কয়লা না যায় ধুলে ......

নীড় সন্ধানী এর ছবি
লিখেছেন নীড় সন্ধানী (তারিখ: বিষ্যুদ, ০৮/০৪/২০২১ - ৪:৫৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আলেকজান্দ্রার সেই ধুমপান ঘরে সেদিন আমরা তিনজন ছাড়া আর কেউ ছিল না। আমি, আমার এক ঘনিষ্ট বন্ধু এবং আমাদের বিপরীত পাশে চুপচাপ বসে থাকা এক ভদ্রলোক। লাজুক চেহারার ভদ্রলোকের মধ্যে আভিজাত্য এবং বিচক্ষণতা দুইয়ের উপস্হিতি স্পষ্ট। পরে জেনেছি তিনি কোন এক পত্রিকার সম্পাদক।

বন্ধুর সাথে আলাপ করছিলাম অভ্যেস বিষয়ে। ভালো অভ্যেস এবং মন্দ অভ্যেস।

বন্ধু বলছিল, "এক নাগাড়ে কয়েক মাস সৎ জীবন যাপনের অভ্যেস করে ফেললে শয়তানের পক্ষেও সাধু হয়ে যাওয়া সম্ভব। সবকিছুই হলো অভ্যেসের ব্যাপার"।

"আমি খুব ভালো করে জানি এটা। গভীর সংকটে পতিত হয়েও 'সবকিছু ঠিক আছে' বলে বিছানায় ডুব দিয়ে কিছুক্ষণ ঝিম মেরে পড়ে থাকলে মনে হবে দুনিয়ার কোথাও কোন সমস্যা নাই। তুমি যদি অভ্যেসটা ঠিকমত রপ্ত করতে পারো, তাহলে সেটা চালু রাখার জন্য কিরা-কসম কাটার দরকার নেই। তুমি সাধারণ পানি খেয়েও সরবতের স্বাদ পেতে পারো যদি সেরকম অভ্যেস তোমার থাকে। সবকিছুই করা সম্ভব, কথা হচ্ছে তুমি তাতে লেগে থাকতে পারছো কিনা"। গলা খাকরে বন্ধুকে নিরংকুশ সমর্থন করার জন্য যোগ করলাম আমি।

এহেন সমর্থন পেয়ে বন্ধু দারুণ উৎসাহিত। সিগারেট কেসটা এগিয়ে দিয়ে বললো, "নাও এখান থেকে একটা ধরাও দেখি"।

"থ্যাংকস, আমি এসব বাজে সিগারেট খাই না।" কেসটার দিকে একটু ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললাম।

"আরে মিয়া সবকিছুতে অত খুঁতখুতে হবার দরকার নাই। তোমাকে কিছু দরকারী কথা বলি। অবশ্য এর মাঝে এমন কিছু কথা আছে যা হয়তো পুরো সপ্তাহে তোমার মগজে ঘুরপাক খাবে।” সে বললো।

আমি মাথা নেড়ে সায় দিয়ে তার মূল্যবান কথা শোনার জন্য প্রস্তুত হলাম।

বন্ধু বলতে শুরু করলো -"শোনো, তুমি তো ভালো করে জানো আমি দিনভর এই সিগারেটই একের পর এক ফুঁকি। কেন জানো? কারণ আমি এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। অনেক বছর আগে, যখন তরুণ ছিলাম, তখন আমি খুব দামী হাভানা চুরুট খেতাম। কিন্তু শীঘ্রই বুঝতে পারলাম আমি নিজেকে ফতুর করে দিচ্ছি। বিকল্প হিসেবে সস্তা কিছু খুঁজে বের করার জরুরী। আমি তখন বেলজিয়ামে থাকতাম, এক বন্ধু আমাকে এই সিগারেটের সাথে পরিচয় করালো। আমি জানি না এগুলা কিসের তৈরী। দেখে মনে হয় পাখির গুয়ে চুবানো বাধাকপি পাতায় তৈরী। বিশ্বাস হচ্ছে না? প্রথমবার টানতে গিয়ে আমার সেরকমই লেগেছিল। কিন্তু আসল কথা হলো ওগুলো দারুণ রকম সস্তায় পেয়েছিলাম। মাত্র তিন পেনিতে পাঁচশো শলা দিয়েছিল আমাকে। অতএব আমি ওই সিগারেটেই অভ্যস্ত হতে চেষ্টা করলাম। প্রথমে দিনে একটা দিয়ে শুরু। শুরুটা খুব জঘন্য কাজ ছিল স্বীকার করতেই হবে। কিন্তু আবার এটাও ভাবলাম যে হাভানা চুরুটের সূচনার চেয়ে খারাপ নয় এটা। ধুমপান ব্যাপারটা হলো দিনের পর দিন অর্জিত অভ্যেস। একটা ফ্লেভার থেকে অন্য ফ্লেভারে ভেসে বেড়ানোর অভ্যেস। আমি অভ্যেসটা পোক্ত করার চেষ্টা করেছি এবং সফল হয়েছি। ধাপে ধাপে ঘটেছে ব্যাপারটা। প্রথম বছর বিকট দুর্গন্ধটা মোটামুটি আমার নাসিকাযন্ত্রের আয়ত্বের মধ্যে চলে আসে। দ্বিতীয় বছর পার হবার পর দেখলাম আমার নাক দুর্গন্ধটা অনুভবই করছে না। আর এখন তো আমি বাজারে যে কোন ব্র্যাণ্ডের সিগারেটের চেয়ে এটাকে বেশী পছন্দ করি। সত্যি বলতে বাজারের সেরা ব্র্যাণ্ডগুলো আমার কাছে দুর্গন্ধই লাগে আজকাল"।

আমি তাকে বোঝাবার চেষ্টা করলাম যে সিগারেট ছেড়ে দেয়াটা তার চেয়েও বেশী ভালো অভ্যেস হতে পারে কিনা।

কিন্তু সে তার নিজস্ব যুক্তি খাড়া করে বললো, "আমি তাও ভেবে দেখেছি। কিন্তু দেখলাম যে লোক ধুমপান করে না, সে কখনোই সঙ্গী হিসেবে ভালো হয় না। তাছাড়া ধূমপানের সাথে সামাজিকতারও একটা গভীর সম্পর্ক আছে"।

বলা শেষে কাউচে হেলান দিয়ে বসলো এবং আয়েশ করে সিগারেটে টান দিয়ে একরাশ ধোঁয়া বাতাসে ছেড়ে দিল। সাথে সাথে ছোট্ট ঘরটিতে যেন নর্দমার জলের দুর্গন্ধের সাথে কবরখানার ঘ্রাণের একটা বিদঘুটে মিশ্রণ ছড়িয়ে পড়লো। তারপর সে আবার শুরু করলো-

“আচ্ছা ভালো কথা, তুমি আমার কাছ থেকে একটু ক্লারেট খেয়ে দেখবা নাকি...ওহহো এটাও তোমার পছন্দ না (এবার আমি মুখে কিছু বলিনি কিন্তু আমার চেহারাটা সম্ভবত আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে কুঁচকে গিয়েছিল)। ক্লারেট কেউ পছন্দ করে না, অন্তত যে কজনের সাথে আমার দেখা হয়েছে তাদের একজনও না। তবে কি জানো, তিন বছর আগে যখন আমি হ্যামারস্মিথে থাকতে শুরু করি, আমরা দুই চোরকে হাতেনাতে ধরেছিলাম এটার সাহায্যে। দুই চোর চুরি করতে গিয়ে আলমারী ভেঙ্গে পাঁচ বোতল ক্লারেট পেয়ে বেহিসাবী হয়ে গিলতে শুরু করেছিল। কিন্তু বেশীদূর পারেনি। বেতাল হয়ে পড়ে গিয়েছিল কয়েশো গজ দূরের এক বাড়ির দরোজায়। এক পুলিশ যখন তাদের খুঁজে পায় তাদের পালাবার শক্তি পর্যন্ত ছিল না। পুলিশ তাদের ধরে হাজতে পুরে ডাক্তারকে খবর দিয়েছিল। এরপর থেকে আমি প্রতি রাতে শোবার আগে ক্লারেটের একটা বোতল খুলে রাখি টেবিলের উপর। আসুক চোরের বাচ্চা।”

"যাই হোক, ক্ল্যারেট আমার খুব পছন্দের, এটা আমার শরীরের উপকারই করে। মাঝে মাঝে যখন আমি মেন্দামারা হয়ে পড়ি, তখন দুয়েক পেগ গেলার পর আমি একদম চাঙ্গা হয়ে উঠি। এটা বেছে নেবার কারণও সিগারেটের মতো- দাম অতি সস্তা। জেনেভা থেকে আমাকে সরাসরি পাঠায় যার এক ডজনের জন্য খরচ পড়ে মাত্র ছয় শিলিং। এত সস্তা কিভাবে দেয় তারা আমার জানা নেই- আমি জানতেও চাই না।"

বন্ধু একাই বকবক করতে থাকে - “আমি এক বুড়োকে চিনতাম বউয়ের সাথে নিত্য খিটিমিটি লেগে থাকতো তার। বউটা সারাক্ষণ এত ঘ্যানঘ্যান করতো যে লোকটা আতংকের মধ্যে থাকতো। সকালে জেগে উঠার পর থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত, এমনকি ঘুমের মধ্যেও তার মাথায় আতংক ভেসে থাকতো বউয়ের হাতে কখন কী বিষয়ে ঝাড়ি খেতে হবে সেটা নিয়ে। তো একদিন হুট করে বুড়িটা মরে গেল। তার প্রতিবেশী বন্ধুরা এসে তাকে তখন শোকের বদলে অভিনন্দন জানিয়ে বললো যাক এতদিন পর বেচারা একটু সুখের মুখ দেখবে। শান্তিতে দিন কাটাতে পারবে।

“কিন্তু ওই তার কাছে শান্তি ছিল মরুভূমির নিস্তব্ধতা, বুড়ো কখনোই সেটা উপভোগ করেনি। কারণ দীর্ঘ বাইশ বছর বউয়ের প্যানপ্যানানির কন্ঠটা ঘরের আনাচ কানাচে, বারান্দার ঘুলঘুলিতে, বাগানের গাছের ডালে পাক খেয়ে চত্বরে ঘুরে বেড়াতো, সেই কটু শব্দের ঝংকারে তার জীবনটা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এখন চারপাশের বিপুল নিস্তব্ধতা তার বুকের ভেতর একটা অজানা আশংকা সৃষ্টি করে যাচ্ছে সারাক্ষণ। বুড়ো এখন সকালের ঝিরঝির হাওয়ার সাথে বুড়ির খনখনে গলার অকথ্য অপমানগুলোর অভাব বোধ করছে। অভাব বোধ করছে ফায়ার প্লেসের পাশে বসে দীর্ঘ শীত সন্ধ্যার তুমুল তিরস্কারের। রাতে তার ঘুম হয় না। ঘন্টার পর ঘন্টা শুয়ে থেকে পা নাচায় এবং তার কানটা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে সেই নিশিকটুবাক্যবর্ষনের জন্য। কিন্তু তা আর হবার নয়। বুড়ো মাঝে মাঝে নিজেকে তিক্ত অভিশাপ দেয়- ‘আমি একটা অথর্ব মানুষ। হারিয়ে ফেলার আগ পর্যন্ত জিনিসটার মূল্য বুঝতে পারিনি।’

“বুড়ো ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়লো। ডাক্তার তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে রাখলো। অবশেষে ডাক্তারেরা বলতে বাধ্য হলো যে তার বেঁচে থাকার জন্য এমন একটি বউ দরকার যার ঘ্যানঘ্যান তাকে ঘুম পাড়াতে সক্ষম হবে।

“আশেপাশে সেরকম মহিলার অভাব ছিল না। কিন্তু মুশকিল হলো তারা সবাই বিবাহিতা এবং কারো না কারো গৃহিনী। আর এই বয়সে অবিবাহিতা কুমারী মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে ঝাড়ুপেটা খেতে হবে। তাছাড়া সেইসব কুমারী মেয়েদের প্যানপ্যান কিংবা ঘ্যানঘ্যানের অভিজ্ঞতা নেই, যা তার দরকার। এই বয়সে তার শরীরে অত শক্তি সামর্থ্য নেই যে তাদেরকে ঘ্যানঘ্যানানিতে পারদর্শী করে তোলায় ট্রেনিং দেবে।

“হতাশায় যখন প্রায় মুষড়ে পড়ছিল তখন সৌভাগ্যক্রমে পাড়ার এক বুড়োর মৃত্যু হলো। তখন সে দেরী না করে বুড়োর বিধবা স্ত্রীর সাথে পরিচিত হতে গেল। পরিচিত হয়ে টের পেল এটাও ঝগড়াটে বুড়ি, তার সাথে ভালো কথা বলতে গেলেও গালি খেতে হয়।

এটাই চাইছিল বুড়ো। তাই বুড়ির পেছনে লেগে থাকলো এবং মাস ছয়েকের মধ্যে তার মন জয় করে ফেললো এবং তারা বিয়ে করে ফেললো।

“কিন্তু বিয়েটা করার পর বুড়ি খিটমিট কমিয়ে দিল। কদিন পরে প্রমাণ হলো এই বুড়ি আগের স্ত্রীর তুলনায় কিছুই না। তার একটা ঝগড়াটে মন আছে ঠিকই কিন্তু শরীরের দুর্বলতায় পেরে ওঠে না। তাছাড়া তার কটু ভাষার দক্ষতা কিংবা তীক্ষ্ণতা আগের স্ত্রীর তুলনায় অতি নগণ্য। বুড়োর প্রিয় অভ্যেস ছিল বাগানের চেয়ারে বসে বউয়ের শাপশাপান্ত শোনা। কিন্তু এই বুড়ির কন্ঠ দুর্বলতার কারণে গালিগালাজ তেমন কিছুই শুনতে পেতো না। ফলে তাকে বাগান-চেয়ারটিকে সরিয়ে ঘরের কাছাকাছি নিতে হলো। এবার ঘরের ভেতর থেকে ভেসে আসা বুড়ির কটুবাক্যগুলো একটু পরিষ্কার শোনা যেতে লাগলো। কিন্তু যেই সে আরাম করে পাইপ ধরিয়ে কানটা খাড়া করে পত্রিকায় চোখ বুলাতে শুরু করলো, অমনি বুড়ির প্যানপ্যানানি থেমে গেল।

“বুড়ো হাতের পত্রিকা রেখে দুশ্চিন্তার সাথে জিজ্ঞেস করলো - ‘তুমি কী ওদিকে আছো জানু?
বুড়ি তখন খনখনে গলায় বলে - ‘আমি এখানে না থেকে যাবো কোথায় রে বুড়ো হাবড়া কোথাকার?’
বুড়ির ঝগড়াটে কন্ঠ শুনে বুড়োর চেহারায় সন্তুষ্টি ছাপ ফুটে উঠলো। সে বললো - ‘বলে যাও, আমি শুনছি। তোমার কথা শুনতে আমার বেশ ভালো লাগে।’

“কিন্তু ততক্ষণে আক্ষরিক অর্থেই বেচারী বুড়ির শক্তি শেষ। ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছিল তার। এরপর তার নাক ডাকার মৃদু গরগর শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা গেল না।

“হতাশ বুড়ো বিড়বিড় করে বলল ‘নাহ, এই মিনমিনে মহিলার সাথে আমার প্রথম বউয়ের তুলনাই হয় না। সে যে কী এক গমগমে কন্ঠের অধিকারী ছিল! এখন তার অভাব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।’

“রাতের বেলা ঘুমানোর আগে বুড়ি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলো কটুবাক্যবর্ষণের। কিন্তু বারবার থেমে যাচ্ছিল বলে ঠিক পছন্দ হলো না বুড়োর। পৌনে একঘন্টা প্যানপ্যানানির পর বুড়ির চোখে ঘুম নেমে এলো। তবু বুড়োর মনটা অতৃপ্ত থেকে গেল। শেষ চেষ্টা হিসেবে বুড়ির কাঁধে মৃদু ঝাঁকুনি নিয়ে উস্কে দিতে চেষ্টা করলো- ‘বুঝলে জানু, তুমি কিন্তু প্রতিবেশী জেন সম্পর্কে আমার ব্যাপারটা ঠিকই ধরেছিলে। লাঞ্চের সময় আসলে আমি টেরা চোখে ওর দিকেই বারবার তাকাচ্ছিলাম’।

বুড়িকে ঈর্ষান্বিত করে সরাসরি ঝগড়া উস্কে দেবার চেষ্টাটিও ব্যর্থ হলো। বুড়ি কোন কথা না বাড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।

গল্পটি শেষ করে বন্ধু এবার আরেকটি সিগারেটে আগুন ধরালো। তারপর অভ্যেস বিষয়ক ব্যাপারটিতে জোর দিয়ে বললো - “দেখলে তো অভ্যেসটা কী অদ্ভুত হতে পারে? অভ্যেসের কারণে আমরা কত অদ্ভুত এবং বিপরীত আচরণ করতে পারি?”

বন্ধুর কথায় সায় দিয়ে বললাম -“একদম ঠিক। আমি নিজেও এমন এক লোককে জানতাম যার বেশ লম্বা চওড়া গল্প বানাবার অভ্যেস ছিল কিন্তু যখন সে একটা সত্য ঘটনা বলতো তখন আর কেউ তাকে বিশ্বাস করতো না।” হলফ করে বলতে পারি কাউকে ইঙ্গিত করিনি কথাটা বলার সময়।

বন্ধু খানিক থতমত খাওয়া গলা বললো- “আহা সেরকম হলে খুব দুঃখজনক হয় বটে”

এমন সময় ঘরের কোণা থেকে চুপচাপ বসে থাকা ভদ্রলোকটির কন্ঠ শোনা গেল- “অভ্যেসের কথা উঠলোই আমি একটা সত্যি ঘটনার কথা বলি। কিন্তু আমি আমার শেষ ডলারটি বাজি রেখে বলতে পারি আপনারা সেটা বিশ্বাস করবেন না।”

বন্ধু জবাব দিল, ‘আমার হাতে শেষ ডলারটাও নাই কিন্তু আমি আমার বোতলের অর্ধেকটা বাজি রাখতে পারি। কিন্তু কে হবে বিচারক?’

‘সেক্ষেত্রে আমি আপনার রায়ই মেনে নেবো।” তারপর তিনি ঘটনাটা বলতে শুরু করলেন।

“যার কথা বলবো তিনি জেফারসনের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি জন্মেছিলেন ওই শহরে এবং সাতচল্লিশ বছরে একদিনও শহরের বাইরে কাটাননি। তিনি খুব সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। সকাল নটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত লবনের কারবার করতেন এরপর প্রেসবিটারিয়ান চার্চে অবসর কাটাতেন। তিনি বলতেন যে সুন্দর জীবনের অর্থ হলো সুন্দর অভ্যেসের চর্চা। তিনি সাতটায় উঠতেন, সাড়ে সাতটায় পারিবারিক প্রার্থনায় বসতেন। নাস্তা করতে বসতেন ঠিক আটটায়। নটার মধ্যে তিনি তাঁর ব্যবসা কেন্দ্রে পৌঁছে যেতেন। বিকেল চারটার দিকে কাজ সেরে ঘোড়ায় চড়ে বসতেন বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে এবং ঠিক পাঁচটায় বাড়ি পৌঁছে যেতেন। বাড়ি ফিরে গোসল সেরে এক কাপ চা খেতেন। তারপর বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা করতেন এবং গল্প পড়ে শোনাতেন পৌঁনে ছটা পর্যন্ত। সাতটার দিকে ডিনার সেরে ক্লাবের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়তেন, প্রায় সোয়া দশটা পর্যন্ত সেখানে কাটিয়ে বাড়ি ফিরে রাত্রিকালীন প্রার্থনায় বসতেন সাড়ে দশটায়। তারপর ঠিক এগারোটায় শুয়ে পড়তেন।

পঁচিশ বছর পর্যন্ত তার এই রুটিনে কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি। এই রুটিনটা একটা নিখুঁত যন্ত্রের মতো চালু ছিল। তাঁর সময়জ্ঞান এতই বিশ্বাসযোগ্য ছিল যে স্থানীয় জ্যোতিষীরা পর্যন্ত তাঁর রুটিনকে মেঘলা দিনে আকাশে সূর্যের অবস্থান জানার জন্য ব্যবহার করতেন।

একদিন তার এক দুরসম্পর্কিত আত্মীয় মারা গেলেন লণ্ডনে। ভারতবর্ষে যার ব্যবসা ছিল এবং যিনি একজন সম্মানিত লর্ড মেয়র ছিলেন। তিনি মারা যাবার আগে তার নাম সমস্ত ব্যবসা এবং সম্পত্তি দান করে গেলেন এই ভদ্রলোককে।

ব্যবসাপাতি টিকিয়ে রাখা সহজ কাজ নয়। নিজের হাতে দেখাশোনা করতে না পারলে সব ফৌত হয়ে যাবে। তাই তিনি মনস্থ করলেন তার প্রথম স্ত্রীর ২৪ বছর বয়স্ক সন্তানটিকে জেফারসনের সমস্ত দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তিনি ইংল্যাণ্ডে দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে চলে যাবেন এবং ধনী আত্মীয়ের ব্যবসা দেখাশোনা করবেন। লণ্ডনে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ও পরিবার ছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি জেফারসন শহর থেকে অক্টোবরের ৪ তারিখ রওনা দিয়ে লণ্ডনে পৌঁছালেন ১৭ তারিখে। সমস্ত যাত্রাপথে তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন বলে বাড়িতে পৌঁছে দুদিনের জন্য শয্যা নিলেন। দুদিন পর এক বুধবার সন্ধ্যায় তিনি ঘোষণা করলেন তিনি পরদিন শহরে যাবেন তার ব্যবসা দেখাশোনা করার কাজে।

পরদিন বিষুদবার তিনি ঘুম থেকে উঠলেন বেলা একটায়। তার বউ বললো তাকে গভীর ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে বিরক্ত না করাই সমীচিন বলে মনে করেছেন, তাই তাঁকে জাগাননি।

তিনিও স্বীকার করলেন, তাই হবে। তার নিজেরও ভালো লাগলো বেলা অবধি ঘুমিয়ে। তিনি উঠে জামাকাপড় পরে নিলেন। তারপর বললেন, তিনি মনে করছেন কর্মদিবসের শুরুতে ধর্মীয় কাজে অবহেলা করা উচিত নয়। তার স্ত্রীও তাতে সায় দিল এবং দেড়টার সময় বাড়ির সবাইকে নিয়ে প্রার্থনা সভার কাজ সারলেন। তারপর ব্রেকফাস্ট করলেন।

শহরের দিকে রওনা দিয়ে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছালেন বেলা তিনটার সময়। তাঁর সময়ানুবর্তিতার কথা দুনিয়াশুদ্ধ লোক জানতো, তাই তার এই বিলম্ব দেখে সবাই খুব অবাক হয়ে গেল। তিনি সবাইকে ব্যাখ্যা করলেন কেন দেরী ইত্যাদি। প্রথম দিন বলে সেটা মেনে নেয়া গেল। তিনি পরদিন সাড়ে নটা থেকে কাজে আসবেন ঠিক করলেন।

তিনি সেদিন অনেকক্ষণ পর্যন্ত অফিসে থাকলেন, তারপর বাড়ি ফিরলেন। সাধারণত ডিনারেই সবচেয়ে বেশী খানাপিনার অভ্যেস তার। কিন্তু সেদিন তিনি শুধু একটি বিস্কুট আর কিছু ফল খেয়ে থাকলেন। তারপর হারানো ক্ষুধা ফিরে পেতে অভ্যেস মোতাবেক হাঁটতে বের হলেন। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হলো না। সারা সন্ধ্যা তিনি অস্থিরতায় ভুগলেন।
তিনি ভাবলেন বোধহয় সান্ধ্যকালীন খেলাধূলার অভাব হয়েছে, তাই এমন লাগছে। তাই তিনি একটা শান্ত নিরিবিলি ভদ্রগোছের ক্লাবের সন্ধান করবেন বলে ঠিক করলেন।

এগারোটার দিকে তিনি স্ত্রীর সাথে শুয়ে পড়লেন, কিন্তু ঘুমাতে পারলেন না। খালি এপাশ ওপাশ করে ঘুমানোর চেষ্টা করলেন, কিন্তু ঘুম আসে না কিছুতেই। রাত বাড়ার সাথে সাথে তিনি ক্রমশ সজাগ ও সজীব বোধ করতে লাগলেন । মাঝরাতের খানিক পর তার অতিরিক্ত সজীবতায় শক্তিমান হয়ে তিনি বিছানা ছেড়ে উঠে গেলেন। ভাবলেন বাচ্চাদের শুভরাত্রি জানিয়ে আসবেন।

ড্রেসিং গাউন পরে নিয়ে বাচ্চাদের রুমে গেলেন। তিনি যদিও বাচ্চাদের জাগাতে চাননি, তবু দরোজা খোলার সাথে সাথে বাচ্চারা জেগে গেল। দেখে তিনি অবশ্য খুশীই হলেন। তিনি তাদের গায়ে কম্বল টেনে দিলেন এবং বিছানার পাশে বসে রাত ১টা পর্যন্ত নীতিবাগীশ গল্প করলেন।

তারপর তিনি তাদের চুমুটুমু খেয়ে বিদায় জানিয়ে নিজের বিছানায় ফিরলেন। এবং তখনই তিনি প্রচণ্ড খিদে অনুভব করলেন। আবার নীচে নেমে রান্নাঘরে ঢুকে খাবার তৈরী করে পেট ভরে খেয়ে নিলেন।

খাওয়া সেরে বিছানায় ফিরলেন অনেকটা শান্তি নিয়ে। এরপরও তার ঘুম আসে না। শুয়ে শুয়ে ব্যবসাপাতির বিষয় নিয়ে ভাবতে ভাবতে ভোর পাঁচটার দিকে ঘুমিয়ে পড়লেন অবশেষে।

পরদিনও একই ঘটনা। দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে পুরো সকাল পার করে বেলা ১টা বাজার মিনিটখানেক আগে তিনি জেগে উঠলেন। তাঁর স্ত্রী কাচুমাচু হয়ে জানালো সে অনেকবার ডেকেছে তাকে, চেষ্টা করেছে তাকে জাগাতে, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ভদ্রলোক এবার রাগ আর বিরক্তিতে তেতে উঠলেন খানিক। তিনি যদি নিখাদ ভদ্রলোক না হতেন নিশ্চিতভাবে যা তা কিছু বলে বসতেন। অতএব শুক্রবারটিও আগের রুটিনে চললো এবং বেলা তিনটার দিকে তিনি শহরে পৌঁছালেন।

ব্যাপারটা এরকমই চলতে থাকলো পুরো মাস জুড়ে। তিনি নিজের বিরুদ্ধে অনেক যুদ্ধ করেও এর কোন পরিবর্তন আনতে পারলেন না। প্রতিদিন বেলা একটায় তার ভোর হয়। প্রত্যেক রাতের মধ্যভাগে রান্নাঘরে গিয়ে খাবার তৈরী করতে হয়। তারপর সেই ভোর পাঁচটার দিকে তাঁর ঘুম আসে।

তিনি কিছু বুঝে উঠতে পারেন না কেন এমন হচ্ছে। কেউ বুঝতে পারলো না সমস্যাটা কোথায়? ডাক্তার তাঁর মাথায় পানি থেরাপি দিয়ে, মনস্তাত্বিক চিকিৎসা করে নানান ভাবে চেষ্টা করেও কোন সমাধান বের করতে পারলো না।

এই অনিয়মের ফাঁদে পড়ে ব্যবসার নিদারুণ ক্ষতি হতে থাকলো, তার স্বাস্থ্যও অবনতির দিকে যেতে থাকলো। তিনি অদ্ভুত এক বিপরীত জীবনযাপন করতে থাকলেন। তাঁর দিনের কোন শুরু ছিল না, শেষও ছিল না, সবকিছুই আধাআধি। তার শরীরচর্চা কিংবা বিনোদনের কোন সময় ছিল না। যখন তিনি নিজেকে চাঙ্গা করে তুলতেন এবং সবার সাথে মেলামেশার জন্য প্রস্তুত তখন তো সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে।

একদিন একটা ব্যাখ্যা পাওয়া গেল। সেদিন তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা ডিনার সেরে বাড়ির কাজ করছিল বসে। সে তার ভূগোল বই থেকে চোখ তুলে বাবাকে জিজ্ঞেস করলো, “বাবা নিউইয়র্কে এখন কটা বাজে জানো?”

“নিউইয়র্ক?” ভদ্রলোক ঘড়ির দিকে তাকালেন, “দাঁড়াও হিসেব করে দেখি কটা বাজে, এখানে এখন দশটা বাজে, আমাদের সময়ের পার্থক্য হলো সাড়ে চারঘন্টার মতো, অর্থাৎ নিউইয়র্কে এখন বিকেল সাড়ে পাঁচটা বাজে।”

“তার মানে জেফারসনের সময় তার চেয়েও কম হবার কথা, তাই না?” তাঁর স্ত্রী বললেন।
“তা তো বটেই। জেফারসন আরো দুই ডিগ্রী পশ্চিম দিকে অবস্থিত” কন্যাটি ম্যাপের দিকে তাকিয়ে মায়ের কথায় সায় দিল।

“দুই ডিগ্রী” লোকটা বিড়বিড় করে ভাবতে ভাবতে বলতে থাকলেন, “চল্লিশ মিনিটে এক ডিগ্রী। তার মানে হচ্ছে জেফারসনে এখন…..পেয়েছি! পেয়েছি!! এতক্ষণে আমি বুঝতে পেরেছি ঘটনা!”

কথা বলতে বলতে উৎফুল্ল কন্ঠে চিৎকার দিয়ে উঠলেন তিনি।

“কী পেয়েছো?” সতর্কভাবে জানতে চাইল তাঁর স্ত্রী।

“পেয়েছি যে জেফারসনে এখন বেলা চারটা, আমার হাঁটার সময়। ওটাই তো এখন আমি করতে চাইছি।

আর কোন সন্দেহ নেই। গত পঁচিশ বছর ধরে ভদ্রলোক ঘড়িধরা সময় পার করেছে। কিন্তু সেই ঘড়িটা ছিল জেফারসনের সময়ে বাঁধা, লণ্ডনের সময় নয়। তার দেহের ভৌগলিক অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে ঠিক কিন্তু দেহের ভেতরের ঘড়ি জেফারসনেই রয়ে গেছে। অর্থাৎ পৌনে এক শতাব্দীর অভ্যেস তার ভেতর এমনভাবে একাত্ম হয়ে গেছে যে সূর্যের অবস্থান বদলে যাবার পরও তার অভ্যেসটা বদলায়নি।

তিনি সমস্যাটির আগপাশ তলা বিচার করে দেখলেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন যে তাঁর আগের জীবনের রুটিনে ফেরত যাওয়াই একমাত্র সমাধান। কিন্তু সেটা বাস্তবায়িত করা যে খুব কঠিন তাও তিনি জানেন, তবে তার বর্তমান অবস্থা তো আরো করুণ। সুতরাং ওটা ছাড়া উপায় নাই।

তিনি অভ্যেসের উপর এত বেশী নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন যে তিনি পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে নিজেকে পরিবর্তিত না করে উল্টো পরিস্থিতিকে তার অভ্যেসের সাথে খাপ খাইয়ে নেবার বন্দোবস্ত করলেন।

তিনি তার অফিস সময় নির্ধারন করলেন বেলা তিনটা থেকে রাত দশটা। রাত সাড়ে নটায় তিনি নিজের কাজ গুছিয়ে ফেলেন। দশটায় তিনি ঘোড়ায় চড়ে বসেন এবং শহরে একটা পাক খেয়ে আসেন। অন্ধকার বলে তিনি একটা হ্যারিকেন রাখেন সাথে। তার এই অদ্ভুত রুটিনের খবর চাউর হতে বেশী সময় লাগলো না। কাণ্ড দেখার জন্য লোকজন পিছু নেয়া শুরু করলো।

তিনি রাত একটার দিকে আহার সেরে ক্লাবের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যান। তিনি এমন কোন ভদ্রগোছের ক্লাবের সন্ধানে ছিলেন যেখানে সদস্যারা ভোর চারটা পর্যন্ত খেলতে রাজী হবেন। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি বাধ্য হলেন একটা জুয়াড়ি দলের সাথে জুটে যেতে, যারা তাকে পোকার খেলতে শিখিয়েছিল। জায়গাটা তেমন সুবিধার না। ওখানে মাঝে মাঝে পুলিশ গিয়ে হানা দেয়। তিনি নিজেও বিপদে পড়তে যাচ্ছিলেন একবার। কিন্তু তাঁর চেহারা সুরতে ভদ্রলোকের ছাপ থাকাতে তিনি কোনমতে ঝামেলা এড়াতে পেরেছিলেন। ক্লাবের আড্ডা সেরে ভোর সাড়ে চারটার দিকে তিনি বাড়ি ফিরতেন এবং পরিবারকে জাগিয়ে তুলতেন সান্ধ্যকালীন প্রার্থনার জন্য। পাঁচটায় তিনি বিছানায় যেতেন এবং বেঘোরে ঘুমিয়ে পড়তেন।

পুরো শহরে তার অদ্ভুত কীর্তি ছড়িয়ে পড়লো, লোকজন তাকে নিয়ে বেশ হাসাহাসি করে, কিন্তু তিনি থোড়াই পরোয়া করেন। শুধু একটা বিষয়ে তার অস্বস্তি ছিল সেটা হলো তিনি ধর্মীয় লোকদের সাথে দেখাসাক্ষাত থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। রোববার বিকেল পাঁচটায় তিনি গীর্জায় যেতে চান, কিন্তু তখন তো সেখানে কেউ থাকে না।

তাঁর নতুন রুটিনে জীবন চলতে থাকে। সন্ধ্যা সাতটায় তিনি দুপুরের খাবার খান। রাত এগারোটায় তিনি মাফিন দিয়ে চা পান করেন, তারপর মাঝরাতে আবারো প্রার্থনায় নিয়োজিত হন। রাত তিনটায় রুটি আর পনির দিয়ে সাপার খান এবং ভোর চারটার দিকে বিছানায় যান বিষন্ন এবং অসন্তুষ্ট চেহারা নিয়ে। এই মানুষকেই বলা যায় সত্যিকারের অভ্যেসের দাস।”

দীর্ঘ বর্ণনা শেষে ভদ্রলোক থামলেন এবং আমরা ঘরের ছাদের দিকে চুপচাপ তাকিয়ে বসে থাকলাম। আমাদের মুখ দিয়ে আর কোন কথা সরলো না। চাপাবাজিতে সম্পাদক মহাশয়ই জিতে গেলেন।

অবশেষে আমার বন্ধু উঠলো এবং পকেট থেকে আধ খাওয়া বোতলটা বের করে টেবিলের উপর রাখলো। তারপর আমার হাত ধরে ঘরের বাইরে বারান্দায় নিয়ে গেল।

[জেরোম কে জেরোমের A Man of Habit অবলম্বনে]


মন্তব্য

তাহসিন রেজা এর ছবি

বাহ! চমৎকার।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------
“We sit in the mud, my friend, and reach for the stars.”

অলীক জানালা _________

নীড় সন্ধানী এর ছবি

পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ তাহসিন হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

হিমু এর ছবি

অনেকদিন পর কোনো অনূদিত গল্প এক টানে পড়ে শেষ করে স্বস্তি পেলাম। চলুক।

নীড় সন্ধানী এর ছবি

অনুবাদ পড়তে যেমন ভয় পাই, অনুবাদ করতেও তেমন। জেরোম আংকেলের আরো কয়েকটা অনুবাদের ইচ্ছে আছে। পাঠকের সাড়া পেয়ে ইচ্ছেগুলো বাস্তবায়নের আগ্রহ জাগলো। হাসি

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

তারেক অণু এর ছবি

বাহ, সেই, ওস্তাদের লেখা!

নীড় সন্ধানী এর ছবি

হ সেই ওস্তাদ। তবে অনুবাদের উৎসাহগুরু হলেন এটিএম শামসুদ্দিন। তাঁর মতো সুস্বাদু অনুবাদক ভূভারতে আর একটিও নেই। ত্রিরত্নের নৌবিহার একশো বার পড়ার পরও এখনো হাসির ভাণ্ডার শেষ হয় না।

‍‌-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.--.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.-.
সকল লোকের মাঝে বসে, আমার নিজের মুদ্রাদোষে
আমি একা হতেছি আলাদা? আমার চোখেই শুধু ধাঁধা?

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।