খুব কি বেশি খারাপ হত?

মির্জা এর ছবি
লিখেছেন মির্জা (তারিখ: রবি, ০৫/১১/২০১৭ - ১০:০৭পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

আমি বড় হয়েছি জঙ্গলে। চার পাশে বন-বাঁদর-হনুমান, সাপ-ব্যাঙ-প্যাঁচা, বাঘ-বেড়াল (স্থানীয় নাম 'টলা')-তক্ষক-খরগোশ, কি ছিল না সেখানে! চার পাশে গাছ, ছোট-ছোট পাহাড় বা টিলা, পুকুর, খাল আর জংগল। এক বাসা থেকে আরেক বাসার মধ্যে বন কিংবা বাঁশ ঝাড় ছাড়া অন্য কোন দেয়াল দেখিনি কোনদিন, প্রয়োজনও ছিল না। এই অঞ্চলে ব্রিটিশদের সবচেয়ে ঘাপটি মেরে থাকা বিমান ঘাঁটিগুলোর একটি ছিল সিলেট এয়ারপোর্ট। এই জংগল আর টিলার কারনেই তারা বেছে নিয়েছিল এই অবস্থান। এখানেই আমাদের বড় হওয়া। বলা বাহুল্য টারজান ছিল সবচেয়ে প্রিয় খেলা। গাছ থেকে গাছে যতবার না গিয়েছি পাটের দড়ি ধরে, তার চেয়ে অনেক বেশি সময় গিয়েছে উঠে দাড়াতে! দড়ি দিয়ে অন্য গাছে পৌঁছানোর আগেই ধপাস! এই ব্যথার যে কি মজা সেটা যারা স্মার্ট ফোনে 'কাট দ্যা রোপ' 'ফ্রুট নিঞ্জা' খেলে বড় হচ্ছে তাদেরকে বোঝানোর ভাষা আমার জানা নেই। সেই গাছ, জংগল আর পাহাড় আমাদের প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত ছিল। এরপর কাঠের দাম বাড়তে থাকায় বন্যপ্রাণীরা হাড়ে-হাড়ে টের পেয়েছে সরকারী চাকুরীজীবীদের লোভের পশুত্ব কি জিনিস!
আমাদের ওখানে সবচেয়ে চমৎকার ছিল, আমাদের উত্তরের দিগন্ত। আকাশ পরিষ্কার থাকলে মেঘালয়ের উঁচু পাহাড় ঝকঝক করত সারাদিন। মনে হতো দিগন্তে মিশে যেতে-যেতে নিচু আকাশ হঠাৎ করে উপরের দিকে উঠে গিয়েছে! সরল রেখায় দূরত্ব ছিল ১২-১৬ মাইল আর তাই পরিষ্কার ভাবে কিছু দেখা যেত নয়া তবে দিগন্ত জুড়ে নীল রেখার মত সবসময়ই ছিল এই পাহাড়। রাতের দৃশ্য ছিল আরও ভয়াবহয় রকমের রূপবতী! রাতে পাহাড় আর দেখা যেত না; মাঝে মাঝে শুয়ে থাকা মহা এক দানবের একটা আবছা আকৃতি দেখা যেত শুধু। সারারাত ট্রাক রাজত্ব ছিল মেঘালয়ের সেই পাহাড়ি পথে। আবছা দানবীয় আকাশের প্রান্তে বাঁক ঘুরে এলেই এইসব ট্রাকের আলো জ্বলে উঠত আর পাহাড়ি বাঁকে হারিয়ে গেলেই আলো নেই। মনে হত অলস কিছু জোনাকি পোকা আকাশের গায়ে ধীর লয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই সময় আমাদের ওখানে তারার সাথে ঝোপের জোনাকি পোকার প্রতিযোগিতা ছিল নিয়মিত। শীতকালে হেরে যেত জোনাকি পোকা আর মেঘলা আকাশে তারারা।

আমার বাবা খুব সহজেই চাঁদের আলোয় আহত হয়ে পড়তেন। পূর্ণিমা কিংবা জ্যোৎস্না রাত হলেই তিনি আমাদের সালুটিকর নদীতে নিয়ে যেতেন। সাঁতার না জানা থাকায় দিনের বেলা নৌকা চড়তে প্রচণ্ড ভয় পেতাম কিন্তু রাতে সেরকম কিছু লাগতো না; কি জানি কেন! সালুটিকরে তখন ইলেক্ট্রিসিটি ছিল না। চাঁদের আলো ছাড়া কোন আলো নেই। নদীর পানিতে চাঁদের আলোর তীব্রতা মানুষকে চন্দ্রাহত করে না, চন্দ্রনিহত করে। একবার যার সেই অভিজ্ঞতা হয়েছে হাছন রাজার মত সেই 'নিশা' থেকে তার আর মুক্তি নেই। নৌকা চলতে থাকতো, নদীর তীরে কখনো কখনো একটা দুইটা পিদিম কিংবা হারিকেনের আলো দেখে বোঝা যেত ওখানে কোন বসত ভিটা আছে। আরও খানিকটা দূরে অনেকগুলো আলো দুলতে দেখা যেত সাথে একটা কিংবা দুইটা তীব্র আলোর ঝলকানি- আমরা বলতাম হ্যাজাক লাইট (পরে জেনেছি ওগুলোকে বলে পেট্রোম্যাক্স)। সেগুলো ছিল হাট শেষের বাড়ি ফেরা হাটুরেদের কিংবা শেষ চায়ের দোকানটির আলো। হ্যাজাকের কেরোসিনের শিখা 'মানুষ' হলে দুলতে থাকা পিদিমের আলোকে নিশ্চয়ই বলত ভাই বলে ডাকলে গলা টিপে দিবে, কিন্তু সেই গ্রামের বাজারে হ্যাজাকের আলোকে দেখতাম পিদিমের সাথে মিলেমিশে অন্ধকার তাড়ানোর চেষ্টায় ব্যস্ত। বাবা চা খাবেনই খাবেন, আমাদেরকেও দিতেন। গরমের সময়ই নদীতে ঠান্ডা-ঠান্ডা লাগতো, একটু শীত পরলেতো কথাই নেই! নৌকা ভিড়ত হাটের কাছে, মাঝি হাঁক দিত চায়ের জন্যে। বাবা যখন আমাদের বয়স বিবেচনা না করে নৌকার উপরে সেই চা আমাদের হাতে চা তুলে দিতেন, তখন তাকে মনে হত নিখুঁত এক মানুষ! চায়ের সাথে পাওয়া যেত ময়দার দলা টাইপ একধরনের বিস্কুট। মুখে মিলিয়ে যাওয়ার পর আর বোঝার উপায় নেই বিস্কুট মুখে দিয়েছিলাম নয়া রুটি। কিন্তু সেই পরিবেশে- ঘুটঘুটে অন্ধকার, নদীর ঠান্ডা, গরম চা আর বিস্কুট- আহা সে মজা কি আর স্টারের কাবাব, নর্দানের কফি কিংবা স্টারবাক্সের ক্যাপাচিনো কিংবা সুইস চকোলেটে আছে? তবে এখন বুঝি আমাকে যে জিনিসটা চন্দ্রনিহতের পরও চন্দ্রাচ্ছন্ন করে রাখতো তা হল সেই পাহাড়। তখনো বুঝতে কিংবা মেলাতে শিখিনি যে, যে চাঁদ আমাদের সবাইকে জ্যোৎস্নায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেই একই চাঁদ একই সময়ে আমার শুয়ে থাকা দানব পাহাড়কেও আবছা ভাবে অশরীরীর মত জাগিয়ে রাখে সর্বব্যাপী....

সিলেট এয়ারপোর্টের পূর্ব দিকে কেওয়াছড়া চা বাগান। অন্যান্য চা বাগানের তুলনায় বেশ ছোট কিন্তু এই বাগানটাই ছিল আমাদের জন্যে রহস্যে ঘেরা, এডভেঞ্চার ভরা আর খুব সহজেই বাইরের পৃথিবীর থেকে ছিটকে পড়ার জন্যে আদর্শ যায়গা। বয়স যাদের কম তাদের জন্যে তুলনা হল এইরকম- প্রেমে পরলে প্রিয় মানুষটাকে তীব্র রোদে দেখেও ভাল লাগে; অন্য একধরনের মায়া কিংবা ভাল লাগা কাজ করে. আবার প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে সেই প্রিয় মানুষটির একরূপ দেখে ভাললাগার কমতি নেই। খুব ভোরে যদি হটাত দেখা হয়ে যায়, সে ভাল লাগা কি কোন অংশে কম? একটার সাথে অন্যটার কি তুলনা হয়?

যাদের ছোট ছোট ছেলে মেয়ে আছে তাদের জন্যে রূপকটা হতে পারে এমন- ছোট্ট বাচ্চাটার সকাল বেলার হাসি, গভীর ঘুমের মুখ কিংবা প্রথম হাটতে দেখে যেরকম অবাক ঘোরলাগা ভালবাসায় আসন্ন হয়ে যাই আমরা, চা বাগানেরও এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে মানুষকে ঘোর লাগানোর, ভাল লাগানোর। বর্ষায় এক রকম সুন্দর, প্রচণ্ড গরমে আরেক রকম; বিকেলে একরকম, আবার রাতে সম্পূর্ণ ভিন্ন. শুধুমাত্র শীতের বিকেলের কথা ভিন্ন।

শীতের বিকেলে পাহাড়, জঙ্গল চা বাগান, জীর্ণ ছরা ('খাল'-এর স্থানীয় শব্দ), প্রায় থেমে থাকা চা কারখানার মেশিন, সব কিছুই কেমন যেন প্রচণ্ড মন খারাপ করা একটা ভাল লাগা নিয়ে হাজির হত...... দুপুরের পর থেকে সূর্যের যে আলো থাকতো তাকে 'মায়াবী' বললে শব্দটা একটু বেশি কাব্যিক মনে হতে পারে, কিন্তু এর চেয়ে কম কিছু বলা যাচ্ছে না। মন খারাপ করার সাথে ভাললাগার কি সম্পর্ক থাকতে পারে, হুমায়ুন আহমেদ হয়ত চট করে বুঝিয়ে দিতে পারতেন; 'মন খারাপ' আলো কিভাবে 'মায়াবী' হয় সেটা নিয়ে হয়ত রবীন্দ্রনাথের কোন গানও আছে, কিন্তু সেই কিশোর বয়সে, সেই উন্মাদনার বয়সে সেইসব কিছুই মাথায় ছিল না। যা ছিল তা হল প্রচণ্ড ঘোরের মত এক ভাল লাগা। কোন মেয়েকে দেখে ভীষণ ভাল লেগে গেলে তার বাসা বা স্কুলের আসে-পাশে নয়, অনায়াসে বসে থাকা যেত চা বাগানের ঢালুতে। সামান্য গুড়-মুড়ি কিংবা আধপাকা কিছু ফল কিংবা একেবারেই কিছু না খেয়ে একটু খোলা জায়গায় শুয়ে পড়লেই হল; আধো ঘুম, আধো খোলা চোখ...... ছায়া দেয়ার গাছগুলো মা-খালাদের মত ঝরে যাওয়া পাতার যা কিছু অবশিষ্ট, তা দিয়েই আমাদের ঢেকে দেয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকত। দুপুরের দিকের রোদ থাকতো বেয়ারা রকমের আরামের। পরোক্ষভাবে পিঠে পড়লে আরাম কিন্তু সরাসরি পড়লেই একধরনের চুলবুলি চুলকানি তৈরি করত। তবে বিকেলের কথা ভিন্ন। বিকেলে হঠাৎ করেই ঠান্ডা পড়তে শুরু করত। বাংলাদেশের মত নাতিশীতোষ্ণ দেশের শহুরে মানুষেরা হয়ত চিন্তাও করতে পারবেন না চা বাগানের এই হঠাৎ পরে যাওয়া ঠান্ডা কি জিনিস! আকাশ থাকতো ঝকঝকে পরিষ্কার, একটা-দুটো আল জ্বলে উঠছে আর ঝুপ করে সূর্য ডোবার সময় উলুধনী...বুঝে যেতাম বাড়ি ফিরে বকা খাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে। সারাদিন বাইরে থাকার জন্যে না, না খেয়ে থাকার জন্যে না, হারিয়ে গেলাম কি-না সেই ভয়েও না। মাগরিবের আযানের আগে বাসায় ঢুকতে হবে সেই শর্ত ভঙ্গের বকা। সেই সময়ে, শীতকালের চমৎকার বিকেলে, আকাশ দেখলেই প্রচণ্ড মন খারাপ হতো কেন কে জানে...... শীতকাল-বিকেল-চা বাগান- একটা ঘোর লাগা বিষণ্ণতার জন্ম দেয় যাকে অপছন্দ কিংবা অবহেলা করা যায় না...

সেই সময়ের চেয়ে আমার চাহিদা বেড়েছে কোটিগুণ। আইফোন, আইওয়াচ, এলইডি টিভি, আরামদায়ক গাড়ি আমার ভাল লাগে. এখন বেড়াতে গেলে হোটেলের তারাকে রাতের তারার চেয়েও অনেক গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করি বাছাই করি। দেশ-বিদেশে থাকি, সুন্দর-সুন্দর শহর দেখি, গ্রাম দেখি, পাহাড় দেখি। ফেলুদা-সত্যজিৎ বাদ দিতে পারলে, দার্জিলিং আমাকে আর এখন টানবে বলে মনে হয়না। সিমলা দেখে আল্পসের চেয়ে বেশি ভাল লাগবে, সেই আশাও খুব বেশি করি না। কেওয়াছড়া চা বাগানের পাশের 'লাল টিলা' যে অস্ট্রিয়ান স্কিইং পাহাড়গুলোর সৌন্দর্যের তুলনায় তুলনায় নিতান্তই মামুলি, সেই মানসিক পরিপক্বতা এবং আবেগউত্তীর্ন দেখার চোখ আমার হয়েছে। তবুও শুধু শীতকালের বিকেল এলেই আমার সিলেট এয়ারপোর্ট, এর আশে-পাশের পাহার, পুকুর, জংগল আর চা বাগানের কথা মনে হয়। সমরেশের বইয়ে পড়া ডুয়ার্সের চা বাগানের কথা মনে হয়। পূর্ব-পশ্চিমের চা বাগানের কথা মনে হয়। আর তখনই যে কোন আবেগের চেয়ে কঠিন যুক্তির মানসিকতা নিয়ে এই আমিই ভাবি, কি হত যদি আমি এখনো থেকে যেতাম সেই ছোট একটা জায়গায়? যেখানে স্মার্টফোন কেনা তো দূরের কথা স্মার্টভাবে জীবন পার করাটাকেই বিলাসিতা মনে হত....যেখানে এলইডি টিভির মডেল না, সন্ধ্যার পর কার বাসায় আড্ডা হবে সেটাই থাকতো মূল চিন্তা....অফিসটা ঠিক-ঠাক সময় ছুটি হলে মধ্যবিত্ত কয়েকটা নাটকের রিহার্সেল। ইয়োরোপ দেখার কথা হয়ত স্বপ্নেও আসতো না, হেলথ্ চেকআপের উসিলায় কোলকাতা পর্যন্ত যাওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা...... আল্পসের সূর্যাস্তর কথা সুনীলের কোন বইয়ে পড়ে, 'টাকা জমাতে পারলে কক্সবাজার যাব একদিন' সেই স্বপ্ন নিয়ে ঘুমাতে যেতাম.......খুব খারাপ হত কি? বাৎসরিক এ্যাপ্রেইজাল, বাড়ীর মর্গেজ, লোনের টাকা শোধ, বাচ্চাদের সাধ্যমত সবচেয়ে ভাল স্কুলে পাঠানো, গাড়ির মডেলটা পাল্টানো, নতুন স্মার্টফোনটার নতুন-নতুন ফিচার, একটু বেশি লাইন রেন্ট দিলে ইন্টারনেটের বেটার স্পীড্- এর চেয়ে আমার ছোট্ট চা বাগানের পাশে কুয়ার জীবনটা কি খুব বেশি খারাপ হত?

পাদটীকা: আমি আবেগী মানুষ না। নিজের মানসিক পরিপক্বতা এবং আবেগউত্তীর্নতার পরীক্ষায় আমি বরাবরই ডিস্টিংশন নিয়ে পাশ করি। বাস্তবতা যে কি ভয়াবহয় ভিন্ন তার অভিজ্ঞতাও আছে। যেখানে স্কুলের পর থেকে সেশন জট সহ মাস্টার্স পর্যন্ত মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কাটিয়েছি কয়েকবছর আগে সেই জায়গায় গেলাম স্বর্গীয় সান্ধ্য আড্ডায়। শুধু এই আড্ডার জন্যে পৃথিবীর কোন শহরকে পুরোপুরি নিজের বলে আঁকড়ে ধরতে পারি না। সেই আড্ডায় গিয়ে দেখলাম কফি হাউজের আড্ডার সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থা। আগের সেই টেবিল আছে, চেয়ার-মানুষ সব আছে; সেই চিনি বেশি চা আর ডালের পরমানুযুক্ত ডালপুরি, সব; নতুন অনেকেও যোগ দিয়েছে। শুধু আড্ডার বিষয় আর প্রায়োরিটির পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। ৪০ মিনিটের মত ছিলাম আড্ডায়, ইনভেস্টমেন্ট, রিটার্ন, ইনস্টলমেন্ট, শেয়ার আর ক্লায়েন্টের গল্প শুনলাম পেট ভরে। মনে হল খুব বেশি হারাইনি বিদেশে গিয়ে। তবে এও বুঝে নিলাম আমাদের গ্যাছে যে দিন, সেটা একেবারেই গ্যাছে ..... এসব কিছুর পরেও যে দেশেই থাকি, যে শহরেই ঘুরে বেড়াই, স্মার্ট ফোনে ফেইসবুকে চোখ রেখে, গাড়ি কিংবা আরামদায়ক সোফায় হ্যালান দিতে-দিতে শীতকালের বিকেলে এলেই আমার.........
......শীতকাল-বিকেল-চা বাগান- একটা ঘোর লাগা বিষণ্ণতার জন্ম দেয় যাকে অপছন্দ কিংবা অবহেলা করা যায় না...


মন্তব্য

জিপসি এর ছবি

৪ বছর পর ফিরে এসে দিলেন এক মন খারাপ করার পোস্ট। স্মৃতিমেদুরতায় কাটবে আজ সারাদিন।
ফেলে আসা অতীত ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখাটা থামবে না আমাদের, সাদাকালো সেই স্বপ্নে আছে মাদকতা, আছে ভালোবাসা। সেই স্বপ্নগুলি একান্ত নিজস্ব, আনন্দ বেদনার অনুভূতিও বড্ড আপন।

------------------------------------------------------------------------------
জিপসিরা ঘর বাঁধে না,
ভালবাসে নীল আকাশ

মির্জা এর ছবি

আসলে মন খারাপ না,,,,, ঐযে এই ব্যাপারটাকে অপছন্দ কিংবা অবহেলা করতে পারি না,,,,, তবে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

সোহেল ইমাম এর ছবি

খুব কি বেশি খারাপ হতো?

মনেতো হয়না। মুগ্ধতাটা সংক্রামক। কেমন আরেক জনের স্মৃতি এতোখানি জীবন্ত হয়ে আরেকটা মনে হানা দেয়।, আশ্চর্য।

---------------------------------------------------
মিথ্যা ধুয়ে যাক মুখে, গান হোক বৃষ্টি হোক খুব।

মির্জা এর ছবি

মুগ্ধতাটা সংক্রামক

সব যায়গাতেই।।।।

মাহবুব লীলেন এর ছবি

লেখাটা পড়লাম না; মনে হইল একটা পুরানা সিনেমা নতুন করে দেখলাম

Ronnie  এর ছবি

This is probably the best comment I have ever got for any of my writing

Asish Baidya এর ছবি

রনি ভাই,তোমার আমার বেড়ে উঠার জায়গাটা যে এত কাছাকাছি ছিলো,সেটা জানা ছিলনা।মালনীছড়া চা বাগান থেকে বাবার মটর সাইকেল নিয়ে চলে যেতাম কেওয়াছড়া বাগানের মুল গেইটে পাশে রানওয়েতে।এয়ারপোর্ট থেকে যোগ দিত দীপু।এয়ারপোর্ট ম্যানেজারের ছেলে।নাম ভুলে গেছি অনেক বন্ধু ছিল সেই সময়।। বাবর ভাইয়ের লাল রঙের একটা Honda XL 125 Cc বাইক ছিলো।উনাকেও পেতাম ঐ সময়টাতে।এয়ারপোর্ট পের হলেই ঐ দিকে গাড়ীর যাতায়াত কম ছিল বলে,একটু বেশী স্পিডে বাইক চালানোর সুবিধে নিতো সবাই।তোমার লিখাটা পড়ে খুব মনে করছি ছোট বেলার কথা।আহা!! কি সোনালী দিন পার করে এসেছি আমরা।।
অসংখ্য ধন্যবাদ লিখাটি শেয়ার করার জন্য।চা বাগানের আরো লিখা চাইছি তোমার কাছ থেকে।অনেক অনেক ভালো থাকো সব সময় এই কামনায়,
আশিস// ফ্রান্স থেকে।

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।