সত্যপীর এর ব্লগ

ধূম সওদাগরঃ শেষ পর্ব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শুক্র, ০৯/০৬/২০১৭ - ২:৩১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(প্রথম পর্বের পর)

কাঠি দিয়ে বাটি থেকে কালচে খয়েরি রঙের খাবার মুখে দিয়ে চাবাতে লাগল লাও বাঙ। লালু কাঠি হাতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে আছে দেখে লাও বাঙ বলল, ইট ইট। দিস ডাক ইন্সাইড। টেস্টি।

ডাক ইন্সাইড, মানে নাড়িভুঁড়ি? লালু একটু চিন্তায় পড়ে গেল। সে নাড়িভুঁড়ি আগে খেয়েছে বটে তবে সে অভিজ্ঞতা তার সুখকর নয়। সে একটু ইতস্তত করে বলল, ইউ হ্যাভ ডাক আউটসাইড?

এই আশ্চর্য প্রশ্নে লাও বাঙ খাওয়া থামিয়ে বলল, ডাক আউসাইড?


ধূম সওদাগর - প্রথম পর্ব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শনি, ১৩/০৫/২০১৭ - ৮:১৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মার্কিন ক্যাপ্টেন স্যামুয়েল হর্নক্লিফ গম্ভীর স্বরে বললেন, হাঁ যা ঘটেছে তা অতি দুঃখজনক। আটারলি ডিস্যাপয়েন্টিং অ্যান্ড কোয়াইট আনফরচুনেট ইন্ডিড। এই ভারতীয় ছেলেটি চমৎকার রাঁধে, সে যে আচমকা ঢিল ছুঁড়ে মানুষ মেরে ফেলবে তা ভাবা যায়নি।

পাশে দাঁড়ানো লম্বা জামা পরিহিত চীনে প্রশাসক চাওলুং সরু চোখে তাকিয়ে রইলেন, কিছু বললেন না। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হর্নক্লিফ বললেন, আমরা আমেরিকান। স্থানীয় আইনের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। এই ছেলের বিচার কি করবেন আপনারাই স্থির করুন।

লালুর মুখ এতক্ষণ বাঁধা ছিল। চাওলুং এর চোখের ইশারায় পাশে দাঁড়ানো চীনে পেয়াদা মুখের কাপড় খুলে শক্ত করে তার হাত পিছমোড়া করে পেঁচিয়ে ধরল, আর সেই ফাঁকে গলা ফাটিয়ে লালু বিশুদ্ধ ইংরেজীতে বলল আই অ্যাম ইনোসেন্ট। আমি কিছু করিনি। আই ওয়াজ নট ইভেন অন ডেক, আমি তো নিচে ফেটে যাওয়া আফিমের বাক্স সারাই করছিলাম।

ক্যাপ্টেন হর্নক্লিফ আর তার মার্কিন সহ অফিসারগণ কিঞ্চিৎ থতমত খেয়ে গেলেন। এই ভারতীয় চাকর বেশ ইংরেজী বলতে পারে দেখছি। অল্প কিছুক্ষণ নীরবতা, তারপর চাওলুং হর্নক্লিফের দিকে তাকিয়ে ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে সন্দিগ্ধ স্বরে বললেন, হি সে ওপিয়াম? য়ু হ্যাভ ওপিয়াম?


প্রতিপক্ষ

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: সোম, ০৬/০২/২০১৭ - ৭:৩৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মাহালু নদীর তীরে ঘোড়া ছুটিয়ে যেতে যেতে কিছুক্ষণ পর মুস্তফা টের পেল পেছনে আর কেউ আসছে। নৌরাবাদের কেউ পিছু নিল নাকি? ঝট করে পিছনে তাকিয়ে একঝলক আগন্তুককে দেখে সন্তুষ্ট হয়ে আবার টেনে ঘোড়া ছোটাল সে।

ইদ্রিস। ইদ্রিস আসছে পেছন পেছন।

যাক, ভালো হল তবে। সে ছাড়া আরও অন্তত একজন দেখেছে সাদতকে চম্পট দিতে।


জুয়াড়ি

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: সোম, ১৯/১২/২০১৬ - ১২:২২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

লাল পাগড়ি সোজা করতে করতে মুসাফির বলল, কথা সত্য কাশেম। হিরাত নগরী বড় ঠাণ্ডা। বরফ পড়ে টুপটাপ শীতের সময়। তবে মোটা জামা পরনে থাকলে আরামই লাগে।

মাথা চুল্কে কাশেম বলল, ও আচ্ছা। আপনের মুর্গাও কি মুটা জামা গায়ে দিত হিরাতে?


চাঁদের আলোয় একজন নিরাশ যুবক

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ১২/০৬/২০১৬ - ৮:৪৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মেয়েটি পিছন থেকে আস্তে আস্তে হেঁটে কাছে এসে ডাক দিল, ভাইজান!

যুবকটি ফিরে না তাকিয়েই মাথা ঝাঁকাল অল্প, মুখে কিছু বলল না। মেয়েটি বসে পড়ল পাশে। কিছু সময় কেটে গেল চুপচাপ। উপরে মেঘমুক্ত আকাশ, হাল্কা বাতাস দিচ্ছে। চকচকে চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে বাগান। মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে সেই কখন! ভোর হবে কিছু পরেই। সাধারণত এই সময় এরকম বাইরে থাকলে আম্মি মানবতী কবর থেকে উঠে এসে বকে ফিরাতে নিয়ে আসেন, কিন্তু আজ এখনো তার সাড়া নেই। ভালই, ভাবে মেয়েটি। তারপর আচমকা সে জিজ্ঞাস করে,

আচ্ছা ভাইজান, আব্বাকে আপনি সত্যই ভাই বলে ডাকতেন?

বিষণ্ণ যুবকটি ফিক করে হেসে ফেলে বলে, হ্যাঁ তো!


ছবির গল্পঃ পাণ্ডবছাউনিতে ভয়াল রাত

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৪/০৩/২০১৬ - ৮:৫৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আর ছিল দশবন্ত, পাল্কিবেয়ারার ছেলে। কারখানায় কাজ করত আর তার দেয়ালে নানান ছবি এঁকে রাখত মনের খেয়ালে। হঠাৎ একদিন মহাদর্শী বাদশার নজরে আসে এই দেয়ালের ছবি। তিনি খাজা (আব্দুস সামাদ) এর কাছে একে ছবির কাজ শিখতে পাঠান। দুদিন না যেতেই দশবন্ত তার সময়ের সবচাইতে দুর্দান্ত এবং অতুলনীয় চিত্রশিল্পী হয়ে ওঠে, কিন্তু মস্তিষ্কবিকৃতির করাল গ্রাস অসাধারন মানুষটিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আত্মহত্যা। কিছু অসামান্য প্রভুখন্ড সে রেখে গেছে বৈকি।

আবুল ফযল, আইন ই আকবরি।

প্রিয় পাঠক আজকের ছবির গল্প রযমনামা (অর্থাৎ যুদ্ধের গল্প) হতে উন্মাদ শিল্পী দশবন্তের এ নাইট অ্যাসল্ট অন দ্য পাণ্ডব ক্যাম্প।


ছবির গল্পঃ শাজাহানকে বিলাতি লকেট পরিহিত জাহাঙ্গীরের সাবাসি

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ১৪/০২/২০১৬ - ৪:১১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

জাহাঙ্গীর বাদশার দাক্ষিণাত্য জয়ের স্বপ্নে কাঁথাবালিশ জাবড়ে মান্ডু শহরে থানা গাড়ার কথা আমরা আগের ছবির গল্পে দেখেছি। অক্টোবর, ১৬১৭। মান্ডুর আকাশে আজ চাঁদের গায়ে চাঁদ। শহরবাসী ভাবে করবে কী।তিন নং রাজপুত্র খুররম সদ্য দাক্ষিণাত্যে কিছু লড়াই জিতে বীরদর্পে বাপের কাছে ফিরেছেন। সন্তুষ্ট পিতা কয় পাত্তর মদ খেয়ে কইলেন যা ব্যাটা সাব্বাস। তোর নাম আজ থেকে শাহ-জাহান, দুনিয়ার রাজা। তিনি নিজে জাহাঙ্গীর (দুনিয়াজয়ী) আর ছেলে যদি হয় শাজাহান (দুনিয়ার রাজা) তাহলে কিছু টেকনিকাল সমস্যা থেকে যায় বটে তবে সেসব বাজে তর্ক।

প্রিয় পাঠক আজকের ছবির গল্পে মোগল শিল্পী প্রয়াগের আঁকা ছবি “জাহাঙ্গীর প্রেজেন্টিং প্রিন্স খুররম উইথ টার্বান অর্নামেন্ট”।


ছবির গল্পঃ মালিক অম্বর বিষয়ক জাহাঙ্গীরের মনকলা

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বুধ, ০৩/০২/২০১৬ - ১০:২৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

চতুর্থ মোগল বাদশা নূরউদ্দীন মুহম্মদ জাহাঙ্গীরের বুদ্ধিশুদ্ধি ছিল অল্প। তার টাইটেল জাহাঙ্গীর ফার্সীতে বোঝায় দুনিয়াজয়ী ব্যক্তি, তাই তার হুকুমে আঁকা ছবিতে প্রায়ই দেখা যায় তিনি হাস্যকরভাবে জামাজুতাসুদ্ধা একটা আস্ত ভূগোলকের উপর খাড়িয়ে আছেন। এইরকম একটা ছবি নিয়ে আলোচনা করি আজকে চলেন। ছবিতে মাছের উপর গরু, গরুর উপর পৃথিবী, পৃথিবীর উপর জাহাঙ্গীর। হাতে সোনার ধনুক, সেইটে দিয়ে সোনার তীর ছুঁড়ে মারছেন সড়কির উপর গাঁথা একটি কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের কেটে ফেলা মাথার হাঁ করা মুখের দিকে।

কৃষ্ণাঙ্গ মানুষটি দক্ষিণ ভারতের আফ্রিকান বংশোদ্ভূত গেরিলা কমান্ডার চাপু ওরফে মালিক অম্বর, যার যন্ত্রনায় বাপবেটা আকবর জাহাঙ্গীর ছিলেন অতীষ্ঠ।


একটি কোহিনূর ঘটিত মোকদ্দমা

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: মঙ্গল, ০৮/১২/২০১৫ - ১০:৫৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাজারে তুমুল উত্তেজনা। পাকিস্তানের জনৈক ব্যারিস্টার জাভেদ ইকবাল জাফ্রি মামলা ঠুকে দিয়েছেন এই বলে যে, হে লন্ডন। পবিত্র পাঞ্জাবের কোহিনূর ফিরত চাই দিতে হবে, কেননা তা জোরজবরদস্তী করে শিখ মহারাজা রঞ্জিত সিং এর নাতির অবুঝ কোল থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল।

সাব্বাস। আই লাইক দিছ। আইসেন পাঠক পাথরের মালিকানা যাচাই করি। আপনি বিজ্ঞ বিচারক আমি নিরপেক্ষ মোক্তার। আছেন সাথে পাকিস্তানি ব্যারিষ্টার। দেখা যাক কিডা পাপী কিডা জামিনদার।


শহরবন্দী মেঘ

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ০১/১১/২০১৫ - ৯:৪৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ইস্কুলে থাকতে আমি প্রায়ই এলিফেন্ট রোড হাতিরপুল কি কাঁটাবন থেকে হেঁটে বাসায় ফিরতাম। সন্ধ্যা হয় হয় কিম্বা অন্ধকার ঝপ করে নামার ঠিক পরে। জোর কদমে হাঁটলে সময় বেশী লাগত না। এরকম এক হাল্কা বৃষ্টিমাখা সন্ধ্যায় আমি হেঁটে ফিরছি, এমন সময় পাশে একটা হোন্ডা থামল। হেসে হোন্ডায় বসা তরুণটি জিজ্ঞাসা করল এই তুমি আটান্নো নম্বরের না? ওঠো পিছনে ওঠো আমি ওদিকেই যাচ্ছি নামিয়ে দেব।

আমি ভালো করে তরুণটির দিকে তাকিয়ে দেখি দীপন ভাই।