গুরুচন্ডালী - ০৩২

ধুসর গোধূলি এর ছবি
লিখেছেন ধুসর গোধূলি (তারিখ: শুক্র, ১১/০৩/২০১১ - ১১:৩৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আবঝাব এক্সপ্রেস ডট কম

'বিষণ্ণতা একটা রোগ'— সিবা গেইগি'র বিজ্ঞাপনে এরকম একটা বিলাতি রোগের কথা থাকলেও আমার এই রোগ হয় নি। হয়েছে কষা রোগ। তবে রোগের ধরণের নামের কারণে যে ব্যাপারটা আপনার মাথায় প্রথমেই আঘাত করেছে, এটা মোটেও সেই রোগ নহে! 'নে-লেখা রোগ', লেখ্যকাঠিন্য যাকে বলে আরকি! আপনি অন্যকোনোকাঠিন্য বুঝে থাকলে, আপনার দিলে ময়লা। বাবলা পাতার কষ। সার্ফ এক্সেলেও এই ময়লা উঠবে কি-না, এই নিশ্চয়তা আপনাকে খোদ ইউনিলিভারও দিতে পারবে বলে মনেহয় না।

তবে আলমের এক নং পঁচা সাবানে ট্রাই দিয়ে দেখতে পারেন। কাজ, হোলেও হোতে পারে। অথবা গালা সাবান। সেই ছোটবেলায়, মানে প্রাইমারি স্কুলের আমলে দেখতাম বাসার কাজে সাহায্য করা খালারা ঝামায় করে এক ধরণের সাবান নিয়ে আসতেন। ঐটার নাম ছিলো গালাসাবান। খুব এলেমদার সাবান ছিলো। অতি সামান্যতেই ঘরের ঘটিবাটি, বদনালোটা, জামাকাপড় সব ধবধবে চকচকা হয়ে যেতো! গালাসাবান মাখনের মতো নরম হলেও দেখতে কিংবা খেতে মোটেও মাখনের মতো ছিলো না। বেশ ঝাঁঝালো আর কটু ছিলো স্বাদ। মুখে দিয়ে দেখেছিলাম মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে। হাসি

তো বলছিলাম, আমার লেখ্যকাঠিন্যের কথা। লিখতে ইচ্ছা যে হয় না, তা কিন্তু না। কিন্তু লিখতে গেলে মনে হয়, ধুরো কী হবে লিখে! দুই দিনের দুইন্যা, আজকে মরলে কালকে মানুষে বলবে, 'হালায় মরছে- দুইদিন হইছে'। বেঁচে থাকতে গালি দিন, সহ্য হবে। কিন্তু মরে গেলে কেউ গালি দিলে সহ্য হবে, এই কথা কিড়া কেটে কে বলতে পারে! একেতো আন্ধাধেন্ধা ফেরেশতার মুষলধারায় মার্শালআর্টের শিকার হতে হবে, তার উপর যদি গায়েবী আওয়াজের মতো জনগণের 'হালা-হমুন্দি' জাতীয় সম্বোধন কর্ণকূহরে মুহুর্মুহু প্রবিষ্ট হতে থাকে তাহলে আর কতো! 'কর্তৃপক্ষ- দ্যাটস ইট' বলে হয়তো হাতে একটা ব্যাসবলের ব্যাট নিয়ে কবর ফুঁড়ে হারেরেরেরে ডাক ছেড়ে উপরোল্লিখিত বোনজামাইদের খোঁজ দ্য সার্চে নেমে পড়তে বাধ্য হবো। কিন্তু, এইমাত্র উপলব্ধি করলাম এই কর্ম সম্পাদনের সময় সংবিধানের পরিপন্থী কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে!

আমার গায়ে তো পরিধেয় বস্ত্র থাকার কথা না তখন। ঐ অবস্থায় হাতে ব্যাসবল ব্যাট নিয়ে দৌড়ালে লোকে কী বলবে? সুন্দরী বালিকারা কী ভাববে‌? বিশাল একটা সমস্যা তো! শুধু যে বেঁচে থাকতেই পাঁচটা মৌলিক চাহিদার দরকার হয় মানুষের তা না। মরার পরেও বস্ত্রের দরকার পড়তে পারে। অন্ন কিংবা বাসস্থানের চিন্তা না থাকলেও।

বারবার কথার খেই হারিয়ে ফেলছি। হারাক, এবার অন্য কথায় যাই। পুরান কথার ভাত তো এমনিতেও কোনো কালেই ছিলো না।

আজকে ক্রুয়েল ওয়ার্লড্‌কে বিদায় জানিয়ে ঘুমের উদ্দেশে নিরুদ্দেশ হবার যথাযথ উদ্দীপনা ও ভাবগাম্ভীর্যের পরেও যখন ঘুমপরী আমার ডাকে মুখ ফিরিয়ে চলে গেলো অন্যদিকে। তখন হঠাৎই ঝুপঝুপ করে প্রাইমারি স্কুলের সময়গুলো সব আছড়ে পড়তে শুরু করলো আমার উঠানে। ভাবলাম, কী লিখা যায়! "স্মৃতির ব্যাড সেক্টর থেকে" নাকি "আমার ছেলেবেলা- ডিলিটেড সিন"! কোনো শিরোনাম না দিয়েই লিখতে শুরু করলাম। গাড়ি যেদিকে গিয়ে শেষ হয়, সেই অনুযায়ীই শিরোনাম ঠিক করা হবে। হতে পারে তৃতীয় কোনো শিরোনাম!

শুয়ে শুয়ে ঠ্যাঙ নাচাতে নাচাতে আঙুলের কর গুনে হিসাব করে দেখছিলাম, আমি সর্বমোট তিনটা প্রথাগত প্রাইমারি স্কুলে ফাইভের প্রথম পর্যায় পর্যন্ত পড়েছি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময়কাল ছিলাম মদনগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (পাণ্ডব'দা কি আমার স্কুলটা চিনেন?)। ফোর পাশ দিয়ে ফাইভে ওঠার পরপরই পিতৃদেবের বদলির চাকরির সুবাদে আমার স্কুলও বদল হয়ে যায়। ফুলের মতো কতো কতো বালিকাকে পেছনে ফেলে চলে আসতে হয়েছিলো সেদিন, যেদিন টিসি'টা নিয়ে দোতলায় হেডস্যারের রুম থেকে বের হয়ে আসছিলাম।

হেডস্যারের গোঁফ ছিলো। বিটিভি'তে একটা নাটক হয়েছিলো অনেক আগে। সেখানে মিছা মণ্ডল বলে একটা চরিত্র ছিলো। আমাদের হেডস্যার ছিলেন দেখতে সেই মিছা মণ্ডলের মতো। হেডস্যার লোকগুলো পদাধিকার বলেই কিনা জানি না, ভীষণ গম্ভীয় আর 'কেমনজানি' স্বভাবের হন। এই হেডস্যারও ব্যতিক্রম ছিলেন না। কিন্তু আমার হাতে টিসি'টা ধরিয়ে দিতে দিতে এই গম্ভীর হেডস্যারও হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন কেনো জানি! তাঁর সাথে সাথে ফোরে আমাদের বাংলা পড়ানো আওলাদ হোসেন স্যার। আওলাদ স্যার সবসময়েই সাফারি পড়তেন। ব্যাকব্রাশ করতেন। তেল দিতেন মনেহয় চুলে। চকচক করতো। আমাকে একবার কড়া সাইজ করেছিলেন, 'অনুপ্রেরণা' শব্দের মানে না জানার কারণে!

সে সময়ে উচ্চ নম্বরের সিঁড়ি সিরিজের নোট বই ছিলো বাজারে। যেগুলোতে কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তরে আগের প্রশ্নের উত্তর অনুসরণ করার নির্দেশনা থাকতো, প্রশ্নের ধরণ অনুরূপ হলে। তো এমনই একটা প্রশ্নের উত্তর একটু বড় হওয়াতে কেউ হয়তো শিখে নি। আওলাদ স্যার যখন জিজ্ঞেস করলেন, এই প্রশ্নের উত্তর কে দিতে পারো! সবাই যখন নিশ্চুপ, তখন তাল গাছের মতো লম্বা বিউটি হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়লো। আমি মনে মনে নিজেকে ধিক্কার দিতে শুরু করেছি। যে প্রশ্নের উত্তর বিউটি শিখে ফেলছে, সেটা আমি শিখলাম না! কিন্তু আমার ধিক্কার ভাবনা শেষ হওয়ার আগেই দেখি জনগণ হাসিতে ফেটে পড়েছে! স্যার শুদ্ধ। কাহিনি আর কিছুই না। বিউটি উচ্চ নম্বরের সিঁড়ি নোটবই থেকে শিখে আসা উত্তর হুবহু বলে দিয়েছে, "উত্তরঃ ৪ নং প্রশ্নের খ অংশ দেখ"।

মদনগঞ্জের পর আমার পাঠাহোরণ চললো মুড়াপাড়া প্রাথমিক স্কুলে। আগের স্কুলের চিপাচুপায় বসে কাটিয়ে দেয়া আমি যথারীতি এখানেও পিছনের বেঞ্চির ভেতরের কোণার দিকে একটা চিপা বের করে বসে গেলাম। আস্তে আস্তে কাকনের কল্যানে কয়েকজনের সাথে হালকার উপর ঝাপসা বন্ধুত্বও হয়ে গেলো। কিন্তু সমস্যা দেখা দিলো গোমড়ামুখো হেডস্যার। মাসখানেক যেতে না যেতেই তিনি তাঁর বাংলা ক্লাসে হাজির হয়ে আমাকে পেছন থেকে গালে টেনে ধরে সামনের বেঞ্চে এনে বসালেন। একদিনেই বুঝি তাঁর অত্যাচার শেষ, এই ভেবে সেদিন সহ্য করে গেলেও। আমার আসলে রক্ষা হয় নি। হেডস্যার বাংলা ছেড়েও এমনকি ধর্ম ক্লাসেও হাজির হয়ে যেতেন। এবং যথারীতি আমাকে গাল টেনে পেছনের বেঞ্চ থেকে সামনে বসিয়ে তবেই ক্লাস শুরু করতেন! কেনো যে এহেন বিমাতাসুলভ আচরণ তিনি করতেন তা আমার বোধগম্য হতো না। এমনকি তাঁর জন্য বিকেল বেলা আরাম করে সাইকেলও চালাতে পারতাম না! আমাদের আশেপাশেই তাঁর বাসা ছিলো বলে পরদিন স্কুলে গেলেই আগের বিকেলের আমলনামা পেতাম! একদিন স্যারের ছেলেকে বলেছিলাম, "দেখিস তোগো বাড়িতে একদিন হাইগা দিয়া আসুম"। যথারীতি এই হুমকির আমলনামাও পেয়েছিলাম পরদিন স্কুলে গিয়ে!

পাঁচ মাস পর যখন এই স্কুল থেকেও চলে আসি টিসি নিয়ে। এই হেডস্যারও পাঞ্জাবির হাতায় চোখ মুছতে মুছতে মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, "দোয়া করি, অনেক বড় হও..."।

আজকে হঠাৎ ইচ্ছে করছে দৌঁড়ে যাই মদনগঞ্জে, যাই মুড়াপাড়ায়- গিয়ে আমার দুই হেডস্যারকে বলি, "স্যার, আপনারা দোয়া করেছিলেন যেনো অনেক বড় হই। কই, আমি তো অনেক বড় হই নি। আমি যে এখনও সেই প্রাইমারি স্কুলের দিনগুলোতেই আটকে আছি..."!

এর পরের সময়টা কাটে একটাই স্কুলে। হাফপ্যান্ট ছেড়ে ফুলপ্যান্ট পরা ধরেছি এই স্কুলেই। বড় হয়েছি, কঠিন সব বাঁদরামো করেছি, স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখেছি, 'বাংলার বধু'— এই স্কুলেই। প্রথম প্রথম বুক ধুকপুক করাও বুঝতে শিখেছি এখানেই।

সেদিন হঠাৎ করেই এই স্কুলের বন্ধুদের একজনকে ফোন দিয়ে ফেললাম। নাম্বারটা পেয়েছি বেশ বিস্মকরভাবে। অপরিচিত নাম্বার থেকে ঈদের শুভেচ্ছা দেখে ফিরতি বার্তায় ভুল মানুষের নাম উল্লেখ করলাম। আবারও বার্তা এলো, এবারে গালিসমেত। বুঝে গেলাম কে এই আদম! ফোন দিতেই ওর পরিবার ফোন ধরলো। ছুটির দিন, ঘুমাচ্ছিলো বোধ'য়। বন্ধকে চাইতেই দিলো। তারপর বেশ অনেক্ষণ হাহাহিহিকাশাকাশিপাদাপাদির পর বন্ধু বলে, তুই কি মানুষ হবি না?

আমি বললাম, ক্যান? অমানুষের মতো আবার এখন কী করলাম?

বন্ধু বলে, এখন কিছুই করোস নাই। তোর এসেমেস দেখে বুঝলাম। তুই এখনও আগের মতোই আছোস। মানুষ আর হইলি কই!

এবারেও বুঝতে না পেরে বন্ধুর সাহায্যপ্রার্থী হলে সে বুঝিয়ে দেয়, আমি ইন্টারনেটের যে একাউন্ট থেকে তাকে মেসেজ পাঠাই, গোল পাকিয়েছে সেই নাম। মানে পুরো নাম প্রেরকের আতাপাতা অংশে না দেখিয়ে আংশিকটা দেখায়। তো আমার সেই একাউন্টে ব্যবহারকারী হিসেবে আছে "ধুসরগোধূলি"। মজার ব্যাপার হলো, এই নামের এতো অংশ থাকতে কেটে কুটে ওর মোবাইলে এসেমেস পাঠালে যা দেখায় তাহলো, "ধুসরগোদ"! বন্ধুর আপত্তি ছিলো এই "গোদ" নিয়েই।

আজকে অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে করলেও আলাদা অনুচ্ছেদ দিতে দুব্বল পাচ্ছি না। একটাই অনুচ্ছেদের ভেতরে কয়েক পদের হাদুমপাদুম করে ফেললাম। যেমন এখন করবো ক্রিকেট নিয়ে। যখন যেই ভাও আরকি! এখন ক্রিকেটের সিজন। ক্রিকেট নিয়ে দুই-চাইর কথা না বললে শাস্ত্র অমান্য করা হবে না?

তো কথা আর কী! কে কোথায় কী করলো, কে কোন পেপারে কী লিখলো, কে কার পেয়ারের পেলেয়ারের বাদপড়া/ঢুকে যাওয়া নিয়ে নাঁকি কান্দোন কাঁদলো— সেইসব নিয়া কথাবার্তা হবে জায়গামতো, যথাসময়ে। এখন আপাতত আজকের সাহেববধ কাব্যে বাংলাদেশ দলের সাথে থাকি আমরা। চিল্লাতে থাকি, গর্জাতে থাকি, চিৎকার করতে থাকি আমরা। যেনো হাজার মাইল দূরের এই চিৎকার পৌঁছে যায় চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। খেলার ফলাফল কী হবে, সেটা জানাবে সময়। আপাতত আমরা, বাংলাদেশীরা— বিশ্বের সেরা দর্শকের যে সুনাম আমাদের নামের পাশে আছে, সেটা আরেকবার দেখিয়ে দেই সারা বিশ্বকে। আরেকবার প্রমাণ দেই, বাংলাদেশীরা ক্রিকেটকে ভালোবাসে- অন্তর থেকেই।

টিম বাংলাদেশ আজকের খেলা শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরে যাক বিজয়ীর বেশে...


মন্তব্য

ধুসর গোধূলি এর ছবি

একটা ফটুক দিতে চাইছিলাম পোস্টের সাথে, আসলো না। সুতরাং, লিংকাইলাম।
ফটুক ফাটুক কাটুক ঝাটুক

স্পর্শ এর ছবি

আহ! লেখাটা পড়ে শান্তি পাইলাম। লেখ্যকাঠিন্য বড়ই কঠিন ব্যামো।
আর আপনি দেখি ক্লাসের গোল্ডেন বয় টাইপের কিছু ছিলেন চিন্তিত


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

ধুসর গোধূলি এর ছবি

গোল্ডেন বয়? হে হে হে, যদি শয়তানির নিক্তিতে মাপেন, তাইলে অবশ্যই। আর নাইলে, অলওয়েজ ব্যাক-ব্যাঞ্চি! দেঁতো হাসি

ধুসর গোধূলি এর ছবি
তিথীডোর এর ছবি

অনেকদিন পর লেখা পড়লাম।

টিম বাংলাদেশ আজকের খেলা শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরে যাক বিজয়ীর বেশে...

টাইগারদের জন্য শুভকামনা! বাঘের বাচ্চা

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

ধুসর গোধূলি এর ছবি

হ। আপনাদের শহরে খেলা। মিছিল টিছিল বের করেন। থালাবাটি বাইড়া বাইড়ি, চিল্লা পাল্লা করলে টিম জিতবে ক্যামনে?

অপছন্দনীয় এর ছবি

ঘেঁয়াও...

পাগল মন এর ছবি

লেখা ভালু পাইলাম। আমারো মনে হয় কী হইবো আর লিখে।
আর টাইগারদের জন্য তো শুভকামনা সবসময়ই আছে, থাকবে।

------------------------------------------
হায়রে মানুষ, রঙিন ফানুস, দম ফুরাইলে ঠুস
তবুও তো ভাই কারোরই নাই, একটুখানি হুঁশ।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

শুভকামনা জারি রাখেন। বিলাতিগুলারে আজকা কাতি ধরায়ে দিবে বাংলাদেশ!
ধন্যবাদ। হাসি

শামীম এর ছবি

হাছা কইলে - পড়তে খারাপ লাগে নাই। তয় সেইটা জানানোর চাইতে ২ পয়েন্টের লাইগা একটু কমেন্টাইলাম .....

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

ভালো কথা মনে করেছেন শামীম ভাই। আমার ব্যানারের কুড়ি পয়েন্ট এখনো পাপিষ্ঠ মডুরা আমার মার্কস-শীটে যোগ করে নাই। মন খারাপ

সাফি এর ছবি

ধুগুরে ৫০পয়েন্ট দেওয়া হউক

ধুসর গোধূলি এর ছবি

গোঁপন সূত্রে খবর পাইলাম, মেম্বর আর সাফি নাকি আমার ফিফটি'রে ভাগাভাগি করে আত্মসাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইছে। এইরম কিছু হইলে জাতি আগামি নির্ব্বাচনে সমুচিত জবাব দিবে!

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

লেখা পড়ে মন খারাপ করতে চাইলাম, কিন্তু পারলাম না। আপনার লেখার স্বভাবসুলভ মনখারাপ-মনখারাপ ভাবটা হাস্যরসের আড়ালে পড়ে রইল।

এই মাত্র ঘুম থেকে উঠলাম। আজকের খেলায় মনে হচ্ছে কিছু একটা করবে ওরা।

বি.দ্র. একটা মেজেস পাঠিয়েছিলাম, মনে হচ্ছে কোন নোটিফিকেশন পাননি মন খারাপ
মামুকে জানাতে হবে মনে হচ্ছে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

মেসেজ পেলাম পিপিদা। ঘুমাচ্ছিলাম বলে কোনো সাড়া শব্দ করতে পারি নাই। এখন হবে, প্রাইর বাহাদুর প্যাভেলিয়নের পথে গিয়েছেন। আশাকরি বাকি সাহেবরাও তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন অচিরেই।

আমারও মনে হচ্ছে, আজকে বাংলাদেশ দল আংরেজদের আচ্ছা মতো ভালোবাসতে সক্ষম হবে! দেঁতো হাসি

এখন আপনাদের মিলা বৌমা'র গান চলছে! হো হো হো

লেখার কথা আর বইলেন না পিপিদা। ঘুমানোর কথা, ঘুম তো আসে না। তাই ভাবলাম লেখি ফেলি একটা আবঝাব! হে হে হে

মুস্তাফিজ এর ছবি

মুড়াপাড়া কী শীতলক্ষ্যার পাড়ের?

ধুসর গোধূলি এর ছবি
অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

খেলা দেখি। তারপর কালুপেপারের এই লেখাটা নিয়া আলোচনা হইতে পারে।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

ধুসর গোধূলি এর ছবি

কালু'ড়ে ধরা হবে। খাড়ান আগে সাহেবগোরে যেই কোপান কোপাইতাছে আমাগো বোলার'রা, আগে ঐটা দেইখা লই! হো হো হো

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

অ্যানিমেটেড ফটুক ফাটুক কাটুক ঝাটুক ভালো লাগলো। ট্রাঞ্জিশনটা কি আরেকটু স্মুথলি করানো যায়, বা দ্রুত?
টাইগারদের খেলা সো ফার সো গুড। চক্ষু খুইল্যা গুট্টি খেলুম, গুট্টি...

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

করা তো যায়ই। কিন্তু এখন তো করতে হলে আবার শুরু থেকে করতে হবে। পরেরবার কোনো কিছু নিয়ে করলে দেখা যাবে!

নজরুল ইসলাম এর ছবি

কিন্তু উইকেট ক্ষরা কাটতেছে না তো!

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

ধুসর গোধূলি এর ছবি

হই মিয়া কী কন!

ভুয়াপাড়া, সোয়ান, মোয়ান, টাট্টু ঘোড়া সবই তো ঘন্টা বাজাইতে বাজাইতে গেছেগা। এখন গাছ ডাকেরে পাঠাইতে পাল্লেই কিচ্ছা খতম! আইজকা সাহেববধকাব্য হবে।

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখা ভালো হয়েছে, সেটা আমি যেমন জানি আপনিও জানেন, তাই ওটা নিয়ে আর কিছু বললাম না।

মরলে (কাইন্ডলি ইন্সট্যান্টলি) খবর দিয়েন, দুই রাকাত নামায পড়ে দোয়া করে দিব।
আমি চারটা স্কুল দিয়ে প্রাইমারী শেষ করেছি।

ইংল্যান্ডের ৭টা গেলো।
-রু

ধুসর গোধূলি এর ছবি

মরলে খবর দিবো? নাকি মরার পরে? এসেমেস করে দিবো নাকি ফেসবুকে দেয়ালে চিকা মারলেই চলবে!

তামিম ছাগল'টা গেলো! মন খারাপ

অতিথি লেখক এর ছবি

দোয়া পাবেন আপনি। নিজ গরজে যখন যেভাবে সুবিধা খবর দিয়েন। জুনায়েদ আর ইমরুল কী? সাকিবের ভাবসাব তো ভালো ঠেকছে না। -রু

ধুসর গোধূলি এর ছবি

এতো কষ্ট করে মরবো আমি, আবার আমাকেই খবর দিতে হবে? এমন করেন ক্যা?

জুনা'রে গালি দিমু পরে। ইমরুলরে এখন কিছু কমু না। সাকিবরে কী কমু! ও তো একটা ধুগোনীর ভাই। রান আউট হওয়ার জন্য উইঠা পইড়া লাগছিলো।

ঐ যে ইমরুল গেলো! এর লাইগ্যাই কই। আমি ঘুমাই গিয়া। আমি খেলা দেখতে লাগলেই একটা না একটা ঝামেলা লাগে! মন খারাপ

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

ধুগোনীর ভাই

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

আপনি ঘুম দেন মিয়া!!

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

অতিথি লেখক এর ছবি

বাংলাদেশ এটা কী খেল দেখাল? শফিউল কী খেল দেখাল!!!

ধুসর গোধূলি এর ছবি

হ। ধুগোনীর ভাইদের এইরকম খেলার সুবাদে ধুগোনীর সাত খুন মাফ! তিনি পাবেন একটানা তিনদিন আমার সাথে বিনাশর্তে হাউকাউ করার সুবর্ণ সুযোগ, সম্পূর্ণ ফ্রি!! এ সুযোগ কেবলমাত্র সীমিত সময়ের জন্য... টিংটং...

ফাহিম হাসান এর ছবি

সাকিবরে কী কমু! ও তো একটা ধুগোনীর ভাই।

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

ফাহিম হাসান এর ছবি

হই হই

জিত্যা গেসি!!

-------------------------

আগেকার দিনে হেডস্যারদের মনে মায়া-দরদ বেশি ছিল। আব্বু, চাচাদের কাছেও এমন গল্প শুনি।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আল্লার মাল আষ্ট'ডা গেছে! আর লাগে দুই'ডা। আছেন কোন মুমিন ভাই?

ধুসর গোধূলি এর ছবি

বোলার'রা তাদের কাজ বেশ ভালো ভাবেই করে দিছে। এখন দেখা যাক ব্যাটসম্যান'রা পারে কিনা সাহেবদের পাৎলুন রেখে দিতে! বেশি তো না ২২৫ টা গিট্টু মোটে!

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

এইসব গোদ্রোগ আর ইশকুল নিয়া মন খারাপ কইরা কী কর্বেন ওস্তাদ...

আসেন খ্যালা দেখি, যদি লাইগ্যা যায়...

_________________________________________

সেরিওজার গল্প

ধুসর গোধূলি এর ছবি

মন খারাপ করি না। মন খোশই আছে। কিন্তু বাংলাদেশ হারলে কী হয় কওন যায় না! হাসি
আমার মনে হয় আমি ঘুমাইলেই ভালো। আমি হা কইরা খেলা দেখলেই ধুগোনীর ভাইয়েরা আউট হইয়া যায়!

দেবোত্তম দাশ এর ছবি

আপ্নে ঘুমাইতে যান, আজকে জিততেই লাগবে

------------------------------------------------------
হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন’রা কি কখনো ফিরে আসে !

ধুসর গোধূলি এর ছবি

হে হে হে
আমি ঘুমাইছি বইলাই আজকে জিতছে! মোগাম্বো খুশিতে আত্মহারা... দেঁতো হাসি

রোমেল চৌধুরী এর ছবি

বাহ, বেশ মজাদার!

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আমি এক গভীরভাবে অচল মানুষ
হয়তো এই নবীন শতাব্দীতে
নক্ষত্রের নিচে।

কৌস্তুভ এর ছবি

ধুগোনীর বোন থাকলে এদিকে খবর পাঠান... চোখ টিপি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

ধুগোনীরেই তো পেলাম না এখনও, তাঁর বোনের তালাশ পাই ক্যামনে? চিন্তিত

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

ভাই থাকলে এইদিকে! দেঁতো হাসি

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

হাহাহা দেঁতো হাসি

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

চোরের মন পুলিশ পুলিশ!
নাইলে কি আর দিলের ময়লাদূরীকরণের উপায় নিয়া পুরা দুই প্যারা লিখতে হয়!! চোখ টিপি

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

১. আহ্‌ কালা সাবান (গালা সাবান)! ইসদাইর নাকি চাঁনমারী কোথায় যেনো বানাতো পিঠউঁচু ভাঁপা পিঠার মতো দেখতে। দুটো দুটো করে সাবান বুকে বুকে লাগিয়ে টুকরীভর্তি করে খালাদের দল চাষাঢ়া থেকে ট্রেনে উঠতেন। সকাল ছয়টা পঞ্চাশের ট্রেনে খালাদের দল আর কলেজে যাবার জন্য আমাদের দল। কম্পার্টমেন্ট ভরে উঠতো কালা সাবানের গন্ধে। আমার মন্দ লাগতো না। আগের রাতে টিভিতে দেখা "স্পেনসার ফর হায়ার", "স্টিংরে" বা "ম্যাকগাইভার" নিয়ে অনিঃশেষ গল্পের ফাঁকে ফাঁকে খালাদের কেউ কেউ গেণ্ডারিয়ায় আর কেউ আমাদের সাথে কমলাপুরে নামতেন। কমলাপুরে নেমে আমাদের কেউ কেউ হাঁটাপথে কেউ ফাদার পিশাতোর পাঠশালায়, কেউ কেউ বিআরটিসি'র তিন নাম্বার বাসে আবুল হোসেন স্যার বা হাফিজ উদ্দিন স্যারের পাঠশালায়। রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার রোজ এক রুটিন। ট্রেনটা এখনো আছে, আছে কলেজে যাবার নতুন নতুন দল, খালাদের দল এখন অন্য কিছু হয়তো ফেরি করেন, অথবা অন্য কোনো কাজ করেন - শুধু কালা সাবান কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে।

২. মদনগঞ্জ নিয়ে আমার স্মৃতি অস্পষ্ট হয়ে গেছে। একটা হলুদরঙা স্কুল বিল্ডিং-এর কথা মনে আছে যার কম্পাউন্ডে চালতা গাছ আর কাউ গাছ ছিলো। সেটা কি মদনগঞ্জে দেখেছিলাম, নাকি বন্দরে, নাকি ত্রিবেনীতে-সোনাকান্দায় - কিছুই মনে নেই আর। সময় তো আর কম পার হয়নি, সিকি শতাব্দী!

৩. এখনকার কথা ঠিক বলতে পারবোনা, তবে এক সময় প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকদের অনেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। তাঁদের প্রহার-চিৎকার ছাপিয়ে এখনো তাই তাঁদের ভালোবাসার কথাই বেশি মনে পড়ে।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

হলুদ রঙা স্কুল বিল্ডিং মদনগঞ্জর ছিলো বটে। কিন্তু চালতা আর কাউ গাছ ছিলো মনেহয় বন্দরের বিএম স্কুলে। বিএম স্কুলের দালানের রঙ হলুদ ছিলো না?

মজার ব্যাপার দেখেন পাণ্ডব'দা, চাষাড়া থেকে একই ট্রেনে আমিও একই পাঠশালায় গিয়েছি, আপনারই মতো (শুরুর কয়েকটা মাস)। শুধু সময়টা ছিলো ভিন্ন।

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

চালতা আর কাউ গাছ হয়তো বি এম স্কুলে ছিল, আমি নিশ্চিত না। আর আমাদের দেশে যেমন হুটহাট করে গাছ কেটে ফেলে তাতে আমার দেখা গাছ পরের বছর আপনি গিয়ে না-ই দেখতে পারেন। ছায়াঘেরা উইলসন রোডটা নিশ্চয়ই আর আগের মতো নেই।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

অতিথি লেখক এর ছবি

একমাত্র লেখাকাঠিন্য রোগ থাকলেই মনে হয় এরকম লেখা লিখা যায়।

-অতীত

পান্থ রহমান রেজা এর ছবি

আমি তো চিরকাল বিষন্নতায় ভুগি। আপনার মতো লিখে যে বিষন্নতা তাড়াবো সেটাও পারি না! এখন আমার কি হবে?

মেহবুবা জুবায়ের এর ছবি

এবং যথারীতি আমাকে গাল টেনে পেছনের বেঞ্চ থেকে সামনে বসিয়ে তবেই ক্লাস শুরু করতেন! কেনো যে এহেন বিমাতাসুলভ আচরণ তিনি করতেন তা আমার বোধগম্য হতো না।

এইটা তুমি এতদিনেও বুঝতে পারলা না? হাঁদারাম আর কাকে বলে? নিয়ম হলো বাটুল আর গুডি গুডিরা সামনের বেঞ্চে বসবে। তুমি এখন এই ফরমুলায় নিজেরে ফালায়ে দেখো। কি উত্তর মিললো?

--------------------------------------------------------------------------------

যাযাবর ব্যাকপ্যাকার এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

___________________
ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখি না,
স্বপ্নরাই সব জাগিয়ে রাখে।

তানিম এহসান এর ছবি

হাততালি ..... অনেক পড়ে এসে পড়লাম তবে লিখাটা অসাধারন লাগলো। আমি নিজেও ব্যাকব্যানচার ছিলাম, আজো অবধি আছি। ব্যাকব্যানচারদের জয় হোক! শুভেচ্ছা, তানিম এহসান

কল্যাণ এর ছবি

চলুক

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA