মুঠো আজ দিলাম খুলে

সত্যপীর এর ছবি
লিখেছেন সত্যপীর (তারিখ: শনি, ১১/০৭/২০১৫ - ৮:৩১পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সকালে বিকালে উঠে রোজ অকালে। গোলেমালে ফাঁকতালে বাসে ঝুলে বেহালে। আজ নেই কাল নেই মাল নেই… মৃদু স্বরে গান গাড়িতে বাজে আর আমি রিয়ার ভিউ মিরর দিয়ে দেখি আমার দুই বছরের মেয়ে মন দিয়ে মাথা দুলাচ্ছে গানের তালে তালে। এইটা তার ফেভারিট গান। আমি গলা উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করি আব্বু, এইটা কার গান? আমার মেয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে “অন্নব”, বলে আবার মাথা দুলানিতে ফিরে যায়। আমিও মাথা ঝাঁকিয়ে তাল দেই আর গান ধরি অর্ণবের সাথে। ঘুরঘুর ফুরফুর নাকে হাওয়া সুড়সুড় লাগিয়ে বাগিয়ে লোকজন রাগিয়ে টিকাটুলি বাড্ডায় অলিগলি আড্ডায় বকাবে ঠকাবে থুতু দিয়ে চা খাবে রোজ রোজ...।আমার মেয়ে পিছনে তার মাকে বলে মা আব্বু গান কচ্ছে। অন্নব।

অর্ণবের গান আমি বাংলার প্রথম অ্যালবামে শুনি। কিংকর্তব্যবিমূঢ়। সেই অ্যালবামে অর্ণব গেয়েছিল তুই গান গা। ভয়ানক বাজে গান। পাতলা কণ্ঠ, দুর্বল গান। অ্যালবামের অন্যান্য হেভিওয়েট গানের তুলনায় একবারে ভুয়া গান। বাংলা ব্যান্ডটার নানান হিস্টোরি পড়ে যা বুঝলাম তখন যে এইটা বন্ধুবেরাদার মিলেজুলে ব্যান্ড বানিয়েছে, সবাই আগে থেকে পূর্বপরিচিত। আমাদের পাড়ায় বিকালে যেরকম ফুটবল খেলায় প্লান্টিক হলে সবার সাথে আমাকেও একটা কিক করার সুযোগ দিত, ঐরকম ব্যান্ড একটা অ্যালবাম বের করছে তাই বেরাদার অর্ণবের গানও চান্সে একটা ঢুকে গেছে। দুধভাত।

এরপর একদিন বাজারে এলো চাইনা ভাবিস। হিট গান সে যে বসে আছে একা একা তার স্বপ্নের কারখানা চলছে। অ্যালবাম বের হবার আগেই এইটা জানি কোন নাটকে প্রচারিত হয় আর একবারে গরম গরম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সুন্দর গানটা আসলেই। চাইনা ভাবিস বের হবার পরে বোঝা গেল অর্ণব চান্সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অ্যালবামে একটা প্লান্টিক দিয়ে বসেনি। অর্ণব ইজ হিয়ার টু স্টে। অ্যান্ড হি ইজ প্রবাবলি হিয়ার টু রুল ফর অ্যা লং লং টাইম। ছারখারে ছড়াছড়ি ছুটে চলে ছিটিয়াল এর গায়ক একই সাথে গেয়ে চলেছে হারিয়ে গিয়েছি এই তো জরুরি খবর। অথবা সেতারের ভর করে ভেসে আসা মায়াবি কন্ঠ গাইছে বৃষ্টি রাতে গানের মাঝে ভেসে। চাঁদ চলেছে অনেক দূর দেশে...হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছোঁয়া গানে, এমন রাতে ডাকিস যদি তুই।

এবং এরপরের অ্যালবামে বের হল একটা মাস্টারপীস। ভালোবাসা তারপর। প্রখর রোদে পোড়া পিঠ, আগুনের কুণ্ডে সেঁকা হাত। শিশির ছোঁয়ায় পাবে হাসি, অন্ধকারে কেটে যাবে রাত। কত অসংখ্যবার এই গানটা আমি শুনেছি তার কোন হিসেব নেই, এবং এই গানটা আমি নিশ্চিত আরো অসংখ্যবার শুনব। হোক কলরব বের হতে হতে অর্ণব আমার কাছে কুতুবমিনার হয়ে গেছেন, এই লোকটা যা করে তাই আমার ভালো লাগে। মনে হয় এইরকম সুপারম্যান কিছু মানুষ কি বিপুল ও বিশাল প্রতিভা নিয়ে আমাদের মধ্যে এসে হাজির হয়।

আমি প্রতিভাহীন একজন মানুষ। খুব ছোটবেলায় আমি বুঝে গেছি আমাকে দিয়ে কিছু হবে না। আমি পড়াশুনায় ভালো না। খেলতে জানিনা। গান পারিনা। ছবি আঁকা শিখিনি। আমি একজন প্রকৃত সাধারণ মানুষ। সেইটা জেনে যে আমার বুক ভেঙ্গে গিয়েছিল কিম্বা মনে হয়েছিল যাই ঝাঁপ খেয়ে গিয়ে মরি তা নয়। পৃথিবী অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান, একজন সাধারণ মানুষের জীবনও জটিল পথপরিক্রমার মধ্যে দিয়ে চলে। রাডারের নিচে সাধারণ মানুষের জীবন প্রকৃতপক্ষে একটি চমৎকার জীবন। তবে কাউকে যদি দেখি গান গাইতে পারে ভালো পেস বল করতে পারে ছবি আঁকতে পারে, তাহলে খুব ভালো লাগে। মনে হয় এই লোকগুলা কি দারুণ। আমি কলাভবনের গেট থেকে বিকেলে লাইব্রেরি চত্বর পার হবার সময় শুনতাম শুভ গান গাইছে। পারিনা ব্যথা সইতে, আর কতকাল আমায় কাঁদাবে। আমি তো হয়ে গিয়েছি এখন, অন্যরকম মানুষ। তখনও শুভর ব্যান্ড বেন্সন হেজেস চ্যাম্পিয়ন হয়নি, কিম্বা সদ্য হয়েছে। ঠিক খেয়াল নেই। ডিরকস্টার তো আরো পরের ঘটনা। এই শুভকে লাইব্রেরি চত্বরে গান গাইতে দেখে ভারি ভালো লাগত। কি চমৎকার গানের গলা একটা মানুষের। আমার বন্ধুবান্ধবের মধ্যে কেউ কেউ বাঁশি বাজাতে পারত, দুর্দান্ত ছবি আঁকত কেউ। খেলার মাঠে সপাটে ছক্কা হাঁকাত আমারই কোন বন্ধু। আমি এগুলো কিছুই পারতাম না, আজও পারি না। তাই কারো প্রতিভা দেখলে ভালো লাগে, মনে হয় যা ব্যাটা সাব্বাস। তুই কিছু করে দেখালি বটে। চালায় যা। কীপ গোয়িং।

ফাস্ট ফরোয়ার্ড প্রচুর বছর। দেশের বাইরে আছি মনে হয় এক জীবন। বই পড়ার সময় নাই। মুভি দেখার সময় নাই। সকাল দশটা পর্যন্ত ঘুমায়ে উঠে কাজের বুয়ার পাক করা রুটি আলুভাজি ব্রেকফাস্ট নাই। কিন্তু একটা মেয়ে আছে। সেও বাপের মত অর্ণবের গান শুনে। গাড়িতে জেমসের গান বাজে। ফুয়াদের গান বাজে। বেজবাবা সুমনের গান বাজে, আবার কবীর সুমনের গান বাজে। অন্ধ বাউল শাজাহান মুন্সী সাহেবের গান বাজে। আমার মেয়ে মন দিয়ে শুনে। একটু একটু মাথা দোলায়। তারপরে অর্ণবের গান শুরু হয়। মেয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার দেয়, আব্বু! অন্নব! আমিও মাথা নেড়ে সায় দেই। জম্পেশ গানা হবে এখন।

মাসখানেক আগের কথা। কিম্বা সপ্তাদুয়েক। ঠিক স্মরণ নাই। কোথায় দেখলাম অর্ণবের নতুন অ্যালবাম রিলিজ হচ্ছে। খুব ডুব। মনে হল ওরে নারে। যাই অনলাইনে খুঁজি কোন জায়গায় আছে। নাই। কোথাও নাই। মহা যন্ত্রণা। অর্নবের গান নাই কেন হোয়াই? এদিকে দিনে তিন চার ঘন্টা দেশের এফেম রেডিও শুনি, ভয়ানক উচ্চারণের মহা কুল আড়জেদের কথা শুনে দাঁত কিড়মিড় করে মনে মনে বলি শালা বাঁইচা গেলি আমার পয়সা নাই। বড়লোক হইলে ডাণ্ডা ও প্লেনের টিকেট একই দিনে কেটে ফ্লাই করে ডাণ্ডা সবগুলি আড়জের মাথায় এবং পচ্চাতদেশে প্রয়োগ করতাম। এক রামছাগল আবার ইন্ডিয়ান অ্যাকসেন্টে ট্রাফিক আপডেট দেয়। থাপড়ায় দাঁত ফেলে দেওয়ার কাম। যাইহোক, অর্ণব প্রসংগ। দিনরাত এফেম রেডিওতে বেজে চলে মন্নান ফিচারিং জব্বার এর আনরিলিজড ট্র্যাকঃ কুকিলা টু। আমার কথা হইল, অর্নবের আনরিলিজড কি রিসেন্টলি রিলিজড ট্র্যাক চালাস না ক্যানরে মক্সুদেরা। মহা মুশকিল।

ফেসবুকে আমি তারকাদের ফলো করতে ভয় পাই। শিরোনামহীন হৃদয় থেকে জুতার তলায় নেমে এসেছিল একদিন যখন তারা অফিশিয়ালি বলে দিগন্তে গাওয়াই আমাদের প্রতিবাদ। আনুশেহ একদিন ধাম করে বলে আরে ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই... ফাঁসি কেন হে বাওয়া? আমি ডেথ পেনাল্টি চাইনা, চাই সুখী ও সুন্দর জীবন ইত্যাদি হাবিজাবি। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবি ফেসবুকে এরম চলতে থাকলে আমার গানের কালেকশন কেবল কমে যেতে থাকবে, তারচেয়ে আমার ব্যক্তিগত তারকারা কি করছেন তা আমি বরং না ই জানি। সুপারকপ মাসরুফ ছাড়া তেমন কোন তারকাকেই আমি ফলো করিনা ফেসবুকে। অর্ণবকেও নয়। কিন্তু খুব ডুবের পাত্তি লাগাতে অর্ণবের প্রোফাইলে নাক গলাতে হল।

দেখি সেখানে ব্যাপক ভেজাল লেগে গিয়েছে। বিরাট নোট। অর্ণব লিখেছেন তার ফ্রাস্ট্রেশনের কথা। কিভাবে এফেম রেডিওগুলো দিনের পর দিন তার গান বাজিয়েছে কিন্তু তাকে দুইটা টাকা ছোঁয়ায়নি। কিভাবে কর্পোরেট স্পন্সরশিপের নামে নানান বেড়াজালে তার গান বেঁধে ফেলার চক্রান্ত হয়েছে। কিভাবে লোকে এসে বলে গেছে ও বাবা অ্যালবামের দাম আটশ টাকা তো কীভাবে কিনব ইত্যাদি, কারো কাছে তার এই টাকার বিনিময়ে বান্দরবানে একদল ছেলের স্কুলঘর নির্মাণ করে দেবার কথা যুক্তিযুক্ত ঠেকেনি। সেই বাচ্চাগুলোর স্কুলঘর হাতীতে ভেঙে দিয়ে গেছে তো হয়েছে কী।

আমি নিজেও আসলে সেই দলে। অন্য এক নোটে দেখি একটা অনলাইন ফর্ম। অর্ণব তথ্য নিচ্ছেন প্রবাসীদের কাছ থেকে যারা বৈধ পথে সিডি কিনতে চান। আমি ফর্ম ফিলাপ করতে গিয়েও থেমে ক্লোজ করে দেই ট্যাব। গুগল প্লে স্টোর আর আইট্যুনস এ সার্চ দেই খুব ডুব। নাই। ইউট্যুবে সার্চ দেবার এক পর্যায়ে একটা গান ভেসে ওঠে। মুঠো আজ দিলাম খুলে। একবার শুনলাম। দুইবার। আরো কয়বার। তারপর ইউট্যুব থেকেই ডাউনলোড করে নিলাম। গুগল সার্চ দিয়ে পাওয়া গেল একটি সাক্ষাৎকার। আনন্দবাজারের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্রবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায় নামক একটি উজবুক। উদাহরণ দিচ্ছি। এই মহামতীর একটি গভীর প্রশ্ন হল, “ওহ, তাহলে এখন গানের মত প্রেমও বাদ?" কিম্বাঃ “সাহানার সাথে প্রেমটা আছে তো”? এইসব প্রশ্নের সঠিক রেস্পন্স হল, বহুদূরে গিয়া মরেন। অর্ণব অবশ্য সেই রেস্পন্স দেননি। যাই হোক এই সাক্ষাৎকারে অর্নব বলছেন তিনি গান ছেড়ে দেবেন। তিনি আসলে গায়ক নন, ছবি আঁকিয়ে। সেইখানেই কন্সেন্ট্রেট করতে চান। খুব ডুবের পর এক লম্বা ডুব।

আমি প্রতিভাহীন মানুষ। কামলা খেটে খাই। দিনে দশ ঘন্টা কাজ করি, মাঝে মধ্যে আমি ছয় এমনকি সাত দিনও কাজ করেছি সপ্তাহে। আমার কাজ ক্ষুদ্র, অকিঞ্চিৎ। আমি ফট করে বাসের তলায় পড়লে কোম্পানীর আমার রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পেতে এক সপ্তাহও লাগার কথা নয়। সেই আমি নিয়মিত আমার কাজের জন্য টাকা পাই। আমার কাজ করে আমি কেন হাতীর ভেঙে দেয়া স্কুল গড়ে দিব সেই কৈফিয়ৎ আমাকে দিতে হয়না। আমার কাজ ঘন্টার পর ঘন্টা কুল আরজেরা বাজায়না আমাকে টাকা না ছুঁইয়ে। আমি কি লম্বা ডুব দিতে চাই? হয়তো। কিন্তু সেটা কাজের মূল্য না পাবার হতাশা থেকে নয়।

অর্ণবের মত শিল্পী উন্নত দেশে জন্মালে কোটিপতি হয়ে যেতেন কেবল রয়্যালটি আর নানাবিধ শো থেকেই। মানুষ ছবি তুললেও তার রয়্যালটি পৌঁছে যেত। দুর্ভাগ্য তিনি আমার দেশে জন্মেছেন যেখানে আমি ডাউনলোড করে গান শোনা চুরি জেনেও টাকা বাঁচিয়ে ডাউনলোডের পথেই যাই। পঞ্চাশটা অ্যালবাম ডাউনলোড করে একটা কিনি গুগল প্লে স্টোর কি আইট্যুনস থেকে, তারপর নিজেকেই নিজে স্বান্তনা দেই যে নাহ কিছু কিনি তো। আমি লোক খারাপ নই।

সচলে লিখছি বছর চারেক। বা সাড়ে তিন। কিছু একটা। একেকটা ইতিহাসভিত্তিক লেখা নামাতে আমাকে প্রচুর বই পড়তে হয়। গুগল বুক্সের আদ্ধেক বই কি লাইব্রেরির দুইচারটে বই যে বৈধ পথে পড়িনা তা নয়। কিন্তু বেশীরভাগ ইতিহাসের বই আমি পিডিয়েফ নামিয়ে পড়ি। একেকটা লেখায় আমি ফোল্ডার বানিয়ে রাখি, এখন যে লেখাটা লিখছি তার ফোল্ডারে সতেরোটা বই নামানো আছে। সব যে লাগবে তা নয়, কিন্তু ফ্রি যখন ভাবলাম নামিয়ে রাখি। হিসেব কষে দেখলাম এই সতেরোটি বই কিনে পড়তে গেলে আমার খরচ পড়ত প্রায় পাঁচশ ডলার।

পাঁচশ ডলার।

তার মানে এগুলি কিনে আমার কখনোই পড়া হত না। সচলে খোরাসান লেখাও হত না। মাঝে মাঝে পাঠক ফান করে শুধায়, কী গো পীরসাব। বই বের করবেন না? আমি বোকার মত হাসি। আমার বই কে পড়বে, ব্লগে লিখছি এই তো কত। কিন্তু যে কথাটা আমার আসলে বলা উচিৎ তা হল, আমার ইতিহাসভিত্তিক প্রায় প্রতিটি লেখা অবৈধপথে প্রাপ্ত বই পড়ে লেখা। যে আমি নিজে বই চুরি করে লিখছি সেই আমি কোন মুখে বই ছাপিয়ে আপনার কাছে পয়সা চাইব?

এইসব ভাবি টমকেন রোড ধরে গাড়ি চালাতে চালাতে। তারপর এক ধরনের অপরাধবোধ নিয়ে আমি অর্ণবের নতুন গান ছেড়ে দেই। মুঠো আজ দিলাম খুলে, যা আছে তা নিয়ে নাও। নিঃস্ব হওয়ার এইতো সুযোগ, দিতে পারি হাতের রেখাও। এই গানটা আমি বৈধ পথে কিনিনি। ইউট্যুব থেকে পাওয়া। অর্ণব আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন, আমি এবং আমার মত মানুষ সম্ভবত আপনাকে ডিজার্ভ করিনা। আপনি খুব ডুব দিতে বাধ্য হলে তবেই আমার টনক নড়ে যে তাইতো, অ্যালবামটা বুঝি কিনা উচিৎ ছিল। ডাউনলোড করা ঠিক হয়নি।

কত বিপুল এই পৃথিবী। কি জটিল তার সমস্যা। কত ক্ষুদ্র এবং অকিঞ্চিৎ আমার পরিবর্তন এনে দেবার ক্ষমতা।


মন্তব্য

মেঘলা মানুষ এর ছবি

এইটা জানি কোন নাটকে প্রচারিত হয়

নাটকটার নাম সম্ভবত ছিল 'অফবিট'। তাহসান আর জয়া আহসান ছিলেন।

রেডিওতে গান বাজালেও শিল্পী কি প্রতিষ্ঠানকে টাকা দিতে হয় -এধরণের ধারণা প্রতিষ্ঠা করা দরকার। গান ফ্রি ফ্রি আকাশ থেকে উঠানে শিলবৃষ্টির মত এসে পড়ে না।

সবার শেষে বলব: অর্ণবের গান থেকে দূরে সরে যাওয়াটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের। আমরাই কতগুলো গান শোনা থেকে বঞ্চিত হলাম।
মন খারাপ

"ক্ষুদ্র এবং অকিঞ্চিৎ আমার পরিবর্তন এনে দেবার ক্ষমতা।" এখানে আমার‌ ‌ শব্দটার বদলে আমাদের‌ ‌ হলেই বাক্যটা অন্যরকম হয়ে যায়!

চলেন, সবাই গলা অটোটিউন করে অমুক ফিচারিং তমুক‌ ‌ অ্যালবাম নামিয়ে ফেলি রেগে টং

সত্যপীর এর ছবি

হ্যাঁ ঠিক, অফ বিট। ব্ল্যাক ব্যান্ডের আরো জানি কে কে ছিল মনে হয়। এদের উচ্চারন এতো খারাপ যে কোন গানই মাঝপথের বেশি শোনা হয়নি খাইছে

..................................................................
#Banshibir.

সবজান্তা এর ছবি

গুরুত্বপূর্ণ লেখা।

পাইরেসির ব্যাপারে আমাদে সমস্যা হচ্ছে সীমাটা ধরতে না পারা। মেটালিকার ওরিজিনাল সিডি কেনার সামর্থ্য আমার না থাকতে পারে, নিজেদের অর্ণব কিংবা ওয়ারফেজের সিডি কেনার সামর্থ্য কি নেই? খুব ডুবের দাম তো ৮০০ টাকা... আমি তো দেখেছি ৫০ টাকা দিয়েই পছন্দের শিল্পীর সিডি কিনতে মানুষের আপত্তি। পাইরেসি যে বস্তুত চুরি, আমার কোনো অধিকার না, এই সত্যটা আমরা মানতে চাই না। নিরুপায় হয়ে চুরি করে অন্তত চক্ষুলজ্জাটা থাকলেও চলে- কিন্তু চুরি করে সেইটাকে নিজের অধিকার হিসাবে দাবি করলে আর কোনো আশা থাকে না।

অর্ণবের গানগুলি স্পটিফাইতে দিয়েছে কয়েকমাসে আগে। মন্দের ভালো বলে মনে করি। প্রতিবার স্পটিফাইতে শুনলে সামান্য হলেও অর্ণব কিছু টাকা পাবে।

সত্যপীর এর ছবি

স্পটিফাই অ্যাকাউন্ট আমার আছে। স্পটিফাইতে খুব ডুব নাই। আমি খুব ডুব শুনতে চেয়েছিলাম।

সীমানা নির্ধারণের অক্ষমতার বড় কারণ সীমানা আসলে নাই। চুরি হইল চুরি। অরিজিনাল সিডি কেনার সামর্থ্য আমার না থাকলে আসলে আমার উচিৎ রেডিও তে শুনা, বা ইউট্যুবে। সেইটা মেটালিকা হোক আর অর্ণব। সমস্যাটা এইখানেই, এই জিনিসটা আমার (আমাদের) এতো ভেতরে ঢুকে গেছে যে বলি এক কিন্তু আসলে করে ফেলি আরেক।

বইয়ের ঘটনাও একই।

..................................................................
#Banshibir.

সবজান্তা এর ছবি

ঠিক। চুরির আসলে সীমানা নাই। কিন্তু এক ধরনের মোরাল সান্তনা আর কী। আর ইউটিউবেও তো সব আপলোড লিগ্যালি কারেক্ট না। অনেকেই পার্সোনাল কালেকশন আপ করে দেয়।

মেটালিকা মনে হয় না বাংলাদেশের শ্রোতাদের কথা ভেবে অ্যালবাম রিলিজ করে। কাজেই যে ক্ষতিটা ওদের হয়, সেইটা ওদের হিসাবের বাইরে থাকে এমনিতেই, যদিও আমাদের চুরিটা তাতে জায়েজ হয় না। কিন্তু দেশি শিল্পীদের ক্ষেত্রে তো এইটা সরাসরি পেটে লাথি মারা। তাদের সিডি তো আমাদেরই কিনতে হবে- বিদেশি সাদা চামড়ার লোক তো কিনবে না, কিংবা অন্যভাষী মানুষ। আমরা যদি তাদের সিডি না কিনি, সেইটা একটা মারাত্মক অপরাধ। এইটাই বলতে চাচ্ছিলাম।

সত্যপীর এর ছবি

এক সময় আমিও এই লাইনে ভাবতাম। যে অন্তত দেশের শিল্পীদেটা আসল কিনি, বৈদেশীদেরটা পাইরেট কিনলেও চলবে। তারা তো এমনিতেও আমাদের কাছে অ্যালবাম বেচার জন্যে বসে নাই, তারা আমাদের গণাতেই ধরেনা।

দেশের বাইরে এসে আমার এই ভিউ পরিবর্তন হয়েছে। আমি যে সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করি তাদের ব্যাঙ্গালোরে শাখা আছে। সেইখান থেকে নর্থ আমেরিকার বাজারের কম্প্যার‍্যাবল সফটওয়্যার ইন্ডিয়ার বাজারে ছাড়া হয়। এইসব ক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভেরা সক্কলের পয়লা কি প্রশ্ন করে জানেন? না, "ইন্ডিয়ার লোকে একশ ডলার দিয়ে সফটওয়্যার কিনতে পারবে কিনা" এই প্রশ্ন পয়লা আসে না। প্রথম প্রশ্ন হল, মার্কেট কত বড়। সেইখানে এই সফটওয়্যারের চাহিদা আছে কিনা। মূল্য নির্ধারনের প্রশ্ন পরে, সেইটা হল How। How এর আগে উত্তর দিতে হবে Why।

মেটালিকার কথায় আসি। তাদের আইট্যুনসে অ্যালবামের দাম দশ ডলার। ছয়শ টাকা। ঢাকা শহরে তো এক স্লাইস পিৎজার দামই ছয়শ টাকার বেশি। সুতরাং প্রপার প্ল্যাটফর্ম থাকলে বাংলাদেশের মানুষ অবশ্যই মেটালিকার অ্যালবাম পয়সা দিয়া কিনত। এবং হঠাৎ একদিন রিজিওনাল সেলস ফিগার দেখে মেটালিকার প্রড্যুসার মিটিং ডেকে কইত, লিসেন ফোকস। ইন্টারেস্টিং নিউজ। অ্যাপারেন্টলি উই আর মিসিং আউট অন অ্যা মার্কেট অফ হান্ড্রেড অ্যান্ড সিক্সটি মিলিওন পিপল। সি সাম আর বায়িং অ্যাট আওয়ার ইউজুয়াল টেন ডলার্স, অ্যান্ড পাইরেটেড কপিজ আর বিয়িং সোল্ড অ্যারাউন্ড থ্রি/ফোর ডলার্স। হাও অ্যাবাউট উই অ্যাডজাস্ট দ্যা প্রাইস অ্যান্ড ক্যাপচার ইট অল?

কষ্টকল্পনা মনে হতে পারে, কিন্তু আমার সত্যই মনে হয় আমাদের প্ল্যাটফর্মের অভাব, টাকার নয়। কেনার সুযোগ থাকলে বাংলাদেশের মানুষ পয়সা দিয়েই মেটালিকা কিনত।

..................................................................
#Banshibir.

সবজান্তা এর ছবি

সামর্থ্য বলতে আমি সামর্থ্য + সুযোগ দুইটা জিনিসকেই বোঝাইছি আসলে।

দশ ইউএস ডলার, মানে আটশো টাকা, কিন্তু আমি যখন গান শোনা শুরু করি, সেই সময়ে অনেক টাকা ছিলো। অ্যাজ আ স্টুডেন্ট আটশো টাকা খরচ করে একটা অ্যালবাম কেনার সামর্থ্য আমার ছিলো না। বিশেষ করে আমি যেহেতু আমি শুধু এক ব্যান্ডের শ্রোতাই ছিলাম না।

এখন আটশো টাকার মূল্যমান দেশে অনেক কম- এখন হয়তো স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে পড়া ছাত্ররা সহজেই অ্যাফোর্ড করতে পারে। আর ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের সমস্যা আসলে বাংলাদেশে বরাবরই ছিলো। এবং একই কথা আসলে সিনেমার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমি যদি টাকা খরচ করতেও চাই, সেই টাকাটা ঠিক লোকের কাছে পৌছানোর চান্স খুবই কম।

সফটওয়্যার আর মিউজিকের তুলনাটা পুরোপুরি ঠিক বলে মনে হয় না আমার কাছে। আমি জানি না আপনি কোন কোম্পানিতে চাকরি করেন, তবে আমার অবজারভেশন, যদি মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানি হয়, তবে তারা অবশ্যই জানে যে, তাদের সফটওয়্যার (অন্তত অপারেটিং সিস্টেম আর অফিস প্যাকেজ) পুরাদমে ব্যবহার হয়, যেইটার থেকে তারা এক পয়সাও পাচ্ছে না।

সফটওয়্যার লিগালি বিক্রির ক্ষেত্রে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবচে উজ্জ্বল উদাহরণ হচ্ছে অ্যান্টি ভাইরাস মার্কেট। না, বাংলাদেশে এক সময় কেউই টাকা দিয়ে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতো না। বাংলাদেশ থেকে লিগ্যালি অ্যান্টিভাইরাস কেনারও অনেক হ্যাপা ছিলো। তারপরেও কিন্তু অ্যান্টিভাইরাস কোম্পানিগুলি বাংলাদেশে এসে, প্রাইস অ্যাডজাস্ট করে বিক্রি করছে, এবং তার ফলাফল হচ্ছে এখন অধিকাংশ মানুষের কম্পিউটারেই লিগ্যাল অ্যান্টিভাইরাস। নতুন কম্পিউটার কিনতে গেলে বাকি সব হার্ডওয়্যারের মতোই দোকানদাররা নতুন অ্যান্টিভাইরাসকেও দামের মধ্যে ধরছেন। মেটালিকা কিংবা বিখ্যাত অন্য কোনো ব্যান্ডের না জানার কারণ নাই যে তাদের গানের চাহিদা বিশ্বজোড়া কীরকম। যতোদিন পর্যন্ত তারা রিডিউসড প্রাইস + প্রোপার চ্যানেলসহ না আসবে, পুরোটাই পাইরেসির দখলে থাকবে। আর এখন তো টাকা দিয়ে সিডি কেনার অভ্যাসটাই এমনভাবে নষ্ট হয়েছে মানুষের, চ্যানেল + দাম সব ঠিক করলেও আদতে বিক্রি হবে কিনা সন্দেহ আছে।

সত্যপীর এর ছবি

অ্যান্টি ভাইরাসের উদাহরণটা চমৎকার। সঠিক প্ল্যাটফর্মের জন্যই এইটা হয়েছে এইকথা সত্য। সফটওয়্যার আর মিউজিকের মার্কেটে আমি তেমন পার্থক্য দেখছিনা। পেপ্যাল দেশে চালু হচ্ছে দেখলাম, আস্তে আস্তে আইটিউন্স গুগল প্লে স্টোর সবই দেশে চালু হয়ে যাবে। আপনার মত আমিও সন্দিহান প্রথম প্রথম কতটুকু বিক্রি হবে অনলাইনে তা নিয়ে, কিন্তু প্রপার প্ল্যাটফর্ম থাকলে এক সময় ঠিকই দাঁড়িয়ে যাবে। সম্ভবত। হাসি

..................................................................
#Banshibir.

অতিথি লেখক এর ছবি

সত্যপীর প্রতিভাহীন - এটা একটা ডাহা মিছা কথা ৷ খেলাধুলায় ডাব্বা মারলেও লেখালেখির ঝোঁক তো বরাবরই ছিল ৷ আর যেই লোক ১৭-১৮টা বই গিলে তারপর ঐতিহাসিক ব্লগ লিখে তাকে সুপারম্যান না বললেও প্রতিভাহীন বলা যায় না ৷

মরুচারী

সত্যপীর এর ছবি

প্রতিভাবানেরা অনায়াসে লিখে ফেলতে পারেন। আমি পারি না। সচলায়তন স্ট্যান্ডার্ডের লেখার জন্য আমার বেশ খাটতে হয়। প্রতিভাবানদের এই সমস্যা নাই।

..................................................................
#Banshibir.

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

প্রতিভাবান শব্দটা আজকাল খুব ভাবায় না। আমার ধারণা প্রতিভাবান মানুষের চাইতে খাটতে পারা মানুষজন আমাদের জন্যে বেশি দরকার। সবকিছুতেই। অলিখিয়ে প্রতিভাবান লেখকের চাইতে পরিশ্রমী মিডিওকার লেখকের লেখা আমার ভালো লাগে, রিলেট করতে পারি যে কী পরিমাণ স্ট্রাগলের মধ্যে দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে।

মূল লেখার প্রসঙ্গে আসি।

নানা রকম স্ববিরোধিতার একটা সময়ে আমরা বাস করি। একটু তলিয়ে দেখলেই নিজের অবস্থানের দ্বৈততা চোখে পড়ে। গান/ইবুক/সিনেমা/সফটওয়ারের পাইরেসি সমস্যাটাও আমার জন্যে এরকমই। ভাবলেই পথ হারাই। মানুষ হয়ে জন্মালে বোধহয় বারবার এভাবে পথ হারাতে হয়।

_________________________________________

সেরিওজার গল্প

সো এর ছবি

প্রতিভাবান মানুষের চাইতে খাটতে পারা মানুষজন আমাদের জন্যে বেশি দরকার। সবকিছুতেই।

এটাই বলতে চাচ্ছিলাম, রিজওয়ান ভাই বলে দিলেন। ট্যালেন্টের সাগর এমন অনেক মানুষ দেখেছি, যাদের সারাদিন ঝাঁকি দিয়েও কোনো আউটপুট পাওয়া যায় না। আবার তথাকথিত অনেক 'ট্যালেন্ট' বিহীন মানুষও স্রেফ পরিশ্রমের জোরে এত ওপরে ওঠে, যে মানুষ তাদের দিকে তাকিয়ে ভাবে - এত্ত ট্যালেন্ট হালায় কোত্থেকে পাইলো?
আপনার সাপ্তাহিক কাজের ফিরিস্তি যা দেখলাম, এর পরেও এত্তগুলা লেখা দেওয়া ট্যালেন্ট নয়তো কি?
(আর বাই দ্য ওয়ে, আপনি বই বের করলে আমি পয়সা দিয়েই কিনবো। )

সত্যপীর এর ছবি

সাব্বাস! আপাতত আট মণ ঘিয়ের অভাবে বইয়ের রাধা নাচার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছেনা বটে, তবে অদূর অথবা দূর ভবিষ্যতে ইবইয়ের সম্ভাবনা একবারে উড়ায় দেওয়াও ঠিক না চাল্লু

..................................................................
#Banshibir.

সত্যপীর এর ছবি

ভাবলেই পথ হারাই। মানুষ হয়ে জন্মালে বোধহয় বারবার এভাবে পথ হারাতে হয়।

হ্যাঁ ঠিক কথা।

আপনি তো পাব্লিশড লেখক, প্রচুর চাহিদা ছিল আপনার বইয়ের বইমেলা চলাকালীন দেখলাম। আপনার বা আপনার প্রকাশকের ইবই করে প্লেস্টোর/কিন্ডল/ইপাব করে বিক্রি করার কোন পরিকল্পনা আছে?

..................................................................
#Banshibir.

অতিথি লেখক এর ছবি

আমি প্রতিভাহীন একজন মানুষ। খুব ছোটবেলায় আমি বুঝে গেছি আমাকে দিয়ে কিছু হবে না। আমি পড়াশুনায় ভালো না। খেলতে জানিনা। গান পারিনা। ছবি আঁকা শিখিনি। আমি একজন প্রকৃত সাধারণ মানুষ।

আমি প্রতিভাহীন মানুষ। কামলা খেটে খাই। দিনে দশ ঘন্টা কাজ করি, মাঝে মধ্যে আমি ছয় এমনকি সাত দিনও কাজ করেছি সপ্তাহে। আমার কাজ ক্ষুদ্র, অকিঞ্চিৎ। আমি ফট করে বাসের তলায় পড়লে কোম্পানীর আমার রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে পেতে এক সপ্তাহও লাগার কথা নয়। সেই আমি নিয়মিত আমার কাজের জন্য টাকা পাই।

আয়নায় নিজের ছবিটা ভেসে উঠল।

অর্ণব আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন, আমি এবং আমার মত মানুষ সম্ভবত আপনাকে ডিজার্ভ করিনা।

পাইরেসির জগত থেকে বের হবার চেষ্টা চলছে অনেকদিন ধরে। সফটওয়ারের ক্ষেত্রে অনেকটাই সফল হলেও মুভি আর বই এই দুটির ক্ষেত্রে আদৌ সফল হতে পারব কিনা কে জানে। এই দুইটা জিনিস এর লোভটা বড়ই যন্ত্রনাদায়ক, ঠিক যেমন বন্ধুর বাসায় পছন্দের বই দেখলে যেভাবেই হোক পড়ার আগ পর্যন্ত শান্তি লাগেনা। আপনার উপলব্ধিটা
নিজের গালে সপাটে একটা চড় বসিয়ে দিল। আশা করি এই টানাপোড়েনের একটা কার্যকর সমাধান অচিরেই সহজলভ্য হবে।

আমি তোমাদের কেউ নই -> আতোকেন

সত্যপীর এর ছবি

বন্ধুর বাসা থেকে বই নেয়া আর অনলাইনে বই/গান কপি করার পার্থক্য হল, বন্ধুর বাসা থেকে আপনি ফটোকপি করছেন না। কপি ঐ একটাই রইল। অনলাইনে কপি নামানোর মানে হল আমি শুধু ভোক্তাই নই ডিস্ট্রিবিউটারও বটে। আইনগত ভাবে ডিস্ট্রিবিউশনের অধিকার আমার নেই, সেইটা দেখবে প্রড্যুসার কোম্পানি। তারা যদি টাকা না পায় আমার কপির জন্য, তারা নিজেরাও লাটে উঠবে আর শিল্পীরাও দেবেন ডুব। আখেরে লস আমারই।

..................................................................
#Banshibir.

অতিথি লেখক এর ছবি

পার্থক্যটা একজন শিক্ষক একবার বুঝিয়ে বলার পরই ধরতে পেরেছিলাম।আমি আসলে লোভটাকে বুঝানোর জন্য তুলনাটা করেছিলাম। হাতের কাছে ভাল বই থাকার পরও পড়ার লোভ সামলানোটা অনলাইন আর অফলাইন দুই জায়গাতেই কঠিন এইটা বলতে চাইছিলাম। তবে সব কথার শেষ কথা হলো

আখেরে লস আমারই।


আমি তোমাদের কেউ নই -> আতোকেন

নিলয় নন্দী এর ছবি

পাইরেসির এই হরিলুটের ফলাফল যা হবার তাই হলো।
শিল্পীরা হাওয়া খেয়ে আমাদের গান গেয়ে শোনাতে থাকবেন
আর আমরা শুনে হাততালি দেব এমন ভাবনার প্রতিফল এখন হাতেনাতে পাওয়া যাচ্ছে।

সত্যপীর এর ছবি

সঠিক। সেই পথেই যাচ্ছি আমরা।

..................................................................
#Banshibir.

শাব্দিক এর ছবি

এইসব প্রশ্নের সঠিক রেস্পন্স হল, বহুদূরে গিয়া মরেন।

চলুক
বহু প্রশ্নের সঠিক রেস্পন্সই তাই।

আর আপনে মিয়া পীরবাবা, পড়া পানিতেই সব মুশকিল আহছান। পেসবোলারের প্রতিভা দিয়া কি করবেন?

---------------------------------------------------------
ভাঙে কতক হারায় কতক যা আছে মোর দামী
এমনি করে একে একে সর্বস্বান্ত আমি।

সত্যপীর এর ছবি

পেসবোলারের কত নামডাক। ম্যারি মি পীরসাব তো কেউ আর কইল না মন খারাপ

..................................................................
#Banshibir.

শাব্দিক এর ছবি

পীরসাহেব হইলে কি চারঘর পূরণ করতেই হপে? চিন্তিত

---------------------------------------------------------
ভাঙে কতক হারায় কতক যা আছে মোর দামী
এমনি করে একে একে সর্বস্বান্ত আমি।

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

হো হো হো

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

এক লহমা এর ছবি

হো হো হো

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সত্যপীর এর ছবি

সবই উপরওয়ালার ইচ্ছা। আপনি আমি উছিলা মাত্র।

..................................................................
#Banshibir.

তিথীডোর এর ছবি

খোরাসানী ইতিহাসের চাইতেও আপনার এ জাতীয় ব্লগরব্লগর গুলো বেশি ভাল্লাগে পড়তে! হাসি

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

সত্যপীর এর ছবি

আমারও এগুলি লিখতে খুব ভালো লাগে। দিনে একটা কইরা লিখে সবার প্রাণ ওষ্ঠাগত করব চিন্তা করতেছি...

..................................................................
#Banshibir.

কল্যাণ এর ছবি

আসুক, আসুক পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম

ঘটমা হল পীরবাবার দিন কয় ঘন্টায় কে জানে!

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

ক্যান, পীরবাবা কি আর্কটিক সার্কেলে বন্দী? ইয়ে, মানে...

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

কল্যাণ এর ছবি

হইতারে, পীরসাব ১১ তারিখে দিনে একটা লেখা দিতে চাইছে, আজ ১৪ বাট তার দৈনিক-ব্লগরব্লগর এখনো আসে নাই! মড়ার উপর খাড়ার ঘা একটানা লিখলে পীরসাবের ঘুম পায়। কি যে একটা ঝালেমা!

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সত্যপীর এর ছবি

হ, টানা লিখলে ঘুম আসে। হইবনি।

..................................................................
#Banshibir.

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখাটা চমৎকার। আমার এক কলিগ আছে যে ম্যুভি বা গানের অ্যালবাম, সব কেনে দোকান থেকে, সবসময়। ওর জন্য খুব ভালো লাগছে, নিজের জন্য ধিক্কার?! তাইই সই...

দেবদ্যুতি

সত্যপীর এর ছবি

জটিল পৃথিবী।

..................................................................
#Banshibir.

এক লহমা এর ছবি

লেখা ঝাঁকুনি-দেওয়া। আর, এই ঝাঁকুনিটা আমাদের নিজেদের জন্য। আমাদের কাউকে কিছুটা হলেও কি এই ঝাঁকুনি সত্যের পথে, ন্যায়ের পথে এগিয়ে নেবে না? খুব আশা রাখি, নেবে। তবে, অসম-সম্পদের বণ্টন-ভিত্তিক সভ্যতার উপভোক্তা এবং ভুক্তভোগী, একই সাথে শিকারি এবং শিকার আমাদের পক্ষে নির্ভেজাল ন্যায়সঙ্গত, এমন কি নিজেদের মাপকাঠিতে যেটাকে ন্যায়সঙ্গত মনে করি সেই পথেও, কতটা থাকা সম্ভব হয়, হবে সেটা বারে বারেই পরীক্ষা-সাপেক্ষ আছে, থাকবে বলেই মনে হয়।

নিজের লেখা যখন চুরি যায়, তখন বোঝা যায় চোরের হাতে নিজের সৃষ্টি হারানোর বেদনা। আবার, ক্ষুধার হাত থেকে বাঁচার প্রশ্নে সেই কথাটাও (মানিকবাবুর গল্পে ছিল কি) আমায় সর্বদাই তাড়া করে, "চুরি করে খায়নি কেন?"। পিছিয়ে থাকা দেশের মানুষ-এর কাছে অন্ন আহরণের পাশাপাশি জ্ঞান আহরণ-এর যে লড়াই চালিয়ে যেতে লাগে, সত্যপীর-রা আটকে যান সেই ফাঁদে। মুস্কিল বাধে যখন খাদ্যের সন্ধানে নিজেরাই নিজেদের হত্যা করি। নিজেদের চুরির মাশুল মেটায় নিজেদের-ই লড়তে থাকা সৃষ্টিশীল মানুষেরা, রুদ্ধ হয়ে যায় তাদের সৃষ্টির পথ। হয়ত সেইখানেই উঠে আসে 'সবজান্তা'-র তোলা "সীমাটা ধরতে না পারা"-র প্রশ্নটা।

নিজের একান্তই ব্যক্তগত অতি ছোট অবস্থানে গত দেড় দশক ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি, সফটওয়ার বেআইনি পথে না নামানোর, না আহরণের। সাফল্যের পরিমাণ ১০০ নয় কিছুতেই, চেষ্টা করি কম রাখার (যত ভাবছি, তত নানা ত্রুটি নজরে আসছে। ভারতীয় পণ্যের দোকান থেকে যে কয়টা ডিভিডি কিনেছি, অল্পই, সব কয়টাই ত চুরির মাল - পাইরেটেড!) যেটুকু সাফল্য আছে, তার অবধারিত ফল - অনেক কিছুই আমার ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, পড়া হল না, দেখা হল না, জানা হল না। কি আর করা যাবে! সেই যে চলতি কথা আছে, কোন ভাল কাজই সেটার জন্য শাস্তি না পেয়ে সম্পন্ন হবে না।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

সত্যপীর এর ছবি

হ্যাঁ কনফিউশন টা অত্যন্ত বাস্তব। ছাত্রাবস্থায় ভাবতাম টাকা নাই সুতরাং ডাউনলোড ছাড়া ফায়দা কি। এখন টাকা মূল সমস্যা নয়, এখন সমস্যা হল মানসিকতা এবং প্রপার প্ল্যাটফর্মের অভাব।

প্রচুর গিয়াঞ্জাম।

..................................................................
#Banshibir.

স্পর্শ এর ছবি

শেষ কবে গানের এলবাম কিনেছি মনে পড়ে না। মাইলসের 'প্রত্যাশা' নামক এলবাম কিনেছিলাম সম্ভবত। অন্য এক জীবনে...
মন খারাপ

আমরাই আমাদের শিল্পীদের গলাটিপে হত্যা করছি। বৈধ পথে বান শোনার, ইবুক পড়ার জনপ্রিয় অনলাইন প্লাটফর্ম সৃষ্টি হবার আগে এই অবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নাই।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সত্যপীর এর ছবি

ঠিক কথা। নিজেরাই গাছের আগায় বসে বসে গোড়া কাটছি।

..................................................................
#Banshibir.

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

বাহ, পিচ্চি এখনই অন্নব চিনে! দারুন ব্যাপার। পিচ্চু সমঝদারের জন্য অনেক আদর। হাসি

লেখা প্রসঙ্গেঃ "কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে?..." কয়েছেন জীবনবাবু। মন খারাপ

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

সত্যপীর এর ছবি

হ সে অন্নব চেনে। সুমন চেনে। শাহানা চেনে। অবশ্য শাহানা বলতে পারেনা, বলে "শানানা" হো হো হো

..................................................................
#Banshibir.

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

পিচ্চুরে ব্লগেখড়ি দ্যান, নিধির রেকর্ড ভাঙুক হাসি

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

সত্যপীর এর ছবি

খাইছে

..................................................................
#Banshibir.

সুমিমা ইয়াসমিন এর ছবি

একটা অন্নবের গান গেয়ে শোনান এইবেলা। হাসি

সত্যপীর এর ছবি

মোটে একটা?

..................................................................
#Banshibir.

তাহসিন রেজা এর ছবি

একটা সময় ছিল একেকটা গান মানুষের মুখে মুখে ফিরত। অডিও ক্যাসেটের সেই দিন গুলিতে কি যে আগ্রহ নিয়ে কিনতাম একেকটা অডিও ক্যাসেট! শিল্পীরা আর নতুন গান করছেন না।
কত প্রিয় শিল্পী হারিয়ে গেছেন দৃশ্যপট থেকে। আমাদের গানের জগতটি বুঝি ধ্বংসই হয়ে গেল।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“We sit in the mud, my friend, and reach for the stars.”

অলীক জানালা _________

সত্যপীর এর ছবি

হ্যাঁ, খুবই বাজে অবস্থা। আশা করি একটা সমাধান পাওয়া যাবে...

..................................................................
#Banshibir.

ঈয়াসীন এর ছবি

চলুক , ভাল লাগলো ভাই।

------------------------------------------------------------------
মাভৈ, রাতের আঁধার গভীর যত ভোর ততই সন্নিকটে জেনো।

সত্যপীর এর ছবি

কৈতেছেন?

..................................................................
#Banshibir.

প্রোফেসর হিজিবিজবিজ এর ছবি

ভালো লেখা।

____________________________

সত্যপীর এর ছবি

গানগুলাও মারাত্মক।

..................................................................
#Banshibir.

কল্যাণ এর ছবি

মুঠো খুলে দিলেন কিন্তু খোরাসানের দেখা ত পাই না!

ব্ল-ব্ল ভাল্লাগছে হাসি

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

সত্যপীর এর ছবি

খোরাসান আসতেছে। সেন্ট পিটার্সবার্গে নির্জন গীর্জার ঘন্টি বাজে ঢং ঢং। মোম জ্বালায় কে?

..................................................................
#Banshibir.

সত্যপীর এর ছবি

কাইট্যালা।

..................................................................
#Banshibir.

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

চমৎকার একটা লেখা। দরকারি বিষয় উঠে এসেছে। একসময় অনেক ডাউনলোড করেছি। গান, সিনেমা, বই। এখনও যে করি না, তা না। তবে হার কমেছে আগের চেয়ে। সিনেমা টরেন্টে নামাই এখনও। তবে গানের সিডি কিনে শোনার চেষ্টা করি। মাঝেমাঝে দোকানে ঢুকে ইচ্ছামতো কিছু সিডি কিনে বের হই। তবে খুব সম্ভবত এটা আপনার ভাষ্যমতে "তারপর নিজেকেই নিজে স্বান্তনা দেই যে নাহ কিছু কিনি তো। আমি লোক খারাপ নই।" ধরনের কিছু। কে জানে।

অর্ণব আমার খুব প্রিয় শিল্পী। সুরলয়ে অনেকেই গায়। কিন্তু তাতে প্রাণ থাকে না। অর্ণবের গানে থাকে সেটা। ওর উচ্চারণে সমস্যা আছে, অনেকেই বলে। হয়ত আছে। আমার কাছে তারপরও ভালো লাগে। নতুন অ্যালবাম বের হয়েছে জানতাম না। কয়দিন থেকেই ভাবছিলাম অনেকদিন হয়ে গেল, অর্ণবের নতুন কোনো গানের খোঁজ পাচ্ছি না। এখন পেলাম। দেখি কাল সিডিটা কিনে ফেলব হয়ত।

আগে হলে হয়ত সাথেসাথে ইউটিউবে সার্চ করে বের করে ফেলতাম গানটা। শুনে নিতাম। সেটা এখন করলাম না। আপনার লেখার প্রভাব? হতে পারে। না-ও পারে। যেটাই হোক, লেখাটার জন্য ধন্যবাদ। কাউকে না কাউকে বিষয়টা তুলতে হতো। এভাবে উঠে আসাটা জরুরি ছিল।

সত্যপীর এর ছবি

অর্ণবের উচ্চারণে সমস্যা নাই। উচ্চারণে সমস্যা আছে ব্ল্যাক ইত্যাদির। অর্ণবের গলা দুর্দান্ত গায়কের গলা না, সে দরদ দিয়ে গায়। পার্থ বড়ুয়া একজন ভালো উদাহরণ। পার্থেরও গলা অসাধারণ নয়, মিডিওকার। কিন্তু তাই নিয়েই সে তার মত করে চমৎকার গায়।

(ব্ল্যাক ট্যাকের ফ্যানেরা মাইরেন না ভাই)

..................................................................
#Banshibir.

রানা মেহের এর ছবি

ভালো লেখা।

গান শোনার ব্যাপারটা ইউটিউব একটু আলুনি করে দিয়েছে, বাজার নষ্ট করে দিয়েছে অনেক খানি। আমি নিজে খুব গান পাগল নই তাই ভুলও হতে পারি কিন্তু এরকম মনে হয়।

পাইরেটেড সিনেমা দেখা খুব অপছন্দ করি। মানুষজনের সাথে তর্ক করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। পাইরেসির সাথে যে অর্থনৈতিক চক্র জড়িত এটাই মানুষ বুঝতে চায়না।

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA