জানি কাল ভুলে যাবে আমাদের অক্টোবর এ দুনিয়া, তানিয়া Pt. 2

রায়হান আবীর এর ছবি
লিখেছেন রায়হান আবীর (তারিখ: রবি, ২৬/০৭/২০২০ - ২:০৪পূর্বাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৩

তিনটা বিশাল আকৃতির স্যুটকেসে জার্মান জীবন বন্দী করে প্রিয় গোটিংগেনের রাস্তায় নেমে আসলাম। হলুদ ট্যাক্সিতে স্যুটকেস লোড করে চলে এলাম ট্রেন স্টেশনে। এখান থেকে হাই-স্পিড ICE ট্রেনে করে যাবো ফ্রাঙ্কফ্রুর্ট হাউপথবানহফ। এরপর বিমানবন্দর। বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এর ঢাকাগামী বিমানে চড়ে বসা; মধ্যবিরতী দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে।

এমনিতে ICE ট্রেনগুলোর টিকেট উচ্চমূল্যের, কিন্তু আগে থেকে কেটে রাখলে বেশ কমে পাওয়া যায়। আমিও অনলাইনে টিকেট কেটে রেখেছিলাম। অনলাইন টিকেটের শর্ত হিসেবে আছে যেই ব্যাংক কার্ড দিয়ে টিকেট কাটা হয়েছে সেটি এবং ক্রেতার জার্মান আইডি বা পাসপোর্ট কপি সহ টিকেট উপস্থাপন করতে হবে ট্রেনের চেকারকে। ট্রেনে উঠে আইডি এবং অনলাইন টিকেট দিলাম যখন টিকেট চেকার আসলো। সাদা বয়স্ক জার্মান মহিলা। আমার দিকে তাকিয়ে বললো, ব্যাংক কার্ড? জবাব দিলাম, আমি একেবারে দেশে ফিরে যাচ্ছি। ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ করে, কার্ড জমা দিয়েছি। সো কার্ড নাই।

আমার জবাবে সে রেগে মেগে অস্থির। চিৎকার চেচামেচি করে জার্মান ভাষায় কুত্তারবাচ্চা, শুওয়েরবাচ্চা বলা শুরু করলো কিনা কে জানে, ট্রেনের আসে পাশের সবার চোখে আমার জন্য সিমপ্যাথি দেখতে পেয়ে চুপ করে মহিলাকে গাইল্লাইতে দিলাম। গাইল্লানো শেষে সে বললো, এই টিকেটে কাজ হবে না, আমাদের পরের স্টেশন কাসেলে নেমে যেতে হবে। বলেই, আবার জার্মান ভাষায় কুত্তার বাচ্চা, দেশির বাচ্চা বলতে বলতে বিদায় হলো। কাসেল স্টেশন কয়েক মিনিট পরেই, ট্রেন থামলো। কোনো জার্মানের বাচ্চার দেখা নাই, আমাদেরকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ট্রেন থেকে নামায় দিতে। একটু পরে ট্রেনের সাথে সাথে আমরাও চললাম ফ্রাঙ্কফুর্টের উদ্দেশ্যে। টিকেট চেকার ঐ মহিলার দেখা পেলাম না আর। মনে মনে ভাবলাম কাসেলের আগে ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মরে গিয়েছে।

ভারী ব্যাগগুলোকে টেনে হিচড়ে যখন এমিরেটস এ চেকিং করতে গেলাম তখন দেখা হলো প্রায় ত্রিশ কেজি বেশি। ব্যাগগুলো থেকে চকলেট আর বই বাঁচিয়ে জামাকাপড় সব ফ্রাঙ্কফ্রুর্ট বিমানবন্দরের ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে বিদায় জামালাম জার্মানীকে।

ঢাকায় ফিরে ল্যাবে গিয়ে দেখি তখন এআইইউবির বায়োমেডিক্যাল পরীক্ষাগারের জন্য বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট, যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেকাজে ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি শুরু হলো দুপুর হতেই মুক্তমঞ্চে আড্ডাবাজি। অক্টোবরেই এআইইউবিতে যাই সবকিছু সেটাপ করে তাদের বুঝিয়ে দিতে। তখন জানতে পারি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগেই যেকোনো সময়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার ছাত্র/ছাত্রী থাকে। আমি মনে মনে হারিয়ে যাই, প্রতিবছর কতোজন তড়িৎ প্রকৌশলী উদপাদিত হচ্ছে এই চিপা বিল্ডিং থেকে তার হিসেব কষায়।

জার্মানীতে সময় শেষ হবার দুই সপ্তাহ আগেই চলে এসেছিলাম যে কারণে; ঢাকায় আসার দিন পনেরো পেরোতেই চলে এলো সেই বহুল প্রতিক্ষিত বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সংগিত উৎসব ২০১৩।

উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রথম দিনেই দেখা হলো আমার স্টকহোম সিন্ড্রোম নবী, ক্যাডেট কলেজের ট্রেডিশনে আমি যার ‘ফলোয়ার’ সেই রুসায়াইয়াত তানামু ভাইয়ের সাথে। তানামু ভাই আমার এক বছরের বড়, মিরপুরের ছেলে, আমার মতোই মিরপুর ক্যাডেট কোচিং এর প্রথমদিকের ছাত্র যিনি ভর্তি হয়েছিলেন বরিশাল ক্যাডেট কলেজে। এক বছর পেরুতেই তারমতো একজনের দায়িত্ব পেলেন তিনি পথ দেখানোর। ১৯৯৯ সালে সপ্তম শ্রেনিতে আমি যখন এক বৃষ্টিভেজা দিনে আত্মসমর্পন করি ঢাকা বরিশাল হাইওয়ের উপর বরিশাল ক্যাডেট কলেজে, তখন আমার জায়গা হলো তানামু ভাইয়ের রুমে। তিনি আমার ও সাজ্জাদের রুম লিডার। শেখাবেন ক্যাডেট কলেজে কেমন করে খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে হয়। এক বছর আমরা একসাথে থাকলেও নিজেদের হারাইনি এতো বছরে। আর তাই আমার সুদর্শন, বুদ্ধিদীপ্ত, সংস্কৃতিমনা, নন ফকিন্নি, জটিল পরিস্থিতি স্পষ্টভাষণে আরও জটিল করণে পটিয়সি রুসাইয়াত তানামু ভাইয়ের সাথে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসবে ছবি তোলাটা তাই আসে ইতিহাসের কথা মাথায় রেখে।

তানামু ভাইয়ের সাথে কথা শেষে দেখা হলো সুদীপ্তর সাথে। ওর সাথে যোগাযোগের সূচনা ফেসবুকে, ২০১২ সালে যখন আদালতের রায়ে ধর্মকারী সহ কয়েকটি ফেসবুক ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছিলো সরকার সে সময়ের ভার্চুয়াল আন্দোলনে। ওর সাথে আর্মি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে কিছু নন ফাডান্টিস দেশ জাতি উদ্ধার গ্যাজানি শেষে ওরে নিয়েই হাঁটা নিলাম বন্ধু সাকিফ, পাওয়ার সার্জের বেস গিটারিস্ট এবং আবার মিরপুর ক্যাডেট কোচিং বন্ধু God as per Base এর কাছে ফান্ডান্টিস খোঁজে।

গ্যালারি থেকে নেমে আসতেই অদূরে দেখি তারেক অণুর লম্বা মাথা, যথারিতী সুন্দরী ললনা ও আদার পাবলিক পরিবেষ্টিত। আমি আর সুদীপ্ত দুইজনের কেউই দেখতে খারাপ না তাই তারেক অণুর ম্যাগনেটিক ফিল্ডের টানে পরে গেলাম। উনাকে কেমন আছো বলার অভিনয়ে আশে পাশে তাকাতেই দেখি আমার আইইউটির ব্যাচমেট মিঠু এবং ওর পাশে তানিয়া। "আরেহ মিঠু দোস্ত, তুই" বলার সময় আমি তানিয়ার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম, তানিয়াও আমার দিকে। আমি হেসে, তানিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম আরেহ তুমি! কেমন আছো?

২০১৩ পরবর্তী বেশ কয়েকবার ওর ইনবক্সে টাংকি মারতে উপস্থিত হলে ওর চিরায়ত একটাই প্রশ্ন:
আপনি আমাকে চিনতে পারছেন?

সেদিনো তাই।

তানিয়ার সাথে প্রথম সামনা সামনি দেখা কিন্তু ফেসবুকে বন্ধু তালিকায় ছিলো বছর খানেক। জার্মানী থেকে মনে পড়ে ওর সাথে ম্যাসেঞ্জারে কথাও হয়েছিলো। আমার আর তানিয়ার পরবর্তীতে মজা করে বলা বাগধারা “ওর মতো মেয়ে”কে ভোলার উপায় নেই, তাই আমিও জবাব দিলাম, অবশ্যই। তুমি উলটো তানিয়া।

আমি তখন বিবাহিত, স্বয়ং প্রাক্তন উপস্থিত গ্রাউন্ডে তাই দ্রুততার সাথে তানিয়ার দিকে তাকিয়ে আমার কিলার হাসি দিয়ে তারেক অণুকে বিদায় দিয়ে গাঞ্জার ধোয়া খুঁজতে চললাম। অনেক বছর পরে তানিয়া বলেছিলো আমার চোখের দিকে তাকিয়ে ওর মনে হয়েছিলো আমার তাকানোতে নাকি এক স্বপ্নের হাতছানি ছিল।

যদিও বাস্তবের দুনিয়ার সেটাই আমাদের শেষ দেখা।

২০১৩ বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের রেশে অক্টোবর শেষ করে এখন আমাদের এক লাফে যেতে হবে ২০১৪ বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সংগিত উৎসবে। আরেকটা অক্টোবরের ইতি টানতে।

২০১৪ অক্টোবর

উচ্চ আদালের চুড়ান্ত রায়ে খুনী-ধর্ষক নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল। ২০১৪ সালের ২৯ শে অক্টোবর দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা নিজামীর যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিধোরী বিচার শেষে দাখিল করা ষোলটি অভিযোগের আটটিতে দোষী সাব্যস্ত করে, চারটি অপরাধের জন্য তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় আছে আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইবুনাল থেকে।

২৯ শে অক্টোবর, ২০১৪ দিনটার কথা ভুলি কেমন করে। ট্রাইবুনালের রায় আসার পর যথারীতি বাংলাদেশ বিরোধী পাকিস্তানী ভাইরাস বহনকারী রাজনৈতিক জামায়াত-শিবির হরতালের ডাক দেয় দেশব্যপি। ঠিক সেই সময়টায় জামাত-শিবির-বিএনপির হরতাল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কোথাও ঝটিকা মিছিলো হবে, কোনো নেতার ইচ্ছা হলে নেশাখোরকে এক হাজার টাকা দিয়ে পেট্রোল বোমা মেরে পুড়িয়ে দেওয়া হবে কিছু মানুষকে। তারপরও জীবন থেমে থাকবেনা কোটি মানুষের জনপদে, আমাদের জীবনও থেকে ছিলো না। ৩০ অক্টোবর, ২০১৪ জামাত শিবিরের হরতাল, তাদের প্রিয় ভাইরাস বহনকারী নেতার মৃত্যুদণ্ডের আদেশের ক্ষোভে। সকালে ঘুম থেকে উঠলাম। আমি, সামিয়া, আম্মু, আব্বু, ছোট ভাই জান্না। আম্মু, আব্বু চলে গেলো অফিসে। তাদের বিদায় জানিয়ে আমি আর সামিয়া বসলাম সকালের নাশতার টেবিলে, আর ছিলো জান্না পাশে দাঁড়িয়ে, ওর লাইব্রেরির সামনে, লক্ষ-বার পড়ে ফেলা বইগুলো থেকে বই খুঁজছে আবার পড়ার জন্য।

"জান্না সকাল সকাল গল্পের বই ক্যানো ম্যান!" খুব সিরিয়াস হয়ে আমার প্রশ্ন।
"ভাইয়া পরীক্ষা শেষ"। জানালো ও।

তারপর তাড়াহুড়াতেই তুলে নিলো জাফর ইকবালের "কপোট্রনিক সুঃখ দুঃখ"। সামিয়া ডাকলো ওকে।

মাত্র একদিন আগেই ওর এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার তত্ত্বীয় অংশ শেষ। সামিয়া জান্নাকে খাবার টেবিলে নিয়ে আসতে বললো টেস্ট পেপার, ওকে পড়া দিবে। "চলো আমরা সামাজিক বিজ্ঞান দিয়েই শুরু করি, প্রতি সপ্তাহে একটা করে বিষয় আমরা রিভিশন দিবো"। খুব বড় ভাইয়ের মতো আমিও পার্ট মেরে বলে দিলাম, টেস্টের পরের সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ, একটু পড়াশোনায় মন দাও এখন ভাইয়া...

জান্না ছিলো আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। আমি কখনই ওর সাথে রাগ করতাম না। অনন্ত রাগ করতে চাইতাম না, করে ফেললে সেটা নিজের অপরাধই ভাবলাম। সামাজিক বিজ্ঞান পড়া নিয়ে ও চলে গেলো নিজের রুমে। আমি খাওয়া শেষ করলাম। প্রথম আলোতে নিজামির রায়ের খবর পড়লাম। মনের মধ্যে খচখচ, আহা বেচারা জান্নাকে মনে হয় একটু বকাই দিয়ে ফেলছি। ওর মনটা ভালো করে দেবার জন্য জান্নার রুমে গেলাম। বিছানার এক কোণায় শুয়ে আছে। আমি উঠলেই বিছানায় উঠে বসলো।

"জান্না তোমার জন্মদিনের খাওয়াটা তো পাওনা ছিলো, চলো তাহলে আগামীকাল শুক্রুবার আছে আমরা তোমার বন্ধুদের নিয়ে KFC তে খেতে যাই"। ওর মন ভালো করে দেবার ইচ্ছায় বলি আমি। অক্টোবরের আট তারিখ ছিলো ওর ষোল তম জন্মদিন। আমাকে বলেছিলো, ও ওর ফ্রেন্ডদের KFC তে খাওয়াতে চায় এই উপলক্ষ্যে। তখন মাত্র আমরা গ্রামের বাড়ি থেকে ঈদ শেষ করে বাসায় ফিরেছি। বললাম, এখন তো টেকাটুকা নাই ভাইয়া, আর তোমারও টেস্ট পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। শেষ হলেই আমরা যাবো, নভেম্বরের শুরুর দিকে। জান্না রাজি।

পরীক্ষা যেহেতু শেষ এবার আমরা তাহলে যাবো, এবং আগামীকালই যাবো। জান্না খুশি হয়ে গেলো, "ইয়েএএএএএএ! কেএসসি"! ওর সুন্দর হাসিটা দেখে আমার মনটাও শান্ত হলো, হেলমেট তুলে নিয়ে রওনা হয়ে গেলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে, "গুড বাইক জান্না ভাইয়া"। এই আমার জান্নাকে শেষ দেখা।

৩১ শে অক্টোবর ২০১৪

রাতে জান্না নিজের রুমে আত্মহত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলে। নিঃসীম এক শূন্যতার অনুভূতি রেখে গেলো অনেকগুলো জীবনে, আমিও যাদের একজন।

সেই অক্টোবর শেষ হয়েছিলো বেঙ্গল সংগীত উৎসবে যেয়ে। আমার শেষ উচ্চাঙ্গ সংগীত উৎসব। এবার আর তানিয়ার সাথে দেখা হয়নি। আমার চোখে তখন আলো নেই, নিঃসীম অন্ধকারে সবকিছু তলিয়ে। বেঁচে থাকার প্রেরণাহীন।

এর ঠিক এক বছর পর। ২০১৫ অক্টোবর ৩১।

অবিশ্বাসের দর্শন, বিশ্বাসের ভাইরাস প্রকাশের কারণে নিজের অফিসে জবাই হলেন প্রিয় ফয়সাল আরেফিন দীপন। আমি কানাডায় চল্লিশ দিন বয়সী সোফিকে বুকে জড়িয়ে আমার অন্ধকার জগতে আরও অন্ধকারে ঢুবে যেতে থাকলাম। এই অক্টোবরকে শেষ করার জন্য আর নেই বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সংগীত উৎসব। নেই তানিয়ার দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টি দিয়ে, কেমন আছো বলে উধাও হয়ে যাওয়া।

ছবি: 
11/12/2007 - 1:34পূর্বাহ্ন

মন্তব্য

হাসিব এর ছবি

আগে থিকা বলে রাখলে কিছু চল্কেট নিয়ে ওজন হাল্কা করে দিতে পারতাম।
তবে কথা সেটা না। ইনবক্সের কথাটা বাসায় জানে?

রায়হান আবীর এর ছবি

কিছু কথা ছিলো গুপন চোখ টিপি

তারেক অণু এর ছবি

হূম এই করা হতো পোলাপানের! যাক কিছু বললাম না! আড্ডা হবে

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।