অশনি সংকেত

পুতুল এর ছবি
লিখেছেন পুতুল (তারিখ: সোম, ০৯/০১/২০১২ - ২:২৮পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

এই হাউয়ার পোলা, নাঈম ভাই তো বাসায়ই আছে। না দেইখ্যা খালি চাপা মারস? কইসি নাঈম ভাইয়েরে, চাপা মারা পোন্দে দিব আইসকা।
অনেক্ষণ আগে জানালায় মুখ এনে মাহবুব জিজ্ঞেস করেছিল আসলামকে
:নাঈম ভাই বাসায় আছে?
আসলাম ওহাব সাহেবের বসার ঘর ঝাট দিচ্ছিল। বিকেলে নাঈম ভাইকে বের হতে দেখেছে সে। কিন্তু ফিরতে দেখেনি। তাই ঝাটা দিতে দিতেই বলেছিল
নাঈম ভাই বাসাত নাই।
নাঈম ভাইয়ের ঘর বৈঠক খানার পাশেই। বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তার মাথায়। নাঈম ভাই বাসায় ফেরে অনেক রাতে। পড়ার টেবিলে ভাত রেখে মেঝে মাদুর পেতে এক ঘুম তখন শেষ হয় আসলামের। তাই গোধূলীর একটু পরে কিছুটা আন্দাজেই বলে দিয়েছে আসলাম
: নাঈম ভাই বাসাত নাই।
দিনকাল ভাল যাচ্ছে না আজকাল। তাই নাঈম ভাই বেলা ডোভার পরেই বাড়ি চলে এসেছেন। হারিক্যান জ্বালিয়ে ধোয়া চাদর বিচাচ্ছিল আসলাম নিশ্চিন্তে। আব্বাজান বাড়িতে নেই। ঢাকায় গিয়েছে আম্মাকে সাথে নিয়ে। বড় খোকার বাসায় বেড়াতে। ফিরে এসে যেন সবকিছু পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পান, সেই চেষ্টার অংশ হিসাবে সব কিছু ধুয়ে মুছে রাখছেন টুনু কাকার বউ আসলামকে দিয়ে। টুনু কাকা বেকার। বড় ভাই খোকা খাদ্যমন্ত্রনালয়ে বড় চাকুরী করেন। তাছাড়া এখনো একান্নবর্তী পরিবার তাদের। সে জন্য বেকার থেকেও চলতে পারেন টুনু কাকা। কিন্তু তাঁর বউ কেবল চাকর বাকরের সর্দারনী মাত্র। খোকার বউ বাড়িতে এলেও শ্বাশুরীর মতো সেবা শুশ্রুষা করতে হয় তাকে।
বারান্দায় মাদুর পেতে ঘুমায় বকুলের মা। মেয়েটার নাম বকুল হলে কী হবে, দুর্গন্ধে কাছে যাওয়া যায় না। মেয়েটা হেগেমুতে তার উপড় বসেই খেলা করে। বকুলের মা বাড়ি ঘড় ঝাট দেয়। কাপড় কাচে আর রান্নার জন্য শাকসব্জী কুটে দেয়।

ঘর-দোর সাজানো, বিছানা পত্র ঝাড়-মোছার কাজটা করে আসলাম। ছেলেটার গায়ের রংটা ফর্সাই ছিল। ভাল খেয়ে দেয়ে স্বস্থটা বাড়ার সাথে সাথে রংটাও ফুটেছে। অপরিচিত লোকেরা আসলামকে পরিবারের লোক বলেই মনে করে। নাঈম ভাইয়ের পুরানো প্যন্ট জামা পরতে দিয়েছে। সাইজে বড় সে সব কাপড় আসলামের গায়ে ঢিলেঢালা হলেও খুব একটা বেখাপ্পা লাগে না । বাড়িতে লোক এলেও চা-বিস্কুট নিয়ে যায় আসলামই। দোকান থেকে কিছু আনতে হলেও ছুটতে হয় তাকে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অন্য অনেকের অনেক সুযোগ সুবিধা বাড়লেও আসলামদের বাড়েছে শুধু ভোগান্তি। চালের দাম বেড়েছে একশ গুন। সাতটি সন্তান নিয়ে মজু মিয়ার সংসার চালাতে বছরের ছয় মাস চলতো যে ক্ষেতের ধানে, তার পুরোটাই বন্ধক রাখতে হয়েছে কামাল বেপারীর কাছে। কিন্তু তাতেও সংকট কাটেনি। অনাহারে অর্ধাহারে ছোট মেয়েটা মরার পর ঘরের চালার টিন খুলে বেঁচেছে বাজারে। লংঙ্কর খানার জনপ্রতি দৈনিক দুই রুটিও সব সময় আনতে পারছিলনা সে। মাথা বিগড়ে বউকে মারধোর করতো কারণে অকারণে। শেষে ছেলে মেয়েরাও ভাগ পেতে লাগল সে মারের।

এমন মার খেয়েই ঘর ছেড়ে সরকার বাড়ির বাগানে কাটিয়েছে দিনটা আসলাম। সন্ধ্যায় বাগানের একটা আমগাছে উঠে রাতটা কাটানোর সিধান্ত নেয় সে। গাছে উঠতে গিয়ে দেখে একটা সাপ পেচিয়ে রেখেছে গাছের গুড়ি। মাইগো মা বলে চীৎকার দিয়ে উল্টো দৌড় দিয়ে ধাক্কা খায় সে মতিন সাহেবের গায়ে। সরকার বাড়ির বড় ছেলে মতিন তখন বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে বাড়ি ফিরছিল। আসলামদের অনাহার অর্ধাহারের কথা তার অজানা ছিলনা। প্রতি সন্ধ্যায় আসলামের মা মতিনদের রান্ন ঘরের পাশে বসে থাকতো মাটির পাতিল নিয়ে। মাঝে মাঝে হাড়ি-পাতিল ধুয়ে-টুয়ে দিত। গরুকে না খাইয়ে মতিনদের ভাতের ফেনটা আসলামের মায়ের পাতিলে তুলে দেয়ার জন্য এই টুক কাজ করিয়ে নিতেন মতিনের মা।

স্রোতে ভেসে যাওয়া মানুষ হাতের নাগালে খড়কুটো পেলে যেমন ভরসা পায় তেমন ভরসা হলো আসলামের মতিন সাহেবের গায়ে ধাক্কা লেগে। পেট ভরে ভাত খেল আসলাম অনেকদিন বাদে। সরকারদের বাহির বাড়ির কাচারী তে একটা চাটাই পেতে শুতে দিয়েছেন মতিন সরকার আসলামকে। হাই স্কুলে পড়লেই গায়ের লোক ছাত্রদেরকে মাষ্টর বলে। মতিন সরকার পড়ে কলেজে। সে কারণেই লোকে তাকে বলে মতিন সাব। সে রাতে খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিল আসলাম। দুই উরুর ফাকে সাপের মতো কী যেন একটা ঘসা-ঘসি করছে। গরম একটা তরলে ভিজে গেল দুই উড়ু। সাপটা নয় তো! হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল আসলামের। মাই গো মা বলে চীৎকারটা মুখ থেকে বের হয়েই যেতো আসলামের হা করা মুখ থেকে। সময় মতো হাত চাপা দিয়ে সেটা থামিয়েছেন মতিন সাব। তারপর থেকে ব্যাপারটা নিয়মিত ঘটতে লাগল। কিছু কাজকর্মের হুকুমও পেতে লাগল আসলাম।

ব্যাবসার পাশাপাশি মতিন সাহেবদের চাষাবাদের কাজও বিস্তর। আড়াইমনি চালের বস্তা নৌকা থেকে গুদামে উঠা-নামানোর কাজ আসলামের পক্ষে অসমভব। সরকারদের দুই জোড়া হাল। বিশাল বিশাল হালের বলদের নাকে দড়ি বাঁধা থাকলেও আসলামের মতো বালকের পক্ষে তাদের হাল ধরা সম্ভব না। কামলাদের তামাক সেজে দেয়ার জন্য একটা লোক রাখা এই বাজারে বাহল্য; হোক তা পেটে ভাতে।

ভাত-কাপড়-জমি-কাজের দাবীতে ক্লাশ বর্জন করলো মাহবুবরা। নাঈম আড্ডার এক ফাঁকে মতিনকে বলল-
: একটা কাজের ছেলে জোগার করে দিতে পারবি? বয়স বেশী না হলেই ভাল। অন্দর বাড়িতে যাতায়ত করবে, একটু বালক টাইপের হলেই ভাল।

পেটে-ভাতে নাঈমদের বাড়িতে কাজ হয়ে গেল আসলামের। কাজের ছেলেটার অনেক কাজের মাঝে প্রতি রাতে উড়ু চেপে রাখার ফরমায়েশও যোগ হল। এটাই হয়তো স্বাভাবিক, ভেবে আসলাম কাজ করছে। মাস তিনিকের মধ্যে নিয়মিত ভরপেট খেতে পেয়ে স্বাস্থ্যটাও ভাল হয়ে গেল।

বাড়ি একদম ফাকা। সবাই আব্বা-আম্মা ডাকে বলে আসলামও আব্বা-আম্মা ডাকে নাঈম ভাইয়ের বাবামাকে। আব্বা আম্মাদের ঘরটা এখন ফাকা। টুনু কাকার ঘর বাড়ির পেছনের দিকে। আজকে নাঈম ভাইয়ের সাথে আব্বা-আম্মার ঘরেই শোয়ার কথা আসলামের। অনেক বার অনেক না করা এবং ভুল করা কাজের জন্য নাঈম ভাই ভয় দেখাত আসলামকে
: পোন্দে দিয়া দিমু কইলাম।
ব্যাপারটা কী রকম ভয়ঙ্কর তা জানে না আসলাম। কিন্তু ভয় যখন দেখাচ্ছে নিশ্চই খুব ভয়ঙ্কর হবে। দুশ্চিন্তায় পেট ভরে খেতে পারলনা আসলাম। ঘুমও এলো না। শুয়েছে ভয়ঙ্কর নাঈম ভাইয়ের সাথেই। একেবারে বাঘের মুখে পড়লে যা হয়। অসম্ভব রকম নীরব রইলেন নাঈম ভাই। সেই নীরবতা আরো ভয়ঙ্কর করে তুলেছে পরিবেশটা।
কী ধরণের এবং কখন আক্রমন শুরু হবে সেটা আন্দাজ করতে চাইছে আসলাম। কিন্তু ভয় আর ছটফটানী বাড়া ছাড়া তেমন কিছু হল না।

বাসায় ঢুকে গেট লাগিয়েছেন টুনু কাকা অনেক্ষণ হল। হয়তো এবার ঘুমিয়ে পড়েছেন। পাশের ঘর থেকে কোন কথাবর্তা শোনা যাচ্ছে না। পায়ের কাছে ভাজ করা লেপটা লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে দিলেন নাঈম ভাই। মাদুরের উপড় শোয়া আসলামের শরীর কেঁপে উঠল ভয়ে! এবার তোসকটা ছুড়ে মারলেন আসলামের শরীরে। ফালিফালি কাঠের উপড়টা সাদাকালো মোজাইকে ঢাকা। এই কাপড়ের মোজাইকটা জাজিমের কাজ করছে নাঈম ভাইয়ের বাবার খাটে। মোজাইকের কালো আংশটা সাদার প্রায় দ্বিগুন। মোজাইকের কালো অংশেও সাদা চান্দতারার কারুকাজ। সিথানের দিক থেকে পৈথানের দিকে ক্রমশ সুরু হতে হতে মিলিয়ে গেছে মোজাইকের কারুকাজ বেধ করে একটি কালো ছায়া। সেটা হাতে নিলেন নাঈম ভাই। ক্লিক করে ভাঙ্গা বাঁশের মতো দুদিকে বেঁকে গেল ছায়াটা।
ভয়ে চোখ মেলে তাকাতে পারছে না আসলাম। তোসকের নীচে হাত-পা গুটিয়ে নিজেকে আরো ছোট করে একটা কাপড়ের পুটলির মতো হয়ে গেল সে।
আমাবশ্যা ঠিক নয় তবে ক্ষয়চান্দ। জোছনার সামান্য আলো আসছে গাছ-পালা আর জানালার রড ঠেলে। সব কিছু স্পষ্ট দেখা যায় না। কালো মাটির স্তুপের মতো মনে হয় তোসকের নীচে আসলামের গুটিসুটি শরীর। পা দিয়ে এক ঝটকায় তোসকটা সরালেন নাঈম ভাই। ক্লিক করে সোজা হলো নাঈম ভাইয়ের হাতে ধরা ছায়াটি। তার একপ্রান্ত বুকে ঠেকিয়ে আসলামকে উঠে দাড়াতে ইঙ্গিত করলেন তিনি।

ভয়ের কারণে ঠিক সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারলো না আসলাম। সামনের দিকে একটু বেঁকে বুড়ো মানুষের মতো কুজো হয়ে রইল সে। আসলামের থুতনীর নীচ দিয়ে বুকে ঠেকালেন ছায়ার চোখা আংশটা নাঈম ভাই। লুঙ্গিটা খুলে মাটিতে পড়ে গেল কাকতালী ভাবে। হাতের ছায়াটাকে ঠেকা দিতেই বোধ হয় নাঈম ভাইয়ের কোমড় থেকে বের হলো আধ হাত লম্বা লাঠিটি। আসলামের বুকে ঠেকানো ছায়াটা জোরো গুতো দিল। টাল সামলাতে পাশের জানালার রড ধরল সে দুহাতে। কিন্তু সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারল না। এমন পরিস্থিতিতে বোধ হয় কখনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না আসলামরা। হাতের ছায়াটা খাটে শুইয়ে রেখে এবার পেছন থেকে আসলামের কোমড়টা দুহাতে জড়িয়ে ধরলেন নাঈম ভাই। অতি রাগে ফেটে পড়ার আগে কাঁপছে এখন নাঈম ভাইয়ের কোমড়ের আধহাত লম্বা লাঠিটি। শুলে চড়ার আগে জানালার রড শক্ত করে ধরে শেষ বারের মতো দেখে নিচ্ছে আসলাম কাল জমি, গাছ-গাছড়া, আকাশের কিনাড়ায় ডুবু ডুবু ক্ষয়ীষ্ণু তেতুলের মতো বাঁকা রূপালি চান্দ।


মন্তব্য

অকুতোভয় বিপ্লবী এর ছবি

মন খারাপ
গল্পের ঘটনা অনেকাংশেই সত্যাশ্রয়ী ধরে নেয়া যায়।
আলুর্পেপারে আজ বলছে নারী নাকি নারীর কাছেই বেশি আকৃষ্ট হয়।
আর এটা হল এক বিচিত্র বিকার ...

------------------------------------
সময় এসেছে চল ধরি মোরা হাল,
শক্ত কৃপাণে তুলি বরাহের ছাল।

বৃষ্টির রঙ এর ছবি

এমন বিকার আমাদের মতন রক্ষণশীল দেশে যেমন আছে...ফ্রি কান্ট্রি গুলা তে ও আছে। আমি আগে বিশ্বাস করতাম না এখানে এমন হয়...

সুন্দর লেখার জন্য আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

আশালতা এর ছবি

পড়লাম, লেখা ভালো হয়েছে, কিন্তু লেখার বিষয় নিয়ে কি বলব বুঝে পাচ্ছিনা। ভেতরটায় থম ধরে গেল।

----------------
স্বপ্ন হোক শক্তি

সাফি এর ছবি

মন খারাপ

ষষ্ঠ পাণ্ডব এর ছবি

নারী শিশুর উপর যৌন নির্যাতনের কথা কিছুটা আলোচিত হলেও পুরুষ শিশুর উপর যৌন নির্যাতনের কথা একেবারি আলোচিত হয় না। বাস্তবটা হচ্ছে এই যে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেক শিশুই বিকৃত রুচির আত্মীয়-স্বজন-প্রতিবেশি-শিক্ষকদের দিয়ে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হচ্ছে। শিশুরা ভয়ে কিছু বলতে পারে না। যারা বলে তাদের প্রতি অভিভাবকদের আচরণ অত্যন্ত রূঢ় হয়। এই বিষয়ে আমাদের নীরবতা ভাঙা উচিত, এই অপরাধের শাস্তি হওয়া উচিত।

গৃহকর্মীদের যৌন নির্যাতন করার ঘটনাগুলোকে আমরা এমন স্বাভাবিকভাবে মেনে নেই যে ভাবলে অবাক লাগে। এর জন্য আজ পর্যন্ত কাউকে শাস্তি পেতে শুনিওনি।


তোমার সঞ্চয়
দিনান্তে নিশান্তে শুধু পথপ্রান্তে ফেলে যেতে হয়।

দময়ন্তী এর ছবি

'বিটার চকোলেট' মনে পড়ে গেল মন খারাপ

এগুলো নিয়ে আরো অনেক বেশী লেখালেখি হওয়া উচিৎ|

-----------------------------------------------------
"চিলেকোঠার দরজা ভাঙা, পাল্লা উধাও
রোদ ঢুকেছে চোরের মত, গঞ্জনা দাও'

তানিম এহসান এর ছবি

আপনাকে সাধুবাদ এই বিষয় নিয়ে লেখার জন্য।

একবার এক গবেষণায় ৮ বছর বয়সী এক ছেলেশিশুকে পেয়েছিলাম সিফিলিস রুগী হিসেবে, ভাবা যায়! সে কিছুই বলতে পারেনা, শুধু শূন্য দৃষ্টি মেলে চেয়ে থাকে, পরে জানা গেলো সে যেখানে থাকে সেখানে এটা বহুল চর্চিত। মাদ্রাসাগুলোতে কারো কোনরকম নজরদারি নেই। অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে কিন্ত বাংলাদেশে ছেলেশিশুদের যৌনকার্যে ব্যবহার করার হার কিন্ত ক্রমান্বয়ে হুড়মুড় করে বাড়ছে।

লেখা চলুক।

তাপস শর্মা এর ছবি

চলুক । এই লেখার উত্তর কিংবা প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে...... মন খারাপ

মাসুম এর ছবি

চলুক ......... মন খারাপ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।