সত্যপীর এর ব্লগ

রাজা চমন সিং এর পাগড়ি

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ০৬/০৪/২০১৪ - ১২:০২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

রাজা চমন সিং আমার দিকে তাকিয়ে কৌতুকের স্বরে বললেন, তোমার নাম কবুতর ফারুক?

আমি ঘাড় নাড়লাম। আমিই কবুতর ফারুক।

দামড়া পুরুষমানুষ পায়রা কবুতর নাম নিয়া ঘুরো তোমার লজ্জা নাই?


কিল্লা মুবারক

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শনি, ২২/০৩/২০১৪ - ১১:১৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নবনির্মিত ফতে জং কিল্লার সামনের বাগান। মধ্য দুপুর।

শান্ত পানির নহরের সামনে দাঁড়িয়ে কিল্লার মূল কারিগর ওস্তাদ আলি খাঁ ধীরে ধীরে ডান হাত তুলে সঙ্কেত দিলেন। আশপাশের সকলের চোখ কপালে তুলে দিয়ে সেই শান্ত নহর থেকে ছ্যাঁৎ ছ্যাঁৎ ভুসস শব্দ করে ঠান্ডা পানির ফোয়ারা ছিটিয়ে উঠল। খুব কাছে যারা দাঁড়িয়ে ছিল তাদের কামিজে পানির ছিটা লেগে গেল অল্প, তাই দেখে দাঁত বের করে তাদের সে কী হাসি! পুরো এলাকা যেন হঠাৎ বেহেশতের মত ঠাণ্ডা হয়ে উঠল। ছোট একটি ছেলে পানির খুব কাছে গিয়ে আনন্দে লাফ দিল দুইবার।

কিল্লার মালিক সুলতান বুরহানউদ্দিন তৃপ্ত চোখে পানির খেলা দেখতে দেখতে গাঢ় কণ্ঠে বললেন, মাশ্-আল্-লাহ্! মাশ্-আল্-লাহ্!


কবুতর ফারুক

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ০৯/০৩/২০১৪ - ১২:২২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ছেলেটি ডান হাতের তর্জনি দিয়ে নাক খুঁটতে খুঁটতে আমাকে জিজ্ঞেস করল, আপনের নাম কবুতর ফারুক?

আমি খেয়াল করলাম নাকের ময়লা সে তার পিরানে মুছল। ভেজাল। আমি উত্তর না দিয়ে বললাম, পাকশালায় তোর কি কাম?

ছেলেটি বলল, আমি ময়দা মাখি। নান রুটির ময়দা।


বদ বখত

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৩/০২/২০১৪ - ৮:২১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আগস্ট মাস, ১৬৫৯। দিল্লী।

নাজিরের কথাঃ

জিনিসটা ধরে আমি মুখ কুঁচকে বললাম, এহ দুনিয়ার রক্ত। এইটা দেখে কিছু বুঝার উপায় আছে নাকি?

আছে, মোতালিব ঘাড় নেড়ে বলল, যে চেনার সে ঠিকই চিনবে। সময় অল্প, বাহাসের সময় নাই। ধুয়ে পরিষ্কার করি আয়। বাইরে পানি আছে না?


নটে গাছটি মুড়োলঃ পণ্ডিতের বিপদ

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বিষ্যুদ, ০২/০১/২০১৪ - ৪:১০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

উইলিয়াম ম্যাকালক সম্পাদিত ১৯১২ সালে প্রকাশিত Bengali Household Tales অবলম্বনে আজকের গপ্পো পণ্ডিতের বিপদ।
…........................................................................

এক গাঁয়ে থাকত এক পণ্ডিত, সে ছিল বেজায় বুদ্ধু। তবে সারা গাঁয়ে সে এমন ভাব নিয়ে চলত যে সকলেই সেখানে মনে করত নাহ এই লোক কিছু জানে। গ্রামের লোক ছিল মূলত জেলে সম্প্রদায়ের লোক, পণ্ডিত ছিল তাদের গুরু। জেলেদের যখনই জানার দরকার ছিল যে সেইদিন চান্দ্রমাসের কয় তারিখ বা সপ্তাহের কোন দিন, তারা পণ্ডিতের কাছে যেত জানতে। গাড়ল পণ্ডিত কি আর এত হিসাব জানে, সে করত কি পূর্ণচন্দ্রের পরদিন সকাল থেকে প্রতিদিন ভোরে ঘরের চিপায় একটা করে নুড়ি রাখত। এরকম পূর্ণচন্দ্র থেকে নতুন চাঁদ পর্যন্ত তার পনেরোটা নুড়ি হত। নতুন চাঁদ থেকে পূর্ণচন্দ্রও সে ঠিক একই কাজ করত। এভাবে কেউ তারিখ জানতে চাইলে ঘরে ঢুকে নুড়ি গুণে পণ্ডিত বলে দিত কয় তারিখ।


কারা যেন ভালোবেসে আলো জ্বেলেছিল

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: মঙ্গল, ১৭/১২/২০১৩ - ৮:৫৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

খবরে প্রকাশ কাদের মোল্লার ফাঁসির খবরে পাকিস্তানে এত লোক গায়েবানা জানাজায় খাড়িয়ে গেছে যে আস্ত দেশের মাটি বলে দুই ইঞ্চি দেবে গেছে।

আচ্ছা ভালো কথা।

টরন্টো শহরে আমার প্রচুর পাকিস্তানীর সাথে নিয়মিত দেখা হয়। অফিসে দুই একজন আছে, অন্য ডিপার্টমেন্টে মূলতঃ। এছাড়া ট্যাক্সি বা দোকানপাটে দেখা হয়। তারা একে অপরকে চেনেনা কিন্তু সকলেই একটা কমন কাজ করে। দাঁত বের করে হেসে কোন রকম ওয়ার্নিং ছাড়াই হড়মড় করে উর্দ্দুতে ব্রাশফায়ার শুরু করে দেয়।


থিবো সায়েবের দৌলত - দ্বিতীয় পর্ব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বুধ, ২০/১১/২০১৩ - ৪:৩৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(প্রথম পর্বের পর)

পাথর মসজিদ লাগোয়া চত্বর, পাটনা। ১৬৪৪ এর গ্রীষ্মকাল।

সওদাগরের ছদ্মবেশে থাকা পেয়াদা জাফর নদীর দিকে মুখ করে উবু হয়ে বসে টুপি বাছতে বাছতে টুপিওলাকে বলল, বুড়ামিয়া মাথা ঠাণ্ডা রাখে এরকম একখান টুপি দেন। দুপুরের দিকে মাথা রুটির তাওয়ার মতন গরম লাগে।

লালচে দাঁত দেখিয়ে হাসল টুপিওলা, বিসমিল্লা বইলা ফুঁ দিয়া পরবেন। দেখবেন কেমন ঠাণ্ডা থাকে মাথা।


থিবো সায়েবের দৌলত - প্রথম পর্ব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ০৬/১০/২০১৩ - ১:৫৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আরব সাগর থেকে তাপ্তি নদীতে জাহাজ ঢুকল এইমাত্র। সুরাট বন্দর আসন্ন। জাহাজ আসছে সেই মছলিপটনম থেকে, মেলা লম্বা রাস্তা। মাঝে থেমেছিল কোচিন কালিকট আর গোয়ায়। জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে ফরাসী জহরত ব্যাপারি জঁ পিয়ের থিবো দেখতে লাগলেন উঁচু দেয়ালে ঘেরা সুরাট দূর্গের পাশ দিয়ে জাহাজ ধীরে ধীরে এগুচ্ছে কাস্টমস হাউসের দিকে।

নভেম্বর। ১৬৪২ সাল।


বাদার বিক্রম - শেষ পর্ব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বুধ, ২৫/০৯/২০১৩ - ৯:৩২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(দ্বিতীয় পর্বের পর)

রাত্রি দ্বিপ্রহর। সুবাদার শাহবাজ খাঁর খাস তাঁবুর বাইরে দাঁড়ানো ছয়ফুটি তাগড়া পেয়াদাকে ফৌজদার আলী নকভী বললেন, সরে দাঁড়াও। হুজুরের সাথে আমার বিশেষ প্রয়োজন। মাথা নেড়ে পেয়াদা বলল, হুজুর ব্যস্ত। সকালে আসুন।

স্থির চোখে পেয়াদার দিকে তাকিয়ে ফৌজদার বললেন, আমার এখনই প্রয়োজন। চিটঠি এসেছে। হুজুরকে বল গিয়ে যাও।

তাঁবুর ভেতরে যাবার হুকুম মিলল। ভেতরে ঢিলে জামা পরা শাহবাজ ফৌজদারকে বললেন, রাতে আমার মাথা ভাল কাজ করেনা তুমি ভাল করেই জানো। হয়েছে কি?

বিক্রম বাজিতপুরে আমাদের হয়ে বিষ মেশানোর সাথে অন্য ধান্দা করছে হুজুর। সে তার গাঁ থেকে ধরে আনা আরো কয়টা দাসের সাথে পালানোর মতলব করছে।

শাহবাজের মুখ হাসি হাসিই থাকল, কেবল চোখ দুটি কঠিন হয়ে গেল।


বাদার বিক্রম - দ্বিতীয় পর্ব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শনি, ৩১/০৮/২০১৩ - ৩:৫২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(প্রথম পর্বের পর)

গঙ্গার তীরে মুঙ্গেরের কোন এক জায়গা। সুবাদার শাহবাজ খাঁর কাফেলার তাঁবু।

সকাল।

তাঁবুর পাশে মাঠের চিপায় উবু হয়ে বসে মুর্গীর হাড্ডি কড়মড় করে চিবানোর পর থু থু করে করে ফেলে দিয়ে বিক্রম পাশে দাঁড়ানো পাইককে জিজ্ঞাসা করল, আর কতদিন এরম হাঁটাহাঁটি জানেন নাকি কত্তা?