Warning: Creating default object from empty value in i18ntaxonomy_term_page() (line 34 of /var/www/sachalayatan/s6/sites/all/modules/i18n/i18ntaxonomy/i18ntaxonomy.pages.inc).

অণুগল্প

শোধ

Sohel Lehos এর ছবি
লিখেছেন Sohel Lehos [অতিথি] (তারিখ: বুধ, ০৬/০৬/২০১৮ - ৭:২৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ঝোপের ভেতর ঘাপটি মেরে বসে আছে দিলু। বেশ কিছুদিন ধরে সে খেয়াল করেছে এই দিক দিয়ে একটা বাঘ যায়। বাঘটা একটু দূর দিয়ে যায় বলে সে কায়দা করতে পারছে না। অনেক দিন বাঘের মাংস খাওয়া হয়নি।


মতি চোরা

Sohel Lehos এর ছবি
লিখেছেন Sohel Lehos [অতিথি] (তারিখ: রবি, ২৭/০৫/২০১৮ - ৭:৪৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

চোরদের বুকের পাটা থাকার কোন নজির নেই। কিন্তু মতি চোরার বুকের পাটার সাইজ বলতে গেলে ইয়া বড়। সে চিঠি পাঠিয়ে চুরি করতে যায়। চিঠির নমুনা দেয়া যাক-

"জনাব,
পর সমাচার এই যে অদ্য রাত বারো ঘটিকায় আপনার আলয়ে পা ফেলিব বলিয়া সিদ্ধান্ত লইয়াছি। মূল্যবান দ্রব্যাদি এবং টাকা-পয়সা সিন্দুকে তালা দিয়া কিংবা মাটিতে পুতিয়া রাখিয়া কোন ফল হইবে না। রাত জাগিয়া পাহারা দিয়াও কোন ফায়দা হইবে না। সমস্ত কিছুই আমার নখদর্পনে এবং আমার গতিবিধি অশরীরির ন্যায়। তাই রাত জাগিয়া কষ্ট না করিয়া আমার কাজ আমাকে নির্বিঘ্নে করিতে দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হইবে। সালাম লইবেন।
ইতি,
অধম মতি চোরা"


ভাড়াটে

Sohel Lehos এর ছবি
লিখেছেন Sohel Lehos [অতিথি] (তারিখ: রবি, ১৩/০৫/২০১৮ - ৪:১০অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

খোসা ফেলে দেয়া সেদ্ধ ডিমের মত সাদা চাঁদ ঝুলে ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমের আকাশে। পূর্ণিমা বোধ হয় দিন দুয়েক আগে হয়ে গেছে। আলোয় তেমন জোর নেই। পিচিত করে রাস্তার ধারে পিক ফেলে জিবে চুন লাগায় বাতেন চেয়ারম্যান। রাতের খানা শেষে তার কিঞ্চিত হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাস আছে। অন্য সময় হলে বন্দুক হাতে জয়নাল সাথে থাকত। আজ নেই। ছোট মেয়েকে নিয়ে সদর হাসপাতালে গেছে জয়নাল।

বাতেন চেয়ারম্যানের মন আজ বেশ অস্থির। হোসেনকে একটা কাজে পাঠিয়েছিলেন সিংহরাগী গ্রামে। সন্ধ্যার দিকে কাজটা হয়ে যাবার কথা। তার কোন খবর নেই। বোতাম টিপে মোবাইল ফোনে সময় দেখল সে। এগারোটা বেজে তিন মিনিট। হোসেনের মোবাইল বন্ধ। অপারেশনের সময় তার ফোন বন্ধ থাকে। তারপরও বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছে বাতেন। হোসেন ধরেনি।

“চুদিরপো……" বিড়বিড় করে কি যেন একটা গালি দিল বাতেন। ঠিক বোঝা গেল না।


খলিল মিয়ার দেহত্যাগ

Sohel Lehos এর ছবি
লিখেছেন Sohel Lehos [অতিথি] (তারিখ: শনি, ২৮/০৪/২০১৮ - ৮:০১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বুধবার দিবাগত রাত ১টায় খলিল মিয়াকে ফাঁসিতে ঝুলানো হলো। ফাঁসির দড়িতে কিছুক্ষণ তিড়িংবিড়িং করে নড়াচড়া করার পর খলিল মিয়ার দেহখানা নিথর হয়ে রইল।

নিয়ম অনুযায়ী আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর তার দেহ দড়ি থেকে নামিয়ে এনে মেঝেতে শোয়ানো হয়েছে। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ডাক্তার স্টেথোস্কোপ হাতে এগিয়ে এলেন।

ফাঁসির আগে কালো কাপড়ে খলিল মিয়ার মাথা ঢেকে দেয়া হয়েছিল। মাথা থেকে কাপড় সরাতেই দেখা গেল খলিল মিয়া পিটপিট করে তাকাচ্ছে।

সবাইকে হতবাক করে দিয়ে সে চিঁচিঁ করে বলল,"ও ভাই, আমিতো মরি নাই।"

টেনে হিঁচড়ে খলিল মিয়াকে দ্রুত আবার ফাঁসি কাষ্ঠে উঠানো হলো। দ্বিতীয়বারের মত ফাঁসিতে ঝুলানো হলো তাকে।


প্রতিবিম্ব

Sohel Lehos এর ছবি
লিখেছেন Sohel Lehos [অতিথি] (তারিখ: শুক্র, ৩০/০৩/২০১৮ - ৪:৪২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কি অসাধারণ নীল আকাশ! এর মধ্যেই একগুচ্ছ শুভ্র মেঘ ভেসে আছে। দেখতে অবিকল তিন্নির মতন। মুখের কোণে হাসি ফুটে উঠল সাজ্জাদের। মেঘতো আসলে বহুরুপী। যে যা ভেবে নেবে ঠিক তাই দেখতে হবে মেঘ। তিন্নি যেমন।

আকাশটা আরো এগিয়ে এল। তার ভেতর দিয়ে এক ঝাঁক পাখি উড়ে গেল। একটানা বর্ষায় নতুন পানি এসেছে। স্বচ্ছ। টলটলে। সবকিছু পরিষ্কার দেখা যায়। আয়নার মতো।

তিন্নি বলেছিল সে নাকি সাজ্জাদকে আয়নার মতো পড়তে পারে। আসলেই পারে। সাজ্জাদকে মুখ ফুটে কিছু বলতে হত না। তিন্নি বুঝে নিত।

আকাশটা আরেকটু এগিয়ে এল। এত পরিষ্কার ঝকঝকে আকাশ কি কোন কালে দেখেছে সে? সাজ্জাদ মনে করতে পারে না। তিন্নিকে ভালবেসে ফেলার পর আর আকাশ দেখার সুযোগ হয়নি তার। দিনরাত সর্বক্ষণ শুধু একজনকে নিয়ে ভেবে কাটিয়ে দিলে আকাশ দেখার ফুরসত থাকে না।


অণুগল্প

কর্ণজয় এর ছবি
লিখেছেন কর্ণজয় (তারিখ: মঙ্গল, ২৭/০৩/২০১৮ - ১:৫৪অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

Before the line
ভালো থেকো, উত্তরে কোন উত্তর ভেসে এলো না।

Between the lines
সে ওর কথা ভাবতে চায় না।
ও-ও তার কথা ভাবতে চায় না।

After the line
পালাচ্ছো, কোথা থেকে?


সম-অসম

Sohel Lehos এর ছবি
লিখেছেন Sohel Lehos [অতিথি] (তারিখ: বুধ, ০৭/০৩/২০১৮ - ১০:৪১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

কাঁচা-মিঠা আমের ডালে তারা দোল খাচ্ছিল।

-কাজটা কি ঠিক হলো?

-হ্যাঁ। তোমার কি এখন আফসোস হচ্ছে?

-না, আফসোস না। মানে...

-শোন, তুমি আমাকে ভালবাস?

-এখন জিজ্ঞাস করছো এ কথা? তুমি জানো না?

-জানি। আমিও তোমাকে ভালবাসি। এর উপরে আর কিছু হতে পারে না।

ভোরের আলো ফুটেছে। কাঁচা-মিঠা আমের ডালে পা দুলিয়ে তারা দোল খাচ্ছিল।


ভর দুপুরের অনুভূতি

Sohel Lehos এর ছবি
লিখেছেন Sohel Lehos [অতিথি] (তারিখ: শুক্র, ০৯/০২/২০১৮ - ৮:০৯অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মাছের মাথাটা শফিকের প্লেটে তুলে দিয়ে ময়না বলল,” আরেক টুকরা মাছ দেই?”

খাওয়া থামিয়ে বিরক্ত হয়ে শফিক বলল,” মাছতো আলরেডি প্লেটে ঢাইল্লা দিছ। দেওয়ার পর পারমিশন চাও এইটা কেমন স্বভাব?”

ময়না খিলখিল করে হাসে। বিরক্ত হয়ে শফিক মাছের মাথা চিবাতে চিবাতে বলল,” কথায় কথায় এত হাস কেন? সমস্যা কি তোমার?”

ময়না আরো জোরে জোরে হাসে। খিলখিল। খিলখিল।

“আরে কি সমস্যা! আবার মাথায় ঘোমটা দিছ? বলছি না আমার সামনে ঘোমটা দেওনের দরকার নাই?”

খিলখিল। খিলখিল। খিলখিল। খিলখিল।

“ধুর বাল খামুই না।”


মায়াগহ্বর

Sohel Lehos এর ছবি
লিখেছেন Sohel Lehos [অতিথি] (তারিখ: শুক্র, ১২/০১/২০১৮ - ১:০৭অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সে দেশে শুধু পুরুষ। কোন নারী নেই। বংশবৃদ্ধি কি করে হয় সে এক রহস্য। নারী বলে যে আলাদা এক জাতের মানুষ আছে তাই তারা জানে না।

সে দেশের শেষ মাথায়, যেখান থেকে গহীন বনের শুরু, এক অদ্ভুত গহ্বর ছিলো। লোকে বলা মায়া গহ্বর। ভরা পূর্ণিমার রাতে গহ্বর থেকে ভেসে আসে মায়াবী ডাক- আয়...আয়...আয়। ভয়ে ওদিকে কেউ যায় না। মায়া গহ্বরের ডাকে সাড়া দিয়ে ফেরেনি কোন পুরুষ।

তারপরও মন্ত্রমুগ্ধের মত কত পুরুষ ওদিকে গিয়ে হারিয়ে গেছে। মায়া গহ্বরের ডাকে সব ভুলিয়ে দেয়া সে এক আশ্চর্য মায়া। পূর্ণিমা এলেই কানে গামছা বেঁধে রাখে মানুষ।


পোড়া ছাইয়ের দিন

দেবদ্যুতি এর ছবি
লিখেছেন দেবদ্যুতি [অতিথি] (তারিখ: বুধ, ০৩/০১/২০১৮ - ৭:৩৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নিভে যাওয়া আগুনের শিখার ঘুষঘুষুনি উত্তাপটুকুও থেমে গেছে কখন, শুধু কালো কালো কয়লার মতো স্তূপ হয়ে পড়ে আছে কালকে পর্যন্ত যা ছিল চেয়ার, টেবিল, ঘরের বেড়া, দরজা, চৌকাঠ। এখন আর আলাদা করে চেনা যায় না কিছুই, কেবল আধপোড়া টিনগুলো একটু দূরে নিজেদের ক্ষয়িষ্ণু অস্তিত্ব জানান দিতে লালচে পোড়ামাটির দগদগে রঙ নিয়ে শুয়ে আছে মাটিতে।