প্রোগ্রাম

হিমু এর ছবি
লিখেছেন হিমু (তারিখ: বুধ, ২৪/০৩/২০১০ - ১০:৪২পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ছোট্ট ছিমছাম একটা হাসপাতালের চেহারাই দেখা যায় বাইরে থেকে।

ভেতরে ঢুকুন। হাসপাতালই মনে হবে। আপনি রিসেপশনে যান, চশমার ওপর দিয়ে আপনার দিকে মিটমিট করে তাকাবে বয়স্কা রিসেপশন ক্লার্ক। ডানে বামে তাকান, দেখবেন ডাক্তার আর নার্সদের ছোটাছুটি, গার্নির আসাযাওয়া, ওষুধ আর জীবাণুনাশকের গন্ধ।

এমনকি রোগীও দেখতে পাবেন কয়েকজন।

কিন্তু হাসপাতাল নয় এটা।

যদি জিজ্ঞেস করে বসেন, "তবে কী?", তাহলে উত্তর দেয়া মুশকিল।

যদি জানতে চান "কেন", তাহলে হয়তো শুরুতে চোখ পাকিয়ে ধমকই দেবো একটা। বলবো, অত কিছু জানতে চান কেন? কিন্তু আপনি নাছোড়বান্দার মতো আমাকে চেপে ধরুন, দেখবেন এক সময় ঠিকই এদিক সেদিক তাকিয়ে, গলা নামিয়ে, আপনার কানের কাছে ফিসফিস করে বলবো, কারণ এর পেছনে আছে এ দেশের সরকার, আটলান্টিকের ওপারের আরেকটা দেশের সরকার, ভূমধ্যসাগরের তীরের সেই গিয়ানজামের দেশটার দুটো গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটা দেশের বিলিয়ন পাউণ্ড স্টার্লিঙের ... এই যাহ দিলাম তো কারেন্সির কথা ফাঁস করে ... যাকগে ... ফান্ড। অনেক গেরো রে বাহে। সহজ কথা যায় কি বলা সহজে?

তারপরও আপনি ঝুলোঝুলি করতেই থাকবেন। করতেই থাকবেন। করতেই থাকবেন।

এক পর্যায়ে আবার ফিসফিসিয়ে বলবো, প্রত্যেক বছর বাংলাদেশ থেকে একটা লোক আসে লণ্ডনে, দেখেছেন? কখনো এমিরেটসে, কখনো সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, কখনো বৃটিশ এয়ারওয়েজে ... দেখেছেন?

আপনি হাসবেন। বাংলাদেশ থেকে প্রত্যেক বছর কত লোকই তো ওভাবে আসছে যাচ্ছে। বিশ্বনাথ থানাটাই তো বলা যায় এই দৌড়ের ওপর আছে।

হাসবো আমিও। বলবো, উঁহু। একটা বিশেষ লোক।

আপনি আমার হাসার ধরন দেখে একটু মিইয়ে যাবেন। হাসিটা অর্ধেক ঝুলে থাকবে মুখে। অনিশ্চিত কণ্ঠে বলবেন, তাহলে?

আমি বলবো, একটা লোক। একটা বিশেষ লোক।

আপনি বলবেন, কী করে সে এখানে?

আমি হাসবো। তারপর চুপ করে বসে থাকবো কিছুক্ষণ।

program

আপনি কাছে ঘেঁষে বসবেন। একটু ঝুঁকে। আপনার জামার ফাঁক গলে কত কিছু চোখে পড়বে আমার। কিন্তু আড়চোখে সেদিকে তাকিয়ে থাকলেও আর কিছু বলবো না। আপনি ঘ্যানর ঘ্যানর করতেই থাকবেন। বলুন না, বলুন না, বলুন না ...।

আমি এবার একটা হাত আপনার ঘাড়ের ওপর দিয়ে কাঁধের ওপর আলতো করে রেখে বলবো, আচ্ছা, কিন্তু কাউকে বলা যাবে না কিন্তু ... খুব গোপন! ফর ইওর ইয়ারস ঔনলি!

আপনি আরেকটু ঘেঁষে বসবেন।

আমি ফিসফিস করে বলবো, লোকটা আসে। নামে বিমান থেকে। হোটেলে ওঠে। যদিও লণ্ডনে তার একটা বাড়ি আছে। কিন্তু সরাসরি ওখানে সে যায় না।

তাহলে? ফিসফিসিয়ে জানতে চাইবেন আপনি।

হোটেলেই ওঠে সে। একটা দিন জিরোয়। তারপর যায় সেই হাসপাতালে। একটা কালো ক্যাডিলাকে চড়ে। তার কাঁচ আবার একটু অন্ধকার মতো। সে যখন নামে, তখন একটা ফেডোরা হ্যাট ঝুঁকিয়ে তার মুখটাকে খানিকটা আড়াল করে রাখে। তারপর চটপট ঢুকে পড়ে সেই না-হাসপাতালটার ভেতরে।

কেন? আবারও ফিসফিস করেন আপনি।

আমি এবার একটু চেপে ধরি আপনাকে। সামান্য চিপক্কে যাকে বলে। আপনি আপত্তি করেন না। আমি বলি, কেন আবার? ঐ না-হাসপাতালটা যে দু'দুটো সরকার, দু'দুটো ইনস্টিটিউট আর দু'দু বিলিয়ন পাউণ্ড স্টার্লিং কেবল প্রোগ্রামের পেছনেই ব্যয় করে?

প্রোগ্রাম?

আমি জিভ কাটি। সভয়ে তাকাই ডানে বায়ে। গুপ্তচরদের বিশ্বাস নেই, বলি আমি। বিনোকিউলারে ঠোঁটের নড়াচড়া দেখেই যা বোঝার বুঝে নেয় বেটারা।

প্রোগ্রাম কী? আপনি একটা হাত আমার ঊরুর ওপর রেখে জানতে চান সাগ্রহে।

আমি একটু দ্বিধা নিয়ে তাকাই আপনার চোখের দিকে, তারপর আড়চোখে আবার জামার ফাঁকের দিকে। বলি, উমমমমম, ওটাই কোডনেম।

কীসের?

আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি। তারপর বলি, শুনুন আগে। সেই না-হাসপাতালে ঢুকে পড়ে লোকটা। তারপর সোজা চলে যায় একটা ঘরে। সে ঘরে কী আছে জানেন?

না! কী আছে? জানতে চান আপনি।

সে ঘরে একটা লিফট আছে।

কিন্তু হাসপাতালটা তো একতলা!

আমি হাসি। "হুঁ! এই তো ধরে ফেলেছেন। ওপরে ওঠে না সে লিফট, নিচে নামে।

নিচে কী আছে? আপনি চোখ বড় বড় করে জানতে চান।

আমি মুখ টিপে হাসি। তারপর বলি, এক বিরাট ল্যাব!

কী হয় সে ল্যাবে? রুদ্ধশ্বাসে জানতে চান আপনি।

আমি এবার বেশ কষে চেপে ধরি আপনাকে। বলি, জানতে চান? বলছি শুনুন! সেই ল্যাবে প্রথমে লোকটা খুলে রাখে নিজের ফেডোরা হ্যাট। তারপর ডাস্টকোট। তারপর খোলে গলায় বাঁধা রুমাল ...।

আহ, বললেই হয় সব জামা কাপড় খুলে রাখে! আপনি ক্ষেপে ওঠেন।

আমি বলি, হুঁ! কিন্তু আপনি কীভাবে জানলেন?

আপনি এবার কিল মারেন আমার বুকে। সত্যিকারের কিল নয়, ছদ্মকিল। আমি হাসি।

তারপর? নাঙ্গা হয়ে সে কোথায় যায়?

আমি গম্ভীর মুখে বলি, সে শুয়ে পড়ে একটা স্টিলের বিছানার ওপর। তার ওপর নরম গদি বিছানো আছে অবশ্য।

তারপর?? আপনি একটু সোজা হয়ে বসতে চান, কিন্তু হে হে, ওরকম চিপক্কে ধরে রেখেছি, সোজা হওয়া কি এত সোজা?

আমি ফিসফিস করে বলি, পাশের ঘর থেকে মুখে মাস্ক আর অ্যাপ্রন পরা দু'জন লোক বেরিয়ে আসে। তারা রয়েসয়ে এক জোড়া গ্লাভস পরে নেয়। তারপর একজন অ্যানেসথিশিয়ার যন্ত্রপাতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়, আরেকজন বার করে একটা চকচকে ক্ষুর।

ক্ষুর কেন? আপনি শুধান।

মাথা কামানোর জন্যে।

কেন?

মাথার চুলগুলো না কামালে যন্ত্রটা মাথায় বসাবে কী করে?

কীসের যন্ত্র?

আরে, অজ্ঞান করার পর যেটা মাথায় বসানো হয়, সেটা?

আপনি আমতা আমতা করে কেবল বলেন, কোন যন্ত্রটা কোন যন্ত্রটা কোন যন্ত্রটা ...।

আরেকটু চেপে ধরি আপনার নরম শরীরটাকে। আপনি তেমন আপত্তিও করেন না, বলেন, বলুন না কোন যন্ত্রটা?

আমি হাসি আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে। বেশ ডাগর কিন্তু। বলি, যেটা দিয়ে তার সমস্ত স্মৃতি শুষে নেয়া হয়, সেটা!

স্মৃতি কেন শুষে নেয়া হয়? আপনি জানতে চান অবোধ শিশুর মতো।

বলি, শুধু কি তাই? স্মৃতি শুষে নিয়ে জমা করা হয় একটা বিশেষ অর্ধতরলে ভরা বিশাল জারে।

আপনি বলেন, কীভাবে?

আমি বলি, আমাদের স্মৃতি আসলে কী? কিছু তড়িৎ-রাসায়নিক সংযোগেরই তো ফসল? সেটাই তৈরি করেছে সেই দু'দুটো সরকার, দু'দুটো ইনস্টিটিউট আর দু'দু' বিলিয়ন পাউন্ড স্টার্লিঙের ফান্ড মিলে।

আপনি কিছু বলেন না, চোখ গোল গোল করে শোনেন।

আ-র-ও চেপে ধরি এবার আপনাকে। বলি, মাই লেডি, এখানেই শেষ নয়। একটা বিশেষ ফ্রিজ থেকে কী বার করে আনা হয়েছে পাশের ঘরে, ঘন্টা খানেক আগে, জানেন?

আপনি মাথা নাড়েন বিস্ফারিত চোখে।

একটা শরীর। দড়ির মতো পাকানো পেশী আর কুচকুচে কালো চুল তার মাথায়। তবে ...।

আপনার শ্বাস একটু দ্রুত হয়, টের পাই। টের আবার পাবো না? আরো চিপক্কে যে!

আমি নখ দেখি।

আপনি আমাকে খামচে ধরেন এবার। তবে কী?

মুখের চামড়া একটু কোঁচকানো। কৃত্রিমভাবে বয়সের ছাপ ফুটিয়ে তোলা সে মুখে।

কিন্তু কেন?

বলছি। এরপর সে শরীরটাকে চাপানো হয় আরেকটা গদি মোড়ানো স্টিলের বিছানায়। তারপর আরেকটা যন্ত্র বসানো হয় তার মাথায়।

চুল কামালো না যে?

এই যন্ত্রে আর চুল কামাতে হয় না।

ও! আচ্ছা ... তারপর?

তারপর সেই যে অর্ধতরলে টইটম্বুর জার ... ওটা থেকে সমস্ত স্মৃতি আবার ঢোকানো হয় এই শরীরের মগজে।

কেন?

কারণ এই শরীরটা কৃত্রিমভাবে ক্লোন থেকে বড় করা। ওর মগজ আছে, কিন্তু স্মৃতি নেই।

তারপর?

তারপর একসময় সমস্ত স্মৃতি ডাউনলোড শেষ হয়।

ওহ! তারপর?

তারপর লোকটা পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায়।

আচ্ছা! হুমমম!

পুরনো শরীরটাকে একটা চুলোতে ফেলে একদম পুড়িয়ে ছাই করা হয়।

আর নতুন শরীরটা বেরিয়ে আসে?

হুঁ। বিছানা থেকে উঠে প্রথমে গলায় রুমালটা বেধে নেয়। তারপর জাঙ্গিয়া, গেঞ্জি, প্যান্ট ...।

বুঝেছি বুঝেছি! এজন্যই ব্যাটা বুড়ো হয় না! আর মরে না! আর ওরকম কুচকুচে চুল দেখা যায় টিভিতে! আচ্ছাআআআআআ! তারপর কী হয় বলুন!

আপনি একটু যেন অধৈর্য হয়ে ওঠেন। অভয় দেয়ার জন্যে আরেকটু চেপে ধরি।

তারপর যায় লন্ডনে তার নিজের বাড়িতে। এবার তো পার্টি টাইম। নতুন শরীর, একটু খেলিয়ে দেখতে হবে না?

যাহ আপনি অসভ্য একটা!

আরে না সত্যি!

তাহলে বইতে যে পড়েছিলাম, কী সব পিল যেন খেতে হয় ব্যাটাকে?

হুঁ। কী করবে বলুন, ক্লোন তো। আসল শরীরের মতোই। একটু টাটকা, হার্ট-কিডনি-লিভার সব টনটনে, কিন্তু ঐ ডিপার্টমেন্টে তো সেই পুরনো শরীরটার মতোই গণ্ডগোল।

সে কী? দু'দুটো সরকার, দু'দুটো ইনস্টিটিউট, দু'দু বিলিয়ন ডলারের ফান্ড মিলে ঐ ডিপার্টমেন্টের জন্য কিছু করতে পারলো না?

আমি মাথা নাড়ি। ফান্ডে শর্ট পড়েছিলো বুঝলেন। সময়মতো কেউ খেয়াল করেনি ব্যাপারটা।

কী নাম সেই না-হাসপাতালের? আপনি জানতে চান।

আমি হাসি। কেন, যাবেন নাকি আপনিও?

আপনি কিল মারেন আমার বুকে। ছদ্মকিল, আগেরটার মতোই। এটায় জোর আরো কম অবশ্য। যেভাবে চিপক্কে ধরেছি বুকের সাথে, আয়েশ করে কিল মারার জায়গাই বা কোথায়?

বলেন না!

আমি মাথা নাড়ি।

কেন? প্লিজ প্লিজ প্লিজ।

না।

তাহলে ঐ প্রোজেক্টটার নাম বলেন। গুগল মেরে ঠিক বের করে ফেলবো।

এবার হাসি আমি হো হো করে। আরো চেপে ধরি আপনাকে। বলি, এরকম গোপন প্রোজেক্টের খবর কি আর গুগলে আছে রে বোকা সুন্দরী?

"প্রোগ্রাম" লিখে সার্চ করলে আসবে না? আপনি জানতে চান।

কে জানে! কখনো তো করে দেখিনি। তবে প্রোজেক্টের নামটা বলতে পারি।

আপনি আরো ঘনিয়ে আসেন। কী, কী, কী?

ইলেকট্রোকেমিক্যালি রিচার্জড সিমবায়োটিক হিউম্যানয়েড (অ্যানুয়ালি ডিকমিশন্ড)।

ওফফফ কী বিচ্ছিরি নাম! আপনি নাক কোঁচকান। অনেক কিউট লাগে ওভাবে আপনাকে, সত্যি।

ইংরেজিতে সহজ অবশ্য। আমি বলি।

কী?

সোজা। অ্যাক্রোনিমটা বানান। ERSH[AD] ।


মন্তব্য

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

বড় বিটলা মাথা আপনার। কৈশোরে ধরে খেলে আপনাকেই শাদ বানিয়ে ফেলতো এই বুড়া। চোখ টিপি

হরফ এর ছবি

হেঃ হেঃ। ভাল লিখেছেন হিমু।

"ছুটলে কথা থামায় কে/আজকে ঠেকায় আমায় কে"

ছুটলে কথা থামায় কে/আজকে ঠেকায় আমায় কে

রেনেট এর ছবি

দুর্দান্ত!
---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

---------------------------------------------------------------------------
একা একা লাগে

Shizumu Wabishii Tawakemono [অতিথি] এর ছবি

মজা পাইলাম অনেক ।

এরশাদ দাদু নামে একটা ক্যাটাগরি আছে না ? ওটা শোধরান , দাদুর বয়স এখন ৮০ বছর চোখ টিপি

Shizumu Wabishii Tawakemono [অতিথি] এর ছবি

মজা পাইলাম অনেক ।

এরশাদ দাদু নামে একটা ক্যাটাগরি আছে না ? ওটা শোধরান , দাদুর বয়স এখন ৮০ বছর চোখ টিপি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- ক্লোনের শরীরে স্মৃতি ডাউন না, আপ হবে। জারে রাখা হয় ডাউন করে।

বেশ চটকদার হয়েছে! তারপর কী হয়েছে বললি না দেখি! চিন্তিত
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সাফি এর ছবি

কার পরে? দাদুর না গল্পবলিয়ের?

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- দাদুরটা জেনে কী করবো? গল্প বলিয়েরটায়ও কোনো উৎহাস নেই। আমি জানতে চাইছিলাম, "গল্পের নায়ক আর চিপক্কে ধরা আপনার" কথা! নজু ভাইয়ের নাটকে অভিনয়ের অফার পাইছি কিনা। দেঁতো হাসি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

সাফি এর ছবি

আপনি আপনি শুনেতো মনে হচ্ছিল কিঞ্চিত ব্যবধান আছে, কিন্তু এই আপনি আপন-ই কিনা...

ধুসর গোধূলি এর ছবি

- নজু ভাইকে দেয়া আমার বিপরীতে নাইকার লিস্টিতে যাঁদের নাম আছে তাঁদেরকে আমি আপনি করেই বলি(বো), এবং তাঁরা আমার যথেষ্ট আপন-ই হবেন বলে আমার বিশ্বাস! চোখ টিপি
___________
চাপা মারা চলিবে
কিন্তু চাপায় মারা বিপজ্জনক

auditio এর ছবি

আপনি পারেনও!!! দেঁতো হাসি

টিউলিপ এর ছবি

বাকরূদ্ধ!
___________________

রাতের বাসা হয় নি বাঁধা দিনের কাজে ত্রুটি
বিনা কাজের সেবার মাঝে পাই নে আমি ছুটি

___________________

রাতের বাসা হয় নি বাঁধা দিনের কাজে ত্রুটি
বিনা কাজের সেবার মাঝে পাই নে আমি ছুটি

নাশতারান এর ছবি

পিল বলতেই আন্দাজ করেছিলাম। তারপর? তারপর??

_____________________

আমরা মানুষ, তোমরা মানুষ
তফাত শুধু শিরদাঁড়ায়।

তারানা_শব্দ এর ছবি

তাই তো বলি-- এশা আপুর মাথায় এতো স্মৃতিঘিলু, কেনু কেনু কেনু??? দেঁতো হাসি

লেখা পড়ে মুখ-ধুইলাম!!!

"মান্ধাতারই আমল থেকে চলে আসছে এমনি রকম-
তোমারি কি এমন ভাগ্য বাঁচিয়ে যাবে সকল জখম!
মনেরে আজ কহ যে,
ভালো মন্দ যাহাই আসুক-
সত্যেরে লও সহজে।"

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

দূর্দান্ত...
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

বাউলিয়ানা এর ছবি

হা হা হা...জটিল গল্প।

চলুক

মজনুভাই [অতিথি] এর ছবি

কল্পবিজ্ঞান আর কতো? এবার বাস্তবে আসুন মিয়াভাই।

জি.এম.তানিম এর ছবি

এজন্যই ব্যাটা বুড়ো হয় না!

এই লাইনে বুঝেছি... হো হো হো
-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

-----------------------------------------------------------------
কাচের জগে, বালতি-মগে, চায়ের কাপে ছাই,
অন্ধকারে ভূতের কোরাস, “মুন্ডু কেটে খাই” ।

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

লাজওয়াব...

_________________________________________

সেরিওজা

মহাস্থবির এর ছবি

গলার রুমালটা থেকে একটু আন্দাজ, এরপর...

মুখের চামড়া একটু কোঁচকানো। কৃত্রিমভাবে বয়সের ছাপ ফুটিয়ে তোলা সে মুখে।

পাইলাম, আমি তাহাকে পাইলাম!

স্যাটায়ারে আর উইটে আপনি সিদ্ধহস্ত।

আপনার লেখাগুলো বা লেখার ধরন নিয়েই একটা লেখার ইচ্ছে আছে।

ধন্যবাদ।

তিথীডোর এর ছবি

@মহাস্থবির
ইচ্ছেখানা শিগগিরই বাস্তবায়িত হইবে এই আশা রহিলো... হাসি

--------------------------------------------------
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

আলাভোলা এর ছবি

তিথী(!)পু, আপনি সবসময় (আরো কয়েক জায়গায় দেখলাম) দুটো করে কমেন্ট করেন কেন ? ইয়ে, মানে...

গোলাগুলিটাতো এখানেই করতে পারতেন !

সুহান রিজওয়ান এর ছবি

আলাভোলা ভাই, ভুলেও এই কথা বইলেন্না। আপু আপনার আইপি সহ ব্যান কৈরা দিবেন...

_________________________________________

সেরিওজা

আলাভোলা এর ছবি

খাইছে ! কেন ?!
কিছু একটা মিস করছি মনে হয়...

যাউগ্গা, তিথীপু, ধরে নিন আমি কিছু বলিই নাই। হাসি

তিথীডোর এর ছবি

গুল্লি

--------------------------------------------------
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

বোহেমিয়ান এর ছবি

ডাবল জাঝা বলে দিলেই তো হয়ে যেত চোখ টিপি

@হিম্ভাই হেহে! আমার হাতে কয়েকটা ক্যাণ্ডিডেট ছিলো , মইত্যা, এক সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক ... কিন্তু এরশাদ রে ভুইলা গেছিলাম!

চলুক
_________________________________________
বোহেমিয়ান কথকতা

_________________________________________
ওরে! কত কথা বলে রে!

স্পর্শ এর ছবি

ছদ্মকিল খাইতে মঞ্চায়।


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...


ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি...

সবজান্তা এর ছবি

কিলের ব্যাপারটা বড় মধুরভাবে লিখেছেন !


অলমিতি বিস্তারেণ

দুর্দান্ত এর ছবি

তুমুল করতালি। কিছুটা প্রাসঙ্গিক ছবি 'ইটার্নাল সানশাইন অফ এ স্পটলেস মাইন্ড'। স্মৃতি মুছামুছি জাতীয় বিষয় আর পরাবাস্তবতায় আগ্রহ থাকলে ভাল লাগবে।
---
গল্পের ভিতরের গল্পটাও বেশ সম্পন্ন হয়েছে। আরেকটু মজা করি। এভাবে কেমন হয়?

"ভেতরে ঢুকুন। আপনি নাছোড়বান্দার মতো আমাকে চেপে ধরুন।
আপনি কাছে ঘেঁষে বসবেন। একটু ঝুঁকে। আপনার জামার ফাঁক গলে কত কিছু চোখে পড়বে আমার। আমি একটা হাত আপনার ঘাড়ের ওপর দিয়ে কাঁধের ওপর আলতো করে রেখে বলবো, আচ্ছা। আপনি আরেকটু ঘেঁষে বসবেন। আমি এবার একটু চেপে ধরি আপনাকে। সামান্য চিপক্কে যাকে বলে। আপনি আপত্তি করেন না।
আপনি একটা হাত আমার ঊরুর ওপর রেখে; আমি একটু দ্বিধা নিয়ে তাকাই আপনার চোখের দিকে, তারপর আড়চোখে আবার জামার ফাঁকের দিকে। আমি বেশ কষে চেপে ধরি আপনাকে। আপনি কিল মারেন আমার বুকে। সত্যিকারের কিল নয়, ছদ্মকিল। আমি হাসি।
তারপর?? আপনি একটু সোজা হয়ে বসতে চান, কিন্তু, ওরকম চিপক্কে ধরে রেখেছি, সোজা হওয়া কি এত সোজা? আমি হাসি আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে। বেশ ডাগর কিন্তু। আপনি একটু যেন অধৈর্য হয়ে ওঠেন। অভয় দেয়ার জন্যে আরেকটু চেপে ধরি। আপনি কিল মারেন আমার বুকে। ছদ্মকিল, আগেরটার মতোই। এটায় জোর আরো কম অবশ্য। যেভাবে চিপক্কে ধরেছি বুকের সাথে, আয়েশ করে কিল মারার জায়গাই বা কোথায়? আপনি আরো ঘনিয়ে আসেন।
আগামী সংখায় থাকছেঃ আদী বাংলাদেশীয় কামদেবতা এরশু'র লীলারহস্য সুস্পষ্ট বিবরন।"

ধুসর গোধূলি এর ছবি
অতিথি লেখক এর ছবি

হা হা হা.........দারুণ!!!!!!!!!

-স্নিগ্ধা করবী

অতিথি লেখক এর ছবি

গুল্লি গুল্লি গুল্লি

হিমুভাই, গল্প চরম হইসে। চাচ্চুরে এই লেখার লিঙ্ক পাঠানো উচিত।

প্রাসংগীকঃ আমপাঠকের মাঝে ছদ্মকিল বিতরণের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপিত হইল।

---- মনজুর এলাহী ----

অতিথি লেখক এর ছবি

ইলেকট্রোকেমিক্যালি রিচার্জড সিমবায়োটিক হিউম্যানয়েড (অ্যানুয়ালি ডিকমিশন্ড)।

গড়াগড়ি দিয়া হাসি

পুরাই পাংখা!

---আশাহত

উদ্ভ্রান্ত পথিক এর ছবি

আপনি পারেনও বটে দেঁতো হাসি
---------------------
আমার ফ্লিকার

---------------------
আমার ফ্লিকার

সাবিহ ওমর এর ছবি

হিংসা হিংসা হিংসা...কেন জানেন? এই জিনিস লিখতে উনার মোটে দশ মিনিটের মতন (বাড়ায় বললাম) লেগেছে...হিংসা হিংসা হিংসা...আর দুমুড় দুমুড় ছদ্মকিল খাইছে

সাফি এর ছবি

আপনার হাতে কি আর ছদ্মকিল খেতে চাইবে কেউ?

সাবিহ ওমর এর ছবি

হ, আমি মারলে কিন্তু পিঠে...

হিমু এর ছবি

ভদ্দরলোকে পিঠে কিল মারে না রে সাবিহ, ভদ্দরলোকে মারে ছুরি



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

হেব্বি মজা পাইসি হো হো হো

ধ্রুব বর্ণন এর ছবি

কাল চুলের কথা থেকে আচঁ করতে পেরেছি। কল্পবিজ্ঞান সেইরকম হয়েছে। বৃদ্ধ, যুবা সবার জন্য উপযুক্ত। কিন্তু মনে হচ্ছিল গল্পের গল্পবলিয়ে আর হাসপাতালগামী একই লোক চোখ টিপি

খেকশিয়াল এর ছবি

ইলেকট্রোকেমিক্যালি রিচার্জড সিমবায়োটিক হিউম্যানয়েড (অ্যানুয়ালি ডিকমিশন্ড)

হো হো হো

------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

-----------------------------------------------
'..দ্রিমুই য্রখ্রন ত্রখ্রন স্রবট্রাত্রেই দ্রিমু!'

ওডিন এর ছবি

খালি লিখতে পারি না দেইখ্যা- নাইলে এই ক্লোনিং/বডি সোয়াপিং/রিজুভেনেশান থেরাপির আইডিয়া আমার মাথায় আগেই আসছিলো- মন খারাপ চরম আফসুস!

কাক্কুরে যেইদিন টিভিতে দেখলাম কাক্কেশ্বরকুচকুচের মতো কালো জেলচর্চিত কেশরাজি বাগিয়ে টিভিতে প্রদেশবিষয়ক হেদায়েত করছিলেন- সেইদিনই সন্দেহ হইতেছিল ব্যাটা আসলেই এইরকম কিছু করে। চিন্তিত
______________________________________
যুদ্ধ শেষ হয়নি, যুদ্ধ শেষ হয় না

স্পার্টাকাস এর ছবি

আপ্নে জিনিষ একখান দেঁতো হাসি

------------------------------------------
জননীর নাভিমূল ছিঁড়ে উলঙ্গ শিশুর মত
বেরিয়ে এসেছ পথে, স্বাধীনতা, তুমি দীর্ঘজীবি হও।

জননীর নাভিমূল ছিঁড়ে উলঙ্গ শিশুর মত
বেরিয়ে এসেছ পথে, স্বাধীনতা, তুমি দীর্ঘজীবি হও।

মূলত পাঠক এর ছবি

ভাল্লাগ্লো।

আচ্ছা, ২য় প্যারায় "গার্নির আসাযাওয়া" দেখলাম, এই গার্নিটা কী?

হিমু এর ছবি
আলাভোলা এর ছবি

হো হো হো

অবাঞ্ছিত এর ছবি

মজারু হোয়েসে
__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

__________________________
ঈশ্বর সরে দাঁড়াও।
উপাসনার অতিক্রান্ত লগ্নে
তোমার লাল স্বর্গের মেঘেরা
আজ শুকনো নীল...

তৌফিক হাসান [অতিথি] এর ছবি

অনেক অনেক মজা পাইলাম। দারুন লিখসেন বস।
"ছদ্মকিল" শব্দটা চ্রম হইসে।

দ্রোহী এর ছবি

হে হে হে...

কিছুদূর পড়ার পরই আন্দাজ করা গেছে।

ব্লগ_পাঠক [অতিথি] এর ছবি

লেখাটা খুব ই ভাল লেগেছে...........

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।