কালীকাপ্রসাদ এর সাথে অসমাপ্ত আড্ডা

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: সোম, ০১/০২/২০১৬ - ২:২৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সংগীতপ্রেমি মানুষের কাছে কালীকাপ্রসাদ এর পরিচয় নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই। তিনি গানের মানুষ, আপাদমস্তক শিল্পী। ওপার বাংলার গানের দল ‘দোহার’ এর প্রাণ পুরুষ। গানের খোঁজে, গানের পেছনে ছুটে বেড়ান অহর্নিশ। তার সাথে এই কথপোকথনের শুরু মূলত বাংলাদেশের কোন একটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনে দোহার- এর লাইভ অনুষ্ঠান দেখার মাধ্যমে। একজন গুণমুদ্ধ দর্শক-শ্রোতা হিসেবে বাংলা ব্লগ সাইটে একটি লেখা লিখেছিলাম- নিজের অনুভূতি জানাতে। অনেকদিন পর কথাপ্রসঙ্গে কালিকাপ্রসাদ এর কাছে জানতে পারি, তিনি সেই লেখাটি পড়েছিলেন। তারপরেই আমি তাকে একটি আড্ডার অনুরোধ করি- অনলাইনে। অতঃপর ফেসবুকের চ্যাটবক্সকে অবলম্বন করে চলতে থাকে আমাদের সাইবার আড্ডা। কতবার যে লগ আউট আর কতবার যে লগ ইন তার কোন ইয়ত্তা নেই! যাইহোক, শেষপর্যন্ত আমাদের সেই আড্ডাও ‘শেষ’ হয়ে ওঠেনি। কালীকাপ্রসাদ এর ব্যাস্ততা, আমার ব্যাস্ততা মিলিয়ে আড্ডাটা চূড়ান্ত রূপ পায়নি। তারপরও যতটুকু হয়েছে, ততটুকুইবা কম কিসে!- অনার্য তাপস   
                       

সংগীত শিল্পী কালীকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য

                                                                  
অনার্য তাপস:   তাহলে শুরু হোক।
কালীকা প্রসাদ:   হোক।
তাপস:     প্রথম জানতে চাওয়া, কেন গানই বেছে নেওয়া? অন্য কিছু নয় কেন?
কালীকা:   প্রথমত আমার বাড়িটা পুরা গানের বাড়ি। কখন যে গান বাজনা করতে শুরু করেছি নিজেও জানি না। আর দ্বিতীয়টা আর কিছু পারি না বলে।
তাপস:     নাকি চেষ্টা করেন নাই?
কালীকা:   না, চেষ্টা করেছি। এমএ পাশ করেছি, ছোটখাটো চাকুরি করেছি। কিন্তু গানের মোকামেই শেষমেষ ঠাই জুটলো।
তাপস:     দোহারের জন্ম রহস্য আমরা কিছুটা জানি। সেই ইতিহাস থেকে বলা যায় আপনার একধরনের প্রস্তুতি ছিল। এই প্রস্তুতিটা কি শুধুই পারিবারিক আবহ, নাকি নিজেরও তীব্র আকাঙ্খা?
কালীকা: পারিবারিক আবহ তো ছিলোই। আর নিজের আকাঙ্খাটার জন্ম হয়েছে অনেক পরে। কারণ দোহারের ফার্স্ট শোটা ছিলো আমার কাকাকে একটা ট্রিবিউ জানানোর জন্য। অনন্ত ভট্টাচার্য্য। লোকগানের খুব বড় সংগ্রাহক আর শিল্পী ছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে আমরা বলেছিলাম, এটা প্রথম আর এটাই আমাদের শেষ অনুষ্ঠান। কিন্তু যখন দেখলাম এই দল আমাকে চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে, তখনি তাগিদটা তৈরি হলো। আমি খুব ভাগ্যবান যে সঙ্গে রাজিবের মতো একজন ভালো গাইয়ে এবং সংগঠক পেয়েছি।

গানের দল দোহার

তাপস:   আর এরপরে তো ইতিহাস। আমার খুব জানতে ইচ্ছে হয়, কলকাতাতেই তো শুরু হয়েছিল; তো প্রথমে নগর কলকাতা আপনাদের গ্রহণ করলো কী ভাবে? খুব সুখকর হয়নি নিশ্চয়ই? কারণ আপনাদের স্টাইল আর গায়কী তো সমসাময়িক ফ্যাশানের ছিল না।
কালীকা: না। সত্যি বলতে কী- আমাদের খুব অসুবিধা হয়নি ওই সমসাময়িক ফ্যাশনের না হওয়াটা। গ্রাম্য উচ্চারণে, লোকবাদ্যযন্ত্রে, আঞ্চলিক rendition গান করাটাই আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা একটা মনোজ্ঞ অডিয়েন্স খুঁজে পাই, তাঁরাও আমাদের খুঁজে পান। আসলে ইলেট্রনিক হট্টগোলে বাঙ্গালির কান বেশিক্ষণ বাঁধা থাকতে চায় না। ওই সময় আমরা এতটাই আলাদা ছিলাম যে তা সবার নজর কারে, হয়তো!... এছাড়াও আমি এবং রাজিব যে আসামের বারাক উপত্যকার ছেলে, সেই পরিচয়টা কখনোই গোপন করিনি। আমরা বরং জোর গলায় বলেছি আমাদের উনিশে মে’র ভাষা আন্দোলনের কথা, ভাষা শহীদের কথা। তাই আমাদের আইডেন্টিটিটাই হয়তো শ্রোতাদের কাছে আমাদের গানকে আরো বিশ্বস্ত করে তুলেছে। তবে এসব এখন ভেবে বলছি। তখন কিছু ভাবি নাই। ইচ্ছে হচ্ছিল, তাই চালিয়ে যাচ্ছিলাম।
তাপস:   তখন আপনার কত বছর বয়স? আপনাদের আরকি।
কালীকা: আমার ২৮, রাজিবের ২৫ হবে।
তাপস:   মানে আপনারা পুরো তরুণ।
কালীকা: নিরঞ্জন দা, সারিন্দা বাজান যিনি, তিনি তো অনেক বড়। এখন ষাট এর উপরে। যোগেন দা, ঢোল বাজাতেন, এখন তাঁর ৮৫র উপর আর সুদর্শন, যে দোতারা বাজাতো- আমাদেরই বয়সী। অকাল মৃত্যু হলো তার, অনেক দিন আগেই।
তাপস:   উদ্যোগটা আপনার?
কালীকা: হ্যাঁ। ওই যে বললাম, কাকার মৃত্যুর পরেই। তাঁর শেখানো গান দিয়েই শুরু করি। রাজিবদের গানগুলো শেখাই। যন্ত্রবাদ্য আয়োজন করি। তারপর...
তাপস:   সাথীদের খুঁজে বের করলেন কেমন করে? মানে দল গঠনের ইতিহাসটা জানতে চাই। নীরঞ্জনদা, যোগেন দা এদের পেলেন কেমন করে?
কালীকা: নিরঞ্জনদাকে পেয়েছিলাম ট্রেনে। ট্রেনে বাজাতেন। তারপর কোলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে দেখা। যোগেন দা কোলকাতার একজন বড় ঢাক এবং ঢোলশিল্পী। আর সুদর্শন ফুচকা বিক্রি করতো। ওকে চিনতাম নানা সূত্রে। ও গানও গাইতো। আর রাজিবের সঙ্গে তো আগে থেকেই পরিচয় ছিলো।
তাপস:   বাহ। একেবারে কুড়ানি মানুষ নিয়ে গানের দল।
কালীকা: এরা কিন্তু প্রত্যেকেই খুব উঁচু মাপের শিল্পী।
তাপস:   হু। আমরা কিন্তু এদের মূল্যায়ণই করি না।
কালীকা: এরা প্রান্তিক বলে আমাদের নাগরিক বৃত্তে ব্রাত্য।

তাপস:   তো, গানের বেলায় আদি বা মূলের দিকে থাকতে চাইলেন কেন? এটা কি শেকড় আকড়ে থাকার ইচ্ছায়?
কালীকা: আমি মনে করি, আমাদের বাংলায় আধুনিকতা নির্মাণের মূল গলদটাই ছিলো শেকড়ের সঙ্গে সংলাপ হীনতা। এই বিষয়টি আমাদের উত্তর ঔপনিবেশিক যুগে এক ঔপনিবেশিক মডেলের আধুনিকতার দিকে নিয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। তাই আমাদের এজেন্ডাই হলো প্রতিস্মরণের। যাকিছুর বিস্মরণ ঘটেছে তাকে জাগিয়ে দেওয়ার।
তাপস:   আমাদের চেতনাতে এই বিষয়টার বড় অভাব। বোধ হয় দুই বাংলাতেই।
কালীকা: আমাদের প্রক্রিয়াটাই, সভ্য নাগরিক সমাজে, বিনোদনের মূল স্রোতে দাঁড়িয়ে একধরণের subversion, মানে উত্তরণ বলতে পারো।
তাপস:   বলুন ওই টানটা কেন? এই করপোরেট প্রমোটেড উত্তর আধুনিক যুগে তো কেউ ওসব নিয়ে মাথা ঘামায় না।
কালীকা: কিন্তু এই উত্তর আধুনিক যুগেই তো এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চা হওয়া দরকার। কারণ উত্তর আধুনিকতা তো আসলে আধুনিকতার বিনির্মাণও বটে। এবং এই বিনির্মাণের প্রকল্পেই তো আমরা খুঁজে পাবো আমাদের শেকড়কে। যার স্বীকৃতি আধুনিকতার নির্মাণে তেমন একটা চোখে পরে না।
তাপস:   কেউ কেউ বলে থাকেন, যে অর্থে পশ্চিমারা আধুনিকতার ধারক বাহক আমরা সেই অর্থে নই। আপনার কী মনে হয়?
কালীকা: আমরা সেই অর্থ হবোই বা কেন? আমাদের প্রেক্ষিত তো আলাদা। কিন্তু মুশকিল হলো- উনিশ শতকে ওই ঔপনিবেশিক আধুনিকতার মডেলটাকেই অনুসরণ করলাম আমরা।
তাপস:   ঠিক। আমাদের চর্চার মধ্যেই প্রবেশ করলো এই মানসিকতা। প্রায় সবক্ষেত্রে। সংগীতও বাদ গেল না।
কালীকা: আমাদের শেকড়টাকে অনুসন্ধানের চেষ্টা করলাম না। আমরাও ইউরোপিয়ান মডেলকে মাথায় রেখে nationalism, secularism, renaissance ইত্যাদির অনুকৃতি করলাম। যার ফলে আমাদের হয়ে উঠলো না। এমনকি, আন্তর্জাতিকতার কথা বলতে গিয়ে স্বদেশের প্রেক্ষিতের কথা মাথায় রাখলাম না। সংগীতও বাদ গেল না। আমরা বিস্মৃত হলাম কীর্তন। বিস্মৃত হলাম এই কথা যে বাংলার প্রথম যুগের প্রায় সব সাহিত্যই ধর্মসাহিত্য বটে এবং সবগুলির মাধ্যমই আসলে সংগীত। সবই মৌখিক সাহিত্য। কিন্তু মজা হলো, চর্যাপদ থেকে বৈষ্ণব পদাবলী, মঙ্গল কাব্য হয়ে বাউল ফকির পদ- এই সবকিছুই কিন্তু আসলে ধর্মের প্রাতিষ্ঠানিক রূপের সঙ্গে দ্বন্দ্ব প্রকাশ করেই নির্মিত। সবাই আসলে ধর্মর institutionalized রূপকে confront করেছে। কিন্তু এই পরম্পরাকে ভুলিয়ে দিয়ে উনিশ শতকের জাতীয়তাবোধ ও আধুনিকতার নির্মাতারা আমাদের পরম্পরা বা ঐতিহ্য বলে গ্রহণ করলেন বেদ আর উপনিষদকে। বর্জিত হলো লোকায়ত ঐতিহ্য। রবীন্দ্রনাথ কিন্তু ওই ফাঁকটা ধরেছিলেন। সংলাপ চালিয়েছিলেন শেকড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে।                                          
তাপস:   আপনার অবজারভেশনে অদৃশ্য কী ঘটলো ১৯ শতকের নানা উত্থানপতনের মধ্য দিয়ে? যেমন রবীন্দ্রনাথ বুঝলেন একটা মস্ত ফাঁক থেকে যাচ্ছে।
কালীকা: মধ্যযুগ বলে ভারতের ইতিহাসে যাকে অন্ধকার যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হলো, মুসলমান আক্রমণের যুগ হিসেবে দেখানো হলো; যুদ্ধ আর সাম্রাজ্য বিস্তারের ওই যুগেই কিন্তু কবির, নানক, শ্রীচৈতন্য মানবতার বাণীতে মুখরিত করে তুলেছিলেন সারা দেশ। তবে কি বলবো কবির, নানক, চৈতন্য অন্ধকারের জীবব? আসলে এই    ইতিহাস রচনাইতো গলদ। একেই বোধ হয় বলে constructed amnesia.

দোহার

তাপস:   এমন আর কী ঘটলো? সংগীতের ক্ষেত্রে তো একটা জোয়ার এলো বোধ হয় সেই সময়? অনেক সংগীতকার তো তখন? তাদের ভেতর যে পরিবর্তনটা হয়েছিলো সেটার কথা জানতে চাইছি। যার ফলে আমরা ভালো এবং মন্দ দুটোই পেয়েছি। প্রবণতা ও প্রকরন উভয় দিক থেকে।
কালীকা: দেখ, সংগীতের ঐতিহ্য আমাদের শুরু থেকেই। চর্যাপদ তো বৌদ্ধ গান ও দোহা। তারপর কীর্তন- রবীন্দ্রনাথ যাকে বলেছেন বাঙ্গালীর আদি গান। তার সঙ্গে চলেছে নানা অঞ্চলের নানারকম লোকসুরে লোক গান, তার আঞ্চলিক ভাবনা ও ভঙ্গির গান। এসবের মধ্য দিয়েই গ্রামীণ ও সদ্য গড়ে ওঠা নগরের মিশ্রনে তৈরি হচ্ছে উনিশ শতকের কবিগান, আখড়াই, থিয়েটারের গান। কলকাতা শহরের নব্য বাবু শ্রেণীর মনোরঞ্জন হচ্ছে ওইসব গানে। বিচ্ছেদ হচ্ছে ক্রমশই গ্রামীণ সংগীত ও পরম্পরা থেকে।
তাপস:   এখানে বোধ হয় দুভাবে আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি। এক- পরম্পরাটা হারিয়ে যেতে লাগলো এবং দুই, আমরা এখন কেতাবি ভাষায় যাকে বলি ‘আরবান’ সেই শ্রেণীটা গড়ে উঠতে লাগলো। তাদের একটা আলাদা কালচার তৈরি হলো। ওই যেমন- বাবু কালচার। নতুন নতুন গান তৈরি হচ্ছে। থিয়েটার গড়ে উঠছে ফোক পারফর্মেন্সের ধারাগুলোকে পাশ কাটিয়ে।
কালীকা: কিন্তু ওই নব্য আরবান বাবুরা সেই অর্থে সম্ভ্রান্ত বাঙ্গালী হতে পারলেন না।... অন্যদিকে ব্রাহ্ম সমাজ ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে আর একটি অভিজাত শ্রেণী emerge করলো কলকাতায়। মানে যাদের চোখে ওই বাবুআনা এবং বাবুআনি সংস্কৃতি... মানে যে সংস্কৃতি পৃষ্ঠপোষকতা করতো বাবুরা- তাকে অশ্লীল বলে মনে হলো। রবীন্দ্রনাথের জন্মও কিন্তু ওই শ্রেণীর এক পরিবারে। মানে অভিজাত সমাজে।
তাপস:   কিন্তু তার কর্মে তো মনে হয় তার একটা দায় ছিলো নিজ সংস্কৃতির কাছে। নিজ দেশের এবং মানুষের কাছেও।
কালীকা: সে কথায় পরে আসছি।
তাপস:   সেটাওতো ইতিবাচক?
কালীকা: আমি বোধ হয় একটু বেশিই বলে ফেলেছি!
তাপস:   না মনে হয়। আমরা ঠিক রাস্তাতেই আছি। নিজে লোকসংস্কতি বিষয়ে পড়েছি বলে কয়েকটি বিষয়ে আমার প্রবল আগ্রহ আছে। এর একটি হচ্ছে লোকায়ত সংস্কৃতির উপর অভিজাত শ্রেণীর রাজনৈতিক চাপের স্বরূপটা বোঝা। নব্য আরবান শ্রেণী আর একেবারে লোকায়ত শ্রেণীর সংগীতের মধ্যে সেই সময় যে ভেদ রেখা গড়ে উঠেছিল সেটা সম্পর্কে একটু বলুন। কারণ আপনি গানের মানুষ। আপনি বিষয়টা ভালো বোঝেন।
কালীকা: এই প্রসঙ্গে তো অবশ্যই আসবো। কিন্তু তার আগে আরো দু’চারটে কথা বলতে হবে।
তাপস:   হোক।

অনার্য তাপস


মন্তব্য

শঙ্খ নদী  এর ছবি

"জোর গলায় বলেছি উনিশে মে'র ভাষা আন্দোলনের কথা"- বিষয়টা বুঝালাম না , একটু বুঝিয়ে বলবেন কি ?

অনার্য তাপস এর ছবি

১৯৬১ আসামের বরাক উপত্যকায় বাংলাকে সরকারি ভাষার মর্যাদার দাবিতে প্রাদেশিক পুলিশের গুলিতে ১১ জন শহীদ হন। ১৯৬০ সালের এপ্রিলে, আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিতে অসমীয়া ভাষাকে প্রদেশের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।[১] এতে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। অসমীয়া উত্তেজিত জনতা বাঙালি হিন্দু অভিবাসীদের আক্রমণ করে। জুলাই ও সেপ্টেম্বরে সহিংসতা উচ্চ রূপ নেয় যখন প্রায় ৫০,০০০ বাঙালি হিন্দু ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যায়। অন্য ৯০,০০০ বরাক উপত্যকা ও উত্তর-পূর্বের অন্যত্র পালিয়ে যায়। গোপাল মেহরোত্রার নেতৃত্বে এক ব্যক্তির একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কামরূপ জেলার ২৫ গ্রামের ৪,০১৯টি কুঁড়েঘর এবং ৫৮টি বাড়ি ধ্বংস ও আক্রমণ করা হয়; সেই জেলা ছিল সহিংসতার সবচেয়ে আক্রান্ত এলাকা। নয়জন বাঙালি হিন্দুকে হত্যা করা হয় এবং একশতর বেশি আহত হয়।

শহীদদের তালিকা
কানাইলাল নিয়োগী,
চন্ডীচরণ সূত্রধর,
হিতেশ বিশ্বাস,
সত্যেন্দ্র দেব,
কুমুদরঞ্জন দাস,
সুনীল সরকার,
তরণী দেবনাথ,
শচীন্দ্র চন্দ্র পাল,
বীরেন্দ্র সূত্রধর,
সুকমল পুরকায়স্থ এবং
কমলা ভট্টাচার্য।

এছাড়াও আসামেই বাংলা ভাষার জন্য ১৯৭২ সালের ১৭ আগস্ট আরো একজন শহীদ হন:

বিজন চক্রবর্তী এবং

১৯৮৬ সালের ২১ জুলাই শহীদ হন দুজন:

জগন্ময় দেব ও
দিব্যেন্দু দাস
সূত্র: উইকিপিডিয়া

শঙ্খ নদী  এর ছবি

ধন্যবাদ, জানা ছিল না । জানলাম

শেহাব এর ছবি

প্রমথ চৌধুরীর লেখা কাব্যে অশ্লীলতা-আলংকারিক মত প্রবন্ধটির কথা মনে পড়ে গেল।

অনার্য তাপস এর ছবি

কী বলেন!?

মাহবুব লীলেন এর ছবি

ভালো লাগলো। একেবারে ব্যক্তিগত পর্যায়ের একজন বন্ধু সম্পর্কে এরকম একটা আলোচনা দেখে

০২
প্রসাদের বেড়ে উঠার সময়টা একেবারে কাছে থেকে দেখা। বাংলা লোকগানের প্রতি তার আগ্রহ কিংবা ক্রেজ অদ্ভুত। তার নিজের লেখা কয়েকটা গানও আছে অসাধারণ। যার মধ্যে একটা হলো -এপার বাংলা ওপার বাংলা'

প্রসাদ বিখ্যাত হবার আগে এই গানটা প্রায়ই গাইত। কিন্তু এখন মনে হয় দোহারকে পলিটিক্যালি 'কারেক্ট' রাখার জন্য গানটা সে এড়িয়ে যায়...

অনার্য তাপস এর ছবি

হয়তো পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকা দরকার তাই ওই গান আর গান না তিনি।
এই টানাপোড়েন এক অদ্ভূত ব্যাপার।

মোখলেছুর রহমান সজল এর ছবি

সাবলীল লেখা। অনেক প্রসঙ্গই উঠে এসেছে।
গান নিয়ে, গানের কথা, সুর ও উপস্থাপন নিয়ে কিছু আলোচনা আশা করেছিলাম। হয়তো আড্ডা অসমাপ্ত বলেই উঠে আসেনি। অন্য কোন লেখায় সেটা প্রকাশ করবেন এই প্রত্যাশা রাখি।

অনার্য তাপস এর ছবি

অসমাপ্তির এই বিষয়টা আমাকেও স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। কিন্তু কালীকাপ্রসাদ এর দেখা পাওয়া যাচ্ছে না।

এক লহমা এর ছবি

ভালো লাগল। আকাঙ্খা রাখি, আড্ডার পরবর্তী দিনটা পেয়ে যাবেন তাড়াতাড়ি।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

অতিথি লেখক এর ছবি

গানের খোঁজে দুই বাংলার পথ-প্রান্তর চষে বেড়ানো মানুষটার পথচলা থেমে গেলো পথেই ।পুরানো লেখা ফেইসবুকের ফীডে ভেসে এলো । সারাদিনটা একটা গুমোট মনখারাপের মধ্যে কেটেছে । লেখাটা পড়ে আবারো কালিকাপ্রসাদের হাসিমাখা মুখটা আর দরাজ গলার গানের কথা আরো বেশি বেশি মনে পড়ে যাচ্ছে । মন খারাপ

মামুনুর রশীদ [ ভবঘুরে শুয়োপোকা ]
=============================
হাজার মানুষের ভিড়ে আমি মানুষেরেই খুজে ফিরি

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।