অদূরে, সাদামাটা উমার জলে

অতিথি লেখক এর ছবি
লিখেছেন অতিথি লেখক (তারিখ: রবি, ০৬/১২/২০২০ - ৭:০৬পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

সেবার গ্রীষ্মে আমরা গেলাম আরেকটু উত্তরে।
নরওয়ে বর্ডারের কাছাকাছি, উত্তর-পশ্চিম সুইডেনের নিরিবিলি গ্রাম স্লুস্ফোর্স (Slussfors)। দীর্ঘ শীতের শেষে এসেছে রৌদ্রজ্জল দিন। এদিকটার ভূ-দৃশ্য দেখে মনে হয় অক্ষত তেপান্তরের মত বিজন এক প্রদেশঃ বলগা হরিণ (Reindeer), এল্কের বিচরণ, বনজ হ্রদ, আর দূরে আঁকাবাঁকা সবুজাভ কালো অরণ্যরেখা মাইলের পর মাইল। আর তাছাড়া ভূদৃশ্যের লাবণ্যের চেয়েও আমার কাছে লাবণ্যময় সূর্যের আলো আর তাপ। দীর্ঘ শীত, অন্ধকারের বিমর্ষদিনগুলো শেষে সূর্যের শারীরিক প্রকাশে শরীর-মন আলো আর রোদের সুরা পান করে যেন কোষে কোষে জীবন্ত হয়ে ওঠে। যে জীবন এতদিন গুপ্ত ছিল, অশরীরী এক আলোকসজ্জায় সে গুপ্ত জীবন কাকচক্ষু হৃদয়-মন পেয়ে পুষ্ট হতে থাকে প্রতিদিন।

পথে পড়ল অনেক ছোট ছোট জলাধার, বন-উপবন আর শস্যের ক্ষেত। জই ক্ষেত মনে হয়। বসন্তে রোপণ করা চারাগুলো পথের দুপাশে জুড়েছে কচি সবুজের মায়া।
গরমের ছুটি। নিত্য-জীবনের কটা দিন হতে ফসকে যাওয়ার জন্য ভিড়হীন ডাক।
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের এক ঝকঝকে দিন। বাস স্টপেজে আমাদের নিতে এসেছে গৃহকর্ত্রী অ্যাঙ্গেলা। বয়স চল্লিশের মত। হাস্কি কুকুরের খামার চালায় ও আর ওর স্বামী পিটার। কথা প্রসঙ্গে জানা গেল তিনটা সামার হাউস আছে ওদের। অ্যাঙ্গেলা ব্যবসা সংক্রান্ত কাজ কারবার সামলায়। পিটার কুকুরদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

ব্যাগ-বোচকার বহর অ্যাঙ্গেলার গাড়িতে চাপিয়ে লিঙ্কন ভাই আরিশ কে নিয়ে গাড়িতে উঠল। আবহাওয়া ভালো। হাঁটা পথে বিশ মিনিটের মত লাগবে। আমরা হেঁটে যাব। বাসস্টপ এর পাশ দিয়ে একটা হাঁটা রাস্তা ধরে সামান্য গিয়ে পাকা রাস্তা। রাস্তাটা আড়াআড়ি পার হলে পথে পড়ল লার্চের ছোটমত একটা বন। এদিকে গুগল মানচিত্র কাজ করেনা। প্রচুর মশা বনের মধ্যে। মশা না বলে বন মশা বলাই ভালো। আকারে বড়। গায়ে এসে বসছে, এবং কোনো বিকার নেই, তাড়াহুড়ো নেই- এমন ভাব করে বসেই থাকছে, অনেকক্ষণ সুযোগ দিচ্ছে তাড়িয়ে দেওয়ার, একসময় ধৈর্যচ্যুতি হলে শুঁড় বসাচ্ছে! স্বাতী ভাবী আর আমি আমাদের ছেলেপুলের স্ট্রলারে মশার নেট ভালকরে বেঁধে দিলাম। স্যাতস্যাতে মাটির পথ। কিছুদূর গিয়ে বাঁয়ে একটা বহু পুরাতন গীর্জা। সেটার জরাজীর্ন বড় দরজার ঠিক সামনে থেকে আরেকটা সুড়কি বিছানো রাস্তা হাতের ডানে সোজা চলে গেছে, সেটা ধরলাম।

শেষ মাথায় দূরের ঐ বাড়িটাই মনে হল আমাদের ঠিকানা। একটু এগিয়ে অ্যাঙ্গেলার গাড়িটাও চোখে পড়ল।
লিঙ্কন ভাই আগে পৌঁছে জিনিসপত্র নামিয়ে ভেতরে নিয়ে গেছে। এখন বাইরে দাঁড়িয়ে অ্যাঙ্গেলার সাথে দু-চার কথা বলছে।
-তো ঠিক আছে, পরে কথা হবে, আমাদের দেখে বলল গৃহকর্ত্রী। আর সময় পেলে একদিন আমাদের হাস্কি খামারে চলে আসো।
বাড়ির চাবিগুলো বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় নিল।

হ্রদের গা ঘেঁষে সুইডিশ ঘরানার দ্বিতল একটা বাড়ি। নিচ তলার বিশাল বৈঠকখানাটা হ্রদের দিকে মুখ করা, লাগোয়া রান্নাঘর আর খাবার ঘর। কাঠের সিঁড়ি। ওপর তলায় তিনটা শোবার ঘর। বাড়ির সামনে একটা ঘেরা দেওয়া জায়গা। ঘাস জমি আর আস্তাবল; তিন-চারটা ঘোড়া চরে বেড়াচ্ছে। দুজন গ্রাম্য বধু ওদের যত্নআত্তিতে ব্যস্ত।
বাড়ির বাইরে আসলেই বাচ্চারা হ্রদের দিকে দৌড় দিবে। তাই সাংঘাতিক চোখে চোখে রাখতে হবে ওদের সারাক্ষণ।
একটা নৌকা থাকার কথা না? একবার দেখে আসা দরকার।
রাজ দাদা বলল- অ্যাঙ্গেলা বলেছে পিছন দিকটায় একটা বোট হাউস আছে, সেখানে আছে।
ঘরে জিনিসপত্র রেখে, খানিকটা জিরিয়ে বের হলাম বাড়ির আশপাশটা দেখতে।
---

মধ্য মার্চ হতে প্রথম নরম সূর্য কিরন আর পাখির গানে যখন ধরা দেয় আঁধার আর তুষারের বিদায় সংবেদ, তখন সঞ্জীবনের ঘ্রাণ ভেসে আসে। গাছ গাছালির মধ্যে মুকুলিত হওয়ার, কুঁড়ি ফোটাবার কি তাগাদা! শীতের আত্মচরিত রোমন্থন করে এতদিনের ভূতের মত কালো হয়ে থাকা আপাতমৃত বৃক্ষ-বন যেন হঠাতই হুমড়ি খেয়ে শুরু করে নতুন পাপড়ি-পল্লব উদ্গমের। আর বরফ গলতে শুরু হওয়া মাত্রই দীর্ঘদিন নিদ্রিত থাকা আগাছা- লতা, ঘাস হুহু করে, তরতর করে বাড়তে থাকে। ওদের পাতা, ফুল, শস্যকণায় কীট, মৌমাছি, আলোপতঙ্গের মাতামাতি, সেই পতঙ্গের লোভে পাখপাখালি উড়ে আসে কতদূরের দেশে থেকে।

হ্রদ বাড়ির পেছনের জমিটা হাঁটু অব্দি আগাছায় ভরা। এখানে ওখানে বলগা হরিণের বিষ্ঠা। আগাছা খেতের মধ্য দিয়ে উমা হ্রদের জলের ধার পর্যন্ত চলে গেছে সিঁথির মত সরু একটা মাটির পথ। ওখানে পুরনো একটা হেইযেল বাদামের গাছ ঘিরে জংলা মত দেখা যাচ্ছে। কাছে গিয়ে ওটার আড়ালেই নৌকা রাখার ছাউনিটা পাওয়া গেল। গাছের গুঁড়ির সাথে বাঁধা সাদা রংয়ের একটা নৌকা। গুঁড়ির পাশে কালো, নিষ্পত্র একটা নাম না জানা গাছ, এটাতে মনে হয় আর পাতা গজাবেনা কোনোদিনও। মিষ্টি মিহি কোনো ফুলের আভাস আসছে আশপাশ থেকে, দূর থেকেও হতে পারে, অস্পষ্ট, আমাদের বাতাবিলেবু ফুলের ঘ্রাণের সাথে মিল আছে। বাড়ি ফিরে লাইফ জ্যাকেটগুলো নিয়ে পুরুষেরা আবার বেরিয়ে পড়ল। তিনজন একটু ঘুরে আসবে আশপাশটা। ঠিক হলো আমরা বাড়িতে বাচ্চাদের ঠান্ডা করে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করব।
আধা ঘন্টা বাদেই ফিরল ওরা। নৌকাটা ইঞ্জিনে চলে- তাই তাড়াতাড়ি হয়ে গেছে আপাতত খানিকক্ষণের আশপাশ ঘোরাঘুরি।
জামিলের ভাষ্যমতে, উত্তর দিকে বেশ কিছুদূর গিয়ে অনেকগুলো টিলা কেমন জানি একটা প্রাচীরের মত তুলেছে। প্রথমে মনে হয় হ্রদটা বুঝি ওখানেই শেষ। একটু এগোলে তখন দেখা যায় সরু হয়ে টিলাগুলোকে পাশ কাটিয়ে সামনে আবার প্রশস্ত হয়ে আরো দূরে গেছে উমা হ্রদ।

বাচ্চারা দুপুরের খাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়ল।
আমরা চা বানিয়ে গল্প করতে বসলাম।
মনে রাখার সুবিধার জন্য আমি কি কি সুইডিশ শব্দের সাথে বাংলা শব্দের মিল খুঁজে পেয়েছি তা বলতে চাইলাম সবাইকে। যেমন, দ্যীন (dygn) মানে দিন, ‘এত্‌ দীন’ (ett dygn) মানে চব্বিশ ঘন্টা - আমাদের ‘একদিন’ এর মত করে মনে রাখা যায়, ‘আড়ি’ (arg) মানে রাগান্বিত- ‘আড়ি’ নেওয়া দিয়ে মনে থাকে, ‘ন্যিয়া’ (Nya) মানে নতুন- ‘নয়া’র কাছাকাছি যায়, ‘হ্যালো এভরিওয়ান’ (Hej alla) বলতে চাইলে ‘হেই আল্লা’, ‘ভিখরিয়া’ (vikarie) মানে বিকল্প (চাকরির ক্ষেত্রে লোকবল অর্থে)- মনে রাখার সুবিধার জন্য ‘ভিখারি’র সাথে মিল পেয়েছি, ‘ওক’ (och উচ্চারণ ‘ও’) মানে এবং- শুনতে বাংলায় ‘ও’ এর মত, ‘বেরেত্তা’ (berätta) মানে বিবরণ/ বর্ণনা করা- ‘বৃত্তান্ত’ এর সাথে মিল আছে, সুখ্‌ (sjuk) মানে অসুস্থ- ‘সুখ’ মত উচ্চারণ তবে অর্থটা উল্টে গেছে, ‘ফারা’ (fara) মানে বিপদ/সমস্যা- ‘ফাড়া’র মত, ‘ইগোর’ (igår) মানে ‘আগেরদিন/ গতকাল’, মোল্‌ন (moln) মানে মেঘাচ্ছন্ন- ‘মলিন/মালিন্য’ দিয়ে মনে রাখা যায়, ‘স্যামড়া’ (sämre) মানে নিকৃষ্ট/ বাজে/ খারাপ মানের- ‘ছ্যামড়া’ দিয়ে মনে থাকে, ‘ল্যগম’ (Lagom) মানে বেশিও না কমও না- ‘লাগাম’ দিয়ে মনে রাখতে পারি, ‘পাসান্দে’ (passande) মানে যথোপযুক্ত/পর্যাপ্ত- ‘পছন্দ’ দিয়ে মনে থাকে। আমার সুইডিশ শব্দভান্ডার এর অবস্থা নিতান্ত শিশুতুল্য, আরও নিশ্চয়ই মিল পাবো ভবিষ্যতে। তবে আমার এহেন আবিষ্কারে কাউকে তেমন আপ্লুত হতে দেখলামনা। ব্যাখ্যা করলাম, মিল খোঁজার কারণটা হলো একটা নতুন ভাষা শিখতে হবে বা হচ্ছে এই ভয়ে কিছুটা ভাষাগত ভালোবাসার সন্ধান করা আরকি…

বৈঠকখানার একটা দেওয়াল জুড়ে হ্রদের দিকে মুখ করা বড় জানালা। ছোট ছোট ঢেউয়ে দুলছে সাদা নৌকাটা। মৃদু বাতাসে হেইযেল বাদামের গাছটার ঘন পাতারা ঝিরঝির করছে। আমার পিছনের দেওয়ালে ঝোলানো একটা মানচিত্র। মানচিত্রের কিছু দেশে পতাকা পুশ পিন সাঁটা। স্বাতী ভাবি উঠে গিয়ে বাংলাদেশের জায়গাটা খুঁজে একটা পতাকা পিন গেঁথে দিল।
টেবিলের ওপর এই অঞ্চলের একটা বড় ম্যাপ আঁটা আছে। কিছু কিছু বনাঞ্চলের জায়গায় লেখা ‘ফ্যরবিউদেন’। আমরা ঘুরতে বের হলে ঐসব জায়গায় যাওয়া যাবেনা। সুইডেনে নাকি সব জায়গাই প্রাকৃতিক জায়গার অন্তর্ভুক্ত, জনগনের জন্যও উন্মুক্ত। তাই ‘ফ্যরবিউদেন’ লেখা জায়গাগুলো কি হতে পারে চিন্তা করছিলাম। দীর্ঘমেয়াদী প্রকৃতি রক্ষার সার্থে কিছু বন্যজীবন যেমন বুনোপেঁচা, জলচর পাখি, অর্কিড, চারণভূমি সুইডেন মানব-মালিন্য মুক্ত রেখেছে, সেরকম কিছু হতে পারে আন্দাজ করলাম।
---

বিকাল, কিন্তু এখনো অনেক আলো। রাত দশটা এগারোটা অব্দি ধরিত্রির এই অংশ আলোকিত থাকবে। বিকালে হাঁটতে বের হলাম। দু-একটি বাড়ির সামনে গোরু বাঁধা। ঘোড়ার আস্তাবল বেশ কিছু চোখে পড়ল।
পথে যাদের সাথে দেখা হচ্ছে সবাই হাসি মুখে দৃষ্টি বিনিময় করছে। দুই একজন জিজ্ঞেস করল আমরা পিটারদের বাড়িতে উঠেছি কিনা। সবাই মোটামুটি জানে আমরা পিটারদের হ্রদ-ঘেঁষা বাড়িতে উঠেছি। কি আশ্চর্য! সুইডিশরা এ যাবৎ দেখেছি রাস্তায় চলার পথে অপরিচিতদের সাথে দৃষ্টি বা হাসি বিনিময় করেনা, যেচে পড়ে কুশল বিনিময়তো দূরের কথা। এই গ্রামের লোকজন মনে হল একটু আলাদা। এদের পল্লীসুলভ একাট্টা আন্তরিক আচরণ টের পেলাম। ছোট্ট গ্রাম, সবাই সবাইকে চেনে, আর এতো প্রত্যন্ত এলাকা, তাই বিদেশী লোকজন আসলে হয়তো দেখতে মজা লাগে এদের।
এরপর, কয়েকটা দিন শুধু হাঁটাহাঁটি, নৌকা বাওয়া, পিকনিক। ওই অচেনা বনের ভূর্জ গাছের পাতারা দুপুরের নির্জনতায় কেমন পরিচিতভাবে ঝিরঝির করে। ওদের উঁচু ডালে মানুষ দূরে দূরে ছোট ছোট কাঠের খোপ বানিয়ে আটকে দিয়েছে। পাখিদের তুষার-ঝড় আর বসন্তের আশ্রয়। গ্রীষ্মে দূর থেকে এই সীমাহীন হ্রদ আর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দ্বীপপুঞ্জের দেশে নীল আকাশের মেঘ কেটে উড়ে আসে কত পাখি। যাযাবর পাখিদেরই কেউ কেউ হয়ত এমন নিস্তব্ধ গাঁয়ের পাথর বিছানো জলধারার অদূরে এই বনের গাছে খুপরি-সুন্দর কাঠের বাড়িতে কিছুদিন আশ্রয় নেয় তারপর উড়ে যায় নতুন কোনো দেশে।

প্রকৃতির রূপ রস রূপ রস করেছি জীবনে অনেক। রূপ দেখেছি। কিন্তু রসের ব্যাপারটা অবলোকন করার জন্য স্বীয় ঘ্রাণেন্দ্রিয়কে গ্রাহ্য করা প্রয়োজন- সরস পাতারা বাতাসে অনুগ্র কোমল গন্ধ ছড়িয়ে দেয়, কখনো ভাবি এই গন্ধ হয়ত দূর পাইন অরণ্য হতে ভেসে আসা পাইন গাছের বাকলের ক্ষণস্থায়ী স্নেহসঞ্চারী পুদিনা পাতার মত টাটকা গন্ধটা, কখনো মনে হয় এই গন্ধ মনগলা অচেনা বুনো পুষ্পের মিলমিশ সুবাস।
সাদা কান্ডের ভূর্জ গাছের মাঝ দিয়ে আঁকাবাঁকা স্যাঁতস্যাঁতে মাটির পথে হেঁটে, কখনো লার্চের বনে ইতস্তত ঘুরে, কোনোবেলা দুপুরে, নিশ্চলতায় ঝিম মেরে বসে হ্রদের জলে কেঁপে ওঠা সোনালি রোদের দিকে মুখ করে, কখনো আগাছা ক্ষেতের পাশে চা নিয়ে বসে, আবার কখনো নৌকা বেয়ে কটাদিন চলে গেল। কাজের মধ্যে যেটা হলো, নৌকা বাইতে পারলাম প্রথমবারের মত।

জীবনের জন্য হাওয়াবদলের প্রয়োজনীয়তা কতখানি, প্রকৃতির স্বাদ গন্ধ, যে কোনো নতুন অভিজ্ঞতা আমাদের চিন্তাকে প্রভাবিত করে চেতন বা অবচেতনভাবে কিকরে নতুন মানুষে রূপ নেওয়ায় সে সম্পর্কে রাজ দাদা কিছু সুন্দর বানী দেয়ার চেষ্টা করল। রাজ দাদা ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে গড়ে ওঠা স্নায়ুবিজ্ঞানী। সে সুন্দর বাংলা শব্দ খুঁজে কথা বলার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায় মাঝে মাঝে। তবে অধিকাংশ সময়ই কাব্যিক বাংলায় বলতে চাওয়া বাক্য সে শেষ করতে পারেনা, বাক্য শেষ হবার আগেই অন্য কোনো প্রসঙ্গে চলে যায় কিংবা তার বাক্য শেষ করতে যে সময় লাগে তাতে অন্য কেউ মধ্যপথে বাধা দিয়ে অন্য কথা শুরু করে দেয়। দাদাকে বিক্ষিপ্তচিত্ত করা যেমন সহজ, অবাক করাও তেমনই সহজ। যেমন, আমি বললাম- দাদা দাদা দ্যাখেন, এইযে পাইন কোণ, আপনাদের পাইনিয়্যাল গ্ল্যান্ড এর নাম এই পাইন কোণ থেকে এসেছে। দাদা খুবই অবাক হলেন আমি জানি দেখে।

অবকাশ যাপনে আমাদের বাদবিসংবাদ হবেই। আমাদের মানে প্রত্যেকটা দম্পতির একান্ত নিজস্ব অন্তর্দন্দ্ব বাদবিসংবাদ। আবার দম্পতি বললেও ভুল হবে। দম্পতির পতি অংশ গুলো সবসময়ই নিরীহ-নির্দোষ থাকে। হঠাৎ কোনো একটা অচিন্তিতপূর্ব কারনে মহিলাটির মেজাজ খারাপ হলেই হয়ে গেল, সেই সব কথা বলবে, সব দুঃখ কাঁধে নেবে, নিজেকে পৃথিবীর দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের একজন মনে করে যাবতীয় পরিতাপের কারণ হিসেবে তার পুরুষটিকে দোষী সাব্যস্ত করে কয়েক ঘন্টা মতান্তরে কয়েক দিনের জন্য আলাপবন্ধ করবে। বাদবিসংবাদের কারণগুলো এতই অমূলক, অর্থহীন যে পরেরদিকে মূল কারণ আর কারো মনে থাকেনা। একদিন সেরকমই এক বাদানুবাদের জের ধরে লিঙ্কন ভাইকে জব্দ করতে স্বাতী ভাবি রাত বারোটার পরে কোনো এক সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল। আমরা তখন নিদ্রিত। রাজ দাদা হন্তদন্ত হয়ে এসে খবর দিল- সে স্বাতী ভাবিকে খালি পায়ে হ্রদের দিকে যেতে দেখেছে। বাচ্চারা ঘুমাচ্ছে, রাজ দাদাকে পাহারায় রেখে লিঙ্কন ভাই দৌড় দিল। রাজ দাদা আক্ষরিকভাবেই শান্তিপ্রিয়, খামখেয়ালী এবং বিপদে সহজে ত্রস্ত-শঙ্কিত হয়ে পড়ার মত মানুষ। অনেকক্ষণেও ওরা ফিরছেনা দেখে দাদা ভাবল স্বাতী ভাবি আর লিঙ্কন ভাই যদি নিয়তির পরিহাসে গ্রীষ্ম অবকাশে এসে কোনোভাবে পঞ্চত্বপ্রাপ্ত হয়, তাহলে বাচ্চাদের ভাগ বাটোয়ারা করে উনি ছোটটাকে নেবে আর আমাদেরকে বড়টাকে দেবে। তার এইসব সাত পাঁচ ভাবনার একপর্যায়ে আলোচ্য দম্পতি হাত ধরাধরি করে গৃহে প্রত্যাবর্তন করল।
---

পরদিন আমরা নৌকা বাওয়া শেষে বাড়ি ফিরে খাবার দাবারের আয়োজন করতে বসলাম। আমি পরোটা বানাবো। ছোটবেলার কায়দায় রুটির উপর চিনি ছিটিয়ে তেলে ভাজবো, দেখি আগের মত মজা পাই কিনা।
এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। বলা নেই কওয়া নেই, কে আবার আসল এখন!
জনালা দিয়ে দেখলাম লম্বা মত একটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। এখনকার দিনেতো এভাবে লোকে কারো বাড়িতে আসেনা। কি জানি, গ্রামের ব্যাপার স্যাপার, আসে হয়তো। ছেলেটা বলল ওর নাম নিকোলাস। মাছ ধরছিল আশেপাশেই, এই বাড়িতে লোকজন দেখে নাকি আগ্রহী হয়ে দেখতে এসেছে।
ভেতরে আসার আমন্ত্রণে ছেলেটা রাজ দাদাদের পিছে পিছে ভেতরে এসে বসল।
জলি বৌদি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে দাদার দিকে তাকাচ্ছে।
বৈঠক খানায় গল্প চলছে। আমরা আগ্রহী শ্রোতা।
বৌদি আস্তে করে দাদার ওপর গজ গজ করতে করতে বলল- কি এতো গল্প একটা অচেনা লোকের সাথে বুঝিনা।
আমরা চিনি ছিটিয়ে ভাজা পরোটা আর চা বানিয়ে দিয়ে আসলাম বৈঠক খানায়।
গল্পে গল্পে জানা গেল গ্রামের লোকজন খুব সংসারী।
এপ্রিলের দিকে বরফ গলতে শুরু করলে সবাই ফুরফুরে হয়ে ওঠে। সকাল থেকে দুপুর গ্রামের পুরুষেরা নৌকা বেয়ে এপাশ-ওপাশ চষে উমার জল হতে তুলে আনে রেইনবো ট্রাউট, চাড় আরো কত রকমের মাছ। কপাল ভালো হলে জুটে যায় পাইক। বাড়ির বউরা গোরু, ঘোড়ার দেখভাল করে, উল বোনে। ছুটির দিনে সপরিবারে বের হয়। উমার বুকে নৌকা বেয়ে, ওপাশের বরই ক্ষেতের মাঝ দিয়ে প্রায়ই পিকনিক করিতে যায় আরো দূরে। ফেরার পথে তুলে আনে নীল বরই আর মাশরুম। তবে সেটা গ্রীষ্মকালের ব্যাপার। শীতের জীবন একেবারেই আলাদা।
গ্রীষ্মেও স্লুস্ফোর্স এর পানির তাপ পনের ডিগ্রির উপরে ওঠেনা। তাই কিছু বানিজ্যিক আর্ক্টিক চাড় এর খামার গজিয়ে উঠেছে এদিকে। অধিকাংশ পরিবার খামারী। মাছ ধরা, বলগা হরিণ, গোরু, ঘোড়া পালন, এল্ক শিকারই এদের অগ্রগণ্য কাজ। তবে বছরে একজনের একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার উপরে জনপ্রতি হরিন এবং এল্ক শিকারের অনুমতি নেই।
---

পরেরদিন।
আজকে পিটারের হাস্কি খামার দেখতে যাওয়ার কথা।
আসার দিন যে পথ দিয়ে এসেছিলাম সেই পথেই গীর্জা পর্যন্ত আসলাম। প্রত্যন্ত অঞ্চল। গুগল মানচিত্র কাজ করেনা। অ্যাঙ্গেলার ভাষ্য অনুযায়ী- গীর্জার পাশের সরু রাস্তা ধরে কিছুদূর এসে একটা সাইনবোর্ডমত চোখে পড়বে। পেলামও। হাস্কি খামারে যাওয়ার রাস্তা দেখানো হয়েছে এইরকম আরো কয়েকটা সাইন চোখে পড়ল যেতে যেতে। তারপর আস্তে আস্তে বনের ভিতর থেকেই চোখে পড়ল ওপাশের ঘেরা দেয়া একটা বিশাল খামার।
আমরা প্রধান ফটক ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম। চওড়া একটা মাটির পথ পার হয়ে ভেতরে বামে আরেকটা বেড়া দেওয়া অংশ। অনেকটা এল্‌ আকারের। ডানের দিকটায় পিটারের বসত বাড়ি আর ছেলেপুলেদের খেলার জায়গা। বাগানে দুটো ছোট ছোট ছেলে খেলছে। কোলে একটা বাচ্চা নিয়ে বাড়ির ভেতর থেকে অ্যাঙ্গেলা বেরিয়ে আসলো। আমাদের দেখে হাত নাড়ল- হ্যালো।
আমরা বাচ্চাটার দিকে নজরপাত করে আগ্রহ দেখালাম।
ও ইসাবেলা, এগারো মাস বয়স- বলল সে।
ওদিক থেকে দেখলাম এক ব্যক্তি হাত নেড়ে আমাদের ডাকছে; সম্ভবত বাড়ির পুরুষ পিটার কার্লসন। এগোলাম সেইদিকে।
পিটারের সাথে সামনা সামনি আজই পরিচয়। এই অঞ্চলে বিখ্যাত সে। ইয়োরোপে তার হাস্কি কুকুরদের বিশদ খ্যাতি পরিচয় আছে। গত শীতেও ওরা ১২০০ কিলোমিটারের ফিন্‌মার্ক্সলোপার স্লেজ প্রতিযোগীতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ পরপর তিনবার। ইউরোপের দীর্ঘতম স্লেজ প্রতিযোগীতা ওটা।
পিটার আমাদের নিয়ে চলল খামারের দিকটায়।
আলাস্কান হাস্কি সব। বাচ্চা হাস্কিগুলো একদিকে। বড়গুলো অন্যদিকে।
অত্যন্ত বুদ্ধিমান নাকি হাস্কি কুকুররা।
দৌড়ের জন্যই ওদের জন্ম হয়েছে, তারপরও একেকটার বিশেষত্ব একেক রকম- বলল পিটার।
ওদের মধ্যে কোনোটা দলের নির্ভরযোগ্য হাস্কি, কোনোটা একেবারে মেশিনের গতিতে দৌড়ায়, সব এভাবে আলাদা করে ওদের পরিচয় ফলকে লেখা দেখলাম। কোনো কোনোটা নাকি শুধু ফুর্তি ফারাজ করতেই পছন্দ করে। কোনোটা আবার শান্ত, নম্র আর মিষ্টি স্বভাবের।
কতগুলোকে দেখিয়ে পিটার বলল -এগুলোর মধ্যে নেতৃত্ব দেয়ার প্রবণতা বেশী, শরীরে দুর্দান্ত শক্তি এদের। আবার কতগুলোর কথা বলল- এরা কিন্তু ঝামেলা পাকানোর ওস্তাদ। শেষের একটা খাঁচার কাছে নিয়ে গিয়ে বলল- এরা খুবই ব্যক্তিত্বপূর্ণ।
পুরো হাস্কি খামার দেখতে দেখতে বেলা বেড়ে গেল।
আমরা পিটার আর অ্যাঙ্গেলাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফিরতি পথ ধরলাম।
পেছন থেকে অ্যাঙ্গেলা মনে করিয়ে দিল- কাল কিন্তু তোমাদের মালপত্র নিয়ে বাস স্টপে পৌঁছে দিয়ে আসব, আসার দিনের মতোই। সকাল দশটায় গাড়ি নিয়ে আসব।

হ্রদ-বাড়িতে ফিরে দুপুরের খাবার সেরে আবার আমরা বের হলাম অনির্দিষ্টের পথে। এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করলাম। খামার থেকে আসার সময় পথে দূর থেকে একটা জলধারা দেখেছিলাম। ফিরতিপথে কিছুদূর গিয়ে সেটা পাওয়া যাবে। ঠিক হলো ওটার পাড়ে একটু উঁচুতে যে চওড়া পাথর গুলো আছে ওখানে বসে চা খাওয়া যেতে পারে।
জলি বৌদি আর স্বাতী ভাবির দায়িত্বে আছে খাবারের ঝুড়ি। সেখান থেকে বাচ্চাদের হাতে আপেল পাই ধরিয়ে দিলাম। রাজ দাদা বুদ্ধি করে পিঠের ব্যাগে দুটো বনভোজন মাদুর এনেছে। জলের কাছের পাথর থেকে একটু দূরে ঘাসের ওপর মাদুর পেতে দারুচিনি কেক আর চায়ের ফ্লাস্ক নিয়ে বসলাম। শীত শেষের বরফগলা জলধারাটা সূর্যের আলো গায়ে মেখে হুল্লোড় করছে যেন। হুল্লোড় করতে করতে তার পদপৃষ্ঠের বড় ছোট প্রস্তর আর উপলগুলোকে স্নানবারিতে উদ্বেল করে মিশে যাচ্ছে অদূরে, সাদামাটা উমার জলে...
ভূতলে, জলে, পাখিদের আর আমাদের গায়ে রোদ পড়ছে। সবখানে রোদ পড়ে শৈবালাকীর্ণ উদ্ভিজ্জ সোঁদা গন্ধের ভাপ চারপাশে। সেটাই নাকে এসে লাগছে খানিক পরপর। আরও একধরনের ঘ্রাণ পাচ্ছি বাতাসের ছন্দে। বুনোফুলের। আমাদের কাছে এবং দূরে বৃহৎ জায়গা জুড়ে ক্ষুদ্র হলুদ, বেগুনি আর সাদা সাদা ফুলের ঝোপ, গন্ধটা সেখান থেকেও আসতে পারে অথবা আরো দূরের কোনো ফুল; হয়তো আরো উত্তরের ঘাস-গুল্মের ঊষর-প্রান্তর আর পাথুরে অঞ্চল থেকে আলগোছে ভেসে আসা আমার না জানা কোনো উপত্যকা-লিলি। পৃথিবীর যুথচর মানুষদের ভিড় হতে দূরে প্রায় জনহীন গ্রামখানিতে জলধারার শান্ত ঠাণ্ডা বাতাসে সূর্যের খেয়ালী মমতাময় তাপে কি ভালো লাগল। দূর দিগন্তে, পাহাড়ি ভূর্জ আর পাইনের অরণ্যরেখা। প্রাচীন অবশেষ, ওই বন পাহাড়, ওই জলধারা, পাখি, হ্রদের মাছ, রংচঙে বুনো ফুলের আশ্রয়- অতি অকৃত্রিম বলে আপাত আশীর্বাদপুষ্টতার শোভাযাত্রা নেই ওদের...

জে এফ নুশান


মন্তব্য

জীবনযুদ্ধ এর ছবি

লেখার সাথে কিছু ছবি যুক্ত করে দিলে ভালো হত

অতিথি লেখক এর ছবি

পড়ার ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জীবনযুদ্ধ। ভ্রমণের ছবি ভান্ডার আমার তেমন সমৃদ্ধই নয়। দিতে চেয়েছিলাম এটার ছবি যা আছে, পরে ভাবলাম থাক।

নুশান

জীবনযুদ্ধ এর ছবি

আপনার লেখার হাত অনন্য, আরও লিখুন

জে এফ নুশান এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
নুশান

তারেক অণু এর ছবি

বাহ, উত্তরের গ্রীষ্ম বড্ড প্রিয় ছিল। সুইডেনের ল্যাপল্যান্ডে যাওয়া হয়েছিল একাধিকবার, আপনার লেখার পড়তে পড়তে সেই দিনগুলোতে ফিরে গিয়েছিলাম যেন। তবে হাস্কির খামারে যাওয়া হইনি আজও।

নিয়মিত জানিয়েন আমাদের সুইডেনের দিনরাত্রি নিয়ে।

অতিথি লেখক এর ছবি

পড়ার ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ, তারেক অণু। খুব ভালো লাগলো জেনে।
আপাতত দিবারাত্রি হতোদ্যম।

নুশান

Russell এর ছবি

অনবদ্য বর্ননা। একেবারে হৃদয় উদ্বেল করে দিলেন। আরো লেখা পড়তে চাই।

অতিথি লেখক এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ রাসেল। জেনে খুশি হলাম। অবশ্যই।

নুশান

নৈ ছৈ এর ছবি

ভাল লাগলো পড়ে। স্লুস্ফোর্সে মনে হচ্ছে চমৎকার জায়গা, আবার বাসেও যাওয়া যায়। সুইডিস আর বাংলার অন্ত্যমিল পড়ে মজা পেলাম। আমার দৌড় হেই আর হেই-ডো

অতিথি লেখক এর ছবি

ধন্যবাদ নৈ ছৈ। এদিকের ভূ-প্রকৃতি মোটামুটি সাদৃশ্যপূর্ণ তবে দক্ষিণের চেয়ে উত্তরটা কিছুটা হলেও অন্যরকম, হিমাবনের (Hemavan) দিকটা বেশি সুন্দর, আর উত্তরের সুমেরু জীবন আলাদা স্বাদ্গন্ধের। হ্যাঁ বাস/ট্রেন যায় মোটামুটি সবখানেই তবে দীর্ঘসময় মানুষের মুখ দেখতে না চাইলে আরো দূরে- সেইসবখানে যেতে নিজের বাহন মাস্ট।

নুশান

এক লহমা এর ছবি

বাঃ! চমৎকার একটা জায়গায় ছুটি কাটানোর চমৎকার বিবরণ। খুব ভালো লাগল পড়ে।

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

জে এফ নুশান এর ছবি

পড়ার ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ, এক লহমা।

নুশান

সাক্ষী সত্যানন্দ এর ছবি

চমৎকার! পরের পর্বে কিছু ছবি জুড়ে দেবেন অবশ্যই।

____________________________________
যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলো,
তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালো?

জে এফ নুশান এর ছবি

নিশ্চয়ই। ধন্যবাদ সাক্ষী সত্যানন্দ!

নুশান

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।