দিদি কি পারবেন?

আরিফ জেবতিক এর ছবি
লিখেছেন আরিফ জেবতিক (তারিখ: রবি, ১৫/০৫/২০১১ - ৯:৩৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফল আমাকে বেশ খানিকটা চমকে দিয়েছে। বামফ্রন্ট ১০০ এর নিচে আসন পাবে, এতটুকু ভাবিনি। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বিশ্বের প্রাচীনতম কমিউনিস্ট জোট সরকারকে এরকম শোচনীয়ভাবে পরাজিত করবে, এটা অবশ্য অনেকেই আগাম পূর্বাভাস দিচ্ছিলেন। এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ট তৃণমূল কংগ্রেস এবার পশ্চিমবঙ্গের সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এবং মমতা সেই সরকারের মূখ্যমন্ত্রী হবেন, এ বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।

কিন্তু মূখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই মমতাকে যে বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে, সেগুলোর কতটুকু সাফল্যের সঙ্গে উৎরাতে পারবেন, সেটাই এই মুহুর্তের বড় প্রশ্ন।

বামবিরোধী ভোটের জয়
পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনীতিতে বাম সরকারের বিরুদ্ধে এই নির্বাচনে সুস্পষ্ট কোনো রাজনৈতিক মতবাদ ও কর্মসূচির বিজয় হয়েছে বলে আমার মনে হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের অর্থনৈতিক ও সামাজিক দর্শন দূর থেকে আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি। মমতার পক্ষে বামফ্রন্ট মন্ত্রী অসীম দাশগুপ্তকে বিপুল ভোটে পরাজিত করা ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সেক্রেটারি জেনারেল
ড. অমিত মিত্রের সাক্ষাতকার গতকাল শুনে আমার মনে হলো, তৃণমূল আসলে অর্থনৈতিক নীতিতে একটি মিশ্র অবস্থান নিতে যাচ্ছে। 'পরিবর্তন' এর স্লোগান তুললেও ঠিক কী পরিবর্তন তাঁরা করতে যাচ্ছেন এ ব্যাপারে তেমন বড় আকারের কোনো পরিকল্পনা তাঁদের আছে বলে মনে হয়নি।

সেক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের এই ভূমিধ্বস বিজয় ( গত নির্বাচনের ৩০ আসনের বিপরীতে এবার ১৮৪ আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্টতা, জোটের অন্য শরিক কংগ্রেস এবং আরেকটি বামদলের কথা বাদ দিলেও ) আসলে এসেছে বাম বিরোধী ভোটের ঐক্য থেকে।
সাধারণত নির্দিষ্ট ইস্যু ও কর্মপরিকল্পনা বিহীন দল ও নেতার পক্ষে যখন ভোটস্রোত তৈরি হয়, তখন সেই ভোট জোয়ার দ্রুতই হতাশ হয়ে যাওয়ার একটা বড় সম্ভাবনা থাকে।
যদি তা-ই ঘটে থাকে, তাহলে মমতা'র জন্য আগামীতে মূখ্যমন্ত্রীত্ব রক্ষা করা অনেক কঠিনই হবে।

অর্থনীতিই মমতার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ:
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনৈতিক গতিশীলতা তৈরি করা। প্রায় ২ লাখ কোটি রূপি ঋণগ্রস্ত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই করুণ। রাজ্যের মোট রাজস্ব আয়ের ৯৬ শতাংশই ব্যয় হয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা মেটাতে। উন্নয়নের জন্য যদি মাত্র বাকি ৪% টাকা হাতে পাওয়া যায় তাহলে রাজ্যের উন্নতি হওয়া বেশ সময়েরই ব্যাপার। মাথা পিছু আয়ের দিক থেকে এই রাজ্য দেশের ১৭টি রাজ্যের মাঝে নবম।
এরকম অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে, যখন ভারতের অর্থনীতি দ্রুতই ভোগবাদিতার দিকে যাচ্ছে, সেখানে যদি দ্রুতই অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন করা না যায়, তাহলে মমতার জনপ্রিয়তা দ্রুতই ফুরিয়ে যেতে পারে।

রাজ্যে এই মহুর্তে প্রয়োজন পড়বে অনেক অনেক বেশি বিনিয়োগ। এই বিনিয়োগ কতটা আকৃষ্ট করতে পারবেন মমতা, সেই প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যায়। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে সিন্ধুর- নন্দীগ্রামে যে কাণ্ড তৃণমূল কংগ্রেস করেছে, এতে করে বিনিয়োগকারীরা এই দলের অধীনে বিনিয়োগে কতটুকু আকৃষ্ট হবে, সেটা চিন্তারই কথা। রতন টাটাকে তাড়িয়ে দেয়ার পরে ভারতের বড় বড় শিল্পগ্রুপগুলো এই রাজ্যে বিনিয়োগে কতটুকু উৎসাহিত হবে সেটা সময়ই বলে দেবে।
তবে মমতার জন্য ভালো খবর হচ্ছে, ( সম্ভবত) রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ড.অমিত মিত্র। এফআইসিসি'র সেক্রেটারি জেনারেল হওয়ার সুবাদে অমিত মিত্রের একটি সর্বভারতীয় যোগাযোগ রয়েছে, বড় বড় শিল্পগ্রুপের কর্ণধারদের সঙ্গে তার রয়েছে উঠাবসা। তাঁর দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশ্ন উঠে নি। আমেরিকা থেকে অর্থনীতির উপরে পিএইচডি অর্জন করা অমিত মিত্রের দৃষ্টিভঙ্গি আধুনিক বলেই মনে করেন ভারতের ব্যবসায়ী মহল। এখন অমিত মিত্র যদি বাইরের বিনিয়োগ আকর্ষণ করে রাজ্যে শিল্পায়ন করতে পারেন, তাহলেই শুধু মমতার পক্ষে এই অর্থনৈতিক দীনদশা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়, মমতার দল কি কৃষক উচ্ছেদ করে শিল্পস্থাপনের জন্য জমি দিতে পারবে ? যদি তা-ই করতে হয়, তাহলে সিন্ধুর-নন্দীগ্রামের মতো প্রতিরোধ কি তৈরি করবে না বামফ্রন্ট? আর নীতির প্রশ্নেই বা তিনি কী করবেন? আর কৃষক উচ্ছেদ করলে, কৃষক উচ্ছেদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তার যে ইমেজ অর্জিত হয়েছে, সেই ভাবমূর্তিরই বা কী হবে?
সব মিলিয়ে ব্যাপারটা যে খুব সহজ হবে এমন মনে হচ্ছে না।

মমতার দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ: দল আর সরকার
তৃণমূল কংগ্রেস খুব গুছানো দল নয় এখন পর্যন্ত। এদের অবস্থা আমাদের বিএনপির মতোই, সংগঠন নয়- জনগনের ভোট নির্ভরশীল ব্যক্তি ইমেজের উপর। কিন্তু বিপরীত দিকে বামফ্রন্টের রয়েছে ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন, যা গ্রামের পঞ্চায়েত পর্যন্ত বিস্তৃত।
সুতরাং মানুষের মাঝে মিশে যাওয়ার জন্য বামফ্রন্টের যে পরিমান সহজ রাস্তা আছে, তৃণমূলের পক্ষে সেটি করা শক্তই হবে।
আর সাংগঠনিক কাঠামো শক্ত না হওয়ায়, তৃণমূল কর্মীদের মাঝে দুর্নীতি-মাস্তানিটা বিস্তৃত হওয়ারও একটা সুযোগ রয়ে যায়। যদি তা-ই ঘটতে থাকে, তাহলে দ্রুতই মমতার জনপ্রিয়তার পারদ নিম্নমুখী হবে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

সরকার পরিচালনায় মমতার অভিজ্ঞতা খুব বেশি নয়, তৃণমূলের অন্যান্য নেতাদের মাঝেও খুব যোগ্য ও দক্ষ নেতার সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে প্রায় ৩ যুগ পুরোনো বামফ্রন্ট প্রশাসনের আগ-পাশ-তলায় নিজেদের লোক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সুতরাং বামফ্রন্ট প্রশাসন বনাম তৃণমূলের অনভিজ্ঞ নেতাদের টানপড়েনে সরকারের গতিশীলতা কতটুকু বজায় থাকবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ঐ আসে মাওবাদীরা:
জঙ্গলমহল খ্যাত অঞ্চলে মাওবাদীদের বিস্তার পশ্চিমবঙ্গের কাছে একটা বড় আশংকার জায়গা। স্মরণ রাখা যেতে পারে যে সত্তর ও আশির দশকে নকশালবাড়ি আন্দোলনেও পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনার বড় রেশ লেগেছে। মাওবাদীদের দমনে পশ্চিমবঙ্গ ও কেন্দ্রীয় সরকারের অনেক সহিংস উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন মমতা, এখন তিনি কী করবেন?
দার্জিলিংয়ের আলাদা রাজ্য গঠনের অশান্তি সামলানোর মতো শক্তিশালী দল ও প্রশাসন কি মমতা তৈরি করতে পারবেন ? যদি তা না পারেন, তাহলে রাজ্যকে এগিয়ে নিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হবে তাঁকে, আর যদি জনপ্রিয়তার তুফান একটু স্থিমিত হয়, তাহলে পোড়খাওয়া বামফ্রন্ট নেতারা যে সেখান থেকে দ্রুতই ফায়দা তুলে ফেলবেন, এটা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।

বাংলাদেশের যা জানা উচিত:
পশ্চিমবঙ্গে এতবড় একটি নির্বাচন হয়ে গেল, যার ফলাফল নিয়ে আমরা বাংলাদেশীরাও অনেক আগ্রহ দেখাচ্ছি।
গোটা নির্বাচন দেখে আমাদের আসলে বেশ কিছু জিনিস শেখার আছে। বামফ্রন্ট টানা ৩৪ বছর ধরে ক্ষমতাসীন থাকার পরেও তাঁদের বড় বড় নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। বিচ্ছিন্ন দুয়েকটি ঘটনা থাকলেও থাকতে পারে, কিন্তু বড় আকারে বামফ্রন্ট নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের কোনো উদাহরণ নেই।
একই অবস্থা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও। নিজের বাড়ি তো দূরের কথা, একটা গাড়িও নেই তাঁর। সততার ক্ষেত্রে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাদের কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।

পশ্চিমবঙ্গ এককালে আমাদেরই অংশ ছিল। সেখানে যদি নেতানেত্রীদের মাঝে এই সততার চর্চা চলতে পারে, তাহলে আমাদের নেত্রীপুত্রের কমিশন ব্যবসা আর নেত্রভগ্নির শেয়ার ব্যবসার অভিযোগ আর গুঞ্জনে কেন কানপাতা দায় হয়?
আমরা পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় কত সুবিধাজনক অবস্থায়ই না আছি। আমাদের এখানে মাওবাদী কি গোর্খাল্যান্ড অলাদের আন্দোলন নেই, সাম্প্রদায়িক অশান্তি নেই..শুধু নেতারা যদি আরেকটু কম চোর হতেন, তাহলে হয়তো আমাদের আরো অনেকদূর যাওয়া সম্ভব হতো।


মন্তব্য

ক্রাক কমাণ্ডো  এর ছবি

৩৪ বছর টানা সরকারে থাকলে যেকোন দলের কিছুটা বিছিন্ন এবং দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকেই এবং তার ফল বাম ফ্রন্ট পেয়েছে তবে তৃণমূল আসলে একটা জগাখিচুরি কোয়ালিসন বাম ফ্রন্ট বিরোধিতা করা ছাড়া এদের আর কোন বিষয়েই একতা নাই এখন যেহেতু সরকারে তাই দেখা যাবে নানা ইস্যুতে খাবলাখাবলী আরম্ভ কর দিবে অচিরেই ইতিমধ্যে ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি জামাত যেমন বিরোধী দল নিধনে মেতে উঠেছিল এরাও সেই কাজটাই করা আরম্ভ করেছে

Bengal Politics কলকাতা, ১৩ই মে— দেওয়ালে এখনও চোখে পড়বে ‘বদলা নয়। বদল চাই।’ ভোট গণনায় রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই শুরু হয়ে গেছে বামপন্থী কর্মী-সমর্থকদের উপর আক্রমণ। বাড়ছে নিজের ভিটে ছেড়ে এক কাপড়ে ঘরছাড়া হওয়ার ঘটনা। রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও বাড়ছে। শুক্রবার ভোটের ফলাফল প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে গেছে তৃণমূলের উন্মত্ত হিংসা।

জোকা : বদলা নয়, বদলের স্লোগান দিয়ে জয়ের প্রথম দিন চললো দখলদারি। ঠাকুরপুকুরে জোকা গ্রামপঞ্চায়েতে ঢালি পাড়ার সি পি আই (এম) শাখা অফিস দখল করে নেয় তৃণমূলীরা। প্রথমে বিজয় মিছিল করে এলাকা দিয়ে যাওয়ার পর ফিরতি পথে ঐ শাখা অফিস আক্রমণ করে তার দখল নেয় তারা।

একইভাবে জোকা গ্রাম পঞ্চায়েত-১ প্রধান আনন্দ পাত্রের বসতবাড়িতে আক্রমণ চালালো তৃণমূলীরা। আনন্দপল্লীর পাত্র পাড়ার বাসিন্দাদের এদিন দুপুরে আক্রমণ চালানো হয়। তখন আনন্দ পাত্র বাড়িতে ছিলেন না। বাড়িতে ছিলেন তাঁর বাবা অজিত পাত্র (৭৪)। তৃণমূলীরা জোর করে ঘরে ঢুকে তাঁর বাবার ওপর হামলা চালায়। বাড়ির অন্যরা ঐ আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা চালান। এরপর তৃণমূলীরা বাড়ির লোকজনকে শাসিয়ে বলে, আনন্দ পাত্রকে প্রধান পদ ছাড়তে হবে। যদি তা না হয়, তাহলে পরিণাম মারাত্মক হবে।

বেহালা : বিজয় উৎসবের নামে বেহালায় বিভিন্ন জায়গা শুক্রবার বিকালে আক্রমণ চালায় তৃণমূলীরা। বেহালার ষষ্ঠীমোড়ে জমায়েতের নাম করে শুরু হয় হামলার ছক। প্রথমে বাহাদুরের মাঠে ব্যপক বোমাবাজি করে নিজেদের উল্লাস জাহির করা। এরপর শুরু হয় পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে বামপন্থী কর্মীদের ওপর হামলা। সাহেববাগানে দক্ষিণ বেহালা আন্তঃসঙ্ঘ সম্মেলন ক্লাবের সামনে থাকা মানুষদের ব্যাপক মারধরও করে ঐ উন্মত্ত তৃণমূলীরা। সম্মেলন ক্লাবের দো’তলায় রবীন মুখার্জি ভবনে ভাঙচুর চালায় তারা।

এদিনই ঠাকুরপুকুর থানার পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে ১৫০জনের ঐ তৃণমূলী বাহিনী এলাকার বিভিন্ন মানুষকে মারধর ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই নিয়ে এলাকার মানুষ প্রতিবাদ জানালে পুলিস সাফাই গেয়ে বলে, ঐ তৃণমূলীরা উৎসাহী জনতা। কিন্তু এদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল চিহ্নিত আসামী। পাড়ায় বোমা রাখা আছে, এই অজুহাতে ঐ তৃণমূলীরা পুলিস নিয়ে পার্টিকর্মীদের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়ে যায়।

বারাসত : এদিন মধ্যমগ্রাম বিধানসভা এলাকায় জায়গায় জায়গায় বিজয় উৎসবের নামে সি আই আই (এম) কর্মী-সমর্থকদের ওপর আক্রমণ চালায় তৃণমূলীরা। মধ্যমগ্রামের কৃত্তিপুর খড়িবাড়ি এলাকার ৪০নম্বর বুথের বাসিন্দাদের ওপর এদিন পরিকল্পিত আক্রমণ চালায় তারা। এলাকার পার্টিসদস্য লক্ষ্মণ ঘোষের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ভয়, আশঙ্কায় পরিবার নিয়ে লক্ষ্মণ ঘোষ মধ্যমগ্রামে তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। একইভাবে দত্তপুকুরে পার্টিকর্মী অনিল ঘোষের বাড়িতে চড়াও হয় তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা। তারা ব্যাপক মারধর করে ঐ পার্টি সমর্থককে।

বিজয় মিছিলের আড়ালে উত্তর ২৪পরগনার অন্যান্য এলাকায়ও এদিন বামপন্থী কর্মী-সমর্থকদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। শুক্রবার বিকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় ঐ আক্রমণ। আমডাঙার পাড়াবেড়িয়ায় জয়ে উচ্ছ্বসিত তৃণমূলীরা পার্টিকর্মী হারান মণ্ডলের ভাইকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ঐ এলাকার সি পি আই (এম) প্রার্থী আবদুস সাত্তার পুলিস সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। রাত পর্যন্ত তাঁকে পাওয়া যায়নি।

চুঁচুড়া : এদিন হুগলী জেলার একাধিক জায়গায় তৃণমূলীরা তাদের জয় পালন করে সি পি আই (‌এম) কর্মী ও সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়ে। গণশক্তির হুগলীর ডিস্ট্রিবিউটর নিখিল কোটালকে মারধর করা হয়। হাতিগ্রামে নিখিল কোটালের বাড়িতে চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। তাঁর স্ত্রীর ওপর হামলা চালানো হয়। নিখিল কোটাল সি পি আই (এম) জেলা পার্টি অফিসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

এদিন তৃণমূলী বাহিনীর হাতে পুরশুড়ার বিরাট এলাকার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সি পি আই (এম) পুরশুড়া জোনাল কমিটি সদস্য রবীন কুটি, চিত্তরঞ্জন বেরাকে ব্যাপক মারধর করে তৃণমূলীরা। ঐ দুষ্কৃতীরাই পরে দেউলপাড়ায় সি পি আই (এম)-র শাখা দপ্তরে হামলা চালিয়ে সেখান থেকে আলমারি, ইলেকট্রিক ফ্যান খুলে নিয়ে যায়।

কৃষ্ণবাটিতেও চলে একইভাবে আক্রমণ। অন্যদিকে পুরশুড়ার ভাঙামোড়া গ্রামপঞ্চায়েতে পার্টি সমর্থক অবনী বাগকে তাঁর সোঁয়ালুকের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে তৃণমূলীরা। পরে অবনী বাগকে মাঠের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঐ ঘটনায় অবনী বাগের ভাই ফটিক বাগকে তুলে নিয়ে চলে যায় ঐ দুষ্কৃতীদের দল। রাত পর্যন্ত তাঁর কোন খোঁজ মেলেনি। কেলেপাড়ায় পার্টিকর্মী বিমল বাগকে মারধর করে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা।

এদিন চুঁচুড়ার নেতাজী নগরে এলাকার শিশু-নারী কল্যাণ কমিটির অফিস দখল করে নেয় তৃণমূলীরা। এই অফিস থেকে এলাকায় বিভিন্ন সংগঠনের উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ড চলতো। জয়ের আনন্দে আত্মহারা হয়ে এখানে কল্যাণ কমিটির অফিসের ভিতরে ঢুকে তৃণমূলীরা ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এর প্রতিবাদ জানালে স্থানীয় ডি ওয়াই এফ আই ইউনিট সম্পাদক দীপক দাসকে তৃণমূলীরা মারধর করে। বাদ যাননি সি পি আই (এম) চুঁচুড়া আঞ্চলিক কমটির সদস্য সেবা সাহাও। তাঁকেও মারধর করে উন্মত্ত তৃণমূলীরা।

বালিগঞ্জ : শুক্রবার ভোটের ফল বেরোনো শুরু হতেই মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়ে যায় তৃণমূলী তাণ্ডব। উত্তর থেকে দক্ষিণ বাদ ছিল না কোনো এলাকাই। বাঘাযতীন স্টেশন রোডে তৃণমূলী সশস্ত্র বাইক বাহিনীর হাতে প্রহৃত হন সি পি আই (এম) বাঘাযতীন পূর্ব এক নম্বর শাখা সম্পাদক পলাশ নাগ। শুক্রবার দুপুরে একদল বাইক আরোহী তাঁকে ঘিরে ধরে ব্যাপক মারধর করে। এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষজন প্রতিবাদ জানালে পালিয়ে যায় ঐ সশস্ত্র বাহিনী।

মধ্য কলকাতার বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বেনিয়াপুকুর অঞ্চলে এদিন দুপুরবেলাতেই বিশাল বাইক বাহিনী তৃণমূলের পতাকা নিয়ে এলাকা দাপাতে শুরু করে। সেই সঙ্গে শুরু হয়ে যায় অকথ্য গালাগালি। বেছে বেছে বামপন্থী, বিশেষ করে সি পি আই (এম) কর্মীদের ওপর চালানো হয় হামলা।

বেনিয়াপুকুর এলাকার দুইটি ক্লাবে হামলা চালায় তৃণমূলের বেপরোয়া বাহিনী। পুরোনো আক্রোশের বশে সেখানকার ইয়ং স্টার ক্লাবের দরজার সামনে রীতিমতো ইট-বালি-সিমেন্ট দিয়ে পাঁচিল তুলে দেয় তৃণমূলীরা। সেইসঙ্গে লেডিস পার্কের পিছনে হিন্দ স্পোর্টিং ক্লাবেও ভাঙচুর চালানো হয়। অন্যদিকে, গোরাচাঁদ রোডে যখন এই রকম তাণ্ডব চলছে, তখন মৃদু প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসা বর্ষীয়ান রাধাবল্লভ সেনকেও রেয়াত করেনি তারা। তৃণমূলী সেই সঙ্গে ঐ গোরাচাঁদ রোডেই রাজার দোকানে ভাঙচুর ও লুঠপাট চালায় তারা।

বিধাননগর : এদিন বিধাননগরে একইভাবে তৃণমূলীদের হামলার রাজনীতি প্রত্যক্ষ করলেন এলাকার মানুষ। ওয়েবেলের মতো একটি সংস্থার অফিসে চড়াও হয়ে উন্মত্ত তৃণমূলীরা রাজ্যভিত্তিক ইউনিয়নের অফিস দখল করে নেয়। সেখানে উপস্থিত পার্টিকর্মীদের গালমন্দ করে তাড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলী পতাকা টাঙিয়ে দেয় তারা।

মানিকতলা : ১৩বছরের কিশোর জয়দেব সিং। মানিকতলা বিধানসভা এলাকার ৩২নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপল্লীর বাসিন্দা জয়দেব রাজনীতির কিছুই বোঝে না। কী করে সে বুঝবে, দিদির দল জিতলে কী হয় ! তাই পরম নিশ্চিন্তেই সবেমাত্র খেতে বসেছিল সে। কিন্তু মহিলা বা বয়সে ছোট বলে জয়ের গন্ধ পেয়ে খেপে ওঠা দুষ্কৃতীদের কাছ থেকে যে রেহাই নেই, তা জানা ছিল না জয়দেব বা তার মায়ের। বস্তির ঘরে ঘরে তখন পুরুষ বলতে গেলে নেই। মহিলারা বাড়ির কাজ করে এসে খাবারের জোগাড় করছেন, রান্না শেষে বাড়ির বাচ্চাদের খেতে দিচ্ছেন। দুপুরবেলায় সেই সময়েই প্রায় কুড়িজনের এক তৃণমূলী দুষ্কৃতী দল ঝাঁপিয়ে পড়ে ঐ বস্তির ওপর। ছোট্ট জয়দেবকে খাবার পাত থেকে তুলে বেধড়ক মারধর করে বর্বরের দল। পাশাপাশি বস্তির অন্যান্য ঘরের ওপরেও আক্রমণ চালায়। বাধা দিতে গেলে মহিলাদের গায়ে-মাথায় লোহার রড দিয়ে মারে, এমনকী মাটিতে পড়ে গেলে তলপেটে লাথি মারতে থাকে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে এই তাণ্ডব। গুরুতর আহত হন বস্তির বাসিন্দা কল্পনা সরকার, শেফালী রায় সহ কয়েকজন মহিলা। এই ঘটনার পর সবাই যখন একসঙ্গে মানিকতলা থানায় অভিযোগ জানাতে যান, তখন ঐ দুষ্কৃতী দল তাঁদের ওপর আবার আক্রমণ চালায়। পুলিস নীরব দর্শক হয়ে থাকে। এই ঘটনার খবর পেয়ে গণনা কেন্দ্র থেকে ছুটে যান মানিকতলা কেন্দ্রের বামফ্রন্টের প্রার্থী রূপা বাগচী। তিনি অবিলম্বে এই গরিব বস্তিবাসী মানুষদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পুলিসের সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানান। পুলিস দোষীদের গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, তাদের আটকাতেও ব্যর্থ হয়েছে বলে সাধারণ মানুষ জানান।

অন্যদিকে, ভোটে তৃণমূলের এগিয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্য কলকাতার ১৫নম্বর নলিন সরকার স্ট্রিটের বস্তি ফেডারেশনের অফিস দখল করে নিলো তৃণমূল কংগ্রেস। এলাকার তৃণমূলী কাউন্সিলর অতীন ঘোষের অনুগত ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী অফিসের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে প্রথমে ভাঙচুর চালায়। বস্তি ফেডারেশনের এই অফিসে বেশ কয়েকটি গণসংগঠনের কাজ চলতো। তৃণমূলীরা অফিসের কাগজপত্র ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে নিজেদের দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেয় সর্বত্র। হুঙ্কার দিয়ে ঘোষণা করে, ‘‘এবার এটা আমাদের পার্টি অফিস।’’

সোনারপুর : শুক্রবার ভোটের ফল বের হওয়ার আগে থেকেই সোনারপুর বিধানসভা অঞ্চলে সি পি আই (এম)-র কর্মী-সমর্থক এবং নেতৃবৃন্দের বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা শুরু করে তৃণমূলীরা।

এদিন ভোর থেকে সোনারপুর খেয়াদহের কাঠিপোতায় পার্টির আঞ্চলিক কমিটির সদস্য কমল মণ্ডলের বাড়ি লক্ষ্য করে লাগাতার বোমাবাজি শুরু করে তৃণমূলীরা। সেই সঙ্গে চলে এলাকার বর্ষীয়ান পার্টিনেতা গণেশ মণ্ডলের বাড়িতে বোমাবাজি। তাঁর প্রাণনাশের জন্যই এই আক্রমণ চালানো হয়েছিল। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। ফল প্রকাশের পর এদিন সংগঠিত সমবায়ও গায়ের জোরে দখল করে নিয়েছে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনাও ঘটেছে কাঠিপোতায়। এখানকার মৎস সমবায় সমিতির অফিস ভাঙচুর করে তার দখল নেয় তারা।

বাঁকুড়া : ফল বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাঁকুড়া জেলায় হামলা-আক্রমণ শুরু করলো তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন দুপুরে জয়পুর থানা এলাকার মরুলীগঞ্জে ইঞ্জিল বায়েন, হাতবাড়ির হাসেন মণ্ডল ও ধাড়াগ্রামের অসিত মালিককে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে তৃণমূলীরা। তাদের আক্রমণে এদিনই মরুলীগঞ্জে ৩০টি পরিবার ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। ঘরছাড়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে অন্যান্য এলাকাতেও। হামলার খবর পাওয়া গেছে রানীবাঁধের আখখুটা ও গঙ্গাজলঘাঁটি এলাকা থেকেও।

হাড়োয়া : এদিন দুপুর থেকেই উত্তর ২৪পরগনা জেলার হাড়োয়া, মিনাখাঁ সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সি পি আই (এম)-র কর্মী ও সমর্থকদের ঘরছাড়া করার হুমকি দিতে থাকে তৃণমূলীরা। বারাসত গ্রামীণ এলাকার ছোটো জাগুলিয়া থেকে সি পি আই (এম) কর্মী আকসার আলিকে তুলে নিয়ে যায় তৃণমূলীরা। বয়রা গ্রামে নিয়ে গিয়ে ঐ পার্টিকর্মীকে বেপরোয়া মারধর করে এলাকার মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের ঘরছাড়া করার হুমকি দেয় তৃণমূলীরা। এদিন দুপুরেই বেশ কিছু পার্টিকর্মী আতঙ্কে ঘর ছেড়ে চলে যান। মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্রের শালিপুরে সি পি আই (এম) কর্মী মোহিত আলি সহ আরও এক পার্টিকর্মীকে মুখে পিস্তল ঠেকিয়ে তুলে নিয়ে যায় তৃণমূলীরা। তারা ব্যাপক বোমাবাজি করে এলাকার মানুষকে সন্ত্রস্ত করে।

হাওড়া : এদিন গণনা কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পরই সি পি আই (এম) প্রার্থী মোহন মণ্ডলকে জোর করে সবুজ আবির মাখিয়ে দিয়ে বিজয় উল্লাস প্রকাশ করলো তৃণমূল। শুক্রবার উলুবেড়িয়া সি আই পি টি গণনা কেন্দ্রে ভোট গোনার কাজ শেষ হওয়ার পর বাইরে আসেন মোহন মণ্ডল। তখনই সবুজ আবির মাখিয়ে সি পি আই (এম) প্রার্থীকে হেনস্তা করে তৃণমূলীরা। ঐ সময়ে সি পি আই (এম) প্রার্থীর চশমা কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে নিজেদের জয়ের উল্লাস প্রকাশ করে তৃণমূলীরা। গণনা কেন্দ্রে আসা পার্টিকর্মীরা মোহন মণ্ডলকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। চশমাটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আমতা : এদিন হাওড়ার আমতা বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় বিজয় মিছিল থেকে হামলা চালায় তৃণমূলীরা। জয়পুর থানা এলাকার ধাড়াপাড়ায় এদিন তৃণমূলীরা বিজয় মিছিল থেকে পার্টিকর্মী বাবলু ধাড়া, অনুপ ধাড়া, সোমনাথ ধাড়া ও হারু ধাড়ার উপর হামলা চালায়। উদয়নারায়ণপুর কেন্দ্রের খোসালপুরে সি পি আই (এম)-র পঞ্চায়েত প্রধান সইফুল মিদ্দ্যার বাড়িতে হামলা চালায় তৃণমূলীরা। আমতার চন্দ্রপুর ও কুড়চি মালিকপাড়া এলাকায় এবং দক্ষিণ খালনার সি পি আই (এম) নেতা নবকুমার দাসের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়।

শিলিগুড়ি : ভোটের ফল ঘোষণা হতেই উত্তবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এদিন দুপুরে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র এলাকার ফুলবাড়ি হাটে সি পি আই (এম)-র শাখা দপ্তরের সামনে দিয়ে বিজয় মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় তৃণমূলীরা হামলা চালায় পার্টি দপ্তরে। সেখানে পার্টি দপ্তরের লালপতাকা নামিয়ে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেয়। বন্ধ থাকা পার্টি দপ্তরের গ্রিল ও দরজা ভেঙে দিয়ে বিজয়ের উল্লাস প্রকাশ করে তৃণমূলীরা। পরে পার্টিকর্মীরা হামলার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দপ্তরকে রক্ষা করেন।

আক্রমণ থেকে রেহাই পাননি নির্দল প্রার্থীও। উত্তর দিনাজপুর জেলায় ভোটপ্রার্থী ছিলেন ইসলামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান কানাইয়ালাল আগরওয়াল। এবার বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নির্দল হয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ইসলামপুর কলেজে ভোট গণনা পর্ব মেটার পর বাইরে আসতেই কানাইয়ালাল আগরওয়ালকে লক্ষ্য করে তৃণমূলীরা জুতো ছোঁড়ে। বিজয় উল্লাসের এমন বহরে আক্রান্ত নির্দল প্রার্থীকে রক্ষা করে পুলিস। এদিন সন্ধ্যাতেই কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ডালিঙ্গাতে সি পি আই (এম)-র শাখা অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয় উল্লসিত তৃণমূলীরা। হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে কোচবিহারের নাটাবাড়ি বিধানসভা এলাকার তল্লিগুড়ি এলাকার পার্টি দপ্তরও।

তমলুক : বিধানসভা নির্বাচনের আগেই যে জেলাতে সন্ত্রাস নামিয়ে এনেছিল তৃণমূলীরা, সেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এদিন ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকেই রীতিমতো মারমুখী হয়ে ওঠে তৃণমূলীরা।

শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী জেতার পরেই সন্ত্রাস চালিয়েছে তৃণমূলীরা। রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রের আনন্দময়ী গ্রামের শতাধিক সি পি আই (এম) সমর্থক ও কর্মীর পরিবার এদিন ঘরছাড়া হয়েছে। দুপুরে ভোটের ফল বেরনোর পরেই গোটা রামনগর জুড়ে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা। এদিন দীঘাতেও দক্ষিণবঙ্গ পরিবহন শ্রমিকদের সি আই টি ইউ অফিস এবং ডি ওয়াই এফ আই-র অফিস ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয় তৃণমূলীরা। সন্ধ্যার পরে সি আই টি ইউ এবং ডি ওয়াই এফ আই-র অফিস দু’টিতে আগুন নেভানোর কাজে নেমেছে পুলিস।

এদিন বিকাল গড়াতেই পটাশপুরের বিভিন্ন প্রান্তে রীতিমতো তাণ্ডব শুরু করে দেয় তৃণমূলীরা। পটাশপুরে আরগোয়াল অঞ্চলের সিয়ারী গ্রামে পার্টিকর্মী জগন্নাথ দলুইকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তৃণমূলীরা। রাত পর্যন্ত তাঁর কোন খোঁজ মেলেনি। পটাশপুরের অমর্শীতে সি পি আই (এম) অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বরহাটা গ্রামে প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য শ্রীনিবাস মাইতির উপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। গোপালপুর, ব্রজলালপুর, নৈপুর সহ একাধিক জায়গায় ফল বেরোনোর পর থেকেই রীতিমতো সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছে তৃণমূলীরা। ভুবনমঙ্গল গ্রামে সর্বশ্বের মণ্ডল এবং নিশিকান্ত বেরা নামে দুই সি পি আই (এম) কর্মীকে ব্যাপক মারধর করেছে তারা। এমনকী চিকিৎসার জন্য ঐ দু’জনকে গ্রামের বাইরে নিয়ে যেতে বাধা দিয়েছে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা।

চাকদহ : ভোটে জেতার পর চাকদহে সি পি আই (এম) সমর্থক এক পরিবারের উপর হামলা চালালো তৃণমূলীরা। এদিন বিকালে কে বি এম মিলনমন্দির এলাকার পার্টিকর্মী বেণু সরকারের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তৃণমূলী হামলাকারীদের রডের আঘাতে বেণু সরকারের মেয়ের হাত ভেঙে যায়। বেণু সরকারের পরিবারের চারজনই বাঁশ ও রডের আঘাতে গুরুতর জখম অবস্থায় চাকদহ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

চোপড়া : এদিন চোপড়ার ভৈষভিটাতে সি পি আই (এম) দপ্তরে ভাঙচুর চালায় একদল দুষ্কৃতী। অভিযোগ, এরা সবাই চোপড়ার নির্বাচিত নির্দল প্রার্থী হামিদুর রহমানের সমর্থক। এছাড়াও সি পি আই (এম) নেতা আনোয়ারুল হকের দেহরক্ষী বাবন দাসের বাড়িতেও হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। তাঁর মায়ের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি ঘটনায় চোপড়ার রবীন্দ্রনগরে সি পি আই (এম) কর্মী শিবেন চক্রবর্তীর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে।

দপ্তরে হামলা : এদিন ফলাফল বেরোনোর পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সি পি আই (এম)-র কার্যালয়, সি আই টি ইউ সহ বিভিন্ন গণসংগঠনের দপ্তরে হামলা চালানো, এমনকী জোর করে তৃণমূলের পতাকা টাঙিয়ে দেওয়ার কাজও শুরু করে দিয়েছে তৃণমূলীরা। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে ফল বেরোনোর পরেই শহরের বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির দপ্তরে জোর করে তালা লাগিয়ে দলীয় পতাকা টাঙিয়ে দেয় তৃণমূলীরা।

অন্যদিকে হুগলীর আরামবাগ থানার বাতানল অঞ্চলের ভালিয়া গ্রামে সি পি আই (এম)-র কার্যালয় ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে জয়োল্লাসে মত্ত তৃণমূলীরা। বালেপুর ১নম্বর পঞ্চায়েত এলাকার রাইপুরে পার্টি অফিসে হামলা চালিয়ে টিভি সেট, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায় তৃণমূলীরা। তারপরে সেখানে ভাঙচুর চালায়। বাতনল অঞ্চলের নারায়াণপুর বাসস্ট্যান্ডে পার্টিকর্মী বিনয় শিটের কাপড়ে দোকানেও লুঠপাট চালানো হয়। দোকানটি ভেঙেও দেওয়া হয়েছে। হুগলী জেলার বিভিন্ন প্রান্তেই ফল বেরোনোর পর থেকে পার্টি অফিসে হামলা, পার্টিকর্মীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। কড়ুই গ্রামের প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আইনুল হককে সশস্ত্র হুমকি দেওয়া হয়েছে, নিজের জমিতে তাঁর চাষের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কড়ুই হাইস্কুলের শিক্ষাকর্মী সুদেব মালিককেও সি পি আই (এম)-কে সমর্থন করার অপরাধে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। এদিন রাতে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর ২ নম্বর ব্লকের পুরুষোত্তমপুরে দু’টি পার্টি অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে তৃণমূলীরা।

আরিফ জেবতিক এর ছবি

সর্বনাশ! এ তো দেখি পুরাই বিএনপি-জামায়াত জোট!

হাসান মোরশেদ এর ছবি

৩৪ বছর ধরে একটা দল একনায়কতান্ত্রিক নয়, নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই নির্বাচিত হয়ে আসছে। আর কতো? মোর দ্যান এনাফ, নয় কি? দুনিয়ার সবচেয়ে সেরা শাসনে ও তো ৩৪ বছরে মানুষের অরুচি/পরিবর্তনের অভিলাষ জাগতে পারে, আর এতো রীতিমতো দুঃশাসন( অন্ততঃ শেষ টার্মে)
কিন্তু বামপন্থী দুঃশাসনের বিকল্প হিসেবে যে পরিবর্তন ঘটলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার সুফল আসলে কতোটুকু- সিদ্ধান্ত নিতে না হয় আমরা আরেকটু সময় নেই।
আপাততঃ আমার দুপয়সার ভাবনা-

১। পশ্চিমবঙ্গের উপর দিল্লীর নিয়ন্ত্রন বাড়বে, বাংলাদেশের জন্য এটি খুব একটা ভালো কিছু হবেনা।
২। সংখ্যালঘু মুসলমানরা আস্থার সংকটে ভুগবে, আফটার অল বিজেপি'র সাথে জোট গঠনের অতীত অভিজ্ঞতা আছে দিদি'র, যদিও এবার ঘোমটা টেনে মুখে বিসমিল্লাহ ও বলেছেন।

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

মীর মোশাররফ হোসেন এর ছবি

দিদিকে ভালই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে....

হাসিব এর ছবি

ভালো হলো কি মন্দ হলো সেটা বলা মুশকিল। তবে রাজনীতিতে শক্ত একটা প্রতিদ্বন্দী থাকতে হয়। নাহলে ভুল থেকে শিক্ষা নেবার বিষয়টা ভুলে গিয়ে একদলতন্ত্রের পথ ধরে এগোয় দেশ।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

বাম জোটে দূর্ণীতি নাই!

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

ধৈবত(অতিথি) এর ছবি

শুধু নেতারা যদি আরেকটু কম চোর হতেন, তাহলে হয়তো আমাদের আরো অনেকদূর যাওয়া সম্ভব হতো।

টুকে রাখার মত কথা

দময়ন্তী এর ছবি

সিপিএম যে হারবে, তা আগেই বোঝা গেছিল| একটু চোখ কান খোলা রেখে চললেই দেখা গেছে সাধারণ মানুষের কি পরিমাণ ক্ষোভ জমা ছিল| আর সিপিএমের ন্যাতা ক্যাঁতারা যে কি পরিমাণ জ্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল সেটা বোঝা যায় ফল ঘোষণার আগে পরে বিমান বোস ও অন্য নেতাদের তড়্পানোর কথাগুলো শুনলে| ৭৭ এ সিপিএম যা ছিল আর এখন যা হয়েছে দেখলে মাথা ঘুরে যায়| পার্টি অফিসগুলোর ঝাঁ চকচকে হাল ঐ রাস্তায় কৌটো ঝাঁকিয়ে হয়েছে বললে শুধু ঘোড়া কেন ছারপোকারাও হো হো করে হাসবে| খেয়াল করে দেখবেন, সিপিএম ধুয়েমুছে গেলেও বামফ্রণ্টের অন্য শরিকরা কিন্তু সেভাবে ধুয়ে যায় নি|

নিরুপম সেন, অনিল বসু সাঁইবাড়ি খুনের মামলার যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত হয়েই প্যারোলে বেরিয়ে নাম ভাঁড়িয়ে এতদিন চালিয়ে গেল নিরুপম সেন তো দিব্বি শিল্পমন্ত্রী হয়ে কাটাল| দেখা যাক মমতা এদের আবার জেলে ফেরত পাঠাতে পারে কিনা|

আমি ৭৭ এর পালাবদলও দেখেছিলাম আর এটাও দেখলাম| ইচ্ছে আছে বিস্তারিত পোস্ট দেওয়ার| |

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

কৌস্তুভ এর ছবি

চলুক

জলদি দ্যান দেঁতো হাসি

কৌস্তুভ এর ছবি

খুব ভালো আলোচনা।

বামফ্রন্ট যে এবার ভোটে নাস্তানাবুদ হবে এটা আমরা প্রায় সবাই ধরে নিয়েছিলাম। বিমান বোস এবং অন্ধ পার্টিভক্ত কয়েকজনেরাই কেবল আশা করেছিলেন যে এই দীর্ঘ তিরিশ বছরেও পাবলিকের যথেষ্ট মোহভঙ্গ হয় নি।

পশ্চিমবাংলার প্রত্যেকটা স্তরে সিপিএমই দোর্দণ্ডপ্রতাপ হয়ে বসতে চেয়েছিল, এবং অনেকাংশে সফলও হয়েছিল। একটা লেখায় আনন্দবাজার বলেছিল, “বরং, পশ্চিমবঙ্গ সবিস্ময়ে দেখেছে, কী ভাবে পারিবারিক ঝগড়ার সালিশি থেকে শুরু করে তাৎপর্যপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সর্বভূতে বিরাজমান সেই এক এবং অদ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান। ‘পার্টি’।” চাকরি পাওয়ার জন্য যেমন পার্টির নেতার সুপারিশ ছাড়া হত না, তেমনই সরকারি দপ্তরে একটা ফাইল পাশ করাতেও পার্টিকে তোষামোদ করতে হত।

কালকেই এখানে সামার প্রোজেক্ট করতে এসেছে কলকাতার একটা ছেলে। তার অন্যান্য কাজগপত্র না থাকায় কোনো পদস্থ অফিসার বা জনপ্রতিনিধির থেকে একটা ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট লাগবে। সে পাড়ার সিপিএম চেয়ারম্যান না কাউন্সিলরের কাছে ঘোরাঘুরি করল বেশ কয়েকদিন, তার কাজটা কিন্তু হল না। তখন সে একদিন মমতার বাড়ি গিয়ে অনুরোধ করল, পাড়ার ছেলে না হলেও কাজটা দ্রুতই হয়ে গেল। (মমতা যেহেতু রেলমন্ত্রী, অতএব সরকারি পদাধিকারী)
এইটা মাসকয়েক আগের ঘটনা। সে সময় পাবলিকে চটে আছে বুঝতে পেরে বুদ্ধবাবু বারবারই দলের কর্মীদের সতর্ক হবার, মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হবার, ক্ষমা চাইবার ইত্যাদি নির্দেশ দিচ্ছেন। কিন্তু তাও যে-কে সেই।

কালকেই আবার পড়লাম, এই সরকারি টালবাহানায় একজন শিক্ষিকাকে কিভাবে হেনস্থা করা হয়েছিল। সত্যি বলতে, এ সব আমাদের ছোট থেকেই নিয়মিত শুনে আসছি। এই এতদিনে, এসব পরিকাঠামো যাদের পরিকল্পনা করেই নষ্ট করা, সে আপদদের বিদায় করা গেল।

এটা খুবই ঠিক বলেছেন যে এটা মূলত বাম-বিরোধী ভোট। ফেসবুকে দুদিন আগেই বলছিলাম, “বিপুল জনপ্রিয়তা নিয়ে মমতা ক্ষমতায় আসছেন, কিন্তু এটা প্রো-মমতা ভোটের চেয়েও বেশি, বুশের মতই সিপিএমের স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে মানুষের বিরক্তি। আর তাই মনে হচ্ছে, ৩-৪ বছর পরে ওবামার মতই মমতার প্রতিও আশাভঙ্গের মনোভাবই জমতে থাকবে...”

কথা হল, সিপিএম এত দিন ধরে যে কাজে-অনিচ্ছুক পার্টিভজা লোকজনদের পদ দিয়ে গেছে, দুম করে তো তাদের বরখাস্তও করা যায় না! মমতার চ্যালেঞ্জই হবে তাদেরকে দিয়ে কাজ করাতে পারা।
আরো দেখার ব্যাপার, এই অকর্মণ্যদের অপসারণ করে মমতা কি তৃণমূল-ভজা লোকদেরই বসান, নাকি সাহস দেখাতে পারেন নিরপেক্ষ কিন্তু কর্মঠ লোকেদের বসিয়ে। এটার আশা কিন্তু খুব বেশি দেখি না।

বুশ-বিদায়ের পরে যেমন বহু কোটি ডলারের ঘাটতি নিয়ে ওবামাকে হিমসিম খেতে হচ্ছে, যেটা তাঁর নিজের কোনোই দোষ না, তেমনই হাল মমতারও। অতএব এই বহুমুখী সমস্যা - দীর্ঘ তিরিশ বছর ধরে পুরো সমাজেরই মনোভাবেই ঘুণ ধরিয়ে দেওয়া, সব পরিকাঠামোর বারোটা বাজানো, অকর্মণ্য লোকেদের দিয়ে সব কাজের জায়গা ভরানো, এবং বিশাল ঋণের বোঝা - মমতা সামলাতে পারবেন কিনা তা চিন্তার বিষয়।

তৃণমূলের যে বিশেষ কোনো মতবাদ নেই, তা সত্যি, তবে সেটা চিন্তাজনক বলে মনে হয় না। সমস্যাটা হল, এই দলে এমন প্রচুর লোক এসেছে যারা প্রথমে ছিল সিপিএম বা কংগ্রেসে, নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি করে দল ছেড়েছে। তারা পশ্চিমবাংলার কল্যাণ করবে এমন কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে মোটেই আসেনি। দিদি তাদের সাদরে বরণ করে নিয়েছেন বটে, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে, কিন্তু তাদের দিয়ে করাপশন-হীন কাজ কতটা হবে সন্দেহ।

বুদ্ধ-র ইমেজ ক্লিন, আরো কয়েকজন নেতারও, কিন্তু অনেক টপ মন্ত্রী-নেতারই নামে কিন্তু প্রচুর কথা ওঠে। সরকারি দলের বলেই তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাটামলা তেমন হয় নি। তাবড় গুন্ডাদের আশ্রয় দিয়েও সুভাষ চক্কোত্তি পার পেয়ে গেছেন, উলটে সেটা নিয়ে খবর করায় একটা নিউজ চ্যানেলই বন্ধ হয়ে গেল। তিনি অবশ্য এখন পরলোকে। আর বামফ্রন্টের প্রায় প্রতিটা এমএলএ-কাউন্সিলর-চেয়ারম্যানই দুহাত ভরে লুটেপুটে খেয়েছে। আমাদের পাড়ায় গেলবার যিনি মহিলা কাউন্সিলর হলেন তিনি এক বছরের মধ্যেই জলাজমি বুজিয়ে মার্বেল-বসানো তিনতলা বিশাল ফ্ল্যাট হাঁকিয়ে ফেললেন।

সাফি এর ছবি

লেখা আর মন্তব্য পড়ে একটা পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেলাম। ধন্যবাদ আপনাদের দুজনকেই

সুকু এর ছবি

যতদূর জানি "গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বিশ্বের প্রাচীনতম কমিউনিস্ট জোট" হল কেরালায় ইএমএস নাম্বুদ্রিপাদের সরকার। আর একদম উঁচু লেভেলে দূর্নীতি তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও নিচুতে যথেষ্টই আছে -- কৌস্তুভ-দময়ন্তীর মন্তব্যে সহমত।

এক লহমা এর ছবি

এখন সেখানে চলছে আজকের শাসকের বিরোধীহীন ভোটের জমানা। রং বদলায়, দিন বদলায় না।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।