বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসা, আওয়ামী লীগের গ্রিন সিগন্যাল

মূর্তালা রামাত এর ছবি
লিখেছেন মূর্তালা রামাত (তারিখ: বিষ্যুদ, ২০/০৯/২০১২ - ১১:৩৩অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফেরত এসেছে বিশ্বব্যাংক। গত এক বছর ধরে এই ইস্যু নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, অনেক জল ঘোলা হয়েছে, অনেক রকম গুজব ডালপালা মেলেছে। শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক ফিরে আসায় সব পদ্মা সেতু কেন্দ্রিক সব পক্ষই খুশি। বিশেষ করে বর্তমান সরকার তথা আওয়ামী লীগের জন্য এটি একটি হাফ ছেড়ে বাঁচার মত খবর।

এটি অস্বীকার করার যো নেই যে আওয়ামী লীগ পদ্মা সেতু ইস্যুতে খুবই নাজুক অবস্থানে ছিল। এই সেতু তৈরি তাদের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার পূরণে বিশ্বব্যাংকের ঋণটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ায় তারা বেশ বেকায়দায় পড়ে যায়। প্রথমত, সরকারের ঘাড়ে দুর্নীতির বদনাম এসে পড়ে। দ্বিতীয়ত, বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়া নিয়ে দাতাদেশগুলোর সাথে সরকারের টানাপোড়ন সৃষ্টি হয়। তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ কষ্টসাধ্য হয়ে পাড়ে। চতুর্থত, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলকে ঘায়েল করার মোক্ষম অস্ত্র পেয়ে যায়। পঞ্চমত, বিশ্বব্যাংকের সাথে দ্বন্দ্বে জড়ানোর ফলে দেশের অর্থনৈতিক নানা ক্ষেত্র অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। ষষ্ঠত, বৈদেশিক বিনিয়োগ হূমকির মধ্যে পড়ে যায়। আর এ সবকিছুর চাপে সরকারের ভিত নড়বড়ে হয়ে ওঠে।

বিশ্বব্যাংকের সাথে সরকারের যুদ্ধ আপাতদৃষ্টিতে শেষ হওয়ায় আওয়ামী লীগের উপর গলার ফাঁসের মত চেপে বসা চাপ অনেকাংশেই হালকা হয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ফেরত আসার অর্থই হচ্ছে আওয়ামী লীগ তাদের অন্যতম আলোচিত নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের কাজ এ বছরই শুরু করতে পারবে। অর্থাৎ সরকারের মেয়াদ শেষ হবার আগেই পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করবে। এবং নিঃসন্দেহে তা হবে আওয়ামী লীগের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বিজয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্যও এটি একটি টনিকের মত কাজ করবে। এবং এটিকে কাজে লাগিয়েই যে আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ছক সাজাবে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।

তবে বিশ্বব্যাংকের কিন্তু তাদের দুর্নীতির অভিযোগ এখুনি উঠিয়ে নিচ্ছে না। তারা নিজস্ব পন্থায় এর তদন্ত কাজ চালিয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে দুর্নীতির সাথে জড়িত হিসেবে যাদের নাম এসেছে তারা এখুনিই নিস্তার পাচ্ছেন না। পরবর্তীতে তাদের কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার দায়ভার আওয়ামী লীগের উপর এসেই পড়বে। এই সম্ভাবনার আশঙ্কাটুকু বাদ দিয়ে চিন্তা করলে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যতে বেশ আশার আলো দেখা যাচ্ছে। কারণ পদ্মা সেতু বিষয়ে সমঝোতা মানে যে শুধুই বিশ্বব্যাংকের সাথেই বিবাদ মেটানো তা নয়। বরঞ্চ তা আওয়ামী লীগ নেতৃত্ত্বাধীন মহাজোট সরকারের সাথে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বৈদেশিক শক্তিগুলোর যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কথা চারিদিকে জোরেসোরে প্রচলিত তারও একটা প্রশমন। যা অত্যন্ত অর্থবহ। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ভরাডুবির কথা যখন জোরেসোরে শোনা যাচ্ছে তখন এ সমঝোতা এই ইঙ্গিতই বহন করে যে বর্হিবিশ্বে সরকারের সমর্থক লবিটি এখানো যথেষ্ঠ শক্তিশালী। এবং এই শক্ত লবিই যে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অন্যতম ভরসা হয়ে দাঁড়াবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসা অবশ্যই একটি পজেটিভ ব্যাপার। পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করতে না পারলে জনগণ যেমন সরকারকে দূষত এখন সেতুর কাজ শুরু করলে তারাই সরকারকে বাহবা দেবে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ জনগণ যারা গত ক’বছর ধরে পদ্মা সেতুর আশায় বুক বেধে বসে আছে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসার খবর তাদের জন্য অনেক অনেক আনন্দের। এই সব মানুষ রাজনীতি বোঝে না। বিশ্বব্যাংক কেন গেল, কেন আসলো; কে তাদের সরে যেতে বলল আর কেইবা তাদের ফিরিয়ে আনলো বা নিজের টাকায় না ঋণের টাকায় সেতুটি হবে- এর কোন কিছুই তারা বোঝে না। তারা কেবল চায় সেতুটি হোক। সেতুটি হলে তাদের যাওয়া আসা সহজ হবে, ব্যবসা বাণিজ্য দ্রুততর হবে- এই তাদের চিন্তা। এখন ভালোয় ভালোয় সেতুটি হলেই আমরা খুশি। পদ্মা সেতু নিয়ে আর কোন রাজনীতি বা কালক্ষেপণ কারোই কাম্য না।

তথ্যসূত্র: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-09-20/news/291176

২১/০৯/২০১২
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া।


মন্তব্য

কল্যাণ এর ছবি

"আ স্ট্রেনজার ইন মাই ওন কান্ট্রি ইস্ট পাকিস্তান, ১৯৬৯-১৯৭১ মেজর জেনারেল (অবঃ) খাদিম হুসেইন রাজা -- ৫ম পর্ব" কিন্তু মেলা দিন হল ডিউ চোখ টিপি

______________
আমার নামের মধ্যে ১৩

অতিথি লেখক এর ছবি

বিশ্বব্যাংকে স্বাগতম। তবে সাবধান বিড়াল ঘরে ঢুকে যেন দুধ না খায়
-
জনক

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।