চাই প্রাণপন বিপ্লবী

পুতুল এর ছবি
লিখেছেন পুতুল (তারিখ: শনি, ১৩/০২/২০১০ - ৮:৩৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

রাষ্ট্র একটা দেশের সব মানুষের। আমরা আমাদের রাষ্ট্রকে সব মানুষের রাষ্ট্রে পরিণত করার কথা কতটুকু ভাবছি? গর্ব করার মতো কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে আমাদের। সেখানে ভর্তি হওয়ার দৌড়ে যারা প্রথম হতে পারেনি তাদের কি তরিৎপ্রকৌশল বা নাট্যকলা পড়ার যোগ্যতা একেবারেই নেই? লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে হাজারখানেক সিট নিয়ে টানাটানি। অথচ আমরা শিক্ষার সুযোগ (অধিকার কথাটা বাদই দিলাম) বাড়ানোর আন্দোলনে নেমেছি?

এভাবেই মেনে নিচ্ছি একপেশে শিক্ষানীতি। অথবা যা আছে তা আমাদের খুব পছন্দ। কাজেই বিকল্প কিছু করার কথা মাথায় আসছে না। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়-এর মতো আর কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না। যদিবা একটা হয়, তার নাম দিই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে সংখ্যালঘুদের প্রবেশাধীকার নেই। কিন্তু সবগুলো চলছে আবার সরকারের টাকায়। একটা রাষ্ট্র শুধু একটা বিশেষ ধর্মের অনুসারীদের জন্য উপাসনালয়ের মতো শিক্ষাটাকেও ভাগ করে দেবে?

আরেকটু নীচে নামলে দেখবেন ক্যাডেট কলেজ (ধারণা করি সরকারী খরচে চলে), সেখানে ভর্তি হতে বিশেষ কোচিং বা যা কিছু লাগে তার খরচ যাদের হাতের ময়লা শুধু তারাই সেখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়।

যাদের সে সাধ্য নেই তারা যায় এতিম খানায়। হাফেজি, ফোরকানী মাদ্রাসা শেষ হলে আলীয়া মাদ্রাসা। শৈশবেই আমরা বা রাষ্ট্র নিস্ব শিশুদের তুলে দিচ্ছি ধর্ম ব্যাবসায়ীদের হাতে। তারা শিবিরের সাথী না হয়ে যাবেটা কোথায়?

একটা রাষ্ট্রকে সে রাষ্ট্রের সব জনগনের হতে হলে তার সব সিদ্ধান্ত/পদক্ষেপ এমন এক তরফা হলে চেলবে কেন? আমরা নীরবে তা মেনে নিচ্ছি। যেন এইটাই স্বাভাবিক!

অথচ দেখুন, আমাদের একটা সর্বসাধরণের শিক্ষানীতি থাকলে, এতিমখানা হেফজখানা এইগুলোর অস্বিত্বই থাকতো না। “মজিদ খানের শিক্ষানীতি মানি না, মানবো না”, বলে কতো গলা ফাটাইছি। কিন্তু সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার দাবীটা একবারও তুলি নাই। আমার তা মনেই আসেনি। কারণ আমার দরকার ছিলনা।

দুর্ঘটনায় হাত বা পা ভেঙ্গে গেলে, আরোগ্যের অতীত অঙ্গ কেটে বাদ দেয়া হয় শরীর থেকে। মানুষটা বাঁচে। কিন্তু বিকলাঙ্গ হয়ে। এমন বিকলাঙ্গ হচ্ছে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপি বিপ্লব দিবস পালন করে জাসদ এবং কর্নেল তাহেরকে বাদ দিয়ে। তাদের যাত্রাই বিকলাঙ্গ। ভদ্র ভাষায় বিভ্রান্তি দিয়ে। একটা দেশের পূর্ণাঙ্গ শাসন ব্যবস্থা তারা কি ভাবে দেবে?

আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বুদ্ধিজীবি হত্যা সহ, অগনিত নিরীহ মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা খুন এবং লক্ষ্য লক্ষ্য মা-বোনের ইজ্জত লুটিয়ে মৌলবাদের ভাগাড়ে অঙ্কুরিত জামাতীরা বিএনপির ভগ্নাংশটা জোড়া লাগাইছে।

মন্দের ভালো হাসিনায় আমাদের সামনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মুলাটা ঝুলায়া রাখছে। কিন্তু নিজের মনে কোন ইচ্ছা নাই। মূল সহ এই সব আগাছা তুইল্যা বঙ্গোপসাগরে ফেলতে হবে। একটা ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র কখনো আকাশ থেকে পড়ে নাই। তার জন্য চাই প্রাণপন বিপ্লবী। চাই অসীম সাহসী যোদ্ধা। প্রয়োজনে যারা একটা গনবিপ্লব, গৃহযুদ্ধের ভয়ে পালাবে না।


মন্তব্য

তাসনীম এর ছবি

যাদের সে সাধ্য নেই তারা যায় এতিম খানায়। হাফেজি, ফোরকানী মাদ্রাসা শেষ হলে আলীয়া মাদ্রাসা। শৈশবেই আমরা বা রাষ্ট্র নিস্ব শিশুদের তুলে দিচ্ছি ধর্ম ব্যাবসায়ীদের হাতে। তারা শিবিরের সাথী না হয়ে যাবেটা কোথায়?

একদম সত্যি ...কোন অফিস কি মাদ্রাসা গ্রাজুয়েট হায়ার করে? তবে এত এত তালিবুল এলেম কি করে? সাপ্লাই থাকলে তো ডিমান্ড তৈরি হবেই।

জাফর ইকবাল স্যার শিক্ষানীতি কমিটিতে ছিলেন...আমি উনার একটা লেখা পড়েছিলাম যেটাতে অনেক গুলো পয়েন্ট এড্রেস করা ছিল। লেখাটা পেলাম না খুঁজে, পেলে লিঙ্ক দিয়ে দিব।

ধন্যবাদ।
+++++++++++++++++++++++++++++++++++++
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না?

________________________________________
অন্ধকার শেষ হ'লে যেই স্তর জেগে ওঠে আলোর আবেগে...

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

বস্‌, কে কোন আমলে শিক্ষানীতি নিয়ে কী বলেছিল বা ছাত্রসমাজের দশ দফা কী ছিল এগুলো নিয়ে গবেষণা করার বা মাথা ঘামাবার কোন সময় কারো নেই। তাই পাবলিক পরীক্ষার প্রতিটি ধাপে আর ভর্তি পরীক্ষার ফাঁকে সার্বজনীন শিক্ষার সঙ্কোচনের ফাঁদ পাতাই থাকে। শিক্ষার চূড়ান্ত বেসরকারীকরণ চলছে, বানিজ্যিকিকরণ চলছে।

একটু ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন ম্যাকাওলের "কালো চামড়ার সাদা মানুষ" বা হামুদুর রহমানের "এলিট ক্লাস" তৈরির প্রকল্পগুলোই বাস্তবায়িত হচ্ছে। "সুপারম্যান" ছাড়া সমাজ চলবেনা, দেশের উন্নতি হবেনা এমন কথা নানা আকারে নানা জন প্রায়ই বলে থাকেন। সেই কিছু সুপারম্যান বানানোর জন্য বাকিদের "সাব-হিউম্যান" বানানো তাই অব্যাহত আছে।

বিপ্লবীরাতো বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তৈরি হন। আর বিপ্লবতো একটা ক্রমাগত, দীর্ঘ ও সম্মিলিত প্রয়াস। "সাব-হিউম্যান"রা একটু আশাবাদী হলেই এই প্রয়াসটা চলার পথ খুঁজে পেত। আশা রাখুন বস্‌, বিপ্লব অনিবার্য।



তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

হিমু এর ছবি

আখিরাতে সোয়াব কামানোর জন্যে অনেকেই দেশে নিজের নামে বা বাবামায়ের নামে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন, এবং বছর বছর কিছু আর্থিক সাহায্য দিয়ে মাদ্রাসা টিকিয়ে রাখেন। এই মাদ্রাসার দরিদ্র ছাত্র ও দরিদ্র শিক্ষকদের মগজধোলাই করে জামাতশিবির। প্রবাসী এইসব প্রক্সি সোয়াবকামী মানুষগুলি কেন একটি বাংলামাধ্যম স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন না?



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।