সত্যপীর এর ব্লগ

উড়ে যায় বিষণ্ণ পাখি

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: মঙ্গল, ১৯/০৩/২০১৩ - ৬:৫৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আলিনগর আর কালীনগর পাশাপাশি। আলিনগরে দশজনে আটজনই হোসেন। সবাই হোসেন এইটা বলা অবশ্য ঠিক হল না, কেউ হোসেন কেউ হুসাইন কেউ হুসেন। নানান তরিকার বানান। যে যার পদবী মেনে চলে, পদবী খুব ভারি জিনিস আলিনগরে। হোসেন ছাড়া সেখানে আছে কিছু আহমেদ, আর গুটিকয় খান কিংবা রহমান। ও না থাকার মতই। আলিনগরে হোসেনই জাতীয় পদবী।


ঘাস আর পিঁপড়ার গল্প

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: মঙ্গল, ১২/০২/২০১৩ - ১০:৩৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মাঠের চিপায় লম্বা দুইটা ঘাস ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে আছে কিছুক্ষণ ধরে। লক্ষণ সুবিধার না। দুইটা ঘাসের মধ্যে একটা একটু বেশী লম্বা আরেকটা লম্বায় কম। তবে আশপাশের আমঘাসের তুলনায় তাদের উচ্চতা চোখে লাগে ঠিকই।

একটু বেশী লম্বা ঘাসের বয়স বেশী। সে ঘাড় ঘুরায় একটু কম লম্বা ঘাসকে বলল, ঘটনা ঘটতে পারে আজকে।


জহরতি কারবার

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: সোম, ২১/০১/২০১৩ - ৭:২৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ঢাকার নবাব শায়েস্তা খাঁর সাথে যখন আরাকানের রাজার সঙ্গে যুদ্ধ চলছিল তখন আমি ঢাকা যাই। শায়েস্তা খাঁ ছিলেন অতি চতুর ব্যক্তি, আরাকান রাজার অফিসারদের কোথায় কাকে কত টাকা ঘুষ দিতে হবে তা ছিল তার নখদর্পনে। এছাড়া আরাকানরাজের অধীনে কাজ করা পর্তুগীজদেরও তিনি ভাগিয়ে আনেন।

১৪ জানুয়ারি আমি নবাবকে সেলাম জানাতে তার প্রাসাদে যাই। তার জন্য ভেট নিয়েছিলাম সোনালি জরির কাজ করা রেশমি কাপড় আর বহুমূল্য একটি পান্না। সন্ধ্যায় আমি ওলন্দাজদের কুঠিতে ফেরত যাই, তাদের সাথেই আমি থাকছিলাম ঢাকায়। সেখানে নবাব পাঠালেন বেদানা, দুইটি পারস্যের তরমুজ আর তিন রকম আপেল।

পাদটীকা

  • ১. ফরাসী পর্যটক ও জহরতওয়ালা জঁ ব্যাপ্তিস্ত তাভের্নিয়ে

বিবি লজেন্স সঙ্গীতমালা ২

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: সোম, ০৭/০১/২০১৩ - ১০:০২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

দুপুর দুটো বেজে এক মিনিট। বিজ্ঞাপন তরঙ্গে সময় হল বিবি লজেন্স সঙ্গীতমালার।


কারি পাউডার

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: মঙ্গল, ২৫/১২/২০১২ - ৮:৩৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১৮১১ এর ২৭ মার্চ লন্ডনে টাইমস কাগজে বিজ্ঞাপন বেরোয় যে অবসরপ্রাপ্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর অফিসারদের আর ভয় নাই, এইবার তারা ঝাঁ চকচকে নূতন হিন্দুস্তানি কফি হাউসে “নিখুঁতভাবে তৈরী ভারতীয় খাবার” চেখে দেখতে পারবেন। চার্লস স্ট্রীট আর জর্জ স্ট্রীটের কোণায় এই কফি হাউস, পোর্টম্যান স্কয়ারের কাছের এই জায়গা ততদিনে অ্যাংলো ইন্ডিয়ানদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রেস্টুরেন্টের ভেতর ভারতীয় নানাবিধ দৃশ্যাবলীর ছবি টানানো দেয়ালের পাশে বাঁশ বেতের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে তারা ফেলে আসা ভারত উপমহাদেশের কথা ফেলে দীর্ঘশ্বাস ফেলত আর অর্ডার করত কারি। আলাদা ধূমপান কক্ষে তারা টান দিত হুক্কায়। চার্লস স্টুয়ার্ট বলে এক লোক ছিল, দুষ্টলোকে কইত তার নাকি ষোলখানা ভারতীয় বউ আর সে নাকি রোজ ভোরবেলা গঙ্গায় ঢিপ ঢিপ ডুব দিয়ে গোসল করত, সেই স্টুয়ার্ট সায়েব এই জায়গার নাম দিয়েছিলেন “হুক্কা ক্লাব”।

রেস্তোরাঁর ভারতীয় মালিক শেখ দীন মুহম্মদ তার কাস্টমারদের নিশ্চিত করতেন যে ব্যবহৃত সকল মশলা, তেল, লতাপাতা...তা সে কারির জন্যই হোক বা হুক্কার, সকলই সরাসরি ভারত হতে আমদানিকৃত এক নম্বুরি খাঁটি মাল।


এখন গভীর রাত নগরীতে দল বেঁধে নামে

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শুক্র, ১৪/১২/২০১২ - ৭:০১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমার জন্মের বছর দশেক আগে তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানের মানুষ আমার মত ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে মোটাদাগে দুই ভাগে ভাগ হয়েছিল। একভাগ ঠিক করেছিল আমার জন্ম হবে আল্লার পছন্দের দেশ পাকিস্তানে, আমি আমার মায়ের ভাষা বাংলা বাদ দিয়ে কথা বলব খাঁটি মুসলমানি ভাষা উর্দুতে, স্কুলের মাঠে দাঁড়িয়ে টুপি পরে গাইব পাক সার জমিন সাদ বাদ। আমি মিশব শুধু মুসলমান বন্ধুদের সাথে, হিন্দুরা তাদের জন্মভূমিতে জিজিয়া কর দিয়ে মসলমান শাসকের দয়ায় থাকবে কিম্বা হিন্দুস্তান চলে যাবে।

এই দলের লোকগুলি জামাতি। তারা আমাকে পাকিস্তান উপহার দেবার জন্য নামাজ পড়ে বেরুত আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারের জন্য মেয়ে খুঁজতে। তারা গ্রামের হিন্দুবাড়িতে আগুন দিয়ে আল্লার পথের গাজী ঘোষণা দিত নিজেদের। পাকিস্তান আর্মির প্রত্যক্ষ মদদে তৈরি হওয়া আল বদর বাহিনীর তরুণেরা খুঁজে খুঁজে বের করেছিল দেশের সূর্য সন্তানদের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পাড়ায় আমি বিশ বছর পরে থাকব সেই পাড়ায় তারা ঢুকিয়েছিল তাদের গোপন মাইক্রোবাস। তাদের মুখ ছিল কালো কাপড়ে ঢাকা।


পানিপত ১৫২৬

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শুক্র, ৩০/১১/২০১২ - ১০:১৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বাবুর লোদীর লড়াই। ইয়া ঢিশুমা!

সম্পূর্ণ রঙ্গীন সামাজিক অ্যাকশনধর্মী ভিডিও ব্লগ। ঢাকাসহ সারাদেশে শুভমুক্তি।


ভিন্দালু

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বিষ্যুদ, ১৫/১১/২০১২ - ৯:৫৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভাস্কো দা গামা কালিকটে ভিড়ার প্রায় এক শতাব্দী পরে ওলন্দাজ ইয়ান হাউখেন ফন লিন্সখ্যোতেন ১৫৮৩ এর সেপ্টেম্বরে গোয়াতে আসেন। লাইন ধরে সকল পর্তুগীজ রমণী মহানন্দে ভারতীয় খাবার খাচ্ছে দেখে তিনি তো অবাক। মূল খাবার ছিল সিদ্ধ ভাতের উপর পানির মত পাতলা স্যুপ ঢেলে তার সাথে মাছ, টক আমের আচার আর মাছ বা মাংসের ঝোল। ষোড়শ শতাব্দীর ইয়োরোপীয় যার মূল খাবার ছিল রুটি আর ঝলসানো মাংস, তার এইসব অচিন খানা দেখে অবাক লাগারই কথা। ভারতের পর্তুগীজেরা আপাত অপরিচিত খাবার খেয়ে হজম করত শুধু তাই নয়, একবারে খাঁটি ভারতীয়ের মত হাত দিয়েই খেত। রমণীরা কারো হাতে চামচ দেখলে তাই নিয়ে ভারি হাসাহাসি করত।


কান্নার সুরে বৃষ্টি ঝরে নূপুরের মতন

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শুক্র, ০৯/১১/২০১২ - ১১:০১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সারাদিন ধরে ঝমঝম বৃষ্টি। সকালবেলা আটটা নয়টার সময়ও ঘর অন্ধকার, মনে হয় ভোর ছয়টা বাজে বুঝি। দশটার ক্লাস ধরতে দশটা ছাব্বিশে কলাভবন গেটে পৌঁছে ক্লাসে যাবার বদলে গেটের সিঁড়িতেই বসে যাই, মামা এসে লেবু চা দিয়ে যায় ঐতে চুমুক দেই বসে বসে। তারপর মুজিব হলে গিয়ে ঘুমন্ত বন্ধুকে চাঁটি মেরে ঘুম থেকে উঠিয়ে ডিম-বন দিয়ে দুপুর বারোটায় নাস্তা সেরে আরেক বন্ধুর বাসা মালিবাগ চলে গিয়েছিলাম। এখন সন্ধ্যা ছয়টা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সামনে উত্তরাগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। বৃষ্টি কমে এসেছে, তবে আবার হুড়মুড় করে নামবে যেকোন সময়। পাশেই বুটবাদামওলা গভীর মনোযোগের সাথে ভাজা বাদাম থেকে বালু আলাদা করছে। কাছে টং দোকানে ক্যাসেট প্লেয়ারে বেজে চলেছে, হাতে রানে কানে। আঙ্গুলের চিপায় চাপায় ঘাও। আমাদের এই বিচ্ছু মলম, আপনারা ব্যবহার করেন। এর একটা বড় গুণ কি জানেন?


বিবি লজেন্স সঙ্গীতমালা

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: মঙ্গল, ৩০/১০/২০১২ - ৯:০৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

দুপুর দুটো বেজে এক মিনিট। শুনছেন বিজ্ঞাপন তরঙ্গ।