বোক্সোদগুলি

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ০১/০৪/২০১৮ - ৪:৩৯পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

[আইজাক আসিমভের "সিলি অ্যাসেস" গল্পের অনুবাদ]
অনুবাদ: সামিনা কায়সার

দীর্ঘ আয়ুর রিগেলিয়ান জাতির নারন তার বংশের চতুর্থ লোক, যার কাঁধে ছায়াপথীয় ইতিহাস টোকার দায়িত্ব এসে পড়েছে।

ছায়াপথের পর ছায়াপথ জুড়ে যেসব জাতি বুদ্ধিমত্তা অর্জন করেছে, তাদের তালিকা রাখার বড় বইটা নারনের কাছে আছে। আরও আছে ছোট বইটা, যাতে টোকা আছে আক্কেল অর্জন করে ছায়াপথ সংঘের সদস্যপদের যোগ্যতা কামানো জাতিগুলোর নাম। প্রথম বইটায় বেশ কিছু নাম দাগ দিয়ে কাটা, যেগুলো কোন না কোন কারণে ব্যর্থ হয়েছে। দুর্ভাগ্য, জৈব-রাসায়নিক দুর্ঘটনা, বা জৈব-পদার্থগত খামতি, কিংবা সামাজিক বনিবনায় সমস্যার ফেরে পড়ে তাদের এই হাল হয়েছে। ছোট বইটায় অবশ্য কারও নাম এখন পর্যন্ত কাটা পড়ে নাই।

এক দূত কাছে এসে হাজির হতেই প্রকাণ্ড ও বেজায় বৃদ্ধ নারন মুখ তুলে চাইলো।

"নারন!" দূত বললো। "হে মহান জন!"

"থাক থাক, এত কেতায় কাজ নাই। হয়েছে কি বল।"

"প্রাণিদের আরেকটি দল আক্কেল অর্জন করেছে।"

"বাহ। বেশ বেশ। এখন সব ঝটপট এসে পড়ছে। এমন কোন বছর নাই যখন একটা এসে জোটে না। তা এরা কারা?"

দূত ছায়াপথের সঙ্কেতের সঙ্গে বিশ্বটির স্থানাঙ্কও বাতলে দিলো।

"আহ, হ্যাঁ, এদের চিনি তো।" বললো নারন। ঝরঝরে হাতের লেখায় প্রথম বইতে নামখানা দেখে নিয়ে দ্বিতীয় বইতে সেটা টুকে নিলো সে। যেমন রীতি, বিশ্বটিকে তার বেশিরভাগ লোকে যে নামে চেনে, সেটাই লিখেছে সে: পৃথিবী।

"এরা তো তেলেসমাতি দেখিয়ে দিলো।" বললো সে। "আর কোন দলই এত জলদি বুদ্ধিমত্তা অর্জনের পর আক্কেল পর্যন্ত গড়াতে পারে নাই। কোন ভুল হয় নাই আশা করি।"

"না হুজুর।" বললো দূত।

"তাপীয়-নিউক্লিয়ার শক্তি পর্যন্ত গেছে তো, নাকি?"

"জ্বি হুজুর।"

"হুমম, ওটাই মাপকাঠি।" নারন হাসলো মিটিমিটি। "শিগগীরই ওদের নভোতরী দূরে ঢুঁ মারতে বের হবে, আর সংঘের সাথে যোগাযোগ করবে।"

"ইয়ে, হে মহান জন," দূত একটু অনিচ্ছার সাথেই বললো, "নজরদারেরা বললো, ওরা এখনও মহাকাশে বের হয়ে সারে নাই।"

নারন চমকে উঠলো। "বেরই হয় নাই? মহাকাশ স্টেশনও নাই কোন?"

"এখনও না, হুজুর।"

"কিন্তু ওদের যদি তাপীয়-নিউক্লিয়ার শক্তি থেকেই থাকে, ওরা সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোথায়, আর ফুটায়ই বা কই?"

"ওদের নিজেদের গ্রহেই, হুজুর।"

নারন এবার নিজের বিশ ফুট উচ্চতার সবটুকু নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে গর্জে উঠলো, "ওদের নিজেদের গ্রহে?"

"জ্বি হুজুর।"

নারন ধীর গতিতে নিজের কলমখানা বের করে ছোটো বইটির সর্বশেষ নামটির ওপর একটি দাগ টানলো। এমনটি আগে কখনও ঘটে নাই, কিন্তু নারন অত্যন্ত বিচক্ষণ, এবং ছায়াপথের যে কোন লোকের মতই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি সে টের পায়।

"বোক্সোদগুলি।" সে বিড়বিড় করে উঠলো।


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

সিলি অ্যাসেস এর প্রতিশব্দটা দারুণ হয়েছে। আশা করি আরও লিখবেন সামিনা কায়সার।

---মোখলেস হোসেন

গগন শিরীষ এর ছবি

অনুবাদ ভাল লেগেছে।

তারেক অণু এর ছবি

স্যাড বাট ট্রু! সুন্দর গল্প

সোহেল ইমাম এর ছবি

গল্পটা ভালো লাগলো। আরো লিখেন। চলুক

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA