সারের অভাবে স্যরি বলবেন কে?

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ১২/১১/২০০৭ - ৮:১২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

রবি মৌসুমের শুরুতে সার নিয়ে যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা আগের কোনো সময়ের তুলনায় আলাদা কিছু নয়। আমাদের উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা এই সময় সাধারণতৰ সবচেয়ে লাভজনক হিসেবে গণ্য করে আলুর আবাদ করেন। সেই আলুর জমিতে সার প্রয়োজন। কিন্তু তারা পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না। এই গলদটা আসলে যে কোথায় তাও বোঝা যাচ্ছে না। অনেক জায়গায় সার নেই বলছেন ডিলাররা, অথচ বেশি দাম দিলে সার মিলছে। তার অর্থটা কী? এসব অর্থ খুজে বের করাটা জরুরি। কারণ কৃষকদের এভাবে অন্ধকারে রাখলে উত্ পাদন বাধাগ্রস্থ হবে। সারেরর এই অভাবের জন্য স্যরিটা কে বলবেন, তাও কিন্তু আমরা জানি না।

শিবলী নোমান


মন্তব্য

অছ্যুৎ বলাই এর ছবি

কৃষককে কে কেয়ার করে বলেন? সব পাগোলেরই একই আখড়া, নির্বাচিত হোক, অনির্বাচিত হোক, সব সরকারের একই তপস্যা, একই ধ্যান: ক্ষমতা। সে ধ্যান বাদ দিয়ে কোথাকার কোন কৃষকের সমস্যা নিয়ে কে মাথা ঘামাবে বলেন!

---------
চাবি থাকনই শেষ কথা নয়; তালার হদিস রাখতে হইবো

হাসান মোরশেদ এর ছবি

শিবলী নোমান,রাজশাহী?
ভালো আছেন তো?
স্যরি বলার হেডম তো স্যারদের নাই
-----------------------------------------
'প্রিয়তম পাতাগুলো ঝরে যাবে মনে ও রাখবেনা
আমি কে ছিলাম,কি ছিলাম--কেন আমি
সংসারী না হয়ে খুব রাগ করে হয়েছি সন্ন্যাসী
হয়েছি হিরন দাহ,হয়েছি বিজন ব্যথা,হয়েছি আগুন'

-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

সুবিনয় মুস্তফী এর ছবি

সময়োপযোগী লেখার জন্যে ধন্যবাদ। বিজ্ঞানের ছাত্ররা আরও ভাল বলতে পারবেন, কিন্তু যতদূর জানি সার উৎপাদনে কাঁচামাল হিসেবে খনিজ জ্বালানীর বাই-প্রোডাক্ট ব্যবহার করা হয়। খনিজ জ্বালানীর আন্তর্জাতিক দামের যে অবস্থা তাতে ভরসা পাওয়া যাচ্ছে না। খবরে পড়লাম যে সরকার চীন থেকে আরো কয়েক লাখ টন ইউরিয়া আমদানী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ধারণা ছিল যে আমরা বুঝি সার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অবস্থাদৃষ্টে তা নয়। ২৮ লাখ টন বার্ষিক চাহিদায় প্রায় ৩৩% ঘাটতি আছে, যেটা বাইরে থেকে কিনতে হয়। বোঝা যাচ্ছে কাঁচামাল আমদানীতে এখন থেকে বেশী টাকা যাবে, আর তৈরী সার আমদানীতেও একই। টিএসপি আর এমপি সারের দাম ইতিমধ্যে বাড়ানো হয়েছে এবং সামনে আবারো বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। একদিকে সরকার বলছে যথেষ্ট পরিমানে সার মজুদ আছে, অন্যদিকে কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না। জামালপুর আর ঘোড়াশালের সার কারখানায় ক্যাপাসিটি অনুযায়ী উৎপাদন হয় না। এই সুযোগে সীমান্তের ওপার থেকে চোরাচালানী হয়েও সার আসছে, এমন রিপোর্টও আছে।

আরো বেশী ভর্তুকি দিয়ে হলেও সারের দামটা কমিয়ে রাখা এবং কৃষকের কাছে সময়মত সার পৌঁছানোটা জরুরী। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কি অবস্থা জানিনা, কিন্তু সার দেওয়া নিয়ে আজকে কার্পণ্য করলে আগামীকাল তার কুপ্রভাব সারা দেশের খাদ্যদ্রব্যের মূল্যে গিয়ে পড়বে। সরকার যদি সাশ্রয় করতে চায়, তাহলে নিশ্চয়ই আরো পথ আছে। আয়কর কেমন উঠছে? খোঁজ নেওয়া উচিত যে দেশের এলিট ব্যবসায়ী শ্রেণী রাজস্ব দিচ্ছে কিনা ঠিকমত, অতীতে যেই কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, সেটারও খোঁজ লাগানো দরকার। গুলশান-বনানীতে যারা ১৩০ টাকা দিয়ে কফি আর ২০০ টাকা দিয়ে মুরগীর রান খাওয়ার ক্ষমতা রাখে, তারা সবাই কি ঠিকমত ট্যাক্স দিচ্ছে?

-------------------------
হাজার বছর ব্লগর ব্লগর

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।