিনের অংশে রয়ে গেল, সেটা খুজে বের করা সহজ হবে না।

৩. বৈষম্যপূর্ণ উন্নয়ন হবে। গুলশান বনানী বারিধারা উত্তরার লোকজন যে অংশে আছেন তারা হয়তো সিটি কর্পোরেশনে বেশি ট্যাক্স দিতে পারবেন, তাদের অংশের সিটি কর্পোরেশন তাই এ অংশে ভালো উন্নয়ন করতে পারবে।
একই ভাবে অন্য অংশে কর আদায় হবে কম, উন্নয়ন হবে কম। এতে করে ঢাকায় উন্নয়নের ভারসাম্য নষ্ট হবে।

সুবিধা:
সরকার বলেছে যে ঢাকা মহানগরে লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এক মেয়রের পক্ষে এই মহানগরের ব্যবস্থাপনা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য দুইভাগ করে দুই মেয়রের হাতে ন্যস্ত করতে হবে। আমার কাছে এই যুক্তিটা হাস্যকর ঠেকল। মেয়রের পক্ষে যদি ব্যবস্থাপনা কঠিনই হয়ে পড়ে, তাহলে একাধিক ডেপুটি মেয়রের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। তাই বলে সিটি কর্পোরেশনকেই কেন দুইভাগ করে ফেলতে হবে?
সরকার পরিস্কার করে বলছে না ঠিক কীভাবে দুইজন মেয়র হলে নগর ব্যবস্থাপনার লাভ হবে।

সবকিছু নিয়ে ছলচাতুরি ভালো লাগে না:
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আমার মনে হচ্ছে এটি পুরোটাই রাজনৈতিক। অনেকেই মনে করছেন, একক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ পাশ না-ও করতে পারে, এই ভয়ে তারা এখন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উৎসাহী নয়। এজন্য তারা এই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করতে দিতে চায় না। উল্লেখ্য শুধুমাত্র নবগঠিত সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করতে পারে, কিন্তু ইতিমধ্যে গঠিত হয়ে গেছে এরকম স্থানীয় সরকার ইউনিটের নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত।

কিন্তু ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুইভাগ করার ব্যাপারে সরকারের উৎসাহ অন্যখানে। বিএনপির মেয়র সাদেক হোসেন খোকা একমেয়াদে নির্বাচিত হয়ে দুইমেয়াদ প্রায় শেষ করে আনলেন। ঢাকার মেয়র পদে বিরোধী দলের এই মেয়রকে সরকার সহ্য করতে পারছে না, আবার নতুন নির্বাচনও দিতে পারছে না, সব মিলিয়ে সরকার এখন অস্বস্থিতে আছে।
মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে অপসারণের বুদ্ধি বের করতে ইতিমধ্যে সরকার আইন মন্ত্রনালয়ের কাছে পরামর্শও চেয়েছিল। কিন্তু আইন মন্ত্রনালয়ের পক্ষে এর কোনো পথ বাতলে দেয়া সম্ভব হয়নি। এই পথটুকু আটকে দিয়ে গেছে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তারা ২০০৮ সালের ১৪ মে একটি অধ্যাদেশ জারি করে। স্থানীয় সরকার-সিটি করপোরেশন অধ্যাদেশ-২০০৮ নামের এই অধ্যাদেশটির মধ্য দিয়ে দেশের যেকোনো পুরনো সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। অধ্যাদেশের দ্বিতীয় ভাগের প্রথম অধ্যায়ে দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়াদ প্রসঙ্গে ৬ নম্বর ধারায় বলা হয়,

'করপোরেশনের মেয়াদ উহা গঠিত হইবার পর উহার প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হইবার তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর হইবে, তবে শর্ত থাকে যে, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও, উহা পুনর্গঠিত সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করিয়া যাইবে।'

অর্থাৎ মেয়াদান্তে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সিটি করপোরেশন গঠিত না হলে অন্তর্বর্তীকালের জন্য প্রশাসক নিয়োগ করার কোনো পথ আর এই অধ্যাদেশে রাখা হয়নি এবং সেখানে মেয়রকে সরিয়ে দেয়ার আর কোনো সহজ পন্থা নেই। চলতি সংসদ কার্যকর হওয়ার পর সেখানে আগের সরকারের জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশকে বিবেচনা করে কিছু কিছু অধ্যাদেশ বাদ দেওয়া হয় এবং কিছু অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের অধ্যাদেশটির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় নতুন আইন, স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন আইন-২০০৯। কিন্তু সরকার এসময় খেয়াল করেনি যে প্রশাসক নিয়োগের অপশনটি বন্ধ রয়ে গেছে। এভাবেই আইনটি পাশ হয়ে যাওয়ায় এখন সরকার বিপদে পড়ে গেছে। এখন যদি সিটি কর্পোরেশনকে দুইভাগ করে ফেলা যায়, তাহলে নতুন সিটি কর্পোরেশন তৈরি হবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবেই খোকা মেয়র পদ থেকে বাদ পড়ে যাবেন। আর নতুন সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে আইনের কোনো বাধা না থাকায় সরকার নিজেদের পছন্দমতো প্রশাসক নিয়োগ করে বসে থাকতে পারবে।

আমার কাছে মনে হয়েছে সরকার আসলে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক নয়। এরকম বড় নগর ব্যবস্থাপনায় আসলে প্রয়োজন নগর সরকার। কিন্তু আমাদের দেশে ডেসা-ওয়াশার মতো জরুরি বিষয়গুলো সিটি কর্পোরেশেনের হাতে না দিয়ে তাদেরকে রাখা হয়েছে মশা ডিপার্টমেন্টে। এ কারণে এই নগরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় কোনো সমন্বয়ের বালাই নেই। পৃথিবীর বসবাস অযোগ্য নগর হিসেবে প্রায়ই এই নগর তাই বিভিন্ন তালিকার শীর্ষে থাকছে অনেকদিন থেকেই।

এই সমস্যা বহুল নগরে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের দোহাই দিয়ে সরকার নতুন সমস্যারই সৃষ্টি করছে মাত্র।
ঢাকার লোকসংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ার কারণে যদি এই নগরকে দুইভাগ করে দুইজন মেয়র দিতে হয়, তাহলে আমার একটা বিনীত প্রশ্ন আছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় এর লোকসংখ্যা ছিল ৭ কোটি। আমাদের একজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন। এখন আমাদের লোকসংখ্যা সরকারি হিসেবেই ১৬ কোটি।
আমি সরকারের কাছে জানতে আগ্রহী, তারা কি এখন দেশকে দুইভাগ করে দুই প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেবার কথা চিন্তা করছেন?


মন্তব্য

হিমু এর ছবি

আমি দীর্ঘদিন ধরেই এক আসরে দুটি বিয়ে করার আবদার করে আসছি। এইবার আম্মাকে লৌহকঠিন যুক্তিসহ চিবি দিয়ে ধরবো। এক ঢাকায় দুইটা মেয়র থাকতে পারলে আমার ক্যান দুই বৌ থাকতে পারবে না?

এই পোস্টের পাঠিকাদের মধ্যে যমজ বোন বা দেখতে প্রায় একরকম খালাতো বোনেরা থাকলে সত্বর যোগাযোগ করুন। বিফলে মূল্য ফেরত।

চরম উদাস এর ছবি

হো হো হো

হিমু এর ছবি

ধুর! এক বুক আশা নিয়ে কমেন্ট দেক্তে ঢুক্লাম, ভাব্লাম খোঁজখবর দিবেন কিছু, আইসা দেখি খ্যা খ্যা কইরা হাসেন খালি। আপনে কোনো কামের না মিয়া। ধুক করে নিভে গেল বুক ভরা আশা।

চরম উদাস এর ছবি

হে হে, আপনি ব্যাসিকে গণ্ডগোল করে ফেলছেন। নিজেকে মেয়র না ভেবে নিজেকে ঢাকা শহর ভাবতেছেন। এইবার মনে করেন আপনাকে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ দুইটারই মেয়র বানায়ে দিলাম। সামলাইতে পারবেন? বোনাস হিসেবে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের প্রাক্তন প্রেমিক শামিম ওসমান গং আপনার পিছনে রামদা নিয়া হাসিমুখে দাড়ায়ে আছে, সব রকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে।
আর হাসতেছি এই ভেবে, জীবনে কোন বিবাহিত মানুষকে শুনলাম না দুই বিয়া করতে চায় ( আই মিন আরেকটা এড করতে চায় খাইছে ) । sometimes one is too many ওঁয়া ওঁয়া ছেলে হোক মেয়ে হোক একটি স্ত্রীই যথেষ্ট।

রু (অতিথি) এর ছবি

অসাধারণ প্রতিমন্তব্য। কিন্তু আপনার পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব বের হয়ে পড়েছে। বিবাহিত "মানুষের" মধ্যে আপনি মেয়েদের ধরেননি।

চরম উদাস এর ছবি

ইয়ে, মানে... দুইটা বিয়ে করতে চায় এমন কোন মেয়ের কথা তো শুনি নাই।

কল্যাণF এর ছবি

আপনি নিজেকে স্টেরিওটাইপিং এর দোষে দুষ্ট করে ফেললেন দেঁতো হাসি

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

কল্যাণF এর ছবি

ছেলে হোক মেয়ে হোক একটি স্ত্রীই যথেষ্ট

এইটা চরম একটা স্লোগান হইছে। একটা উদাসী স্লোগান সংকলন করে ফেলেন রে ভাই। হাততালি

সাফি এর ছবি

কোন হালায় কয় বিয়ার পরে সে মেয়র থাকতে পারসে? সব পুলাই বিয়ার পরে ঢাকা শহররে উদা ভাই

হিমু এর ছবি

এইসব ঝোপেঝাড়ে পিটানো কথাবার্তা বলে আমার জন্য যমজ (নন-সিয়ামিজ) পাত্রী খোঁজার দায় আপনি এড়াতে পারেন না। জনগণ সব জানে। এখনও সময় আছে, সিরাতুল মুস্তাকিমে আসুন। পথের বাধা সরিয়ে দিন, দেশকে এগোতে দিন। বদলে দা্উ বদলে যাউ, যাউ যাউ যাউ।

সাজ্জাদ সাজিদ এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

কল্যাণF এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

দুই বিয়ের শর্ত তো আগে পূরণ করতে হবে। এক বিয়ের বয়স ৩০ বছর হলে ৬০ বছরে গিয়ে ২ বিয়ে করা যাবে। বাংলাদেশের আইনের সর্বনিম্ন হিসাব ধরলেও ২ বিয়ের যোগ্যতার জন্য ৪২ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

হিমু এর ছবি

ভাগ্য ভালো অন্য কিছুকে দুই দিয়ে গুণ করেন নাই।

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

ফাযিল ছোকরা।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

মূর্তালা রামাত এর ছবি

আমার মনে হয় ঢাকা দুই ভাগ করার চেয়ে বরং রাজধানী ঢাকা থেকে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করা বেটার। অবশ্যই এটা সময়সাপেক্ষ এবং এর জন্য প্রচুর অর্থ দরকার। সেক্ষেত্রে আমরা প্রশাসনিক দপ্তরগুলো ঢাকা থেকে আস্তে আস্তে সরিয়ে নিতে পারি।ঢাকার উপর যেহারে চাপ বাড়ছে তাতে আজ হোক কাল হোক এটা করতেই হবে। তাই রাজনৈতিক বিবেচনায় ভাগাভাগি করে সময় এবং অর্থের অপচয় না করে বরং রাজধানী স্থানান্তর নিয়েই সরকারের ভাবা উচিত।

মূর্তালা রামাত

তারেক অণু এর ছবি

সত্য কথা। অন্তত বিশ্বের অনেক বড় শহরের মতই নতুন অংশ তৈরি করা যায় যেখানে সচিবালয় সহ সমস্ত দপ্তর সরিয়ে নেয়া যায়। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। সেই সাথে আস্তে আস্তে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কিন্তু হবে কবে!

অতিথি অন্যকেউ এর ছবি

কাজের কাজ কোথায় তার কোনও খোঁজ নাই, আজাইরা প্যাঁচাল ঘরে ডেকে আনতে যাচ্ছে। এই নির্বুদ্ধিতার প্রদর্শনী কবে শেষ হবে কে জানে!

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

শর্টটার্মে আমাদের রাজনীতিবিদরা নির্বোধ না, তারা যা করে, বুঝেশুনেই করে। মূলকথা হলো পকেটে কতো থাকবে। সবকিছু ঢাকায় জড়ো করার কারণও পকেট।

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

তানজিম এর ছবি

এতো উন্নয়ন!!! রাখব কোথায়??

আরেকটা ঝামেলা আছে, আওয়ামীলীগ-বিএনপি'র নাহয় মহানগর উত্তর-দক্ষিণ দুই ভাগ আছে। কিন্তু জামাত তো পূর্ব-পশ্চিম এ ভাগ করে বসে আছে। এটা কি আড়াআড়ি থাকা জামাতকে সোজা করার একটা প্রচেষ্টা???...হা...হা...হা...

রু (অতিথি) এর ছবি

বস্তা দৌড়ে মনে হয় দুইজন যৌথভাবে প্রথমস্থান লাভ করেছেন।

স্বাধীন এর ছবি

দুই প্রধানমন্ত্রীর আইডিয়াটা একেবারে খারাপ না কিন্তু চোখ টিপি । ঘুরে ফিরে একেবার বিনপি, আরেকবার লীগ আসবো আর মারামারি করবো - তারচেয়ে দেশটারে দুইভাগ কইরা একভাগ ম্যাডাম, আরেক ভাগ আপারে দিয়ে দেওয়া হোক। আমাগো মতো ১%রে ছিটমহলে পাঠিয়ে দিক।

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

এবং আরেকটি হতাশা!!! মন খারাপ আর কত?? মন খারাপ


_____________________
Give Her Freedom!

সাফি এর ছবি

ভবিষ্যতে পাড়ায় পাড়ায় ঢাকা শহর চাই

দ্রোহী এর ছবি

আমাদের পাড়ার জন্য দুইটা মেয়র চাই।

সজল এর ছবি

এই অবাস্তব ব্যাপার চলবে না, সেটা মনে হয় এই সরকারও জানে। বিমানবন্দরের নামের মত করে বিএনপি এটাও রিস্টোর করে দিবে, অথবা পরের কোন সরকার। মাঝখান থেকে গরীব দেশের কয়েকশ কোটি টাকা নষ্ট হবে।

---
মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়

সুলতান এর ছবি

কাজের নামে খোঁজ নাই, অকাজের শেষ নাই।

এইসব বুদ্ধিদাতা কুত্তা গুলাকে দেশ থেকে বের করে দিতে পারলে মনটা একটু শান্তি পাইত।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।