ভুবন ভ্রমিয়া শেষে, আমি এসেছি নতুন দেশে... (পর্ব-১)

রকিবুল ইসলাম কমল এর ছবি
লিখেছেন রকিবুল ইসলাম কমল [অতিথি] (তারিখ: রবি, ১৬/০২/২০১৪ - ৮:৩৮অপরাহ্ন)
ক্যাটেগরি:

২০০৮ সালে প্রথমবারের মত বিদেশ যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন মাস্টার্স করার জন্যে সুইডেনে যাচ্ছি। মনে মনে ভেবে রেখেছিলাম একটি ডায়েরি সাথে নিব। দৈনন্দিন ঘটনা গুলো লিখে রাখবো। মাস্টার্স শেষ করে সুইডেন থেকে যখন ফিরে আসবো তখন সেই ডায়েরিটির প্রতিটি পাতা ভর্তি হয়ে যাবে। এই ভেবে একটি সবুজ রুলটানা খাতায় লেখাও শুরু করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে নানান ব্যস্ততায় সে খাতায় খুব বেশিদিন লেখা হয়নি। তবে যেটুকু লেখা হয়েছিল, সেটুকু পড়েই আমি টাইম মেশিনে চড়ে অতীতে ঘুরে আসার মত আনন্দ পাই।

যখন যেখানে গেছি সেখানকার প্রতিদিনের দিনলিপি লেখার ইচ্ছে আমার সব সময়ই ছিল কিন্তু কখনই তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। শুধু মাত্র গ্রীষ্মের এক ছুটিতে তিনদিনের প্যারিসের ভ্রমণের প্রায় দুইদিনের ঘোরাঘুরির উচ্ছ্বাসটা লিখে রাখতে পেরেছিলাম। যদিও সেই দুদিনের ঘটনা গুলো গুছিয়ে, লিখে সচলে প্রকাশ করতে আমার এত সময় লেগেছে যে এর মাঝে আরো কয়েকটি দেশ ভ্রমন হয়ে গিয়েছিল।

সে যাই হোক। সেই ২০০৮ থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত অল্প সময়ের মাঝেই বেশ কিছু দেশ এবং পৃথিবীর অনেকগুলো শহরে কখন লম্বা সময় কখন অল্প সময় কাটিয়ে এখন এসে পৌছেছি আমেরিকার বোস্টনে। এখানেও হয়ত দিনলিপি নিয়মিত ভাবে লিখে উঠতে পারব না, কিন্তু তাই বলে লেখালেখি বন্ধ করে দিলে কী হপে? জানি হপে না। তাই সব সময় শুরু করায় দেরি করা যাবে না। শেষ করতে পারা, না পারার, ব্যাপারটা না হয় পরে দেখা যাবে।

বোস্টনের দিনলিপির ফাঁকেফাঁকে বিভিন্ন সময়ে, অন্য শহরে কাটিয়ে আসা স্মৃতি গুলোও মাঝে মাঝে এই শিরোনামের নিচেই লিখে ফেলার ইচ্ছে আছে।

ইদানিং আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করেছি, লেখালেখির নেশাটা আমার সব সময় মাথায় চড়ে উঠে, যখন একাডেমিক কোন কাজের ডেড-লাইন সামনে এগিয়ে আসে। প্রতিবারই ডেড-লাইনের আগে নিজেকে দুঃখী দুঃখী লাগতে থাকে, শরীরের বল কমে যায়, মাথার ভেতর দার্শনিক ভাবের উদ্ভব হয়। নিজেকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মত মনে হয়। এই রোগের সর্বশেষ লক্ষন হল, কাজের ডেড-লাইন মাথায় নিয়ে নিজের ব্লগে ঢুকে কীবোর্ডে খটখট শব্দ তুলে আগডুম বাগডুম জাতীয় কোন একটা রচনা লিখে ফেলা! এবারো সেই লক্ষন গুলোর কোন ব্যাতিক্রম দেখছি না। অবশ্য আজকে আগে থেকেই একটু সতর্ক আছি। তাই আজকের রচনায় ভূমিকার মত কিছু একটা লিখেই এই পর্ব শেষ করে দেব; যাতে এই শেষ বেলায় এসে খুব বেশি সময় নষ্ট করে ফেলে, পরে না পস্তাই।

শুধু এটুকু বলে যাই, আজ বোস্টনের আকাশে এত্তবড় একটি চাঁদ। দুপুর থেকে একটানা তুষার ঝরছে। ছুটির দিন। ঘরের একটি জানালা দিয়ে বিছানায় শুয়ে আকাশ দেখা যায়। সারাদিন শুয়ে শুয়ে তাই-ই দেখেছি। পাতাহীন গাছের শাখা প্রশাখা গুলো তুষারে ঢেকে আছে।

সেই দুপুর থেকে শুরু করে এই ভরসন্ধ্যায়ও নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে তুষার পরেই চলছে। আকাশের সেই কোন উচু থেকে যে স্নো-ফ্লেক্স গুলো ঝরছে কে জানে! উপর থেকে পরতে পরতে রাস্তার ধারের ল্যাম্পপোস্টের আলোর নাগালে আসলেই কেবল দেখা যাচ্ছে, কেমন হেলে দুলে শাদা নরম পালকের মত ভেসে বেড়াচ্ছে বাতাসে। অন্ধকার থেকে ভেসে এসে, আবার অন্ধকারেই হারিয়ে যাচ্ছে। আমি উদ্দেশ্যহীন ভাবে ভেসে বেরানো তুষারের মাঝে কী এত মনযোগ দিয়ে দেখছিলাম নিজেও বলতে পারবো না। সেখান থেকে চোখ সরিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাড়িয়ে দেখি, শহরের প্রতিটি বাড়ির বারান্দা, উঠোন, এবং পায়ে চলার পথ তুষারাবৃত।


বারান্দা থেকে বিকেলে তোলা কিছু ছবি:

১।
IMG_8902

২।
IMG_8900

৩।
IMG_8898

৪।
IMG_8897

৫।
IMG_8896

৬।
IMG_8895


মন্তব্য

সাফিনাজ আরজু এর ছবি

লেখালেখির নেশাটা আমার সব সময় মাথায় চড়ে উঠে, যখন একাডেমিক কোন কাজের ডেড-লাইনের সামনে এগিয়ে আসে। প্রতিবারই ডেড-লাইনের আগে নিজেকে দুঃখী দুঃখী লাগতে থাকে, শরীরের বল কমে যায়, মাথার ভেতর দার্শনিক ভাবের উদ্ভব হয়। নিজেকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মত মনে হয়। এই রোগের সর্বশেষ লক্ষন হল, কাজের ডেড-লাইন মাথায় নিয়ে নিজের ব্লগে ঢুকে কীবোর্ডে খটখট শব্দ তুলে আগডুম বাগডুম জাতীয় কোন একটা রচনা লিখে ফেলা!

ইয়ে মানে আমিত ভাবতাম এই ঘোড়ারোগ শুধু আমারই আছে। ইয়ে, মানে...
সারাদিন স্নো পড়ার দৃশ্য দেখতে দেখতে চোখ পচে গেছে। তাপমাত্রা পজেটিভ তাইনা, ছবিতে তো দেখা যায় স্নো জমছেনা।
কেমব্রিজসহ আপনার সকল ভ্রমন কাহিনী শোনার অপেক্ষায় পপকর্ন লইয়া গ্যালারীতে বইলাম
পরের পর্ব তাড়াতাড়ি আসা চায় হাসি

__________________________________
----আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে---

রকিবুল ইসলাম কমল এর ছবি

হুম। তাপমাত্রা শূন্যের উপর নিচে উঠা নামা করছে। প্রথম পাতা থেকে সরে যাওয়া মাত্র নতুন কিছু একটা লিখে দিয়ে দিবো। আপনার নরওয়ের ভ্রমণের পরের পর্বের জন্যে অপেক্ষায় আছি কিন্তু।

সাফিনাজ আরজু এর ছবি

কমল ভাই, আশে পাশে কোন ডেড লাইন নাই তো তাই নরওয়ে ভ্রমন আর আসতেছে না। ইয়ে, মানে...

__________________________________
----আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে---

অতিথি লেখক এর ছবি

চলুক

পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।

মাসুদ সজীব

রকিবুল ইসলাম কমল এর ছবি

দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নিয়ে নিয়মিত লেখা দিবো ঠিক করেছি।

এক লহমা এর ছবি

কেমব্রিজ, ম্যাসাচুসেট্স্, যুক্তরাষ্ট্র। আমি ভাবছিলাম কেমব্রিজ, যুক্তরাজ্য। হাসি
"লেখালেখির নেশাটা আমার সব সময় মাথায় চড়ে উঠে, যখন একাডেমিক কোন কাজের ডেড-লাইনের সামনে এগিয়ে আসে।" - সে ত বটেই, তাই ত হওয়ার কথা! হো হো হো

--------------------------------------------------------

এক লহমা / আস্ত জীবন, / এক আঁচলে / ঢাকল ভুবন।
এক ফোঁটা জল / উথাল-পাতাল, / একটি চুমায় / অনন্ত কাল।।

এক লহমার... টুকিটাকি

রকিবুল ইসলাম কমল এর ছবি

এখানকার এলাকার আর রাস্তার নাম গুলো খুব কনফিউজিং। অক্সফোর্ড স্ট্রিট, ব্রুকলিন ইত্যাদি নামেও আছে দেখলাম। মনে হয় ব্রিটিশরাই নাম দিয়েছে। একটু খোঁজ খবর করে দেখি। নাম করনের সার্থকতা কিছু পাওয়া গেলে সেটা নিয়েও একটি পর্ব করে ফেলা যাবে। হাসি

মেঘলা মানুষ এর ছবি

"লেখালেখির নেশাটা আমার সব সময় মাথায় চড়ে উঠে, যখন একাডেমিক কোন কাজের ডেড-লাইনের সামনে এগিয়ে আসে।"
বাণী চিরন্তনীতে ঢুকিয়ে রাখার মত একটা কথা।

বৃটেন থেকে আসা মানুষের মনে সম্ভবত বৃটিশ নামগলো গেঁথে ছিল, একারণেই অনেক বৃটিশ জায়গার কপি উত্তর আমেরিকাতে আছে।

রকিবুল ইসলাম কমল এর ছবি

হতে পারে। বৃটিশরাই বোধহয় এই জায়গা গুলোর নাম দিয়েছে।

অতিথি লেখক এর ছবি

প্রতিবারই ডেড-লাইনের আগে নিজেকে দুঃখী দুঃখী লাগতে থাকে, শরীরের বল কমে যায়, মাথার ভেতর দার্শনিক ভাবের উদ্ভব হয়। নিজেকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মত মনে হয়। গড়াগড়ি দিয়া হাসি এই রোগের রোগী মনে হয় কম নেই, আমিও তাদের একজন।
চলুক
-----------------------------------
ভালো মেয়ে

রকিবুল ইসলাম কমল এর ছবি

ভালো মেয়েদের এই সব অসুখ-বিসুখ হলে হপে? হাসি

amn এর ছবি

শীত ভালু না! ঠান্ডা লাগে!

নতুন মন্তব্য করুন

এই ঘরটির বিষয়বস্তু গোপন রাখা হবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।