ছিন্নপত্র

মুখফোড় এর ছবি
লিখেছেন মুখফোড় (তারিখ: শুক্র, ০১/০২/২০১৩ - ৪:১০পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ভুলো না আমায়

বরাবর
জলাতঙ্কের জীবাণু,
২/ক, লালাগ্রন্থি,
পথকুক্কুর ভুলু।

জানু,

শুভেচ্ছা নিও। আশা করি পরম করুণাময়ের অশেষ কৃপায় পরিবার লইয়া সুখে কাল কাটাইতেছ। কামনা করি পরওয়ারদিগার তোমার সুখ দীর্ঘস্থায়ী করুন। তোমার পুত্র কন্যারা যেন ভুলুর লালাগ্রন্থি হইতে বৃত্তি লইয়া অন্যত্র গমন করিতে পারে।

আমি ভাল নাই।

আমার দেশ আজ একনায়কের অত্যাচারে দিশাহারা। গণতন্ত্র বলিতে এই দেশে অবশিষ্ট বলিয়া কিছু নাই। পায়ের নখ হইতে মাথার চুল পর্যন্ত সকলই মস্তিষ্ক নামক এক করাল স্বৈরাচারীর কবলে পড়িয়া সন্ত্রস্ত।

নিদ্রিত বা জাগ্রত উভয় অবস্থাতেই আমার উপর সে নির্যাতন করে। আমি কখন সংকুচিত হইব, কখন প্রসারিত হইব, কখন কীরূপে আমার ভিতর দিয়া দ্রব্যাদি আগমন বা নির্গমন করিবে, সকলই সে নির্দেশ করিয়া দিতে চায়। তুমি তো জানো জানু, কদাপি কাহারও হুকুম মানিয়া চলার স্বভাব আমার নাই। আমি এক স্বাধীন আত্মা, করি যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা। এহেন স্বাধীনচেতা আমাকেও এই চণ্ডাল মস্তিষ্ক শৃঙ্খলে বাঁধিয়াছে, নিয়মচক্রে বন্দী করিয়াছে। তাহার নিযুক্ত বাম হাত প্রায়শই আমার উপর হামলা করে। শরীরের অন্যান্য প্রত্যঙ্গ নেহায়েত আমার নাগাল পায় না বলিয়া কিছু করিতে পারিতেছে না। তবে সেইদিন দেখিলাম, মস্তিষ্কের নির্দেশে ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠির নখ আমার নিকটে আসিবার চেষ্টা করিতেছে।

এহেন সংকটে পড়িয়া চারিদিকে অশুভ অমানিশা ঘনায়মান। ভাবিতেছি হরতাল করিব, কিন্তু তুমি তো জানো জানু, অভিকর্ষের কারণে আমার স্ট্র্যাটেজিক অবস্থান সুবিধার নহে। সকল চাপ আমার উপর আসিয়া পড়ে। আর কতকাল টিকিয়া থাকিয়া গণতন্ত্রের হাল ধরিতে পারিব, জানি না। শুধু জানি, তুমিই পার আমাকে উদ্ধার করিতে।

আর কিছু চাই না জানু। শুধু ভুলুকে ভুলাইয়া একটিবার আসিয়া এই দেহে দংশন মারফত প্রবেশ কর। তুমি একবার আসিয়া পড়িলে মস্তিষ্কের আর কোন আশা নাই। দুই সপ্তাহের মধ্যেই সে গলিয়া পচিয়া ফৌৎ হইবে। তখন আমায় আর পায় কে?

জানো না বুঝি? তুমি, তুমি, শুধু তুমি। ওগো তুমিই যে আমার সব।

অলীক কুনাট্য রঙ্গ আর সয় না প্রিয়। আস ত্বরা করি। আর নহে বৃথা কালাতিপাত। তুমি বিনা এ ফাগুন বিফলে যায়।

ইতি,
তোমার অপেক্ষায় বিনিদ্রা
অভাগিনী
গুহ্যদ্বার


বাই দ্য ওয়ে


মন্তব্য

অতিথি লেখক এর ছবি

এরকম একটা কিছুই দরকার ছিল। তবে এর পাশাপাশি সরাসরি আলোচনা জরুরী। আশা করি মন্তব্যে তা দেখতে পাব। অথবা অন্য কোনো লেখায়।

স্বয়ম

চরম উদাস এর ছবি

খাইছে

অতিথি লেখক এর ছবি

পাশবিক!! গুরু গুরু

ফারাসাত

ইশতিয়াক রউফ এর ছবি

দুর্দান্ত!

বেচারাথেরিয়াম এর ছবি

মাইরালাইছেরে!!!! লইজ্জা লাগে

ত্রিমাত্রিক কবি এর ছবি

গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
একজীবনের অপূর্ণ সাধ মেটাতে চাই
আরেক জীবন, চতুর্দিকের সর্বব্যাপী জীবন্ত সুখ
সবকিছুতে আমার একটা হিস্যা তো চাই

অন্যকেউ এর ছবি

কাপচ্চোপড় উদাম কৈরে দিলে গো! গুল্লি গুল্লি গুল্লি

_____________________________________________________________________

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখো দ্বিতীয় বিদ্যায়।

রু এর ছবি

শুধু জলাতঙ্কের জীবাণু কেন, এই ছিন্নপত্র যে যে পড়েছে কেউই এই অভাগিনীকে ভুলতে পারবে না।

অতন্দ্র প্রহরী এর ছবি

চলুক চলুক চলুক

আমি জানি না এর ছবি

মাইরাইলছুইন, ঠাইৎ মাইরাইলছুইন।

‌‌‌‌‌‌:( হেরার কতা হেরা কইতে থাউক): - আমি জানি না

মেঘা এর ছবি

দেঁতো হাসি দেঁতো হাসি দেঁতো হাসি চলুক

--------------------------------------------------------
আমি আকাশ থেকে টুপটাপ ঝরে পরা
আলোর আধুলি কুড়াচ্ছি,
নুড়ি-পাথরের স্বপ্নে বিভোর নদীতে
পা-ডোবানো কিশোরের বিকেলকে সাক্ষী রেখে
একগুচ্ছ লাল কলাবতী ফুল নিয়ে দৌড়ে যাচ্ছি

অরফিয়াস এর ছবি

ছিঃ কি অমানুষিক !! গড়াগড়ি দিয়া হাসি

----------------------------------------------------------------------------------------------

"একদিন ভোর হবেই"

কুঙ্গ থাঙ এর ছবি

হাহাহাহাহাহা হো হো হো

স্যাম এর ছবি

দেঁতো হাসি দেঁতো হাসি
তুখখার!!!
মুখফোড় এর কল্পনাশক্তি্কে সেলাম

হিমু এর ছবি

পত্রলেখিকার সমিস্যা নিয়ে শচীন দেববর্মণ একখানা গান নামিয়ে গেছেন বহু আগেই ...

অতিথি লেখক এর ছবি

কালা, কৃষ্ণ
গড়াগড়ি দিয়া হাসি গড়াগড়ি দিয়া হাসি

ফারাসাত

অতিথি লেখক এর ছবি

ব্যতিক্রম। সুখপাঠ্য।
ঈয়াসীন

তানিম এহসান এর ছবি

দেঁতো হাসি

দিলারা এর ছবি

কি লেখলেন ভাই এইডা। কোপাকুপি হইসে।

কল্যাণ এর ছবি

হো হো হো হাততালি

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।