সত্যপীর এর ব্লগ

ফাঁসুড়ে - শেষ পর্ব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ০৭/০৭/২০১৩ - ১০:৩১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(দ্বিতীয় পর্বের পর)

ছোট বেগম নূরে জান্নাতের আজকে মহা আনন্দের দিন। নবাব আসাফউদ্দৌলা তশরীফ রাখছেন আজ রাতে, বলে দিয়েছেন রাতে খাবেন। সারাদিন পাকশালায় নিজ হাতে তদারকি করে বেগম নবাবের জন্য তৈয়ার করেছেন সাদা পুলাউ, কোর্মা, শামী কাবাব, বটি কাবাব, ঘুটা কাবাব, শিক কাবাব, রুমালি রোটি, দম পোখত, মাংসের কালিয়া, শীরমল আর জর্দা। বরফের কুঁচি মিশ্রিত ফলের রস বানানো হয়েছে তিনরকম। নবাব খেয়ে কেমন তৃপ্তির ঢেকুর তুলবেন ভেবেই নূরে জান্নাতের খুশীতে দাঁত বের হয়ে যাচ্ছে।


ফাঁসুড়ে - দ্বিতীয় পর্ব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৪/০৭/২০১৩ - ২:৪৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

(প্রথম পর্বের পর)

হুজুর, চায়ে?

চকচকে পাগড়িওলা চাকরের মৃদু ডাকে ধড়মড় করে উঠে বসল চার্লস। চোখ পিটপিট করে দেখল বাইরে কড়া রোদ উঠে গেছে, কত সকাল কে জানে। চাকরের দিকে তাকিয়ে লজ্জিত হাসি হেসে সে বলল, শুক্রিয়া, বহোট শুক্রিয়া।


ফাঁসুড়ে - প্রথম পর্ব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শনি, ২৯/০৬/২০১৩ - ২:৩৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

জামার খুঁট দিয়ে কপালটা মুছে সোজা হয়ে দাঁড়াল মতিলাল।ধু ধু রতনপুর মাঠে মধ্যদুপুরের চাঁদিফাটা গরম তাকে কাবু করতে পারেনি ঠিকই তবে একটু কাহিল লাগছে। সকালে রুটি খেয়ে বেরুনো উচিৎ ছিল। কোঁচড়ের ভেতর হাত ঢুকিয়ে একগাল মুড়ি চালান করে দিতে দিতে তীক্ষ্ণ চোখে মতিলাল খেয়াল করল কেউ আসছে।

বেশ বেশ।


আসমান শুকোর মাহুত

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শনি, ১৫/০৬/২০১৩ - ১২:০৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আব্বা তুমি নাকি হাতির খেলা দেখাও?

শিশু নাসিরুদ্দিনের কথায় একটু হাসে আজিম, হ দেখাই। এখন খা।

আলুভাজি রুটির দিকে তাকালোই না নাসিরুদ্দিন। মুগ্ধ চোখে পিতার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, আমারে নিয়া যাইবা আব্বা হাতির খেলায়? আমি তোমার মত হইতে চাই। আমারে খেল শিখাইবা?

পাশে বসা নাসিরুদ্দিনের মা একটু শিউরে উঠে ছেলেকে একহাতে জড়িয়ে বলে না না, হাতির খেল তোরে শিখতে হইব না। তুই লেখাপড়া কইরা কাছারিতে যাবি, দেখবি তোর কত সম্মান হইব।

কাছারিতে কি হাতি আছে আম্মা?


নটে গাছটি মুড়োলঃ ছাগল, বাঘ আর হনুমানের কিচ্ছা

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৬/০৬/২০১৩ - ৪:৪১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

উইলিয়াম ম্যাকালক সম্পাদিত ১৯১২ সালে প্রকাশিত Bengali Household Tales অবলম্বনে আজকের গপ্পো ছাগল, বাঘ আর হনুমানের কিচ্ছা।

…........................................................................

একপাল ছাগল নিয়ে কিছু লোক শহরে যাচ্ছিল বেচতে। পথে এক মাদী আর মদ্দা ছাগলের হল প্রেমপিরীতি। প্রেমিক ছাগল বলল, “হে ভালোবাসা। এই দুষ্টলোকেরা আমাদের নিয়ে বেচে দিবে বাজারে, তারপরে যারা কিনবে তারা বাসায় নিয়ে আমাদের কেটেকুটে ভুনা করে খাবে। গ্রামগঞ্জে পলায়াও লাভ নাই আবার এরা ধরে বেচে দিবে বা কেটেকুটে ভুনা কষাবে। হায় নিষ্ঠুর জীবন, বাঁচার উপায় কি?”


পাদ্রীসায়েব

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: মঙ্গল, ১৪/০৫/২০১৩ - ৫:৩০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ড্যানসবর্গ দূর্গ, থারাঙ্গাম্বাড়ি, দক্ষিণ ভারত। জুলাই ১৬৪৪।

কুঠিসর্দার উইলেম অবিশ্বাসের স্বরে বললেন, পুরা নাঙ্গা?

পাশের লোকটি মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, অবশ্যই পুরা নাঙ্গা। গায়ে সুতাটাও নাই, একবারে নাঙ্গাপুতু। আর হাতে খোলা তলোয়ার।

তারপর?


ফিরিঙ্গী

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ২১/০৪/২০১৩ - ১২:২৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১৫২৭ বা ১৫২৮ সালের কোন এক ঝড়ের রাত। বঙ্গোপসাগর।

উথাল পাথাল অবস্থা, মট করে জাহাজের মাস্তুল উড়ে গেল এক ঝটকায়। এত বড় জাহাজ নড়ছে যেন কাগজের নৌকা। কাপ্তেন আলফন্সো আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা যে যেরকম পারে শক্ত কিছু ধরে আছে আর বিড়বিড় করে হা ঈশ্বর হা ঈশ্বর করছে। ক্লান্ত হুয়ান হঠাৎ হাত ফসকে ছিটকে উড়ে পড়ে গেলো সাগরে, চোখের নিমিষে কালো পানি যেন গিলে নিল তাকে। জাহাজের সকলে ভয়ার্ত স্বরে সকলে আউড়ে চলেছে এম নম দো পায় দো ফিলিও দো এস্পিরিতো সান্তো...


ঝরে ঝরে যায় অন্ধকার

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: রবি, ৩১/০৩/২০১৩ - ৯:১৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

নতুন টুইটার শিখেছি। বেশ ইন্টারেস্টিং জিনিস, জামাতির পেছন দিয়ে বংশদন্ড প্রবেশের জন্য উত্তম হাতিয়ার। ভেবে দেখলাম জামাতির গুষ্টি বাঁশেরকেল্লা গড়বে তাতে আশ্চর্যের কিছু নাই, যে হারে লোকে এগুলিরে বাঁশ দেয় দুইচারটা কেল্লা বানানো তেমন কঠিন নয়।


উড়ে যায় বিষণ্ণ পাখি

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: মঙ্গল, ১৯/০৩/২০১৩ - ৬:৫৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আলিনগর আর কালীনগর পাশাপাশি। আলিনগরে দশজনে আটজনই হোসেন। সবাই হোসেন এইটা বলা অবশ্য ঠিক হল না, কেউ হোসেন কেউ হুসাইন কেউ হুসেন। নানান তরিকার বানান। যে যার পদবী মেনে চলে, পদবী খুব ভারি জিনিস আলিনগরে। হোসেন ছাড়া সেখানে আছে কিছু আহমেদ, আর গুটিকয় খান কিংবা রহমান। ও না থাকার মতই। আলিনগরে হোসেনই জাতীয় পদবী।


ঘাস আর পিঁপড়ার গল্প

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: মঙ্গল, ১২/০২/২০১৩ - ১০:৩৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

মাঠের চিপায় লম্বা দুইটা ঘাস ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে আছে কিছুক্ষণ ধরে। লক্ষণ সুবিধার না। দুইটা ঘাসের মধ্যে একটা একটু বেশী লম্বা আরেকটা লম্বায় কম। তবে আশপাশের আমঘাসের তুলনায় তাদের উচ্চতা চোখে লাগে ঠিকই।

একটু বেশী লম্বা ঘাসের বয়স বেশী। সে ঘাড় ঘুরায় একটু কম লম্বা ঘাসকে বলল, ঘটনা ঘটতে পারে আজকে।