এডওয়ার্ড সাইদ : বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে--পর্ব এক

কুলদা রায় এর ছবি
লিখেছেন কুলদা রায় [অতিথি] (তারিখ: শুক্র, ২৪/০৯/২০১০ - ৯:৫৫পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

autoএডওয়ার্ড
এডওয়ার্ড সাঈদ নিয়ে আমাদের দেশে বেশ কিছু আলোচনা রয়েছে। আলোচকগণ তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে সাঈদের ব্যাক্যা বিশ্লেষণ করেছেন। সে কারণে নানা মুনির নানা মত। দেখা যায় ছদ্মবামেরাও সাঈদকে তাদের মত করে তার চিন্তায় পরিবেশন করেছেন। ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

শুধু সাইদ নয়--ফুকো দেরীদা , লাকাদের নিয়েও একই সমস্যা।
কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সাঈদকে নিয়ে একটি আলোচনা করেছেন। সে আলোচনাটি আমাকে পাঠিয়েছেন।
সচলায়তন কর্তৃপক্ষ যদি অনুমোদন করেন তাহলে আলোচনাটি কয়েকটি পর্বে দেওয়ার ইচ্ছে রইল।

সাঈদের বাংলাদেশী প্রতিকৃতি
কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়

এডওয়ার্ড সাঈদ রাজনৈতিক আলোড়ন-সংক্ষুব্ধ একটি ভৌগোলিক এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। জেরুজালেমে। ১৯৩৫ সালে। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশচ্যুত হয়ে কায়রোতে চলে আসে সাঈদের পরিবার। তবে, এই জনগোষ্ঠীগত বিপর্যয়ের পাশাপাশি উল্লেখ্য আরো কিছু তথ্য রয়েছে : সাঈদের পরিবারটি ছিল সম্পদশালী। তাঁর বাবা ওয়াদি ইব্রাহিম প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বেই আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন এবং সেখানকার নাগরিকত্ব লাভ করেছিলেন। এ-সম্পর্কে আমাদের আলোচ্য স্মারক-সংকলনগ্রন্থেও অনেক তথ্য রয়েছে। যেমন, “যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ নিয়ে ১৯২০ সালে প্যালেস্টাইনে প্রত্যাবর্তনের পর প্রথমে ওখানে ও পরে কায়রোতে গগনচুম্বী ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেন ওয়াদি ইব্রাহিম। ১৯৩২ সালে সাঈদের মা হিল্দাকে যখন তিনি বিয়ে করেন তখন তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত ধনাঢ্য ব্যক্তি। ...বিয়ের পর দম্পতি হানিমুন উপলক্ষে ইউরোপে যান, তিন মাসের জন্যে।” এডওয়ার্ড সাঈদের আÍজীবনী বাসভূমির বাইরে-সংক্রান্ত আলোচনার লেখক সালাহ্উদ্দিন আইয়ুব আরো জানান যে, “প্যালেস্টাইনে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত যৌথভাবে ব্যবসা চালানোর পর সাঈদের বাবা মিসরের কায়রোতে তার বাণিজ্য সম্প্রসারিত করেন।” [পৃ. ১৯৮] অর্থাৎ, দেশচ্যুতির পূর্বেই কায়রোর সঙ্গে ওয়াদি পরিবারের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। এমনকি তারা অনেক আগে থেকে কায়রোতেই থাকছিলেন। “প্রথম সন্তানের হাসপাতালে মৃত্যুর পর হিল্দা তার দ্বিতীয় ও একমাত্র পুত্রসন্তান সাঈদের জন্মদানের জন্যে কায়রো ছেড়ে জেরুজালেম চলে যান। সাঈদের জন্ম কায়রোতে না হয়ে যে জেরুজালেমে হল, তার কারণ এই।” [পৃ. ১৯৮-৯৯] সালাহ্উদ্দিন আইয়ুব সাঈদের আউট অব প্লেস থেকে নিয়েই জানাচ্ছেন আরো কিছু আগ্রহোদ্দীপক তথ্য:
কিন্তু সাঈদের পরিবার ধর্মমনস্ক ছিল এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। বাবা ছিলেন প্রোটেস্টান্ট, ব্যবসায়ী, মার্কিন নাগরিকত্ব লাভকারী গর্বিত বুর্জোয়া। সাঈদকে তিনি কায়রোর একটা নামকরা ইংরেজি স্কুলে ভর্তি করান ইউরোপীয় মূল্যবোধে মানুষ হবার জন্য। সাঈদের প্রতি তার মা দরদি ও আবেগপ্রবণ ছিলেন বটে, কিন্তু সবসময় নয়; কখনো কখনো তার কঠোর বুর্জোয়া পিতার সঙ্গে তার শীতল, কৃত্রিম স্বভাবের কোনো তফাত সাঈদ দেখেননি। ওদিকে ওয়াদির সঙ্গে হিলদার শুরু থেকেই খুব বনিবনা ছিল না। ...তবে মতান্তর সত্ত্বেও একটা বিষয়ে তাদের গভীর মিল ছিল। তা হল মরিয়া হয়ে মডার্ন হওয়ার অভিলাষ এবং ছেলেমেয়েদের বুর্জোয়া মানসিকতায় মানুষ করার প্রবল কামনা। [পৃ. ১৯৯]।

এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ : আবিশ্ব বিবেকের কণ্ঠস্বর বইয়ের আলোচনায় এ-তথ্যগুলোর উল্লেখ এবং উদ্ধৃতি প্রদান নিশ্চয় উদ্দেশ্যহীন নয়। উল্লেখযোগ্য-উদ্ধৃতিযোগ্য এ সবই বইটির শক্তি ও সম্পদের দিক। কিন্তু, এই বিশেষ তথ্যগুলো এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদের যে-অবস্থান এবং পরিচিতি নির্মাণ করেছিল, তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক কাজগুলোকে কেবল তাদের ভিত্তিতেই সঠিকভাবে চিনে নেওয়া সম্ভব। প্যালেস্টাইন, লেবানন, মিসর, এক কথায় মধ্যপ্রাচ্য এলাকার ঐতিহাসিক ঘটনাবলি শুধু নয়, পারিবারিক আকাক্সক্ষা এবং সক্ষমতাও সাঈদের বার-বার স্থানচ্যুত হওয়ার কারণ হিসেবে ক্রিয়াশীল ছিল। সাঈদের পারিবারিক পরিবেশ, মা-বাবার আচরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চরিত্র ও পরিবেশ, ইত্যাদির মিলিত প্রভাবে সাঈদের যে-বিশিষ্ট মানসগড়ন এবং ব্যক্তিচরিত্র নির্মাণ হয়েছিল, তা কি তাঁর যাবতীয় বুদ্ধিবৃত্তিক সৃষ্টিকে রূপ দিতে যায়নি? একই মধ্যপ্রাচ্য তথ্য প্যালেস্টাইন সঙ্কটের চাপ এবং আওতায় গড়ে উঠেছিলেন যে-অনেকানেক বুদ্ধিজীবী এবং অন্যান্য ধারার সব মানুষ, তাদের মধ্যে এডওয়ার্ড সাঈদের যে-স্বাতন্ত্র্য কিংবা বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ে, তার ব্যাখ্যা কীভাবে করা যাবে? সাঈদের আÍজীবনীমূলক গ্রন্থ আউট অব প্লেস-কে নিয়ে রচিত এবং আমাদের আলোচ্য সংকলনে অন্তর্ভুক্ত সালাহ্উদ্দিন আইয়ুব এবং সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের লেখা প্রবন্ধ দুটোর উল্লেখ আমি তাই প্রথমে এবং বড়ভাবে করছি।

জীবনাভিজ্ঞতার এই অংশেই রয়েছে সাঈদের জীবন এবং কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অনেক বড় প্রশ্নের উত্তর। তাঁর সর্বাধিক আলোচিত ওরিয়েন্টালিজম বইয়ে ক্ষমতা থেকে জ্ঞান নির্মাণের ক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বের ভূমিকার যে উদ্ঘাটন ও বিশ্লেষণ সাঈদ করেন, তার পেছনেও প্রাথমিক প্রেরণা কিন্তু তার জীবনাভিজ্ঞতা। আমি এ-সম্পর্কে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের প্রবন্ধ ‘ঘরেরও নয় পারেরও নয় : এডওয়ার্ড সাঈদের আউট অব প্লেস’ থেকে খানিক উদ্ধৃতি দিচ্ছি, এ-হচ্ছে সাঈদের জীবনে আমেরিকার মাউন্ট হার্মন স্কুলের পর্যায়টির আলোচনা :
শিক্ষকরা যদিও বাইরে ছিলেন যত্নবান, ‘অভিন্ন এবং ভাগ করে নেওয়ার মতো মূল্যবোধে’ প্রবলভাবে বিশ্বাসী, নেতৃত্ব অথবা সুনাগরিকত্বের মতো বিমূর্ত বিষয়কে শিক্ষার্থীদের জীবনে প্রতিফলিত করতে সঙ্কল্পবদ্ধ, ভেতরে-ভেতরে তারা॥তাদের কেউ-কেউ অন্তত॥ভিন্ন একটি চরিত্র লালন করতেন। সাঈদ লিখেছেন, ‘মাউন্ট হার্মনে থাকার সময় আমাকে কখনো ফ্লোর অফিসার, টেবিলের প্রধান, ছাত্র সংসদের সদস্য অথবা ভ্যালেডিক্টরিয়ান (দাপ্তরিকভাবে ক্লাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ) এবং স্যালুটোরিয়ান (দ্বিতীয়) করা হয়নি, যদিও আমার সকল যোগ্যতা ছিল’ [পৃ. ২৩০]। কেন করা হয়নি, সাঈদ তা কখনো জানতে পারেননি, যদিও এটি খুব দুর্জ্ঞেয় হওয়ার কথা নয়। সাঈদ শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান হলে নিশ্চয় এ-কথাগুলো তাকে লিখতে হতো কর্তৃত্ব থেকে নিজেকে সুরক্ষা দিতে হবে।’ [পৃ. ২৩০]। একই সঙ্গে তিনি নিজে যা, তা হতে, সেই হিসেবে বেড়ে উঠতে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে যে-রূপে দেখতে চায়, তা না হতে॥সেই সম্ভাবনাকে ঠেকাতে, কিছু কলাকৌশল যে তাকে রপ্ত করতে হবে এই অনুধাবনটি স্পষ্টরূপ গ্রহণ করেছিল। এই প্রক্রিয়ায় এক জীবনব্যাপী সংগ্রামের সূত্রপাতও করেন সাঈদ, যে সংগ্রাম ক্ষমতার মর্জি এবং ভণ্ডামির বিরুদ্ধে। [পৃ. ২১৬-২১৭]।

সাঈদের ব্যক্তিজীবনের এই বাস্তবতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ॥এই বাস্তবতা প্রথমত তাঁকে একটি সংগ্রামের ধারণা বা মনোভাবে উত্তীর্ণ করেছিল, যার প্রেষণায় এগিয়ে চলে তাঁর নিজের জীবনব্যাপী গবেষণা ও জ্ঞানার্জনের এক নিরবচ্ছিন্ন আয়োজন। সাঈদ-আগ্রহীকে আমি এই সত্যটি বিশেষভাবে লক্ষ্য করার অনুরোধ জানাবো। তার কারণ, বিখ্যাত ওরিয়েন্টালিজম বইটিতে ক্ষমতা এবং জ্ঞানের সম্পর্কের যে-ধারণা বা তত্ত্বকে পশ্চিমের প্রাচ্য-সম্পর্কিত জ্ঞান-নির্মাণের ক্ষেত্রে সত্য বলে সাঈদ উদ্ঘাটন এবং প্রমাণ করেছেন বলে বলা হয়, তা যে আরো ব্যাপকভাবে এবং প্রকৃতপক্ষে চিরকাল, সার্বজনীনভাবে প্রযোজ্য, সাঈদের নিজের জীবনের এ-পর্যায়টি থেকেই তা খুব সহজে প্রমাণ হয়। এবং পশ্চিমের প্রাচ্য-সম্পর্কিত জ্ঞানানুসন্ধানের গতি-প্রকৃতি নিয়ে ওরিয়েন্টালিজমসুলভ গবেষণার অবকাশ যতো বেশিই থাকুক না কেন, পশ্চিম-সম্পর্কিত খুবই প্রয়োজনীয় মোহভঙ্গের যে-সুফলই আমরা পেয়ে থাকি না কেন, কতিপয় অদ্ভূত দাবি বা ধারণাকে কোনোক্রমেই এই সূত্রে গ্রহণ করা চলে না। দাবি বা ধারণাগুলো হচ্ছে : ১. ক্ষমতা এবং জ্ঞানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিষয়ে এডওয়ার্ড সাঈদই বুঝি প্রথমে বলেছেন। কিংবা এ-সম্পর্কিত গবেষণাও বুঝি ওঁরই প্রথম, একক, ইত্যাদি। ২. ক্ষমতার সাহায্যে জ্ঞানের নির্মাণ, মিথ্যার নির্মাণ, ইত্যাদিও শুধু ‘পশ্চিম’-এর কীর্তি, অপরাধ, ইত্যাদি।

এডওয়ার্ড সাঈদের মতো ব্যক্তিবিশেষের, কিংবা প্যালেস্টনীয় জনগণের পক্ষভুক্ত একজন প্রায়-‘অরগানিক বুদ্ধিজীবী’র হাতে উত্তর-উপনিবেশবাদী বাচন (ঢধ্রডমর্লরণ)-এর নির্মাণের একটি বৃহৎ অংশ অর্থাৎ অনেক জ্ঞানার্জন সম্পন্ন হওয়ার দৃষ্টান্তটিকে বিশ্লেষণ করলে কী দাঁড়ায়? ব্যক্তি সাঈদ কিংবা নিপীড়িতদের পক্ষভুক্ত বুদ্ধিজীবী সাঈদ কি এমন ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন যে তিনি বিপরীত অনেক জ্ঞানার্জনে অবদান রাখলেন? না-কি, ক্ষমতার মতো অক্ষমতাও নিয়ে যায় জ্ঞানার্জনে? সেক্ষেত্রে ক্ষমতা-অক্ষমতার তুলনায় অধিকতর ব্যাখ্যাকারী, সত্যতর তত্ত্ব কি নয় বস্তু এবং ভাবের দ্বান্দি¡ক সম্পর্ক? আমার ক্ষুদ্র অভিমতটি হল, দ্বান্দি¡ক বস্তুবাদের জ্ঞানের অধিকারীদের নিকট ক্ষমতা-জ্ঞান সম্পর্কের তত্ত্বটি সবটা হাস্যকর না হলেও, খুবই অসম্পূর্ণ মনে হবে। এরূপ মনে হবে বৃহৎ জনজীবন কিংবা বাস্তব পৃথিবীকে যারা ঘনিষ্ঠভাবে লক্ষ্য করেছেন, তাদের নিকটও। বরিশালের গ্রামে কিশোর বয়সে লোককে বলতে শুনেছি : “জমিদার চাড়া চিবাইলেও কয় বাতাসা খায়, আর গরিবে বাতাসে খাইলেও কয় চাড়া চিবায়।” আমাদের বাংলাভাষার এই ক্ষুদ্র প্রবাদ কি ক্ষমতা-জ্ঞান কিংবা বস্তু-ভাবের সম্পর্ককে কোনো কম গ্রহণযোগ্যভাবে প্রকাশ করে? তবে, এও সত্য যে সংসারের পুরনো সত্যগুলোকে বারবার প্রকাশ করার প্রয়োজন হয়, সন্ধিক্ষণগুলোতে বাস্তব পরিস্থিতিগুলোই পুনরাবৃত্ত হয়।

autoএডওয়ার্ড সাঈদ এবং প্যালেস্টাইন সংঙ্কটের ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটেছিল। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য আরো যা ঘটে থাকতে পারে, তা হচ্ছে : যে-পরিসরের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন ব্যক্তি সাঈদ, যেরূপ ধারণা ও ভাবনা-পরিবেশের বাসিন্দা (আউট অব প্লেস-এ তার বিবরণের প্রতি আমি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি), তাতে তাঁর এবং আরো অনেকের ওপর ‘পশ্চিম’-এর ভূমিকা এবং আচরণই খুব বেশি চেপে এসেছে, এবং সে-সবকেই মনে হয়েছে একক অন্যায়। আরো ব্যাপক এবং সাধারণ (general) অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানের এলাকায় বিচরণ করা এবং উন্মোচিত হওয়ার উপযোগী কোনো জীবন ওরিয়েন্টালিজম রচনার পর্যায়ে এডওয়ার্ড সাঈদ যাপন করেননি। পারিবারিক উচ্চবিত্ততা, জীবনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিকতা, ইত্যাদি দ্বান্দি¡ক বস্তুবাদী জ্ঞান কিংবা এরূপ আদর্শভিত্তিক জীবনাভিজ্ঞতার চত্বরে এনে হাজির করে দেয়নি সাঈদকে; বিপরীতে বরং ছিল আমেরিকায় অভিবাসী কোনো আরব/প্যালেস্টাইনী একাডেমিকের ওপরকার নানারূপ সঙ্কীর্ণতাপ্রসূ চাপের প্রবলতা। বুদ্ধিবৃত্তিচর্চার মধ্যে যখন কেউ তার বাস্তব অভিবাসিত্ব বা কেন্দ্রচ্যুতি থেকে আশ্রয় নেয়, সাঈদ যেমনটা নিয়েছিলেন, নিজের বাস্তব সঙ্কটকে তিনি (পশ্চিমা) সেই বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্কট হিসেবেই ভুল ভাবতে পারেন। ধর্মবিশ্বাসীরা যেমন বারবার বাস্তব সমস্যার সমাধান খুঁজেছেন শুদ্ধতাবাদী (puritanical) কিংবা পুনরুজ্জীবনবাদী (revivalist) কর্মকাণ্ডের মধ্যে।

এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদের মৃত্যুর পর বেনজীন খান সম্পাদিত এবং আমাদের আলোচ্য বইটি গৌরবের বোধে দীপ্ত একটি শিরোনাম এবং জমকালো চেহারা নিয়ে প্রকাশিত হয়। এ-উপলক্ষে খোদ সাঈদ সম্পর্কে আলোচনার যেমন অবকাশ থাকে, সাঈদের ধারণার আলোকেও বইটির কিছু বিচার সম্ভব, এবং সেটাই প্রথম কর্তব্য। বইটি একটি সংকলন ও সম্পাদনার কাজ; সেক্ষেত্রে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত এবং লেখকদের নিজস্ব উদ্যোগে রচিত এক বৃহৎসংখ্যক প্রবন্ধকে বিভিন্ন শ্রেণীতে সাজিয়ে প্রকাশ করার কাজটি সম্পাদককে করতে দেখা যাচ্ছে। এ-শ্রেণীগুলো হচ্ছে : ‘এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ সম্পর্কে’, ‘এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদের বই সম্পর্কে’, ‘এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদের লেখা’ এবং ‘এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদের সাক্ষাৎকার’। একটি পরিশিষ্ট অংশও রয়েছে : ‘এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ : জীবন ও গ্রন্থপঞ্জী।’ সাঈদের মৃত্যুর পূর্বে এবং পরে প্রকাশিত এবং এখানে সংকলিত নানাধরনের রচনার মোট সংখ্যা চুয়াল্লিশ। অধিকাংশ রচনা বাংলাদেশের বাংলাভাষীদের। এডওয়ার্ড সাঈদের প্রতি আগ্রহের নানা কারণ থাকা সম্ভব। সাধারণভাবে তাঁর মৃত্যুর পূর্বে এবং পরে প্রকাশিত রচনার বড়সংখ্যাকে স্বাগত জানানো যায়। সেগুলোর সংকলন এবং সম্পাদনার কাজকেও। সাঈদের নামের সঙ্গেই সমধিক জড়িত হয়ে গেছে যে-ক্ষমতা ও জ্ঞানের সম্পর্কের তত্ত্ব, তার আলোকেও এসব লেখালেখি, সংকলন, সম্পাদনাকে দেখা যায়। ইতোপূর্বেই আমি বলার চেষ্টা করেছিলাম যে ক্ষমতা ও জ্ঞানের সম্পর্কের তত্ত্বটি দীর্ঘকাল মনুষ্যসমাজে ছড়িয়ে রয়েছে। তার প্রত্যন্ত এলাকায়ও। এবং তত্ত্বটির আরো সামান্যীকৃত মৌলিক রূপ খুঁজে পাওয়া যায় বস্তু ও ভাবের সম্পর্কের দ্বান্দি¡ক বস্তুবাদী তত্ত্বে। তবে, নিছক সাঈদসূত্রেই অধিকতর প্রচারিত জ্ঞান ও ক্ষমতার সম্পর্কের তত্ত্বের আলোকে দেখে কী পাওয়া যায়? “সম্পাদকের কথা” থেকে শুরু করে এক বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ রচনায় অনুপাতবর্জিত গুরুত্বে আলোচনা করা হয়েছে সাঈদের ওরিয়েন্টালিজম বইটি এবং প্রাসঙ্গিক সব বিষয় নিয়ে। বিশেষ কিছু গুরুত্ব থাকলেও ওরিয়েন্টালিজম সাঈদের জীবনের প্রথম দিককার রচনা; পরে একে তিনি পুনর্বিবেচনায় নিয়েছিলেন ‘ওরিয়েন্টালজম রিকনসিডার্ড’ প্রবন্ধে। একই বিষয়ে তার অন্য একটি গোটা বই রয়েছে, পরবর্তী জীবনের রচনা : কালচার এ্যান্ড ইমপিরিয়ালিজম। এসবের উপসংহার যে এক নয়, সম্পাদক বেনজিন খান এবং সংকলনভুক্ত অনেক লেখক তা মনে রাখেননি। শুধু তা নয়, যে-সাঈদ জন্মসূত্রে খ্রিষ্টান হয়েও ইসলাম ধর্মের বিষয়গুলো নিয়ে অনেক লিখেছেন, তাঁর এই ধর্মনিরপেক্ষ মানবিকতার প্রতি রীতিমতো অবজ্ঞা প্রদর্শন করে বেনজিন খান বর্তমান বইয়ের “সম্পাদকের কথা”য় তথাকথিত “ভারতীয় চিন্তাবিদ” আবুল আল মওদুদীর সহকর্মী-সহমর্মী চিন্তাবিদ হিসেবে এডওয়ার্ড সাঈদকে উপস্থিত করেছেন, দু-দুটো দীর্ঘ উদ্ধৃতি এবং তুলনার সাহায্যে। “ভারতীয় চিন্তাবিদ” মওদুদী সম্পর্কে বলার প্রয়োজন নেই। তবে, এ-ই যদি হয় বাংলাদেশ তথা এশিয়া তথা প্রাচ্যের দিককার প্রেজেন্টেশান বা উপস্থিতকরণের সত্যতা, সততা এবং সঙ্গতির নমুনা, পরিমাপ, ওরিয়েন্টালিজম বইয়ে পশ্চিম সম্পর্কে সাঈদের ‘মিসরিপ্রেজেন্টেশান’-এর অভিযোগকে ওরিয়েন্টালিজম হিসেবে মিথ্যে প্রমাণ করার জন্যে তো তা হলে বেনজিন খান-সম্পাদিত বর্তমান বইটিই যথেষ্ট। এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদের মৃত্যুর পরে বাংলাদেশে প্রকাশিত একমাত্র স্মারকগ্রন্থের সম্পাদকের এরূপ আচরণ এবং অবস্থানের জন্যে গভীরভাবে দুঃখিত হতে হয়। তাঁর হাতে সাঈদের এই বিকৃত নির্মাণ, ভুল পরিবেশন অবশ্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বহু রাষ্ট্র এবং ধর্মভিত্তিক ভাবাদর্শের সাহায্যে নির্মিত তাদের ক্ষমতার স্থান থেকে যাবতীয় বিষয়ে জ্ঞানের ‘নির্মাণ’ তথা মিথ্যে নির্মাণ দীর্ঘকাল এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘটে চলেছে। অন্য এবং সত্যতর বিচারে তা হচ্ছে এতদঞ্চলের শোষক-শাসকশ্রেণীর পক্ষ থেকে ধর্মকে ব্যবহার করে শ্রেণী ভাবাদর্শের প্রচার-প্রচারণার ব্যাপার। চমকে যাওয়ার মতো কোনো নতুন ঘটনা এটা নয়।

(চলমান)


মন্তব্য

নুসদিন এর ছবি

বানানটা কি সাইদ হবে না সাঈদ হবে? ওরায়েন্টালিজম আর কালচার এন্ড ইম্পেরিয়ালিজম এর অংশ বিশেষ বেশ আমাদের অনেক কোর্সেই পড়ানো হয় তাই এডওয়ার্ড সাঈদকে কি নিয়ে জানার ইচ্ছা অনেক দিনের। হাসি

সাঈদ জন্মসূত্রে খ্রিষ্টান হয়েও ইসলাম ধর্মের বিষয়গুলো নিয়ে অনেক লিখেছেন, তাঁর এই ধর্মনিরপেক্ষ মানবিকতার প্রতি রীতিমতো অবজ্ঞা প্রদর্শন করে বেনজিন খান বর্তমান বইয়ের “সম্পাদকের কথা”য় তথাকথিত “ভারতীয় চিন্তাবিদ” আবুল আল মওদুদীর সহকর্মী-সহমর্মী চিন্তাবিদ হিসেবে এডওয়ার্ড সাঈদকে উপস্থিত করেছেন, দু-দুটো দীর্ঘ উদ্ধৃতি এবং তুলনার সাহায্যে। “ভারতীয় চিন্তাবিদ” মওদুদী সম্পর্কে বলার প্রয়োজন নেই। তবে, এ-ই যদি হয় বাংলাদেশ তথা এশিয়া তথা প্রাচ্যের দিককার প্রেজেন্টেশান বা উপস্থিতকরণের সত্যতা, সততা এবং সঙ্গতির নমুনা, পরিমাপ, ওরিয়েন্টালিজম বইয়ে পশ্চিম সম্পর্কে সাঈদের ‘মিসরিপ্রেজেন্টেশান’-এর অভিযোগকে ওরিয়েন্টালিজম হিসেবে মিথ্যে প্রমাণ করার জন্যে তো তা হলে বেনজিন খান-সম্পাদিত বর্তমান বইটিই যথেষ্ট।
এতো দেখি যা-তা অবস্থা অ্যাঁ

Atiq Rarri এর ছবি

আমার মনে হয়, কেউ কোন নতুন কথা বলেনা। নতুন ভাবে উপস্থাপন করে কেবল। সাঈদ ও এর ব্যতিক্রম না। জাত-পাত নিয়ে সংগ্রাম এক বহু প্রাচীন সংগ্রাম। অনেকেই এর বিপক্ষে কথা বলেছে। সবাইকে আমরা চিনিনা। কাওকে কাওকে চিনি। চিনি কারন তারা এমন ভাবে বা ঢং এ বলেছেন যা আমাদের কানে গেছে। যেমন, লালন বলেছে গানে গানে। এই কান পর্যন্ত পৌছাতে পারার ক্ষমতার কারনেই আমরা তাদেরকে মনে রাখি। বিশেষ নিয়ে কথা বলেও কোন কিছুর সাধারন চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা যায়। সাঈদ সেই কজটিই খুব ভাল ভাবে করেছেন।

মুসলমানদের সম্পর্কে পশ্চিমা মূল্যায়নের সাধারন ধরনটি যে শেষ অবধি পশ্চিমা মূল্যায়ন, সেটাই তিনি দেখানোর চেষ্টা করেছেন। সামগ্রিক মূল্যায়নের অনীহার কারন গুলো ব্যাখ্যা করেছেন সফল ভাবে। মধ্যপ্রাচ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগন যদি মুসলমান না হয়ে বৌ্দধ বা হিন্দু হতো,সাঈদ তার পরেও লিখতেন বলে আমার বিশ্বাস। মানবতা কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিৎ হতে পারেনা। ফলে মুসলমানরা যদি অন্যায়ের স্বী্কার হন তখনো সেটা অন্যায়ই থাকে। কোন ঐতিহাসিক কারনই এই অন্যায়কে বৈ্ধতা দিতে পারে না। মুসলমানরা,ইহুদিদেরকে মারলে যেমন অন্যায় হয়, অন্যারা মুসলয়ামান্দের মারলেও অন্যায়ই হয়।

কিন্তু এর জন্য সাঈদ কে মউদুদির চ্যালা বলা হলে বুঝতে হবে, তার উদ্দেশ্যও নতুন না। যে কারনে নিল আরমস্ট্রং মুসলমান হয়েছেন বলে মিথ্যা দাবি করা হয়, সেই একই কারনে এখন সাঈদকে মউদুদির চ্যালা বানানোর পায়তারা চলছে। এর পরে বলা হবে তিনি আসলে গোপনে ইসলাম গ্রহন করেছিলেন।

কিছু বলার নাই, শুধু বলতে ইচ্ছা করছে, কি মজা- আলু ছাড়াই আলু ভর্তা।

মাসকাওয়াথ আহসান এর ছবি

অনেক ধন্যবাদ একটি পরিশ্রমী কিন্তু জাজমেন্টাল লেখা ব্লগস্থ করার জন্য।
একাডেমিক লেখা আরো নৈর্ব্যক্তিক হবার দাবী রাখে। এর্ডোয়ার্ড বাবু এলিট পরিবারে জন্মানো কিংবা কার্ল মার্ক্স ট্রিয়ারের বড় লোকের ছেলে কীনা তা খবর নেবে জীবনীকার। কাজল বাবু এর্ডোয়ার্ড সাহেবের কট্টর মানসের ডিফেমেশন টি একাডেমিক শুগার কোটিং দিয়ে করেছেন। ভালো লাগেনি তার বিবেচনা।। আমি দেখেছি কাজল বাবুকে,পন্ডিত মানুষ,উনার লেখা সচলে পড়তে চাই। উনাকে আমন্ত্রণ।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখনি,নইলে কোন দিন নয়।

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

একসময় বিলাতফিরত মানেই তার জন্য চেয়ারমুছা চলত। সে বসবে। বিলাতফিরতরা সবজাগায় বসতে চায়। বলতে চায়। সাইদ তেনাদের মুখে টেপ মাইরা দিসেন। কিন্তু সাইদের টেপটা হালানাগাদ হয় নাই তার দেহান্তের পরে। কেউ করবেন আশা করি। কিন্তু উপনিবেশবাদী শিক্ষালয়ের চৌহদ্দিতে এই কাজ করা কঠিন। উপরন্তু সাইদ ডান-বাম উভয় দিক থেকে গালি খাওয়া লোক। কাজল স্যার আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার লিখা এইখানে পড়ে ভালো লাগল। সাইদকে নিয়া আলোচনা আরো হউক। সাইদকে নিয়া একটা লিখা লিখার ইচ্ছা রাখি। বিষয: বাংলাদেশের নব্যউপনিবেশবাদী ইন্টেলকচুয়াল ও তাদের দুর্দমনীয় জজবা। পুনশ্চ সাইদের 'অর্গানিক' হওয়ার বিষয়টা খুবই জরুরি প্রসঙ্গ। সম্পূর্ণত গ্রামশীয় অর্থে না হইলেও সাইদ অর্গানিকতা অর্জন করসিলেন। এবং গজদন্ত মিনার থেকে স্নাইপার দিয়ে গুলি না মেরে সরাসরি মাঠে নামসিলেন। প্রমাণ নিম্নোক্ত ছবি। ছবি কথা বলে।

auto


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

সাইফ তাহসিন এর ছবি

একটা জিনিস বুঝলাম না, আরেকজনের লেখা আপনে প্রকাশ করলেন কেন? সচলায়তন সবসময়ই অতিথিদের জন্যে উম্মুক্ত, যে ভদ্রলোকের লেখা দিলেন তিনি নিজেই পোস্ট করতে পারতেন। একজনের পোস্টে আরেকজনের লেখা দেখতে আমার ভালো লাগে না, অবশ্য সেটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভংগি। ভালো থাকবেন সবসময়
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

কাজী মামুন এর ছবি

এডওয়ার্ড সাঈদ সম্পর্কে জানি বিচ্ছিন্ন ভাবে।
লেখাটি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ দাদা!

=================================
"রঙিন কাফনে মোড়া উৎসুক চোখে
ছায়া ছায়া প্রতিবিম্ব দেখি
মানুষ দেখি না।।"

=================================
"রঙিন কাফনে মোড়া উৎসুক চোখে
ছায়া ছায়া প্রতিবিম্ব দেখি
মানুষ দেখি না।।"

স্বাধীন এর ছবি

লেখাটি পুরো পড়ে তারপর মন্তব্য করবো আবার। সাঈদ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী সব সময়। তবে উপরে সাইফ ভাইয়ের মত আমিও বলবো কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় কে অনুরোধ করুন অতিথি একাউন্ট হতে লেখাগুলো নিজের নামেই দিতে। তাহলে লেখা বিষয়ে সরাসরি লেখকের সাথে মন্তব্য/প্রতিমন্তব্য করা যাবে।

কুলদা রায় এর ছবি

কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পোস্ট দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী নন বলেই আমার মনে হয়েছে।
সাঈদ বিষয়ে বাংলাদেশে কি সব উল্টা পাল্টা লেখালেখি আছে সে সম্পর্কে এই লেখাটিতে বিস্তারিত আছে। আপনাদের কোনো মতামত থাকলে ওনাকে জানানো যেতে পারে।
...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

সচল জাহিদ এর ছবি

কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পোস্ট দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী নন বলেই আমার মনে হয়েছে।

যিনি নিজের পোষ্ট নিজে দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী নন তার লেখা আমি সচলায়তনে পড়তেও আগ্রহী নই সেটা যত তথ্যবহুলই হোকনা কেন।

আপনাকে ধন্যবাদ।আশা করি ব্যক্তিগত ভাবে কিছু নেবেননা, এটি আমার একান্ত নিজস্ব মতামত।

----------------------------------------------------------------------------
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।

সচল জাহিদ ব্লগস্পট


এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বিশ্ব পানি দিবসব্যক্তিগত ব্লগ। কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ অভ্র।

স্বাধীন এর ছবি

কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পোস্ট দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী নন বলেই আমার মনে হয়েছে।

উপরে জাহিদের মন্তব্যের সাথে সহমত। উনি যদি আগ্রহী না হোন সচলায়তনে লেখা দিতে তবে সচলায়তন কেন আগ্রহী হবে উনার লেখা ধারণ করতে?

আপনাদের কোনো মতামত থাকলে ওনাকে জানানো যেতে পারে।

এভাবে ভায়া হয়ে মন্তব্য/প্রতিমন্তব্যে আগ্রহী নই, যা আগের মন্তব্যেই উল্লেখ করেছি।

হিমু এর ছবি

কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় লেখাটা যখন লিখেছেন, তার মানে এটি তিনি মানুষকে পড়াতে চান। নিজের বালিশের নিচে রেখে দিতে চান না। যদি তিনি লেখাটি কোনো পত্রিকার জন্যে লিখে থাকেন, তাহলে সেই পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণের লিঙ্ক অন্যত্র শেয়ার করতে পারেন। আর যদি তিনি আন্তর্জালিক মাধ্যমের জন্যে লিখে থাকেন, তাহলে সচলায়তন তার জন্যে প্রশস্ত জায়গা। আমরা সাভিনিবেশে পড়বো যদি তিনি লেখেন। আর যদি তিনি বা আপনি মনে করেন, তিনি নিজে সচলে এসে কিছু লিখতে পারবেন না, তাহলে বিদায় জানাতে চাই। পাঠক হিসেবে এই স্নবারি সহ্য হয় না। সচলায়তন গাঙ্গের পানিতে ভেসে আসেনি তো, কিংবা ডুবতে ডুবতে কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের খড় আঁকড়েও ধরছে না।

অন্যের লেখা সচলায়তনে পোস্ট করার ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু। দ্দীণূদা এরকম শুরু করেছিলেন, মতলব ছিলো তার নিজের ভাঁড়ার ফুরোলে তিনি প্রতিদিন রাশিদা সুলতানার একটা করে গপ্পো পোস্ট মারবেন। আপনার তো আর সেই সঙ্কট নেই। কাজেই নিজেও লিখুন, কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পরিচয় করিয়ে দিন সচলায়তনের সাথে।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

অগত্যা এর ছবি

কাজল সাহেব যদি মন্তব্যের উত্তর দেবার জন্য নিজে থেকে এগিয়ে আসেন তাহলে মন্তব্য করাটা হয়ত তুলনামূলক ভাবে স্বস্তির হত। তারপরো সাইদকে নিয়ে কথা হচ্ছে তাই এই পোস্ট সম্পর্কে দু'কথা না বলে থাকা যাচ্ছে না। উপরে মাসকাওয়াথ সাহেবের মন্তব্যের সাথে সহমত জানাচ্ছি।

এক
লেখাটি ভিষন ভাবে একপেশে এবং কৌশলগত ভাবে বেশ অপরিনত। তিনি তার বায়াসটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রথমেই। এটা পড়া শুরু করলে সহজেই অনুমান করতে পারবেন তিনি একটা জাজমেন্ট ধরে নিয়ে তারপর সাইদের "বিশ্লেষন" করেছেন। তবে একথা স্পষ্টতই বলতে চাই যে সাইদ সম্পর্কে নির্মোহ লেখা পড়তে চাই একপেশে নয়। যিনি সাইদ সম্পর্কে জানেন তার কাছ থেকে যিনি সাইদকে নিজের আইডিওলজিকাল বায়াসের সাথে সামঞ্জস্যের গজফিতায় প্রতিমুহূর্তে মাপতে থাকবেন তার লেখাকে কিছুটা স্কেপ্টিসিজম নিয়েই পড়ব। এটাকে সেই ঘরানার বলেই মনে হচ্ছে।

দুই
কাজল সাহেবের বায়াসের কয়েকটি প্রমান হাজির না করলে হয়ত আমার মন্তব্যকেও জাজমেন্টাল মনে হতে পারে। পোস্ট শুরু হয়েছে সাইদের ব্যকগ্রাউন্ড নিয়ে। বলে রাখা ভাল সাইদকে নিয়ে এই বিশ্লেষন অনেকেই করেছেন, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উদ্দেশ্য ভিন্ন ছিল। আর এটা অনেক দার্শনিক সম্পর্কেই করা হয়েছে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মজার সব ফল পাওয়া গেছে। সবচেয়ে মজার বোধ হয় দেকার্তে সম্পর্কে -- পড়ুন "Cosmopolis The Hidden Agenda of Modernity" ... বিস্তারিতে গেলামনা। আধুনিকতার জনকদের অন্যতম এই দেকার্তে যদি এই পজিশনাল আইডেন্টিটির উপরে উঠতে না পারেন তাহলে সাইদের কাছ থেকে এটা আশা করার কারন কি? ফুকোর জীবন ঘেটে দেখুন তার সবচেয়ে বড় বড় উপলব্ধি তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে জোড়ালো ভাবে মটিভেটেড। এখন বায়াসের যায়গায় ফিরে আসি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চরিত্র ও পরিবেশ, ইত্যাদির মিলিত প্রভাবে সাঈদের যে-বিশিষ্ট মানসগড়ন এবং ব্যক্তিচরিত্র নির্মাণ হয়েছিল, তা কি তাঁর যাবতীয় বুদ্ধিবৃত্তিক সৃষ্টিকে রূপ দিতে যায়নি?

সে t সময়ে y স্থানে ছিল বলে s স্টেটমেন্ট দিয়েছে -- কাজেই s এই রকম ডিসকাউন্ট পাবার যোগ্য।

সে-সবকেই মনে হয়েছে একক অন্যায়। আরো ব্যাপক এবং সাধারণ (general) অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানের এলাকায় বিচরণ করা এবং উন্মোচিত হওয়ার উপযোগী কোনো জীবন ওরিয়েন্টালিজম রচনার পর্যায়ে এডওয়ার্ড সাঈদ যাপন করেননি

উলটা ঘরনার সমালোচনা হচ্ছে সে t সময়ে তো y তে ছিলনা তার তো s স্টেটমেন্ট দিতে পারার কথা নয়। কি করা? এটাকে বায়াস বলতেই হয়!! লেখক একটা দ্বিমুখি তলোয়ার নিয়ে বসেছেন। কিন্তু দ্বিমুখি তলোয়ার নিয়ে লড়াই করার সমস্যা এই যোদ্ধা নিজেই আহত হতে পারেন ঠিক মত না চালালে।

তিন
তিনি একাডেমিক পরিবেশে চিরদিন থেকেছেন কাজেই ......।
উপরে অনিন্দ্যরহমানের দেয়া ছবি হয়ত কিছুটা ডিফেন্স দিচ্ছে এই রকমের আক্রমনের বিপরীতে। আরেক যায়গায় তিনি সংকীর্ণ আক্রমনের প্রতিক্রিয়া হিসাবে সাইদকে মেপে ছেড়ে দিয়েছেন। কাজল সাহেব যদি আরেকটু নির্মোহ হতে পারতেন। তিনি একাডেমিক ছিলেন সত্যি। কিন্তু তিনি আর্গুমেন্ট দিয়ে লড়েছেন পরিসমালোচনা দিয়ে নয়। এখানে কাজল সাহেব যেটা করলেন। সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি সাইদের আর্গুমেন্টের সাথে এঙ্গেজড হননি হয়েছেন তার আর্গুমেন্টের উদ্দেশ্য কি ইত্যাদি বাকা প্রশ্নের সাথে। কে এতে লাভবান ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইত্যাদি নিয়ে পড়েছেন। সাধারনত যুক্তি দিয়ে মোকাবেলা করার মুরদ না থাকলে এই সব করা হয়। সমালোচনার এই স্টাইলটা একটু কান্নাকাটি টাইপের। যারা সাংকৃতিক আগ্রাসন বা হেজিমনিকে ডিফেন্ড করতে চান তারাই বিশ্বব্যাপী এই ধরনের সমালোচনা করেন পোস্টকলনিয়াল চিন্তার। হ্যা এখানে সাইদ একা নন আর একা হওয়াটা বা প্রথম বলাটা কোন যুক্তির গ্রহনযোগ্যতার মাপকাঠি নয়। কাজল সাহেবকে যদি সাইদকে নিয়ে আসলেই অর্থপূর্ণ কিছু বলতে হয় তাহলে তাকে শিগগীর পয়েন্টে আসার অনুরোধ করছি।
সাইদসহ পোস্টকলনিয়াল ধারনা ঝান্ডাধারিরা একটা অনুরোধ প্রায়ই করেন "সমালোচনা করুন আপত্তি নেই, কিন্তু যদি আমাদের যুক্তিগুলোর সাথে এঙ্গেজডা না হন তাহলে আমাদের প্রতি অবিচার করা হবে"। এটা একটু রিফ্রেস করা। কিন্তু আমি এধরনের কথা সাইদ, স্পিভাক দু'জনের লেখাতেই এমন অনুরোধ দেখেছি। আর তাদের সমালোচকদের সমালোচনার ধরন দেখে নিশ্চিত হয়েছি কেন এই অনুরোধ তারা এত ঘনঘন করেন।
সাইদকে নিয়ে নির্মোহ সমালোচনা করা শক্ত কিন্তু আমি এখনো আশাবাদি। এরপরো পরের পর্ব গুলো পড়ার আশা রাখি। ভাল হয় কাজল সাহেবের সরাসরি অংশগ্রহনের স্বাদ পেলে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

কুলদা রায়, এইটা তো দেখি আপনার অতি জটিল এবং পুরাতন রোগ। সচলে যখন লিখতে শুরু করেছিলেন, তখনও "কী জানি" পাবলিসিটি করার তালে ছিলেন। মডুরা তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ালে মডুদের সাথে তর্কও করেছিলেন যতোদূর মনে পড়ে। মডুরা আপনাকে এ ব্যাপারে সতর্কও করে দিয়েছিলো। কিন্তু আপনি মনে হচ্ছে মডুদের কথা কানে তোলার পাত্র নন।

আরেকজনের লেখা ফেরি করে সচলেই পসরা খুলে বসতে চাচ্ছেন কেনো? আপনার নিজের কোনো কিছু লেখার মুরোদ না থাকলে ক্ষান্ত দিন দয়াকরে।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

সাইফ তাহসিন এর ছবি

চলুক

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

চলুক

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

ভায়া হয়ে তর্কবিতর্ক করা সম্ভব নয়। আর সেইজন্য ইন্টারনেট না। আমারও মনে হয় অতিথি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই পোস্টটা আসা উচিৎ ছিল।

তবে কেউ যদি টেকনোলজিকালি অসমর্থ হয়, তাহলে তাকে সাহায্য করা যায়। কিন্তু সেক্ষেত্রেও সক পাপেটিংয়ের ঝামেলায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে। আমার মেশিন থেকে আমি অন্যের লেখা তার হয়ে অতিথি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পোস্ট দিলে সেবিষয়ে কী বিবেচনা হবে সেটা নীতিমালায় আসতে পারে।

এছাড়াও এই ধরণের পোস্টের ক্ষেত্রে মানে, নিজের অ্যাকউন্ট থেকে অন্যের লেখা পোস্ট দিলে কী বিবেচনা হবে সেটাও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিৎ।


কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পোস্ট দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী নন বলেই আমার মনে হয়েছে।

এখানে লেখা দিতে আগ্রহী না হলে, লেখা দেয়ার তো কোনো প্রয়োজন দেখছি না। পাঠকের প্রতি এতে একধরণের অবজ্ঞাই প্রকাশ পায় কেবল। সুতরাং অধ্যাপক কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে কুলদা রায়েরও এই লেখা দেয়ার প্রয়োজন ছিল না। কুলদা রায়ের নিজের লেখার বিষয়ও তো কম না বলেই জানি। এবং সেগুলো পাঠকপ্রিয়তাও পাচ্ছে।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

ধুসর গোধূলি এর ছবি

হে হে হে
সবই তো ঠিক ছিলো অনিন্দ্য ভাই, কিন্তু শেষে এসে মনে হলো মেম্বরের দেয়া এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের বোতলের মোটকা খুলে ফেললেন। খানিকটা সেই অলিভ অয়েলের গন্ধ পাচ্ছি কি-না! হো হো হো



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

অনিন্দ্য রহমান এর ছবি

দুঃখ পেলাম।


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক


রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের পূর্ণ বিকাশ ঘটুক

সৈয়দ নজরুল ইসলাম দেলগীর এর ছবি

কাজল বন্দোপাধ্যায় আগ্রহী না জানলাম, কিন্তু সচলায়তনে উনার লেখা প্রকাশের ব্যাপারটা কি তাঁর অনুমোদিত?
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

ধুসর গোধূলি এর ছবি

বেশ আগে সচল কিংকর্তব্যবিমূঢ়'এর হবু স্ত্রী কিংকুর সচল আইডি ব্যবহার করে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেই পোস্টের বিষয় নিয়ে কোনো আপত্তি না থাকলেও প্রায় সবাই-ই প্রোসেসটা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। সচল কিংকর্তব্যবিমূঢ় এতে সবার সামনে এর জন্য দুঃখও প্রকাশ করেছিলেন, যতোটুকু মনে পড়ে। মডুরা সেই পোস্ট প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন।

নিজের আইডি ব্যবহার করে আরেকজনের পোস্ট দেয়াকে নিরোৎসাহিত করতে মডুদেরকে অনুরোধ করবো কুলদা রায়ের এই পোস্টটাও প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দিতে।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

নিজের আইডি ব্যবহার করে আরেকজনের পোস্ট দেয়াকে নিরোৎসাহিত করতে মডুদেরকে অনুরোধ করবো কুলদা রায়ের এই পোস্টটাও প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দিতে।
আমার মনে হয় প্রথম পাতাতে থাকলেই লোকে জানবে যে অন্যের লেখা পোস্ট করা অনুচিত। তবে লেখা প্রকাশের আগেই এরকম লেখা না প্রকাশের ব্যবস্থা নিলে অহেতুক বিতর্ক এড়ানো যাবে।

রানা মেহের এর ছবি

অনিন্দ্য রহমানের সুন্দর করে বুঝিয়ে বলেছেন।
তার মতে সহমত জানাচ্ছি।

কুলদা রায়
আপনি নিজেই অনেক ভালো লেখেন।
আপনার লেখা আগ্রহ নিয়ে পড়ি।
আর কারো লেখার বাহক না হয়ে নিজেই লিখুন। ভালো লাগবে।
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

সবজান্তা এর ছবি

কুলদা রায় অসাধারণ লিখেন, এতে আশা করি খুব কম ব্যক্তিই দ্বিমত পোষণ করবেন। তাই অন্যের কোন লেখা নয়, কুলদা রায়কে নিজের লেখা নিয়েই সচলায়তনে দেখতে চাই।


অলমিতি বিস্তারেণ

ধুসর গোধূলি এর ছবি
সবজান্তা এর ছবি

কুলদা রায় প্রসঙ্গে কেন সুমন রহমানের নাম উঠলো, তা আমার বোধগম্য না।

কুলদা রায়ের ব্যাপারে যদি আপনার কোন ব্যক্তিগত খেদ থাকে, তাহলে অবশ্য ভিন্ন কথা।


অলমিতি বিস্তারেণ

ধুসর গোধূলি এর ছবি

দ্দীণূর নাম উঠলো আপনার 'অসাধারণ' বলার কারণে। আমার মন তো কাক্কেশ্বর কুচকুচে, কী করুম কন!

আর কুলদা রায়ের সাথে বুঝলাম আমার জমির আল নিয়ে একটা ঝামেলা চলতাছে দেওয়ানী আদালতে। তা দ্দীণূর সাথেও আমার ব্যক্তিগত খেদ আছে? এই ধরেন খাল, পুষ্করিনি- এগুলা নিয়া!



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

সবজান্তা এর ছবি

এই মুহূর্তে আমি অন্তত তিনজন সচলের নাম মনে করতে পারি যাদের অনেক লেখাতেই আমার মন্তব্যে আমি লেখাটার "অসাধারণ" হওয়ার কথা বলি- হিমু, তাসনীম এবং ওডিন।

আশা করবো আপনি তাঁদের সেই পোস্টগুলিতে যেয়েও তাঁদের সুমন রহমান বলে দাবি করে আসবেন।


অলমিতি বিস্তারেণ

ধুসর গোধূলি এর ছবি

সেক্ষেত্রে আপনার 'আশা'র প্রতি আমার সমবেদনা ছাড়া প্রকাশের আর কিছুই নাই। কারণ হিমু, তাসনীম এবং ওডিন এঁরা কেউই দ্দীণূ কোয়ালিটির লেখা লিখেন না অথবা দ্দীণূর চরিত্রের প্রতিফলন ঘটান না। কিন্তু কুলদা রায় ঘটান। ঘটিয়েই যাচ্ছেন, সেই শুরু থেকেই। আপনার চোখে দ্দীণূর সেই কার্যকলাপের পরেও যেমন তাকে 'অসাধারণ' লেগেছে কুলদা রায়কেও লাগবে, স্বাভাবিক।

হিমুর মন্তব্য থেকেই কোট করি আপনার জন্য- তাহলে হয়তো আপনার সুবিধা হবে পরবর্তী মন্তব্য করতে

হিমু লিখেছেন:
অন্যের লেখা সচলায়তনে পোস্ট করার ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু। দ্দীণূদা এরকম শুরু করেছিলেন,



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

সবজান্তা এর ছবি

কারণ হিমু, তাসনীম এবং ওডিন এঁরা কেউই দ্দীণূ কোয়ালিটির লেখা লিখেন না অথবা দ্দীণূর চরিত্রের প্রতিফলন ঘটান না।

সুমন রহমানের কোয়ালিটির লেখাটা কি সেই ব্যাপারে আমার কোন আইডিয়া নাই, আপনিই বোধহয় ভালো বলতে পারবেন। কুলদা রায়ের সাথেও সুমন রহমানের চারিত্রিক সাযুজ্য বের করতে আমি পারলাম না।

আপনি অনেকক্ষণ ধরেই বলে আসছেন, কুলদা রায় শুরু থেকেই অনেক ঝামেলা করে আসছেন- আমি অবশ্য উনি ঠিক কী ধরনের ঝামেলা তিনি করেছেন তার ব্যাপারে কিছুই জানি না। আর তিনি এতো ঝামেলাবাজ লোক হলেও সচলায়তন কতৃপক্ষ কেন এখনো তাঁর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেন নি, তাও আমার কাছে পরিষ্কার না।

হিমু ভাইয়ের মন্তব্যের একটা অংশ কোট করেছেন- যদি সাযুজ্য বলতে সে বিষয়টাকেই বুঝেন, তবে আমার দুটি কথা বলার আছে। এক- অন্যের লেখা সচলায়তনে প্রকাশ করার ঘটনা এর বাইরেও একটি আছে, যাতে আপনার কোন প্রতিবাদি মন্তব্য দেখেছি বলে মনে পড়ে না। লেখাটি ছিলো সবুজ বাঘের ব্লগে- তিনি দিলীপ দেবনাথের শব্দচিন্তা চমৎকারা লেখাটি তাঁর (সবুজ বাঘের) অ্যাকাউন্ট দিয়েই প্রকাশ করেছিলেন। মনে পড়ছে না যে আপনি তাঁকে সুমন রহমান বলেছিলেন কিনা। আর দ্বিতীয় কথাটি হচ্ছে যে, অন্যের লেখা নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ না করতেই কিন্তু সবাই অনুরোধ করছেন মন্তব্যের ঘরে। এরকম একটা ভুলে অন্তত একবার ছাড় পাওয়ার অধিকার আশা করি সবারই আছে।

পূর্বের নানা রকম তিক্ত অভিজ্ঞতায় আজকাল সচলায়তনের কোন রকমের বিতর্ক থেকেই নিজেকে দূরে রাখতে চেষ্টা করি। এরকম একটা নির্দোষ একটা মন্তব্যের থেকেও যে কেউ ইস্যু বের করে ঝগড়া করতে পারে, সেটা আমার চিন্তার অতীত। ভালো, অনেক কিছুই শিখছি।
-----------------------------------------------------------------------
সচলায়তনের মডারেটরদের কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমার উদ্দেশ্যে ধূসর গোধুলীর করা উপরের এই মন্তব্যগুলি কি ব্যক্তি আক্রমণ না ?

আপনার চোখে দ্দীণূর সেই কার্যকলাপের পরেও যেমন তাকে 'অসাধারণ' লেগেছে কুলদা রায়কেও লাগবে, স্বাভাবিক।

এই অংশটুকু কি আমাকে হেয় করে লেখা না ?

আমি আপনাদের উত্তরের অপেক্ষায় থাকলাম।


অলমিতি বিস্তারেণ

ধুসর গোধূলি এর ছবি

এক- অন্যের লেখা সচলায়তনে প্রকাশ করার ঘটনা এর বাইরেও একটি আছে, যাতে আপনার কোন প্রতিবাদি মন্তব্য দেখেছি বলে মনে পড়ে না।
আমি ঐটার প্রতিবাদ করি নি বলে এটারও করতে পারবো না, এমনটা ভাবছেন কেনো? বরং আপনি উদাহরণ দিতে হলে এমনটা দিবেন আমার ব্যাপারে, যে "অমুকের বেলায় তো পক্ষ নিয়েছেন, সমর্থন করেছেন এখন উল্টো কথা বলছেন কেনো"!

যদি আমার ক্ষেত্রে তেমন কোনো উদাহরণ দেখাতে না পারেন তাহলে অন্তত এইসব "ঐখানে বললেন না, এখানে কেনো বলছেন" টাইপের অভিযোগ করবেন না দয়াকরে।

এরকম একটা ভুলে অন্তত একবার ছাড় পাওয়ার অধিকার আশা করি সবারই আছে।
একটা ভুল? তার মানে আপনি কুলদা রায়ের লেখা না পড়েই 'অসাধারণ' আখ্যা দিয়ে গেছেন। সেটা কী উদ্দেশ্যে দিয়েছেন আপনিই জানেন। কুলদা রায় আগেও এই কাজ করেছেন। প্রমাণ হিসেবে তো বললামই মডুদের সাথে তর্কের কথা। এর পরেও আপনি মন্তব্যে বলেছেন,
আপনি অনেকক্ষণ ধরেই বলে আসছেন, কুলদা রায় শুরু থেকেই অনেক ঝামেলা করে আসছেন- আমি অবশ্য উনি ঠিক কী ধরনের ঝামেলা তিনি করেছেন তার ব্যাপারে কিছুই জানি না।
ঝামেলা'র কথা কোথায় বললাম? আমার বক্তব্যকে টুইস্ট করে অন্যখাতে প্রবাহিত করার জন্য কি আপনার বিরুদ্ধেও মডারেশনের কাছে আবেদন জানাবো?

অনেক কিছু মনে পড়ে সবজান্তা, অনেক কিছুই। উপরে ব্যানারের মানুষটাকে দেখেছেন? দ্দীণূকে 'অসাধারণ' বললে আমার হয়তো তেমন কিছুই মনে হতো না, মনে হতো না কুলদা রায়ের লেখাকেও 'অসাধারণ' বললে। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেলো আজকের দিনটায়। আজকেই আপনি এসে দ্দীণূর মতো অন্যের লেখা নিজের একাউন্টে সচলে প্রকাশ করা একজনকে 'অসাধারণ' লেখনির ট্যাগ দিয়ে ফেললেন।

আর মন্তব্যটাকে সামনে টেনে নিয়ে গেলেন আপনিই। এখন আপনিই আবার মডারেশনকে ডাকছেন আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিআক্রমনের অভিযোগে। আপনার ব্যাপারে ভুল কিছু বলে থাকলে জানিয়েন শুধরে দিবো। কিন্তু দ্দীণূকে 'অসাধারণ' বলাটাই একটা ভয়ঙ্কর ব্যক্তি আক্রমন, এটা জেনে রাখবেন প্রিয় সবজান্তা।

আর ব্যক্তি আক্রমন কোনটাকে বলছেন? আপনি দ্দীণূকে 'অসাধারণ', 'প্রতিভাবান' বলেন নি বলতে চান? এগুলো আমি আপনার নামে বানিয়ে বানিয়ে বলছি? যে কথা আপনি বলেছেন, সেগুলো আমি উল্লেখ করলে, তাও আপনার নামেই, 'ব্যাক্তি আক্রমন' হবে কেনো?



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

সবজান্তা এর ছবি

অনেক কিছু মনে পড়ে সবজান্তা, অনেক কিছুই। উপরে ব্যানারের মানুষটাকে দেখেছেন? দ্দীণূকে 'অসাধারণ' বললে আমার হয়তো তেমন কিছুই মনে হতো না, মনে হতো না কুলদা রায়ের লেখাকেও 'অসাধারণ' বললে। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেলো আজকের দিনটায়। আজকেই আপনি এসে দ্দীণূর মতো অন্যের লেখা নিজের একাউন্টে সচলে প্রকাশ করা একজনকে 'অসাধারণ' লেখনির ট্যাগ দিয়ে ফেললেন।

আপনার আপত্তিটা ঠিক কোথায়? 'আমি' 'অসাধারণ' বলাতে ?

আমি কার লেখাকে অসাধারণ বলবো, সেটা কি আমার ঠিক করার কথা, নাকি আপনার, নাকি সচলায়তনের কতৃপক্ষের ?

আর জুবায়ের ভাইয়ের এই প্রয়াণের দিনে সুমন রহমানের নামটা প্রথম কে টেনে আনলো তাও একটু স্ক্রল করে দেখে আসতে পারেন। আর সুমন রহমানের মতো অন্যের লেখা নিজের অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা, কারো লেখা যদি অসাধারণ বলা গর্হিত হয়, তবে কি সবুজ বাঘের লেখাকেও অসাধারণ বলা যাবে না ?

বক্তব্য টুইস্টের অভিযোগ মনে হয় আমিও আনতে পারি- সুমন রহমানকে আমি কখনোই অসাধারণ বলিনি, বলেছি তার লেখা গল্প এবং কবিতা আমার ভালো লেগেছে। সুমন রহমানের লেখা ভালো লাগা কীভাবে আপনার প্রতি ব্যক্তি আক্রমণ, সেটাও আমার বোধগম্য না।

তবে আমার প্রধান প্রশ্ন- এর মধ্যে কীভাবে সুমন রহমানের নাম আনলেন? আমার এই অতিসাধারণ ওই লাইনের মধ্যে কোথায় সুমন রহমান লুকিয়ে আছেন, এই প্রশ্নের উত্তরটা জানা দরকার।

আবারো বলি, কুলদা রায়ের অনেক লেখাই আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে, তাই বলেছি। এর মধ্যে অন্য অর্থ খুঁজতে চাওয়ার মানসিকতাই আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হলো না।

যাই হোক, এই ধরনের কুতর্কে আর কিছু বলার রুচি নেই।


অলমিতি বিস্তারেণ

দ্রোহী এর ছবি

সবজান্তা ও ধুগোকে অনুরোধ করছি। এই মন্তব্য চেইনে আমার এই মন্তব্যটাই শেষ মন্তব্য হোক।

প্লিজ।


কাকস্য পরিবেদনা

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

শেষ হোক, এখানেই। ধন্যবাদ সবাইকে।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

'আপনি' 'অসাধারণ' বলবেন নাকি খুবই সাধারণ বলবেন সেটাতে আমার আপত্তি থাকবে কেনো? আমি কেবল মনে করায়ে দিলাম, দ্দীণূকেও অসাধারণ, প্রতিভাবান বলেছিলেন। আর আপনি কিনা খুঁজে বের করলেন কুলদা রায়ের সঙ্গে আমার "ব্যক্তিগত খেদ"!

সবুজ বাঘ, কুলদা রায় কারো লেখাকেই অসাধারণ বলাতে কোনো সমস্যা নাই। যেমন সমস্যা নাই কেউ যদি কারো পুরানো কথা মনে করায়ে দেয়। সমস্যা হইলো সেইটারে টাইন্যা একটা পর্যায়ে নিয়া গিয়া মডারেশনের কাছে বিচার দেয়া।

আপনি কার লেখাকে কী বলবেন সেইটা যেমন আপনার এখতিয়ার, তেমনি আমি কোথায় কী বলবো, সেইটাও আমার এখতিয়ার। ওকে?

কুতর্ক আর ব্যক্তি আক্রমনের সংজ্ঞা যদি পারসন টু পারসন ভ্যারি করে তাইলে সমস্যা না?



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

দ্রোহী এর ছবি

অনেকদিন পরে একটা অনুরোধ করলাম। রাখবেন না অনুরোধটা?


কাকস্য পরিবেদনা

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

পড়তে এসে চক্করে পড়ে গেলাম। লেখা হয়ছে একজনকে নিয়ে, লিখেছেন একজন, আর সেই লেখা পোস্ট করেছেন অন্য আরেকজন। ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ব্যাপক অবস্থা, ঠিকই কইছেন, এখন চোখ চক্কর কাটতেছে আমার

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

দ্রোহী এর ছবি

সাঈদ, ফুকো, দেরীদা এই তিনটা নাম পড়েই দ্দীণূদার কথা মনে পড়ে গ্যালো। হো হো হো


কাকস্য পরিবেদনা

দ্রোহী এর ছবি

আপনার "অপছন্দে" লাইক টিবি দিলাম।


কাকস্য পরিবেদনা

ধুসর গোধূলি এর ছবি
দ্রোহী এর ছবি

আমি তো আক্রমণই করলাম কিন্তু আপনের খালি "মনে হইলো" কেন?


কাকস্য পরিবেদনা

সাইফ তাহসিন এর ছবি

সবই তো বুঝলাম, মাগার, দ্রোহীদা যে এখনো হাগা বা পাদের গন্ধ পাইলেন না, এতেই অবাক হইতেছি, আমি তো দ্দীনুর লেখার কথা মনে পড়লেই ব্যাপক বেগে হাগা পায়, আর তারপর ...
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

কুলদা রায় এর ছবি

এই আলোচনাটা আমার বেশ ভাল লাগছে। অধম একটি আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। আপনি উত্তম তাই বলিয়া আমি অধম হইব না কেন?

১) কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় লেখাটি আমাকে পড়তে দিয়েছিলেন। কোথাও প্রকাশের উদ্দেশ্য দেন নাই। কিন্তু আমার স্বভাবটি হল--কোথাও কোনো ভাল জিনিস পেলে একা খেতে ইচ্ছে করে না। সবাইকে ভাগ করে দিতে ইচ্ছে করে। এটা আমার ঠাকুরদার কাছ থেকে পেয়েছি। কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও আমার ভেতরে আমার প্রয়াত ঠাকুরদা সচল হয়ে উঠেছেন।

২) শুভাশীস দাশের একটি নোটে সাঈদ, দেরীদা, ফুকো, লাকাদের বিষয়ে লেখা প্রকাশের একটি তাগিদ দেখলাম সেদিন। আমার ধারণা আমাদের দেশের একশ্রেণীর মতলববাজগণ এঁদেরকে তাদের মতো উপস্থাপন করেন। ফলে এদের মণীষা বিষয়ে আমার ভ্রান্তি কাজ করে। সে বিষয়টার কারণে আমার একটা ইচ্ছে থাকে এই ভ্রান্তির বিদ্বেষ বিষের পরিবর্তে অমৃতের খোঁজ করা। কাজল বন্দ্যোপাধায়ের লেখাটাও সে ঘটনারই অংশ।

৩) এই লেখা প্রকাশের দায় আমার। কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়। সুতরাং তাঁর লেখা অপ্রকাশের যে কথা বলেছি তার জন্য আমাকে অভিযুক্ত করেছেন কেউ কেউ সে ব্যাপারে আমি আপত্তি করি নি। কিন্তু কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিযুক্ত করা যৌক্তিক নয় বলেই মনে হয়। তাকে এ আলোচনা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করছি।

৪) লেখাটি যে অন্যের--অন্যের লেখা প্রকাশের বিষয়ে যে সচলের কিছু নিয়মকানুন আছে সেটা আমি জ্ঞাত। সে কারণেই লেখার শুরুতে একটি ভুমিকথা দিয়ে বলেছিলাম, 'সচলায়তন কর্তৃপক্ষ যদি অনুমোদন করেন তাহলে আলোচনাটি কয়েকটি পর্বে দেওয়ার ইচ্ছে রইল'।
সচলে তো আমার লেখা সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশিত হয় না। মডুদের অনুমোদনের পরেই সেটা প্রকাশিত হয়। এবং আমি ভূমিকথায় সে ধরনের অনুমোদন যাচনা করেছি। আমার ধারণা মডুবৃন্দ অনুমোদন দিয়ে লেখাটি প্রকাশ করেছেন। এক্ষেত্রে আমার সমস্যা কোথায়? লেখাটি প্রকাশ না হলে তো আমি মাইণ্ড করতাম না।

৫) ধুসর গোধূলীর সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত ক্যাঁচাল আছে বলে তো মনে হয় না। আমি একজন লেখকের লেখা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন তুলেছিলাম। সেগুলোকে কারো কারো কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছে। মডুবৃন্দও সেটাকে আপত্তিকর মনে করেছিলেন। আমি ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম। একটি অভিযোগকে তারা তুলে নিয়েছিলেন। আরেকটি অভিযোগের বিষয়ে লেখক একই অপরাধে অপরাধী। আমাকে অভিযুক্ত করে তাকে রেহাই দেওয়াটা সমদর্শী মনে হয় নি। সেটা নিয়ে কথা বলাটা অন্যায় কোথায়?
সচলেও যদি বড়ভাই--ছোট ভাই থাকে তাহলে তো বিপদ।

৬) আমি কোন কালে লেখার বিজ্ঞাপন দিলাম ভাই ধুসর গোধূলী? বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। স্মরণ শক্তি কমে যাচ্ছে।

৭) আমি নতুন লেখক। লেখার নিয়ম কানুন জানি না। শিখছি। কদিন আগে একজন লেখিকা আমাকে মেইল করে জানালেন--আমি স্কুলপাঠ্য লেখার বাইরে যেতে পারি নি। এই সামর্থ্য নিয়ে লেখালেখির দরজায় আসার সাহস হল কি করে! উনি ঠিকই বলেছেন। আমার বিদ্যার দৌড়তো অই পর্যন্ত। কি করা যাবে। এই ভয়ে কোনো কোনো পত্রপত্রিকায় যাই না। লিখে যে কিছু ফলাতে হবে--সে আকাঙ্ক্ষাও নাই। তার মধ্যে আবার সময় নাই। অসাধারণ হতে গেলে অই লেখিকার পরামর্শ অনুসারে কিছু তেল নিয়ে বিডি আর্টস নিউজের দোরে যেতে হবে, প্রথম আলোতে যেতে হবে।
পরামর্শটি অপাত্রে দিয়েছেন।
এই তেল এবং বিজ্ঞাপন ধর্মে আমার মতি নেই। ধুসর গোধূলী ভাই সে ধর্মের কিঞ্ছিৎ উৎপাত আমার মধ্যে সনাক্ত করেছেন। সেজন্য আমি কৃতজ্ঞ। শেষ কালেও যে অমানুষই থেকে যেতে হয়--সেটা ভেবে কষ্ট পাচ্ছি।
...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

হাসিব এর ছবি

ঠিকাছে।
________________________________________________
নীড়পাতা.কম ব্লগকুঠি

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আপনার ব্যাখ্যা দেখে কিছু প্রশ্ন মাথায় আসল, একটা একটা করে বলি।
১। আপনে তাহলে বিনা অনুমতিতে লেখাটি প্রকাশ করেছেন, এটাকে যেন কি বলে? আর সেটা যদি আপনার কাছে ঠিক মনে হয়, তাহলে আমার পরবর্তী প্রশ্ন হল, প্রায় একমাস আগে একটা ২৬ মিনিটের একটা ভিডিও দেখলাম আমাদের এক বিখ্যাত অভিনেত্রীর, আমার কিন্তু দারুণ লেগেছে, আপনার দেয়া যুক্তি অনুযায়ী তাহলে সেটা আমার এখানে শেয়ার করা উচিত। কি বলেন, নাকি আপনার ঠাকুরদাকে জিজ্ঞেস কর নিবেন? অথচ তখন দেখা যাবে, আপনেই সবার প্রথমে এসে আপত্তি জানিয়ে যাবেন।

২। কারো নামের বানান ভুল করাটা আমার কাছে ব্যাপক মাত্রায় আপত্তিকর, জানি এখুনি বলবেন, মাসকাওয়াথ ভাই আপনার নামের বানান ভুল লিখেছেন, আমি কেন আপত্তি জানাইনি, তাই উত্তরটা আমি আগেই দিয়ে যাই। আমি কাজের চাপের জন্যে সচলায়তনে আসতে পারিনি, গতকাল এসে দেখলাম, ঐ পোস্টে মন্তব দেবার সুযোগ রহিত করা হয়েছে, এবং সেখানে আরো দেখলাম, আপনে নাম ভুল করা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন, অথচ তার পরের পোস্ট নিজের শুভাশীষদার নামের বানান ভুল লিখছেন।

৩। দায় আপনাদের ২ জনেরই, এখন অব্যহতি চাইছেন কেন? আপনে পোস্ট করেছেন আর প্রকৃত লেখক সমালোচনা করেছেন। সমালোচক প্রতিসমালোচনা নিবেন না, এটা যেন, ঢিল মারব কিন্তু পাটকেল আসলে বাংকারে লুকাবো।

৪। মডুদাদা আপনার লেখাটা আটকে দিলে আপনে কিভাবে জানতেন যে অন্যের লেখা পোস্ট করা অপছন্দনীয়? কাজেই সবকিছুর দায় মডুদাদার ঘাড়ে সব দায় চাপানোর এই প্রচেষ্টা খুব বিরক্তিকর লাগল। আর ৭ নাম্বারে আবার বলছেন, নিয়ম জানেন না, অথচ ৪ নাম্বারে বলেছেন আপনে নিয়ম জানেন, কেমন যেন পরষ্পরবিরোধী কথা। আমি আবার ভ্রান্ত-ধারমার বশবর্তী হয়ে নানান কথা বলি, তাই আশাকরি আমি সেই ভ্রান্ত-ধারমার স্বীকার, বাস্তবে এমন কিছুই ঘটেনি।

ভালো থাকবেন সবসময়।
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

কুলদা রায় এর ছবি

ধন্যবাদ তাহসিন।
১) উনি লেখাটা প্রকাশের জন্য আমাকে তো অনুমতি দিয়েই রেখেছেন। এই বিষয়ে বাগ বিস্তার আগে করি নি।
২) আমার নামের নামের ভুলের ব্যাপারে আমি তো আপত্তি করি নি। যে ভুলটি মাসকাওয়াথ আহসানের আছে--সেই একই ভুলটির জন্য আমাকে অভিযুক্ত করার জন্যই বিষয়টি তুলেছিলাম। মডু কর্তৃক ওনাকে কিন্তু এখনো অভিযুক্ত করা হয় নি। সেটা করাই কিন্তু সঠিক হত। এটাকে মডুদের সমদর্শিতার অভাব বলে অভিযুক্ত করেছি। আপনি ওখানকার মন্তব্যটি ভাল করে পড়ুন।
৩) নং বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই। এত খুঁত খুঁতে হওয়ার কারণটি আমার বোধগম্যের বাইরে।
৪) ৭ নং আমি বলেছি আমার নিজের লেখালেখি বিষয়ে। সচলের বিষয়ে ৪ নংই বলেছি। ৪নং কে ৭ নং এ টেনে আনার মধ্যে সততা নাই।

কথা বলা দেখছি বেশ বিপদজনক।
...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

...............................................................................................
'এই পথ হ্রস্ব মনে হয় যদিও সুদূর'

সাইফ তাহসিন এর ছবি

ভাইরে, একই কথা বার বার না বলে নিজের ভুলটা স্বীকার করলেই পারেন, নিজের ভুল স্বীকার করতে কি এতই কষ্ট লাগে? মাসকাওয়াথ ভাইকে বিকৃত নামে আপনেই প্রথম ডেকেছিলেন, কি ঠিক বললাম? এখানেও শুভাশীষদার নামের বানান ভুল লিখেছেন, নাকি আমার দেখার ভুল। তাই যদি করে থাকেন, তাহলে এত বড় উত্তর না দিয়ে বলতে পারতেন, টাইপো অথবা ভবিষ্যতে আরো যত্নবান হবেন, তা না করে আপনে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন, অন্যের ভুলের জন্যে আপনার ভুলটা জায়েজ হয়ে যায় না।

আর, কথা বলাটাতো একটু বিপদজনকই, ব্লগ তো আর পত্রিকা নয়, একপক্ষ থেকে বলে যাবেন, কেউ জবাব দিতে পারবে না।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

অন্যের লেখা নিজের একাউন্ট থেকে পোস্ট করাটা সচলায়তনে নিরুৎসাহিত করা হয়।

যে কেনো লেখা প্রকাশ করার সময় বানান এবং ফরম্যাটিং এর দিকে একটু মনোযোগী হতে অনুরোধ করি।

-----------------------------------------------------------
অভ্র আমার ওংকার

সাইফ তাহসিন এর ছবি

আর হ্যাঁ, বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, আপনার পরের যুক্তিগুলো পড়ে ১ ভোটটা আমিই দিয়েছি, ৫ এর নিচে তারা আমি দিতে পারি না, আপনে সেই গুটিকয়েক মানুষের একজন যিনি আমার কাছে থেকে ১ ভোট পেতে সমর্থ হয়েছেন

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

রানা মেহের এর ছবি

সবজান্তাকে বলা ধুসর গোধূলির কথা খুব আপত্তিকর মনে হলো।
অবাক হয়েছি এরকম কথার কোন প্রতিবাদ আসলোনা দেখে।

কুলদা রায়ের কিছু লেখা আমার অসাধারণ লেগেছে।
একথা জানাতে আমি বিন্দু মাত্র কুন্ঠিত নই।
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

স্নিগ্ধা এর ছবি

সবজান্তাকে বলা ধুসর গোধূলির কথা খুব আপত্তিকর মনে হলো।
অবাক হয়েছি এরকম কথার কোন প্রতিবাদ আসলোনা দেখে।

রানা, আপনিই প্রথম প্রতিবাদ জানালেন, সেজন্য ধন্যবাদ। কাপুরুষের মতো গা বাঁচিয়ে চলছিলাম বহুদিন। আপনার প্রতিবাদ দেখে বুঝতে পারলাম সেটা অনুচিত। এই সচলের এরকম আপত্তিকর কথার পরিমাণ ইদানিং বেশ ভালোই বেড়েছে দেখলাম। কিছুদিন আগে সচলায়তন মডারেটরদের তরফ থেকে এনাকে 'ব্যক্তিগত আক্রমণ' করার কারণে তিনদিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিলো। কারণ কী দর্শানো হয়েছিলো জানি না, তবে এরপর 'আবীর' নামের একজন অতিথিকে চটকানা মারার কথাও সচলে ছাপার অক্ষরে দেখলাম - যদিও কিছুক্ষণ পর দেখি সেই মন্তব্য আর নেই - আর আজকে আবারও এই অহেতুক, রূঢ় এবং বেপরোয়া আচরণ! মাঝে মাঝেই শুনি সচলায়তন এই বিষয়টিকে বা অমুক ব্যক্তিকে ধারণ করতে সক্ষম নয় - কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সচলায়তনের ধারণক্ষমতা বিস্ময়কর!

কূলদা রায়ের বেশ কিছু ব্যাপার আমাকে বিরক্ত করে। উনি নিজেও অন্যান্যদের প্রতি যে খুব সম্মানজনক বা পরিণত আচরণ করেন সবসময়, মোটেই তা নয়। সত্যি বলতে এসব কারণে কূলদা রায়ের লেখায় ইদানিং মন্তব্য করতে নিরুৎসাহিত বোধ করি। কিন্তু, ওনার কিছু লেখা আমারও অসাধারণ লাগে!

বহুদিন ধরে এ ধরনের ক্যাচাল থেকে গা বাঁচিয়ে চলে বুঝলাম, সেটা কোনই সমাধান নয়। তাতে স্বার্থপরের মত নিজে সহসচলদের কাছ থেকে গালি খাওয়া ঠেকানো যায় ঠিকই, কিন্তু একইসাথে সচলের প্রতি আগ্রহও কমে যায়।

সাইফ তাহসিনের মন্তব্যের ভাষাও বেশ বিরক্তিকর। আমি নিশ্চিত আমার মন্তব্যের ভাষাও অনেকের কাছেই বিরক্তিকর, কিন্তু আমি সর্বতোভাবে চেষ্টা করি অন্যের সম্মান বজায় রেখে মন্তব্য করতে, অন্তত এটুকু বলতে পারি।

সচলায়তনের পরিবেশ আরও সহনশীল এবং বন্ধতুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক, এটাই কামনা।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

কাপুরুষের মতো গা বাঁচিয়ে চলছিলাম বহুদিন। আপনার প্রতিবাদ দেখে বুঝতে পারলাম সেটা অনুচিত।
ভুল তথ্য। আপনি মোটেও গা বাঁচিয়ে চলেন নাই। মুর্শেদের দ্দীণূর রিভিউ নিয়ে করা পোস্টে আপনার সরব উপস্থিতি বিদ্যমান, যেমন বিদ্যমান অনিকেত'দার "আমাদের ব্লগীয় সংস্কৃতি"তে।

এই সচলের এরকম আপত্তিকর কথার পরিমাণ ইদানিং বেশ ভালোই বেড়েছে দেখলাম।
আচ্ছা, তাই? কিন্তু এখানেও যে আপনার তথ্যে ভুল আছে। আমার কথাকে "আপত্তিকর" হিসেবে যদি মনেই করেন তাহলে সবিনয়ে বলি, 'ইদানিং' না, এটা শুরু থেকেই 'বেড়ে' আছে। এমনকি সচলের জন্মেরও আগে থেকে। শুধুমাত্র প্রয়োগটা হয় ক্ষেত্র বিশেষে, ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙলে।

কিছুদিন আগে সচলায়তন মডারেটরদের তরফ থেকে এনাকে 'ব্যক্তিগত আক্রমণ' করার কারণে তিনদিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিলো।
এখানে আপনাকে একটা প্রশ্ন করি। আপনি কি সচলের মডারেশনের সাথে যুক্ত? উত্তর যদি না-বোধক হয় তাহলে আবারও সবিনয়ে বলি, "দিস ইজ নান অফ ইউর বিজনেস। থ্যাংক ইউ।" আশাকরি, অধিকার এবং অনধিকার চর্চার মধ্যকার পার্থক্যটা মনে রাখবেন।

কারণ কী দর্শানো হয়েছিলো জানি না, তবে এরপর 'আবীর' নামের একজন অতিথিকে চটকানা মারার কথাও সচলে ছাপার অক্ষরে দেখলাম - যদিও কিছুক্ষণ পর দেখি সেই মন্তব্য আর নেই
আমার করা সেই মন্তব্যের আরও দুইটা লাইন ছিলো আগে-পিছে। একটা পটভূমিও ছিলো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেগুলো সব ছেড়ে দিয়ে কেবল "আবীর" আর "চটকানা"টাই আপনার চোখে পড়লো!

আর আজকে আবারও এই অহেতুক, রূঢ় এবং বেপরোয়া আচরণ!
আবারও ভুল অবজার্ভেশন। কোন বাক্যটা 'রূঢ়', 'বেপরোয়া' এবং 'অহেতুক' মনে হয়েছে যেটা আমি কেবল 'একপাক্ষিক' বলে গেছি সেটা উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা দাবি করছি।

মাঝে মাঝেই শুনি সচলায়তন এই বিষয়টিকে বা অমুক ব্যক্তিকে ধারণ করতে সক্ষম নয় - কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সচলায়তনের ধারণক্ষমতা বিস্ময়কর!
ও আচ্ছা, এইটাই তাহলে মূল কথা?

আমি নিশ্চিত আমার মন্তব্যের ভাষাও অনেকের কাছেই বিরক্তিকর, কিন্তু আমি সর্বতোভাবে চেষ্টা করি অন্যের সম্মান বজায় রেখে মন্তব্য করতে, অন্তত এটুকু বলতে পারি।
বিভ্রান্তিকর দাবি। আপনি মোটেও অন্যের 'সম্মান' বজায় রেখে বলেন না, এই দাবি আর বাকি সবার কাছে করলেও অন্তত আমার কাছে করবেন না। আপনি সবার সামনে গুডি গুডি একটা অবয়ব ধারণ করতে সক্ষম হলেও নিজের সমালোচনা হলে খুব বাজে এবং কর্কশ ভাষা (আপনার ভাষায় "রূঢ়, বেপরোয়া, অহেতুক") ব্যবহার করেন। এজন্য আমি আপনাকে 'ধূর্ত', 'ভণ্ড' কিংবা 'দুমোখো' চরিত্রের অধিকারী বলতে পারি। কিন্তু বলবো না এইজন্য যে সহ-সচলদের জন্য সংরক্ষিত এই শব্দগুলো আপনার ব্যবহার্য, আমার না। জ্বী, মাননীয় স্নিগ্ধা প্রায় দুই বছর আগে একটা মেসেজে আপনি আমাকেই উদ্দেশ্য করে এই শব্দবন্ধগুলো প্রেরণ করেছিলেন। তারও আড়াই মাস আগে মডুদের হস্তক্ষেপে সরে যাওয়া আপনার সমালোচনা করে একটি লেখাকে কেন্দ্র করে!

এমন না যে আপনি সেই লেখায় কোনো কথা বলেন নি। এমন না যে আমি সেখানে মডুদের কাছে অভিযোগ করেন নি। করেছেন। মডুরা সেই মোতাবেক সিদ্ধান্তও নিয়েছে। কিন্তু তারপরেও আড়াই মাস ধরে খোঁজাখুঁজির পর আপনি ঠিকই আপনার স্বরূপ আমাকে দেখিয়ে দিয়েছেন। অথচ, এখন এখানে ঠিকই বলছেন অন্যের সম্মান রেখে কথা বলেন! এখন আপনিই বলুন মাননীয় স্নিগ্ধা, দুমোখো চরিত্রের অধিকারী আসলে কে?

আর যেখানে আমাকে আপনি ঐ বিশেষণগুলো প্রয়োগ করেছেন, আমি কি পারতাম না আপনাকে ঠিক একই রকম একটা মেসেজ দিয়ে উত্তর দিতে? পারতাম ঠিকই। কিন্তু দেই নি কারণ, আমি খারাপ, রূঢ়, কটু- যাই বলি সবার সামনেই বলি। সবার সামনে একটা গুডি গুডি চরিত্র ধরে রেখে পেছনে গিয়ে নিজের কদাকার রূপটা বের করতে শিখি নি কখনোই। যা বলি সবার সামনেই বলি। এবং এইটা বলে আসছি সেই শুরু থেকেই, 'ইদানিং' না। কেউ সমালোচনা করলেও যা বলি, না করলেও তাই। আপনার মতো সবার সামনে ভালো থেকে, অনাপত্তিকর কথা বলে পেছনে গিয়ে 'আপত্তিকর' শব্দের ফুলঝুরি বর্ষাই না।

আপনি নিজে ঠিক নাই স্নিগ্ধা। আর নিজে ঠিক না থেকে আরেকজনের প্রয়োগকৃত ভাষার ভুল ধরাটা নীতিগতভাবে অন্যায়। একজন সহ-সচল হিসেবে আপনাকে এই অন্যায় পুনরায় না করার আহ্বান জানাই।

সচলায়তনে সবচেয়ে মুখ খারাপ করে কে? কারা? হিমু আর ধুগো তো! অন্তত অনিকেত'দার সেই পোস্টে এই দুজনকে আরেকটু হলেই ফাঁসীর দড়িতে ঝুলিয়ে দেয়ার বন্দোবস্তো তো প্রায় পাকাপাকি হয়েই গিয়েছিলো (ভাগ্যিস সেদিন মেহবুবা ভাবী একটা পোস্ট করেছিলেন। এরপর অবশ্য দেখেছিলাম "স্যরি" বলার মহোৎসব)। তো এই দুজন সবার আড়ালে গিয়ে কোন সহ-সচলকে মেইলে কিংবা মেসেজে "ধূর্ত", "ভণ্ড" আর "দুমোখো" বলেছে, একটু বইলেন তো!

মুর্শেদের পোস্টে দ্দীণূ-জিফ্রান-সবজান্তা বিষয়ে তর্কের অব্যবহিত পরেই আমার মনে হয়েছিলো ওখানে সবজান্তার প্রতি আমার আচরণ সঠিক ছিলো না। সবজান্তা মোটেও দ্দীণূ'র প্রতি সহানুভূতিশীল না, পরিস্থিতির স্বীকার কেবল এবং এখানে ভুলটা আমারই, এই মনোভাব থেকেই খেকশিয়ালের উষ্কানীমূলক "আপনার এলেম নাই" জাতীয় মন্তব্যের প্রেক্ষিতেও তাকে জবাব না দিয়ে শুধু বলেছিলাম, "এই বিষয়টা আমার আর সবজান্তার মধ্যেই থাকুক"। খেকশিয়াল তারপরেও তার মন্তব্য চালিয়ে গিয়েছিলো যতোদূর মনে পড়ে। কিন্তু আমি ওখানে আর কোনো কথা না বলে সবজান্তাকে ফোন করেছিলাম নিজের প্রেজ্যুডিস থেকে বাইরে এসে। কিন্তু ওপাশ থেকে হ্যালো বলার পর আমার নাম বলতেই ফোনটা কেটে গিয়েছিলো। কিছুটা আশাহত হলেও আমি সবজান্তাকে ফোন করার উদ্দেশ্য মেসেজে জানিয়েছিলাম। ভরসা ছিলো সবজান্তা আমার এ্যাপোলজি গ্রহণ করবে এবং খেকশিয়ালকে বলা বিষয়টা "আমার আর সবজান্তার মধ্যেই" রাখবে। অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু সবজান্তা এরপর যখন ঐ পোস্টে মন্তব্য করেছে তখন তার মন্তব্যে সম্পূর্ণ ডিপ্লোম্যাটিক টোন ছিলো। পরবর্তীতে আমার আর সবজান্তার মন্তব্যের রেফারেন্স আসলেও সবজান্তা এগিয়ে গিয়ে বলে নি, "এটা আমার ধুগোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুক। এটা আমাদের মধ্যকার ভুল বুঝাবুঝি!" সে দূরে দাঁড়িয়ে দেখেছে, স্নিগ্ধা সহ অনেকেই ধুগোর মন্তব্য নিয়ে ধুগোকে তুলোধুনো করছে!

তখনই বুঝেছি দ্দীণূর প্রেক্ষিতে সবজান্তা'র প্রতি আমার প্রাথমিক ধারণা ভুল ছিলো। তার কাছে ভুল স্বীকার করে দুঃখিত হওয়াটা তখন আর সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে হয় নি। আর এরপর মেহবুবা ভাবীর পোস্টে একটা মন্তব্যে বলেছিলাম, এই সচলে যতোদিন আমি আছি ততোদিন দ্দীণূর প্রতি সহানুভূতিশীল কেউ দ্দীণূর কার্যকলাপের প্রতি সহমত প্রকাশ করতে পারবে না। এইটা জুবায়ের ভাই এর প্রতি আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি। এখানে কেউ যদি আমাকে বেপরোয়া, রূঢ় হিসেবে খুঁজে পান, মডুরা যদি আমাকে অসহিষ্ণু বলে আখ্যা দেন। আমার কিছুই করার নেই।

কুলদা রায়ের এই পোস্টে কেবল তার লেখা 'অসাধারণ লাগে' এইটা বলার জন্যই সবজান্তা 'দীর্ঘ নির্বাসন' থেকে ফিরে এসে লগইন করেছে, তাই এটা মেনে নিতে আমার একটু সমস্যা আছে। তার পরবর্তী মন্তব্যে কুলদা রায়ের সাথে আমার 'ব্যক্তিগত খেদ' খোঁজাটাই অন্যরকম কিছু মিন করে। সে পরের মন্তব্যে হিমু-তাসনীম-ওডিনের নাম টেনে আনার কী উদ্দেশ্য হতে পারে? আর এর প্রেক্ষিতে জবাব দেয়া শুরু করলেই আমার আচরণ হয়ে যায় রূঢ়, বেপরোয়া! বেশ, তো!

রানা মেহেরকে বন্ধু হিসেবে জানি। কেবল সচলেই না, এর বাইরেও সামহাউ আমরা কমন কারো দ্বারা কানেকটেড। আমি রানা'র কাছে জানতে চাইবো, যখন আপনার আন্তরিক দুঃখিত হওয়াকে নিয়ে কেউ ডিপ্লোম্যাসি করবে, তখন আপনার কাছে কেমন লাগবে? এই উত্তরটা আগে খুঁজুন, তারপর নাহয় সবজান্তার প্রতি ধুগোর আচরণের প্রতিবাদ করবেন।

একই আহ্বান করবো মডুদেরকে। ধুগোকে কোনো ব্যাপারে অভিযুক্ত করার আগে অন্তত একটাবার আত্মপক্ষে কথা বলার সুযোগ দিবেন দয়াকরে। সিদ্ধান্ত নেয়ার অবকাশ আপনাদের সবসময়েই আছে। এবং সেই সিদ্ধান্তে সবসময় শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার মানসিকতা থেকে সরেও আসি নি। শুধু কেউ একজন এসে অভিযোগ করলো আর অমনি ধুগোকে অভিযুক্ত করে ফেললেন, এটা না করার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানাই।

এতোকিছু বলার পরেও যদি মডুদের মনে হয়ে থাকে আমার এই মন্তব্যে কারো প্রতি অহেতুক অসহিষ্ণুতা প্রকাশ পেয়েছে। তাহলে যেকোনো সিদ্ধান্তের গুরুভার আপনাদের উপরেই থাকলো। আমার কিছু বলার নাই। ধন্যবাদ।

ভালো থাকবেন সবাই। হ্যাপি ব্লগিং।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

সাফি এর ছবি

"কূলদা রায়ের বেশ কিছু ব্যাপার আমাকে বিরক্ত করে।" বা "সাইফ তাহসিনের মন্তব্যের ভাষাও বেশ বিরক্তিকর।" --- এগুলো থেকে "সম্মান" বজায় রেখে মন্তব্য করা শিখতে পারেন।

স্নিগ্ধা এর ছবি

সাফি, যদিও সরাসরি আমাকে উল্লেখ করে কিছু বলেন নি, কিন্তু আমার মন্তব্য থেকে উদ্ধৃত করে যেহেতু মন্তব্য করেছেন তাই উত্তর দিচ্ছি - আপনার কথা থেকে মনে হলো আমি অন্যের সম্মান বজায় রেখে মন্তব্য করার চেষ্টা করি আপনি সেটা মনে করেন না। হ্যাঁ, হতেই পারে সেটা। আমি হয়তো ভাবছি আমি ভদ্রতা বজায় রাখছি, আপনার হয়তো মনে হচ্ছে আমি সেটা করছি না। ভবিষ্যতে কখনও চাইলে সেটা ধরিয়ে দিতে পারেন।

তবে, যে কোন বিষয়েই তো দুজন মানুষের মতামত দুরকম হতে পারে, যুক্তি/মতামত সবই তো আপেক্ষিক, কনটেক্সট নির্ভর। আমি যদি সত্যিই ভদ্রতা বজায় রেখে মন্তব্য না করে থাকি বলে বেশিরভাগ সচলই মনে করেন (অতিথিরা সহই) - অনুরোধ রইলো আমাকে জানানোর। ধন্যবাদ।

সাফি এর ছবি

আপনার কথা থেকে মনে হলো আমি অন্যের সম্মান বজায় রেখে মন্তব্য করার চেষ্টা করি আপনি সেটা মনে করেন না।

আমার করা মন্তব্য আপনার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে করা এর সাথে পূর্বাপর করা আপনার অন্যান্য মন্তব্যের কোনো সম্পর্ক নেই। তাছাড়া আপনার ভদ্রতা সম্পর্কে আমি কী মনে করি বা করিনা এটা এখানে আলোচ্যও না। কিন্তু আপনার মন্তব্যে আপনি সাইফ তাহসিন সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন এবং নিজের সম্পর্কে যা দাবী করেছেন তাদের অবস্থা বিপরীত মেরুতে। এটা ধরিয়ে দেবার জন্যই মন্তব্য করেছি। সাইফ তাহসিন এর জায়গায় আমি হলে আমি অবশ্যই মডারেটরের কাছে অভিযোগ জানাতাম।

যেহেতু ধরিয়ে দেবার কথাই তুললেন তাহলে আরও কিছু কথা বলি। আপনার নিচের মন্তব্য পড়ে বুঝলাম ধুসর গোধুলি এর সাথে আপনার ব্যক্তিগত কোন সমস্যা আছে বা দু বছর আগে হয়ত ছিল। এখন রানা মেহেরের বক্তব্যের প্রক্ষিতে আপনার করা মন্তব্যটা আমার কাছে অনেকটা "পাইছি আজকে তোকে" গোছের লেগেছে, reinforcement এর মতন। এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিমত।

ভাল থাকবেন।

স্নিগ্ধা এর ছবি

সাইফ তাহসিনকে তার মন্তব্যের ভাষা বিরক্তিকর বলাটা যদি ভদ্রতা বজায় না রাখা হয়ে থাকে এবং সাইফ যদি মডারেটরদের কাছে অভিযোগ জানান, সেটা তিনি জানাতেই পারেন।

তাছাড়া আপনার ভদ্রতা সম্পর্কে আমি কী মনে করি বা করিনা এটা এখানে আলোচ্যও না।

'আমার' ভদ্রতা নিয়ে তো আপনাকে আমি কোন প্রশ্নও করি নি! প্রশ্ন করা হয়েছে আমার মন্তব্যে আমি ভদ্রতা বজায় রাখতে পারি কি পারি না সেটা নিয়ে।
কিন্তু আপনার মন্তব্যে আপনি সাইফ তাহসিন সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন এবং নিজের সম্পর্কে যা দাবী করেছেন তাদের অবস্থা বিপরীত মেরুতে।
বিপরীত মেরুতে যদি হয়ে থাকে, সেটা আপনি সহসচল হিসেবে ধরিয়ে দিয়েছেন। ধন্যবাদ সেজন্য।
যেহেতু ধরিয়ে দেবার কথাই তুললেন তাহলে আরও কিছু কথা বলি। আপনার নিচের মন্তব্য পড়ে বুঝলাম ধুসর গোধুলি এর সাথে আপনার ব্যক্তিগত কোন সমস্যা আছে বা দু বছর আগে হয়ত ছিল। এখন রানা মেহেরের বক্তব্যের প্রক্ষিতে আপনার করা মন্তব্যটা আমার কাছে অনেকটা "পাইছি আজকে তোকে" গোছের লেগেছে, reinforcement এর মতন। এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিমত।

ধুসর গোধূলিকে করা আমার দীর্ঘ মন্তব্যে তাহলে তো আপনার এটাও চোখে পড়ার কথা যে আমি ঠিক ঐ ঘটনার কারণেই এতোদিন ধুসর গোধূলীর কোন কিছুতে কথা বলি নি?? "পাইছি আজকে"র সুযোগেই যদি থাকতাম, তাহলে তো সেই সুযোগ এর আগেও বহুবার এসেছে - তখনও তো কিছুই বলি নি? আর একটা কথা, আমার সাথে অতীতের সেই ঘটনার কথা কি আমি উল্লেখ করেছি? আমার আচরণ নিয়ে এমনিতেই তো সমালোচনা ধুসর গোধূলী করতে পারতো, যেমনটা আপনি করছেন?

আপনার ব্যক্তিগত অভিমত জানলাম। আপনিও ভালো থাকবেন।

রানা মেহের এর ছবি

প্রিয় ধুসর গোধূলি

ক্ষমা করবেন স্নিগ্ধা কে বলা আপনার কথার মাঝে কথা বলছি দেখে। এই মন্তব্যের ধারাবাহিকতায় কোথাও না কোথাও আমি আছি। মন্তব্যের চেইনে অথবা সহসচলের সাথে থাকার অধিকার নিয়ে। তাই বলা।

উদ্ধৃতি

কাপুরুষের মতো গা বাঁচিয়ে চলছিলাম বহুদিন। আপনার প্রতিবাদ দেখে বুঝতে পারলাম সেটা অনুচিত।

ভুল তথ্য। আপনি মোটেও গা বাঁচিয়ে চলেন নাই। মুর্শেদের দ্দীণূর রিভিউ নিয়ে করা পোস্টে আপনার সরব উপস্থিতি বিদ্যমান, যেমন বিদ্যমান অনিকেত'দার "আমাদের ব্লগীয় সংস্কৃতি"তে।


অনিকেতের লেখা এসেছিল মার্চের ২৩ তারিখ। মুর্শেদের টা আরো আগে। এই লেখাগুলোর পর ৬ মাস পেরিয়ে গেছে। আপনার কি মনে হচ্ছেনা ৬ মাস বেশ খানিকটা সময়? আপনার কি মনে হচ্ছেনা স্নিগ্ধা তারপরের কথা বলছেন? আশ্চর্য তো।

উদ্ধৃতি

এই সচলের এরকম আপত্তিকর কথার পরিমাণ ইদানিং বেশ ভালোই বেড়েছে দেখলাম।

আচ্ছা, তাই? কিন্তু এখানেও যে আপনার তথ্যে ভুল আছে। আমার কথাকে "আপত্তিকর" হিসেবে যদি মনেই করেন তাহলে সবিনয়ে বলি, 'ইদানিং' না, এটা শুরু থেকেই 'বেড়ে' আছে। এমনকি সচলের জন্মেরও আগে থেকে। শুধুমাত্র প্রয়োগটা হয় ক্ষেত্র বিশেষে, ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙলে।


আপনার নিজের কাছে কি এই কথা কে উদ্ধত মনে হচ্ছেনা? আপনি নিজেই যখন একে 'বেড়ে' আছে বলছেন তবে অনুরোধ করবো আপনার ধৈর্যের বাঁধ টাকে একটু আগলে রাখতে। আপনার বাঁধ ভেঙে পড়ে যদি আশপাশের লোকজনকে অধৈর্য আচরণ পেতে হয়, একসাথে থাকলে তা খুব অস্বস্তিকর।
উদ্ধৃতি

কিছুদিন আগে সচলায়তন মডারেটরদের তরফ থেকে এনাকে 'ব্যক্তিগত আক্রমণ' করার কারণে তিনদিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিলো।

এখানে আপনাকে একটা প্রশ্ন করি। আপনি কি সচলের মডারেশনের সাথে যুক্ত? উত্তর যদি না-বোধক হয় তাহলে আবারও সবিনয়ে বলি, "দিস ইজ নান অফ ইউর বিজনেস। থ্যাংক ইউ।" আশাকরি, অধিকার এবং অনধিকার চর্চার মধ্যকার পার্থক্যটা মনে রাখবেন।

আচ্ছা মডারেশন কে এরকম কিছু জিগ্গেস করা কি অপরাধ? জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্যই তো হোম পেইজে মডু লগ বলে একটা জিনিস আছে, তাই না?
আমিও তো আপনাকে বলতে পারি, মডারেশনের ব্যাপারে আপনি কেন কথা বলছেন? আপনি কি মডারেশনের সাথে যুক্ত? মডারেটরদেরই কথা বলতে দিন বরং।

উদ্ধৃতি

কারণ কী দর্শানো হয়েছিলো জানি না, তবে এরপর 'আবীর' নামের একজন অতিথিকে চটকানা মারার কথাও সচলে ছাপার অক্ষরে দেখলাম - যদিও কিছুক্ষণ পর দেখি সেই মন্তব্য আর নেই

আমার করা সেই মন্তব্যের আরও দুইটা লাইন ছিলো আগে-পিছে। একটা পটভূমিও ছিলো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেগুলো সব ছেড়ে দিয়ে কেবল "আবীর" আর "চটকানা"টাই আপনার চোখে পড়লো!

একটু অবাক হচ্ছি ধুগো। আপনি কি তাহলে স্বীকার করছেন এরকম একটা মন্তব্য আপনি করেছিলেন? একজন অতিথি লেখককে আপনি এরকম অসংযত একটা মন্তব্য করবেন, আবার তার আগে পিছের লাইন দিয়ে তাকে জাস্টিফাই করবেন? সেই মন্তব্যটা আমি পড়িনি। আপনি যখন বলছেন ওটার একটা পটভূমি আছে, একটু বলবেন মন্তব্যটা কী ছিল?

উদ্ধৃতি

আর আজকে আবারও এই অহেতুক, রূঢ় এবং বেপরোয়া আচরণ!

আবারও ভুল অবজার্ভেশন। কোন বাক্যটা 'রূঢ়', 'বেপরোয়া' এবং 'অহেতুক' মনে হয়েছে যেটা আমি কেবল 'একপাক্ষিক' বলে গেছি সেটা উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা দাবি করছি।

এতো সময় পরও যদি আবার আপনাকে বোঝাতে হয় কেন আপনার মন্তব্যটা অহেতুক, রূঢ় এবং বেপরোয়া ছিল তাহলে আর কী বলবো বলুন?

উদ্ধৃতি

মাঝে মাঝেই শুনি সচলায়তন এই বিষয়টিকে বা অমুক ব্যক্তিকে ধারণ করতে সক্ষম নয় - কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সচলায়তনের ধারণক্ষমতা বিস্ময়কর!

ও আচ্ছা, এইটাই তাহলে মূল কথা?

আচ্ছা ধুগো, এটা মূল কথা হয়ে থাকলে সমস্যা কী? সচলায়তন অনেক বিষয়ে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ যদি কেউ জানতে চায় অনেক কিছু বর্জনের পর কেন সচলায়তন আপনার ব্যক্তি আক্রমন (ব্যক্তি বোঝাচ্ছিনা) ধারণ করে যাবে, তাকে এভাবে শ্লেষ করার অর্থ কী?

উদ্ধৃতি

আমি নিশ্চিত আমার মন্তব্যের ভাষাও অনেকের কাছেই বিরক্তিকর, কিন্তু আমি সর্বতোভাবে চেষ্টা করি অন্যের সম্মান বজায় রেখে মন্তব্য করতে, অন্তত এটুকু বলতে পারি।

বিভ্রান্তিকর দাবি। আপনি মোটেও অন্যের 'সম্মান' বজায় রেখে বলেন না, এই দাবি আর বাকি সবার কাছে করলেও অন্তত আমার কাছে করবেন না। আপনি সবার সামনে গুডি গুডি একটা অবয়ব ধারণ করতে সক্ষম হলেও নিজের সমালোচনা হলে খুব বাজে এবং কর্কশ ভাষা (আপনার ভাষায় "রূঢ়, বেপরোয়া, অহেতুক") ব্যবহার করেন।

এটা খুব অন্যায় এবং মিথ্যা অভিযোগ। আপনি খুব ভালো করে জানেন ধুগো। যেমন জানেন সচলের বাকি সবাই। এই জায়গাটা একটু প্রতিশোধ প্রতিশোধ শোনাচ্ছে হাসি

জন্য আমি আপনাকে 'ধূর্ত', 'ভণ্ড' কিংবা 'দুমোখো' চরিত্রের অধিকারী বলতে পা......জ্বী, মাননীয় স্নিগ্ধা প্রায় দুই বছর আগে একটা মেসেজে আপনি আমাকেই উদ্দেশ্য করে এই শব্দবন্ধগুলো প্রেরণ করেছিলেন। তারও আড়াই মাস আগে মডুদের হস্তক্ষেপে সরে যাওয়া আপনার সমালোচনা করে একটি লেখাকে কেন্দ্র করে!

এমন না যে আপনি সেই লেখায় কোনো কথা ব........ করেছেন। মডুরা সেই মোতাবেক সিদ্ধান্তও নিয়েছে। কিন্তু তারপরেও আড়াই মাস ধরে খোঁজাখুঁজির পর আপনি ঠিকই আপনার স্বরূপ আমাকে দেখিয়ে দিয়েছেন। অথচ, এখন এখানে ....... বলেন! এখন আপনিই বলুন মাননীয় স্নিগ্ধা, দুমোখো চরিত্রের অধিকারী আসলে কে?

ধুসর গোধূলি, আমি খুব স্পষ্ট ভাবে আপনার মন্তব্যের মেসেজ সংক্রান্ত অংশে আপত্তি জানাচ্ছি। 'মেসেজ' একটা ব্যক্তিগত এবং গোপনীয় ব্যাপার। এজন্যই তার নাম মেসেজ। মন্তব্য কিংবা চ্যাট নয়। আপনি মেসেজ নিয়ে কোন কথা বলতে চাইলে মেসেজেই প্রেরকের সাথে কথা বলুন। অথবা মডারেটরদের দ্বারস্থ হোন। ব্যক্তিগত তথ্যের প্রকাশ এখানে কাম্য নয়।

(ভাগ্যিস সেদিন মেহবুবা ভাবী একটা পোস্ট করেছিলেন। এরপর অবশ্য দেখেছিলাম "স্যরি" বলার মহোৎসব)।

এটা কী জাতীয় কথা ধুগো? উনার লেখায় জুবায়ের ভাইকে করা অপমানের বিরুদ্ধে সবাই একজোট হয়েছিল। জিফরান এসে ক্ষমা চেয়েছিল যদি তার কারণে ভাবির কষ্ট হয়ে থাকে। সেখানে আপনি এলেন কী করে? নিজেকে এতো জরুরি মনে করলে চলে?


মুর্শেদের পোস্টে দ্দীণূ-জিফ্রান-সবজান্তা বিষয়ে তর্কের অব্যবহিত পরেই আমার মনে হয়েছিলো ওখানে সবজান্তার প্রতি আমার আচরণ সঠিক ছিলো না। সবজান্তা মোটেও দ্দীণূ'র প্রতি সহানুভূতিশীল না, .......... "এই বিষয়টা আমার আর সবজান্তার মধ্যেই থাকুক"। খেকশিয়াল তারপরেও তার মন্তব্য চালিয়ে গিয়েছিলো যতোদূর মনে পড়ে। কিন্তু আমি ওখানে আর কোনো কথা না বলে সবজান্তাকে ফোন করেছিলাম নিজের প্রেজ্যুডিস থেকে বাইরে এসে। কিন্তু ওপাশ থেকে হ্যালো বলার পর আমার নাম বলতেই ফোনটা কেটে গিয়েছিলো। কিছুটা আশাহত হলেও আমি সবজান্তাকে ফোন করার উদ্দেশ্য মেসেজে জানিয়েছিলাম। ......কিন্তু সবজান্তা এরপর যখন ঐ পোস্টে মন্তব্য করেছে তখন তার মন্তব্যে সম্পূর্ণ ডিপ্লোম্যাটিক টোন ছিলো।.....এটা আমাদের মধ্যকার ভুল বুঝাবুঝি!" সে দূরে দাঁড়িয়ে দেখেছে, স্নিগ্ধা সহ অনেকেই ধুগোর মন্তব্য নিয়ে ধুগোকে তুলোধুনো করছে!

ওইদিন সবজান্তাকে করা আপনার প্রথম মন্তব্যটা একটু পড়ুন

"সবজান্তার বক্তব্যটা আমার কাছে সুশীল টাইপের বক্তব্য মনে হয়েছে। সুমন রহমানের কী রচনা আছে যেগুলো মাথায় রাখা লাগবে সুমন রহমান নিয়ে কথা বলতে গেলে! সুমন রহমানের মতো অমন দুয়েকটা পোমো কোবতে আর গল্প এই ধুগো প্রতিদিন হাগতে বসে ল্যাখে। তারপর সেগুলো ফ্লাশের সাথে পাড় করে দেয়। হাগন কুঠিতে এইসব বালছাল লিখে পরে এসে "আমি কি হনুরে" ভাব দেখালে লোকজন তো কষে চটকানা লাগাবে। সুমন রহমানের ভাগ্য ভালো যে মুর্শেদ খুব ভদ্র ভাষায় চটকানাটা মেরেছে "

দ্বিতীয় মন্তব্য

"আজকে সুমন রহমানের মহাশক্তিধর, প্রতিভাময় লেখনি জেনে নিতে বলছেন তার সম্পর্কে কথা বলতে গেলে। কালকে কী বলবেন? আল মাহমুদের লেখা জেনে তারপর তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে মন্তব্য করতে হবে! নয়া দিগন্তে লেখা সাহিত্যবেশ্যাদের সমালোচনা করতে হলে হৈ হৈ রৈ রৈ করে তেড়ে আসবেন, "জানিস, এঁরা কারা? এঁরা অমুক বেদগ্রন্থ রচনা করেছেন। অতএব এঁরা পাছা মারতে এলেও পা ফাঁক করে দাঁড়িয়ে যাস। সওয়াব হবে!" দুঃখিত সবজান্তা, এটা আমাদের মধ্যকার দুমুখো সর্প, সুশীলদেরই প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট।"

আপনি প্রথমে সবজান্তাকে সুশীল বানিয়ে দিচ্ছেন তারপর আশংকা করছেন সে কোন একদিন নয়া দিগন্তের লেখকদের পক্ষে কথা বলবে।
(আপনি এই লেখাতেও সবজান্তার বিরুদ্ধে তাই/ করেছেন। কুলদা রায়ের লেখার প্রশংসা করায় তাকে সুমন রহমান পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছেন)
আর আপনি আবার বলছেন সবজান্তা তারপর ডিপ্লোম্যাটিক টোনে কথা বলছিল?
আর খেঁকশিয়াল আপনাদের মাঝে কথা বলতে পারবেনা কেন? জিফরান আর মুর্শেদের কথা (যা নিয়ে ওই লেখায় বিতর্কের সুত্রপাত) সেখানেও তো মাঝে শিমুল, প্রকৃতিপ্রমিক কথা বলেছেন। তাহলে আপনি আর সবজান্তার মাঝে খেঁকশিয়াল কেন কথা বলতে পারবেনা?

আপনার ফোন করার কথা শুনে স্যরি একটু হাসি পেল। আপনারা তর্ক করবেন সচলে আর সবজান্তাকে দুঃখিত বলতে চান ফোনে? যেকথা আপনি ফোনে বলতে চেয়েছিলেন সেটা সচলে বললে হয়তো ঐ বিষয়টাই এতো দুর গড়াতোনা। এটা একটু আজব হলোনা? অনিকেতের প্রাইভেট মেসেজে তর্ক করা নিয়ে আমরাই না কত মজা করলাম, আর আপনি নিজেই তা করতে চাইছেন?

কুলদা রায়ের এই পোস্টে কেবল তার লেখা 'অসাধারণ লাগে' এইটা বলার জন্যই সবজান্তা 'দীর্ঘ নির্বাসন' থেকে ফিরে এসে লগইন করেছে, তাই এটা মেনে নিতে আমার একটু সমস্যা আছে। তার পরবর্তী মন্তব্যে কুলদা রায়ের সাথে আমার 'ব্যক্তিগত খেদ' খোঁজাটাই অন্যরকম কিছু মিন করে। সে পরের মন্তব্যে হিমু-তাসনীম-ওডিনের নাম টেনে আনার কী উদ্দেশ্য হতে পারে? আর এর প্রেক্ষিতে জবাব দেয়া শুরু করলেই আমার আচরণ হয়ে যায় রূঢ়, বেপরোয়া! বেশ, তো!

কেন ধুসর? আপনি এই লেখাতেই সবজান্তার এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন আগে প্রতিবাদ করেন নি বলে এখন করতে পারবেন না কেন। তাহলে সবজান্তা যদি অন্য কারো প্রশংসা না করে কুলদা রায়ের প্রশংসা করে, আপনার সমস্যা কোথায়? সবজান্তার লগে গিয়ে দেখলাম এ লেখার আগেও/সে বেশ সরবই ছিল। তাসনিম, ব্যানার, সুরন্জনার লেখায় মন্তব্য করেছে। সে নির্বাসনে গেল কবে?
আপনি কুলদা রায় থেকে হনুমান সম লাফ দিয়ে সুমন রহমানে চলে গেলেন। আর সবজান্তা হিমু ওডিনের নাম আনলেই সমস্যা। কী মজার ব্যাপার বলুনতো।

ধুসর গোধূলি - সচলে আমরা সবাই একসাথে থাকবো বলে আসি। আপনার পাশে থাকতে হলে কাউকে যদি অশিন্ষু আচরন মেনে নেয়ার প্রশিক্ষন নিয়ে আসতে হয়, খুবই কষ্টকর ব্যাপার হবে। একটু মনে রাখবেন।
ভালো থাকুন
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

ধুসর গোধূলি এর ছবি

অনেক খাটলেন প্রিয় রানা মেহের। কিন্তু দুঃখ হচ্ছে আপনার জন্য। আশাকরি বুঝে শুনেই বলেছেন যা বলতে চেয়েছেন।

আরেকটু খাটেন। এবার স্নিগ্ধার লগ'টাও চেক করে দেখেন। হনুমান লাফ দেয়ার উদ্দেশ্য হলো যেখানে আমার গুরুতর ইনভলভমেন্ট ছিলো, সেটার রেফারেন্স দেয়া। এটাতো বুঝেনই নাই, উপরন্তু বাকিগুলোও যে আপনার মন মতো ব্যাখ্যা করেছেন, সেগুলোরও যথযথ উত্তর লাইন বাই লাইন দেয়া যায়। তবে, তাতে অশোভনতাই বাড়বে বোধ'য়। তাই আপাতত রাশ টানছি। বিরক্ত একথা বলবো না, তবে ক্লান্ত ভীষণ।

ভালো থাকবেন।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

রানা মেহের এর ছবি

ঘুমাতে যাই/ বলেও আসলে ঘুম আসছেনা।
আপনি স্নিগ্ধা আপুর সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছেন ধুগো।
সত্যি কথা বলতে গালিগালাজ করেছেন রীতিমতো।
অনেক খারাপ লাগছে।
আপনি এই কথাগুলো আমাকে বললে হয়তো আমার এতোটা খারাপ লাগতোনা।
She does not deserve this
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

স্নিগ্ধা এর ছবি

ধুসর গোধূলি, কোথাওই, বিশেষ করে সচলায়তনে কোনরকম ইমেজ তৈরী করাটা আমার জীবনের লক্ষ্য নয়। তারপরও আপনি যেহেতু আপনাকে পাঠানো আমার ব্যক্তিগত মেসেজের কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করলেনই, আমিও তাহলে সেটার কারণ ব্যাখ্যা করি। এখনকার অধিকাংশ বা অনেক সচলই - যারা আপনার এই মন্তব্য পড়ছেন - তারা সে সময়ের কথা হয়তো জানেন না।

আমার লেখা এক প্রতিক্রিয়া পোস্টে আপনি 'ধুসর গোধূলি' নিকে s-s এর করা এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বললেন - "স্নিগ্ধা যথেষ্ট স্মার্ট ব্যক্তিত্বের অধিকারী, আমার মনে হয় ওনার নিজের সমস্যা উনি নিজেই হ্যান্ডেল করতে পারবেন"। মডারেটররা আরেকটি মন্তব্য মুছে দেয়াতে আপনার করা এই প্রতিমন্তব্যও মুছে গিয়েছে, তাই একদম হুবহু হয়তো কোট করতে পারলাম না, কিন্তু 'স্মার্ট ব্যক্তিত্ব' কথাটা নিশ্চয়ই আপনারও মনে আছে? এবং ঐ পোস্টের আগে পর্যন্ত আপনার সাথে আমার বেশ ভালো একটা ব্লগীয়/সহসচল সম্পর্ক ছিলো। অন্তত আমি তাই মনে করতাম। এই পোস্টের পরে আপনি 'আসাদুজ্জামান রুমন' নিকে আমাকে নিয়ে যে পোস্ট লিখলেন সেটা মডারেটররাই প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেয়। এবং সেটা করা হয় আমি কোনরকম আপত্তি জানানো বা অভিযোগ করার আগেই। অর্থাৎ, নিশ্চয়ই সেটা সচলায়তনের ধারা'র পরিপন্থী ছিলো?

আমি জানতামই না যে 'ধুসর গোধূলি' এবং 'আসাদুজ্জামান রুমন' একই ব্যক্তি! এবং একজন এক নিকে আমাকে স্মার্ট ব্যক্তিত্বের অধিকারী বলে আর এক নিকে আমাকে নিয়ে ঐরকম একটা পোস্ট লিখতে পারে যেটা সচলের নীড়পাতায় জায়গা পায় না এবং অন্যান্য সচলরা সেই পোস্টে আপত্তি জানান, সেটা ভাবতেও পারি নি! হ্যাঁ, এই আচরণকেই আমি "দুমুখো" এবং "ভন্ড" আচরণ বলেছি চিঠিতে। চিঠিটা আবার পড়ে দেখলাম কাপুরুষতার কথাও ছিলো, কিন্তু "ধূর্ত" তো ছিলো না? চিঠিটা আমার মেইলবক্সে আছে এখনও।

এবং, আপনাকে লেখা আমার চিঠিতে আপনাকে কি আমি ঠিক এই প্রশ্নটাই করি নি?? আপনি তো 'ধুসর গোধূলি' হয়েই লিখতে পারতেন? তাছাড়া ঐ পোস্টে আমার সাথে অনেকেই একমত হয়েছিলেন, আপনি তাদের কাউকে কিছুই বলেন নি। সবচাইতে বড় কথা যে সচলের লেখা পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় আমার ঐ পোস্ট লেখা, তার সাথে আমার সম্পর্কে কোনই তিক্ততা আসে নি, কিন্তু আপনি আমাকে নিয়ে, একদম সরাসরি 'সচল স্নিগ্ধা'কে উদ্দেশ্য করে একটা পোস্টই লিখে ফেললেন! এবং লিখলেন কিনা আবার আরেক নিকে। "আড়াই মাস ধরে খোঁজাখুঁজির পর আপনি ঠিকই আপনার স্বরূপ আমাকে দেখিয়ে দিয়েছেন।" আড়াই মাস পর আমি জানতে পারি আপনি আর আসাদুজ্জামান রুমন একই ব্যক্তি। আসাদুজ্জামান রুমনটা কে সেটা নিয়ে অবশ্যই আমার জানার আগ্রহ ছিলো। সচলে ওই নিকের তেমন কোন উপস্থিতি তো ছিলো না, মন্তব্যও করতেন আপনি বেশিরভাগ 'ধুসর গোধূলী' নিকে। তাহলে কে এই আসাদুজ্জামান রুমন যাকে আমি চিনিই না, সে এসে হঠাৎ আমাকে নিয়ে আপত্তি জানানোর মত একটা পোস্ট কেন লিখবে, আমার জানতে চাওয়ার কথা নয় কি?! তবে, আপনার ভাষায় আমার "কদাকার রূপ"টা যখন আপনি ধরেই ফেলেছেন, তখন আর এসব কথা বলে খুব একটা লাভ নেই। আপনিই ঠিক।

আপনিই আসাদুজ্জামান রুমন সেটা জানার পর থেকে আপনার কোন পোস্টে আমি মন্তব্য করি না, আপনার সাথে কোনরকম মিথষ্ক্রিয়ায় যাই না। মুর্শেদের পোস্টে সবজান্তার উদ্দেশ্যে করা আপনার মন্তব্যের ভাষা অত্যন্ত আপত্তিকর মনে হওয়াতে অনেকদিন পর সেটা মন্তব্যে প্রকাশ করেছিলাম, আর এই এইবার। একবার অনিন্দ্য রহমানকে তেল দিচ্ছে বলে মন্তব্য করছেন, আবার সবজান্তার বক্তব্য কীভাবে কে জানে সুমন রহমানের সাথে সম্পৃক্ত করছেন, কিন্তু সেগুলো সবই আপনার কাছে জাস্টিফায়েড!

আমাকে আমার অধিকারের সীমানা চেনানো বা আমি মডারেশনের সঙ্গে জড়িত কিনা এই প্রশ্ন একেবারেই অযৌক্তিক! আপনি নিজেই এই পোস্টেই তো মডারেটরদের নিয়ে কথা বলেছেন! "মডুরা তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ালে মডুদের সাথে তর্কও করেছিলেন যতোদূর মনে পড়ে। মডুরা আপনাকে এ ব্যাপারে সতর্কও করে দিয়েছিলো। কিন্তু আপনি মনে হচ্ছে মডুদের কথা কানে তোলার পাত্র নন। " এটা আপনারই লেখা নয়??

আমি আপনাকে ব্যক্তিগত মেইল করেছিলাম প্রকাশ্যে আপনাকে অপমান করতে চাই নি বলে এবং সচলায়তনে ক্যাঁচাল সৃষ্টি করতে চাই নি বলে। তো, আপনিও তো দেখলাম সবজান্তাকে স্যরি বলেছিলেন অপ্রকাশ্যেই, সেটা কেন? আপনি তো আর আমার মত 'গুডি গুডি ইমেজ তৈরী' করা নিয়ে চিন্তিত নন, তাহলে? ঐ পোস্টতো এখনও আছে, ওখানে গেলেই তো দেখা যাবে "স্নিগ্ধাসহ" আপনাকে কেউ তুলোধুনা করেছে কিনা, আর খেঁকশিয়াল কোন উস্কানীমূলক মন্তব্য করেছিলেন কিনা।

আমার নিজের সীমাবদ্ধতা অনেক, সেগুলোর কিছু কিছু সম্পর্কে আমি নিজেও জানি, কিন্তু আমার 'সমালোচনা' করা হলেই আমি "কর্কশ" ভাষায় রিঅ্যাক্ট করি এটা বোধহয় কোনভাবেই সেগুলোর মধ্যে পড়ে না। আমি নিজেও অন্যের লেখার বা আচরণের সমালোচনা করেছি, বিশেষ করে একটা সময় ছিলো যখন আমি সাগ্রহে এবং মন দিয়ে অতিথি লেখকদের লেখা পড়ে মন্তব্যে সমালোচনা করতাম।

হিমুর কথা তুলেছেন দেখে বলছি, হিমুর সাথে যোগাযোগ থাকলে হিমুকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখবেন আমি হিমুর লেখার বা আচরণের সমালোচনা করি কি না। এবং সেটা কীভাবে করে থাকি। হিমু মন্তব্যের উত্তর দেয় না দেখে আমি হিমুর পোস্টে মন্তব্য করি না বহু আগে থেকেই। কিন্তু, প্রকাশ্যে হিমুকে গালাগাল করে পেছনে গিয়ে তার সুহৃদ সাজার চেষ্টাও করি না, বা উল্টোটাও। আমার যার সম্পর্কে যা বলার, আমি সাধারণত সেটা প্রকাশ করে থাকি। শুধু আপনার ক্ষেত্রেই আপনার সাথে কোনরকম মিথষ্ক্রিয়াতে আমি যাই নি বহুদিন, এবার আমারও আর ধৈর্য্যে কুলালো না।

বাকি অনেক কিছুরই উত্তর রানা দিয়ে দিয়েছেন। সেগুলো আবার বলার কিছু নেই। আর একটা কথা, জুবায়ের ভাই আমাদের সবারই প্রিয়, ভাবি সচলায়তনে আসেন রিল্যাক্স করতে, মুজুদার প্রিয় একটা জায়গায় সময় কাটাতে। বারবার ওনাদের বিভিন্ন অপ্রিয় প্রসঙ্গে টেনে আনাটা ওনাদের জন্য অস্বস্তিকর কিনা কে জানে।

আমি আমার বক্তব্য বললাম, আপনার আমার সাথে একমত হওয়ার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই। শুধু সহসচল হিসেবে আমরা নিজেদের প্রতি এবং অন্যান্যদের প্রতিও যথাসম্ভব শ্রদ্ধাশীল থাকবো, এই আশা প্রকাশ করে জানাচ্ছি - আপনার সাথে এই পোস্টে আমার দিক থেকে এটাই শেষ মন্তব্য বিনিময়।

ধুসর গোধূলি এর ছবি

আমি আপনাকে ব্যক্তিগত মেইল করেছিলাম প্রকাশ্যে আপনাকে অপমান করতে চাই নি বলে
এটা একটা জোশ কমেন্ট হইছে। হো হো হো

আপনি এটা করেন নি দুইটা কারণে। এক. এতে আজকে যেমন বলছেন "সহ-সচলকে সম্মান করে মন্তব্য করেন", এটা বলতে পারতেন না। কেউ এসে সেই লিংক দিয়ে যেতো আপনার সামনে। দুই. অন্য একজন সচলের সঙ্গে ধুসর গোধূলিকে গুলিয়ে তাকে 'আপত্তিজনক' ভাষায় সম্বোধন করার কারণে আপনাকে মডারেশনের কাছে অভিযুক্ত করা হতো। যাইহোক, মেসেজের শব্দগুলো এখানে তুলে দিয়ে আপনি এটাই প্রমাণ করলেন যে আপনিও সহ-সচলকে 'আপত্তিকর' ভাষা ব্যবহার করে কথা বলেন। সম্মান করে না।

কোনো সচল যদি আপনার সমালোচনা করেই তবে তাকে কেনো চিনতে হবে আপনার! তার সচল পরিচয় কি যথেষ্ট না আপনার জন্য! তার পোস্টে মন্তব্য করবেন আবার একে-তাকে জিজ্ঞেস করে আরেকজনকে বাজে ভাষা প্রয়োগ করে মেসেজও দিবেন, এইটা কী ধরণের সম্মান দেখানো? আর ব্যক্তি আক্রমনের কারণে তো সেই পোস্ট সরানো হয় নাই যতোদূর জানি। পোস্টের নিচে মডারেশন নোট আছে, ঐটা ভালো করে পড়ে দেখার আমন্ত্রণ জানাই। সমালোচনার ভাষা আপনার এক্সেক্টেড পুতুপুতু না হলেই সেটা 'ব্যক্তি আক্রমন' হয়েছে, এরকম মানসিকতা থেকে সরে আসারও আমন্ত্রণ থাকলো।

কোন জায়গায়, কার কাছে ধুসর গোধূলি কিংবা আসাদুজ্জামান রুমন বলেছে যে এরা দুজন একই ব্যক্তি! কেউ যদি এটা মনে করে থাকে, সেটা তার নিজের ব্যাপার হওয়ার কথা না? কার কাছ থেকে আপনি কী জানলেন, সেই দায়ভারের বন্দুক আমার কাঁধে কেনো? আমি তো কেবল এই ইস্যুকে কেন্দ্র করেই আপনার নামে গুরুতর অভিযোগ আনতে পারি। বাদ বাকি শব্দাবলীর ব্যাপার নাহয় উহ্যই রাখলাম।

আর আপনি যে দাবী করছেন 'এরপর' থেকে ধুসর গোধূলির সাথে মিথষ্ক্রিয়ায় যান নি, কথাটা সর্বাংশে মিথ্যা। আপনি বেশ কয়েকবারই চেষ্টা করেছেন। এ ব্যাপারে আপনার ধৈর্য্য ছিলো না, সেটাও মিথ্যা। বরং বরাবরই ছিলো। তবে সেখানে বাতাস আপনার অনুকূলে ছিলো না এবং ধুসর গোধূলি আপনার সেই মিথষ্ক্রিয়াকে পাত্তা দেয় নি সঙ্গত কারণেই। আপনার মেসেজের পর আপনার সাথে মিথষ্ক্রিয়াতে বলতে পারেন কোনো রুচিই হয় নি।

আপনি আসলে গা বাঁচিয়ে চলেন না স্নিগ্ধা। আপনি চলেন বাতাস বুঝে। সে কারণেই 'ইদানিং' আমার 'বাড়' বেড়ে যাওয়া দেখেন। এই পোস্টে যদি আরও কিছু মন্তব্য পড়তো দ্দীণূর ন্যায় কার্যকলাপের বিপরীতে, ওর প্রতি সহানুভূতিশীলদের প্রতিবাদে, আমি নিশ্চিত আপনার মন্তব্যের ধরণও অন্যরকম হতো। যেমনটা আগেও হয়েছে।

'স্মার্ট ব্যক্তিত্ব'-এর আশেপাশে কোনো কথা আপনার কোটেশনে উঠে আসবে না 'হুবহু', অনিন্দ্যর প্রতি মজা করে বলা কথাটা আপনার কাছে 'আপত্তিকর' ঠেকবে, কিন্তু এই কথাটার মূল যেটা, সেটা উঠে আসবে না আপনার কথায়। কারণ, ঐযে বললাম আপনি বাতাস বুঝে চলেন। পুরো কথা উঠে আসলে সেই বাতাস আর আপনার অনুকূলে ধরে রাখতে পারবেন না। আর এজন্যই কেবল ধুগোর 'চটকানা' আপনার চোখে লাগে, অন্যকিছু ফি সাবিলিল্লা।

হিমুর লেখার/আচরণের সমালোচনা আপনি করেন কি করেন না, সেটা আমার জানার দরকার নেই। সচলে ক্যাচাল কিছু হলেই সবাই গণহারে হিমুকে দোষে, সচলে ধুগোর 'ধারণ' করা নিয়ে 'বিষ্ময়' প্রকাশ করে। "আগের সচলায়তন ভালো, এখনকার সচলায়তন পঁচা"- এই দাবী তুলে কখনো বন্দুকের নল থাকে হিমুর দিকে, কখনো ধুগোর দিকে আবার কখনো বা দুইজনের দিকেই। অথচ এই দুজনের বাইরেও যে 'বাজে' কথা বলা সচল আছেন, সেটা জেনে রাখাটাও যে জরুরী, এটা কেউ ভাবেন না।

সচল থেকে আপাতত নিজেকে সরিয়ে রাখতে গিয়েও সক্ষম হলাম না আপনার গুটি কয়েক মন্তব্যের কারণে। নিজে অন্যায় করে আরেকজনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যায় না স্নিগ্ধা, এটা যতো পরিষ্কার করে বুঝবেন ততোই ধুগোকে কম 'আপত্তিকর' মনে হবে।

ভালো থাকবেন।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

সাইফ তাহসিন এর ছবি

সাইফ তাহসিনের মন্তব্যের ভাষাও বেশ বিরক্তিকর।

ধন্যবাদ স্নিগ্ধাপু, উপযুক্ত সত্যি কথা বলে অন্যের চোখে বিরক্তিকর হতে আমার আপত্তি নেই একেবারেই, অনেক অনেক ধন্যবাদ। মন্তব্য করে আর কিছু না হোক, একজনকে বিরক্ত করতে পেরেছি জেনে গর্ব হচ্ছে।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

স্নিগ্ধা এর ছবি

সাইফ - সাফি'র মন্তব্যে উনি তোমার জায়গায় হলে মডারেটরদের কাছে আমার নামে অভিযোগ জানাতেন বলেছেন। হয়তো তুমিও জানাবে। তবে, আমার জ্ঞানবুদ্ধি অনুযায়ী এর চাইতে ভদ্রভাবে বিরক্তি প্রকাশ করতে আমি পারি নি।

আরেকটা কথা - আগে একবার আমাকে 'তুমি' করে বলতে বলেছিলে বলেই এই সম্বোধন, আপত্তি থাকলে জানালেই চলবে।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

খুব মজা পেলাম আমার প্রতি মন্তব্যে, আপনি আমার মন্তব্যে বিরক্ত হতেই পারেন, এ আর এমন কি? এর জন্যে মডুদাদাদের ডেকে বিচার দেওয়া বা আমাকে ব্যক্তি আক্রমন করা হয়েছে ধরণের কথা বলাটা মশা মারতে কামান দাগানো হয়ে যাবে। সম্ভবত আপনে আমাকে এখনো ভুল বুঝতেছেন, তাতে কোন সমস্যা নেই আমার পক্ষ থেকে।

আর তুমি করে অবশ্যই বলবেন, আপনে আমাকে যেরকম চোখেই দেখেন না কেন, আপনি আমার কাছে একজন শ্রদ্ধার মানুষ হিসাবেই থাকবেন, যেটা আপনার প্রাপ্য। আপনাকে আমি একজন বড়বোন এবং অসাধারণ ব্লগার দৃষ্টিতে দেখি এবং দেখব, ধন্যবাদ।

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

স্নিগ্ধা এর ছবি

সাইফ, মন্তব্যটার জন্য অনেক, অনেক ধন্যবাদ!

এবার 'তুমি' করে বলার কথাটা কেন উল্লেখ করলাম সেটা একটু ব্যাখ্যা করি। আমি বয়সে ছোট বড় নির্বিশেষে সবাইকে সাধারণত 'আপনি' করে বলি, যদি না কেউ আমাকে 'তুমি' করে বলতে বলে। এই সম্বোধন যেমন আমি তোমার চাইতে বয়সে বড় এটা বোঝায়, সেরকম এটা কিছু মাত্রায় ব্যক্তিগত একটা সম্পর্কও বোধহয় নির্দেশিত করে। আমি যেহেতু তোমার মন্তব্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছি, এবং সেটা আপাতদৃষ্টিতে মডারেটরদের কাছে অভিযোগ জানানোর মতো সিরিয়াস ছিলো, আমি নিশ্চিত ছিলাম না তুমি মন্তব্য বিনিময় একটা ফর্ম্যাল রূপ ধারণ করুক সেটা চাও কিনা।

আমি আগেও অনেক সময়ই তোমার মন্তব্যের ভাষা নিয়ে সমালোচনা করেছি। তোমার মনে আছে নিশ্চয়ই। কিন্তু, তুমি কখনই আমাকে অসম্মান করে কিছু বলোনি, আমারও সেটা খুব ভালো করেই মনে আছে।

আর, তুমি অনেক সময়ই নিজের ভুল স্বীকার করো - এই গুণটাকে আমিও শ্রদ্ধা করি, অনেক হাসি

ধুসর গোধূলি এর ছবি

রানা মেহের লিখেছেন:
সবজান্তাকে বলা ধুসর গোধূলির কথা খুব আপত্তিকর মনে হলো।
প্রিয় রানা মেহের, আমার উল্লেখিত কোন বর্ণ, শব্দ বা বাক্য আপত্তিকর মনে হয়েছে উল্লেখ করুন। ব্যাখ্যা দিতে না পারলে আমি নিজেই ধুসর গোধূলি'র ব্যাপারে আপত্তি জানাবো।

এবং এরপর আমি আপনাকে কিছু বিষয় পরিষ্কার করতে আহ্বান জানাবো। আশা করবো আপনি আমার উল্লেখিত সেই বিষয়গুলো পরিষ্কার করবেন।



বিএসএফ—
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকাণ্ড । বিএসএফ ক্রনিক্যালস ব্লগ

রানা মেহের এর ছবি

ভাইরে
এখানে রাত দুটো বাজে। এমনিতেই আমি স্লো টাইপার তার ওপর আজ সচলও স্লো। কাল কাজ শেষে কথা বলি আপনার সাথে? প্লিজ?
-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

-----------------------------------
আমার মাঝে এক মানবীর ধবল বসবাস
আমার সাথেই সেই মানবীর তুমুল সহবাস

লুৎফুল আরেফীন এর ছবি

খুব কম সচলে আসি, জানি না হুটহাট এসে এধরনের মন্তব্য করাটা শোভন কি না। তাও বলি, সচলের আগের সুন্দর পরিবেশটা আজকাল খুব মিস করি। কেউ কেউ কিঞ্চিত অসহিষ্ণু। তর্কগুলো দ্রুত ঝগড়াতে পরিণত হচ্ছে, অপ্রমিত হয়ে পরছে। সচল কিন্তু বাংলা ব্লগিঙের জগতে একটা স্ট্যান্ডার্ড। সেটা সামান্য ম্লান হতে দেখলে খারাপ লাগে।

আরেকটু সহনশীলতা কাম্য। বিশেষ করে সচলের পুরোনো সদস্যদের। নতুনদের আগমন যত ঘটবে এই সহনশীলতার মাত্রাও তত বাড়াতে হবে। কারণ ৫০ জন মানুষ মানে হল ৫০ টা ভিন্ন মন। আর ৫০০ টা মানুষ মানে ৫০০ টা ভিন্ন মন। এই ভিন্নতা ধারণ করতে অসহিষ্ণু হয়ে পরলে সচলে নতুন সদস্য গ্রহনের প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে।

এই লেখার বিষয়ে পরিস্কার এবং মার্জিত প্রতিবাদ ছিল শুরুর সাইফ এবং খানিক পরেই জাহিদ ভাইয়ের মন্তব্য দুটি। এরপরে তর্ক প্রথমতঃ অসহিষ্ণু আলোচনা এবং আরও পরে রীতিমতন ঝগড়াতে পরিণত হয়েছে। আর এই ঘটনা আজকাল পৌণঃপূনিকভাবে ঘটতে দেখি।

লেখককে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। সেটা কোন অসুবিধা নয় বলেই মনে করি। দেখলাম, লেখক শুরুতেই মডারেশনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, লেখাটি প্রকাশ করার অনুমতির বিষয়ে। সুতরাং সেইখান থেকেই বিষয়টি লেখককে জানানো যেত, মূলতঃ মেইলের মাধ্যমে। তিনিও বুঝতেন বলেই মনে হয়। আর সেটা যদি নাও হয়ে থাকে, কোন ক্ষতি নেই (মডারেটরদের খেয়ে দেয়ে আরও অনেক কাজ আছে), যারা নিয়মটা জানেন, তারা লেখককে সোজাভাবে বললে ক্ষতি দেখি না। আরও সহজ হচ্ছে লেখাটিকে 'আপত্তিকর' হিসেবে চিন্হিত করা।
সচলের ফিচারগুলো তো সদস্যদের ব্যবহারের জন্যই আছে।

পুরো মন্তব্য আমার নিজের ব্যক্তিগত অভিমত।
মোদ্দাকথা, তিক্ততা, তর্কের বদলে ঝগড়া - এসব দেখে ভাল লাগে না। আর সচলে তো নয়ই।

লেখকের কাছে ক্ষমা চাইছি, ওনার পোস্টে এসে অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করার জন্য। অনুরোধ করছি, ভবিষ্যতে নিজের লেখাই কেবল পোস্ট করতে। আমি নিজেও একবার পত্রিকার খবর পেস্ট করেছিলাম, অন্যায় করেছিলাম। পরে আর করি নি। বিষয়টা নিয়ম পরিপন্থী।

স্বাধীন এর ছবি

পুরো মন্তব্যেই সহমত, বিশেষ সহমত এই কথাটিতে

সচলের আগের সুন্দর পরিবেশটা আজকাল খুব মিস করি।

পুতুল এর ছবি

সহমত।
**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

**********************
ছায়াবাজি পুতুলরূপে বানাইয়া মানুষ
যেমনি নাচাও তেমনি নাচি, পুতুলের কী দোষ!
!কাশ বনের বাঘ!

স্নিগ্ধা এর ছবি

সম্পূর্ণ সহমত!

নীলকান্ত এর ছবি

সহমত।

---------------------------------------------------------------
প্রতিনিয়ত চিনছি নিজেকে


অলস সময়

অনিকেত এর ছবি

সচলের আগের সুন্দর পরিবেশটা আজকাল খুব মিস করি

এক্কেবারে মনের কথাটা বলেছেন আরেফীন ভাই।

লুদমিলা কেমন আছে? ওকে নিয়ে একটা পোষ্ট দিন না----

কালো-মডু এর ছবি

প্রিয় ধুসর গোধূলি,

সচলায়তনে সহসচল ও অতিথিদের প্রতি আপনার আচরণ ক্রমশ অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তন উদ্বেগজনক।

আপনি যদি নিজের আচরণ নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, মডারেশন সে নিয়ন্ত্রণের ভার নিজেদের হাতে তুলে নেবে।

ভবিষ্যতে সংযত আচরণের অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ।

অনুপম ত্রিবেদি এর ছবি

এভাবে আসলে পড়তে চাইনা। যার লেখা তিনি যদি আগ্রহ প্রকাশ না করেন তবে তা ব্লগে দেয়াটা যুক্তিযুক্ত হবে বলে আমি মনে করি না। এরকম পোস্টগুলো নিরুৎসাহিত করা হয় বলে আমি জানি। নিজের একাউন্ট থেকে যতটুকু সম্ভব নিজের লেখাই পোস্ট করা উচিৎ।

অটঃ সচলে অতিথি হিসেবে আছি এখনও এক বছর হয়নি। কিন্তু এখানে ঢুঁ মারি প্রায় প্রথম থেকেই। কিন্তু ইদানিং পরিবেশ হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে কিন্তু ঠান্ডা না হয়ে তা ক্রমশঃ উত্তপ্তই হতে থাকে। এটা খুব ভালো লাগে না। আগের অনেক 'গরম' পোস্টে কোনো মন্তব্যই করিনি ... কিন্তু এবার মন্তব্য না করে আর পারলাম না।

ধন্যবাদ।

==============================================
ভাষা হোক উন্মুক্ত

==========================================================
ফ্লিকারফেসবুক500 PX

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

একটা লেখক সমাবেশে নানা ধরনের লেখা হয়, নানা মতের মানুষ এখানে লেখে, মন্তব্য করে। অনিকেত ভাইয়ের আগের অনেক লেখার (অনেক অংশে) আমি বলা যায় নীরব সমর্থন দিয়েছি। কিন্তু আজ একটা কথা বলতে চাইছি; সেই সাথে লুৎফুল ভাই কেও:

আমি নিজের প্রতি একটু পক্ষ নিয়েই যেটা বলতে চাই সেটা হলো আমি সচলে মোটামুটি সবসময়ই লগড-ইন থাকি, বলা যায় সচলের সব পোস্টে কি হয় না হয় সে বিষয় আমি ভালই ওয়াকিবহাল (আমি পোস্ট মডারেশনের কোন দায়িত্বে নেই)। সেই আলোকে আমার অনুভূতি হচ্ছে অনেক লেখা ও মন্তব্যের মধ্যে যদি ১ থেকে ২ শতাংশ লেখায় কিছুটা উষ্ণ / উত্তপ্ত মন্তব্য বিনিময় হয় সেটাকে 'সচল আগের মত নেই' বা 'আগে অনেক ভাল ছিল' এমন তকমা দেয়াটা সঠিক মনে হয় না।

আপনারা সম্ভবত গত কয়েকদিনের দুই/তিনটি ঘটনার আলোকে এরকম অনুভূতি ব্যক্ত করলেন। আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই যে দোষ-গুন মিলিয়েই আমরা সবাই। সাধু কেউ নই। আপনাদের চোখে শুধু এরকম উত্তপ্ত মন্তব্যগুলোই চোখে পড়লো, আর ভালো কিছু চোখে পড়লনা?

আমার ধারণা আপনারা সচল পড়েন না। সেজন্যই মাঝে মাঝে এসে এরকম মন্তব্য করে যান। অনুমান খুবই খারাপ জিনিস, তবুও এই অনুমানটুকু আমি করলাম নিজেকে শান্ত্বনা দেয়ার জন্য। আরেকটু সময় দিন, ভুল গুলো সাথে সাথে ধরিয়ে দিন। এই কমিউনিটিকে যদি সত্যিই ভালোবেসে থাকেন, এর ভালো চেয়ে থাকেন, তাহলে সেটাই হবে সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। ধন্যবাদ।

সাইফ তাহসিন এর ছবি

চলুক
পিপিদা রক্স, এখন ঝটপট একটা ছবিব্লগ ছাড়েন বস। আর সামার শেষ হবার আগে নিউ ইয়র্ক আইসা পরেন, সচলাড্ডা করুমনে সবাইরে নিয়ে। তারপর গরমাগরম সচলাড্ডার ফটুক ঝুলামু সচলে দেঁতো হাসি

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

এখন হবিনানে রে ডাক্তার। তয় পার্মানেন্ট জব দিলি পার্মানেন্টটি চলি আসতি পারি হাসি

সাফি এর ছবি

চমৎকার বলেছেন পিপিদা। সচলের গত কয়েকদিনের লেখার অনুসারে, বর্তমানে এই লেখার ক্রমিক ২৩। আমি প্রথম ৬০টা লেখার মধ্যে দেখলাম ২টি লেখা আছে যেখানে "সচলের পরিবেশ কলুষিত হয়েছে" বলে মনে হতে পারে। এই লেখার আর মাসকাওয়াথ সাহেবের লেখা, ক্রমিক ৩৩। মাসকাওয়াথ সাহেবকে নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই, আমার ধারণা উনি নিজেই বিতর্কিত হতে পছন্দ করেন। আর এই লেখায় ধুগোর মন্তব্যের কয়েকটা কথা পড়ে যদি মনে হয় উনি তেড়ে ফুড়ে গেছেন সবজান্তার দিকে, তাহলে বলি প্রথম চিমটিটা কিন্তু সবজান্তাই কেটেছে। ব্যক্তিগত খেদ এর যে উল্লেখ এসেছে সেই মন্তব্যে, সেটা মাসকাওয়াথ সাহেবের লেখার মন্তব্যগুলোর প্রেক্ষিতে করা হয়েছে।

সচলে অসহিষ্ণুতা নিয়ে যখনই কথা ওঠে তখনই পরিচিত কিছু মুখ ঘুরে ফিরে "সহমত", "ভীষন ভাবে সহমত" জানিয়ে যান। এসব দেখলে সচলের প্রতি ভালবাসা/দুশ্চিন্তার আড়ালে ব্যক্তিগত কোন পয়েন্টকে প্রতিষ্ঠা করার মনোভাবটাই প্রভাব ফেলে কিনা কে জানে!

সাইফ তাহসিন এর ছবি

দারুণ কইছো বস! আর এর পাশাপাশি আরেকটা কথা কিন্তু বলতেই হবে, যারা বলতেছেন, আগের সচলায়তনকে খুজে পাননা, তারা শেষ কবে লিখেছেন? কেউ লিখবেন না, সচলায়তন আগের মত থাকবে কিভাবে?
=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

=================================
বাংলাদেশই আমার ভূ-স্বর্গ, জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী

অনিকেত এর ছবি

সাবাস সাফি! দারুণ বলেছ--
চলুক

সবজান্তা এর ছবি

আর এই লেখায় ধুগোর মন্তব্যের কয়েকটা কথা পড়ে যদি মনে হয় উনি তেড়ে ফুড়ে গেছেন সবজান্তার দিকে, তাহলে বলি প্রথম চিমটিটা কিন্তু সবজান্তাই কেটেছে। ব্যক্তিগত খেদ এর যে উল্লেখ এসেছে সেই মন্তব্যে, সেটা মাসকাওয়াথ সাহেবের লেখার মন্তব্যগুলোর প্রেক্ষিতে করা হয়েছে।

ঠিক কীভাবে আমি চিমটি কাটলাম, জানতে চাই।

আমাকে কেউ একটু চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেন- কোথায় আমি সুমন রহমানের নাম বলেছি। স্রেফ পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করার জন্য আমার খুব সাধারণ একটা মন্তব্যে সুমন রহমানের টানা হয়েছে। আমি কাকে অসাধারণ বলবো এইটা কি আমাকে পাড়া মহল্লার লোকের থেকে শেখা লাগবে ? আমার সাধারণ একটা মন্তব্যের জবাবে কেউ যদি ওইরকম জবাব দিতে পারে, তবে চিমটি কীভাবে আমি কাটলাম ? নাকি আমাকে মহাত্মা গান্ধী হইতে হবে ? এক গালে চড় খেয়ে আরেক গাল পাততে হবে।

জানার অপেক্ষায় থাকলাম।

অট: দ্রোহীদার অনুরোধে এই পোস্টে আর মন্তব্য করা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলাম। কিন্তু এই ধরনের অর্থহীন অভিযোগ শোনার পর মন্তব্য না করে পারলাম না।


অলমিতি বিস্তারেণ

অনিকেত এর ছবি

চমৎকার মন্তব্য পিপি'দা!

ভাল থাকবেন।।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

অনিকেত ভাই, আপনি হয়তো আমার উপর কোন কারণে অভিমান করেছেন। তার প্রমাণ আমার কাছে আছে। আর সেজন্যই হয়তো আপনার মন্তব্যেও সেটা ফুটে উঠলো। মন খারাপ

আপনাকে আরেকটু নিয়মিত হতে অনুরোধ জানাই।

স্বাধীন এর ছবি

পিপি'দা দ্বিমত জানিয়ে গেলাম। এটা অনেকটা বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি এরকম একটি বক্তব্যের মত মনে হচ্ছে। অন্যদের কথা বলতে পারবো না, কিন্তু নিজের কথা বলে যাই। সচলে নিয়মিতই আসি, মন্তব্যও করি, লেখাও দিয়েছি বেশিদিন হয়নি। সচলে আছি এক বছরের চেয়ে বেশ কিছু বেশি সময় ধরে। আমার এটা বলতে বাধা নেই আমি যখন সচলে নিবন্ধন করি তখনকার সচলের পরিবেশ এখনকার তুলনায় অনেক ভাল ছিল। তর্ক/বিতর্ক যে হতো না তা নয়, কিন্তু এরকম সহসচলের সাথে ব্যক্তি আক্রমন পর্যন্ত বেশি যেত না।

যদি বর্তমান পরিবেশ অসিহষ্ণু না হতো তবে কেন কিছুদিন আগে নুতন নীতিমালা হল, বেশ কয়েকজনকে সতর্ক করা হল। তাই এটি অস্বীকার করে বসে থাকলে কি আর প্রতিষ্ঠানের ভাল হবে? অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকবে? তবে একটি বিষয় আগের চেয়ে ভাল হয়েছে তা হচ্ছে মডারেটররা আগের চেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা পরিবেশকে আরো খারাপ হওয়া হতে বিরত রাখছে। তাই আপনার অনুমানটি বলবো ভুল। ভাই সচলে আগের পরিবেশ নেই এই লেভেল লাগিয়ে কি আমরা নুতন ব্লগ খুলবো? নাকি সকলে যেন পরিবেশ ভাল রাখার জন্য সচেষ্ট হয় সে জন্যেই বলে।

এই বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে অবাক করে যে যখন কেউ ব্লগের ভাল চেয়ে সকলকে সহিষ্ণু হওয়ার আহবান জানাচ্ছে, তখন সকলের উচিত সেই বক্তব্যকে স্বাগত জানানো। কিন্তু ঠিক উল্ট কাজ করে সেই ব্যক্তিকে প্রকান্তরে বুঝিয়ে দেই যে যা বলছেন বহুত বলেছেন, আর আগে বাড়িয়েন না।

স্যরি, যদি মন্তব্যে কোন ভুল বলে থাকি। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতেই শিখেছি। সচলের পরিবেশ আগের মত নেই, এটা বলতে আমার দ্বিধা নেই। সচল এখন অনেক বেশি অসহিষ্ণু এবং প্রতিক্রিয়াশীল। যে কোন মন্তব্য করে ভয়ে থাকতে হয়, কে কখন কোথা দিয়ে আক্রমন করে। আপনি তো বহুদিন লিখেন না, অমুক ব্লগে বেশি লিখেন, নিজের ব্লগ ছাড়া মন্তব্য করেন না, লিখেন তো ছাই-পাশ, সচলতো পড়েন না, শুধু আলু পোঁড়া খাইতে আসেন, সহসচলের নাম বিকৃতি, এ জাতীয় মন্তব্য এখন খুব সাধারণ মন্তব্য। এর পরেও যদি বলেন পরিবেশ আগের চেয়েও খারাপ হয়নি, আগের মতই আছে, তবে বলার কিছু নেই।

যদি ভুল বলে থাকি শোধরে দিবেন, কোন সমস্যা নেই। আমিও আপনার কথাই বলবো, যদি কমিউনিটিকে ভালই বাসেন তবে সত্যকে অস্বীকার না করে ব্রং সেটাকে স্বীকার করে সেটা রোধের জন্য চেষ্টা করা বরং কমিউনিটির জন্য উত্তম। ভাল থাকবেন।

হিমু এর ছবি

আপনি তো বহুদিন লিখেন না, অমুক ব্লগে বেশি লিখেন, নিজের ব্লগ ছাড়া মন্তব্য করেন না, লিখেন তো ছাই-পাশ, সচলতো পড়েন না, শুধু আলু পোঁড়া খাইতে আসেন, সহসচলের নাম বিকৃতি, এ জাতীয় মন্তব্য এখন খুব সাধারণ মন্তব্য।

আমি আপনার সাথে বহুলাংশে একমত হলেও, এই উদ্ধৃত অংশটুকুর ব্যাপারে গুরুতর দ্বিমত পোষণ করতে চাই। কেউ বহুদিন না লিখলে তার অনুরক্ত পাঠকেরা বলতেই পারেন, যে আপনি বহুদিন লেখেন না। কিন্তু সচলায়তনে তো কেউ কাউকে "অমুক ব্লগে বেশি লেখেন" "লেখেন তো ছাইপাশ" বলেন না কিংবা সহসচলের নাম বিকৃতি করে বেড়ান না! আপনি নিজে সচল বাদে অন্য ব্লগে সচলের চেয়ে বেশি সক্রিয়, কিন্তু এই অভিযোগ কি আপনাকে সচলায়তনে কেউ করেছে? বা অন্য কাউকে? কোট করবেন প্লিজ। "ছাইপাশ লেখেন" ধরনের মন্তব্যও সচলেও একজন সচল আরেকজনকে করেছেন বলে আমার মনে পড়ছে না, কারণ এ ধরনের মন্তব্য দেখলে আমি নিজেই তর্কে জড়িয়ে পড়ি। আর সহসচলের নাম বিকৃতির একটিই উদাহরণ এসেছে, কুলদা রায় সেটির জন্যে তিরস্কৃত হয়েছেন। আপনি এটাকে খুব চলতি একটা ঘটনা বানিয়ে দিলেন। বানিয়ে দিয়ে বললেন সচলের পরিবেশ সাংঘাতিক অসহিষ্ণু, এখানে টেকা দায়। এটা হচ্ছে আপনার পর্যবেক্ষণের ত্রুটি। পরিবেশ জিনিসটা সক্রিয়ভাবে ঠিক রাখতে হয়। আপনি সাধুবাদ পেতে পারেন কারণ এ চেষ্টাটা আপনার মধ্যে আছে। কিন্তু আপনি এ-ও স্বীকার করবেন, আমাদের নিষ্ক্রিয়তা বা নিরবতাই হয়তো পরিবেশকে অসহিষ্ণুতার দিকে ঠেলে দেয়।

নিজের ব্লগ ছাড়া অন্যত্র মন্তব্য না করা একটা বিশ্রী আত্মকেন্দ্রিকতার পরিচায়ক, এ ব্যাপারে অনেককেই অনুরোধ করা হয়েছে সক্রিয় হবার জন্যে, সবাই সাড়া দিতে পেরেছেন এমনটা বলা যাবে না। তারপরও জিনিসটা স্মরণ করিয়ে দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আর আলুপোড়ার প্রসঙ্গটা শুধু শুধু আসে না। কেবল কলহের সময় সমবেত হয়ে মূল্যবান মত রাখবেন সচলরা, এ জন্যে সচলায়তন নয়। সচলায়তন লেখার জায়গা, এবং সচলদের কাছ থেকে আরো সক্রিয়তা পাঠক হিসেবে আশা করি লেখার পাতায়।

যে কোনো কমিউনিটির তাৎক্ষণিক পরিচয় মিলবে তার সক্রিয় অংশের মাধ্যমে। সচলে সবাই সমান সহিষ্ণু, এমন দাবি কেউ করছে না। কেউ কম, কেউ বেশি। যারা বেশি সহিষ্ণু, তারা সক্রিয় থাকলে সচলায়তনের চেহারাও বেশি সহিষ্ণু থাকবে। এটি সরল গণিতের ব্যাপার। কাজেই যারা নিজেদের অন্যের চেয়ে বেশি সহিষ্ণু বলে মনে করেন বা দাবি করেন বা প্রতীয়মান করতে ইচ্ছুক, তাঁদের প্রতি অনুরোধ, আসুন আমরা আরেকটু সক্রিয় হই। পোস্ট দিন, মন্তব্য করুন, "আগের সচলায়তন"কে ফিরে পাবেন।



বুকে BOOK রেখে বন্ধু চলো আজ যাবো বরাহশিকারে মোরা ধার ধার ধার দিও বল্লমে ♪♫

স্বাধীন এর ছবি

আমি আপনার সাথে বহুলাংশে একমত হলেও, এই উদ্ধৃত অংশটুকুর ব্যাপারে গুরুতর দ্বিমত পোষণ করতে চাই।

অন্তত বহুলাংশে একমত হতে পেরেছো তাই ধন্যবাদ জানাই। আমার যে অংশটুকু কোট করেছো সেটা সাধারণ ঘটনা না যদি গত কয়েকদিনের বা এক মাসের টাইম ফ্রেমে ধরি। আমি চিন্তা করছি গত ছয়/আট মাসের কথা। তারপরেও নিজের পর্যবেক্ষনের ত্রুটি স্বীকার করি। কিন্তু আমি বলিনি সাংঘাতিক অসহিষ্ণু, বা টেকা থাকায় দাঁয়, এমন বক্তব্য গুলো আমার মুখে ঠেলে না দেওয়ার অনুরোধ রইল।। আমার নিজের পর্যবেক্ষনে এমন কিছু দেখেছি যা অতীতে কখনো দেখা যায় নি। আমার এই এক বছরের বেশি সময়ে কখনো কোন অতিথিকে বা হাচলকে দেখিনি সহ সচলের সাথে তর্কে লিপ্ত হতে বা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে। এই ব্যাপারে সচলের সকলের জিরো টলারেন্স ছিল এবং সচলের সকলের ইউনিটি ছিল। কিন্তু সেটাও দেখেছি এই গত একমাসে।

পরিবেশ জিনিসটা সক্রিয়ভাবে ঠিক রাখতে হয়। আপনি সাধুবাদ পেতে পারেন কারণ এ চেষ্টাটা আপনার মধ্যে আছে। কিন্তু আপনি এ-ও স্বীকার করবেন, আমাদের নিষ্ক্রিয়তা বা নিরবতাই হয়তো পরিবেশকে অসহিষ্ণুতার দিকে ঠেলে দেয়।

যে কোনো কমিউনিটির তাৎক্ষণিক পরিচয় মিলবে তার সক্রিয় অংশের মাধ্যমে। সচলে সবাই সমান সহিষ্ণু, এমন দাবি কেউ করছে না। কেউ কম, কেউ বেশি। যারা বেশি সহিষ্ণু, তারা সক্রিয় থাকলে সচলায়তনের চেহারাও বেশি সহিষ্ণু থাকবে। এটি সরল গণিতের ব্যাপার।

পুরো কথাতেই একমত। তবে দ্বিমত হচ্ছে যে শুধু যারা বেশি সহিষ্ণু তাঁরা সক্রিয় থাকলেই সচলায়তনের চেহারা সহিষ্ণু থাকবে না। তাঁরা একা কিছুই করতে পারবে না যদি না অন্যান্য সদস্যরা তাঁদেরকে সাপোর্ট করে। গাণিতিক নিয়মেই বেশি সহিষ্ণু এবং বেশি অসহিষ্ণু এদের দল থাকবে কম। ভাল/মন্দ মিলিয়ে মানুষই থাকবে সংখ্যায় বেশি। এরা যেদিকে সাপোর্ট করবে সেটাই প্রতিফলিত হবে। কথা ঠিক, এরা যদি নিষ্ক্রিয় থাকে তবে পরিবেশ অসহিষ্ণুওতার দিকেই চলে যাবে। তাই সব সময় শুধু কিছু চেনা মুখই বলে যাবে সেটা মনে হয় বেশিদিন চলবে না। সকলকেই সক্রিয় হতে হবে।

প্রকৃতিপ্রেমিক এর ছবি

স্বাধীন ভাই,

আপনার মন্তব্যে আমি লাইক দিচ্ছি। কারণ আপনি আবারো দেখিয়ে দিলেন কিভাবে মেজাজ ঠিক রেখেও বিরুদ্ধমতের প্রকাশ ঘটানো যায়।

তবে আমি আমার মন্তব্য অটল থাকছি। কারণ সম্ভবত দৃষ্টিভঙ্গির। আমি দুইটা পোস্টে কিছু ছাড়া-আলোচনাকে সমগ্র কমিউনিটির দোষ হিসেবে দেখিনা। এটা হয়তো আমার সীমাবদ্ধতা।

স্বাধীন লিখেছেন:
আমিও আপনার কথাই বলবো, যদি কমিউনিটিকে ভালই বাসেন তবে সত্যকে অস্বীকার না করে ব্রং সেটাকে স্বীকার করে সেটা রোধের জন্য চেষ্টা করা বরং কমিউনিটির জন্য উত্তম।

সত্যকে অস্বীকার করছিনা, বরং সত্যকে সত্যকে স্বীকার করে নিয়েই বলছি সচলে যাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশী সমালোচনা বিতর্ক হতো তার পরিবর্তনটুকু কি আপনি উন্নয়ন বলতে চাচ্ছেন না?

নীতিমালার কথা যা বললেন, এটা ঠিক যে সময়ের সাথে আমরা নিজের ব্যক্তি জীবনের নীতিমালাও কিন্তু পরিবর্তন করি, শোধরাই, তারপর এগিয়ে যাই। যে পিতামাতা শুধুই দোষটুকু ধরে, কিন্তু ভালোর প্রশংসা করেনা সেই সন্তান সম্ভবত ঠিত ভাবে বেড়ে ওঠে না।

আপনি এবং আপনারা (দু:খিত সবার নাম উল্লেখ না করেই বলছি) যারা বলছেন সচল আগের মত নেই, তাদের কাছে প্রশ্ন করি, কতদিন আগের মত'র কথা বলছেন? সচলের জন্মের সময়কার কথা বলছেন? তখন কয়জন মানুষ লিখত আর এখন কয়জন মানুষ লেখে?

এভাবে তর্ক হয়তো বাড়ানো যাবে কিন্তু সেটা আমার ইচ্ছে নয়। সচলায়তনের এই ঘটনাকে আমি স্বাভাবিকই বলব।

শুভাশীষ দাশ এর ছবি

কড়া মন্তব্য আমিও করি। জানি না আমার মুখে এইসব কথা মানায় কিনা।

যেকোনো ধরণের ব্যক্তিগত ক্ষোভ রাগ নিজেদের মধ্যে রাখলে ভালো। মন্তব্য করার সময় এই জিনিসটা মাথায় রাখতে বলি।

সচলায়তনের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে টাইপ সিল যাঁরা মারছেন তাঁদেরকে অনুরোধ করি এই কাজটা আর না করার জন্য। ব্লগে কথার বিপরীতে কথা আসবেই। সব কথা যে মাপা লেংথে ভালো হয়ে আসবে সেটার সম্ভাবনা কম। বেশি মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে মডারেটরদের হস্তক্ষেপ তো হচ্ছেই। এটুকুতে আস্থা রাখতে ক্ষতি কী!

সবজান্তা, অনিন্দ্য ও স্লিগ্ধাদিকে বলা ধুসর গোধূলির মন্তব্যগুলো পছন্দ হয়নি। একটু ঠান্ডা মাথায় নিজের কথাগুলো বিবেচনা করে দেখতে অনুরোধ করি।

ভালো থাকুন। ভালো রাখুন।

বেগুনী-মডু এর ছবি

আলোচনা প্রচণ্ড রকম বিপথগামী, অপ্রাসঙ্গিক, ও সংঘাতপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় এই পোস্টে মন্তব্য করার সুযোগ রহিত করা হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে তৈরি হওয়া কিছু ক্লাস্টারিং-ও প্রত্যক্ষ হয়ে উঠছে দিনে দিনে। সকল সচলকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে দায়িত্বশীল ও সদাচারি হতে। মডারেশনের হস্তক্ষেপের চেয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ অনেক প্রীতিকর সমাধান।