Warning: Creating default object from empty value in theme_img_assist_inline() (line 1488 of /var/www/sachalayatan/s6/sites/all/modules/img_assist/img_assist.module).

ছাত্রসমাজের প্রতি: জগদীশচন্দ্র বসু

গৌতম এর ছবি
লিখেছেন গৌতম (তারিখ: বিষ্যুদ, ২৫/০৬/২০০৯ - ৮:১৩পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভূমিকা: আমাদের কাছে জগদীশচন্দ্র বসুর মূল পরিচয় একজন বিজ্ঞানী হিসেবে; যিনি প্রথম প্রমাণ করেছেন প্রাণীর মতো উদ্ভিদেরও সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা আছে। এছাড়া বেতার যন্ত্রের মূল আবিষ্কারক হিসেবে অনেকেই তাঁর নাম উচ্চারণ করেন যদিও যোগাযোগ প্রযুক্তি ও পাশ্চাত্যে থাকার সুবিধা কারণে এর আবিষ্কারক হিসেবে বিজ্ঞানী মার্কনির নাম এখন সুপ্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এগুলোর পাশাপাশি বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্রের আরেকটি পরিচয় ছিলো- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক। প্রথাগত অর্থে হয়তো তাঁকে শিক্ষাবিদ বলা যাবে না, কিন্তু শিক্ষা নিয়ে তিনি যে সমস্ত কাজ করেছিলেন, যেভাবে চিন্তা করেছিলেন, তাতে শিক্ষাচিন্তক হিসেবে তাঁর নাম সামনের কাতারে থাকবে। শিক্ষার আদর্শ ও বিভিন্ন দিক নিয়ে সে সময়ে তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রচুর বক্তৃতা দিয়েছিলেন।

তাঁর এই বক্তৃতাগুলো পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জায়গায় ছাড়াছাড়াভাবে গ্রন্থিত হলেও এক মলাটে সবগুলো বক্তৃতা পাওয়া যায় না। অনেকের ধারণা- তাঁর বেশকিছু বক্তৃতা হারিয়ে গেছে এবং অনেক বক্তৃতা এখন দুর্লভ। শিক্ষা বিষয় নিয়ে কাজ করার সুবাদে তাঁর বক্তৃতার অনেকগুলো পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে, তবে এই বক্তৃতাটি আগে আমার চোখে পড়ে নি।

আকষ্মিকভাবে ব্ক্তৃতাটির একটি ফটোকপি আমি পাই নীলক্ষেতের এক ফটোকপির দোকানে, আরও অন্যান্য কাগজের সাথে ধুলায় লুটাচ্ছিলো। অক্ষরের টাইপ দেখে মনে হচ্ছে এটি সম্ভবত বাংলা একাডেমী থেকে বের হওয়া কোনো বইয়ের অংশ ছিলো। পরবর্তী সময়ে বাংলা একাডেমীতে গিয়ে নিজে খুঁজে এবং একাডেমীর বিক্রয়কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মীদের সাহায্য নিয়েও মূল বইটির হদিস করতে পারি নি, কারণ ফটোকপিতে উপরে-নিচে শুধু পৃষ্ঠা নম্বর ছাড়া আর কিছুই লেখা ছিলো না। সে কারণে তাঁর বক্তৃতার পুরোটাই ফটোকপি থেকে কম্পোজ করে ওয়েবে সংরক্ষণের জন্য এবং এ কালের পাঠকদের জন্য এখানে দিয়ে দিলাম- আশা, যদি কোনো পাঠক বইটির ঠিকুজি বের করতে পারেন! অবশ্য এ কাজ করে কপিরাইট আইন ভঙ্গ করলাম কিনা কে জানে!

আমি নিশ্চিত নই, তবে বক্তৃতার ধরন এবং আমার আগে পড়া জগদীশচন্দ্রের বক্তৃতাগুলোর কথা স্মরণ করে ধারণা হচ্ছে- এটি সম্ভবত সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের অন্তর্গত শিক্ষার্থীদের সভায় পাঠ করা বা বলা হয়ে থাকবে।

ছাত্রসমাজের প্রতি: জগদীশচন্দ্র বসু

ছাত্রসমাজের সভ্যগণ,

তোমাদের সাদর সম্ভাষণে আমি আপনাকে অনুগৃহীত মনে করিতেছি। তোমরা আমাকে একান্ত বিজ্ঞ এবং প্রবীণ মনে করিতেছ। বাস্তব পক্ষে যদিও জরা আমার বাহিরের অবয়বকে আক্রমণ করিয়াছে কিন্তু তাহার প্রভাব অন্তরে প্রবেশ করিতে পারে নাই। আমি এখনও তোমাদের মত ছাত্র ও শিক্ষার্থী। এখনও স্কুলে যাইবার পুরাতন গলিতে পৌঁছিলে স্মৃতিদ্বারা অভিভূত হই। তবে তোমাদের অপেক্ষা শিক্ষার জন্য দীর্ঘতর সময় পাইয়াছি; অনেক ভুল সংশোধন করিতে পারিয়াছি এবং অনেক বার পথ হারাইয়া পরিশেষে গন্তব্য পথের সন্ধান পাইয়াছি। আজ যদি কোন ভুলচুক কিম্বা দুর্বলতার বিরুদ্ধে তীব্রভাষা ব্যবহার করি তবে মনে রাখিও যে সে সব কষাঘাত হইতে নিজেকে কোনদিন বঞ্চিত করি নাই। কুসুমশয্যায় সুপ্ত থাকিবার সময় অতীত হইয়াছে; কণ্টকশয্যাই আমাদিগকে এখন জাগরিত রাখিবে।

এখন আমাদের দেশে সচরাচর দুই শ্রেণীর উপদেষ্টা দেখিতে পাওয়া যায়। কেহ কেহ আমাদের জাতীয় দুর্বলতার চিত্র অতি ভীষণ রূপে চিত্রিত করেন। যে দেশে এরূপ জাতিভেদ ও দলাদলি, যে দেশ দাসত্বসুলভ বহু দোষে দোষী, যে দেশে পরস্পরে এত হিংসা ও পরশ্রীকাতরতা দেখা যায়, সে দেশে কি কোনদিন উন্নতি হইতে পারে? আশ্চর্যের বিষয় এই যে এইরূপ ভয়ানক ভবিষ্যদ্‌বাণীর পর তাহাদের নিদ্রার কোন ব্যাঘাত হয় না। যদি যথার্থই বুঝিয়া থাক যে দেশে এরূপ দুর্দিন আসিয়াছে তবে কন বদ্ধপরিকর হইয়া তাহার প্রতিবিধান করিতে চেষ্টা কর না। আমি দেখিতে পাই ছাত্রদের মধ্যে, আমাদের নেতারা কেন এ কাজ করিলেন, কেন এ কাজ করিলেন না, এরূপ বচসা দ্বারাই সময় অতিবাহিত হয়। পরের কর্তব্য কি তাহা নিষ্পত্তি করিবার আমি কে? আমি কি করিতে পারি ইহাই কেবল আমার ভাবিবার বিষয়।

আবার অন্যদিকে এক দল আছেন যাহারা অতীত কালের কথা লইয়া বর্তমান ভুলিয়া থাকেন। 'জ্ঞান ও বিজ্ঞানে আমাদের পূর্বপুরুষের কিছুই অবিদিত ছিল না।' আমাদের পূর্ব ঐশ্বর্য যদি এতই মহান তবে আমাদের অধঃপতনের হেতু কি? ইহার প্রতিবিধান কি নাই? আমরা যদি সেই মহান পূর্বপুরুষের প্রকৃত বংশধর হই তাহা হইলে আমরা নিঃসন্দেহে পূর্বগৌরব অধিকার করিতে পারিবই পারিব।

পৃথিবীব্যাপী ভ্রমণ উপলক্ষে আমি দ্বিবিধ জাতীয় চরিত্র লক্ষ্য করিয়াছি। একজাতীয় চরিত্র এই যে, তাঁহারা গতকালের স্মৃতি লইয়া বৃথাগর্বে ভুলিয়া আছেন। পৃথিবী যে স্থাবর নয়, ইহা যে চিরপরিবর্তনশীল এ কথা তাহাদের বোধগম্য হয় না। এইসব -ধর্মাক্রান্ত জাতির চিহ্ন পর্যন্ত পৃথিবী হইতে মুছিয়া যাইতেছে। ইজিপ্ট আসীরিয় এবং বাবিলন- ইহাদের গত স্মৃতি ছাড়া আর কি আছে?

চীনদেশে ভ্রমণকালে সে স্থানের বিখ্যাত কয়েকজন পণ্ডিতের সহিত আমার পরিচয় হয়। তখন জাপান মাঞ্চুরিয়া গ্রাস ব্যাপারে প্রবৃত্ত ছিল। আমি আমার চীনা বন্ধুদিগকে জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনারা কী করিয়া চীনের স্বাধীনতা রক্ষা করিবেন? তখন তাঁহারা বলিলেন, চীনদেশের মত যে দেশ বহু প্রাচীন কাল হইতে সভ্যতার শীর্ষস্থান অধিকার করিয়া রহিয়াছে, সে দেশকে কি সেদিনের জাপান পরাভূত করিতে পারে! বরঞ্চ আমাদের সভ্যতাই জাপানকে পরাস্ত করিবে। এইসব কথা শুনিয়া বুঝিতে পারিলাম যে শীঘ্রই চীনের সৌভাগ্যসূর্য অস্তমিত হইবে।

অন্যদিকে তাঁহাদের প্রতিদ্বন্দ্বী জাপান পুরাতন কথা বলিয়া সময় অপচয় করিতে চাহেন না। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ লইয়া তাঁহারা যথেষ্ট ব্যস্ত। তাঁহাদের নিকট শুনিলাম যে মানবসমাজের নিয়ম আর law of hydrostatic pressure একই। যে স্থানে pressure বেশি সে স্থান হইতে জলস্রোত অল্প pressure-এর দিকে ধাবিত হয়। জীবন স্রোতও সজীব হইতে নির্জীবের দিকে। পৃথিবীতে সজীব নির্জীবের স্থান অধিকার করিবে।

অথচ সেই জাপানে অনুসন্ধান করিয়া জানিতে পারিলাম যে বিদ্যা ও বুদ্ধিতে ভারতবর্ষীয় ছাত্র সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানীদেরও উপরে উচ্চস্থান অধিকার করিয়াছে। বিদ্যাবুদ্ধির ত্রুটি নাই, তবে এরূপ দুর্দশা কেন।

আমি আজ ত্রিশ বৎসর যাবৎ শিক্ষকতার কাজ করিতেছি। ইহার মধ্যে ন্যূনকল্পে দশ হাজার ছাত্রের সহিত আমার পরিচয় হইয়াছে। তাহাদের চরিত্র কি কি গুণ তাহা জানি আর কি কি দুর্বলতা তাহাও উপলব্ধি করিতে পারিয়াছি। প্রধানতঃ, তাহাদের স্বভাব অতি কোমল, সাধারণতঃ তাহারা নম্রপ্রকৃতি, অতি সহজেই তাহাদের হৃদয় অধিকার করা যায়; এক কথায় তাহারা বড় ভালমানুষ, একবার পথ দেখাইয়া দিলে অনেকেই সেই পথ অনুসরণ করিতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ জলপ্লাবন, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি দুর্ঘটনার সময় ছাত্রদের মধ্যে অদ্ভুত কার্যপরায়ণতা দেখা গিয়াছে। এতগুলি ছেলে কি সুন্দররূপে নিজেকে organise করিয়াছে। বেশি কথা না বলিয়া অতি সংযতভাবে কি সুন্দররূপে লোকসেবা করিয়াছে। এরূপ শুশ্রুষা করিবার ক্ষমতা, এরূপ ধৈর্য, এরূপ কষ্টসহিষ্ণুতা, এরূপ অসন্তুষ্টির অভাব সচরাচর দেখা যায় না। আমি যেসব গুণ বর্ণনা করিলাম তাহা পুরুষে প্রায় দেখা যায় না, সচরাচর নারীজাতিই এসব মহৎ গুণের অধিকারিণী।

ইহার বিপরীত কেন্দ্রে কোন কোন পুরুষ দেখিতে পাওয়া যায় যাদের চরিত্র সম্পূর্ণ বিভিন্ন প্রকার। তাঁহাদের ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা একেবারেই নাই, তাঁহারা কিছুই মানিয়া লইতে চাহেন না, তাঁহারা সর্বদাই অসন্তুষ্ট, তাঁহাদের হৃদয় দুর্জয় ক্রোধে পূর্ণ। এইরূপ লোকের জাতীয় জীবনে স্থান কোথায়?

আমি এইরূপ প্রকৃতির একজনকে জানিতাম তিনি চিরস্মরণীয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। সমাজের নির্মম বিধানে তাঁহার ক্রোধ সর্বদা উদ্দীপ্ত থাকিত। আশ্চর্য এই যে ক্রোধ ও মমতা অনেক সময় একাধারেই দেখিতে পাওয়া যায়। বিদ্যাসাগরের ন্যায় কোমলহৃদয় আর কোথায় দেখিতে পাওয়া যায়? তিনি কোন বিধানই মানিয়া লইতেন না; অসীম শক্তিবলে তিনি একাই সমাজের কঠিন শৃঙ্খল ভগ্ন করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন।

এই প্রকার দুর্দান্ত ও ক্রোধপরায়ণ লোক কখন কখন জন্মগ্রহণ করিয়া থাকেন। তাহাদের জীবন নিষ্ফলতাতেই পর্যবসিত হয়, তাহাদের ধৈর্য নাই, তাহাদের সহিষ্ণুতা নাই। দেশব্যাপী রোগের সেবা ও পরিচর্যা? পীড়ারও অন্ত নাই, শুশ্রুষারও অন্ত নাই, এরূপ কতকাল চলিবে? ইহার কি প্রতিবিধান নাই? কি করিয়া ম্যালেরিয়া দেশ হইতে দূর করা যায়? এরূপ জঙ্গল ও ডোবার মধ্যে মানুষ কি করিয়া বাঁচিতে পারে? ইহার প্রতিকার নিশ্চয়ই আছে।

তাছাড়া আরও শত শত কার্য আছে, সাধারণের মধ্যে শিক্ষা প্রচার, জ্ঞান প্রচার, শিল্প ও বিজ্ঞানের উন্নতি, দেশে বিদেশে ভারতের মহিমা বৃদ্ধি করা। দুর্বল ভালমানুষের দ্বারা এসব হইবে না, এইসবের জন্য বিক্রমশীল পুরুষের আবশ্যক, তাহাদের পূর্ণ শক্তির আঘাতে সব বাধাবিঘ্ন শূন্যে মিশিয়া যাইবে।

আর যে শান্তির ক্রোড়ে আমরা এতদিন নিশ্চেষ্ট ও সুপ্তভাবে জীবন যাপন করিয়াছি, জগৎ হইতে সেই শান্তি অপসৃত হইয়াছে। শান্তি কোন জাতির পৈতৃক অথবা চিরসম্পত্তি নহে; বল দ্বারা, শক্তি দ্বারা, জীবন দ্বারা শান্তি আহরণ করিতে এবং রক্ষা করিতে হয়। বলযুক্ত হও, শক্তিমান্‌ হও এবং তোমাদের শক্তি দেশের সেবায় এবং দুর্বলের সেবায় নিয়োজিত হউক।


মন্তব্য

নুরুজ্জামান মানিক এর ছবি

গুরুত্বপূর্ণ এই দলিল শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ গৌতম

এই কথাগুলি আজও সত্য -

এখন আমাদের দেশে সচরাচর দুই শ্রেণীর উপদেষ্টা দেখিতে পাওয়া যায়। কেহ কেহ আমাদের জাতীয় দুর্বলতার চিত্র অতি ভীষণ রূপে চিত্রিত করেন। যে দেশে এরূপ জাতিভেদ ও দলাদলি, যে দেশ দাসত্বসুলভ বহু দোষে দোষী, যে দেশে পরস্পরে এত হিংসা ও পরশ্রীকাতরতা দেখা যায়, সে দেশে কি কোনদিন উন্নতি হইতে পারে? আশ্চর্যের বিষয় এই যে এইরূপ ভয়ানক ভবিষ্যদ্‌বাণীর পর তাহাদের নিদ্রার কোন ব্যাঘাত হয় না। যদি যথার্থই বুঝিয়া থাক যে দেশে এরূপ দুর্দিন আসিয়াছে তবে কন বদ্ধপরিকর হইয়া তাহার প্রতিবিধান করিতে চেষ্টা কর না। আমি দেখিতে পাই ছাত্রদের মধ্যে, আমাদের নেতারা কেন এ কাজ করিলেন, কেন এ কাজ করিলেন না, এরূপ বচসা দ্বারাই সময় অতিবাহিত হয়। পরের কর্তব্য কি তাহা নিষ্পত্তি করিবার আমি কে? আমি কি করিতে পারি ইহাই কেবল আমার ভাবিবার বিষয়।

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

নুরুজ্জামান মানিক
*******************************************
বলে এক আর করে আর এক যারা
তারাই প্রচণ্ড বাঁচা বেঁচে আছে দাপটে হরষে
এই প্রতারক কালে (মুজিব মেহদী)

গৌতম এর ছবি

ধন্যবাদ মানিক ভাই। তখনকার দিনেই জগদীশচন্দ্র এই কথাগুলো বলে গেছেন। আজকে বেঁচে থাকলে কী বলতেন ভেবে পাই না।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

তুলিরেখা এর ছবি

আপনাকে অসংখ্য ধনবাদ। ঠিক জানিনা কত বছর পার হয়ে গেছে এই কথাগুলো যখন তিনি বলেছিলেন তার পরে, হয়তো একশো বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, প্রায় প্রত্যেক কথা আজো প্রাসঙ্গিক!

জগদীশচন্দ্রের "ভাগিরথীর উৎস সন্ধানে" পড়ে ওঁর সাহিত্যশৈলীর চিরকালের অনুরাগী হয়ে গেছি। তারপরে খুঁজে খুঁজে যেখানে যা পেতাম, পড়তাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বেশী লেখা পাই নি। আসলেই এই ধরনের মানুষদের লেখা পুন:প্রকাশ ও সংরক্ষণ খুব প্রয়োজন। কী অপূর্ব এক লিখনশৈলী! একটুও ভার লাগে না মনের উপরে, সকালের আলোর মতন হালকা, কী উজল, কী তীব্র তেজ! প্রকৃত শিক্ষক একজন!

বিদ্যাসাগরের লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী খুব খুঁজি। সে লেখাও শুনেছি অসাধারণ।

লেখাটির জন্য আপনাকে আবার ধন্যবাদ জানাই।

-----------------------------------------------
কোন দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

-----------------------------------------------
কোন্‌ দূর নক্ষত্রের চোখের বিস্ময়
তাহার মানুষ-চোখে ছবি দেখে
একা জেগে রয় -

গৌতম এর ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ তুলিরেখা। আমাদের বর্তমান সময়কে বিবেচনায় ধরলে তখনকার পরিবেশ অনেক ভালো ছিলো। সেই সময়েই তাঁর এই কথাগুলো মনে হয়েছিলো। এখনকার পরিবেশে বেঁচে থাকলে না জানি কী বলতেন!

জগদীশচন্দ্রের লেখা খুব একটা পাওয়া যায় না। আমিও খুঁজি। ওয়েবে কোনো লিংক পেলে শেয়ার করবেন আশা করি।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

অনীক আন্দালিব এর ছবি

কেহ কেহ আমাদের জাতীয় দুর্বলতার চিত্র অতি ভীষণ রূপে চিত্রিত করেন। যে দেশে এরূপ জাতিভেদ ও দলাদলি, যে দেশ দাসত্বসুলভ বহু দোষে দোষী, যে দেশে পরস্পরে এত হিংসা ও পরশ্রীকাতরতা দেখা যায়, সে দেশে কি কোনদিন উন্নতি হইতে পারে?...
আবার অন্যদিকে এক দল আছেন যাহারা অতীত কালের কথা লইয়া বর্তমান ভুলিয়া থাকেন।

জগদীশচন্দ্র বুদ্ধিজীবী চিনিয়াছিলেন বেশ! এখনও এই বঙ্গে এমন বুদ্ধিজীবীরা নৈশ-দূরদর্শনে আবোল-তাবোল বকিয়া থাকেন।

বক্তৃতাটির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিলেও কম বলা হবে। সকাল সকাল এমন চমৎকার একটা লেখা পড়লাম। কিছু কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের কথা শুনলে মনের মাঝে একটা অপরিসীম বল পাওয়া যায়। নিজেদের জ্যোতিতেই তারা আমাদের আলোকিত করেন, উদ্দীপিত করেন, উদ্বুদ্ধ করে তোলেন। জগদীশচন্দ্র বসু'র এই লেখাটিও ততটাই আশাবাদী।
বঙ্গীয় পুরুষের 'নরম' স্বভাবের বর্ণনা পড়তে পড়তেই ঈশ্বরচন্দ্রের কথা মাথায় আসছিল, দেখলাম তিনি তাঁকেও উল্লেখ করেছেন। এমন মহান লোক এই জাতিতে ভুল করে জন্মেছিলেন মনে হয়!
আবারও ধন্যবাদ আপনাকে।

গৌতম এর ছবি

এমন মহান লোক এই জাতিতে ভুল করে জন্মেছিলেন মনে হয়!
- একদম ঠিক। তবে এই লোক না জন্মালে আমরা আজকে কোন জায়গায় থাকতাম, ভাবতে গেলে গায়ে কাঁটা দেয়।

আপনাকেও ধন্যবাদ- পড়ার জন্য ও মন্তব্য করে উৎসাহিত করার জন্য।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শামীম এর ছবি

পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ।

আমিও অবাক হলাম এই ভেবে যে, এ্যাত পূর্বেও এদেশে একই চিত্র ছিল! একই সাথে একটু আশ্বস্থ হলাম যে, এ্যাত বছর পরেও যদি একইরকম অবস্থা থাকে তাহলে সহসা এদেশ রসাতলে যাচ্ছে না (ইতিমধ্যেই যদি সেখানে না থেকে থাকে)।

নিজ জাতিকে নতুন করে চিনলাম এই বক্তৃতা থেকে।

যে দেশে এরূপ জাতিভেদ ও দলাদলি, যে দেশ দাসত্বসুলভ বহু দোষে দোষী, যে দেশে পরস্পরে এত হিংসা ও পরশ্রীকাতরতা দেখা যায়, সে দেশে কি কোনদিন উন্নতি হইতে পারে?

আমিও তো এই কথা বলি! ... আহ্ ... মিলে গেল।

হীনমন্যতা; দাসত্বসুলভ - অর্থাৎ এই দেশের মালিক আমি হলে তো যত্ন নেব, দাস হলে খালি সমালোচনা করবো --- মালিকে কেন এসব করেনা। দেশের প্রতি আমাদের কোনরূপ ownership নাই - থাকলে সমালোচনা বাদ দিয়ে কাজ শুরু করতাম।

যদি যথার্থই বুঝিয়া থাক যে দেশে এরূপ দুর্দিন আসিয়াছে তবে কন বদ্ধপরিকর হইয়া তাহার প্রতিবিধান করিতে চেষ্টা কর না। আমি দেখিতে পাই ছাত্রদের মধ্যে, আমাদের নেতারা কেন এ কাজ করিলেন, কেন এ কাজ করিলেন না, এরূপ বচসা দ্বারাই সময় অতিবাহিত হয়। পরের কর্তব্য কি তাহা নিষ্পত্তি করিবার আমি কে? আমি কি করিতে পারি ইহাই কেবল আমার ভাবিবার বিষয়।

এজন্যই তো পাইরেসী মুক্ত হওয়ার আন্দোলন করতেছি .... নিজেকে একটু বিক্রমশীল মনে হচ্ছে চোখ টিপি

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

গৌতম এর ছবি

আমিও অবাক হলাম এই ভেবে যে, এ্যাত পূর্বেও এদেশে একই চিত্র ছিল! একই সাথে একটু আশ্বস্থ হলাম যে, এ্যাত বছর পরেও যদি একইরকম অবস্থা থাকে তাহলে সহসা এদেশ রসাতলে যাচ্ছে না (ইতিমধ্যেই যদি সেখানে না থেকে থাকে)।
- ওই সময়ের চিত্র আর এই সময়ের চিত্র বোধহয় এক না। উনারা আগুনের ফুলকি দেখেছিলেন, তাতেই এই কথা বলেছিলেন। আর যদি আজকের মতো পূর্ণভাবে প্রজ্জ্বলিত আগুন দেখতেন, তাতে না জানি কী কথা বলতেন!

এজন্যই তো পাইরেসী মুক্ত হওয়ার আন্দোলন করতেছি
- ঠিক। সবাই নিজের কাজটুকু নিজে করলেই কিন্তু অনেক কাজ হয়ে যায়। পাইরেসী মুক্ত আন্দোলনে আপনার সাথে আছি।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

স্বপ্নহারা এর ছবি

অসাধারণ!

গৌতম এর ছবি

ধন্যবাদ, স্বপ্নহারা।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

খুবই সুন্দর!
কই সে শিক্ষক? আর এই কথাগুলোর বর পাওয়া সেই ছাত্ররাই বা কাই আজ?! মন খারাপ

গৌতম দা', সাধুবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা নেই। সত্যিই।
চলুক
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

গৌতম এর ছবি

ধন্যবাদ, সাইফুল ভাই। এই শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের আমিও খুঁজি।

অফটপিক: আপনার সিগনেচারে লেখা স্বাক্ষর শব্দটা যদি নিরক্ষরের বিপরীতে ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে বানানটা হবে সাক্ষর। না হলে ঠিক আছে।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

হুম। মন খারাপ

অন অফ-টপিক:
না বস, আমি স্বাক্ষর প্যানেলে 'স্বাক্ষর'টা সিগনেচার অর্থেই বলেছি। সো, ঠিকই আছে। হ্যাঁ, আমি এই বানান দুইটা সম্পর্কে সজ্ঞান-সচেতন থেকেই লিখেছি এটা।
নিরক্ষরের সাথে এই 'স্বাক্ষর'এর সম্পর্ক এটুকুই (এই তিনটা লাইনের মিনিংয়ে আয়রনিক এক্সপ্রেশনটা যা দিতে চেয়েছি) যে, যে কি না সাক্ষরই (যেইটার কথা আপনি বললেন নিরক্ষরের সরাসরি বিপরীত) না, তার আবার স্বাক্ষর আসবে কোত্থেকে! সিগনেচার দিতে হ'লে তো অক্ষরজ্ঞান থাকতে হবে আগে।
ব্যাপার না গৌতমদা'।
ভালো থাকেন। হাসি
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

গৌতম এর ছবি

আপনার স্বাক্ষরের মানে এতোদিনে বুঝলাম। সেটা নিয়া কোনো কথা নাই। এর আগে ইনার মিনিংটা ধরতে পারি নি। তাই ওই প্রশ্নটা করেছিলাম।

কিন্তু

সিগনেচার দিতে হ'লে তো অক্ষরজ্ঞান থাকতে হবে আগে।
- এটার সাথে একটু দ্বিমত পোষণ করছি। সিগনেচার দেওয়ার উদ্দেশ্যটা হলো একজনের চিহ্নটাকে আরেকজনের কাছ থেকে আলাদা করা। সেটা অসাক্ষররাও দিতে পারে- টিপসই। সিগনেচারের আভিধানিক অর্থটাকে না ধরলে এর উদ্দেশ্য কিন্তু ওই টিপসই-ই নেওয়া। যারা লিখতে পারে, তারা নিজের নামটা কলম দিয়ে এঁকেবেঁকে দেয়, আর যারা পারে না, তারা বুড়ো আঙ্গুলে কালি মেখে চাপ দেয়। ঠিক বললাম কি?
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

বেশ মজার বিষয়ই নিয়ে আসলেন। ওকে, লেট মি ক্লিয়ারিফাই ওয়ান্স অ্যাগেইন।

হ্যাঁ, সইয়ের মধ্যে টিপ-সই আর অক্ষর-সই দুইটাই পড়ে। আর নির্দিষ্ট ক'রে এই অক্ষর-সই-টাই কিন্তু স্বাক্ষর।
'সাক্ষর' মানে যেমন অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন, তেমন 'স্বাক্ষর' মানেও কিন্তু নিজের অক্ষর (বা অক্ষরে নিজের অনন্য ভঙ্গি বা ঢং, যেটা তাকে অন্যদের অক্ষরের থেকে, অন্যদের ভঙ্গির থেকে ভিন্ন অর্থাত্ অনন্য রাখবে), নিজের যেকোনো চিহ্ন না। হ্যাঁ, নিজের অক্ষর দিয়েই নিজেকে আলাদা করা হবে- এটাই তো স্বাক্ষরের জন্মোদ্দেশ্য। আলাদা করার জন্যই ওই এঁকেবেঁকে দিয়ে নিজের অক্ষরটাকে আলাদা করা। টিপসই সই বটে, তবে স্বাক্ষর না, কারণ সেখানে অন্য অনন্য চিহ্ন (হাতের ছাপ) থাকলেও কোনো অক্ষর তো নেই।
ব্যাপারটি তাই নয় কি? হাসি

___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

গৌতম এর ছবি

আসলেই মজার। আমি নিজেই এখন দ্বিধার মধ্যে পড়ে গেলাম। (দ্বিধার ইমোটিকন নাই?)

আপনার ব্যাখ্যাটি বেশ যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে। কিন্তু আমি যার কাছ থেকে ওই ব্যাখ্যাটি শুনেছিলাম (যেটি উপরে লিখেছি), তিনি আমাকে এভাবেই বলেছিলেন। আপনার ব্যাখ্যাটি নিয়ে তো তাঁর কাছে ছুটতে হয়! দেখি তিনি কী বলেন! হাসি
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সাইফুল আকবর খান এর ছবি

হাসি
___________
স্বাক্ষর?!
মাঝেসাঝে বুঝতে পাই- আমি
নিরক্ষর!

___________
সবকিছু নিয়ে এখন সত্যিই বেশ ত্রিধা'য় আছি

শিক্ষানবিস এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ এই মূল্যবান বক্তৃতাটি সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য।
জগদীশচন্দ্রের "অব্যক্ত" বইয়ে এটা সংযুক্ত আছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তাদের চিরায়ত বাংলা গ্রন্থমালা সিরিজের অংশ হিসেবে অব্যক্ত প্রকাশ করেছে। আজিজ মার্কেট বা বাংলা মোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অফিসে গেলে আশাকরি বইটা পাবেন।

তবে এতে কপিরাইট নিয়ে কোন ঝামেলা নেই। কারণ বসু ১৯৩৭ সালে মৃত্যুবরণ করেছেন। লেখক মারা যাওয়ার ৬০ বছর পর তার বইয়ের স্বত্ত্ব থাকে না। যে কেউ তা প্রকাশ করতে পারে।
এই সুযোগে আমি নিজেই এই বইয়ের কিছু অংশ টাইপ করে "উইকিসংকলন" এ প্রকাশ করা শুরু করেছিলাম। এই লিংকে গেলে জগদীশের অব্যক্ত বইয়ের আন্তর্জাল সংস্করণ পাবেন:
অব্যক্ত

তবে পুরোটা টাইপ করতে পারিনি। মাত্র কয়েকটা অধ্যায় করেছিলাম। উপরের পাতায় যে অধ্যায়গুলোর লিংক নীল হয়ে আছে সেগুলোই টাইপ করা হয়েছে। বইটা এখনও আছে তবে এর বেশী নেটে নিয়ে আসতে পারিনি।
অনুমতি দিলে আপনার এই টাইপ করা অংশটুকু উইকিসংকলনে মূল বইয়ের সাথে যুক্ত করে দিতে পারি। অধ্যায়গুলোর নাম দেখুন: শেষ অধ্যায়ের নাম "ছাত্রসমাজের প্রতি", কিন্তু লাল হয়ে আছে। তার মানে এখনও সেটা যোগ করা হয়নি।

গৌতম এর ছবি

ধন্যবাদ শিক্ষানবিস, অনেক উপকার করলেন। আমি বইটি আজই সংগ্রহের চেষ্টা করবো। এর আজিজ মার্কেটে বইটি খুঁজেছিলাম কিন্তু পাই নি। এখন প্রয়োজনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকেও সংগ্রহ করা যাবে।

আর উইকিসংকলনে ইতোমধ্যেই আমি যুক্ত করে দিয়েছি। চেক করে দেখুন তো ঠিকঠাক আছে কিনা। ধন্যবাদ।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সিরাত এর ছবি

সাবাশ সচলগণ! দারুন সহযোগিতা।

সাইট তো দারুন দেখা যায়! ধন্যবাদ!

সিরাত এর ছবি

আচ্ছা, আমি বহুদিন ধরে কাজী নজরুল ইসলামের 'দুরন্ত পথিক' গল্পটা খুঁজছি। এটার কি কোন অনলাইন ভার্সন আছে কারো কাছে? থাকলে একটু লিংক ইত্যাদি দিন না।

গৌতম এর ছবি

না, অনেক খোঁজলাম, কিন্তু পেলাম না।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শামীম এর ছবি

এই বইটা আমার বাবার বাসায় বুকশেলফে থাকার কথা (মালিকানা আমারই) ... ...

এ্যাতক্ষণে দুইয়ে দুইয়ে চার মিললো ... আমার মাথায় ঘোরা কথাগুলার সাথে এই লেখার বক্তব্য একই রকম কেন .... দেঁতো হাসি
________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

________________________________
সমস্যা জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ; পালিয়ে লাভ নাই।

গৌতম এর ছবি

শিক্ষানবিস ভাই, আজকে আজিজ মার্কেটে গিয়ে 'অব্যক্ত' বইটি কিনে আনলাম। কলকাতা থেকে দে'জ পাবলিশিং এটা প্রকাশ করেছে। কিন্তু তাতে এই ভাষণটি নেই। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র যদি 'অব্যক্ত' বের করে সেখানে এই ভাষণটি রেখে থাকে, তাহলে অবাক হবো। কারণ 'অব্যক্ত' বইতে কী কী থাকবে তা খোদ লেখক চিহ্নিত করে গেছেন।

এর আগে শিক্ষা নিয়ে জগদীশচন্দ্রের বেশ কিছু বক্তৃতা বা বক্তব্য আমি পড়েছি। এটি আগে কখনও পড়ি নি। অনেকে ধারণা করেন তাঁর দেওয়া বেশ কিছু বক্তৃতা হয় হারিয়ে গেছে, নয়তো কোথাও প্রকাশিত হলেও অনেকেই সে খবর রাখেন না। সেগুলো কোনো খোঁজ পেলে জানাবেন প্লিজ।

আর উইকিসংকলনে বাকি লেখাগুলো প্রকাশের ব্যাপারে ভাববেন না। আমিই সময় করে দিয়ে দিবো। ধন্যবাদ। বিশেষ করে বইয়ের নামটি দেওয়ার জন্য। ভালো থাকবেন।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

শিক্ষানবিস এর ছবি

বিশ্বসাহিত্যের সংস্করণে "ছাত্রসমাজের প্রতি" বক্তৃতাটা আছে। এটা সর্বশেষ অধ্যায়। এই অধ্যায়ের শেষে অবশ্য একটা ছোট পাদটীকা আছে:

'গ্রন্থপরিচয়' ও 'জগদীশচন্দ্রের বাংলা রচনাসূচী' মুদ্রিত হইয়া যাইবার পর এই রচনাটির পাণ্ডুলিপি পাওয়া গিয়াছে- এইজন্য ঐ দুই বিভাগে ইহার উল্লেখ করা সম্ভব হয় নাই। সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের অন্তর্গত ছাত্রসমাজের সভায় এই অভিভাষণ পঠিত বা কথিত হইয়া থাকিবে।

গৌতম এর ছবি

আচ্ছা, এতোক্ষণে বুঝলাম। ধন্যবাদ।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

স্বপ্নাহত এর ছবি

পোস্টটার জন্য ধন্যবাদ। চলুক

---------------------------------

তবে যে ভারি ল্যাজ উঁচিয়ে পুটুস্‌ পাটুস্‌ চাও?!

---------------------------------

বাঁইচ্যা আছি

গৌতম এর ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ স্বপ্নাহত।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সিরাত এর ছবি

অসাধারণ। আমি কিছু উদ্ধৃতি আমার বন্ধুদের সাথে মাত্র ভাগাভাগি করলাম। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ কষ্ট করে তুলে দেয়ার জন্য। পাঁচ। চলুক

গৌতম এর ছবি

আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ সিরাত ভাই।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

অনুপম শহীদ এর ছবি

" এখন আমাদের দেশে সচরাচর দুই শ্রেণীর উপদেষ্টা দেখিতে পাওয়া যায়।
কেহ কেহ আমাদের জাতীয় দুর্বলতার চিত্র অতি ভীষণ রূপে চিত্রিত করেন। যে দেশে এরূপ জাতিভেদ ও দলাদলি, যে দেশ দাসত্বসুলভ বহু দোষে দোষী, যে দেশে পরস্পরে এত হিংসা ও পরশ্রীকাতরতা দেখা যায়, সে দেশে কি কোনদিন উন্নতি হইতে পারে? "

এবং

" আবার অন্যদিকে এক দল আছেন যাহারা অতীত কালের কথা লইয়া বর্তমান ভুলিয়া থাকেন। 'জ্ঞান ও বিজ্ঞানে আমাদের পূর্বপুরুষের কিছুই অবিদিত ছিল না।' আমাদের পূর্ব ঐশ্বর্য যদি এতই মহান তবে আমাদের অধঃপতনের হেতু কি? ইহার প্রতিবিধান কি নাই? "

এত কন্টেমপরারি/আধুনিক (বাংলা কি হলো?!) কথা গুলো! আমাদের জাতীয় চরিত্রটাকে একেবারে সঠিক চিনেছেন! বিভক্তি পূর্ব ভারতবর্ষে বলা একথা! আজকে যদি থাকতেন তাহলে হয়ত বাক্যহারা হতেন!

এদিকে আমাদের দেশে তো ২য় শ্রেণীর প্রতাপ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে! একটা বই-ই যখন সব জ্ঞানের আধার তখন শুধু সেটা পড়ার এবং পড়ানোর দিকেই ঝুকছি আমরা!

ও! ধন্যবাদটা তো দেওয়াই হয়নি পোস্টের জন্য!
ধন্যবাদ!

গৌতম এর ছবি

আজকে যদি থাকতেন তাহলে হয়ত বাক্যহারা হতেন!
- একমত।

আর পড়ার ও সুন্দর কমেন্ট করার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

তীরন্দাজ এর ছবি

লেখাটি তুলে দেয়ার জন্যে ধন্যবাদ আপনাকে!
**********************************
কৌনিক দুরত্ব মাপে পৌরাণিক ঘোড়া!

**********************************
যাহা বলিব, সত্য বলিব

গৌতম এর ছবি

পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

ধন্যবাদ...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

গৌতম এর ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ নজরুল ভাই।
.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

::: http://www.bdeduarticle.com
::: http://www.facebook.com/profile.php?id=614262553/

.............................................
আজকে ভোরের আলোয় উজ্জ্বল
এই জীবনের পদ্মপাতার জল - জীবনানন্দ দাশ

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।