মিউজিক্যাল র‌্যাট (আবঝাব-৪)

ধুসর গোধূলি এর ছবি
লিখেছেন ধুসর গোধূলি (তারিখ: রবি, ১৪/০২/২০১০ - ৩:৩৫অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সময় থমকে যায় কখনো। চারপাশের কোলাহল নিচু হতে হতে একসময় মিলিয়ে যায়। স্তব্ধ হয়ে যায় চারদিক। দপ করে চোখ খুলে আমি নিজেকে একেবারেই অন্য জায়গায় আবিষ্কার করি। যেখানে রাস্তা পরিষ্কার করার ট্রাকের লক্কর ঝক্কর মার্কা শব্দ নেই, পানি উষ্ণ করার যন্ত্রের বিরক্তিকর ফোঁসফোঁস শব্দ নেই। কোনো উৎপাত নেই। চোখের সামনে এক অবারিত প্রান্তর। প্রচণ্ড সবুজ। ছোট ছোট ঘাস। নাকে এসে লাগে সেই ঘাসের গন্ধ। বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে ওপরে তাকিয়ে নীল রঙা আকাশে সাদা মেঘের ভেসে যাওয়া দেখা যায়, মুগ্ধ হয়ে। ঝপাত করে সেই ঘাসের ওপর শুয়ে পরে, মাথার নিচে হাত রেখে আকাশ দেখতে দেখতে হঠাৎ চোখে পড়ে উড়ে যাওয়া কিছু পাখি। চারদিকে তখন ঝিরঝিরে বাতাস। আলতো করে চুলে বিলি কেটে দেয় অনবরত, শরীরে স্পর্শ বুলিয়ে যায়, উড়িয়ে নিয়ে যায় নাম না জানা কোনো স্থানে...

পরিবর্তনের বাতাস। দৃশ্যপট পরিবর্তন করে নিয়ে আসে আমাকে জানালার সামনে। বাইরে যতোদূর চোখ যায়, শুভ্র, শ্বেত প্রকৃতি। গাছের শাখায়, বাড়ির চালে, গাড়ির ছাদে ঝুনা তুষারের স্তুপ। রাস্তার পাশের লাইট পোস্টটাও অসহায়ভাবে কাঁপতে থাকে ঠাণ্ডায়, মাথায় সাদা তুষারের টুপি পরে।

একটু পর পর ছ্যাড়ত ছ্যাড়ত শব্দ তুলে একেকটা গাড়ি চলে যায় নির্জন রাস্তার বুক চিরে। ভারী, স্বচ্ছ কাঁচের জানালায় গাল ঠেকিয়ে আমি তুষারে ঢাকা শ্বেত প্রকৃতি দেখি, গাছের শাখা হতে টুপ করে পড়ে যাওয়া এক মুঠো ঝুনা বরফ দেখি, রাস্তায় শব্দ তুলে গাড়ির চলে যাওয়া দেখি। নীল রঙা চিনামাটির মগে চা ঢেলে নিয়ে আবার দাঁড়াই জানালার পাশে। গোলাপী উষ্ণপোশাকে আচ্ছাদিত "আ ফেয়ার লিটল গার্ল"কে দেখি খলখল করে হাসতে। ততোক্ষণে আকাশ থেকে পেঁজা তুলোর মতো উড়ন্ত শুভ্রতা নেমে আসছে সেই হাসির সাথে কোরাস করতে। হাসি থামছে না, উৎফুল্লতার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। আমি ধোঁয়া ওঠা মগে চুমুক দিয়ে ঝিরঝিরে তুষারপাতে মেয়েটির দু'হাত বাড়ানো উচ্ছ্বাসের প্রকাশ দেখি মন্ত্রমুগ্ধের মতো...

মন্ত্রমুগ্ধতা কখনো উড়িয়ে নিয়ে যায় আমাকে ভূ-মধ্যসাগরের পাড়, কখনো লা-পেরুস, কখনো বা ইনানি। ডুবতে থাকা সূর্যের কনে দেখা আলোয় হেঁটে বেড়ানো হয় সেখানে, অনেক দূর পর্যন্ত। খালি পায়ে, প্যান্ট থাকে গুটানো। হাতে ধরা থাকে একজনের হাত। সেই একজন, যার সাথে সমস্ত সত্বা ভাগ করে নেয়া যায়। যার সাথে উপভোগ করা যায় মনের কোণে জমিয়ে রাখা বিশেষ মুহূর্তগুলো, দ্য স্পেশাল প্রেশাস মোমেন্টস...

বেলা শেষের হিসেবে সেই মুহূর্তগুলো আর ভাগ করে নেয়া হয় না। তোলা থেকে যায় নিজের ভেতরেই। মন্ত্রমুগ্ধতা কেটে যায় একটা সময়। নিজের গোপন বাগানে জন্ম নেয় আরেকটা বৃক্ষ, বিষাদ বৃক্ষ। সেই বৃক্ষের বিষাদ লালন করি আমি উচ্ছ্বাসের নিড়ানীতে। যখন প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ি, খানিকটা জিরিয়ে নিই। কোনো এক বিষাদ বৃক্ষের নিচে বসে দু'দণ্ড চোখ বুজে আবার প্রথম থেকে ভাবতে শুরু করি। ঘুরপাক খেতে থাকি একই বৃত্তে, বারবার...


মন্তব্য

বাউলিয়ানা এর ছবি

আপনার আবঝাব লেখাগুলো পড়তে ভাল লাগে।
এই আবঝাবটাও পড়ে-শুনে ভাল লেগেছে।
সামনে আরও কিছু আবঝাব দেখে-পড়ে-শুনতে চাই। হাসি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- হে হে হে
আমার সব লেখাই তো আবঝাব। ভয় নাই, যতোদিন আছি মুষলধারে আবঝাব বর্ষণ হতেই থাকবে। পাঠকের (এবং পাঠিকার) বিরক্তি ধরে গেলেও কিছু করার নাই। দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার নাম দেখেই বেশ চা-টা নিয়ে বসেছিলাম আয়েশ করে একটা রম্য গল্প পড়ব বলে!
কিন্তু একটু হতাশ হলেও কিসের যেন একটা পরশ পাচ্ছিলাম, যদিও বলতে দ্বিধা নেই, কিছুটা আমার মাথার উপর দিয়েই গেছে! হয়তো এর আগে আপনার এরকম লেখার সাথে পরিচিত হইনি আগে তাই!

এটা কি কোন সিরিজ? মানে আবঝাব - ১,২,৩ কি আছে?

কাকুল কায়েশ

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ক্যাটেগরীতে লেখা "মিউজিক্যাল র‌্যাট"-এ ক্লিক করলে বাকী লেখাগুলোও বেরিয়ে পড়বে নেকাবের আড়াল থেকে।

আর, এটা তো একটা রম্যই। নিজেকে নিয়ে রম্য। এর চেয়ে বড় রম্য আর কী হতে পারে বলেন দেখিনি! হাসি

ধুগোর আঙিনায় আপনাকে স্বাগতম।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ লিংকটার জন্য! পড়তে ও শুনতে শুরু করে দিয়েছি!

কাকুল কায়েশ

তিথীডোর এর ছবি

গুরু গুরু
আবারও বিষণ্নতার সুর...
মনখারাপ ধুগোদা??

--------------------------------------------------
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

তিথীডোর এর ছবি

আমার কাছে অনেক পোস্টের চাইতেও বেশি মজার মনে হয় আপনার মন্তব্যগুলো! দেঁতো হাসি
খুব সিরিয়াস টপিকেও শালি কিংবা ঘটককে টেনে নিয়ে আসেন...
কিন্তু ভিন্নসুরে লেখা এই লেখাগুলো চেনা ইমেজটাকে বদলেই দেয়!!

--------------------------------------------------
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- সেই ব্লগিং জীবনের শুরু থেকে দেখে আসতেছি, আমার "মন্তব্যবাজ" তকমাটা গা থেকে খসাতেই পারতেছি না! মন খারাপ

এইসব ঘটা করে পোস্ট না দিয়ে ভাবছি এখন থেকে ঘটা করে মন্তব্যই করবো কীনা। চিন্তিত
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

মজনু এর ছবি

এক সময় বার-বার অথবা আবার শুরু করার সময়টাও পার হয়ে যায়। আর এরকম কিছু হূৎপিন্ড থেকে যায় একেবারে তাজা এবং দ্য স্পেশাল প্রেশাস মোমেন্টসএ টইটম্বুর।

-মজনু

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আররে, মজনু ভাই যে! কই থাকেন মিয়া!
সুখ দুঃখের দুইডা কথা কমু, আপনেরে খুঁইজা পাই না। মন খারাপ
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

মজনু এর ছবি

আর, এটা তো একটা রম্যই। নিজেকে নিয়ে রম্য। এর চেয়ে বড় রম্য আর কী হতে পারে বলেন দেখিনি!

আছিতো। মন্তব্য করিনা তাই দেখেন না আরকি।

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

বিষন্নতা বিলাসী পান্থকে লেখাটি আরো বিষন্ন করে দিলো!
..................................................................

আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ ব'সে অপেক্ষা করার সময় আছে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আপিল বাড়াতে হবে বস, ঐ যে মেম্বর বর্ণিত 'ইয়ে' আপিল! হাসি

মজাবাদ, ব্যস্ততার মাঝেও পড়লেন, কৃতজ্ঞবোধ করছি।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

নৈষাদ এর ছবি

ধুসর গোধূলি, লেখাটা খুব ভাল লাগল। সুর গুলিও ভাল লেগেছে। (আপনার অন্য লেখাগুলির থেকে কিছুটা ব্যাতিক্রম কি?)।

...হায়, শ্বেত প্রকৃতি দেখে আর কফি খাওয়া হল কই...।

(কফির ব্যাপারে আমাদের সচল-ডাক্তার সাহেব আজকে আরেক প্যাঁচ লাগিয়েছেন – স্টার-বাকে নাকি অ্যাডিকশন লিমিটের তিনগূণ ক্যাফেইন থাকে। যদিও অ্যাডিকশন লিমিট কী সেটাই বুঝি নাই, তবে কফি না খেলে ভাল্লাগেনা।)

(ছন্দপতন হতে পারে এমন একটা মন্তব্য... ) কোন বিশেষ উইশ না করেও হলফ করে বলতে পারি শেষের বিষাদেমাখা প্যারাটা বাদ দিলে উপরের সবকিছুই কিন্তু একদিন আপনার হাতের কাছে আসবে, সব মন্ত্রমুগ্ধতা নিয়েই। এন্ড দ্যাট উইল বি ইওর টার্ন। সত্বা-ফত্বা যদি ভাগ করে না নেন ... আপনার লেখাটা কিন্তু ফেরারেন্স হিসাবে রয়ে যাবে, খুউব খিয়াল কৈরা। যদি প্রতিষ্ঠিত লেখক হয়ে যান এরই মধ্যে, তবে অবশ্য সব খুন মাফ...।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ধন্যবাদ নৈষাদ ভাই। (আপনার নামের মধ্যে আমি একটা "নো-স্যাড" ব্যাপার খুঁজে পাই) দেঁতো হাসি

আপনার লেখাটা কিন্তু ফেরারেন্স হিসাবে রয়ে যাবে, খুউব খিয়াল কৈরা।
এ- ভাই, এর মানে কী? আমার কি তাইলে সকাল সন্ধ্যা দুই ডোজ রুটি বেলার বেলুনের বারি খাইতে হবে? মন খারাপ

আমি কি এখনও "প্রতিষ্ঠিত লেখক" হই নাই? চিন্তিত
আপনি মুখের উপর এভাবে বলতে পাল্লেন? পাল্লেন আপনে? খাড়ান, বইটা খালি বের করে নেই। তখন আইসেন অটোগ্রাফ নিতে, দিম্ না। চোখ টিপি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

রাহিন হায়দার এর ছবি

তুষারপাত কখনও দেখি নাই। মনে হয় আপনার এই লেখাগুলোর মতই হবে।
________________________________
তবু ধুলোর সাথে মিশে যাওয়া মানা

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- না রাহিন। তুষারপাত গুলো হয় আপনার বাজানো বাঁশির সুরের মতো। খানিকটা মায়া মেশানো, খানিকটা কষ্ট মেশানো আর খানিকটা ভালোবাসা মেশানো।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতিথি লেখক এর ছবি

খুব সুন্দর উপমা দিয়েছেন!
যদিও আমি মনে করি, পৃথিবীর কোন উপমা দিয়েই তুষারপাতের সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করা যাবে না, বাট আপনি যেটা বললেন, এটাই এখন পর্যন্ত আমার শোনা বেস্ট ডেসক্রিপশন!

কাকুল কায়েশ

ওয়াইল্ড-স্কোপ এর ছবি

কড়া তুষারপাতের মধ্যে মাসখানেক আটকে থাকলে আরো ভালো ডেসক্রিপশন মাথায় আসবে হাসি

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

এটা কি তুমি করেছো?

ওয়াইল্ড-স্কোপ এর ছবি

পিপিদা, "সরম" দিয়েন না, ভিডিও আমার করা না

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আর "সরম" পাওয়া!

এবার একটু গরম হওয়া দরকার। আমার জীবনে আমি এতো লম্বা সময়ের জন্য, এতো তুষার একসাথে দেখি নাই। এই শহরে এমনিতেই তুষারপাত হয় কম। আর এবার, মনে হয় পুরো দুনিয়াটাই ডীপ ফ্রিজ হয়ে আছে। আর আমি সেই ডীপ ফ্রিজের টাটকা ইলিশ মাছ।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

রাহিন হায়দার এর ছবি

লইজ্জা লাগে
________________________________
তবু ধুলোর সাথে মিশে যাওয়া মানা

________________________________
মা তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো...

নীল রোদ্দুর এর ছবি

আর, এটা তো একটা রম্যই। নিজেকে নিয়ে রম্য। এর চেয়ে বড় রম্য আর কী হতে পারে বলেন দেখিনি!

জানতে পারলে তার অপেক্ষাই থাকবেন নাকি? আমি এইসব রম্যকে ছুটি দিতে চাই। রম্য আমাকে ছুটি দিয়েছে কিনা, এখন তাই দেখার বিষয়। লিখতে গেলে যখন দেখি, লেখাটা বিষাদের গান গাইছে... তখন আমাকেও বিষাদের গানে পেয়ে বসে। মন খারাপ

আপনি দারুন লিখেন... হাসি

--------------------------------------------------------
যখন প্রাণের সব ঢেউ
জেগে ওঠে, কথা বলে, রক্তের আশ্চর্য কলরবে
বৃষ্টির দুপুরে মনে পড়ে
বর্ষার মতন গাঢ় চোখ মেলে তুমি আছ দু'দিনের ঘরে।।
[শামসুর রাহমান]

-----------------------------------------------------------------------------
বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়

ধুসর গোধূলি এর ছবি
নীল রোদ্দুর এর ছবি

হা হা হা... দেঁতো হাসি
আমি তো চকলেট খাই... খাইছে

রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কঠিন ঝাল আর কাসুন্দী দিয়ে আমমাখা... যাতে চোখ থেকে পানি বের হতে বাধ্য হয়... দেঁতো হাসি --------------------------------------------------------
যখন প্রাণের সব ঢেউ
জেগে ওঠে, কথা বলে, রক্তের আশ্চর্য কলরবে
বৃষ্টির দুপুরে মনে পড়ে
বর্ষার মতন গাঢ় চোখ মেলে তুমি আছ দু'দিনের ঘরে।।
[শামসুর রাহমান]

-----------------------------------------------------------------------------
বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- আহহা, চকলেট খাইয়েন না বেশি। দাঁতে পোকা হয়। তখন আবার আপনারে এক নম্বর কালো নিমের মাজন উপহার দেয়ার লোক খুঁজতে হবে। হাসি

এই শীতের দিনে আম পাবেন কোথায়? পেলে নাহয় কাসুন্দি আর ঝাল মাখিয়ে খেতে পারবেন। অন্য কিছু লিস্ট করেন। সিজন ভিত্তিক। হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

নিবিড় এর ছবি

বৃত্তে বারবার ঘুরপাক খাওয়া জিনিসটা খুপ খ্রাপ হাসি


মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় ।

শাফক্বাত এর ছবি

আহা রে!!
================================================
পরদেশী বঁধু, ঘুম ভাঙায়ো চুমি আঁখি।
যদি গো নিশিথ জেগে ঘুমাইয়া থাকি,
ঘুম ভাঙায়ো চুমি আঁখি।।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

সদা-হাসি-খুশি মানুষটাও মাঝে মাঝে এমন কিছু লেখে যে পড়ে থেমে যেতে হয়, ভাবনা আসে, উচ্ছ্বাস আসে, জীবনটা অর্থবহ মনে হয়।

মন্ত্রমুগ্ধতা কেটে যায় একটা সময়। নিজের গোপন বাগানে জন্ম নেয় আরেকটা বৃক্ষ, বিষাদ বৃক্ষ। সেই বৃক্ষের বিষাদ লালন করি আমি উচ্ছ্বাসের নিড়ানীতে।

গ্রেট।

ধুসর গোধূলি এর ছবি
তাসনীম এর ছবি

কনিষ্ঠা কন্যাকে নিয়ে আপনার মিউজিক শুনছি রবিবার রাতে, চারিদিকে চুপচাপ...ক্ল্যাসিকাল সংগীতে আমাদের দুজনেরই একই রকম জ্ঞান...তাও বাপবেটি দুজনেরই ভালো লেগেছে...জানিয়ে দিলাম।

+++++++++++++++++++++++++++++++++++++
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না?

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- এই সিরিজে আসলে সঙ্গীতের ধারা বজায় রেখে না তাসনীম ভাই, একেকটা বাদ্য চোখের সামনে ঠিক "কী অনুভূতি" নিয়ে আসে, অনেকটা সেরকম ব্যাপার।

আপনার কন্যাদ্বয়কে নিয়ে জার্মানী ঘুরে যান। হ্যামিলন শহরে গেলে তাদের ভালো লাগবে। ওখানে একটা ইভেন্ট হয় সামারে, "দ্য মিউজিক্যাল র‌্যাটস"। বাচ্চাদের নিয়ে। ছোটবেলার সময়টা আপনিও হয়তো ফিরে পাবেন সেই ইভেন্টের মাধ্যমে।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

তাসনীম এর ছবি

ইউরোপে যাওয়ার ইচ্ছে আছে, আমি একবার একা গিয়েছিলাম, সপরিবারে যাওয়ার ইচ্ছা আমাদের। সমস্যা হল, বড় ছুটি নিয়ে শুধু বাংলাদেশেই যাওয়া হয় অন্য কোথাও থামার সময় পাই না। তবে একবার যাব নিশ্চয়ই। আর ছোটবেলায় ফিরতে পারলে তো দারুন, পুরা ডাবল মজা।

+++++++++++++++++++++++++++++++++++++
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না?

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

ধুসর গোধূলি এর ছবি

ইয়োরোপ পাতলা হওয়ার আগেই আপনার একবার ঘুরে যাওয়া উচিৎ তাসনীম ভাই। এখানকার জনগণের মতিগতির ঠিকঠিকানা নাই। আজকা এখানে আছে তো কালকা সকালে উঠে হাট্টিবোচকা নিয়ে দেখবেন রওনা দিছে অন্যদিকে।
তাই বলি কী, জলদি করেন! হাসি



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

আনন্দী কল্যাণ এর ছবি

আপনার মন্তব্যগুলা পড়ে অনেক হাসি...

তবে এই লেখাটা অন্যরকম মন খারাপ

সচলে তো প্রায়ই দেখছি বিভিন্ন জায়গায় খণ্ড যুদ্ধ হচ্ছে, আপনি মনে হয়
ঝগড়া করেন না হাসি, ভালু লুক।

-----------------------------------------------
আকাশে তোর তেমনি আছে ছুটি
অলস যেন না রয় ডানা দুটি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

তবে এই লেখাটা অন্যরকম
কারণ, এইটা মন্তব্য না যে! হাসি

ঝগড়া, যুদ্ধ করা ক্রেডিটের ব্যাপার। আমার অনেকদিনের শখ ঝগড়া করার। কিন্তু লুঙ্গি কাছা মেরে ঝগড়া করতে গিয়ে ভুলে যাই কী নিয়ে ঝগড়া করতে এসেছিলাম। সুবিধা করতে পারি না। মন খারাপ

নেক্সট কোথায় খণ্ড যুদ্ধ হয়, আপনার চোখে পড়লে আমাকে একটু কষ্ট করে জানিয়েন তো। এবার কাছা না মেরেই চলে যাবো ময়দানে।
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সাফি এর ছবি

কিন্তু লুঙ্গি কাছা মেরে ঝগড়া করতে গিয়ে ভুলে যাই কী নিয়ে ঝগড়া করতে এসেছিলাম

এই সমস্যার একটা সহজ সমাধান আছে চোখ টিপি

ধুসর গোধূলি এর ছবি
সাইফুল আকবর খান এর ছবি

খুব সুন্দর এই মিউজিকগুলো! সত্যিই সেই কোথায় যেন নিয়ে গ্যালো, ফিরে আসার পরও পুরোটা খুঁজে পাওয়া যায় না নিজেকে। বিশেষ ক'রে, ১ নম্বরটা আমার কাছে ভীষণণণ ভালো লাগলো। আই জাস্ট লাভড ইট!
আর, তেমনই সুন্দর আপনার কল্পনার দৃশ্যও! চলুক

___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ধন্যবাদ খান ভাই। আমার নিজের কাছে ভালো লাগে খুব সম্ভবত তিন নম্বরটা। এটা শুনলেই মনে হয় আমি অনেক দূর পর্যন্ত হাঁটছি তো হাঁটছিই, দূরত্বটা সীমাহীন। কারো একজনের হাতে হাত ধরে, শান্ত একটা প্রকৃতিতে, কোনো এক সাগরের তীর ধরে, বালুকাবেলায়...
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

লেখাটা অসম্ভব সুন্দর। চোখের সামনে ভেসে ওঠে, এমন জীবন্ত। মিউজিকগুলো শোনা হয়নি। মেইলান, জনাব হাসি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।