আজাইরা প্যাচাল

রায়হান আবীর এর ছবি
লিখেছেন রায়হান আবীর (তারিখ: সোম, ০৬/১০/২০০৮ - ৩:০৬অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

ক্যাডেট কলেজের ছেলেদের অনায়াসে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়া যায়। একদল যাদের লক্ষ থাকে প্রচণ্ড বিদ্বান হবার, এই জন্য তারা ত্রিকোণমিতির এসএউ আহমেদের বইয়ের পাশাপাশি হারুনুর রশীদের বইও সমাধানের চেষ্টা চালায়। বাকিদের 'চির উন্নত মম শির', মানে হাঁটু-বাহিনীতে যোগ দেয়া আর কি। এই পার্টি পড়ালেখা বাদে কলেজের অনান্য সকল কাজে আত্মনিয়োগ করে। স্যারদের টিজ করা, কোন ফ্রেন্ড কোনদিন ভুল করে কোন শব্দ উচ্চারণ করেছে তা নোট করে বাকিদের জানান দেয়া, কলেজের ডাবগুলো যেন পানি ধারণেরও সময় না পায় তা নিশ্চিত করা, সর্বোপরি তারা যে বস তা সকলে যেন জানতে পারে তার ব্যবস্থা করা। অতন্ত্য গর্বের সাথে বলতে হয় আমি ছিলাম এই পার্টির নেতা গোছের একজন। রাজনীতিতে নেতা হতে চাইলে একজনকে যেমন কিছুদিন হাজত বাস করতে হয়, কলেজেও ঠিক একই ব্যপার। বড় মাপের কয়েকটা ধরা না খেলে কেউ ঠিক নেতা বলে মেনে নিতে চায়না। আমাকেও খেতে হয়েছে। প্রথম বড় মাপের ধরা খাই এসএসসি 'র উচ্চতর গণিত পরিক্ষার আগের রাতে।

সারারাত অংক করতে হবে এই চিন্তায় মাথা যখন অস্থির তখন চাপ মুক্ত হবার জন্য ডিনারের আগেই বিড়ি ফুঁকার শখ জাগল। শখের দাম লাখ টাকা। রাত ৮ টা বাজে। স্যারদের হাউসে থাকার দুই কোটি ভাগ সম্ভাবনা। হাউসে ধরাইলেই কেলেংকারি। কু-কর্ম সম্পাদনার জন্য তাই হাউসের পশ্চাদ্‌দেশটাই বেছে নিলাম। কিন্তু হায় যেই না বাইরে পা দিয়েছি অমনি টপ টেরর শামিম স্যারের সামনে। আমার হাতে তখন জলজ্যান্ত একটা গোল্ডলীফ সিগারেটের প্যাকেট। উত্তেজনায় পকেটে না ঢুকিয়েই বের হয়েছি। শামিম স্যার আমার হাত থেকে প্যাকেট টা নিলেন। এবং চাঁবাতে চাঁবাতে বললেন, "আজকে একজনকে বের করেছি। তুমিও রেডি হও"। সেই একজনটা কে তা চিনতে অসুবিধা হলনা। গত শুক্রবার পবিত্র দিনে তিনি প্রচণ্ড অপবিত্র কাজ করে ফেলেছিলেন। লোকমুখে জানা গিয়েছিল জুনিয়রটির অবস্থা মরণাপন্ন। তাকে মেডিনোভা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কলেজের অন্যান্য ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের বাঁচাতে কর্তৃপক্ষ তাই তাকে আজীবনের জন্য বাধাদান করে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়েছে। এই বিবেচনায় আমার অপরাধ অত্যন্ত নগন্য। তাও হুমকি বলে কথা। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। পরদিন পরীক্ষা শুরু হবার ৪৯ মিনিট পর খেয়াল করলাম আমি সেটের একটা অংক বাদে আর কিছুই তখনও স্পর্শ করি নাই। সবাই জান দিয়ে যুদ্ধ করছে, আর তখন আমি মনে মনে ভাবছি আমার বাবাজানের রুদ্র মূর্তির কথা।

অদ্ভুত কারণে তখনকার কলেজ ক্যাপ্তেনের সাথে আমার ভাল সম্পর্ক ছিল। শামিম স্যারের হাত থেকে কোন প্রতিদান ছাড়াই (!!) তিনি আমাকে সে যাত্রায় বাঁচিয়ে আনলেন। ধরা খাওয়ার ইতিহাস সেখান থেকেই শুরু। এরপর শেরকি, বেদাতি নানা কর্মকাণ্ডে বহুজন আমাকে কব্জা করেছিলেন। কই মাছের প্রাণ বলে কথা। হাইপার ড্রাইভ দিয়ে সবগুলা থেকেই ফিরে আসছি। কিন্তু ক্লাস টুওয়েলভে এসে কি যে হল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন তিনটা ধরা খেয়ে গেলাম। প্রতিটা প্রিন্সিপাল স্যারের নিকট জমা পড়ল। কারণগুলো হাস্যকর। একটা মসজিদে নকশা করা গোল টুপি পড়ে যাওয়া। নিয়ম হল নকশা ছাড়া গোল টুপি পরিধান। আরেকটা, পুলওভার খুঁজে পাচ্ছিলাম না, তাই পিটি গ্রাউন্ডে না গিয়ে রুমে চুপচাপ বসে আল্লাহ আল্লাহ করছিলাম। ভাগ্যের কি লিখন সে দিনই মহামান্য এডজুটেন্ট স্যার মাথা গণনা করলেন এবং যথারীতি ধরা খেলাম। এই সকল কারণে এডজুটেন্ট সাহেব যখন রাত্রে তার নিজের রুমে আমার একান্ত সাক্ষাৎ কামনা করে ডেকে পাঠালেন তখন জানতে পারলাম আমার টাইয়ের নট ঢিলা ছিল। এইটা তৃতীয় কারণ। ফলশ্রুতিতে অতি দ্রুত হাউসে আমার নামে নোটিস চলে আসল। আগামী নয় দিন আমার আর গেমস করা হবেনা। তার পরিবর্তে সেই সময়টুকু খাকি পোশাক পরে ইটের বস্তা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে।

এডিশনাল তথ্য হিসেবে জানতে পারলাম আমার মগজ ধোলাইয়ের দায়িত্ব এ যাত্রায় এডজুটেন্ট নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। এবারও বেঁচে গেলাম। বেঁচে গেলাম বলা ঠিক না। প্রথম দিনের ডোজের ১৬ মিনিটের মাথায় অজ্ঞান হয়ে গেলাম। আমাকে অতিদ্রুত ঢাকাস্থ সিএমএইচ হাসপাতালে প্রেরণ করা হল। দুই সপ্তাহ পর কলেজে ফিরে আসলাম। আমাকে দেয়া শাস্তি ততদিনে মেয়াদ-উত্তীর্ণ। তাতে অবশ্য কিছু লাভ হলনা। নতুন করে রিচার্জ করে তা ফেরত পাবার জন্য এডজুটেন্ট আমার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন। জানিয়ে দিলেন তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন আমি যেন ঠিক ভাবে জীবন যাপন করতে না পারি এই ব্যবস্থা তিনি খুশি মনে করবেন। আমি তার বউয়ের বয়ফ্রেন্ডের চাইতেও বড় শত্রু হয়ে গেলাম। কিন্তু তাতে কি বা আসে যায়। আমি তখন ডাক-সাইটে বিখ্যাত নেতা। রাজনীতিবিদদের মতো আমি কিছুদিনের মধ্যেই নতুন একটা দল খুলে ফেললাম। এই দলের মূলনীতি তারা কোথাও চান্স পাবার জন্য ভাল ছাত্রদের মতো ফাইট করবে না, একইসাথে হাঁটু-বাহিনীতে যোগদান করে নিজের জীবনটাকে কুয়ার ড্রেনে বিসর্জন দেবেনা। কলেজ থেকে বের হবার তিন মাস পর কোথায় থাকব তা বের হবার দুই মাস পনের দিন পর দেখা যাবে। এই ধরণের মধ্যবর্তী অবস্থা। দলের অনান্য সাংবিধানিক নিয়ম কানুন আমার পূর্ববর্তী দলের অনুরূপ।

এই করতে করতে একদিন কলেজ জীবন শেষ হয়ে গেল। এডজুটেন্ট স্যার তার কথা রেখেছিলেন। কলেজ থেকে বের হবার আগে আমি নিজের টেস্টিমোনিয়ালটা দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেখানে তিনি আমাকে তেল ছাড়া আছোলা বাঁশ দিয়ে রেখেছিলেন। দেখে মনটা বিস্বাদে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। দ্রুত ব্যাচের সবাইরে জানালাম এই তথ্য। বলে দিলাম তোদের সবারটার একই অবস্থা কববে ব্যাটা। এই টেস্টিমোনিয়াল দেখলে তোদের কারও আর হাঁটু হওয়া হবেনা। তোরা শেষ। এক্কেবারে শেষ। দুঃখী মনে তারা কলেজ ত্যাগ করল। অবশ্য এই ক্ষতিতে ব্যাটাদের কারোর কিছু হয় নাই। ৫০ টার মধ্যে ২৬ টা হাঁটুবাহিনীতে চান্স পেয়ে বিরাটা রেকর্ড করে ফেলল...আমি অবশ্য সামান্য মাইনকার চিপায় পড়ে গেছিলাম। সেইটা নিয়া আরেকদিন প্যাচাল পারা যাবে।

গড় রেটিং

(১ ভোট)

Trackback URL for this post:
http://www.sachalayatan.com/trackback/12564

লিখেছেন রায়হান আবীর (তারিখ: বুধ, ২০০৮-০২-২০ ০২:৩১)
উদ্ধৃতি | রায়হান আবীর এর ব্লগ | ৯টি মন্তব্য | পছন্দের পোস্টে যুক্ত | আপত্তি জানান | ১৮৩বার পঠিত

Views or opinions expressed in this post solely belong to the writer, রায়হান আবীর. Sachalayatan.com can not be held responsible.

১ | দ্রোহী | বুধ, ২০০৮-০২-২০ ০৩:১৫

আহারে..........হাঁটুরে হইতে পার্লেন না?
কি মাঝি? ডরাইলা?

উদ্ধৃতি | ঘ্যাচাং | reply | আপত্তি জানান | লেখককে মেসেজ

১.১ | রায়হান আবীর | বুধ, ২০০৮-০২-২০ ১৩:৫৬

হাতে নাই...

উদ্ধৃতি | ঘ্যাচাং | সম্পাদনা | reply | আপত্তি জানান

২ | ধুসর গোধূলি | বুধ, ২০০৮-০২-২০ ০৭:২৫

- যব্বর ল্যাকছেন ভাইছাব।
_________________________________
<সযতনে বেখেয়াল>

উদ্ধৃতি | ঘ্যাচাং | reply | আপত্তি জানান | লেখককে মেসেজ

২.১ | রায়হান আবীর | বুধ, ২০০৮-০২-২০ ১৪:১৬

থানকু।

উদ্ধৃতি | ঘ্যাচাং | সম্পাদনা | reply | আপত্তি জানান

৩ | কনফুসিয়াস | বুধ, ২০০৮-০২-২০ ০৯:১৮

-----------------------------------
যা দেখি তা-ই বলি...

উদ্ধৃতি | ঘ্যাচাং | reply | আপত্তি জানান | লেখককে মেসেজ

৪ | সংসারে এক সন্ন্যাসী | বুধ, ২০০৮-০২-২০ ১০:২২

ইদানীং লক্ষ্য করছি, অত্যন্ত মজার এক বাংলা শব্দ "প্যাচাল" কী এক প্যাঁচে পড়ে "প্যাঁচাল" হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একটা কমিউনিটি ব্লগের নামেও রয়েছে এই অনাবশ্যক চন্দ্রবিন্দু। "প্যাচাল" এবং "প্যাঁচাল" - ভিন্নার্থবোধক দু'টি আলাদা বাংলা শব্দ।

বানান ভুল আমাদের অনেকেরই হয়। কিন্তু শিরোনামে ভুল বানানের শব্দ বড়োই দৃষ্টিকটু।

উদ্ধৃতি | ঘ্যাচাং | reply | আপত্তি জানান | লেখককে মেসেজ

৪.১ | ধুসর গোধূলি | বুধ, ২০০৮-০২-২০ ১১:০৩

- কে জানে, হুজুর হয়তো চাঁন সহ-ই শিরোনাম দিতে চাইলেন।

_________________________________
<সযতনে বেখেয়াল>

উদ্ধৃতি | ঘ্যাচাং | reply | আপত্তি জানান | লেখককে মেসেজ

৪.১.১ | রায়হান আবীর | বুধ, ২০০৮-০২-২০ ১৩:৫৩

ভুল হইয়াছে।

উদ্ধৃতি | ঘ্যাচাং | সম্পাদনা | reply | আপত্তি জানান


৫ | পরিবর্তনশীল | বুধ, ২০০৮-০২-২০ ১৫:৩৭

আফসোস...
---------------------------------
চোখের পাতায় হাত রেখে ওরা আমাকে স্বপ্ন দেখার যন্ত্রণা দেয়।

উদ্ধৃতি | ঘ্যাচাং | reply | আপত্তি জানান


মন্তব্য

পরিবর্তনশীল এর ছবি

বাকিগুলা কই? নিয়া আয়।
---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল

---------------------------------
ছেঁড়া স্যান্ডেল

মুশফিকা মুমু এর ছবি

আহারে আমিও যে হাই-স্কুলে থাকতে কত বাদরামি করেছি... তোমাদের নেতা হওয়ার মত আমাদেরও Cool স্ট্যাটাসের জন্য এরকম ট্রাবলে পরা আবশ্যক ছিল। আমার কয়েকজন cool মেয়ে বন্ধুরা জোর করে আমাকে একবার স্মোক করাইল, আমি তখন ক্লাস ১০এ পড়ি খাইছে । তারপর একবার ওদের সাথে লান্চে টয়লেটে যাই স্মোক করতে, আমি আর আমার ফ্রেন্ড দুজনই এক কিউবিকলে , আমি বের হয়েই দেখি আমাদের হিসট্রি টিচার দাড়ায়ে আছে, আমি ওর কিউবিকলে কেন জিজ্ঞেস করায় বললাম আমার কিউবিকলে টয়লেট পেপার ছিলনা। টিচারতো ভাল ভাবেই জানে কেন, কারণ তখনও স্মোকের ধোঁয়া চারপাশে। ভয়ে আমি খালি ভাবতেসি শাস্তি যাই হোক কিন্তু বাসায় আম্মু জানলে আমাকে জ্যান্তো পুতে ফেলবে। ঐ টিচারের সাবজেক্ট আবার ছিল লান্চের পরেই। যাইহোক টিচার নিজেই যেহেতু স্মোক করত আর আমরা সমসময়ই ভাল রেজাল্ট করতাম বলেই হয়ত আমাদের শুধু ওয়ার্নিং দিয়ে ছেরে দিসে। বলসে যে "ডোন্ট ডু ইট এগেইন এন্ড ডোন্ট গেট কট"। আমরা সক্ট হয়ে দাড়িয়ে রইলাম, আমাদের ৩জনকে যে এভাবে ছেরে দিবে ভাবিনি। ওটাই ছিল আমার জীবনে সর্বশেষ স্মোক করা।

আরেকবার স্কুল ফাকি দিয়ে আমাদের এক বান্ধবির বাসায় যাই, মনেহয় তখন ক্লাস ৯এ। তখন আবার আমাদের স্কুলে খুবি কড়াকড়ি, স্কুলের সময় স্কুল ড্রেসে কাওকে বাইরে পেলে অনেক শাস্তি। যাইহোক, সেদিন ছিল সেমেস্টারের শেষ দিন। সাধারনত এমনদিনে আমাদের কোনও ক্লাসে কোনও পড়াশোনা হয়না, মুভি দেখা হয়। আমরা ৬-৭ জন আমাদের ঐ বান্ধবির বাসায় গেলাম দুপুরের আগে আগে। তারপর লান্চ করে আসার পথে স্কুলের কাছে আসতেই দেখি স্কুলের মাঠে আমাদের এক সাংঘাতিক কড়া টিচার পাহারা দিচ্ছে। ইয়ে, মানে... আমরা টিচারকে দেখেই ভয়ে তারাতারি কাছের এক বাসার সামনের দিকে লুকালাম যেন টিচার না দেখে। প্ল্যান করা শুরু করলাম কিভাবে এখন স্কুলে ঢুকব। কিন্তু আমরা জানতাম না যে ঐ বাসায় এক কুকুর ছিল। ঐ কুকুর যখন ঘেউ ঘেউ করে উঠল আমরা চিতকার দিয়ে স্কুলের উলটা দিকে দৌড়। টিচারের চিন্তাতো পরের কথা, টিচার নিশ্চয়ই দুর থেকে দেখেছিল ৬-৭টা মেয়ের পরি-মরি করে দৌড়। দুরে থাকায় চিনতে পারেনি। কিন্তু উনিও কম চালাক না। কারণ এভাবে কিছু দৌড়ানোর পর আমরা একজাগায় দাড়ালাম। সবাই হাপাচ্ছি আর হাসতে হাসতে গড়াগড়ি অবস্থা এক এক জনের। তারপর স্কুলে ঢোকার আর কোনই পথ নাই দেখে ঠিক করলাম যার যার বাসায় চলে যাব। তারপর আমি আর আমার এক বান্ধবি যাচ্ছি হঠাত আমাদের সামনেই এক গাড়ি থামল আর গাড়ি থেকে বের হল আমাদের ডেপুটি প্রিন্সিপাল। আমি তো ভয়ে শেষ। আমাদের কাছে এসে উনি খুব রাগি রাগি ভাবে বললেন তোমাদের নাম আর এড্রেস দাও তোমাদের বাবা-মাদের জানানো হবে। আমি ভয় পেয়েছিলাম ঠিক কিন্তু আমার বান্ধবি কান্নাকাটি শুরু করল। আমরা পরে বুঝতে পারি নিশ্চয়ই আমাদের ওভাবে দৌড় দেখে ঐ টিচার ডেপুটি প্রিন্সিপালকে জানায়। যাইহোক বাসায় এসে আম্মুকে বললাম সব, ফাকি দেয়ার জন্য একটু বকাও খেলাম। কিন্তু আমাদের দুজনের কারো বাবা-মা র কাছেই উনি আর ফোন করেননি। .... এরকম আরো কত যে ঘটনা আছে।

৭-১০ পর্যন্ত অনেক বাদর ছিলাম, ১১-১২ খুবি লক্ষী ছিলাম, তারপর ইউনিতে শুরুর দিকে বাদর হয়ে যাই খাইছে । শেষের দিকে আবার লক্ষী হয়ে যাই হাসি । এখনও সেই লক্ষী স্টেজ চলতেসে হাসি । ইসস কত কথা মনেপরে গেল... সব লিখলে এখানেই একটা পোস্ট হয়ে যাবে। খাইছে সরি এত লম্বা কমেন্টের জন্য।
------------------------------
পুষ্পবনে পুষ্প নাহি আছে অন্তরে ‍‍

------------------------------
পুষ্পবনে পুষ্প নাহি আছে অন্তরে ‍‍

নজরুল ইসলাম এর ছবি

এক স্যার খুব ঝামেলা পাকাইতো... অদ্ভূত অদ্ভূত সব মাইর আবিষ্কার করছিলো সে... তার অত্যাচার সহ্য করলাম... কিন্তু ক্লাশ টেনে উইঠা ভাবলাম আর না... ব্যাস... দুইটা এপ্লিকিশন ঠুকলাম হেডস্যার বরাবর... লেখলাম সুফিয়ান স্যার পড়াইতে পারে না, তারে আমাগো ক্লাশ থেকে বাদ দেন।
পুরা স্কুলে য্যান বোম ফুটলো... আমরা বললাম সে যে পড়াইতে পারে তার প্রমাণ দেউক... টিফিনের পরে স্কুলের পরিচালনা পরিষদ, অন্য সিনিয়র টিচাররা বসলো ক্লাশে... আমরা স্যাররে প্রশ্ন করতে করতে জান শেষ কইরালাইলাম... কত জবাব দিবো?
সবাই বুঝলো এইসব কিছু না, মূল ব্যাপার হইলো আমরা হের উপরে বিলা হইছি। এই স্যাররে জ্বালামু। তো তারে আমাদের ক্লাশ থেকে প্রত্যাহার করা হইলো...
তারপর শুরু হইলো তার বাড়িতে ভূত চালানো। তার ছিলো টিনের চাল... প্রতিরাতে সেখানে ঢিল পড়তে লাগলো...

একদিন রাতের আঁধারে সেই স্যার এলাকা ছাইড়া ভাগলো।
______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

______________________________________
পথই আমার পথের আড়াল

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
Image CAPTCHA