সত্যপীর এর ব্লগ

শহরবন্দী মেঘ

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ০১/১১/২০১৫ - ৯:৪৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ইস্কুলে থাকতে আমি প্রায়ই এলিফেন্ট রোড হাতিরপুল কি কাঁটাবন থেকে হেঁটে বাসায় ফিরতাম। সন্ধ্যা হয় হয় কিম্বা অন্ধকার ঝপ করে নামার ঠিক পরে। জোর কদমে হাঁটলে সময় বেশী লাগত না। এরকম এক হাল্কা বৃষ্টিমাখা সন্ধ্যায় আমি হেঁটে ফিরছি, এমন সময় পাশে একটা হোন্ডা থামল। হেসে হোন্ডায় বসা তরুণটি জিজ্ঞাসা করল এই তুমি আটান্নো নম্বরের না? ওঠো পিছনে ওঠো আমি ওদিকেই যাচ্ছি নামিয়ে দেব।

আমি ভালো করে তরুণটির দিকে তাকিয়ে দেখি দীপন ভাই।


রক্তবীজের ঝাড়

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ২৫/১০/২০১৫ - ১১:৫৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

টাল বাদশা জাহাঙ্গীরের বউ নূর জাহান ছিলেন ব্যাপক চালাক মহিলা। তার আগের ঘরের একটা মেয়ে ছিল, মোগলাই খুঁটি শক্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি সেই মেয়ের সাথে বিয়ে লাগালেন জাহাঙ্গীরের ছোট ছেলে শাহরিয়ারের। এইবার নূর জাহান ভাবলেন জামাতা শাহরিয়ার বাদশা হলেই কিল্লা ফতে!

মুস্কিল বাধালেন নূর জাহানেরই ভাই আসফ খাঁ সায়েব, তার মেয়ে মুমতাজ মহলের সাথে তখন জাহাঙ্গিরের তিন নং ছেলে খুররমের ব্যাপক ভালোবাসাবাসি। আসফ খাঁয়ের টার্গেট পরিষ্কারঃ শাহরিয়ারের গুলি মারি, তখতে বসাতে হবে জামাতা খুররমকে।

এই লাগল ভাইবোনে জামাতা ঘটিত গিয়াঞ্জাম।


মুঠো আজ দিলাম খুলে

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শনি, ১১/০৭/২০১৫ - ৮:৩১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সকালে বিকালে উঠে রোজ অকালে। গোলেমালে ফাঁকতালে বাসে ঝুলে বেহালে। আজ নেই কাল নেই মাল নেই… মৃদু স্বরে গান গাড়িতে বাজে আর আমি রিয়ার ভিউ মিরর দিয়ে দেখি আমার দুই বছরের মেয়ে মন দিয়ে মাথা দুলাচ্ছে গানের তালে তালে। এইটা তার ফেভারিট গান। আমি গলা উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করি আব্বু, এইটা কার গান? আমার মেয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে “অন্নব”, বলে আবার মাথা দুলানিতে ফিরে যায়। আমিও মাথা ঝাঁকিয়ে তাল দেই আর গান ধরি অর্ণবের সাথে। ঘুরঘুর ফুরফুর নাকে হাওয়া সুড়সুড় লাগিয়ে বাগিয়ে লোকজন রাগিয়ে টিকাটুলি বাড্ডায় অলিগলি আড্ডায় বকাবে ঠকাবে থুতু দিয়ে চা খাবে রোজ রোজ...।আমার মেয়ে পিছনে তার মাকে বলে মা আব্বু গান কচ্ছে। অন্নব।


খোরাসান – দ্বিতীয় পর্ব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ২৪/০৫/২০১৫ - ৪:১০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(প্রথম পর্বের পর)

ভিক্টোরিয়া ক্লাব, কলকাতার উপকণ্ঠ। এপ্রিল ১৮১০।

মেজর মার্কাস স্মল তার সদ্য লন্ডন হতে আগত বন্ধু ডাল্টন হামফ্রিকে নিয়ে ক্লাবে প্রবেশ করে বললেন, এই আমাদের সামান্য ক্লাব। এসো, ঘুরিয়ে দেখাই।

বিশাল দালান হাঁ করে দেখতে দেখতে ডাল্টন বললেন, হ্যাঁ। সামান্যই বটে। আস্ত এক কাউন্টি ঢুকে যাবে মনে হচ্ছে তোমাদের এই সামান্য ক্লাবের কম্পাউন্ডের ভিতর। অ্যাস্টোনিশিং ইন্ডিড। যাহোক, টুপি ছড়ি রেখে যাই কোথাও নাকি?

হ্যাঁ ঐ ফার্ট ক্যাচার দাঁড়িয়ে আছে একটা ওর হাতে দিয়ে দাও।


খোরাসান - প্রথম পর্ব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: মঙ্গল, ১৪/০৪/২০১৫ - ১০:০২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এপ্রিল, ১৮১০। কলকাতা।

সকাল।

ইংরেজ সওদাগর এবং কোম্পানির অবসরপ্রাপ্ত মেজর মার্কাস স্মলের নতুন বাসভবনের ডাইনিং রুমে ব্রেকফাস্ট পরিবেশন করে গেল চাকর সুবহান আলি। বড় ডাইনিং রুম, উপরে উঁচু গম্বুজ। ভবনটি আগে এক স্থানীয় হিন্দু মহাজনের ছিল, সে পানির দরে কিনে নিয়েছিল মূল মুসলমান মালিকের কাছ থেকে বছর বিশেক আগে। বেশ খোলামেলা মাজারের মত স্থাপনা। বাইরে ফোয়ারা। মৃদুমন্দ বাতাস।

মার্কাসের অতিথি সদ্য লন্ডন থেকে আগত কবি ডাল্টন হামফ্রি বেকন আন্ডায় কামড় দিয়ে রুমাল দিয়ে মুখ মুছে বললেন, যাই বল মার্কাস, নেপোলিয়নের ধান্দা ব্যানফিল ঠিকই ধরতে পেরেছিল।

ছুরি দিয়ে এক টুকরো সসেজ কেটে মুখে দিয়ে নির্বিকার কন্ঠে মার্কাস বললেন, ব্যানফিল একটা উজবুক।


পাপাড়ু

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ০১/০২/২০১৫ - ১:৫০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

একাকী পাপাড়ু গিয়ে হাসানাবাদ পৌঁছালেন, যে গ্রাম তার নিজেরই পত্তন করা। সেখানে এক তাড়ির দোকানে জুত করে বসে তিনি বললেন, “এই আমায় ভালো তাড়ি দে”। পলাতক পাপাড়ুর ছদ্মবেশ ছাপিয়ে সেই গম্ভীর কন্ঠ তাড়িওলার কানে ঠং করে গিয়ে বাজল। চোখ তুলে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করল সে খদ্দেরের মুখ। হ্যাঁ, এই লোক অবশ্যই পাপাড়ু!

(কাফি খাঁ, ১৭৩১)


বুড়ো বুড়ো মেঘেদের দল বৃষ্টি নামার তাল গুনছে

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বুধ, ২৪/১২/২০১৪ - ১০:৫৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি স্মার্টফোন লাল রঙে ভয় দেখাচ্ছে, “ফগ অ্যালার্ট”, “চান্স অফ রেইন/ড্রিজল”, “স্টে অ্যালার্ট অন দ্যা রোড” আরো কি কি হাবিজাবি। বারান্দায় গিয়ে দেখি চমৎকার সকাল, অল্প কুয়াশা। রেলিং ভেজা। অন্ধকার পুরো কাটেনি। একেবারে আমার মতই শহর মাত্র ঘুম থেকে উঠেছে, দেখতে ভালোই লাগে। কোন রামছাগলে অ্যাপ বানিয়েছে আল্লায় জানে। কোথায় সে একটা স্লো মিউজিক ছেড়ে কইবে “ওগো শুনছ, বাইরে গিয়ে দেখো সে কী সুন্দর কুয়াশা আর হাল্কা হিম...জ্যাকেটটা পরে বাইরে পিচ্চিকে নিয়ে হেঁটে এসো।” তা নয়, অ্যালার্ট অ্যালার্ট। ফগ অ্যালার্ট। রেইন ওয়ার্নিং। রেড অ্যালার্ট। দ্য জার্মান ইজ কামিং। অ্যালার্ট।

যন্ত্রণা।


রাজকুমারী চাঁদনিবালার ছবি - প্রথম পর্ব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ২৩/১১/২০১৪ - ৯:১৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বারো বছর বয়েসী রাজা জগৎ সিং আমার দিকে তাকিয়ে বড়দের মত গম্ভীর গলায় বললেন, নাম কবুতর ফারুক ঠিক আছে। কোন অসুবিধা নাই। তবে নামটা তোর তেলাপোকা ফারুক হলে আজই তোর গর্দান নিতাম।


বাঘ বনাম শকুনের গল্প

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শুক্র, ২৪/১০/২০১৪ - ৪:২২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বুড়া শকুন মারা গেছে।

এই বুড়া গোলাম আজম পাকিস্তান আদর্শ রক্ষা তহবিলে চাঁদা উঠিয়েছিল। এই যে কি চমৎকার রশিদ দেখা গেলঃ

চাঁদার টাকা দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদ্যয় ঠেকানোর মতলব ছিল চান্দুর। আহারে বুড়া কদু, সেই বাংলাদেশের যে শুধু অভ্যুদয় হবে তাই না... মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নামে হাসপাতালে যে তোকে পটল তুলতে হবে এইটা কি আর জানতি রে ময়না? জীবন চোষে বটে।


নটে গাছটি মুড়োল: রাজপুত্র কোটালপুত্র

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ১৯/১০/২০১৪ - ৩:২৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এক দেশে থাকত এক রাজপুত্র আর এক কোটালপুত্র। দুইজনে ছিল বিরাট দোস্ত। তারা একত্রে থাকত, খেত, ঘুরত ফিরত। একদিন কোটালপুত্র এসে রাজপুত্রকে বলল, হে পিয়ারা ভাই আমার। এক কাজ করি চল। আমাদের নিজ নিজ শ্বশুরবাড়ি একটা ঘুরান দিয়ে আসা যাক। প্রথমে আমার শ্বশুর বাড়ি চল, আমি আমার শ্বশুরের সাথে তোমার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। পরে তুমিও না হয় তাই করলে তোমার শ্বশুরবাড়িতে।

রাজপুত্র ভারি খুশি হয়ে বলল, উত্তম প্রস্তাব! কেন নয়?