নিওলিবারেলিজমের অন্তিম পরিহাস : ঘুঘু ওবামা বনাম ঈগল ম্যাককেইন

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি
লিখেছেন ফারুক ওয়াসিফ (তারিখ: বুধ, ০৪/০৬/২০০৮ - ১১:৫৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বারাক ওবামা মুসলমান কি-না, আর নসত্রাদামুস তাকে নিয়ে কী বলেছিল যে, তার মাধ্যমে একজন কালো এবং মুসলিম আমেরিকার প্রেসিডন্টে হবে কি না তা নিয়ে আমি কিছু জানি না। তবে পুলিতজার বিজয়ী সাংবাদিক ও তথ্যচিত্রনির্মাতা জন পিলজার জানেন। এটি তাঁরই লেখা। এবং ব্রিটেনের নিউ স্টেটসম্যান থেকে অনূদিত। এটি তার সামান্য সংক্ষেপিত অনুবাদ।
..........................................
এই দিনে ১৯৬৮ সালের স্মৃতি আবার মনে জাগছে। রবার্ট কেনেডির উত্থান ও পতনের বার্ষিকী ছেয়ে ফেলছে আজকের দিনটিকে। ১৯৬৮ সালের ৫ জুন যদি আততায়ীর হাতে নিহত না হলে তিনিই হতেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।
নিহত হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি তাঁর সফরসঙ্গী ছিলাম। তাঁর সেই বক্তৃতাটাও আমি বহুবার শুনেছি। তিনি ‘সরকারকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে’ আনবেন এবং ‘সম্মান ও ন্যায়বিচার’ প্রতিষ্ঠা করবেন বলে ঘোষণা করতেন। বার্নার্ড শ একসময় যেমন বলেছিলেন, তেমন করে তিনিও হয়তো বলতে চাইতেন, ‘সবাই ঘটনার দিকে তাকায় এবং যা দেখায় তা-ই দেখে আর ভাবে ঘটনাটি এ রকম কেন? আর আমি স্বপ্ন দেখি যে, ওগুলো কখনো ছিলই না এবং জিজ্ঞাসা করি: কেন নয়?’ তাঁর এই কথাগুলোই গৃহীত হলো এক ঝাঁক বুলেটের অভ্যর্থনায়।
কেনেডির নির্বাচনী প্রচারাভিযানের আদলেই চলছেন বারাক ওবামা। ওবামার মতো তিনিও অখ্যাত সিনেটরই ছিলেন। ওবামার মতো তিনিও সংখ্যালঘু ও তরুণদের মনে আশা জাগ্রত করেছিলেন। ওবামার মতো তিনিও প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন অজনপ্রিয় যুদ্ধ বন্ধের। তাঁরও যুক্তি ছিল যে, অন্য জনগণের ভূমি ও সম্পদ দখলের বিরোধিতার জন্য নয়, এ যুদ্ধে জয়ী হওয়া যাবে না বলেই তিনি যুদ্ধবিরোধী।
আগামী নভেম্বরে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে তিনি যদি জন ম্যাককেইনকে পরাজিত করেন, সেটা হবে লিবারেলিজমের শেষ পরিহাস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে যুদ্ধ বাধানো ও বিভক্তির মতাদর্শ হিসেবে লিবারেলিজমকে ব্যবহার করা হয় লিবারেলিজমের বাস্তবতাকেই ধ্বংসের জন্য। অনেক মানুষই আজ এটা বুঝতে পেরেছে। ব্রিটেনের বেলায় ব্লেয়ারের প্রতি ঘৃণা এবং নিউ লেবার পার্টির ঘোষণায় সেটা স্পষ্ট। অনেকেই এর প্রতি বিরক্ত এবং তারা চায় নতুন ‘নেতৃত্ব’ ও বুনিয়াদি সামাজিক গণতন্ত্র। আমেরিকায়, যেখানে মার্কিন গণতন্ত্রের অনন্যতা নিয়ে নিরন্তর প্রচারণা চলে; চরম বিত্ত-বৈভব ও গোষ্ঠীতন্ত্রের ভিত্তিতে গড়া করপোরেট-ব্যবস্থাকে সেখানে ঢেকে রাখা হয় ওই গণতন্ত্রেরই নামে। আর এ কাজে ডেমোক্রেটিক পার্টির লিবারেলিজম হলো এক আবশ্যকীয় উপাদান। ১৯৬৮ সালে রবার্ট কেনেডি সেই পার্টিকেই উদ্ধার করতে মাঠে নেমেছিলেন। কেননা তখন বড় বড় নগরীর রাজপথ নিয়ন্ত্রণকারী নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং যুদ্ধবিরোধী সংগঠনগুলোর জোট সত্যিকার একটা পরিবর্তন আনবে বলে মনে হচ্ছিল। কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং-ও এদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিরাট হুমকি হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু এপ্রিল মাসেই তিনিও আততায়ীর হাতে নিহত হলেন।
কেনেডি ভিয়েতনাম যুদ্ধ সমর্থন করতেন এবং গোপনে সেই সমর্থন চালিয়েও গেছেন। কিন্তু লাগামছাড়া ইউজিন ম্যাকার্থির সঙ্গে প্রতিযোগিতার সময় অতি দতার সঙ্গে এটা গোপন রাখা হয়। কেনেডিও পরিবর্তনের রাজনীতির জন্য, ধনীদের বদলে তাদের নিজস্ব নেতা নির্বাচনের জন্য বুভুক্ষু মানুষকে বিভ্রান্ত করায় পারদর্শী ছিলেন। আমি তাঁকে বলেছিলাম, ‘এই মানুষগুলো আপনাকে ভালোবাসে।’ ওই মানুষগুলো ছিল গরিব ও অভিবাসী। ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, অবশ্যই তারা আমাকে ভালোবাসে। আমিও তাদের ভালোবাসি,’ তিনি বললেন। তখন তাঁর কাছে জানতে চাইলাম কীভাবে তিনি এদের উপকার করবেন?
‘কীভাবে?...আমেরিকাকে নতুন পথে চালিত করে।’ এই হলো তাঁর রাজনৈতিক দর্শন। ওবামা হলেন তারই প্রতিধ্বনি। কেনেডির মতোই ওবামাও হয়তো চান আমেরিকাকে নতুন পথে হাঁটাতে। এটা হলো মিডিয়ার মধুমাখা ভাষা। কিন্তু বাস্তবে, আগের সব প্রেসিডেন্টের মতো তিনিও টাকায় কেনা যায় আমেরিকার এমন অধঃপতিত গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রেখে যাবেন।
হোয়াইট হাউসের মসনদের লড়াই যতই তীব্র হয়ে উঠছে, ততই ওবামা ও ম্যাককেইন পরস্পরের কাছে চলে আসছেন। দুজনই সবকিছুর ওপর আমেরিকার স্বার্থ রায় যেকোনো কিছু করার স্বর্গীয় অধিকারের কথা ঘোষণা করেছেন।
ওবামা বলেছেন, ‘আমরা সাক্ষাত শয়তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দুনিয়াকে নেতৃত্ব দিচ্ছি এবং বয়ে আনছি পরম শুভকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুনিয়ার সব মানুষের নিরাপত্তার জন্য আমরা একবিংশ শতকের উপযোগী সেনাবাহিনী তৈরি করছি।’ ম্যাককেইনও এর সঙ্গে একমত। ওবামা বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের’ পিছু ধাওয়া করে তিনি পাকিস্তানেও আক্রমণ চালাতে চান। ম্যাককেইন এতেও রাজি। এ কারণেই আমেরিকান মিডিয়া ওবামা ও ম্যাককেইন দুজনকেই ভালোবাসে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই প্রার্থীই রীতিমতো প্রথামাফিক তেল-আবিবের সিংহাসনকে কুর্ণিশ করেন। আমেরিকার সব প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকেই প্রশ্নহীনভাবে এটা করতে হয়। জানুয়ারিতে ওবামা বলেছিলেন, ‘ফিলিস্তিনের জনগণের মতো দুঃখভোগ আর কেউ করেনি।’ আর এখন ইসরায়েলি লবির চাপে হিলারি ও ম্যাককেইনের থেকেও এক কাঠি সরেস হয়ে তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনি নেতারা যে ইসরায়েলকে স্বীকার করে না, এর জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের মতো দুঃখভোগ আর কেউ করেনি।’ এই হলো আধুনিক কালের সবচেয়ে দীর্ঘ, অবৈধ সামরিক দখলদারির শিকার হওয়া জনগণের প্রতি ওবামার মনোভাব। অন্য সব প্রার্থীর মতো তিনিও ইরান নিয়ে ইসরায়েলি/বুশীয় কল্পকথা প্রচার করছেন এবং বলছেন, ‘ইরান আমাদের সবার জন্য হুমকি।’ ইরাক প্রসঙ্গেও শান্তির-ঘুঘু ওবামা এবং যুদ্ধ-ঈগল ম্যাককেইন দেখি ঐব্যবদ্ধ। ম্যাককেইন এখন বলছেন, তিনি চান ইরাকে মার্কিন সেনা আর পাঁচ বছর থাকুক (এর আগে চেয়েছিলেন ‘১০০ বছর’)। আর ওবামাও এক বছরের মধ্যে সেনা ফেরত আনার দাবি থেকে সরে এসে বলছেন, ‘তিনি রণাঙ্গনের কমান্ডাররা যা বলে সেটাই শুনবেন।’ অর্থাৎ বুশ যা বলেন।
আর এসব ভক্তি-ভালোবাসার ল্য হলো আমেরিকার করপোরেট অভিজাততন্ত্র। ওবামার প্রচারাভিযানের বিপুল ব্যয় জোগাচ্ছে ওয়াল স্ট্রিট কোম্পানি: গোল্ডম্যান সাকস, ইউবিএস এজি, লেহম্যান ব্রাদারস, জেপিমরগ্যান চেজ, সিটি গ্রুপ, মর্গ্যান স্ট্যানলি ও ক্রেডিট সুইস এবং যথারীতি প্রকাণ্ড হেজ ফান্ড সিটাডেল ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ। এরাই আমেরিকার দরিদ্র কালো মানুষের সব থেকে বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয় সাব-প্রাইম ক্রাইসিসের জন্য দায়ী এবং ওবামা অস্বীকার করলেও এরাই তাঁর পৃষ্ঠপোষক।
কিন্তু বড় ব্যবসার প্রতি ওবামার আকর্ষণের হেতু কী? সংক্ষেপে রবার্ট কেনেডির যা ছিল, তাঁরও তা-ই। ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ‘নতুন’ ও তুলনামূলক প্রগতিশীল মুখচ্ছবি উপহার দিয়ে সত্যিকার বিরোধিতাকে ভিন্ন খাতে বইয়ে দেওয়া। কেনেডির থেকে তাঁর একটা সুবিধা বেশি। তিনি মুষ্টিমেয় কালো অভিজাত কাবের সদস্য। এ কারণে তাঁকে আরও বেশি বিশ্বস্ত মনে হবে। বুশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েলের ভূমিকাও ছিল এটাই। এখন ওবামার বিজয় মানে, আমেরিকার যুদ্ধবিরোধী এবং নাগরিক অধিকারকামী আন্দোলন ডেমোক্রেটিক পার্টির সরকারকে মেনে নিতে বাধ্য হবে। আর তা ঘটলে হিংস্র আমেরিকার বিরুদ্ধে সব অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ নিস্তব্ধ হয়ে যাবে।
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। ডিসেম্বরে, বুশ গোপনে ইরানের ভেতরে সক্রিয় দুটি গেরিলা বাহিনীকে অনুমোদন দিয়েছে। এর একটি হলো মুজাহেদিন-ই খালক। এর আগে এটি আমেরিকার কাছে সন্ত্রাসী সংগঠন ছিল। যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে সোমালিয়া, লেবানন, সিরিয়া, আফগানিস্তান, ভারত, পাকিস্তান, বলিভিয়া ও ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতায় জড়িত হয়েছে। আফ্রিকায় আফ্রিকম (অজঋজওঈঙগ) নামের নতুন একটি সামরিক কমান্ড স্থাপন করা হয়েছে। এর কাজ হবে আফ্রিকার তেল, খনিজ ও অন্যান্য সম্পদ করায়ত্ত করায় ছায়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি রাশিয়ার সীমান্তে প্ররোচনামূলকভাবে মিসাইল বসানো হচ্ছে। øস্নায়ুযুদ্ধ ফিরে এসেছে। এসব দস্যুতার কোনোটাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শোরগোলের মধ্যে ফিসফাস হিসেবেও ঠাঁই পায়নি, প্রতিবাদ তো দূরের কথা।
আটলান্টিকের এপার থেকে আমরা দেখছি, ব্রিটেনেও চলেছে ব্রিটিশ লিবারেলিজমের অন্তিম পরিহাস। নতুন লেবার পার্টি যে সাজ নিচ্ছে, তা আপাদমস্তকে মার্কিন দেশ থেকে আমদানি করা। বিল কিনটন আর টনি ব্লেয়ার পরস্পরের মানিকজোড়। এখানে এক সাবেক করপোরেট পাবলিক রিলেশন অফিসার হয়েছেন আমাদের নেতা। অথচ আমাদের আশা ছিল আরও কিছু বেশি।
ব্রিটেনের নিউ স্টেটসম্যান থেকে অনূদিত।


মন্তব্য

সৌরভ এর ছবি

এক্ষুণি পড়লাম প্রআলো থেকে।
কথা সত্য অনেকাংশে।


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

হ্যাঁ ওটা আমি করেছিলাম। ধন্যবাদ।
এইটা জন পিলজারের ইংরেজি লেখাটার লিংক http://www.newstatesman.com/north-america/2008/05/obama-pilger-mccain-kennedy
...........................................................................
হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে। আমাদের মা আজো লতাপাতা খায়।

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

কিছু কথা সত্য, তবে আমি এতটাও নিরাশ নই ওবামাকে নিয়ে। প্রেসিডেন্সির জন্য রান করার আগ পর্যন্ত ওবামা ফিলিস্তিন নিয়ে অনেকটাই সমব্যাথী ছিলেন বলে শুনেছি। আমেরিকায় ইলেক্টেড হতে হলে এই ব্যাপারে অন্তত মুখে-মুখে হার্ড লাইনে যেতেই হবে। তা নিয়ে অতি-দ্রুত অতি-উদগ্রীব না হয়ে কিছুটা বেনিফিট-অফ-ডাউট দেওয়ার পক্ষপাতী আমি। কারণ, বাস্তব এটাই যে, এই মুহূর্তে আর যে-কেউই ওবামার তুলনায় অনেক বেশি কট্টর। আশা করতে তো দোষ নেই যে কিছুটা রেসিডুয়াল সিমপ্যাথি হলেও কাজ করবে ওবামার মধ্যে।

এছাড়া রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকে ইসরায়েলের সাথে আমেরিকার ন্যাচারাল অ্যালায়েন্সের বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিয়েই ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে বলে আমার মনে হয়। আমেরিকা কোনদিনই মুসলিম দেশদের মত করে ঘৃণা বা অপছন্দ করবে না ইসরায়েলকে। শত চেষ্টা সত্ত্বেও তারা ইসরায়েলের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বিবেচনা করবে সব কিছু। গিলতে কষ্ট হলেও এটাই বাস্তবতা।

সৌরভ এর ছবি

কথা বোধহয় অন্যখানে।
ইলেকশন ডোনারদের বেশিরভাগই ইসরায়েল লবি থেকে। কাজেই ফিলিস্তিন নীতিতে পরিবর্তন মানে নিজের পায়ে কুড়াল মারা। সেই সাহস করবেন না কেউ।


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

তথ্যটা বোধহয় সঠিক নয়। ওবামা ক্যাম্পেইনের গড় ডোনেশন অ্যামাউন্ট শ'দুয়েক টাকার মত। তুলনামূলক বিচারে হিলারি বা ম্যাকেইনের গড় ডোনেশন অ্যামাউন্ট অনেক, অনেক বেশি। এটাই ওবামার ফান্ড-রেইজিং-ফেনমেনন হবার মূল কারণ। একদম তৃণমূল থেকে দু-চার-পাঁচ-দশ টাকা করে লক্ষ লক্ষ মানুষের চাঁদায় এত বড় ফান্ড তৈরি হয়েছে। লবিস্টদের টাকায় ক্যাম্পেইন করেছেন হিলারি আর ম্যাকেইন। হিলারি তো ছিলেন একমাত্র ডেমোক্রেট যিনি প্রকাশ্যে লবিস্টদের প্রশংসা করে বলেছেন "সাম অফ দেম আর গুড পিপল"।

ওবামার ক্যাম্পেইনে রেকর্ড সংখ্যক ১.৫ মিলিয়ন লোক ডোনেট করেছেন। সর্বমোট ডোনেশন প্রায় ২১৯ মিলিয়ন। পক্ষান্তরে হিলারি বা ম্যাকেইনের ক্যাম্পেইনে একদমই ভিন্ন চিত্র দেখা যাবে। অবশ্য, একথাও উল্লেখ না করলেই না যে ম্যাকেইন বলতে গেলে কোন টাকাই তুলতে পারেননি ওবামা বা হিলারির তুলনায়।

ওবামার ক্যাম্পেইনের প্রায় অর্ধেক ডোনরই ২০০ ডলারের কম ডোনেট করেছেন। তুলনামূলক চিত্র দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

অফিসে অন্য কাজের চাপ থাকায় আমি বোধহয় আজ আলোচনার সঙ্গে তাল দিয়ে চলতো পারব না। তবে পিলজারের মূল লেখা থেকে এইটুকু তুলে দিতে পারি,
The objects of these uncontrollable passions are as one in their support for America's true deity, its corporate oligarchs. Despite claiming that his campaign wealth comes from small individual donors, Obama is backed by the biggest Wall Street firms: Goldman Sachs, UBS AG, Lehman Brothers, J P Morgan Chase, Citigroup, Morgan Stanley and Credit Suisse, as well as the huge hedge fund Citadel Investment Group. "Seven of the Obama campaign's top 14 donors," wrote the investigator Pam Martens, "consisted of officers and employees of the same Wall Street firms charged time and again with looting the public and newly implicated in originating and/or bundling fraudulently made mortgages." A report by United for a Fair Economy, a non-profit group, estimates the total loss to poor Americans of colour who took out sub-prime loans as being between $164bn and $213bn: the greatest loss of wealth ever recorded for people of colour in the United States. "Washington lobbyists haven't funded my campaign," said Obama in January, "they won't run my White House and they will not drown out the voices of working Americans when I am president." According to files held by the Centre for Responsive Politics, the top five contributors to the Obama campaign are registered corporate lobbyists.
আর এরকম অনেক লিংক আছে : http://www.commondreams.org/archive/2007/04/22/681/

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

সৌরভ এর ছবি

@ইশতিয়াক
হুমম। আপনার দেখানো ডেটা ঠিকাসে।
সমস্যা হইলো, গার্ডিয়ানের দেয়া এই খবরটাও ঠিকাসে।


আবার লিখবো হয়তো কোন দিন

দিগন্ত এর ছবি

"আমেরিকার দরিদ্র কালো মানুষের সব থেকে বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয় সাব-প্রাইম ক্রাইসিসের জন্য দায়ী"
আমি জানি না কালো মানুষ আর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সাথে সাব-প্রাইম জড়িয়ে গেল কি করে?

এই লেখাটাও সেই ষঢ়যন্ত্র তত্ত্ব মনে হচ্ছে। যা হচ্ছে সবই পূর্বপরিকল্পিত গোছের ... অবশ্য জন পিলজারের ব্যক্তিগত মত।


হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

পিলজারের লেখায় বিষয়টা এসেছিল এভাবে :
A report by United for a Fair Economy, a non-profit group, estimates the total loss to poor Americans of colour who took out sub-prime loans as being between $164bn and $213bn: the greatest loss of wealth ever recorded for people of colour in the United States. "Washington lobbyists haven't funded my campaign," said Obama in January, "they won't run my White House and they will not drown out the voices of working Americans when I am president." According to files held by the Centre for Responsive Politics, the top five contributors to the Obama campaign are registered corporate lobbyists.

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

দিগন্ত এর ছবি

সাবপ্রাইম লস তো সাধারণ মানুষের খুব একটা হয় নি, হয়েছে মূলত ব্যাঙ্কগুলোর। ব্যাঙ্কেরো ক্ষতি, আবার কালো মানুষদেরও ক্ষতি আবার কালো মানুষেরা ব্যাঙ্কের মালিকও নয়। তাহলে কার কথা কি ভাবে বিশ্বাস করা যায়?


হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

তীরন্দাজ এর ছবি

এই লেখা (বা অণুবাদ) এর সাথে আমার পুরো সহমত। আগ্রাসী আমেরিকা আগ্রাসীই থেকে যাবে। পোষাকটি পাল্টে নেবে একবার। আমার এক বিশ্বসচেতন আমেরিকান বন্ধু আছে। তার ভাষ্যে সবই এক গোয়ালের গরু। তাই সে ভোটই দেয়না।
**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!

**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব

মাহবুব লীলেন এর ছবি

আমেরিকা আমেরিকানদের জন্য হয়তো বদলাবে
কিন্তু অভিবাসীদের জন্য ঠিকই প্যাট্রিয়টিক এ্যাক্ট বানাবে
আর বহির্বিশ্বের জন্য তৈরি করবে সন্ত্রাসবাদের নতুন নতুন সজ্ঞা

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

বুঝলাম। কিন্তু পিলজারের মত লোকদের expectation-টা কি? সাক্ষাত ফেরেশতা চলে আসবে? সুপারপাওয়ারের নেতা এর আগে কবে ফেরেশতা হইছে? আজকে চীন আর আমেরিকা, এককালের রাশিয়া আর আমেরিকা, কারো নেতৃত্বই কখনো ফেরেশতা ছিল না। পিলজার সেইটা আশা করলে উজবুক ছাড়া কিছু বলা যাবে না।

আর খেয়াল করবেন হিলারীর ব্যাপারে একটা শব্দও নাই। এইখানে আপনের নিউ স্টেটসম্যান পত্রিকা ideological bias একদম ধামাচাপা পড়ে গেছে। কিন্তু আপনার ব্লগের পাঠকদের সেটা জানা থাকা দরকার। নিউ স্টেটস্ম্যান অনেক পুরান পত্রিকা - বৃটেনের লেবার পার্টি সমর্থক, বাম-ঘেঁষা রাজনীতি ফলো করে। যখন নিউ লেবারের আবির্ভাব হইল ১৫ বছর আগে, তখন নিউ স্টেটস্ম্যান ছিল টনি ব্লেয়ারের সবচেয়ে বড় চিয়ারলীডার। কারন থ্যাচারের আমলে দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাইকা অগো শিক্ষা হইছিলো যে একদম উগ্র বাম প্ল্যাটফর্মে ইলেকশান জেতা যাবে না। তাই ব্লেয়ারের মত নকল বাম নেতা। (লেবারের ১৯৮৩-র ইলেকশান ম্যানিফেস্টোর অপর নাম ছিল the longest suicide note in history).

এই পত্রিকার মতে ক্লিন্টন আর ব্লেয়ার হইলো গিয়া পশ্চিমা জগতের লিবারেল তরিকার নবী-আউলিয়া। (ইরাক যুদ্ধ নিয়া ব্লেয়ারের হাজার কেলেংকারিও মাফ।)

এই ইলেকশানে নিউ স্টেটস্ম্যান মোটামুটি প্রকাশ্যেই হিলারি সাপোর্ট করছিল। হিলারী একটা প্রাইমারী ইলেকশান জেতা মাত্র বিরাট প্রচ্ছদ, বিরাট স্তুতি। কারন - হিলারী হইলো বিল ক্লিন্টনের বৌ, নব্বইয়ের দশকে ক্লিন্টন-ব্লেয়ার ম্যাজিক সার্কেলের ভাগিদার। তাই ওবামা-রে শুরু থেকেই ওরা টার্গেট করছে। ওগো মার্কিন সম্পাদক Andrew Stephen-এর লেখাগুলা দেখছেন নিশ্চয়ই। হিলারির চামচামি বাদে কিছু না।

ওবামার বিরুদ্ধে পত্রিকার নতুন আক্রমণেও অবাক হইলাম না তাই। আর ওবামার পলিসির বিরুদ্ধে যতগুলা অভিযোগ, হিলারীর প্রতিটা পলিসি তার থেকে হাজার গুণে জঘন্য। বড় ব্যবসার লবির থেকা পয়সা নেওয়া আর ইস্রাইলের পা-চাটামি, সেইটার কোন উল্লেখ নাই। ইরাক যুদ্ধে যাবার জন্যে হিলারির যে উৎকন্ঠা ছিল, ইরানরে ভষ্ম কইরা দেওয়ার যে সাম্প্রতিক হুমকি - তারও কোন উল্লেখ নাই।

মানে এই পত্রিকা ওবামার উপর আবার একটা hit job করছে। কোন ব্যাটা কইছিলো - politics is the art of the possible. এই জনগণই বুশের মত লোকরে দুইবার ভোট দিছে। এরা যে ওবামারে প্রেসিডেন্ট বানাইলেও বানাইতে পারে, সেইটা একটা মিরাকেল বৈ কিছু না। কিন্তু তাতেও পিলজ়ারের মত hardcore purist-দের মন কখনোই পাওয়া যাবে না। সাইডে খাড়াইয়া থুথু মারতে অনেক বেশী সোজা তো।

অন্তত বর্ণিত প্রস্তাবে ওবামা হিলারি বা ম্যাককেইনের থেকে এই মুহুর্তে অনেক ভালো চয়েস। আর পিলজারের সেইটা পছন্দ না হইলে পিলজ়ার কি নিজেই ইলেকশানে খাড়াইবো? নাকি আবার রালফ নেডার-রে ভোট দিতে কইবো?

নিউ স্টেটস্ম্যানের এইসব ব্যাকস্টোরি আপনের লেখায় আসা উচিত ছিল।

-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

দিগন্ত এর ছবি

আপনার বক্তব্য ঠিকই আছে কিন্তু সমস্যা হল, ফারুকভাই তো হিলারীর স্বপক্ষে কিছু বলেননি। বরং ওনার দাবী হিলারী হোক আর ওবামা, সমস্যার কোনো সমাধান হবে না।


হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।


পথের দেবতা প্রসন্ন হাসিয়া বলেন, মূর্খ বালক, পথ তো আমার শেষ হয়নি তোমাদের গ্রামের বাঁশের বনে । পথ আমার চলে গেছে সামনে, সামনে, শুধুই সামনে...।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

@ সুবিনয় মুস্তফী

বুঝলাম। কিন্তু পিলজারের মত লোকদের expectation-টা কি? সাক্ষাত ফেরেশতা চলে আসবে? সুপারপাওয়ারের নেতা এর আগে কবে ফেরেশতা হইছে? আজকে চীন আর আমেরিকা, এককালের রাশিয়া আর আমেরিকা, কারো নেতৃত্বই কখনো ফেরেশতা ছিল না। পিলজার সেইটা আশা করলে উজবুক ছাড়া কিছু বলা যাবে না।

পিলজারের লেখাটা যতটা বুঝেছি, তাতে তিনি কিছু আশা করেন নাই। বরং দুয়ে দুয়ে কত হয়, এবং কোন খূঁটিতে কে বাঁধা তা সচিত্র বর্ণনা করেছেন। বাকিটা আপনার মত এবং মতান্তর।
আর খেয়াল করবেন হিলারীর ব্যাপারে একটা শব্দও নাই।

হাঁ নাই, তিনি যখন এটা লিখেছেন, তখন হিলারি গতকালের ব্যাপারে পরিণত হয়েছেন। আর তিনি কাজ করছেন কাল ও পরশু কী হবে সেটা নিয়ে। ক্লিয়ার?
এইখানে আপনের নিউ স্টেটসম্যান পত্রিকা ideological bias একদম ধামাচাপা পড়ে গেছে। কিন্তু আপনার ব্লগের পাঠকদের সেটা জানা থাকা দরকার।

নিউ স্টেটসম্যান পত্রিকা আমার না, যতদূর জানি আপনারও না। আর রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য আলোচনা করতে গেলে তিনি জমিদার ছিলেন এবং তাঁর ঠাকুরর্দা লবণের কারবারি ছিলেন; এই তথ্য বেশি কাজে লাগবার কথা নয়।
অন্তত বর্ণিত প্রস্তাবে ওবামা হিলারি বা ম্যাককেইনের থেকে এই মুহুর্তে অনেক ভালো চয়েস।

এইটা আপনার চয়েস এবং এন্ড অলচয়েজ চয়েস শুড বি এন্ড মাস্ট বি ইউরস, নাকি?পিলজারের আলোচিত বিশ্লেষণ ও তথ্যের সঙ্গে এসবের সম্পর্ক দেখছি না। চিন্তিত
পুনশ্চ:
পিলজার : পিলজার সেইটা আশা করলে উজবুক ছাড়া কিছু বলা যাবে না।

পিলজ়ারের মত hardcore purist-দের মন কখনোই পাওয়া যাবে না। সাইডে খাড়াইয়া থুথু মারতে অনেক বেশী সোজা তো।

নিউ স্টেটসম্যান :
হিলারির চামচা

প্রশ্ন : ভাই, আপনি কোনো কারণে ক্ষিপ্ত নাকি???
নিউ স্টেটস্ম্যানের এইসব ব্যাকস্টোরি আপনের লেখায় আসা উচিত ছিল।

লেখাটা আমার না, আমি অনুবাদ করেছি। আর লেখা এবং আমাদের আলোচনার বিষয় যেহেতু মার্কিন নির্বাচন ও ওবামা, সেহেতু এসব পেড়ে ধান ভানতে শিবের গীতির গীতিকবি হওয়ার ইচ্ছা আমার ছিল না, নাই-ও। কী করা যাবে?

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

তীরন্দাজ এর ছবি

এখন আবার হিলারী ভাইস প্রেসিডেন্ট হবার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। ওবামার জন্য 'মাইনকা চিপা' তো বটেই! হিলারী অংশের ভোটের দরকার হবে মূল নির্বাচনে। জিতলে হিলারী সাথে আরেকজন আসবে প্রভাব বিস্তার করতে। "বিল"...! তার সাথে জুড়ে বসবে বড় বড় ব্যবসায়ীদের লবী। পরিণামে, যা ছিল তাই থেকে যাবে...!
**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!

**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব

পলাশ এর ছবি

সুবিনয় মুস্তাফীর মন্তব্যে বিপ্লব
"বৃটেনের লেবার পার্টি সমর্থক, বাম-ঘেঁষা রাজনীতি ফলো করে। যখন নিউ লেবারের আবির্ভাব হইল ১৫ বছর আগে, তখন নিউ স্টেটস্ম্যান ছিল টনি ব্লেয়ারের সবচেয়ে বড় চিয়ারলীডার। কারন থ্যাচারের আমলে দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থাইকা অগো শিক্ষা হইছিলো যে একদম উগ্র বাম প্ল্যাটফর্মে ইলেকশান জেতা যাবে না। তাই ব্লেয়ারের মত নকল বাম নেতা। (লেবারের ১৯৮৩-র ইলেকশান ম্যানিফেস্টোর অপর নাম ছিল the longest suicide note in history)."

সুমন চৌধুরী এর ছবি

বিষয়টা পড়িতেছি। জানিতেছি। এইসব তেমন বুঝি না।



ঈশ্বরাসিদ্ধে:

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

আদার ব্যাপারী হয়া জাহাজের খবর লয়া লাভ কি? আমি ক্ষ্যামা দেই...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

আমার একটা অনুরোধ, আমরা যাতে নিজেদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটার মনে না করি এবং মন্দের ভাল খুঁজে একটা সান্তনা না পাই। আমাদের যেহেতু ভোট দিতে হচ্ছে না, সেহেতু আমরা ভাবতে পারি ব্যাপারটা কী ঘটছে। প্রশ্ন কে করলো তার থেকে প্রশ্নের নিজস্ব মেরিটকেই আগে বিবেচনা করা শ্রেয়।
পিলজার ভুল হোন, নিউ স্টেটসম্যান কপট হোক, বামপন্থিরা এক চক্ষু হরিণ হোক সমস্যা নাই। কিন্তু ওবামা কী মতে, আমেরিকার কর্পোরেট ইন্টারেস্টের বাইরে, মেইনস্ট্রিমের বাইরে এক নতুন বস্তু?
সমালোচক, বিশ্লেষকের কাজ কী ঘটছে, কীসের ভেতর কী থাকে অর্থাত সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলা এবং মধ্যবর্তী ধুসর অঞ্চলের হিসাব রাখা, বাদবাকি কাজ রাজনীতিবিদদের। তারা মন্দের পেছনে শুভ উদ্দেশ্য এবং শুভের পেছনে মন্দ প্ররোচনা আবিষ্কার করতে থাকবেন, সেটাই তাদের পেশা। আমাদের পেশা হলো যাবতীয় মুখোশ ছিঁড়ে দেখা এবং ক্ষেত্রবিশেষে নিন্দাও করা।

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

পুতুল এর ছবি

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ
ধ্বংস হোক নিপাত যাক।

খেলাঘর, তার পর ছাত্র ইউনিয়ন এসব করে শ্লোগানটা এত মুখস্ত যে, এখনো মনে আছে!
আমার মনে হয় মার্কিনিরা কমু্নিষ্ট পার্টিকে ভোট দিলেও তাদের সাম্রাজ্যবাদী চিন্তাধারা পাল্টাবেনা!
আর সে দেশের প্রেসিডেন্ট তাদের চেতনার খোলস মাত্র। পার্টি বা প্রেসিডেন্ট মার্কামারা হয়ে গেলে নতুন একজন দরকার হয়, কিন্তু নতুন বোতলে আবার পুরানো মদই পরিবেশিত হয়।
অন্ততঃ তাদের ইতিহাস সে কথাই বলে।
হয়তো সেটা রাষ্ট্র বা দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠার সাথে তাদের মজ্জাগত ব্যাপার!

**********************
কাঁশ বনের বাঘ

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

আদিত্য এর ছবি

@ফারুক ওয়াসিফ

আমার একটা অনুরোধ, আমরা যাতে নিজেদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটার মনে না করি এবং মন্দের ভাল খুঁজে একটা সান্তনা না পাই। আমাদের যেহেতু ভোট দিতে হচ্ছে না, সেহেতু আমরা ভাবতে পারি ব্যাপারটা কী ঘটছে। প্রশ্ন কে করলো তার থেকে প্রশ্নের নিজস্ব মেরিটকেই আগে বিবেচনা করা শ্রেয়।

দাদা আপনি বোধহয় একটু ভুল করছেন। সচল মনে একটি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছে; যতদূর জানি এখানে অনেকেই আমেরিকান বাংলাদেশী বা বৃটিশ বাংলাদেশী। সো নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটার মনে করাটাও স্বাভাবিক নয় কি? কারণ কেউ কেউ তো ভোটারই! সে বিবেচনায় মাইগ্রেটেড ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষেরও আজ কমবেশী প্রভাব তৈরী হয়েছে বা হচ্ছে আমেরিকায়; তাই এর সাথে নিজেদের স্বার্থও জড়িয়ে গেছে বৈকি! চোখ টিপি

সমালোচক, বিশ্লেষকের কাজ কী ঘটছে, কীসের ভেতর কী থাকে অর্থাত সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলা এবং মধ্যবর্তী ধুসর অঞ্চলের হিসাব রাখা, বাদবাকি কাজ রাজনীতিবিদদের।

মুশকিল তো এখানেই, প্রকৃতিতে সাদা বা কালো রঙের আদতে কোন অস্তিস্থই নেই (ন্যাচারে যে বেসিক কালার কোডের সন্ধান মেলে তাতে ঐ দু'টি(সাদা/কালো) কোন রঙ্গে পড়ে না) ! তাই সাদা/কালো কিংবা ধূসর রঙ খুজঁতে যাওয়াই কি অবান্তর নয়? আপনার সমালোচনা বা নিন্দা সবি ঠিক আছে তবে তাও কি একপেশে হয়ে গেলে একদিকে ঢলে পড়ে না? চিন্তিত

পিলজারের মত লোকদের expectation-টা কি? সাক্ষাত ফেরেশতা চলে আসবে? সুপারপাওয়ারের নেতা এর আগে কবে ফেরেশতা হইছে? আজকে চীন আর আমেরিকা, এককালের রাশিয়া আর আমেরিকা, কারো নেতৃত্বই কখনো ফেরেশতা ছিল না।
.... চলুক
@সুবিনয় ধন্যবাদ পিলজারের মতো অতি অতিদের (!!) ব্যাকগ্রাউন্ডটা তুলে ধরার জন্য।
আমারো প্রশ্ন দুনিয়াতে কোন কালে ফেরেশতারা দেশ চালাইছিলো? অ্যাঁ অ্যাঁ বেচেঁ থাকার জন্য হলেও তো বাস্তবতার নিরিখেই আমরা তুলানামূলক বিচারটা করি নাকি? নাকি সে বিচারো করতে হবে একেবারে মোটা দাগের হার্ড লাইনে দাড়িঁয়ে ? চিন্তিত

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

সো নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটার মনে করাটাও স্বাভাবিক নয় কি?

ঠিক, হন বা না হন; হইতে যেহেতু দোষ নাই সেহেতু নিজেদের মার্কিন ভোটার বিবেচনা করাই আপনার জন্য শ্রেয় ও স্বার্থজড়িত। আমরা মার্কিন সাম্রাজ্যের অধীনস্ত দেশের বাসিন্দা হওয়ায় এক ডিগ্রি পেছনে আছি। আমাদের আগে বাংলাদেশের পূর্ণ মর্যদার নাগরিক হতে হবে, তারপর চেষ্টা করতে হবে এম্পায়ারের সরাসরি নাগরিক হতে। তার আগে বলতে তো দোষ নাই: ইংল্যান্ডের রানী আমাদেরও রানী। বাপ-দাদায় কইছে, আপনারাও কৈতারেন।
প্রকৃতিতে সাদা বা কালো রঙের আদতে কোন অস্তিস্থই নেই (ন্যাচারে যে বেসিক কালার কোডের সন্ধান মেলে তাতে ঐ দু'টি(সাদা/কালো) কোন রঙ্গে পড়ে না) ! তাই সাদা/কালো কিংবা ধূসর রঙ খুজঁতে যাওয়াই কি অবান্তর নয়?

একটু অধিবিদ্যক হয়া গেল না ওস্তাদ? ওই শাস্ত্রে আমার পারঙ্গমতা নাই।
আপনার সমালোচনা বা নিন্দা সবি ঠিক আছে তবে তাও কি একপেশে হয়ে গেলে একদিকে ঢলে পড়ে না?

একপেশে হলে ঢলে পড়ে বৈকি? কিন্তু কোনপাশে ঢললে আপনি খুশি হন?
বাস্তবতার নিরিখেই আমরা তুলানামূলক বিচারটা করি নাকি? নাকি সে বিচারো করতে হবে একেবারে মোটা দাগের হার্ড লাইনে দাড়িঁয়ে ?

ঐ যে, বাস্তবতার বিচার, আমার আগ্রহ সেখানেই। বাকিটা যার যার ইচ্ছা। আপনার মুরগি আপনি পেছনেও কাটতে পারেন, আগাতেও কাটতে পারেন। চিরকালই কিছু লোক হার্ডলাইনে চলেছে, তাই আজকের জনপ্রিয় চিন্তা কালকে আস্তাকঁড়ে ঠাঁই নিয়েছে এবং আগেকার হার্ডলাইন পরের যুগের সফট লাইন হয়ে গিয়েছে। এগুলো আপেক্ষিক ব্যাপার। তাই আপনি যা-ই বলবেন তা-ই আমি ঠিক বলে মেনে নিতে রাজি। চলুক কারণ তাতে আমার ক্ষতি হবে না। তবে এ ব্যাপারে আমি ভগবান কৃষ্ণের অনুরাগী।
তিনি বলেছিলেন,
বাছা, চিন্তা কী! যাহা হইতেছে, তাহা ভালই হইতেছে। যাহা হইয়াছে, তাহাও ভালই হইয়াছে। আর যাহা হইবে, তাহাও ভালই হইবে।
অতএব, ঘাবড়াও মাত!দেঁতো হাসি
...............................................................
'ধেড়েটার বুদ্ধি দ্যাখ,
চড় মেরে সে নিজের গালে
কে মেরেছে দেখবে বলে
চড়েছে গিয়ে টিনের চালে'
সুকুমার রায়ের ছড়াংশ

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

আদিত্য এর ছবি

ঠিক, হন বা না হন; হইতে যেহেতু দোষ নাই সেহেতু নিজেদের মার্কিন ভোটার বিবেচনা করাই আপনার জন্য শ্রেয় ও স্বার্থজড়িত। আমরা মার্কিন সাম্রাজ্যের অধীনস্ত দেশের বাসিন্দা হওয়ায় এক ডিগ্রি পেছনে আছি। আমাদের আগে বাংলাদেশের পূর্ণ মর্যদার নাগরিক হতে হবে, তারপর চেষ্টা করতে হবে এম্পায়ারের সরাসরি নাগরিক হতে। তার আগে বলতে তো দোষ নাই: ইংল্যান্ডের রানী আমাদেরও রানী। বাপ-দাদায় কইছে, আপনারাও কৈতারেন।

হো হো হো হা হা হা...ভালো ভালো, আপনার শ্লেষটা আমার পছন্দ হয়েছে। কিন্তু মুশকিল হইলো বাপ দাদা কি কইছে আর কি কয়নাই ঐ বিবেচনা করে আমি মন্তব্য করি নাই; শুধুমাত্র যারা ইতিমধ্যেই এইসব দেশের নাগরিক হয়ে গেছেন বা হওয়ার পথে তাদেরকে বিবেচনায় এনে বলেছি আমেরিকার প্রসিডেন্ট কে হবে বা কে হলে ভালো হতে পারে তার তুলনামূলক বিচার করাটা তাদের সরাসরি স্বার্থের মধ্যে পড়ে।

প্রকৃতিতে সাদা বা কালো রঙের আদতে কোন অস্তিস্থই নেই (ন্যাচারে যে বেসিক কালার কোডের সন্ধান মেলে তাতে ঐ দু'টি(সাদা/কালো) কোন রঙ্গে পড়ে না) ! তাই সাদা/কালো কিংবা ধূসর রঙ খুজঁতে যাওয়াই কি অবান্তর নয়?

একটু অধিবিদ্যক হয়া গেল না ওস্তাদ? ওই শাস্ত্রে আমার পারঙ্গমতা নাই।

হো হো হো হা হা, পারঙ্গমতা না থাকার পরেও কি কইরা বুঝলেন যে ব্যাপারটা একটু অধিবিদ্যক হয়া গেল? যাক আমার দিক থেইকা আরেকটু পরিষ্কার করি, প্রকৃতির যে কালার চার্ট আমরা বৈজ্ঞানিকভাবে পাই তাতে সাদা/কালোকে ধরা হয় রঙের ডেনসিটি হিসেবে, রঙ হিসেবে নয়। এই ব্যক্তব্যের উপর দাড়িঁয়ে বলতে চেয়েছি, আমরা যা কিছুই বিচার করি না কেন তাকে সাদা/কালো বা ভালো/মন্দ বা সত/অসত এভাবে বিচার করা যায় না এবং এই দুইয়ের কোন মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকাও অসম্ভব। যা করা যায় তা হলো তুলানামূলক বিচার, যেখানে প্রচুর রঙের সংমিশ্রন আছে, আছে লাইটের ডেনসিটির পার্থক্য!

এ ব্যাপারে আমি ভগবান কৃষ্ণের অনুরাগী।
তিনি বলেছিলেন,
বাছা, চিন্তা কী! যাহা হইতেছে, তাহা ভালই হইতেছে। যাহা হইয়াছে, তাহাও ভালই হইয়াছে। আর যাহা হইবে, তাহাও ভালই হইবে।
অতএব, ঘাবড়াও মাত!দেঁতো হাসি

আমিও অনেকটা ঘুরিয়ে একমত, আমার আবার এক ডিশ বেশী দিন খাইতে ভালো লাগেনা, এক মানুষও না। কৃষ্ণের ডায়ালগটা একটু উল্টায়ে বলি, যাহা হইতেছে, তাহা হইতেই থাকিবে। যাহা হইয়াছে, তাহাতেও কাহারো গোয়া মারা গিয়াছে, আবার কাহারো গলে জুটিয়াছে মাল্য, তাই এই ভাল খারাপের ব্যাপারটা একই সাথে আপেক্ষিক ও অবান্তর (একেবারে ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া)। আর যাহা হইবে, তাহাতেও আমি সাধারনের কিছু যায় আসিবেনা (যেমন কিছুই যায় আসে না ইশ্বর/ভগবান/আল্লাহ/নেতা/ব্যক্তি বা পুজিঁবাদ/সমাজতন্ত্র/খলিফাতন্ত্র/যে কোন বালতন্ত্র-এর অস্থিস্ত থাকুক বা না থাকুক) তাই যতদিন ঠিকে থাকা যায় থাকো...বেচেঁ থাকো, পারলে অন্যের খতি না করে সুখে থাকো।
অতএব, ঘাবড়াও মাত, কাজ করে যাও! চলুক

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

তাকে সাদা/কালো বা ভালো/মন্দ বা সত/অসত এভাবে বিচার করা যায় না এবং এই দুইয়ের কোন মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকাও অসম্ভব।

একটু সেমসাইড হয়ে গেল না? এইটা বললেন. আবার তুলনামূলক বিচারের নামে অপেক্ষাকৃত ভাল'র তত্ত্বকে আলিঙ্গন করলেন।
বিষয়গুলাকে এত অধরা করে লাভ নাই। আমাদের সাফ কথা, ওবামা নতুন কিছু নয়, কর্পোরেট মার্কিন রাজনীতির নতুন উপহার। ব্যাস। এর বিরুদ্ধে কথা থাকলে বলেন। এর বাইরে কাকে ভোট দেবেন, তাতে আপনাদের কেমন স্বার্থ, তা আপনার/আপনাদের বিষয়। তা নিয়ে আমি কী করব? আমি খেয়াল করেছি, মাঠের বাইরে না গেলে কেউ কেউ ঠিক খেলতে পারেন না। এটা কেন?
যেমন কিছুই যায় আসে না ইশ্বর/ভগবান/আল্লাহ/নেতা/ব্যক্তি বা পুজিঁবাদ/সমাজতন্ত্র/খলিফাতন্ত্র/যে কোন বালতন্ত্র-এর অস্থিস্ত থাকুক বা না থাকুক

এটাও কিন্তু একটা তরিকা, ব্যক্তিগত তরিকা। এরও রাজনীতি ও আদর্শিক বর্ণ আছে। সেদিকে যাব না। তবে আমি এতে বিশ্বাসও করি না, বরং এ চিন্তাকে বিপদজনক মনে করি। যাহোক সেটা আপনার মত।
নিজের স্বার্থকে আমি মানুষের স্বার্থের ভেতরে দেখতে পছন্দ করি। ঈশ্বরের মতো পরিপ্রেক্ষিতহীন হওয়ার স্পর্ধা আমার নাই। খেয়াল করেছেন কি, এরকম ব্যক্তিসর্বস্বতাই লেট ক্যাপিটালিজমের কালচারাল লজিক?
তাহাতেও কাহারো গোয়া মারা গিয়াছে বা বালতন্ত্র, এইসবের কোনো দরকার নাই। এইসব ছাড়াই আপনাকে বোঝা যাচ্ছে। আর হ্যাঁ, আমরা যারা দাগের এপারে নিজেদের অবস্থানকে দেখি, তাহাদের গোয়া এতবার মারা গিয়াছে যে, নতুন লিঙ্গধারীদের দেখে আর ভয় লাগে না। বরং স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যা দিয়ে কর্মটি ঘটে, তা কিন্তু আপনার নয়, ঐ কর্পোরেট দানবের। পেছনে হাত দিয়ে দেখেন, রক্ত ঝরছে।

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

অতিথি লেখক এর ছবি

আমেরিকার শাসকের গদীতে যদি কোনো নিরাসক্ত মানুষ কিংবা কোনো ফেরেশতাকেও বসিয়ে দেওয়া হয়, বহির্বিশ্বের ব্যাপারে আমেরিকার নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি আর হবেও না।

নির্বাচনে বুশ হেরে গেলে ইরাকিরা আনন্দোৎসব করেছিলো। সদ্য নির্বাচিত ক্লিনটন ওই কথাই বলেছিলেন। আমেরিকার নীতির কোনো পরিবর্তন হবে না।

ওবামা বলেন আর যাই বলেন- তেলের প্রতি তার লোভ না থেকে পারে না। পরশ্বপহরণের স্বভাব থেকে কি সে মুক্ত হতে পারবে? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট মানেই দসুমনোবৃত্তির। লোভী আর মিথ্যাবাদী।
-জুলিয়ান সিদ্দিকী

আলমগীর এর ছবি

আমি একটা জিনিষ বুঝলাম না। আপনি বলছেন আপনি মূল লেখার অনুবাদ করেছেন মাত্র, লেখার বিষয়ের কাছে আপনার দায় নেই। আপনিই আবার এখান ওখান থেকে সব লিংক দিচ্ছেন লেখার বিষয়কে শক্ত করার জন্য।

দুনিয়াতে শত শত পত্রিকা থাকতে এই বিশেষ পত্রিকাটিকে বেছে নেয়া বা এই লেখাটিকে বেছে নেয়া নিশ্চয়ই কাকতালীয় নয়। তা হলে সুবিনয়ের তথ্য প্রদানে আপনার প্রতিক্রিয়াটা এমন কেন?

নিজে দুনিয়ার তাবৎ জ্ঞান অর্জন করে বসে আছেন, আর সচলের নাদানদের বিলাচ্ছেন- এরকম একটা ভাব আপনার।

আমি এর পর থেকে আপনার কোন লেখা পড়ব না।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

আমি কোথাও বলেছি যে, আমার দায় নাই?আমার দায়ে স্ববাছাইকৃত রচনার অনুবাদের যতটা, ততটাই। আর কমেন্ট নিয়ে যেটা বলেছেন সেটা আপনার মত। আমার মত হলো, সুবিনয় তথ্য প্রদান করতে পারতেন কিন্তু করেছেন অযথা বাগবিস্তার। যেটা আপনিও করছেন।
আমি আপত্তি জানাচ্ছি যে, আপনি সচলদের নাদান বলেছেন। লেখা, অনুবাদ করা, কথা বলা আমার পেশা। যেমন আপনার পেশা বারংবার ফোঁড়ন কাটা। ডাল বানাইলে পাঁচফোঁড়ন ভালই লাগে অবশ্য। চোখ টিপি

এখান ওখান থেকে সব লিংক দিচ্ছেন লেখার বিষয়কে শক্ত করার জন্য।

অবশ্যই! এখন কী শক্ত মনে হচ্ছে! না হলে জায়গায় দাঁড়িয়ে আওয়াজ দিবেন, পৌঁছে যাব ইনশাল্লাহ।
আমি এর পর থেকে আপনার কোন লেখা পড়ব না।

পাঠক হিসাবে সেইটাই আপনার ক্ষমতা এবং আপনাকে হারানো আমারই ব্যর্থতা। আপনি ভাল থাকবেন।
.....................................................................................
ধেড়েটার বুদ্ধি দ্যাখো,
চড় দিয়ে সে নিজের গালে
কে মেরেছে, দেখবে বলে
চড়েছে গিয়ে টিনের চালে
:সুকুমার রায়

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

অতিথি লেখক এর ছবি

ঠিক যখন ওবামার মনোনয়ন প্রাপ্তির সম্ভাবনা নিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে এবং হিলারি তখনও তার পরাজয় মেনে নেননি কিন্তু বলেছেন যে, উপপ্রধান হতে তিনি রাজি তখনই মেককেইন লুইসিয়ানায় তার সাধারণ নির্বাচনের ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন। মেককেইন লুইসিয়ানার গভর্নর ববি জিন্দালকে (যিনি একজন ভারতীয় বংশোদ্ভুত) তার উপপ্রধান হিসেবে মনোনয়ন দিতে পারেন। মেককেইনের ভাষণে ওবামা বা হিলারির মতোই পরিবর্তনকেই মূলমন্ত্র ধরে তার প্রচারাভিযান চালানোর আভাস পাওয়া গেছে। গতকালের ভাষণে তিনি বলেছেন তিনি যুদ্ধের বিরোধিতার জন্য রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষের সমালোচনার মূখে পড়েছেন কিন্তু তিনি তাদের কাছে তখন কোন উত্তর করেননি। তিনি সেই উত্তর এখন উপস্থিত জনগণের কাছে দিচ্ছেন, ইত্যাদি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, বিগত দিনে যে রাষ্ট্রীয় পলিসি অনুসরণ করা হয়েছে তাকেই পরিবর্তনের সময় এসেছে। তিনি বলেন অনেক পুরনো এসব পলিসিতে পরিবর্তন আনা দরকার। যাই হোক, analystদের মতে ওবামা এবং মেককেইন দু'জনই পরিবর্তনকে বেছে নিয়েছেন মূলমন্ত্র হিসেবে। কিন্তু ওবামার বড় সমস্যা হিলারিকে ম্যানেজ করা যা তার জন্য মোটেও সম্ভবপর হবে না। হিলারি এখন গলার কাঁটা। তাকে খসানোও যাবে না আবার তাকে নিয়ে হোয়াইট হাউসে সংসারধর্ম করাও হবে হাতের তালুতে আগুন রাখার চেয়ে কঠিন কাজ। যাই হোক যেই জিতুক ইসরাইল লবিকে সবাই ভয় পায়। এমনকি ইসরাইলের শাসকগণও আমেরিকার ইসরাইল লবিকে দু'একটা গালমন্দ করতে ছাড়েনা- ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ সবকিছুতে তাদের বাম হাত ঢোকানো এবং ইসরাইলী নেতাদের প্রেসারে রাখার জন্য, কিন্তু আমেরিকার নেতারা এ লবির বিরুদ্ধে টু'শব্দটিও করতে সাহস পায়না। যত পরিবর্তনের কথা যত যাই বলুক -পিলজার হয়তো একটা দিক তুলে ধরেছেন, তার নিজের মতেই হোক বা প্রত্রিকার পলিসির কারণেই হোক - আদৌ যুক্তরাষ্ট্রের বহির্বিশ্বনীতিতে কোন পরিবর্তন খুব শীঘ্রই আসার সম্ভাবনা নেই, সেখানে মুসলমান! ওবামা, বাঙলাদেশী কন্যার পালক পিতা ম্যাককেইন বা ভারতীয় যারাই হোয়াইট হাউসের গদিতে বসুন। আর মেককেইন একরোখা বুশের মতোই। ধন্যবাদ সবাইকে।

জিজ্ঞাসু

স্নিগ্ধা এর ছবি

শিরোনামে নিওলিবেরালিজমের "অন্তিম" পরিহাস কেন বলা হয়েছে? নিওলিবেরালিজম বা economic liberalism তো চলবে আরো বহুদিন?

'মন্দের ভালো' পরিস্থিতি বা আদর্শ হিসেবে মন্দেরই ভালো, নিখাদ ভালো নয় - কিন্তু আর কি আছে করার এই মূহুর্তে? র‌্যালফ নেডার যখন নির্বাচনে দাঁড়ায় তখন এক টি ভি অনুষ্ঠানে মাইকেল মূর তার সামনে হাঁটু গেড়ে জোড়হাতে অনুরোধ জানায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে, যাতে করে ডেমোক্র্যাটদের ভোট বিভক্ত হয়ে না পড়ে। এবং যদ্দূর জানি মূর নেডারের মতে বিশ্বাসী, তারপরও বাস্তবতার শাঁখের করাতে বেচারা মূর গলা বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলো।

ওবামা কেন প্রথম আমেরিকার স্বার্থ দেখবে না?! এতোখানি altruism কি আশা করা উচিত? আর রাজনীতিতে নেমে, বিশেষত এরকম mainstream politics এ কিভাবে আপোষ না করে থাকবে, কেউই?

খালি - আমেরিকার স্বার্থ = বিশ্ব অর্থনীতি (কারণ তার জাতীয় অর্থনীতি এটার সাথে জড়িত)+ আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতি + ইজরায়েলকে না খেপানো - এই সমীকরণে
ওবামা কোন variable কে কি value attribute করে সে ব্যাপারে ওবামাপক্ষীয়রা (আমিও তাদের একজন) কিছুটা আশা বা দুরাশা পোষণ করে - এইটুকুই।

তবে হ্যাঁ - বিশ্লেষণ এবং বিতর্ক কেন হবে না? কাটাছেঁড়া করে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কেন দেয়া হবে না? এ ছাড়াও তো গতি নেই কোন - যে কোন কিছু যতভাবেই ঠিক মনে হোক না কেন আমাদের - তার পালটা যুক্তি না জানলে বদ্ধপুকুরের কচুরীপানা দিয়ে তো শ্বাসবন্ধ হয়েই মরবো !

শুধু আরেকটু পরমতসহিষ্ণু বোধ হয় হতে পারি আমরা - সবাইই।

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

সম্পূর্ণ একমত। গাণিতিক বিশ্লেষণ বলে তো একটা ব্যাপার আছে (নির্মোহ বলছি না)। তারও ভুল হয়। আমার পিলজারের লেখা বাছাইয়ের কারণ ছিল যে, ওবামার উত্থান এবং মার্কিন রাজনীতির ডাইনামিকস বুঝতে এটা কিছুটা হলেও সাহায্য করে। এইটুকুই।
তবে আমার লেখার ধাঁচে একটা সাব্জেক্টিভ টোন থাকে, শব্দের কিছু পছন্দ থাকে, যা অনেক সময় ভুল বোঝার কারণ হয়। সেটার প্ররোচনা যে আমার আগের পোস্টে কিছুটা ছিল, তা খেয়াল করে দেখেছি। কিন্তু হলফ করে বলতে পারি, ব্যক্তিগতভাবে অশ্রদ্ধাপ্রকাশ আমার উদ্দেশ্য না, বিধেয়ও না।
এইটা বললাম কনফেশন হিসাবে। কারণ আপনার কাছে আমি কিছুটা শরমিন্দা হয়ে আছি।
ধন্যবাদ।

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

স্নিগ্ধা এর ছবি

আমি কিন্তু পরমতসহিষ্ণুতার কথাটা শুধু আপনাকে বলি নি - সবাইকেই বলেছি, নিজেকে শুদ্ধ হাসি

ফারুক ওয়াসিফ এর ছবি

অন্যের অসহিষ্ণুতার প্রতিউত্তর করেছি আর নিজেরটার জবাব আপনাকে দিলাম এবং নিজেকেও স্বীকার করালাম। ধন্যবাদ।

হাঁটাপথে আমরা এসেছি তোমার কিনারে। হে সভ্যতা! আমরা সাতভাই হাঁটার নীচে চোখ ফেলে ফেলে খুঁজতে এসেছি চম্পাকে। মাতৃকাচিহ্ন কপালে নিয়ে আমরা এসেছি এই বিপাকে_পরিণামে।

পুতুল এর ছবি

আলমগীর সাহেব, এত ব্যাক্তিগত ভাবে না নিলে হয়না!
এটাতো শুধু একটু আলোচনা। আমাদের মতামতকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মার্কিনিরা তো যা ইচ্ছে তাই করছে এবং করবে, তাই না, তো এখানে আমরা শুধু শুধু ওদের (মার্কিনিদের) ব্যাপার সেপার নিয়ে এত সিরিয়াস না হলেও চলে। কিছু মনে করবেন না, আপনার মন্তব্য দেখে আমার প্রতিক্রিয়া জানালাম আর কি।
**********************
কাঁশ বনের বাঘ

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

অতিথি লেখক এর ছবি

আলোচনার খাতিরে মন্তব্য, পাল্টা মন্তব্য আসতে পারে; এখানে শরমিন্দা হওয়ার বিশেষ প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। কাটাছেড়া না হলে এই ধরনের ফোরামে তাহলে হবে কী? ব্যক্তিগত কোন বিষয় থাকলে ব্যক্তিগতপর্যায়েই তা সীমাবদ্ধ থাকলে ভালো।

জিজ্ঞাসু

স্নিগ্ধা এর ছবি

ব্যক্তিগত কোন বিষয় থাকলে ব্যক্তিগতপর্যায়েই তা সীমাবদ্ধ থাকলে ভালো।

আমি এবং ফারুক ওয়াসিফ আলাদা আলাদা ভাবে 'ব্যক্তি' হিসেবে যে মত বিনিময় করেছিলাম (তার আগের পোস্টে) সেটার পরিপ্রেক্ষিতেই মন্তব্যটা করা হয়েছে। এখানে 'ব্যক্তিগত' বিষয় এটাই এবং অবশ্যই এটা এই ফোরামেই পালটা মন্তব্য হিসেবে আসা উচিত। আলোচনার খাতিরে মন্তব্য পালটা মন্তব্য যেমন আসবে তেমনি মন্তব্য পালটা মন্তব্যের 'সুর' কি 'বক্তব্য'এর ব্যখ্যাও আসবে না কেন?

ফারুক ওয়াসিফ যে বলেছেন যে তিনি আমার কাছে 'শরমিন্দা' তার মানে এই না যে তিনি আমার কাছে 'তর্কযুদ্ধে হেরে গেছেন', তার মানে এই যে তিনি ভদ্রতা জানেন !

হযবরল এর ছবি

লেখাটা প্রথম আলোয় পড়েছিলাম। আপনার অনুবাদ জেনে খুশি হলাম ফারুক ভাই। লেখাটার মূল সুর হচ্ছে কালো, সাদা, মাইনর, মেজর যে আসুক পলিটিক্যাল সিস্টেম বদলাবে না। কথাটা সত্যি বলেই মনে করি। তবে পর পর দুবার জর্জ বুশের আরোহনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে ইমেজ হয়েছে, সেটা এখন বদলাতে ইচ্ছুক ওয়াশিংটন। বারাক ওবামার কাছে কোন ম্যাজিক নেই যেটা দিয়ে তেলের দাম কমাতে পারে কিংবা দুম করে একদিনে সারা আমেরিকা ব্যাপী পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক করতে পারে। সুতরাং মার্কিন জনগণের কপালে অনেক দুঃখ আছে সেটা সামনে আরো অনেকদিন ধরেই থাকবে। ইরাক যুদ্ধের খরচা, তেলের দাম এবং সাব-প্রাইম ক্রাশ এই তিনের দুঃখ মোচনের জন্য মার্কিনিদের জন্য নতুন অবতার হিসেবে দেখানো হচ্ছে বারাক ওবামা'কে। সাথে মুসলিম বিশ্ব একটু মনে সাহস পাবে কারণ তিনি বারাক হোসাইন ওবামা। কিন্তু আদপে কতখানি পরিবর্তন আসবে সেই বিষয়ে আমি ঘোরতর সন্দিহান। আমেরিকার আভ্যন্তরীন বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আসবে সেটা ধারণা করছি। ইমিগ্রান্টদের দাপট কমিয়ে , আমেরিকার ওয়ার্কিং মিডল ক্লাস কে আরো বৃহত্তর পরিসর দেওয়ার চেষ্টা চলবে।

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

জন এফ কেনেডি ছাড়া আর কোন রাষ্ট্রপতির সাথে ওবামাকে তুলনা করার কারণ দেখি না আমি, এটাই আমার মূল কথা। একের পর এক নির্বাচনের সাথে সাথে আমেরিকার রাজনৈতিক চরিত্র বদলায়নি, সত্য। তবে এটাও সত্যি যে কেনেডি বা ওবামার মত ক্যান্ডিডেটও প্রতিবার আসেনি।

কেনেডি অনেক বছরের মার্কিন নীতি থেকে সরে এসেছিলেন কিউবান মিসাইল ক্রাইসিসের সময়, যার খেসারত তাঁকে দিতে হয়েছে সিআইএ-র হাতেই খুন হয়ে। ওবামার সততা ও সৎসাহসের উপর আমার আস্থা আছে, এটাই আমার কথা। ২০০২ সালে আমেরিকায় জনপ্রিয় হওয়ার "শিওর সাক্সেস" পথ ছিল ইরাক যুদ্ধকে সমর্থন করা। সেই সময় ওবামা রাস্তায় নেমে র‌্যালি করে প্রতিবাদ করেছেন। এরপর আর যাই হোক না কেন, কিছুটা বেনিফিট-অফ-ডাউট এই মুহূর্তে প্রাপ্য।

আরেকটি ব্যাপার হল, আমরা আমেরিকার পুঁজিবাদের সাথে সাম্রাজ্যবাদকে মিলিয়ে ফেলি প্রায়ই। আমেরিকা চিরকালই পুঁজিবাদী থেকে যাবে, এবং তা আমি বাস্তবতা হিসেবেই মেনে নেই। সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র থেকে ফিরে আসতে হলে যে-কাজগুলো এই মুহূর্তে করা দরকার, ওবামা কিন্তু সেই কথাগুলো বলেই এতদূর এসেছেন।

ওয়াল স্ট্রিট নিয়ে একটাই কথা বলার আছে -- এভরিবডি লাভস দ্য উইনার। হিলারি এই নির্বাচন হেরে গিয়েছিলেন আরো ৪ মাস আগেই। সুপার ট্যুসডের পর আর কোন মতেই এই নির্বাচন যেতা সম্ভব ছিল না। তবু স্রেফ নিজের খায়েশ মেটাতে এতদূর টেনে আনা হল এটাকে। ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ীরা এরকম বাস্তববিমুখ না। সুপার ট্যুসডের আগ পর্যন্ত প্রায় সব টাকাই গেছে হিলারি টাকশালে।

হযবরল এর ছবি

আমাদের এই আলাপের মধ্যেই ওবামা আমেরিকান-ইসরায়েল লবি বৈঠক উপলক্ষ্যে স্পিচ দিয়েছেন, এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা "যেকোন মূল্যে" রক্ষা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে হ্যাঁ ইশতিয়াকের ভাষ্য মতে বেনিফিট অফ ডাউট দেওয়া যায় পূর্ব কাজের উপর ভিত্তি করে। সে ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে হিলারী ক্লিনটনের হেলথ পলিসি আজ থেকে ১২-১৩ বছর আগে কি ছিল, এবং এখন পরিবর্তন হয়ে কি হয়েছে। সুতরাং মসনদে আসবার পথ পরিষ্কারের জন্য, ''...... চামড়া তুলে নেব আমরা" বলবার মানেই এই নয় যে ক্ষমতায় এসেই তিনি চামড়া তুলবার কাজে মনোযোগ দেবেন। মসনদে আরোহণের অত্যন্ত জটিল এবং কুটিল পথ পার হতে হতে অনেক ধরণের আবেগ এবং অভিমান ছেড়ে আসতে হয়। বারাক ওবামা ও সেই একই পথ ধরবেন বলেই আমার বিশ্বাস।

* পিলজার সাহেবের এই কথাটা আমার বোধগম্য হয়নি "আমেরিকার দরিদ্র কালো মানুষের সব থেকে বড় অর্থনৈতিক বিপর্যয় সাব-প্রাইম ক্রাইসিসের জন্য দায়ী"। আমেরিকার সব ধর্ম-বর্ণ-জাতিগোষ্ঠীর মধ্যবিত্তরা এই সাব-প্রাইমের ক্রাইসিসের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অতিথি লেখক এর ছবি

ফারুক ওয়াসিফ যে বলেছেন যে তিনি আমার কাছে 'শরমিন্দা' তার মানে এই না যে তিনি আমার কাছে 'তর্কযুদ্ধে হেরে গেছেন', তার মানে এই যে তিনি ভদ্রতা জানেন !

আমি হারজিতের প্রতি ইঙ্গিত করিনি। আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিপরীতে 'সরি' বা শরমিন্দা হওয়ার দিকগুলোর অবতারণা হওয়াটাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় কিনা সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলাম। আসলে আমি ঠিক ব্যক্তি হয়ে উঠিনি, কারণ ব্যক্ত করতে পারি না। আলোচ্য বিষয়ের বাইরে যখন আলোচনা চলে যায় তখন ঠিক মূল বিষয়ের আলোচনা জমে না বলে মনে হয়। এখানেও ঠিক তাই ঘটেছে। মূল বিষয় থেকে আমি সরে গেছি।
ধন্যবাদ

জিজ্ঞাসু

হিমু এর ছবি

ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় নাম "স্টেট অব ইসরায়েল", ঠিক যেমন স্টেট অব ক্যালিফোর্নিয়া, স্টেট অব আলাবামা, স্টেট অব লুইজিয়ানা ...। যে কোন বিচারেই ইসরায়েলকে হাওয়াই বা আলাস্কার মতো দূরবর্তী ৫১তম স্টেট হিসেবে বিবেচনা করা যায়। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটা বিচি হচ্ছে ইসরায়েল, তো তার ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোন ছাড় দেবে, এটা যে মনে করে, সে ইউটোপিয়াফাইল আর কিছু নয়।

তবে গুরুমারাবিদ্যা ইসরায়েলিরাও কম রপ্ত করেনি। ইশতিয়াকের মন্তব্যে কেনেডির মৃত্যুর ব্যাপারটা দেখে এটা কথা মনে পড়ে গেলো। ধারণা করা হয়, দিমোনা প্রজেক্ট (ইসরায়েলের গোপন পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ প্রজেক্ট, যা ফাঁস করে দিয়ে মরডেকাই ভানুনু হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন) নিয়ে কেনেডি ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়িয়েছিলেন বলেই মোসাদের হাতে তার দফারফা হয়েছে।


হাঁটুপানির জলদস্যু

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

সেটাই... বলা হয়ে থাকে যে এই লবি-ই ওথ নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে প্রেসিডেন্ট রেগানকে গুলি করে "সাবধান" করে দিয়েছিল। সেই মুহূর্ত থেকেই রেগান সিধা হয়ে গেছিলেন।

দ্রোহী এর ছবি

পড়লাম। নিজের দৌড় অনুযায়ী যেটুকু বুঝার কথা—বুঝলাম।

নজরুল ভাইয়ের মত করেই বলি— আমি আদার ব্যাপারী। আমার জাহাজের খবর নিয়ে লাভ নাই। তবে আমার কেন যেন মনে হয়— আমেরিকা এখনো একজন 'কালো' বা নারীকে রাষ্ট্রপ্রধাণ হিসাবে মেনে নিতে প্রস্তুত হয়নি।


কি মাঝি? ডরাইলা?

হিমু এর ছবি

আপনের খোমা না ওবামার মতো? ওবামা জিতলে কিন্তু খবরই আছে। ডাবল হিসেবে জনসভায় কামলা দিতে হইতে পারে। কিংবা ডাব্লিউডাব্লিউএফে লুকঅ্যালাইক হিসাবে মিস্টার প্রেসিডেন্ট সাইজা সিলিকন বানুদের কোলে নিয়ে দাঁত ক্যালাইতে হইবো। সময় থাকতে খোমার মাপ পাল্টায় ফালান।


হাঁটুপানির জলদস্যু

দ্রোহী এর ছবি

ক্যামনে? বুদ্ধি দ্যান।


কি মাঝি? ডরাইলা?

তানভীর এর ছবি

দ্রোহী, আপনার ভবিষ্যত তো ফকফকা। স্যাটারডে নাইট লাইভে অডিশন দেন তাড়াতাড়ি দেঁতো হাসি

= = = = = = = = = = =
তখন কি শুধু পৃথিবীতে ছিল রং,
নাকি ছিল তারা আমাদেরও চেতনায়;
সে হৃদয় আজ রিক্ত হয়েছে যেই,
পৃথিবীতে দেখ কোনখানে রং নেই।

দ্রোহী এর ছবি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।