একটি বর্ষণমুখর সন্ধ্যা

তাহসিন আহমেদ গালিব এর ছবি
লিখেছেন তাহসিন আহমেদ গালিব [অতিথি] (তারিখ: সোম, ১৩/০৪/২০০৯ - ৩:১২অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

দশম শ্রেণীতে পড়াকালে-
বার্ষিক পরীক্ষায় রচনা আসে ‘একটি বর্ষণমুখর সন্ধ্যা’
শুরুটা যেমনই হোক, শেষের দিকের কোথাও হয়তো লিখেছিলাম
‘পাড় ভাঙ্গার জন্য ঢেউই দায়ী।’
কিন্তু না! শিক্ষকমশাই খুবই অসন্তুষ্ট
সোজা-সাপ্টা লাল অক্ষরে লিখে দিলেন ‘অপ্রাসঙ্গিক’।
কুড়ি নম্বরের মধ্যে পেলাম সাত!

আমি জানি, আমার চাওয়ায় সর্বদা রয়েছে জলের সম্মতি
সম্মতি না ছাঁই! মা বললেন, “কিরে! বাংলার পন্ডিত, কম নম্বর পেলি কেন?”
পেলাম না কোথায়?
কবিতার ছন্দে উত্তর দেই-
“বিশে পেয়েছি সাত, এবার করবো বাজিমাত!”
সবই জলের সম্মতি।
কেন মা জানেন না, বর্ষার পানি আর ঢেউয়ের পানি সব একই জলগোত্রের?
বৃষ্টি’র প্রসঙ্গ অবশ্য আলাদা;
কাজিনের ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল
দেখতেও নাকি অত্যধিক সুন্দরী (শোনা কথায় কান দেই না যদিও)!
সে প্রসঙ্গে পরে আসি।

যথারীতি ফলাফল প্রকাশিত হইলো-
রোদ-কালারের খামে করে কম্পিউটার কম্পোজ রেজাল্ট নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম
শুরুতেই ভুল! অ্যাঁৎকে উঠলাম।
ক্লাস টিচার নিশাত হাসান(ইংরেজি শিক্ষিকা!)
আমার শিফটের স্থানটিতে ‘Morning Shift’ এর বদলে
লিখে রেখেছেন ‘Mornning Shift’
একটি বোনাস ‘N’ পেয়ে মন্দ হলো না(উনার নামের শুরুটাই কিনা ‘N’ দিয়ে)

অভিভাবক ফলাফলে যথারীতি সন্তুষ্ট হতে পারলেন না।

ভালো নোট থাকা সত্ত্বেও সেই বর্ষণমুখর সন্ধ্যা রচনাটি
আমার আর মুখস্থ করা হয়ে উঠে না।
স্কুল-কলেজের বাধ্য-বাধকতা যদি না থাকতো,
নিজের মত করে তবে আমি লিখে দিয়ে আসতাম।
আমি লিখতাম- “দিনটি ছিল শুক্রবার(তারিখ মনে নাই!)
মোহাম্মদপুরে নোমান স্যারের বাসায় সন্ধ্যায় বাংলা পড়া।
মেগাসিটি বাসের সারাটা পথ বসে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বইয়ের
‘কারক ও বিভক্তি’ এবং ‘সম্বন্ধ পদ ও সম্বোধন পদ’ চোখ বুলিয়ে যাচ্ছি।
বাহিরে ঝুম বৃষ্টি। বাসের ভিতর ভ্যাপসা আবহাওয়া।
জানালার গা বেয়ে পানি চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে।
আমি বাম থেকে ক্রমাগত ডানদিকে চেপে যাচ্ছি
পাশের সিটে বসা আন্টি তাতে মনে হয় সামান্য বিরক্ত!
অবশেষে স্যারের বাসার সামনে যেতেই দেখি সাজ্জাদ গাড়িতে বসা।
ভিজতে ভিজতে বাসার সামনে কলিংবেল বাজাতে যাব-
সাজ্জাদের এক হাতে ছাতা আর এক হাতে ব্যাগ
আমি বেল দিতেই চিৎকার দিলাম আঁউউ!
সাজ্জাদ বলে, “কিরে দোস্ত!”
আমি বলি, “শালা! কারেন্টে সক্ খাইছি।”
স্যার জিজ্ঞাসা করেন, “সক্ খাইয়াছো ছাত্র?”
আমি বলি, “জি স্যার, খাইয়াছি।” (যেন একান্ত বাধ্যগত কোন ব্যাপার)

পড়া শেষ হতে হতে তখন আর সন্ধ্যা থাকে না
রাত হয়।
রচনার শুরু থেকে গুনলেও বোধহয় তখন ২০০ শব্দের উপর হবে
এভাবে রচনা লিখাও শেষ হয়।
বাড়ি ফেরার পালা আসে
আবারো সেই মেগা সিটি বাস। আবারো ছয় টাকার টিকেট।
মাঝে মাঝে কারা যেন সিটের চিপা-চাপায় আস্ত টিকেট ফেলে রেখে যায়।
সুযোগ সন্ধানে সেসবও সংগ্রহ করি।

আচ্ছা! এসব ঘটনাও কি বর্ষণমুখর সন্ধ্যা রচনায় লিখা যেত না?
নাকি এসব বর্ষণমুখর রাতের অভিজ্ঞতা?
কলেজ প্রাঙ্গনে যদি কোনদিন ফেরদৌস আরা(প্রভাষক,বাংলা) টিচারের সাথে
দেখা হয়ে যায়, জিজ্ঞাস করে নেয়া যাবে খন।

tahsiN//19-02-09//©

তাহসিন গালিব


মন্তব্য

নীড় সন্ধানী [অতিথি] এর ছবি

খুব মজা করে লিখেছেন তো!! স্মৃতিকথা লিখতে পড়তে দুটোই ভালো লাগে।

অতিথি লেখক এর ছবি

কবিতাটি লিখার সময় আমার মাঝে অন্য কারও ছায়া ভর করেছিল, যে আমি হয়তো ঠিক আমি না, অন্য কোনো আমি।

ভাল লাগলো আপনার মন্তব্যে। ধন্যবাদ।

সুলতানা পারভীন শিমুল এর ছবি

সত্যি !
এইসব যদি লেখা যেতো ছোটবেলার রচনার খাতায়, এমনি করে...
লেখা ভালো লাগলো, তাহসিন। হাসি

...........................

সংশোধনহীন স্বপ্ন দেখার স্বপ্ন দেখি একদিন

...........................

একটি নিমেষ ধরতে চেয়ে আমার এমন কাঙালপনা

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক অনেক খুশি হলাম।
সবসময় ভাল থাকুন।

(তাহসিন গালিব)

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

লেখাটা আমার খুব খুউব ভাল লেগেছে। চলুক

'একটি বর্ষণমুখর সন্ধ্যা' সম্পর্কে আমার একটা স্মৃতিই মনে পড়ে। বহু বছর আগে স্কুলে থাকতে শিশু (অথবা মৌসুমী) প্রতিযোগীতার থানা/উপজেলা পর্যায়ে এই রচনাটা 'রচনা লিখন'-এ লিখেছিলাম। আমি আগে কখনো রচনা লিখনে অংশ নেইনি, সেই প্রথম। মজার ব্যাপার হলো, সেদিন আবহাওয়াও ছিল বেশ মেঘলা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাড়াহুড়োতে কী লিখেছিলাম, মনে পড়ে না। শেষ পর্যন্ত গার্লস স্কুলের এক মেয়েকে হারিয়ে ফার্স্ট হয়ে যাই। নিজেরও ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিল না। এই কারণেই বোধহয় মনে আছে ঘটনাটা। নাইলে হয়ত ভুলে যেতাম। চোখ টিপি

অতিথি লেখক এর ছবি

"অতন্দ্র প্রহরী" আপনি চিরকাল ভালোর মর্ম বুঝলেন।
আপনার সেই 'গার্লস স্কুলের এক মেয়েকে' হারিয়ে ফার্স্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা মনে করিয়ে দিলাম হয়তো। ভালই হল কি বলেন??
কি সুখময় দিন যে মানুষ তার ছোটবেলায় কাটিয়ে আসে, তা সে নিজেও বুঝে উঠতে পারে না।

আপনাদের শুভ কামনা অনেক বেশি সাহস যোগায়। সাথে খাকুন। হাসি

(তাহসিন গালিব)

অতিথি লেখক এর ছবি

অসাধারণ লাগলো লেখাটি । আমি একবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় "একটি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা" লেখায় পাশের গ্রামে ভ্রমণের কথা লিখেছিলাম । নম্বরও খারাপ পাইনি । তবে সব পরীক্ষক একরকম হন না । এই যা দুঃখ !

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ 'অতিথি লেখক' । আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
কিন্তু আপনার নামটা জানা হল না। ভাল থাকুন।

(তাহসিন গালিব)

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

গালিব ভাইয়ের কবিতা দুর্দান্ত লেগেছে...
আরো আশা করছি...

---------------------------------------------------------------------------
- আমি ভালোবাসি মেঘ। যে মেঘেরা উড়ে যায় এই ওখানে- ওই সেখানে।সত্যি, কী বিস্ময়কর ওই মেঘদল !!!

অতিথি লেখক এর ছবি

ইনশাল্লাহ পেয়ে যাবেন।
থ্যাংক ইউ।

তাহসিন গালিব

স্বপ্নাহত এর ছবি

খুব ভালো লাগলো।

বর্ষণ মুখর সন্ধ্যা, শীতের সকাল - এই ধরণের রচনার নামগুলোই একেকটা নস্টালজিয়া!

একসাথে কত কিছু মনে করিয়ে দেয়!

---------------------------------

তাও তো ভারী লেজ উঁচিয়ে পুটুশ পাটুশ চাও!

---------------------------------

বাঁইচ্যা আছি

অতিথি লেখক এর ছবি

"নস্টালজিয়া!" ঠিক বলেছেন...

(তাহসিন গালিব)

shopnoraj এর ছবি

তাহসিন, আমি এই কবিতাটা তোর বাসায় একবার পড়ছিলাম, আবারো পড়লাম এবং বরাবরের মতো বলছি, খুব ভালো। বিশেষ করে, যখন তুই অঝর বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় মেগাসিটি বাস করে স্যারের বাসায় যাচ্ছিলি, তখন থেকে মনটা যেন কেমন হয়ে গেল, এক নির্মীলিত নষ্টালজিয়ায় আমি ডুবে গেলাম, মনের গান আর বৃষ্টির গান কেন যেন এক হয়ে গেল...
দোস্ত, আসাধারণ!

অতিথি লেখক এর ছবি

দোস্ত, আসাধারণ!

থ্যাংক ইউ বর্ষণ জুবায়ের।

(তাহসিন গালিব)

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

কবিতা এরকম হলে তো ভালোই হয়, আমার মতোন অন্ডমূর্খও 'কবিতা বুঝতে পারি বলে দাবী' করতে পারতাম হাসি

বেশ হইয়াছে।
___________________________
বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনি বলছেন বেশ হইয়াছে! অনেক বেশি পুলকিত হইয়াছি আপনার মন্তব্যে।

দুর্দান্ত এর ছবি

বুঝতে পারলাম। ভাল।

অতিথি লেখক এর ছবি

খুশি হলাম।

(তাহসিন গালিব)

বাঙ্গাল পাগলা এর ছবি

বাঁধ ভাঙ্গা স্বপ্নের বাঁধ ভাঙ্গা প্রকাশে ভালো লাগ্লো।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।