জাদুর কাঠি

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: বুধ, ১০/০৮/২০১১ - ৮:৩৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ন্যাড়া মাঠটার দিকে বিষন্ন মনে তাকিয়ে কি যেন ভাবছে একটা মানুষ। পরনে তার লাল, গেরুয়া আর কালো রংয়ের পট্টি দেয়া অদ্ভুত কাবলির মত পোষাক। কাঁধে একটা সবুজ রংয়ের ময়লা চটের থলে। রুগ্ন ধরনের লোকটার চিবুকে একটুখানি দাঁড়ি, কিন্তু চোখে মুখে তীক্ষ্ণ একটা ভাব আছে। দেখেই মনে হয় খুব বুদ্ধিমান একটা মানুষ। অদ্ভুত পোশাকের এ তীক্ষ্ণ চেহারার মানুষটা পথচারীদের কারো চোখই এড়িয়ে যাচ্ছে না। সবাই যাবার পথে আড়চোখে দেখে নিচ্ছে মানুষটাকে।

- তুমি কালো পাহাড়ের জাদুকর না?

তীক্ষ্ণ চোখে তাকায় জাদুকর। পথিকের চোখে চোখ রেখে বলে, ‘কে তুমি? তুমি আমায় চেনো?’

- আমি তোমায় ঠিক চিনে ফেলেছি। সেই ছোট্ট বেলায় দেখেছিলাম তোমায় রাজার বাড়ীর মাঠে। তোমার ভেলকিতে হাজার মানুষের পিলে চমকে উঠেছিল সেদিন। আর তোমায় কেউ খুঁজে পায়নি কোনদিন। কত খুঁজেছি তোমাকে আর একটিবার তোমার জাদু দেখব বলে!
- কৃষ্ণ নগরের রাজার বাড়ীর মাঠ?
- হ্যাঁ গো জাদুকর।
- সেতো সেই দেড় যুগ আগের কথা। তারপর চলে গিয়েছিলাম কামরুপ কামাক্ষা। এক যুগের গুরুসেবার পর ঘুরে বেরিয়েছি দেশে দেশে। ঘুরতে ঘুরতে চলে এলাম আবার এই ভাটির দেশে। তারপর এই শহরে। পথিক, তুমি এলে কি করে এই শহরে সেই কৃষ্ণনগর থেকে? আহারে কত সুন্দর তোমাদের গ্রামটা।
- আমিও ঘুরতে ঘুরেতে পথ হারিয়ে চলে এলাম এই শহরে অচিন।
- বাহ্ , বলেছ তো বেশ। তো কি করা হয় পথিক?
- এই শহরে পথিক এখন ভীষন একা একা, শত মানুষের ভীড়ে খোঁজে নিজের ভাগ্যরেখা।
- বুঝেছি। তুমি আমারি মত এক যাযাবর, ঘুরে বেড়াও পথে পথে।
- আমাকে লজ্জা দিওনা জাদুকর। তুমি হলে ব্রক্ষ্মচারী। আর আমি এই শহরের পথে পথে ঘুরি।
- তাহলে তো দেখছি, এই শহরের পরিব্রাজক তুমি?
- তা বলতে পার জাদুকর। আমি হলাম রাতের পাখি। শেষ বিকেলে বের হ্ই আর ভোর হবার আগে ডেরায় ফিরে আসি।
- তোমার মাথা গোঁজার ঠাই আছে?
- আছে বৈকি! এই শহরের বড় রেল স্টেশনটার পাশে একটা পরিত্যক্ত মালগাড়ীতে ঠাই হয়েছে। যাবে নাকি জাদুকর।
- ঘর আমার সয়না পথিক। এই যে একটা থলে, একটা মানুষের মাথার খুলি, কটা হাঁড়-গোর আর আমার জাদুর কাঠি। আমি পথের মানুষ, পথে পথে ঘুরি আর মানুষকে আনন্দ দেই। পথই আমার সব।
- অন্তত আজ রাতটা এই শহরের পথে পথে কাটাই একসাথে?
- তোমাদের এ শহরটাতে বছর কুড়ি আগে এসেছিলাম একবার। ভালো লেগেছিল মানুষগুলোকে। এখন আর কিচ্ছু ভাল লাগছেনা এখানে। মানুষগুলো কেমন যেন বদলে গেছে। জানো, আজ এই মাঠটায় মাত্র গোটা কুড়ি মানুষ খেলা দেখল বিনিময়ে দেখ এই দশটি টাকা দিল এতজন। সারাদিন খাইনি। দশটাকা দিয়ে কি এখানে আজ দুমুঠো ভাত জুটবে! সবাই যে এখানে দেখছি নিজেকে নিয়ে বড় ব্যস্ত। জানো পথিক, আগে যখন এসেছিলাম তখন কিস্তু এমন ছিলনা।
- ঠিকই বলেছ জাদুকর। এই শহরটা যে আমাকেও সয়না, কিন্তু যাব কোথায় বল? একবেলা আধবেলা খেয়ে তো এই নিশাচর আমি বেঁচে আছি।
- তোমার আয় রোজগার কি গো পথিক।
- কবিতা লিখি আর পত্রিকায় দেই। পছন্দ হলে ছাপায়। যা পাই তাতে এক-আধ বেলার খাবার জোটে। আরতো কোন খরচ নেই। চলে যায় দিন।
- তুমি কবি? কবি মানে তো জ্ঞানী! তুমি কত বড় মানুষ গো পথিক! আমার কি সৌভাগ্য আজ তোমার দেখা পেলাম।
- এখন আর কবিরা জ্ঞানী নয়। রাশি রাশি কবির ভীড়ে কবিতা পোকা-মাকড়ের খাদ্য হয়েছে। আর পেটের জ্বালায় সব কবি আজ পরাস্ত।
- তাও তুমি কবি গো। আমি বুঝে গেছি তুমিই কবি। নাহলে কি আর নিশাচর হয়? আমি কিন্তু তোমাকে কবি বলেই ডাকব।
- এক শর্তে রাজি আছি। যদি তুমি আজ রাতে আমার সাথে নিশাচর হও। পকেটে যা আছে তাতে রাতের আহারটা হয়ে যাবে বেশ।
- বেশ। হাঁটব আজ রাতটা তোমার সাথে।

গোধূলী পেরিয়ে আঁধার নামে। জাদুবিদ্যা আর কবিতার আলাপে বয়ে যায় সময়। মাঠের কোনায় অন্ধকারটা আরো বিষন্ন হয়ে ওঠে কবি আর জাদুকরের কথাপোকথনে। আবছা দুটো দেহ হারিয়ে যায় এক গভীর আঁধারে। শহরের সব আলোকে যেন গ্রাস করে ফেলছে এ আঁধার ধীরে ধীরে।

- কুড়ি বছর আগে এ মাঠটা এমন ন্যাড়া ছিল না। সবুজ কচি কচি ঘাসের মাঠটা কেমন ন্যাড়া হয়ে গেছে, দেখেই মনটা বিষন্ন হয়ে গেছে কবি।
- আমারও খুব অবাক লাগে এই ন্যাড়া মাঠটায় যখন শ’য়ে শ’য়ে ছেলে- মেয়ে এক সাথে খেলা করে! আমাদের গাঁয়ের মাঠটা কিন্তু এমন না। ওখানে বাচ্চাগুলোকে দেখলে মনে হয় এক ঝাঁক ঘাস ফড়িং উড়ে বেড়াচ্ছে।
- জানো কবি, আগে কিন্তু মাঠটা ভীষন বড় ছিল। মাত্র কুড়ি বছরে ইটের দালানগুলো গ্রাস করে ফেলল এত বিশাল মাঠটা!
- খেয়াল করেছিলে তখন কতগুলো বাচ্চা খেলার জায়গাটা না পেয়ে মনমরা হয়ে ফিরে গিয়েছিল? মনে হচ্ছিল কতগুলো রঙ্গিন প্রজাপতি এখানে তাদের অধিকার না পেয়ে বিবর্ন হয়ে ফিরে যাচ্ছে।
- কবি তোমার সাথে আজ সময়টা খুব ভাল কাটবে বলে ভেবেছিলাম। তুমি তো দেখি আরো বিষন্ন করে দিলে।
- আচ্ছা জাদুকর তুমি না বলেছিলে তোমার জাদুর কাঠিতে সব অসাধ্য সাধন হয়। এক যুগের গুরুসেবায় তুমি না পেয়েছ এ জাদুর কাঠি? তাহলে আগের মত করে দাও এ মাঠ, যেমনটি তুমি দেখেছিলে বছর কুড়ি আগে। আমি রোজ আসব এখানে রঙ্গিন প্রজাপতি দেখতে।
- কি সর্বনাশা কথা বলছ কবি? এ জাদুর কাঠিতে মন্ত্রের ফু দিলেইতো এপাড়াটা বিরানভুমি হয়ে যাবে।
- তাই কর জাদুকর।
- সম্ভব না।
- কেন?
- এইসব দালানের মধ্যেতো মানুষ থাকে। ওদের প্রান যাবে।
- ওদের প্রান রক্ষা করে করো।
- প্রান রক্ষা করা আর প্রান সঞ্চার করা এ জাদুর কাঠির কাজ না। আমার সে ক্ষমতাও নেই।
- সে ক্ষমতা কার জাদুকর?
- আমি যে তাকে চিনি না। তবে বুঝতে পারি তার অস্তিত্ব।
- কে সে?
- নিজেকে সে প্রশ্ন করো হয়ত পেয়ে পাবে।

মাঠ পেরিয়ে ওরা চলে আসে একটা বড় রাস্তায়। দু’ধারে নিয়নবাতির আলোয় আলোকিত সব বিপনি কেন্দ্র আর রেস্তোরা। রাতের কৃত্তিম আলো দিয়ে আলোকিত হয়ে আছে চকচকে কতগুলো মানুষ। মানুষগুলো মুখে রাজ্যের হাসি। এতো আলোতেও ম্লান দুটো মানুষ হেঁটে চলে। কৃত্তিম আলোর নীচে অন্ধকার হয়ে।

- দেখ কবি, এতো আলোকময় বাজার, কি চকচকে মানুষগুলো এখানে বাজার করতে এসেছে। ওদের শরীরে কি মিষ্টি ঘ্রান।
- ওরা টাকাওয়ালা মানুষ তাই চকচকে। দামী সুগন্ধী মেখে মনের দুর্গন্ধ আড়াল করে এরা।
- চলো আমরাও যাই ওখানে। কি সুন্দর বাজার!
- আমাদের ওখানে ঢুকতে দেবেনা।
- কেন?
- এখানে সব টাকাওয়ালারা টাকা খেতে আসে? আমাদেরতো টাকা নেই, তাই।
- তাহলে চলো এখান থেকে। এরা মনে হচ্ছে মানুষ ভাল না।
- দাওনা তোমার জাদুর কাঠি দিয়ে কিছু টাকা এনে? আমরাও ওখানে গিয়ে চকচকে হয়ে আসি।
- টাকা আনা যাবে না।
- তুমি না বললে এ কাঠি সব পারে?
- টাকা আনতে হলে অন্যের কাছ থেকে চুরি করে আনতে হবে। এ জাদুরকাঠি চুরি করতে পারেনা।

বিপনি বিতান পেরিয়ে ওরা চলে আসে অন্য একটা রাস্তায়। এ রাস্তাটাতে রিকসা চলে। বড় গাড়ি তেমন একটা নেই। মনে হল জাদুকর একটু স্বস্তিবোধ করছে এ রাস্তটায় এসে। ঠিক তক্ষুনি রাস্তার সোডিয়াম বাতিগুলো নিভে গেল। একটা নিকষ কালো গ্রাস করে ফেলল পুরো রাস্তাটাকে। এত অন্ধরারেও একটা মুখে আলো দেখা গেল। কি হাসি হাসি তার মুখাবয়ব। একটা হাত নেই তার। দেহের সব শক্তি উজাড় করে দিয়ে যাত্রিবোঝাই রিকসাটা বয়ে চলেছে মানুষটা। অন্ধকারটাকে আরো গাঢ় করে চলে গেল সত্যিকারের আলোকিত মানুষটা। পরাজিত হতে শেখেনি সে। তার দেহের ঘামের গন্ধটা মানুষটার ভেতরের সুবাস ছড়িয়ে দেয় জাদুকর আর কবির অন্তরে, সমগ্র শহরে। সংগ্রামের সুবাস।

- বলতে পারো জাদুকর প্রকৃতি কেন এমন সংগ্রামের চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরে?
- বিদ্যুৎ বাতির ঝলমলে আালোয় আলোকিত ওই বাজারের ক্রেতাগুলোকে লজ্জা দেবার জন্য।
- টাকাওয়ালারা ওর জন্য কিছু না করুক, তুমি কর তোমার ক্ষমতাধর জাদুর কাঠি দিয়ে।
- সম্ভব না। ওই রিকসাওয়ালা হল প্রকৃতির দেয়া লজ্জা। ওই টাকাওয়ালাদের জন্য লজ্জা। প্রকৃতিই ওর ব্যবস্থা করে রেখেছে। দেখনি ওর আলোকিত মুখখানি। কত আত্মবিশ্বাস আর প্রত্যয় ছিল ওই মুখটাতে!

ওরা হাঁটতে হাঁটতে গাছ গাছালি ঘেরা এলাকায় এসে পড়ে। এখনে গাছ গাছালির ফাঁকে ফাঁকে পুরোনো ধাঁচের কিছু ভবন। এত রাতেও খোলা দু-চারটা চা দোকান। সেখানে কিছু তরুনের জটলা। ওরা চা খাচ্ছে। পাশেই কয়েকজন গান করছে। কারো হাতে গিটার, কারো হতে মন্দিরা, কারো হাতে করতাল। ছেলেগুলো দেশী আর বিদেশী বাদ্যযন্ত্রের সাহায়্যে মোহনীয় সুর তৈরী করে চলেছে।

- কবি, এটা কোন জায়গা।
- এটা বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বোচ্চ জ্ঞান কেন্দ্র।
- ওরা কারা।
- এখানকার ছাত্র।
- বাহ্, কি মনোরোম জায়গা।

দুরে একটা মেয়েকে ঘিরে কয়েকজন রিক্সাচালকের ভিড়। হঠাৎ, দুরে একটা গাড়ী দেখে যে যার মত কেটে পড়ল রিক্সাওয়ালারা। গাড়ী থেকে কয়েকজন নেমে বেধড়ক পেটাতে থাকল মেয়েটাকে। মেয়েটা রাস্তায় পড়ে পড়ে অনেক চিৎকার করল। কেউ আসল না তাকে বাঁচাতে। ছাত্রদের গানের সুর এক সেকেন্ডের জন্যও কাটল না। চা খেতে থাকা কয়েকজন একবার দেখে চোখ ঘুরিয়ে নিল। মেয়েটা পড়ে থাকল রাস্তায়।

- কবি মেয়েটাকে ওরা এভাবে মারল কেন?
- ও একজন যৌন কর্মী। পেটের তাগিদে স্বস্তা খদ্দেরের খোঁজে রাস্তায় নেমেছে।
- যারা মারল ওরা কারা?
- ওরা পুলিশ।
- ও
- জাদুকর এখনও কি নীরব থাকবে তোমার জাদুরকাঠি।
- হ্যাঁ।
- কেন?
- এই ছাত্রদের জন্য। একদিন এ ঘটনা ঠিক ছাত্রদের আলোড়িত করবে। ওদের প্রতিবাদই দেয়াল হয়ে দঁড়াবে সত্যিকারভাবে সব অনাচারের। একদিন ওদের বোধদয় ঠিকই হবে। আর এ দৃশ্য সে পর্যন্ত চলমানই থাকবে। এখানেও আমার জাদুর কাঠি অকার্যকর।

ভোর হয়ে আসছে। আলো ফুটতে শুরু করেছে। দক্ষিনা মৃদু হাওয়ায় সম্মোহিত কবি দেখছে জাদুকরের চলে যাওয়া। জাদুকর মিলিয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। কবিকে জাদুর কাঠিটা দিয়ে গেছে জাদুকর। সব জাদুকে পরাজিত করা অদ্ভ’ত এক রাতের স্বীকৃতি স্বরুপ। ক্ষমতাধর কাঠিটা এখন কবির হাতে। কবি ভেতরের শক্তিটা অনুভব করতে থাকে। এ জাদুর কাঠিটাই যে ছিল ব্রক্ষ্মচারী জাদুকরের বোধের শক্তির আঁধার।
লেখকের নাম- সাইফ জুয়েল


মন্তব্য

ইস্কান্দর বরকন্দাজ এর ছবি

হাততালি

..................................................................
আমি ছুঁয়ে দিতে চাই সেই বৃষ্টিভেজা সুর...

সাইফ জুয়েল এর ছবি

ভাল লাগল ইস্কান্দর বরকন্দাজ। আপনাকেও শুভেচ্ছা। এই বাজারে যে কেউ যে আজ প্রেমের গল্প ছাড়া পড়ে না। জীবনের গল্প কে পড়ে বলেন? কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

পাঠক দেবানন্দ ভূমিপুত্র এর ছবি

সুন্দর গল্প। হাততালি

সাইফ জুয়েল এর ছবি

ধন্যবাদ দেবানন্দ ভূমিপুত্র। যে যাই বলুক, আপনার ছড়া পড়েই মনে হয়েছে আপনি কবি। আপনার ভাল লেগেছে শুনে অনেক ভাল লাগল আমারো।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

কোন ছড়া পড়ে আপনার কবি মনে হল ভায়া? আমি একটু পড়তে চাই হাসি

সাইফ জুয়েল এর ছবি

দেবানন্দ ভূমিপুত্ররে আজকের ছড়ার পোষ্টটা খুব ভাল লাগল তাই কইছি। ফাষ্ট পেজে পড়েন তার ছড়াটা।

guest_writer এর ছবি

আপনার গল্পে বর্তমান সময়ের কয়েকটি সমস্যাকে ছুঁতে চেয়েছেন। সমস্যাগুলোর নির্বাচন ভাল হয়েছে। ভাল লেগেছে। লিখতে থাকুন।
মন্তব্য লিখেছি : প্রৌঢ়ভাবনা

সাইফ জুয়েল এর ছবি

সমস্যার গল্পোটা পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। প্রেম-ভালবাসার গল্পের জোয়ারে কে পড়তে চায় বলুন এইসব বস্তাপচা গল্পো?

তানিম এহসান এর ছবি

জুয়েল!!

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।