লাইফ উইথ লিমিটেড ইন্টারনেট

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: রবি, ০২/০৯/২০১২ - ২:৩১অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

একটা সময় ছিল যতক্ষণ অফিসে থাকতাম ততক্ষণ ইন্টারনেটে যুক্ত থাকতাম। মানে আমার পিসিটা সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ প্রাপ্ত ছিল। এক যুগেরও বেশী সময় এই সুবিধা নিয়ে কাজ করেছি। অফিসের কাজের ফাঁকে ফাঁকে ইন্টারনেট ঘুরে বেড়াতাম। অগুনতি ওয়বের মধ্যে গুগল, ফোরাম, ফেসবুক, ব্লগ ইত্যাদির ভেতরই সেঁদিয়ে যেতে থাকি ক্রমশঃ। বছরের পর বছর কেটে গেল, একটা সময় এসে দেখা গেল কাজের ফাঁকে ফাঁকে আর ইন্টারনেটে ঘুরছি না। ইন্টারনেটের ফাঁকে ফাঁকে কাজ করছি। এমনকি কখনো কখনো কোনটা আসল কাজ তাই ভুলে যাচ্ছি। আজকের কাজ কালকে, কালকের কাজ পরশুতে চলে যাচ্ছে।

একদিন বেজে ওঠলো ঘন্টা। সুনজর পড়লো উঁচুমহলের। আমাকে পরিশোধিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। সেই উদ্দেশ্যে মুক্ত ইন্টারনেট জগত থেকে বিচ্ছিন্ন করে কেবল কেজো ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত করে দিল আমাকে। তার বাইরের কিছুতে ঢোকা নিষেধ। এমনকি গুগল সার্চও নিষিদ্ধ।

শনির যুগের সূচনা হলো। বরাবরই দরকারী কাজের প্রতি আমার প্রবল অনীহা। বসে বসে খেতেই বেশী আগ্রহ। তার উপর কাজ না করতে করতে আমি ভুলেই গেছি কি আমার কাজ ছিল। অফিসে এসে ঝিম ধরে বসে থাকি। এমনকি প্রতিদিন কেন অফিসে আসি তাও জানি না। বাসার সামনে অফিসের গাড়িটা এসে দাঁড়ায় নির্ধারিত সময়ে, আমি প্রতিদিন তাতে চড়ে অফিসে আসি। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় আবার অফিসের নীচে নামি, গাড়িটা আমাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে যায়। মাঝখানের সময়টুকু আমি কেন অফিসে থাকি এটা বুঝতে পারছি না। আবার না থেকেও কী উপায়।

ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পর আমার মস্তিষ্ক আর ঠিকভাবে কাজ করছে না। আমি পিসি খুলে মনিটরের দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকি, মেইল চেক করি, কেজো মেইল, কেজো মেইলের মতো বিরক্তিকর জিনিস দুনিয়াতে আছে কিনা জানি না। এরা পারে কেবল কলিজায় একটু পর পর খামচি দিতে। এই খাইছি তোরে, পাইছি তোরে, পালাবি কোথায় জাতীয় হুমকি ধমকিতে ভর্তি থাকে। শিপমেন্ট লেট হলো, ডকুমেন্ট ভুল হলো, মিসিং হলো কুরিয়ার প্যাক, সাইবার আপলোড লেট পেনাল্টিতে পড়ে গেছে ইত্যাদি নানারকমের বিদঘুটে ইঙ্গিতময় খবর আসে। এসবে মন দিতে গিয়ে আমি দিন দিন দুর্বল হয়ে যাই। ভিটামিন খেয়ে এই অসুখ সারছে না। ডাক্তারের কোন টেষ্টে কিছু ধরা পড়ে না।

আমি জিমেইলে ঢুকতে পারি না, বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারি না, ব্লগে ঢুকতে পারি না, লেখালেখি করতে পারি না, ফেসবুকে ঢুকতে পারি না, স্ট্যাটাস দিতে পারি না। জীবনে আর বাকী রইল কি। আমার পুরো বিশ্বটা সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে হঠাৎ করে। এই সীমাবদ্ধ জীবনে বাঁচার ইচ্ছেটাও উবে যায় মাঝে মাঝে। কিন্তু ভেজালের যুগে মরারও নিশ্চয়তা নাই। তাই মরে না গিয়ে দার্শনিক হয়ে ভাবতে লাগলাম.........

প্রথমঃ মানুষ বাঁচে বাতাস মানে অক্সিজেন দিয়ে
দ্বিতীয়ঃ মানুষ বাঁচে পানি দিয়ে
তৃতীয়তঃ মানুষ বাঁচে ভাত খেয়ে
চতুর্থত মানুষ বাঁচে জীবিকা দিয়ে
পঞ্চমতঃ মানুষ বাঁচে স্বচ্ছলতা দিয়ে
ষষ্ঠতঃ মানুষ বাঁচে স্বাচ্ছন্দ্য দিয়ে

এখানে ছয়টি বাঁচার মধ্যে একটা ধারাবাহিক সম্পর্ক আছে। যার বাতাস আছে সে চায় পানি। যার পানি আছে সে চায় ভাত। যার ভাত আছে সে চায় নিয়মিত আয়/জীবিকা। যার জীবিকা ঠিক আছে সে চায় স্বচ্ছলতা। যার স্বচ্ছলতা আছে সে চায় স্বাচ্ছন্দ্য জীবন। পৃথিবীতে জীবিত সব মানুষ প্রথম তিনটির অন্তর্ভুক্ত। অনাহারে মারা যাবে কিংবা যাচ্ছে সেরকম কিছু মানুষ বাদ দিলে ৭০০ কোটি মানুষই প্রথম তিনটি দলের অন্তর্ভুক্ত। তার এক ধাপ উপরে আছে জীবিকা। মানে আয়ের একটা উৎস আছে এদের। এরকম মানুষের সংখ্যা ৮৫ শতাংশ ধরলে ১৫ শতাংশকে কর্মহীন ধরা যায়। পনের শতাংশ কর্মহীন মানুষও ভাত খেয়ে বেচে আছে কোনমতে। ৮৫ শতাংশের মধ্যে স্বচ্ছলতা আছে হয়তো ৩০ শতাংশের। ৫৫ শতাংশ কোনমতে জীবিকা নির্বাহ করে বেঁচে থাকে। ৩০ শতাংশের মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে বেঁচে আছে কতো শতাংশ? যারা ঘরের খেয়ে ইন্টারনেট গুঁতানোর সময় পায় তাদেরকে নিশ্চয়ই স্বাচ্ছন্দ্য গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত করা যায়। সেই স্বচ্ছন্দ গ্রুপের একাংশ বাঁচে ইন্টারনেট দিয়ে!

আমার এত ভণিতা তাদের উদ্দেশ্যে যাদের জীবনে অক্সিজেনের সংকেত বদলে গেছে। অক্সিজেনের দুটি মৌলিক উপাদানের মধ্যে ইন্টারনেটও ঢুকে বসে আছে। নতুন জাতের এই যৌগটাকে H2ONET(এইচটুওনেট) বলা যায়। এরা সাধারণ বাতাসে বাঁচতে পারে না। কিংবা বাঁচাটা দুর্ভোগ বা শাস্তি হিসেবে দেখে। আমি দিনের যতটা সময় জেগে থাকি, বসে থাকি ততক্ষণ ইন্টারনেট থাকা চাই। এমন না যে ইন্টারনেট থাকলেই আমি চরম কোন কাজ করে দেশ দুনিয়া উদ্ধার করছি। কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য চারপাশের বাতাসে সারাক্ষণ যেমন অক্সিজেন চাই, তেমনি আমার জেগে থাকার প্রতিটা মুহুর্তে ইন্টারনেট চাই। আমি জেগে আছি, কিন্তু ইন্টারনেট নেই, এটা দুঃসহ একটা ব্যাপার। ইন্টারনেট ছাড়া কোন অফিসের কথা কি ভাবা যায়?

অবশ্যই ভাবা যায়।

এদিকে তাকান। আমাদের সামনের অফিসের মফিজের দিকে দেখুন। ইপিবির কেরানী হিসেবে দিব্যি আছে। তার অফিসে ইন্টারনেট নেই, ফ্যাক্স নেই, টেলিফোন আছে সারা ঘরে মিলে একটা। তবু সে আনন্দে পা নাচিয়ে কাজ করে, খসখস করে কাগজ লেখে, ধুপ ধুপ করে সিল মারে, টেবিলে পা তুলে দিয়ে পত্রিকা পড়ে। দুপুরে খাবার পর মুখের উপর ফাইল চাপা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে পিয়নকে ডাক দেয়। পিয়ন চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আসে। চা শেষ করে সিগারেট ধরায়, ভুস ভুস করে ধোঁয়া ছাড়ে, পাশের কলিগের দিকে তাকিয়ে নোংরা কৌতুক করে। তার পোষাক আমার চেয়ে ঢিলে ঢালা, তার জুতা আমার চেয়ে মলিন, তার চুলে জবজবে তেল। সে একটা চরম ক্ষ্যাত। তার বেতন আমার অর্ধেকের কম। তবু সে অনেক সুখী। তার দৃশ্যমান কিছুই নেই, কোন সৌন্দর্য নেই, তবু সে আমার চেয়ে সুখী।

আমাদের বাসা কাছাকাছি। বাড়ি ফেরার সময় আমি আর মফিজ একসাথে ফিরি। আমার সাথে তখন তার পার্থক্য হলো সে পকেট ভর্তি করে এক তাড়া পাঁচশো টাকার নোট নিয়ে বাড়ি ফেরে আর আমি ফিরি শূণ্য হাতে। আমি বছর গেলে সরকারকে ট্যাক্স দেই, মফিজকে দিতে হয় না। মফিজের দুটি চারতলা বাড়ি আছে, আর আমি ছোট্ট ভাড়া বাসায় থাকি।

আমার আজকাল মফিজ হয়ে যেতে ইচ্ছে করছে। ইন্টারনেট বিহীন জগতে মফিজরাই সুখী।


মন্তব্য

শান্ত এর ছবি

শেষের দুইটা প্যারাই মারাত্নক।

মাঝে মাঝে মনে হয় ইন্টারনেট ব্যবহার ছেড়ে দেই, কিন্তু দুই দিন যেতে না যেতেই যেন হাফিয়ে উঠি।

__________
সুপ্রিয় দেব শান্ত

অনার্য সঙ্গীত এর ছবি

______________________
নিজের ভেতর কোথায় সে তীব্র মানুষ!
অক্ষর যাপন

নীড় সন্ধানী এর ছবি

এ এ কঠিন নেশা! ছাড়া অসম্ভব। হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

নিরবতা এর ছবি

চলুক

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার লেখা পড়তে গিয়ে খেয়াল করলাম আমি ল্যাপটপে, বউ ডেক্সটপে, কন্যা (৫ বছরের) খেলনার ল্যাপটপে, পুত্র (৫ মাসের) ঘুমে।

ডিমপোচ

অতিথি লেখক এর ছবি

আপনার মন্তব্যে চলুক
-ব্যাঙের ছাতা

নীড় সন্ধানী এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি
আমার ৩ বছরের পুত্রেরও একখানা 'লেপপ'(ল্যাপটপ) আছে। সে ওটা নিয়ে গম্ভীর হয়ে টেবিলে বসে। কিন্তু শুধু লেপপ হলেই ওর চলে না সাথে আনুসাঙ্গিক আরো কিছু যন্ত্রপাতিও থাকতে হয়। পাশে থাকে আমার পরিত্যাক্ত একটা মোবাইল, পরিত্যাক্ত একটা মাউস ও তার কালো সানগ্লাসটা(তার বাপ চশমা দেয় কিনা!)। এই জিনিসের একটাও কম পড়লে সে লেপপে কাজ করবে না! হো হো হো

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

তিথীডোর এর ছবি

হো হো হো

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

অতিথি লেখক এর ছবি

শেষের দুই প্যারায় এসে থমকে গেলাম। আমার অফিসেও আমি ইন্টারনেট সংযোগ উপভোগ করি, রাতে ঘরে ফিরে বাংলাসিংহ হাসি

যদি এমন হয়, আমাকে যদি বিচ্ছিন্ন করে দেয় ঈন্টারনেট থেকে, চোখ বন্ধ করে ভাবতে যেয়ে ভয় হল। কেমন করে থাকবো তখন?

নীড় সন্ধানী এর ছবি

ভয়ংকর দশা হবে ওঁয়া ওঁয়া

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

স্যাম এর ছবি

দারুন!!
দার্শনিক এর ভাবনা অসাধারণ!!

নীড় সন্ধানী এর ছবি

হতেই হবে, ফান্দে পড়িয়া বগা দার্শনিক দেঁতো হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

সাবেকা  এর ছবি

হায়রে হায় কি দুনিয়া কি হইল! দেঁতো হাসি

নীড় সন্ধানী এর ছবি

দুনিয়া ঠিকই আছে, মফিজের মতো! দেঁতো হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

তিথীডোর এর ছবি

আমার আন্তর্জাল আসক্তির বহরে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত, আমি নিজেও আশঙ্কিত। ইয়ে, মানে...
কামলাঘরে নেট ব্যবহারের সুযোগ অবশ্য অতিকঠিন ভাবে সুনিয়ন্ত্রিত। লুকজন অফিসডেস্কে বসে টুইটারে পোয়েটস অফ দ্যা ফলের লিঙ্ক শেয়ার করে, আমি বাড়ি ফিরে দেখেশুনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি। বাসায় (জাগ্রত অবস্থায়)থাকার প্রায় পুরোটা সময় কাটে এইসব অথহীন দেখা এবং শোনায়। কোন বাচালের ফেবুতে প্রতিঘন্টায় আপডেটেড স্ট্যাটাসে, কোথাও প্রিয় গানের কিংবা নজরটানা ব্লগপোস্টের লিঙ্কে, কখনোও আহ্লাদে ডগোমগো যুগল ছবিতে লাইকানোয়। ভাণহীন সুখী মুখ হলে দেখতেও ভাল্লাগে। হাসি

আসল মুখগুলো ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে। হাতের কাছের অপঠিত বই আর কাছের মানুষগুলোকে ভুলে ধরাছোঁয়ার বাইরের আধচেনা জগতের ডুবে থাকি....

________________________________________
"আষাঢ় সজলঘন আঁধারে, ভাবে বসি দুরাশার ধেয়ানে--
আমি কেন তিথিডোরে বাঁধা রে, ফাগুনেরে মোর পাশে কে আনে"

নীড় সন্ধানী এর ছবি

হাতের কাছের অপঠিত বই আর কাছের মানুষগুলোকে ভুলে ধরাছোঁয়ার বাইরের আধচেনা জগতের ডুবে থাকি....

এইটা খুব কঠিন একটা সত্য কথা বলছেন! হাততালি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

তারেক অণু এর ছবি

একটা সময় এসে দেখা গেল কাজের ফাঁকে ফাঁকে আর ইন্টারনেটে ঘুরছি না। ইন্টারনেটের ফাঁকে ফাঁকে কাজ করছি। গড়াগড়ি দিয়া হাসি

হক কথা কইছেন--

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আবার জিগায় দেঁতো হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

সত্যপীর এর ছবি

আমার ল্যাপটপ নাই কিন্তু আরো খারাপ জিনিস আসে, আইফোন। রাস্তাঘাটে বাসস্টপে বউয়ের শপিং এর সময় রাতে ভাত খাওয়ার সময় রাত দুইটায় ঘুম ভেঙে পানি খাওয়ার সময় ফট করে নেট এ যাই। পুরাই অ্যাডিক্ট। একদিন ফোন এ চার্জ ছিলনা মনে হৈতেসিল এই আদিম গুহার লাইফ নিয়ে কি লাভ!

মফিজ মিয়ারে উত্তম জাঝা!

..................................................................
#Banshibir.

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আমার আবার আইফোনে পোষায় না। সবকিছু বড় পর্দায় দেখতে মন চায় দেঁতো হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

এক মুহূর্ত ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন আছি এমন হলে আমার দমবন্ধ লাগে। আসলেই এইচটুওনেট!!


_____________________
Give Her Freedom!

নীড় সন্ধানী এর ছবি

দমবন্ধ হয় নতুবা ফাঁসি খাইতে মন চায় হো হো হো

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

মৃত্যুময় ঈষৎ এর ছবি

হো হো হো


_____________________
Give Her Freedom!

প্রৌঢ় ভাবনা এর ছবি

আমাদের যৌবনে মোবাইল ফোনও ছিলোনা। তখনও আমরা, 'কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।'
এখন সত্যিই একটা ঘন্টা নেটের স্পিড কম থাকলেও মেজাজটা খিচড়ে যায়। 'মানুষ অভ্যাসের দাস।'

নীড় সন্ধানী এর ছবি

আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম দেঁতো হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

সুমাদ্রী এর ছবি

ইন্টারনেট কাজের খুব। নিঃসঙ্গতায় শ্রেষ্ঠ বন্ধু। তবে আমার পড়ার অভ্যাসটা কমে গেছে নেট আসার পর থেকে। মাঝে মাঝে তাই নেটহীন হয়ে যায়। কিন্তু তখন খুব অস্বস্তিবোধ হয়। বুঝতে পারি নেশা হয়ে গেছে।

অন্ধকার এসে বিশ্বচরাচর ঢেকে দেওয়ার পরেই
আমি দেখতে পাই একটি দুটি তিনটি তারা জ্বলছে আকাশে।।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

পড়াশোনার প্রায় পৌনে বারোটা বাজাইছিল ইন্টারনেট মন খারাপ

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

কড়িকাঠুরে এর ছবি

আগে তালি দেই- হাততালি

খাইয়া কাম নাই বলতেছি না, কিন্তু আকাইম্মা এই যে বসে থাকি, জালে প্যাঁচাইয়া জড়াইয়া থাকি... কোন প্রাণী কোনদিন দৃশ্যমান জালের ধারে কাছে যায় না, আর আমরা অদৃশ্য জালের ফাঁকফোকরে সময়কে ঠেলে দেই...

নীড় সন্ধানী এর ছবি

এই জাল বড়ই আঠালো, খালি জড়ায় আর জড়ায় চাল্লু

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

poush এর ছবি

পড়ে মনে হল লেখক আমার মত কুরিয়ার কোম্পানীতে কাজ করে ম্যাঁও চলুক

নীড় সন্ধানী এর ছবি

লেখক নয়, গল্পের নায়ক সেরকম কোন কোম্পানীতে চাকরী করে দেঁতো হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

মর্ম এর ছবি

এই নেশা কাটানোর কোন দাওয়াই কি আদৌ আছে?!

~~~~~~~~~~~~~~~~
আমার লেখা কইবে কথা যখন আমি থাকবোনা...

অতিথি লেখক এর ছবি

ভাল লিখেছেন অনেক। আসলে আসক্তি মাত্রই খারাপ। আমাদেরকে দেখতে হবে যে আমরা ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে যাচ্ছি কিনা। আসক্তি কখনো তৃপ্তি দেয়না।

কল্যাণ এর ছবি

গুরু গুরু

_______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

অতিথি লেখক এর ছবি

আমরা যারা মোবাইল কোম্পানীগুলোর বিটকেল এবং স্লথ গতির ৫ গিগাবাইটের সীমাবদ্ধ ইন্টারনেট ব্যবহার করি, তাদের মনের অবস্থাও এমন। আনলিমিটেড মানে ৫ গিগাবাইট! এই হাস্যকর নিয়ম পাশের দেশেও নেই!

নির্ঝর অলয়

অতিথি লেখক এর ছবি

লেখকের কাছে জানতে চাচ্ছি এই আমার এই রোগটা উনি ধরলেন ক্যামনে ? নিজের হাতখরচের টাকা মাস শেষে কৃপণের মত বাঁচিয়ে রাখি আনলিমিটেড এর বিলের জন্য যাতে বেরসিক সার্ভিস কোম্পানি আমার জাল জীবনে ব্যাঘাত না ঘটায়। সহরোগী পেয়ে আনন্দ বোধ করছি ।
মৌটুশি বাশার

দাদারাকিব এর ছবি

গুরু গুরু

ছোট নদী  এর ছবি

আপনারে অসংখ্য -ধইন্যাপাতা-

অতিথি লেখক এর ছবি

অফিসে এসে ঝিম ধরে বসে থাকি। এমনকি প্রতিদিন কেন অফিসে আসি তাও জানি না। বাসার সামনে অফিসের গাড়িটা এসে দাঁড়ায় নির্ধারিত সময়ে, আমি প্রতিদিন তাতে চড়ে অফিসে আসি। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় আবার অফিসের নীচে নামি, গাড়িটা আমাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে যায়। মাঝখানের সময়টুকু আমি কেন অফিসে থাকি এটা বুঝতে পারছি না। আবার না থেকেও কী উপায়।

চলুক
আমার বর্তমান জীবনটার গল্প এটি, আমি একি রকম অফিসে এসে হাজিরা দেই। তবে সুযোগটা আমার আছে, সারাক্ষনই নেট ব্যবহার করতে পারি, ব্লগে ,ফেসবুকে ঢুবে থাকতে পারি। আমার বন্ধুরা বলে তুই কি ফেবুতে চাকরি নিয়েছিস নাকি? আমি হাসি, কিন্তু জানি না কোনদিন আপনার মতো আমাকেও এমন বন্ধী করে ফেলে।

মাঝে মাঝে আমারো মফিজ হয়ে যেতে ইচ্ছে করে আপনার মতো, কি হবে এতো জেনে? কি হবে এতো হিসেব কষে স্বপ্ন দেখে?

মাসুদ সজীব

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।